1 996
مشترکین
-124 ساعت
-67 روز
-730 روز
آرشیو پست ها
1 994
ফ্যামিলি প্রেশার আর টাকার সংকট, এই দুইটা একসাথে আসলে কী হয় সেটা আমি জানি
হ্যাঁ, আমি জানি।
থিউরি থেকে না। বই পড়ে না। নিজে পার করে আসছি বলে জানি।
ধরো একটা সময়, যখন মাসের শেষে ঘরে চাল নাই, আর বাইরে মুখ দেখানোর উপায় নাই। আত্মীয়রা জিজ্ঞেস করতেছে কী করতেছ, কোথায় যাইতেছ, কবে সব হবে।
আর তুমি হাসিমুখে বলতেছ, হ্যাঁ ভালোই আছি, সব ঠিক হয়ে যাবে। ভেতরে ভেতরে জানো কিছুই ঠিক নাই। কিন্তু সেটা বলার জায়গা নাই, বলার মানুষ নাই, বললেও লাভ নাই।
এই অনুভূতিটার নাম কী জানো? এটাকে বলে একা যুদ্ধ করা। আর এই যুদ্ধটা দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ। কারণ এই যুদ্ধে বাইরের শত্রুর সাথে লড়তে হয় না। লড়তে হয় নিজের মাথার ভেতরের সেই কণ্ঠস্বরের সাথে যেটা বলে, তোমার দিয়ে হবে না।
একজন একটা কমেন্টে বলতেসিল সেদিন আমি এই স্ট্রাগল নিয়ে বলা এড়িয়ে যাই। হয়তো সত্যি। কারণ এটা কঠিন। এটা নিয়ে কথা বলতে গেলে সহজ কোনো উত্তর দেওয়া যায় না। আর আমি সহজ উত্তর দিতে অভ্যস্ত না বলে কঠিন উত্তরটা দিতে সাহস করিনি।
ফ্যামিলি প্রেশার আর ফাইনান্সিয়াল সংকট একসাথে আসলে একটা মানুষের ভেতরে কী হয় সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। বাইরে থেকে মনে হয় লোকটা কেন এগোইতেছে না। কেন চেষ্টা করতেছে না। কেন অলস হয়ে বসে আছে।
কিন্তু ভেতরে কী হইতেছে জানো? ভেতরে একটা মানুষ প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে বলতেছে আজকে কিছু একটা করবো। আর রাতে ঘুমাইতে যাওয়ার সময় ভাবতেছে আজকেও হলো না। এই সাইকেলটা যে পার করেছে সে জানে এটা কত ভারী।
কিন্তু এইখানেই একটা কথা বলা দরকার। কঠিন কথা।
কষ্ট সত্যি। পরিস্থিতি সত্যি। ফ্যামিলির চাপ সত্যি। টাকার অভাব সত্যি। এর কোনোটাই অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই সত্যিগুলো তোমার থামার কারণ হতে পারে, থামার পারমিশন না।
পার্থক্যটা বুঝলে?
কারণ আর অনুমতি এক জিনিস না।
বাংলাদেশে এমন হাজারো মানুষ আছে যারা একই পরিস্থিতি থেকে বের হয়েছে। তারা কোনো মিরাকেলে বের হয়নি। লটারি জিতে বের হয়নি। বের হয়েছে একটা একটা করে ছোট সিদ্ধান্ত নিয়ে। আর সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার সময় পরিস্থিতি ভালো ছিল না। পরিস্থিতি খারাপ থাকতে থাকতেই নিয়েছে।
তাহলে তারা কী করেছে?
প্রথমত তারা রিসোর্স না খুঁজে স্কিল খুঁজেছে। টাকা না থাকলে কোর্স কেনা যায় না, এটা সত্যি। কিন্তু ইউটিউব ফ্রি। লাইব্রেরি ফ্রি। সিনিয়রদের কাছ থেকে শেখা ফ্রি। যে ফ্রিতে পাওয়া যায় সেটা আগে শেষ করো। তারপর টাকার কথা বলো। বেশিরভাগ মানুষ ফ্রি রিসোর্সের ১০ ভাগও ব্যবহার করেনি, কিন্তু বলতেছে সুযোগ নাই।
দ্বিতীয়ত তারা ফ্যামিলির চাপকে জ্বালানি বানিয়েছে, বোঝা না। ফ্যামিলি প্রেশার দিতেছে মানে ফ্যামিলি তোমার কাছ থেকে কিছু আশা করে। সেই আশাটা ব্যবহার করো। কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে মানে তুমি গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বটাকে কাজে লাগাও। কান্না করতে করতে না, দাঁত কামড়ে ধরে।
তৃতীয়ত তারা একটাই জিনিসে ফোকাস করেছে। ফাইনান্সিয়াল সংকটে থাকলে একসাথে দশটা সমস্যা সমাধান করতে যাওয়া যায় না। একটা বেছে নাও। এই মাসে শুধু এই একটা স্কিল। এই সপ্তাহে শুধু এই একটা কাজ। ছোট করে শুরু করো। কারণ কিছু না করার চেয়ে ছোট কিছু করা অনেক বেশি ভালো।
এবার সবচেয়ে কঠিন কথাটা বলি।
কিছু সমস্যা আসলেই সিস্টেমের। দুর্নীতি আছে, বৈষম্য আছে, সুযোগের অসমতা আছে। এগুলো একা একা বদলানো যায় না। এটা সত্যি। কিন্তু সিস্টেম বদলানোর জন্য অপেক্ষা করতে গেলে তোমার জীবনটা চলে যাবে। সিস্টেম বদলায় ধীরে। জীবন চলে দ্রুত।
তাই দুইটা কাজ একসাথে করতে হবে। সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, আর নিজেকেও গড়তে হবে। একটা ছেড়ে আরেকটা না। দুইটাই।
তুমি যে পরিস্থিতিতে আছ সেটার জন্য তুমি দায়ী না। কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার দায়িত্ব তোমার। এই দুইটা কথা একসাথে সত্যি। প্রথম কথাটা তোমাকে নিজেকে দোষ না দিতে শেখায়। দ্বিতীয় কথাটা তোমাকে বসে না থাকতে শেখায়।
দুইটা কথাই মনে রাখো।
আমি জানি এটা সহজ না। আমি নিজে পার করে আসছি বলেই জানি। কিন্তু এটাও জানি, যারা এই কষ্টটা পার করতে পেরেছে, তারা পরে বলেছে ওই কঠিন সময়টাই আমাকে তৈরি করেছে।
তোমার সময়টাও তোমাকে তৈরি করতেছে।
শুধু ভেঙে পড়ো না।
আল্লাহ ভরসা।
1 994
শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের জন্য বিয়ে কইরেন না। বরং এমন একজন সঙ্গী খুঁজে নিন, যার সঙ্গে ভালোবাসা, বোঝাপড়া এবং মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়।
ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর হয়ে ওঠে, এমনকি শারীরিক সম্পর্কও স্বাস্থ্যকর ও পরিপূর্ণ হয়।
অন্যথায়, আপনি না পাইবেন প্রকৃত ভালোবাসা, না পাবেন একটি সুস্থ ও সুখী দাম্পত্য জীবন।
1 994
▪️ইস্তেখারা করলে আল্লাহ কখনো খারাপের দিকে ঠেলে দেন না। তিনি যা দেন, তাতেই বরকত ও কল্যাণ থাকে।
প্রত্যেক হালাল সিদ্ধান্তের আগে ইস্তেখারা করুন। এতে আল্লাহর রহমতে ভুলের সম্ভাবনা কমে যায় এবং মনের শান্তি পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
(উপরোক্ত নিয়ম ও দোয়া সহিহ হাদিস ও বিশ্বস্ত ইসলামিক সোর্স অনুসারে সংকলিত।)
1 994
ইস্তেখারা: যেকোনো হালাল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করুন।
ইস্তেখারা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো কল্যাণ কামনা করা। ইসলামে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। যখন কোনো হালাল (অনুমোদিত) বিষয়ে দ্বিধা বা সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দেয়—যেমন বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা, ভ্রমণ, শিক্ষা বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ—তখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে হিদায়াত ও কল্যাণ চাওয়ার নামই ইস্তেখারা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে, তারপর এই দোয়া পড়ে।” (সহিহ বুখারি)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের সুরা শেখানোর মতো করে সাহাবায়ে কেরামকে প্রত্যেক কাজে ইস্তেখারা শেখাতেন। এটি শুধু হালাল বিষয়ের জন্য। হারাম কাজ বা ফরজ/ওয়াজিব বিষয়ে ইস্তেখারা করার প্রয়োজন নেই।
✅ ইস্তেখারা কেন করবেন?
