fa
Feedback
Nashita Wellness

Nashita Wellness

رفتن به کانال در Telegram

নাশিতা (نشط) শব্দটির বাংলা হল পুনর্জীবিত করা (revive)। আমাদের লক্ষ্য- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ গুলো পুনর্জীবিত করা; সুন্নাহর পরশে এই মৃতপ্রায় সমাজকে বাঁচিয়ে তোলা; মানুষের মাঝে কল্যাণ (wellness) ছড়িয়ে দেয়া- উভয় দুনিয়ার ও আখিরাতের।

نمایش بیشتر
5 411
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
-57 روز
-730 روز
آرشیو پست ها
সামনেই হজ্জের মৌসুম। বাংলাদেশ থেকে হাজীরা ইতিমধ্যে সৌদি যাওয়া শুরু করেছেন। যারা এখনো যাননি, তাদেরও বোধহয় প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে অনেকখানি।  কি কি নিতে হবে আর কি কি করতে হবে, এসব জ্ঞান অভিজ্ঞ জনেরা দিয়েছেন নিশ্চয়ই। আমরা আজ কেবল কিছু ছোটখাটো বিষয় শেয়ার করতে চাই, যা আপনার হজ্ব সফরে উপকারে আসতে পারে।  ১. বর্তমানে সকল হাজীদের একটি আইডি কার্ড বা নুসুক কার্ড দেয়া হয়। এটি সবসময় গলায় ঝুলিয়ে রাখা জরুরি। কিন্তু  সালাতের সময়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখবেন, কারণ এতে আপনার ছবি রয়েছে। আর তাওয়াফ শুরুর আগেও ব্যাগে ভরে নিবেন। অনেকের নুসুক কার্ড ভিড়ের মাঝে ফিতা থেকে খুলে হারিয়ে যায়।  ২. ওখানে গিয়ে সবারই ঠান্ডা, কাশির সমস্যা হয়, মুখে রুচি থাকে না। এমন অবস্থায় আচার খুব কাজে আসে। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ আবার আচার জাতীয় জিনিস নিতে নিষেধ করে। সেক্ষেত্রে সৌদিতে গিয়ে যেকোনো একটি সুপার শপের স্পাইস/সস সেকশনে খুঁজলে আচার পাবেন। আপনার স্বাদ অনুযায়ী চিনি/লবণ মিশিয়ে নিয়েন। ৩. সৌদিতে প্রচণ্ড গরম থাকবে এবছর। বাইরে গেলে অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস নিয়ে যাবেন, এমনকি দুই মিনিটের পথ হলেও। একটি ছোট স্প্রে বোতল সর্বদা সাথে রাখবেন। আর হোটেলে/তাঁবুতে ঢুকেই এসির কাছাকাছি যাবেন না। এতে থার্মাল শকে অসুস্থ হয়ে যাবেন, ঠান্ডাও লেগে যেতে পারে। ৪. প্রচণ্ড গরম আর পরিশ্রম হওয়ার কারণে মানুষ সচরাচর প্রচুর ফলের জুস পান করে থাকে। খেয়াল রাখবেন, ২৫০ মিলির বেশি একদিনে যেন পান করা না হয়। কারণ ফাইবার বিহীন ফলের রস চিনির মতোই কাজ করে।  ৫. অনেক মানুষের ভিড়ে একটু নিরিবিলি ঘুমাতে বা দুআ করতে চাইলে একটা এয়ার প্লাগ/হেডফোন ভীষণ কাজে দিতে পারে। হেডফোন থাকলে কোন একটি প্রাকৃতিক শব্দের অডিও প্লে করে রাখতে পারেন। ৬. হজ্জের সফরে কেবল ভালো মানুষ থাকবে না, কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষও থাকে। চোর, বাটপার এমনকি হাজী বেশে কালোজাদু করা মানুষও থাকতে পারে, তাই সাবধান। এছাড়া আরো দুই ক্ষেত্রে সাবধানতা দরকার, তা হলো- মার্কেট ও রেস্টুরেন্ট। প্রয়োজনে এগুলোতে অবশ্যই যাবেন, তবে বেশিক্ষণ থাকবেন না। এগুলো আপনার রুহানিয়াত চুরি করে নিবে। ৭. মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফার জন্য যেই হালকা ব্যাগ নিবেন তাতে একটি প্লাস্টিক শিট রাখতে পারেন। যেন তাবুর ভেতর দস্তরখান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। খাওয়া, ঘুম, সালাত সব তো একই বেডের উপর করা লাগবে।  ৮. পুরো সফর জুড়ে অনেক দুআ করবেন, বিশেষ করে দুআ কবুলের বিশেষ জায়গা গুলোয়। এই সুযোগ জীবনে আর পাবেন কিনা তা কিন্তু জানেন না। যদি ক্লান্তি খুব জেঁকে ধরে, কিংবা কোলাহলে মস্তিষ্ক বিক্ষিপ্ত থেকে, মুখে দুরুদ চালিয়ে যাবেন। আল্লাহ তো আপনার প্রয়োজনের কথা জানেন, তিনি ঠিকই পূরণ করে দিবেন।  ৯. আমলের পাশাপাশি জিলহজ্জের দিনগুলোয় সাদাকাহ ও হাদীয়া দেয়ার চেষ্টা করবেন। হারামের বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রিয়াল বা টাকাও দিতে পারবেন। হাদীয়ার জন্য দেশ থেকে ছোট ছোট চকলেট, ক্যান্ডি নিতে পারেন। এগুলো হাজীদের ইনস্ট্যান্ট এনার্জি দিবে, আর আপনাকে দিবে অনেক সওয়াব।  ১০. চেষ্টা করবেন বেশি বেশি মানুষকে সাহায্য করতে, এগুলোও সাদাকাহ। কাউকে খাবার এগিয়ে দেয়া, লাইনে এগিয়ে যেতে দেয়া, জিনিস পত্র বহন করতে সাহায্য করা ইত্যাদি ছোট ছোট কাজও খুব বড় হয়ে যাবে বছরের সেরা দিন গুলোতে। দলের সাথে সাথে থাকলে হজ্জ আদায় করা আপনার হয়েই যাবে। কিন্তু মাবরুর হজ্জ... সেটা আদায় করতে চাইলে আপনাকে বাড়তি চেষ্টা করতে হবে।  আল্লাহ দুনিয়ার সকল হাজ্জীর হজ্জ কবুল করুন, যারা যেতে পারেননি, তাদেরও শীঘ্রই হজ্জ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। #Nashita_Wellness 

