সেক্যুলারিজমের ইসলামি দৃষ্টিকোণ
সেক্যুলারিজমের ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার পূর্বে ইসলাম গ্রহণযোগ্য হওয়ার চারটি শর্ত আমাদের ভালোভাবে বুঝতে হবে, যেগুলো ছাড়া ঈমান ও ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয়: ১) ইসলাম ও তার প্রতিটি বিধানের প্রতি পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি ও পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসা রাখা, ২) দ্বীনের প্রতিটি বিষয়কে সম্মান ও মহত্ত্বের দৃষ্টিতে দেখা, ৩) শরিয়তের বিধিবিধানের সামনে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করা, ৪) ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সেগুলোকে ঘৃণা করা।
এই চারটি বিষয় ঈমানের আবশ্যকীয় অংশ। এখানের কোনো একটি কারও থেকে ছুটে গেলে, সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য এখানে একটি নুকতা মনে রাখা প্রয়োজন। তা হলো, ইসলামের যেকোনো বিধান, যদি তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় তাহলে তার ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত শর্তসমূহ-সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা, সম্মান ও মহত্ত্ব স্বীকার, আত্মসমর্পণ-প্রযোজ্য হবে। প্রমাণিত কোনো একটি বিধানের ক্ষেত্রেও যদি এই শর্তগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে ঈমান ও ইসলামের দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না, যদিও ইসলামের অন্য সকল বিধান মনেপ্রাণে মেনে চলা হয়। উদাহরণত, কোনো ব্যক্তি ইসলামের সকল বিধান উপযুক্ত শর্তাবলির আলোকে গ্রহণ করে নিয়েছে, কিন্তু সুদের বিধানের বিষয়ে সে সন্তুষ্ট না, বা সন্তুষ্ট কিন্তু এটা নিয়ে সে হাসি-মজাক করে, তাহলে ইসলামের সকল বিধান মেনে নেওয়া সত্ত্বেও সে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কাফের বলে গণ্য হবে।
এখন সেক্যুলারিজমের পুরো বাস্তবতাকে যদি আমরা এই চারটি শর্ত বা মূলনীতির আলোকে ওপরের নুকতা সামনে রেখে পর্যালোচনা করি, তাহলে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সেক্যুলার মতবাদে এই চারটি মূলনীতি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এই মতবাদটি দ্বীনের শুধু একটি-দুটি নয়; বরং অধিকাংশ বিধানের সাথেই বিদ্বেষমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা, অর্থনীতি, শিক্ষা, বিবাহ ও সামাজিক অন্যান্য সম্পর্কসহ ইসলামের প্রতিটি অধ্যায়ের সাথেই সেক্যুলারিজমের রয়েছে অবজ্ঞা ও ঘৃণার সম্পর্ক; বরং ইসলাম ধর্মকে সে একটি অনুপযুক্ত ধর্মই জ্ঞান করে থাকে।
এখানে একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রগুলোতে যদিও সেক্যুলার মতবাদ প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু এখানকার অধিকাংশ মুসলিমের কাছে সেক্যুলার মতবাদ তার পূর্ণ বাস্তবতা ও উদ্দেশ্যসহ স্পষ্ট নয়। যার কারণে তারা সেক্যুলারিজমের স্বীকারোক্তির পাশাপাশি দ্বীনের অকাট্য বিধানগুলোকে স্বীকার করে এবং ইসলামের প্রয়োজনীয়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো রকম দ্বিধায় থাকে না। প্রতারণাপূর্ণ সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যাগুলো সামনে রেখেই সে সেক্যুলারিজমের কথা বলে। তাই সেক্যুলারিজমের কথা বললেই কাউকে ঢালাওভাবে কাফের বলা অনুচিত ও অসতর্কতামূলক একটি কাজ। সুতরাং সেক্যুলারিজমে বিশ্বাসী কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে কাফের বলা থেকে যেমন বেঁচে থাকা উচিত, তেমনি এই কথাও সকলকে জানিয়ে দেওয়া একটি ঈমানি দায়িত্ব যে, সেক্যুলারিজম একটি কুফরি মতবাদ এবং যারা সেক্যুলারিজমের বাস্তবতা অনুধাবন করার পরেও তা সমর্থন করবে, বা তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাবে অথবা এটাকে একটি উন্নত কিছু মনে করবে, সে কাফের বলেই বিবেচিত হবে।
বই: ইসলাম ও পশ্চিমা সভ্যতা
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন বশির
মূল্য: ৩৬০৳ (২৫% ছাড়ে!)