▪️আল্লাহর জ্ঞান অসীম, আমাদের জ্ঞান সীমিত। তিনি জানেন কোন কাজ আমাদের দুনিয়া-আখিরাতের জন্য কল্যাণকর।
▪️দ্বিধা দূর হয়, মনের শান্তি আসে।
▪️আল্লাহ যা সহজ করে দেন, সেটাই আমাদের জন্য ভালো।
✅ ইস্তেখারা করার সঠিক নিয়ম (ধাপে ধাপে)
১. ওজু করুন: ভালোভাবে অজু করে নিন।
২. নিয়ত করুন: মনে মনে বলুন— “আমি আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত ইস্তেখারার নফল নামাজ পড়ছি।” (বাংলায় নিয়ত করলেও চলবে)।
৩. দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন:
▪️প্রথম রাকাতে: সুরা ফাতেহার পর যেকোনো সুরা পড়ুন (সুন্নাত: সুরা কাফিরুন)।
▪️দ্বিতীয় রাকাতে: সুরা ফাতেহার পর যেকোনো সুরা পড়ুন (সুন্নাত: সুরা ইখলাস)।
▪️নামাজ শেষে সালাম ফিরান।
৪. দোয়া পড়ুন:
▪️নামাজের পর দুই হাত তুলে আল্লাহর প্রশংসা করুন (যেমন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার)।
▪️দরূদ শরীফ পড়ুন (যেকোনো দরূদ, যেমন দরূদ ইব্রাহিম)।
▪️তারপর ইস্তেখারার দোয়া পড়ুন। দোয়াটি মুখস্থ না থাকলে কাগজ থেকে দেখেও পড়া যায়।
▪️ইস্তেখারার দোয়া (আরবি):
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ ، وَأَسْتَعِينُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ () خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي وَعَاجِلِهِ وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي ، وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ
▪️বাংলা উচ্চারণ:
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বিইলমিকা, ওয়া আস্তাকদিরুকা বিকুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়া লা আকদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (এখানে নিজের কাজের নাম বলুন, যেমন: “অমুকের সাথে বিয়ে” বা “অমুক চাকরি”) খাইরুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আকিবাতি আমরী ওয়া ‘আজিলিহী ওয়া আ-জিলিহ, ফাকদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বারিক লী ফীহ। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আকিবাতি আমরী ওয়া ‘আজিলিহী ওয়া আ-জিলিহ, ফাসরিফহু আন্নী ওয়াসরিফনী আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা সুম্মা আরদিনী বিহ।
▪️বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ চাইছি, তোমার কুদরতের সাহায্য চাইছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ চাইছি। তুমিই সবকিছু করতে পারো, আমি পারি না। তুমি জানো, আমি জানি না। তুমি গায়েবের জ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এই কাজ (এখানে নিজের বিষয় বলুন) আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণামের (দুনিয়া-আখিরাত) জন্য কল্যাণকর, তাহলে তুমি এটাকে আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও, সহজ করে দাও এবং এতে বরকত দাও। আর যদি তুমি জানো যে, এটা আমার জন্য ক্ষতিকর, তাহলে এটাকে আমার থেকে দূর করে দাও, আমাকে এর থেকে দূর করে দাও এবং যেখানে কল্যাণ থাকে সেখানে কল্যাণ নির্ধারিত করে দাও, তারপর আমাকে এতে সন্তুষ্ট করে দাও।
৫. দোয়ার পর করণীয়:
▪️নিজের বিষয়টি মনে করে আল্লাহর উপর ভরসা করুন।
▪️ঘুমানোর আগে বা সাধারণভাবে চিন্তা করুন। কখনো স্বপ্নে ইঙ্গিত আসতে পারে, কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক নয়।
▪️মূল লক্ষণ: হৃদয়ে যে কাজের প্রতি স্বস্তি ও সহজতা অনুভব হয়, সেটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো। যেটায় অস্বস্তি হয়, সেটা এড়িয়ে চলুন।
▪️যদি একবারে সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে ৩-৭ দিন পর্যন্ত ইস্তেখারা চালিয়ে যান।
✅ গুরুত্বপূর্ণ কথা
▪️আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে করুন। শুধু নামাজ-দোয়া নয়, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন।
▪️ইস্তেখারার পরও সাধারণ চেষ্টা (ওয়াসিলা) চালিয়ে যান—যেমন পরামর্শ নেওয়া, তথ্য সংগ্রহ করা।
1 994
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো MR (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া। সরকারি রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
বেসরকারিভাবেও দেওয়া যায়। MMR (Measles-Mumps-Rubella) ভ্যাকসিন। চাইলে বড়োরাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারে।
টিকা কখন দিতে হয়?
সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হয়। একটি ডোজও মিস করা যাবে না।
এটি বাংলাদেশ সরকারের EPI শিডিউলের অন্তর্ভুক্ত।
তবে বর্তমানের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ৬ মাস বয়সীদেরও এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। (আসন্ন এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকেই হামের টিকা দেওয়া হবে। এমনকি আগে পূর্ণাঙ্গ/অপূর্ণাঙ্গ ডোজ দেওয়া থাকলেও। )
এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কৌতুহলের জবাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কেন এই টিকাটি ৯ মাসে গিয়ে দেওয়া হয়? যেখানে আরও বেশ কিছু টিকা আগেই দিয়ে ফেলা হয়?
জন্মের সময় শিশু তার মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে হাম প্রতিরোধের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি নিয়ে জন্মায়। এই অ্যান্টিবডিগুলো শিশুকে জীবনের প্রথম কয়েক মাস সুরক্ষা দেয়।
আগে দেওয়া হয় কি?
হ্যাঁ, যদি কোনো এলাকায় হামের ব্যাপক আউটব্রেক দেখা দেয়, তবে অনেক সময় চিকিৎসকরা ৬ মাস বয়সেই একটি অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেটিকে 'জিরো ডোজ' ধরা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস পূর্ণ হলে আবার নিয়মিত ডোজ দিতে হয়।
কেন ২ ডোজ?
প্রথম ডোজে প্রায় ৮৫-৯০% সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। বাকি ১০-১৫% ক্ষেত্রে যেন কোনো ঝুঁকি না থাকে, সেজন্য ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
মনে রাখতে হবে, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর সঙ্গে অটিজম বা প্রতিবন্ধত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এই মুহূর্তে যারা ছড়াবে তাদেরকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে ও বর্জন করতে হবে।
টিকা দেবার পরেও কি হাম হতে পারে?