photo content

📌 আমাদের মিশন রমাদান এর টার্গেট যেগুলো ছিল: ১. আল্লাহর নামে দিন শুরু ২. ভোরের আকাশ দেখা  ৩. সকালে কুরআন পড়া ৪. সকালে মিসওয়াক করা ৫. সকালে নিরাপত্তার দুআ ৬. সবাইকে সালাম দেয়া ৭. ছোট ছোট সুখ খোঁজা ৮. মুচকি হাসি দেয়া  ৯. সালাত শেষে শান্তি  ১০. মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা  ১১. অপরিচিতর জন্য দুআ ১২. মৃত্যুকে স্মরণ করা ১৩. সকালে খেজুর খাওয়া ১৪. গোসলের পর আতর দেয়া ১৫. রামাদানের জন্য দুআ করা ১৬. কাজের ভেতর দুরুদ পড়া ১৭. দিনে পাঁচ মিনিট স্কোয়াট ১৮. ঘুমের আগে বিছানা ঝাড়া ১৯. খালি পেটে আদা খাওয়া ২০. রুকু ও সিজদাহ দীর্ঘ করা ২১. তিন কুল পড়ে ফুঁ দেয়া ২২. স্ক্রিনলাইটের আগে সানলাইট  ২৩. খাওয়ার পূর্বে এক গ্লাস পানি ২৪. আযান শেষে দুআ ২৫. নো রিলস, নো শর্টস  ২৬. লবণ পানি পান ২৭. ঘুমের আগে ক্ষমা করা ২৮. অপ্রয়োজনীয় আলাপ ত্যাগ ২৯. সালাতের পূর্বে সূরা নির্বাচন ৩০. অন্তত দুই রাকাত নফল সালাত

