ডক্টর ইউনূসের সাথে বৈঠকে অংশ না নেওয়াটা বিএনপির ঐতিহাসিক একটা ভুল হইতে যাইতেছে।
৭১ কে ডিজঔন করে জামায়াত যে পাপ করছিলো, ২৪ কে অস্বীকার করে বিএনপিও সেইম ভুলটাই করতে যাইতেছে।
৫ আগস্টের পরেই বিএনপি স্বীকার করেছিলো যে ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বেই এই অভ্যুথান হয়েছে। এটাই ঐতিহাসিক সত্য। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি কে? আমি ৫ আগস্টের আগ থেকে জানতাম না। আমি চিনতাম নাহিদ, আসিফ, সার্জিস আর হাসনাতদের।
২৪ এর নেতৃত্ব এদের হাতেই ছিলো, এদের হাতেই থাকবে। কারণ জেনারেশন জি দল চেনে না, শিবির চেনে না, নির্বাচন চিনে না। এরা আন্দোলনে গেছে রাগ থেকে। এই রাগকে ড্রাইভ করেছে নাহিদ সার্জিসরাই।
জামায়াত বা বিএনপিকে এই আন্দোলনের কোন কৃতিত্ব নিতে হলে এদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমেই নিতে হবে। এই গেমটা বুঝতে পেরেই শিবির সার্জিসকে প্রধান অতিথি করে নিয়ে গিয়ে বলাইছে যে এই আন্দোলনে শিবিরের উজ্জ্বল ভূমিকা ছিলো।
এই সেইম কথাটাই জামায়াতের আমির বা শিবির সভাপতি বললে সবাই হাসাহাসি করতো।
সেইম পরিস্থিতি বিএনপির জন্যও।
সালাহউদ্দিন আহমদ বা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলো, জেন জি জানে। জানে বলেই, ফখরুল যতই বলুক যে বিএনপির অনেক অবদান আছে, ছাত্রনেতারা না বললে ঐটা বিশ্বাস কেউই করবে না।
এইটাই ইতিহাসের একটা ডার্ক সাইড।
যেমন ধরেন, ৭১। ৭১ এ যুদ্ধ সবাই মিলেই করেছে। আওয়ামীলীগের ম্যাক্সিমাম নেতাই ভারতে ছিলো। বাট যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া ৫ জনই ছিলো আওয়ামীলীগের। সো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সার্টিফিকেট শুধু আওয়ামীলীগই দিতে পারে।
বিএনপিকে তাই বলতে হয়, বঙ্গবন্ধু নিজে জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছিলেন। এবং আওয়ামীলীগ যাকে ইচ্ছা মুক্তিযোদ্ধা বানায়, যাকে ইচ্ছা রাজাকার। আপনি হুমায়ূনের জোছনা ও জননীর গল্প পড়ে দেখেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানেই আওয়ামীলীগের ইতিহাস। অথচ আওয়ামীলীগের চে স্যাক্রিফাইস সাধারণ মানুষ বেশিই করেছিলো।
২৪ এও আন্দোলন মানেই ছাত্রনেতারা। চবিতে রাফি, ঢাবিতে নাহিদ হাসনাত সার্জিস জাবিতে আরিফ সোহেল। এরাই এই আন্দোলনের মুখ। গল্প , উপন্যাস কবিতায় এদের নামই বারবার আসবে, ইতিহাসে আসবে।
এই গল্পের কোথাও বিএনপি থাকবে না যদি এরা একবার অস্বীকার করে যে না, আন্দোলনে বিএনপি ছিলোই না। প্রমাণ হিসেবে মির্জা ফখরুল ২৩ তারিখ থেকে টানা বলে গেছেন, এই আন্দোলনে বিএনপি নাই।
এইগুলাই আজ থেকে ৫ বছর পর বৈষম্য বিরোধীরা মানুষের সামনে নিয়ে যাবে।
আওয়ামীলীগের বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, কামরুজ্জামান, মনসুর আলীদের ছাড়া যদি কেউ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র রেডি করে, হবে?
হবে না। উল্টো ঐটা হাস্যকর হবে।
কাউকে ক্রেডিট নিতে হলে বরং ঐ লোকজনকে উপরে বসাইয়া তারপর ক্রেডিট নিতে হবে।
২৪ এর ঘোষণাপত্রও তাই। এইখানে যদি সার্জিসের বসে পড়ে কানতে কানতে আমি কোথাও যাবো না, এখানেই বসে থাকবো না থাকে, নাহিদের গুম না থাকে, এক দফার ঘোষণা থাকে, ঐ ঘোষণাপত্র জুলাই এর ঘোষণাপত্র হবেই না।
বরং ছাত্রদের করা এই ঘোষণাপত্র থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে বিএনপি এই আন্দোলনের পুরো ক্রেডিট অফিশিয়ালি ছাত্রদের হাতে দিয়ে দিলো। ৭১ যেমন আওয়ামীলীগের আছে, ২৪ তেমন এদের হয়ে গেল।
৭১ এর বিপক্ষ শক্তি হয়ে যে ভুলটা জামায়াত করেছিলো, ২৪ এর বিপক্ষ শিবিরে যোগ দিয়ে সেইম ভুলটাই বিএনপিও করতে যাইতেছে।
এখন এই ভুলের সুবিধা কতটুকু কাজে লাগাতে পারবে, সেইটা অবশ্য ছাত্রদের রাজনৈতিক বুদ্ধির উপরেই পুরোপুরি নির্ভর করবে।