হ্যাঁ, পারে। বলা হয়, হামের টিকা প্রায় ৯০-৯৫% কার্যকর। তবে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগে তাদের ক্ষেত্রে টিকা নেয়া থাকলেও হাম হতে পারে। তবে আশার বিষয় এই যে, টিকা নেয়া থাকলে সাধারণত হামের জটিলতা বেশ কম হয়।
1 994
আমল: ৬৯
হযরত আবু হুরাইরহ রাদিয়াল্লহু আ’নহু
(أبىْ هريْرة رضى الله عنْه)
হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লহ সাল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, (যখন) কোন বান্দা অন্তরের এখলাসের সহিত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, তখন এই কালিমার জন্য নিশ্চিতরূপে আসমানের দরজাসমূহ খুলিয়া দেওয়া হয়। এমনকি এই কালিমা সোজা আরশ পর্যন্ত পৌঁছিয়া যায়। অর্থাৎ সাথে সাথেই কবুল হইয়া যায়। তবে শর্ত হইল, যদি এই কালিমা পাঠকারী কবীরা গুনাহ হইতে বাঁচিয়া থাকে। (তিরমিযী)
আমল: ৭০
ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয় :-
আবূ যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।” [তিরমিযী]
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মোহাম্মদ আমীর হোসাইন, মুফতি ও মুহাদ্দীস,
শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, মোহাম্মাদপুর।
1 994
আমল: ৫৮
সুরা ইখলাছের ফজিলত :-
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা কি কেউ প্রতি রাতে কোরআন মাজীদের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অক্ষম? তাহলে সে প্রতি রাতে সুরা ইখলাছ পড়বে। তাহলে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের সাওয়াব পাওয়া যাবে।' (মুসনাদে আহমদ : ২৩৫৫৪)
আমল: ৫৯
গোপনে নফল পড়ার ফজিলত :-
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'জনসম্মুখের তুলনায় লুকিয়ে নফল নামাজ পড়ার মধ্যে ২৫ গুণ বেশি সাওয়াব।
আমল_৬০
মানুষের উপকার করার ফজিলত :-
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া আমার কাছে এক মাস মসজিদে ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি পছন্দনীয়।' (আল মু'জামুল কাবির : ১৩৬৪৬)
আমল : ৬১
আমলের নিয়তেও সাওয়াব মেলে :-
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যদি কোনো ব্যক্তি রাতে শয়নকালে এই নিয়ত করে যে সে রাতে উঠে নামাজ পড়বে; কিন্তু প্রচণ্ড ঘুমের কারণে সকাল হয়ে যায়, তাহলে সে তার নিয়ত অনুযায়ী নামাজের সওয়াব পাবে। আর ঘুমটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকাস্বরূপ হবে। (নাসায়ি : ১৭৮৭)
আমল: ৬২
রোগী দেখার ফজিলত :-
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের রোগের খোঁজখবর নেয়, আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতাকে তার মাগফিরাতের দোয়ায় নিযুক্ত করে দেন। সে দিনের যে সময়ই তা করবে, ফেরেশতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করবে। আর রাতের যে সময়ই করবে, ফেরেশতারা ফজর পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করবে।' (মুসনাদে আহমদ : ৯৫৫)
আমল: ৬৩
বিশুদ্ধ নিয়ত :-
নিয়ত অর্থ সংকল্প। এটি মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমল। প্রত্যেক কাজ, তা দ্বীনী কাজ হোক কিংবা দুনিয়াবী, শুরুতেই নিয়তকে শুদ্ধ করা কর্তব্য। সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার সংকল্পই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। এই নিয়ত মুমিন বান্দার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকল কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে। হাদিসে আছে, হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.) কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত উক্ত বিষয়ের জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছিল। -সহিহ বোখারি, হাদিস- ১; সহিহ মুসলিম হাদিস- ১৯০৭
আমল: ৬৪
আবু যার (রা:) থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ-
তিন ব্যক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না। তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদেরকে পবিত্র করবেন না। আর তদের জন্য রয়েছে ভীষণ আযাব। রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন । আবু যার (রা:) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ), তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হলো: যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে , যে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে। (মুসলিম-ঈমান পর্ব:১৯৫)
আমল: ৬৫
হযরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, কোনো সৎ কাজকেই কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত। -সহিহ মুসলিম, কারণ এই ধরনের সহজ আমলের মধ্যেও অনেক সময় নিহিত থাকে অনেক প্রাপ্তি ও পুরষ্কার। হাদিস শরিফে এমন অনেক আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা করতে সহজ, কিন্তু এর বিশাল প্রাপ্তি ও পুরষ্কারের কথা নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন।
আমল: ৬৬
আন-নওয়াস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা লোকে জানুক তা তুমি অপছন্দ কর।”[মুসলিম: ২৫৫৩]
আমল: ৬৭
আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন :-
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুত্বা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) যিক্র শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮৮১
আমল: ৬৮
রাসূল (সা:) বলেন.... "অন্ধকারের মধ্যে যাহারা মসজিদে বেশী বেশী যাতায়ত করে, কিয়ামতের দিনের জন্য তাহাদেরকে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ শুনাও।" —(আল হাদীস
1 994
আমল: ৪২
রমজানের এবং শাওয়ালের রোজা রাখা :-
‘‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখলো, তারপর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলো সে যেন এক বছর রোজা রাখলো।’’ [মুসলিম]
আমল: ৪৩
প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা রাখা :-
‘‘প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমান।’’ [বুখারী, মুসলিম]
আমল: ৪৪
রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতারি করানো :-
‘‘যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় সে তার (রোজাদার) সমান প্রতিদান পায়, কিন্তু এর ফলে রোজাদারের প্রতিদানের মধ্যে কোন কমতি হবে না।’’ [তিরমিজি, ইবনে মাজাহ]
আমল: ৪৫
লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদাত করা :-
‘‘মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম’’। [ক্বদর, ৯৭:৩]
আমল: ৪৬
জিহাদ :-
‘‘একজন ব্যক্তির আল্লাহর পথে জিহাদের সারিতে দাড়ানো, ৬০ বছর ইবাদাতের চেয়েও উত্তম।’’ [আল-হাকিম]
আমল: ৪৭
রিবাত (রাত জেগে ইবাদাত করা) :-
‘‘একদিন ও একরাত স্বদেশের (মুসলিম দেশের সীমান্ত, যেখানে শত্রুর হামলার আশংখা আছে) সীমান্ত পাহারা দেয়া এক মাস ধরে রোজা রাখা ও রাতে ইবাদাত করার চাইতে বেশী মূল্যবান। এ অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল, মারা যাবার পরও তা তার জন্য জারী থাকবে। তার রিযকও জারী থাকবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকেও সে থাকবে সুরক্ষিত। য[মুসলিম]
আমল: ৪৮
জিলহজ্জ এর প্রথম ১০ দিন বেশী বেশী ইবাদাত করা :-
‘‘এমন কোন দিন নেই যেদিনে কৃত আমল এসব দিন অর্থাৎ যুল হিজ্জা এর প্রথম ১০দিনের নেক আমলের মত আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়।’’ সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ইয়া রসূলুল্লাহ! আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেকী) আমল ও কি নয়?’’ তিনি বললেন: ‘‘না, আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেকী) আমলও নয়। তবে যে ব্যক্তি তাদের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হল এবং এর কোনটা নিয়েই আর ফিরে আসল না সে ছাড়া।’’ [বুখারী]
আমল_৪৯
কুরআনের সূরাগুলো বার বার তিলাওয়াত করা :-
‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের এক তৃতীয়াংশ এবং ‘ক্বুল ইয়া আইযুহাল কাফিরুন’ কুরআনের চার ভাগের এক ভাগ।’’’ [আত তাবারানী]
আমল: ৫০
ইসতিগফার করা :-
‘‘যে ব্যক্তি ঈমানদার নারী পুরুষের জন্য ইসতিগফার করে, আল্লাহ প্রত্যেকের জন্য ১টি করে নেক আমল লিখে দেন। রিয়াদুস সালেহিন
আমল: ৫১
মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা :-