☀️ মিশন জিলহজ্ব-১৪৪৭ 🌱প্রথম সপ্তাহ🌱 টার্গেট ১: ঘুমের আগে 'ইন শা আল্লাহ লিস্ট' টার্গেট ২: ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি টার্গেট ৩: ঘুমের আগে নেট অফ রামাদানের শেষ দশ রাতের থেকে জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন আমল করা বেশি চ্যালেঞ্জিং, মূলত দুটো কারণে- শয়তান বাঁধা থাকে না, আর দিনের বেলায় দুনিয়াবি ব্যস্ততা থাকে। তাই আমাদের টার্গেটগুলো হবে এই দুটো পয়েন্ট মাথায় রেখে, ইন শা আল্লাহ।  🔸টার্গেট ১: ঘুমের আগে 'ইন শা আল্লাহ লিস্ট'  👉 ভাবছেন, 'ইন শা আল্লাহ লিস্ট' আবার কি? এটা হলো To Do List। অর্থাৎ কাল সারাদিন কি কি করবেন তা বুলেট পয়েন্ট আকারে একটি কাগজে রাতেই লিখে রাখবেন।  খাওয়া, সালাত এসব বিষয়ে লিখতে হবে না। কেবল কোন স্পেশাল দায়িত্ব থাকলে সেকথা লিখে রাখবেন। হতে পারে কোন এসাইনমেন্ট সাবমিশন বা চাদর ধোয়ার মত সিম্পল কোন বিষয়। আমরা অনেকে মাথায় সারাদিনের প্ল্যান করে নেই। এটা নিঃসন্দেহে উপকারী, এতে প্রোডাক্টিভ থাকা যায়। কিন্তু খুঁটিনাটি সব মাথায় ধারণ করে রাখা মানে একটু হলেও স্ট্রেস দেয়া নিজেকে। লিখে ফেললে সেই স্ট্রেস আর থাকে না।  তাছাড়া দিন শেষে যখন দেখবেন সব কাজ কমপ্লিট হয়েছে, তখন ব্রেইন হ্যাপি হরমোন নিঃসরণ করে আপনাকে হ্যাপি করবে! আর কোন কাজ যদি বাদ রয়ে যায়, তাহলেও সন্তুষ্ট থাকবেন এই ভেবে যে, নিশ্চয়ই এর ভেতর কোন কল্যাণ ছিল বলে আল্লাহ এই কাজটি আজ করা হয়নি।  এটা তো টিপিক্যাল টু ডু লিস্ট না, এটা ইন শা আল্লাহ লিস্ট। আপনি শুরুতেই আল্লাহর ইচ্ছার উপর এই কাজ ন্যস্ত করে তারপর দৃঢ় সংকল্প করেছেন। তাছাড়া, ভালো কাজের নিয়ত করলেও সওয়াব থাকে, চাই সেটা কমপ্লিট বা না হোক! 🔸টার্গেট ২: ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি রাতের বেলা ঘুমের সময়টা মানুষ অনেক নাজুক অবস্থায় থাকে। এই ঘুমের ভেতরেই শয়তান আমাদের নানা রকম ক্ষতি করতে পারে। যেমন, দুঃস্বপ্ন দেখিয়ে ঘুমকে নষ্ট করতে পারে। যাদের জ্বিন/সিহর এর সমস্যা আছে তাদের তো আরো ক্ষতি করতে পারে।  এজন্য ঘুমের আগে অবশ্যই আয়াতুল কুরসি পাঠ করা উচিত। এতে সারারাত শয়তান দূরে থাকে এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়, যা সকাল পর্যন্ত ব্যক্তিকে পাহারা দেয়। [সহীহ বুখারী-২৩১১] 🔸টার্গেট ৩: ঘুমের আগে নেট অফ ভালো ঘুমের জন্য অন্তত ১-২ ঘণ্টা আগে ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উত্তম। কিন্তু আমরা আজকাল নানা প্রয়োজনে ডিভাইসের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছি।  তাই শুরুতে আমরা সহজ একটি টার্গেট নিবো। ঘুমানোর পূর্বে মোবাইলের নেট/ওয়াইফাই কানেকশন অফ করে ঘুমাবো। আরো ভালো হয় একদম সুইচ অফ করে, মোবাইল দূরে রেখে ঘুমালে।  বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইলের যেই নেট কানেকশন থাকে, তা অন থাকলে ও মাথার কাছে থাকলে ঘুমকে ব্যাহত করে কয়েক দিন এভাবে নেট অফ করে ঘুমিয়ে দেখুন, কোন পার্থক্য অনুভব করতে পারেন কিনা।  📌 যারা আমাদের মিশন রামাদানে ছিলেন, তারা চেষ্টা করবেন সেই টার্গেট গুলোকে আবার ঝালাই করার। বিশেষ করে- ভোরের আকাশ দেখা, আল্লাহর নাম নিয়ে দিন শুরু করা, সকালে কুরআন পড়া ও নিরাপত্তার দুআ পড়া।  যারা ওই মিশনে ছিলেন না, তাদের জন্য সব গুলো টার্গেট কমেন্ট সেকশনে দেয়া হলো।  👉 যারা অংশ নিবেন, তারা কমেন্ট করবেন বিসমিল্লাহ। আর গ্রুপ করলে গ্রুপের মেম্বারদের নাম/ছদ্মনাম/সম্পর্ক (যেমন, মা, হাসবেন্ড) কমেন্টে লিখবেন। #Mission_Ramadan_1447 #Nashita_Wellness 