‘‘ যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করে দেন। যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের কোন অসুবিধা (বিপদ) দূর করে দেয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে কিয়ামাতের দিন তার কষ্ট ও বিপদের অংশ বিশেষ দূর করে দিবেন।’’
আমল_৫২
যিকর :-
‘‘সুবহানালা-হি ওয়াল হামদু লিলা-হি, ওয়ালা ইলা-হা ইলালাহ-হু আলাহু আকবার’’ এই কালিমাগুলো বলা, সূর্য যে সমস্ত জিনিসের ওপর উদিত হয়, সেই সমুদয় জিনিসের অপেক্ষা অধিকতর প্রিয়।’ [মুসলিম]
আমল: ৫৩
‘‘আল্লাহ কি তোমাদের জন্য ইশার সালাত জামা’আতে পড়া হজ্জের সমান এবং ফজরের সালাত জামা’আতে পড়া ওমরাহর সমান করেন নি’’ এবং ‘‘যে ফরজ সালাত জামা’আতে পড়ার জন্য হেঁটে যায়, তা হজ্জের সমান এবং যে নফল সালাত পড়ার জন্য হেঁটে যায়, তার সাওয়াব নফল ওমরাহর সমান।’’ (সহীহ আল জামি: ৬৪৩২)
আমল: ৫৪
‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আলাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সালাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সওয়াব পূর্ণ করল। [রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম একথাটি ৩বার জোড়ে জোড়ে পুনরাবৃত্তি করলেন।] [আত-তিরমিজি ‘‘সাহাবীরা বললেন, ‘‘ইয়া রাসূলুলাহ! ধনীরাতো আখিরাতে বেশী পুরস্কার পাবে, তারা হজ্জ আদায় করে, আমরা পারিনা, তারা জিহাদ করে এবং আমরা পারিনা। মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সালাম) বললেন, ‘‘আমি কি তোমাদের এ রকম কিছুর কথা বলবো না, যদি তোমরা এটি শক্ত করে ধরে রাখ, তাহলে তোমরা তাদের মত সাওয়াব অর্জন করতে পারবে। তাহলো প্রত্যেক সালাতের পর আলাহু আকবার ৩৪ বার, সুবহান আল্লাহ ৩৩ বার এবং আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার বলা।’’
আমল: ৫৫
‘‘যখন কেউ তার ভাইয়ের জন্য দো’আ করে, তখন ফিরিশতারা বলেন,‘ আমিন, তোমার জন্যও তা।’’ [সাহীহ আল জামি: ২১৪৩] হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরবস্থা (অল্প ধনে জনের আধিক্য), দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ভাগ্য এবং দুশমন-হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি। (মুসলিম)
আমল: ৫৬
অন্য হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, 'হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী, আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। সেটি হলো, 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।' (বুখারি : ৬৪০৬)
আমল: ৫৭
সাদকায়ে জারিয়াহ :-
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিনটি জিনিস বন্ধ হয় না- সাদকায়ে জারিয়াহ, ওই ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়; সুসন্তান, যে তার মৃত বাবার জন্য দোয়া করে। (তিরমিজি : ১৩৭৬)
1 994
আমল : ২১
রাস্তার ডানপাশে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। না পারলে ভিন্ন কথা।
আমল: ২২
ফরজ সালাত শেষে হাদিসে বর্ণিত যিকির, দুয়ার আমল করা। ফজর ও মাগরিবের পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়া, তিন ক্বুল পড়ে শরীর দম করা, ইত্ত্যাদি হাদিসে বর্ণিত আমল করা।
আমল: ২৩
আযানের জবাব দেয়া, আযানের পর হাদিসে বর্ণিত দুয়া পড়া। (হাত উত্তোলন না করে) -চলতে ফিরতে ছোট বড় সকলকে সালাম দেয়া। সালাম দিয়ে কথা শুরু ও শেষ করা। শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া।
আমল: ২৪
জামা ও জুতা পরার সময় ডান দিক পরা এবং খোলার সময় বামদিকে আগে খুলা। সম্ভব হলে হাদিসে বর্ণিত দুয়া মুখস্থ করে আমলের অভ্যাস করা।
আমল: ২৫
পানি খাওয়ার সময় ৬টি সুন্নত ভালোভাবে মেনে খাওয়ার চেষ্টা করা।
আমল: ২৬
ভাত বা যেকোন খাবার খাওয়ার সময় সমতল জায়গায় বসে দস্তরখানা বিছিয়ে বিসমিল্লাহ বলে দুয়া পড়ে খাওয়া, কিছু পরে গেলে তুলে ধুয়ে খাওয়া, খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ্ পড়া।
আমল: ২৭
ঘুমানোর আগে সূরা মূলক তিলাওয়াত করা, তিন ক্বুল (ইখলাস, ফালাক্ব, নাস) পড়ে তিনবার শরীর দম করা, ঘুমের দুয়া পড়া, আয়াতুল কুরসী পড়া, সূরা কাফিরুন পড়ে ডান কাত হয়ে শোয়া।
আমল: ২৮
ঘুমের মাঝখানে কোন খারাপ স্বপ্ন দেখলে উঠে বামপাশে তিনবার থু থু ফেলা এবং আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম পড়ে আল্লাহর কাছে শয়তানের হাত থেকে পানাহ চাওয়া।
আমল: ২৯
আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা :-
‘‘কেউ যদি চায় যে তার মূলধন বৃদ্ধি করা হোক এবং বয়স দীর্ঘ করা হোক, তবে তাকে বল সে যেন আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’’ [বুখারী, মুসলিম]
আমল: ৩০
২টি পবিত্র হারামে (মক্কা ও মাদীনা) সলাত পড়া :-
‘‘আমার এই মাসজিদে সালাত পড়া অন্য কোথাও ১ হাজার বার সালাত পড়ার চেয়েও উত্তম, শুধুমাত্র মাসজিদুল হারাম ছাড়া এবং মসজিদুল হারাম এ সলাত পড়া অন্য কোথাও একশ হাজার বার সালাত পড়ার চেয়ে উত্তম।’’ [আহমাদ, ইব্ন মাজাহ]
আমল : ৩১
জামা’আতে সালাত পড়া :-
‘‘জামা’আতে সালাত পড়া একাকী সালাত পড়ার চাইতে ২৭ গুন বেশী মর্যাদার।’’ [বুখারী, মুসলিম]
আমল: ৩২
ইশা এবং ফজর জামা’আতে পড়া :-
‘‘যে ব্যক্তি ইশার সালাত জামা’আতে পড়ল সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদাত করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতে পড়ল সে যেন পুরো রাত ইবাদাত করল।’’ [মুসলিম]
আমল: ৩৩
নফল সালাত বাসায় পড়া :-
‘‘ফরজ সালাত ছাড়া মানুষের সালাতের মধ্যে সেই সালাত উৎকৃষ্ট, যা সে ঘরে পড়ে।’’ [বুখারী , মুসলিম]
আমল: ৩৪
জুম’আর দিনের ইবাদাতগুলো পালন করা :-
‘‘যে জুমু’আহর দিনে গোসল করে , তারপর প্রথম খুৎবার পূর্বেই উপস্থিত থাকে, পায়ে হেটেঁ আসে, ইমামের কাছে বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনে ও কোন কথা না বলে -- তাহলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একবছর সালাত পড়া ও রোজা রাখার সমান সাওয়াব পাবে।’’ (আহল-আস-সুনান) হযরত আউস ইবনে আউস আসসাকাফি (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করবে, অতঃপর কোনো রকম যানবাহনে না চড়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাবে, ইমামের নিকটবর্তী বসবে, চুপ থাকবে এবং অনর্থক কথা বলা থেকে বিরত থাকবে, তবে তার জন্য বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রতি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামুল লাইলের সওয়াব লেখা হবে। (আবু দাউদ : ৩৪৫)
আমল: ৩৫
দোহার (ইশরাক) সালাত পড়া :-
‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সালাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সাওয়াব পূর্ণ করল। [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথাটি ৩ বার জোরে জোরে পুনরাবৃত্তি করলেন। [আত-তিরমিজি]
আমল: ৩৬
ইলমের জন্য মাসজিদে যাওয়া :-
‘‘যে দুনিয়াবি কোন কারন ছাড়া দ্বীনি ইলম শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মাসজিদে যায়, সে ঐ ব্যক্তির মত যে তার হজ্জ পূর্ণ করেছে।’’ [আত তাবারানী]
আমল: ৩৭
রমজানে ওমরাহ পালন করা :-
‘‘রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ্জ করার সমান।’’ [বুখারী]
আমল: ৩৮
মাসজিদে ফরজ সালাত আদায় করা :-
‘‘যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে পবিত্রতা অর্জন করে (অজু ও প্রয়োজনে গোসলও করে) আল্লাহর গৃহের মধ্য থেকে কোন একটি গৃহের দিকে যায়, আল্লাহর ফরজের মধ্য থেকে কোন একটি ফরজ আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং অন্য পদক্ষেপটি তার একটি মর্যাদা উন্নত করে।’’ [মুসলিম]
আমল: ৩৯
জামা’আতে প্রথম সারিতে দাড়ানোর চেষ্টা করা :-
‘‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম সারির জন্য ৩ বার এবং দ্বিতীয় সারির জন্য ১ বার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।’’ [আন নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]
আমল: ৪০
মাদীনার মাসজিদুল কুবায় সালাত পড়া :-
‘‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে নিজেকে পবিত্র করে, তারপর মাসজিদুল কু’বায় আসে এবং সালাত পড়ে, সে যেন ওমরাহর সাওয়াব পেল।’’ [আন নাসাঈ, ইবন মাজাহ]
আমল_৪১
আযানের জবাব দেয়া :-
‘‘যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তার পুনরাবৃত্তি করে যাও। যখন আযান শেষ হয় তখন (দোয়া) চাও, তোমাকে দেয়া হবে।’’ [আবু দাউদ, আন নাসাঈ]
1 994
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শায়েখ!