photo content

আপনি বাঙালি। আপনি বাংলায় কথা বলেন। আপনার পোশাক, খাবার, আবাস ইত্যাদি সব কিছুতেই রয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। তাহলে বাঙালি নববর্ষ পালনে সমস্যা কোথায়? প্রথমত, এই দিবসটিকে যদি আপনি জীবনে মঙ্গল আনার জন্য গুরুত্তপূর্ণ মনে করে থাকেন, তাহলে তা পালন করা একেবারেই অনুচিত। কেননা, একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহ ব্যতীত কাউকে বা কিছুকে মঙ্গলের বাহক/নিয়ন্ত্রক ভাবা সমীচীন নয়। এরকম বিশ্বাসের কোন অনুষ্ঠান বা মিছিলে অংশ নেয়াটাও উচিত নয়, নাম যেটাই হোক না কেন। এখন প্রশ্ন, মঙ্গলের আশায় নয়, কেবল বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এই দিবস পালন করলে সমস্যা হবে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। যদিও বর্তমানে পহেলা বৈশাখকে একটি সার্বজনীন উৎসব বলা হলেও, এর মূলে রয়েছে সনাতন ধর্মের প্রভাব। বৈশাখের নামকরণ করা হয়েছে বিশাখা নক্ষত্রের নামানুসারে, যা হিন্দু পুরাণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সূর্যসিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত। বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি হিন্দু ও শিখদের সৌর নববর্ষ বা বৈশাখী নামে পরিচিত, যা সারা ভারত ও বাংলাদেশে উদযাপিত হয়। বৈশাখের শুরুতে ঘরে ঘরে ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গণেশ পূজা ও লক্ষ্মী পূজাও করা হয়।  রাসূল (সা:) আমাদেরকে সবসময় অন্য ধর্মের আচার সংস্কৃতি অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরবদের বহু ঐতিহ্য বহাল রাখলেও দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় হলে নাকোচ করেছেন।  যেমন, রাসূল (সা:) বলেছেন- তোমরা মোচ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি রেখে দাও এবং সাদা দাড়ি কালো ছাড়া অন্য রংগে রাঙ্গিয়ে ফেলো। অগ্নিপূজকদের বৈপরীত্য করো। (মুসলিম ২৬০) তিনি ইহু:দিদের অনুকরণ করে আঙুলের ইশারায় এবং খ্রীষ্টানদের অনুকরণ করে হাতের ইশারায় সালাম দিতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী ২৬৯৫) এমন আরো অনেক আয়াত এবং হাদীস আছে। এ থেকে বোঝা যায় কেন এমন দিবস পালন করা অনুৎসাহিত।  এদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা আদান প্রদানও করা উচিত না। মানুষের জন্য মানুষ সব সময় দুআ করতে পারে, কিন্তু এভাবে করা রাসূলের পন্থা না। অধিকাংশই করে, এই যুক্তিও দেখানো যাবে না, কেননা- "যদি তুমি দুনিয়ায় অধিকাংশ লোকের কথা মত চলো তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে।" (সুরা আনআম ১১৬) এছাড়াও বাঙালি সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গের ক্ষেত্রেও আমাদের দ্বীনের বিধি নিষেধ মাথায় রাখা জরুরি। যেমন, আপনার শাড়ি ভালো লাগে, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এমন দিবস উপলক্ষে নির্দিষ্ট রং কিনতে যাবেন না। আর আল্লাহর দেয়া পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে এমন উপায়ে পরা তো যাবেই না।  পান্তা-ইলিশ আমাদের ঐতিহ্য, আল্লাহর দেয়া অনুগ্রহ। আপনি বছরের যেকোন সময়েই খেতে পারেন। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি দিনে খাওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা মানবেন না।  আল্লাহ মুসলিমদের আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত করেননি। মুসলিমদের আনন্দ করার জন্য তিনি দুটি উৎসব দিয়েছেন, তা হলো- ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা।  ভিন্ন মত ও ধর্মাবলম্বীরা তাদের মত করে উৎসব পালন করবে, তাতে কোন সমস্যা নেই। আমরা আমাদের নিজ ধর্ম ও উৎসব পালন করবো। নিজের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে অন্যদের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করবো। একইসাথে প্রতিটি কাজে-কর্মে রাসূলের আদর্শ মেনে চলবো।  রাসূল (সা:) আমাদের মাঝে থাকলে নিশ্চয়ই এভাবে নববর্ষ পালন করতেন না, তাই না? #Nashita_Wellness