আপনি আমাকে ছোটো ও বড়ো নেক আমলের লিষ্ট দিন।
উত্তর: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম । ৭০টি এমন আমল যাতে রয়েছে বহু ফজিলত
আমল: ১
প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করুণ (আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ)। এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৩৪।
আমল: ২
প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করুণ এতে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে যেতে পারবেন। সহিহ নাসাই, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৯৭২।
আমল: ৩
প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং ১ বার (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করুণ এতে আপনার অতীতের সব পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১২২৮। সেই সাথে জাহান্নাম থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন কেননা দিনে ৩৬০ বার এই তাসবিহগুলো পড়লেই জাহান্নাম থেকে মুক্ত রাখা হয় আর এভাবে ৫ ওয়াক্তে ৫০০ বার পড়া হচ্ছে। সহিহ মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং- ১৮০৩) ।
আমল: ৪
প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ করুণ এতে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। সহিহ নাসাই, সহিহ তারগিব, হাকিম হাদিস নং- ৩৮৩৯, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ১১৪০।
আমল: ৫
রাসুল (সাঃ)-এর উপর সকালে ১০ বার ও সন্ধ্যায় ১০ বার দরুদ পড়ুন এতে আপনি নিশ্চিত রাসুল (সাঃ)-এর সুপারিশ পাবেন। তিবরানি, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫৬ ।
আমল: ৬
সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি পরলে সৃষ্টিকুলের সমস্ত মানুষ থেকে বেশী মর্যাদা দেওয়া হবে। সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং- ৫০৯১। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি' পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি : ৩৪৬৪)
আমল: ৭
সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশী সওয়াব আর কারো হবে না। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৯২।
আমল: ৮
সকালে ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ১০০ বার আল্লাহু আকবার এবং ১০০ বার লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর পাঠ করলে অগণিত সওয়াব হবে। নাসাই, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫১।
আমল: ৯
বাজারে প্রবেশ করে- (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়্যুহয়ী ওয়া য়্যুমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুল লা য়্যামূত, বিয়াদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর)পাঠ করুণ এতে ১০ লক্ষ পুণ্য হবে, ১০ লক্ষ পাপ মোচন হবে, ১০ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং জান্নাতে আপনার জন্য ১ টি গৃহ নির্মাণ করা হবে। তিরমিজি, হাদিস নং- ৩৪২৮,৩৪২৯।
আমল: ১০
বাড়িতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করুণ এতে আল্লাহ তা’লা নিজ জিম্মাদারিতে আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪৯৯, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৩১৬।
আমল: ১১
জামাতে ইমামের প্রথম তাকবীরের সাথে ৪০ দিন সলাত আদায় করুন এতে আপনি নিশ্চিত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। তিরমিজি, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৭৪৭, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৪০৪)।
আমল_১২
প্রতিমাসের আয়ের একটা অংশ এতিমখানা বা মসজিদ মাদ্রাসা বা গরিব-দুখি, বিধবা ও দুস্থদের মাঝে দান করবেন হোক সেটা অতি অল্প এতে আপনি আল্লাহ তা’লার কাছে জিহাদকারির সমতুল্য হবেন। সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৬০০৭।
আমল: ১৩
মহিলারা ৪টি কাজ করবেন, ১- ৫ ওয়াক্ত সলাত ২- রমজানের সিয়াম, ৩- লযযাস্থানের হেফাজত, ৪- স্বামীর আনুগত্য করুণ এতে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪১৬৩ ।
আমল: ১৪
মসজিদে ফজরের সলাত আদায় করে বসে দোয়া জিকির পাঠ করুণ এবং সূর্য উঠে গেলে ২ রাকাত ইশরাকের সলাত আদায় করুণ এতে প্রতিদিন নিশ্চিত কবুল ১ টি হজ্জ ও উমরার সওয়াব পাবেন। তিরমিজি, তারগিব হাদিস নং- ৪৬১।
আমল_১৫
প্রতিটি ভালো কাজ ডান দিক দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা।
আমল: ১৬
ঘুম থেকে উঠে ঘুমের দুয়া পড়া ।
আমল: ১৭
বাথরুমে যেতে দুয়া পড়ে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা, বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হয়ে দুয়া পড়া। [বাথরুমে কোন দুয়া পড়া যাবে না]
আমল_১৮
-ওযুর পূর্বে মিসওয়াক করার অভ্যাস করা। -ওযুর শুরুতে এবং শেষে হাদিসে বর্ণিত দুয়া পড়া।
আমল: ১৯
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে দুয়া পড়ে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময়ও ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে সালাম দেয়া। যদিও ঘরে কেউ না থাকুক না কেন সালাম দেয়া সুন্নাহ, আল্লাহর হুকুম। যদি ঘরে কেউ নাকে তবে এই সালাম ঘরের ফিরিশতাদের জন্য।
আমল: ২০
মসজিদে ডান পা দিয়ে দরুদ ও দুয়া পড়ে ঢুকা এবং বাম পা দিয়ে দরুদ ও দুয়া পড়ে বের হওয়া।
1 994
🚧বেশিরভাগ মানুষ মদিনায় ভুল হোটেল বেছে নেয়।
কারণ তারা মনে করে
“মসজিদ নববীর কাছে” থাকাই যথেষ্ট।
কিন্তু তা নয়।
কেউ কেউ রওজার কাছাকাছি থাকতে চায়।
আবার কেউ কেউ শপিং এলাকার কাছে থাকতে পছন্দ করে।
আর এই জায়গাগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে অবস্থিত।
🟢 আপনি যদি রওজার কাছাকাছি থাকতে চান
গেট ৩০১–৩১০, ৩৬৫–৩৬৯ এর কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন
→ কিছু হোটেল থেকে সবুজ গম্বুজের দৃশ্যও দেখা যায়
🔴 আপনি যদি কেনাকাটা, খাবার, ক্যাফে এবং মানি চেঞ্জারের (বিন দাউদ, তাইবা মল, ফুড কোর্ট) কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন
গেট ৩২৮–৩৩৮ এর কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন
🟣 আপনি যদি ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর (মসজিদ গামামা, মসজিদ আলী, মসজিদ আবু বকর) নামাজে যাওয়া-আসার পথে আপনি এগুলো অতিক্রম করবেন
৩০৯-৩১০।
🟢 কুবা ওয়াকওয়ে ও মসজিদে বিল্লাল র: এর কাছাকাছি হোটেলে থাকতে চান
আশেপাশের এলাকায় থাকতে চান
গেট ৩১০–৩২৬ এর কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন
🔵 আপনি যদি জান্নাতুল বাকির আরও কাছাকাছি যেতে চান
গেটের কাছাকাছি হোটেল বেছে নিন ৩৪০–৩৬৪
→ কিছু হোটেল থেকে এমনকি জান্নাতুল বাকির সরাসরি দৃশ্যও দেখা যায়
সঠিক দিকটি বেছে নিলে
প্রতিদিন আপনার শক্তি বাঁচতে পারে।
#ibmtravel #madinah #Hajj2026 #hajj #umrah #saudiarabia
1 994
এই আর্টিকেলে এমন ১০টি সাধারণ অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে যা আমাদের অজান্তেই জীবনের আনন্দ কেড়ে নেয়।
•
১. জীবন যেমন ‘হওয়া উচিত’ তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা: জীবন সবসময় আপনার মনের মতো হবে না। তাই হতাশ না হয়ে সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন। বর্তমান পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও আপনার প্রতিক্রিয়া আপনার হাতে।
২. অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা: যেসব সমস্যা আপনি সমাধান করতে পারবেন না, সেগুলো মেনে নিন। অতীত বা কাল্পনিক কোনো বিষয় নিয়ে শক্তি নষ্ট করবেন না। মাঝে মাঝে ছেড়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় সাহসের কাজ।
৩. অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখা: আপনি গত বছর বা গত সপ্তাহে যা ছিলেন, আজ তা নন। জীবন পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে নতুন শুরুকে স্বাগত জানান।
৪. নিজেকে ক্ষমা না করা: অতীতে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুলের জন্য নিজেকে সারাজীবন দোষ দেবেন না। সেই ভুলগুলো ছিল আপনার জন্য বড় শিক্ষা। নিজেকে ক্ষমা করে সামনে এগিয়ে যান।
৫. জীবনের গৎবাঁধা নিয়মে আটকে থাকা: অধিকাংশ মানুষ অন্যের দেওয়া বা সমাজের তৈরি নিয়মে জীবন কাটায়। নিজের পছন্দ বা প্যাশনকে গুরুত্ব দিন। জনপ্রিয়তা নয়, বরং যা সঠিক তা করার চেষ্টা করুন।
৬. নতুন ধারণা বা শিক্ষাকে বাধা দেওয়া: ভাববেন না যে আপনি সব জানেন। শেখা বন্ধ করবেন না। বই পড়ুন, অন্যের কথা শুনুন এবং নিজের জ্ঞানকে অন্যের কল্যাণে কাজে লাগান।
৭. ক্ষণিক আনন্দের পেছনে ছোটা: বস্তুগত সুখ সাময়িক। দীর্ঘস্থায়ী সুখ আসে নিজের উন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে। যা এখন আনন্দ দিচ্ছে কিন্তু ভবিষ্যতে ক্ষতি করবে, এমন কাজ থেকে দূরে থাকুন।
৮. সবসময় অন্যের জীবন নিয়ে পড়ে থাকা: অন্যের সফলতার গল্প দেখতে দেখতে নিজের গল্প লিখতে ভুলে যাবেন না। নিজেকে গুরুত্ব দিতে শিখুন। নিজের যত্ন নিন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।
৯. ছোট ছোট ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়া: সফল হতে হলে অনেকবার ব্যর্থ হতে হতে পারে। ভুল করা মানে আপনি চেষ্টা করছেন। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং পড়ে গিয়ে উঠে না দাঁড়ানোই হলো আসল ব্যর্থতা।
১০. ‘সঠিক সময়ের’ জন্য অপেক্ষা করা: নিখুঁত মুহূর্ত বলে কিছু নেই। সময়কে নিখুঁত করে নিতে হয়। খুশির জন্য ছুটির দিন বা বিশেষ সময়ের অপেক্ষা করতে করতে পুরো জীবনটাই পার করে দেবেন না। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগান।
•
একটি ছোট অনুশীলন:
আপনার জীবনের যেকোনো একটি ক্ষেত্র বেছে নিন যা আপনি উন্নত করতে চান। এই ৪টি প্রশ্ন নিজেকে করুন:
১. বর্তমানে আপনার সমস্যা কী?
২. কোন অভ্যাসগুলোর কারণে আপনি আজ এই সমস্যায় পড়েছেন?
৩. আপনি নিজেকে ভবিষ্যতে কেমন দেখতে চান?
৪. সেখানে পৌঁছাতে প্রতিদিন আপনাকে কোন ছোট নতুন অভ্যাসটি শুরু করতে হবে?
মনে রাখবেন, আপনি যদি বারবার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান, তবে জীবনে উন্নতি করা সম্ভব নয়। আজই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিন।
______
1 994
আমার পরিচিত একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা তাকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ দান করেছেন—
কিন্তু গ্রামের কাউকেই তিনি তা জানতে দেননি।
গ্রামে ঢোকার প্রায় ১৫ কিলোমিটার আগেই নেমে যান,
নিজের প্রায় ৮০ লাখ টাকার গাড়িটি আবার ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।
এরপর নিজে ভ্যান, অটো বা CNG-তে করে
একদম সাধারণ মানুষের মতো বাড়িতে পৌঁছান।
গ্রামে থাকা অবস্থায় তিনি আয়রন করা জামাও পরেন না—
নিজেকে স্বাভাবিক ও সাধারণ রাখতেই এই চেষ্টা।
এত কিছু মেনে চলার পেছনে একটাই কারণ—
বদনজরের ভয়।
কারণ, নজর মানুষকে উঁচু থেকে নিচে নামিয়ে দিতে পারে,
একজন বাদশাকে ফকির বানিয়ে দিতে পারে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে
বদনজর ও হিংসা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
1 994
প্রিয় পাঠক, এক টুকরা কাগজ নিন৷ কাগজে আপনার নাম লিখুন৷ নামের নিচে দুটো ফোন নাম্বার লিখুন৷ না, আপনার ফোন নাম্বার না৷ আপনার অতি আপনজনের ফোন নাম্বার৷ আপনার পিতা, মাতা, ভাই অথবা স্বামী/স্ত্রীর।
আর যদি আপনি হোস্টেল বা মেসে থাকেন, তাহলে রুমমেটের ফোন নাম্বার৷
নাম্বার লেখার আগে ছোট করে সেই ব্যক্তির পরিচয় লিখবেন৷ বাবা, ভাই, রুমমেট এরকম লিখলে হবে।
ফোন নাম্বারের নিচে লিখবেন আপনার রক্তের গ্রুপ।
•
আপনার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকুক বা না থাকুক, এই কাগজ সারাক্ষণ শার্ট অথবা প্যান্টের পকেটে রাখবেন৷ আপনি যখন দুর্ঘটনায় পতিত হবেন, তখন সবাই ভিডিও করবে না, সবাই রিল বানিয়ে ভিউ ব্যবসা করবে না৷ কোনো কোনো মানবিক মানুষ আপনার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে৷ তখন আপনাকে হাসপাতালে নেয়া হবে৷ আপনি হয়তো তখন অজ্ঞান থাকবেন অথবা মৃত্যুবরণ করবেন। তখন আপনার আপনজনকে খবর দিতে হলে ওই ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।
আপনার পকেটে যে ফোন থাকবে, সেটা লক করা থাকবে, সুতরাং ওপেন করে আপনজনদের ফোন নাম্বার বের করা মুশকিল হবে৷ সবচেয়ে বড় কথা হলো- আপনার পকেটের ফোন চুরি হয়ে যাবে৷ বাঙালিরা দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের এবং মৃত মানুষের পকেট থেকে ফোন, টাকাপয়সা চুরি করতে খুব পারদর্শী।
যদি আপনি জীবিত থাকেন, তখন চিকিৎসার জন্য আপনার রক্ত লাগতে পারে৷ তখন কাগজের রক্তের গ্রুপ দেখে দ্রুত সেই রক্ত জোগাড় করতে পদক্ষেপ নেয়া যাবে।
•
আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আগে বা শিক্ষা সফরে পাঠানোর আগে একই কাজ করবেন৷ শার্ট অথবা প্যান্টের পকেটে নাম, ফোন নাম্বার, রক্তের গ্রুপ লিখে দিতে হবে।
এদেশে কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে, এই গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না৷ সুতরাং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বাইরে বের হওয়া ভালো৷ কাগজ রাখতে হবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায়।
•
এই কথাগুলো অনেক রূঢ় মনে হচ্ছে৷ কিন্তু বাস্তবতা এটাই ভাই৷ দোয়া দরূদ পড়ে অবশ্যই বের হবেন। তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি রাখতে হবে৷
সহি সালামতে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলে স্রষ্টার কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করুন। স্বাভাবিকভাবে আপনি বেঁচে আছেন, এটাই অলৌকিক ঘটনা, এবং স্রষ্টার অনেক বড় রহমত।
______
1 994
বাবা মা যাদের আছে, তাদের চেয়ে বড়লোক কেউ নেই। সময় থাকতে এটা বোঝা জরুরি।
•
পৃথিবীতে অনেক অসুন্দর আছে, সেগুলোতে ফোকাস না দিলেই হয়৷ যা কিছু ভালো, সেটা নিয়ে থাকতে হবে।
•
জীবনটা স্রষ্টার দেয়া এত বড় একটা গিফট, প্রতিটা মুহূর্ত উদযাপন করাই ভালো৷
•
নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে কোনো গ্লানি নেই।
•
ভেঙে পড়াও জীবনের একটা অংশ।
•
জীবনে এত কাজ করার আছে! কিন্তু সময় খুব অল্প। যে কোনো সময় মরে যেতে হবে। এই অল্প সময়ের মধ্য যতটা অর্থবহ ভ্রমণ করা যায়, তত ভালো।
•
কারো সাথে প্রতিযোগিতায় নামার দরকার নাই। নিজের কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।
•
অন্যের জীবন দেখে অনুপ্রেরণা নিতে পারো৷ তবে অন্যে কী করলো, কতদূর গেল তা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া বা তার সাথে কম্পিটিশনে নামাটাই ক্ষতির কারণ।
•
একটা জীবন ভালোবাসার জন্যই যথেষ্ট না৷ সেখানে কত কিছু করে আমরা এনার্জি নষ্ট করি।
_______
উক্তি: শারমীন সুলতানা সুমী
কার্টেসী: সময়ের গল্প
1 994
ছোট বেলা থেকে শুনে আসতেছি একজন মানুষ সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক ভালো পরিমাণ পানি পান করতে হবে। পানি বেশী করে পান করলে শরীর ভালো থাকে। স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠে। ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গত প্রায় ২ বছর ধরে যখন থেকে কিডনী ডায়ালাইসিস জগতে আসলাম, তখন থেকে বুঝতে পারছি আসলে এ পানি ঠিক মত পান করাও যে কত বড় নেয়ামত। কেনো এ কথা বললাম?
বলা হয়ে থাকে কিডনী রোগীদের বাঁচতে হলে একটা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে ওই কাপড় টা চেপে চেপে ফোঁটা ফোঁটা করে পানি পান করাতে। কারণ একটু বেশী পানি পান করলে কিডনী রোগীদের শরীর পানিতে ফুলে যায়। যাঁর ফলে তাদের শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হয়। এজন্য পরিমাণ মত পানিও ঠিক মত তাঁরা পান করতে পারেন না!!
কিডনী ডায়ালাইসিস জগত চিনতাম না। গত প্রায় ২ বছর এটার সাথে এমন ভাবে জড়িত হলাম! চোখের সামনে অনেক রোগী ইতিমধ্যে হায়াত শেষ হয়ে আল্লাহর কাছে চলে গিয়েছেন। অনেক তরুণ বয়সে বলতে পারেন আমাদের বয়সেরও ছোট মানুষের ও কিডনী ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। এমন অনেক রোগী চোখের সামনে দেখে আসতেছি।
সপ্তাহে ২/৩/৪ বার করে কিডনী ডায়ালাইসিস করতে হয়। এটা মূলত আমাদের শরীরের রক্ত সব একটা লাইন দিয়ে বের করে তা থেকে পানি পরিশোধন করে অন্য আরেকটা লাইন দিয়ে শরীরে সব রক্ত প্রবেশ করে।
এ পুরো প্রক্রিয়া টা মেশিন এ ৪ ঘন্টা টাইমার সেট থাকে।
এর আগে শেষ হয় না। পুরো ৪ ঘন্টা শুয়ে থাকতে হয় কিডনী রোগী দের। এরপর হাসপাতাল থেকে বাসায় আসা যাওয়া মিলে আরও ১/২ ঘন্টা লেগে যায়।
অর্থাৎ, পুরো ৫/৬ ঘন্টা সময়ের ব্যাপার। যা প্রতি সপ্তাহে ২/৩/৪ দিন এমন চলতেই থাকে।
কিডনী রোগী তো একা চলাচল করতে পারে না। তাঁর সাথে আরেকজন বা দুইজন মানুষ থাকতে হয়। মানে এ রোগী সহ আরও মোট ২/৩ জন্য মানুষের সপ্তাহে ২/৩/৪ দিন ৫/৬ ঘন্টা করে কিডনী ডায়ালাইসিস এ সময় অতিবাহিত করতে হয়।
এছাড়াও তাদের ঔষুধ, দেখাশোনা করা ইত্যাদি ব্যাপার তো রয়েছেই।
মূলত এ কিডনী ডায়ালাইসিস জগত টা গত প্রায় ২ বছর নিজ চোখে সব দেখে আসতেছি। গত প্রায় ২ বছর আমার সহ এমন সকল মানুষদের বলতে পারেন পুরো দিনটাই হাসপাতালে কাটা হয়েছে বা হচ্ছে।
আমার আব্বু কিডনী ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন।
সবাই আমার আব্বুর জন্য দো'আ করবেন।
এমন সকল কিডনী রোগীদের জন্য দো'আ করবেন।
দিন দিন এমন রোগীদের শরীর দূর্বল থেকে দূর্বল
হতে থাকে।
আল্লাহ এমন রোগ কাউকে না দিক।
সুস্থ থাকা যে কত বড় একটা নেয়ামত তা বলার বাহিরে!
আপনারা কেউ কখনো জীবনের উদ্দেশ্য না পেয়ে হতাশ হয়ে গেলে!!
একবার হলেও কবরস্থান এবং হাসপাতালে ঘুরে আসবেন। তাহলে দেখবেন জীবনের উদ্দেশ্য পেয়ে যাবেন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখলে বুঝতে পারবেন মানুষ কত অসহায়!
কবরস্থানে গেলে বুঝতে পারবেন এ দুনিয়া আজীবনের নয়!!
মাত্র কয়েকটা বছর কিংবা কয়েকটা দিন???
1 994
প্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ
৬/৩/২০২৬
প্রশ্ন:
একজন নারী তালাকের পর নিজের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন। কন্যাটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি তার বিয়ে দেন, কিন্তু সেখানে পিতার অনুপস্থিতিতে নানা (মাতামহ) কে অভিভাবক (ওলি) করা হয় এবং প্রাক্তন স্বামীকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয় না। প্রশ্ন হলো, ওলির অনুমতি ছাড়া কি এই বিয়ে বৈধ? হানাফি মাযহাবের মতে ওলি ছাড়াও বিয়ে বৈধ, অন্যদিকে অন্যান্য ইমামদের মতে তা অবৈধ। কুরআন-হাদিসের আলোকে কোন মতটি অধিক গ্রহণযোগ্য?
উত্তর:
ইসলামী ফিকহে বিবাহের নীতিমালা ও শর্ত নির্ধারণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষত প্রাপ্তবয়স্ক নারীর স্বাধীনতা এবং ওলির অনুমতির প্রসঙ্গে। এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে মূলনীতি হচ্ছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী স্বাধীন, সচেতন এবং নিজ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম একটি সত্তা; তার নিজের সম্মতিই বিবাহের বৈধতার জন্য মৌলিক ও যথেষ্ট।
কুরআনে “তানকিহু” ও “ইয়ানকিহনা” শব্দগুলোর ব্যবহারে নারীকেই ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, বিবাহের ক্ষেত্রে নারীকে সক্রিয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে এবং তার সম্মতিকে কেন্দ্রস্থলে রাখা হয়েছে। অতএব, প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সম্মতি ছাড়া তার বিয়ে সম্পন্ন করা কুরআন-সুন্নাহর চেতনার পরিপন্থী।
হানাফি মাযহাবের দৃষ্টিতে, প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা ওলির অনুমতি ছাড়াও নিজ বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে। কারণ, সে নিজের বিবেচনা-বুদ্ধি দ্বারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে। যদি বিবাহের অন্যান্য শর্ত—যেমন ঈমান, সদিচ্ছা এবং শরয়ি বিধানসমূহ পূর্ণ থাকে, তবে কন্যার সম্মতিই যথেষ্ট; ওলির উপস্থিতি অপরিহার্য নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের স্বাধীনতা ও শরিয়তের অন্তর্নিহিত চেতনার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর বোধ, বিচারশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাকে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দায়িত্বশীল করে তোলে।
অন্যদিকে, শাফেয়ি, হাম্বলি ও মালিকি মাযহাবের মতে ওলির অনুমতি অপরিহার্য শর্ত। তাদের দলিল সেই হাদিস “ওলি ছাড়া কোনো বিবাহ নেই” যা থেকে তারা ওলির উপস্থিতিকে আবশ্যিক বলে গণ্য করেন।
তবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর প্রসঙ্গে হানাফি মতটি অধিক যুক্তিসংগত ও মানবিক বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের কল্যাণ-অকল্যাণ বুঝতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম; তার সম্মতিই বিবাহের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
কুরআন ও সুন্নাহর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও এই মতের পক্ষে অধিক শক্তিশালী। কুরআনে বিবাহের মৌলিক উপাদান (ঈমান, পারস্পরিক সম্মতি ও সদিচ্ছা) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (সূরা নিসা ৪:২১)। একইভাবে হাদিসেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সম্মতির গুরুত্ব সুস্পষ্ট। বিবাহের প্রকৃত লক্ষ্য হলো, দুই পক্ষের আন্তরিক সম্মতি ও কল্যাণকামী মনোভাব নিয়ে একটি পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। যদি সেই সম্মতি বিদ্যমান থাকে, তবে ওলির অনুপস্থিতি এই লক্ষ্যকে ব্যাহত করে না; বরং তা নারীর স্বাধীন চেতনা ও পরিপক্বতারই স্বীকৃতি বহন করে।
এই আলোকে বলা যায়, যদি প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা নিজের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন করে এবং ওলি হিসেবে নানাকে মনোনীত করে, তবে হানাফি মত অনুযায়ী এ বিবাহ শরয়ি ও আইনগতভাবে বৈধ, শর্ত এই যে, তার সম্মতি সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকা লাগবে।
এই মত শুধু কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিকোণ থেকেই শক্তিশালী নয়; বরং এটি মানবিক স্বাধীনতা, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধেরও পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়।
----------
মূল : ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড
1 994
জীবন কঠিন—এটি মেনে নেওয়াই হলো জীবনের বড় সত্য। যখন আমরা বুঝতে পারি জীবন কঠিন, তখন এটি আর ততটা কঠিন থাকে না।
•
সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই আমরা মানসিকভাবে বড় হই। সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এবং তা সমাধান করাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য।
•
আমাদের উচিত সবসময় সত্যের পথে থাকা, এমনকি যদি সেই সত্য আমাদের আরামদায়ক বিশ্বাসকে ভেঙে দেয় তবুও।
•
শৃঙ্খলাই হলো আধ্যাত্মিক বিবর্তনের একমাত্র উপায়। শৃঙ্খল ছাড়া জীবনের কোনো সমস্যাই স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়।
•
আমাদের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। অন্যকে দোষারোপ করা মানে নিজের পরিবর্তনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।
•
জীবন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলা। কখন হাল ধরতে হবে এবং কখন ছেড়ে দিতে হবে, তা জানাই বড় কৌশল।
•
ভালোবাসা কোনো অনুভূতি নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত এবং কাজ। এটি নিজের বা অন্য কারো আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রসারিত করার নাম।
•
কাউকে ভালোবাসা মানেই আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া। যারা আঘাতের ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে, তারা আসলে জীবন থেকেই দূরে সরে যায়।
•
যদি আপনি কাউকে ছাড়া চলতে না পারেন, তবে সেটি ভালোবাসা নয় বরং পরনির্ভরশীলতা।
•
আপনি অন্যকে ততক্ষণ ভালোবাসতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি নিজেকে ভালোবাসতে শিখছেন।
•
মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য একা থাকার ক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।
•
মানসিক রোগ হলো এড়িয়ে যাওয়া যন্ত্রণার বিকল্প। আমরা যখন জীবনের কঠিন সত্যগুলো এড়াতে চাই, তখনই আমরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।
•
অজানাকে ভয় পাবেন না। আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি মানেই হলো চেনা পথ ছেড়ে অচেনা পথে পা রাখা।
•
শোনা একটি শিল্প। কাউকে মন দিয়ে শোনার মানে হলো তাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা।
•
শেখার কোনো শেষ নেই। যারা মনে করে তারা সব জানে, তাদের মানসিক বৃদ্ধি সেখানেই থেমে যায়।
•
আলস্য হলো আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রধান শত্রু। আমাদের মনের গভীরে যে আলস্য আছে, সেটিই আমাদের পরিবর্তনের পথে বাধা দেয়।
•
জীবন একটি দীর্ঘ যাত্রা। এই যাত্রায় কোনো শর্টকাট নেই, কেবল কঠিন পথটিই আপনাকে মুক্তির ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারে।
_______
Source: The Road Less Traveled
1 994
🌸 হাম হলে কীভাবে সামলাবেন :-🌸
পোস্ট সেভ করুন ও শেয়ার করুন — কোনো মায়ের সন্তান যেন না কষ্ট পায়।
হামের প্রধান লক্ষণ:
🔸 হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০২–১০৪ ডিগ্রি)
🔸 চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও আলোয় অস্বস্তি
🔸 নাক দিয়ে পানি পড়া ও কাশি
🔸 মুখের ভিতরে সাদা সাদা দানা (Koplik spots)
🔸 ৩–৪ দিন জ্বরের পর গায়ে লালচে দানা (rash) যা মুখ থেকে শুরু হয়ে পুরো শরীরে ছড়ায়
🔸 দুর্বলতা, খেতে না চাওয়া ও চোখের সমস্যা
এই লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন — এটা হাম।
হাম হলে একটা ওষুধ খাইয়ে ঠিক হয়ে যাবে না।
সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো — আপনার সতর্ক যত্ন ও ভালোবাসা ❤️
### হাম সামলানোর সঠিক উপায়:
১. জ্বর নিয়ন্ত্রণ
প্যারাসিটামল সিরাপ দিন (প্রতি ৮ কেজি ওজনের জন্য ১ চামচ করে)।
৬ ঘণ্টা পরপর। নিজে ডোজ ঠিক করবেন না — ডাক্তার দেখিয়ে নিন।
২. শরীরে পানি ধরে রাখুন 💧
বাচ্চা খেতে না চাইলেও অল্প অল্প করে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, দুধ বা স্যুপ খাওয়ান।
৩. ভিটামিন A অবশ্যই দিন 👁️
হামে শরীর থেকে ভিটামিন A কমে যায়। এতে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে, রাতকানা হতে পারে এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন A সাপ্লিমেন্ট দিন।
৪. পুষ্টিকর খাবার
ডিম, দুধ, মাছ, ডাল, ফলমূল (বিশেষ করে কমলা, পেঁপে, গাজর) — যত বেশি পারেন খাওয়ান। পুষ্টি যত বেশি, সুস্থ হওয়া তত দ্রুত।
৫. চোখের যত্ন
ঘর অন্ধকার রাখুন। হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখ মুছিয়ে দিন। সমস্যা বাড়লে ডাক্তার দেখান।
৬. কাশি ও অস্বস্তি
হালকা গরম পানি বা লেবু পানি দিন।
জটিলতা দেখলে দেরি করবেন না:
শ্বাসকষ্ট, বুকে ঘড়ঘড় শব্দ, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর বা শিশু অচেতন হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা
সময়মতো MR / MMR টিকা দিন। একটা টিকায় আপনার সন্তানকে এই কষ্ট থেকে বাঁচান।
অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন — র্যাশ ওঠার আগে ও পরে অন্তত ৪ দিন। হাম খুবই ছোঁয়াচে।
হাম সাধারণ জ্বর নয়, কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক যত্নে বেশিরভাগ শিশুই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়।
আপনার একটা শেয়ার যদি একটা শিশুকে বাঁচায়, তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক। পোস্টটি সব গ্রুপে ওয়ালে শেয়ার করুন।
Dr. Aminul Islam
1 994
সন্তানকে ভালো মানুষ ও সত্যিকারের মুমিন হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের চেষ্টার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পিতা-মাতার দোয়া। ভালো পরিবেশ বা শিক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এই চেষ্টা অসম্পূর্ণ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ আমাদের চমৎকার দোয়া শিখিয়েছেন:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامً
উচ্চারণ: রব্বানা- হাবলানা- মিন আযওয়া-জিনা- ওয়া যুররিয়্যা-তিনা- কুররতা আ’ইয়ুনিঁউ ওয়াজ্‘আলনা- লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা-।
অর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানাও।" (সূরা ফুরকান: ৭৪)
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
উচ্চারণ: রব্বিজ'আলনী মুকীমাছ ছলা-তি ওয়া মিন যুররিয়্যাতী, রব্বানা- ওয়া তাকব্বাল দু'আ-।
অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা! আমাকে নামাজ কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, আমার দোয়া কবুল করুন।" (সূরা ইবরাহিম: ৪০)
আসুন, সন্তানের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আমরা শুধু জাগতিক চেষ্টাই না করি, বরং নিয়মিত মহান রবের দরবারে হাত তুলি। আল্লাহ আমাদের সকল সন্তানকে নেককার, সুস্থ ও সব ধরনের বিপদ থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন। ❤️
#Parenting #IslamicReminder #DuaForChildren
اکنون در دسترس! پژوهش تلگرام ۲۰۲۵ — مهمترین بینشهای سال 