photo content

মিশন রামাদান এর কথা মনে আছে? এবার প্রস্তুত হোন নতুন এক মিশনের জন্য! ইন শা আল্লাহ, শীঘ্রই আসছে- মিশন জিলহজ্ব-১৪৪৭ কেন এই মিশন? আমাদের রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল আল্লাহর কাছে এত প্রিয় নয়।" [বুখারি: ৯৬৯] তাই বছরের শ্রেষ্ঠ এই দিনগুলোকে যথাসম্ভব কাজে লাগাতে, এক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করাই আমাদের উদ্দেশ্য।  আমাদের এই নতুন মিশনের টার্গেট গুলো হবে অনেকটাই মিশন রামাদান-১৪৪৭ এর মতই। অর্থাৎ, এতে সুন্নাহর পাশাপাশি নানা হেলদি হ্যাবিট গঠনের লক্ষ্য থাকবে। আসছে জিলকদ মাস জুড়ে টার্গেট গুলো পালনের চেষ্টা করবো সবাই মিলে, ইন শা আল্লাহ। আপনি যদি গত মিশন রামাদানে কোন টিম গঠন করে থাকেন, তাহলে আবার তাদের সকলকে নিয়ে প্রস্তুত হোন। চাইলে এবার নতুন টিম গঠন বা আগের টিমের পরিধি আরও বড় করতে পারবেন। আবার চাইলে একাও অংশ নিতে পারবেন।  তবে জান্নাতে যাদের পাশে দেখতে চান, দুনিয়ায় তাদের হাত ধরে চলাটাই তো বেশি সমীচীন, তাই না? #Mission_Zilhajj_1447 #Nashita_Wellness

photo content

এইতো মাত্র কদিন আগেই সব ফরজ সালাতের পাশাপাশি নিয়মিত নফল সালাতও পড়া হত। দীর্ঘ তারাবির সালাতে কোন বিরক্তি আসতো না। শেষ রাতেও সালাত আদায় হতো রোজ।  কুরআন পড়া হতো রোজ, বেশ কয় পাতা করে। সাথে চলতো যিকর, দুআ। শরীর না খেয়ে থাকলেও একটা তৃপ্তি বোধ হতো কেনো যেন। অথচ এখন হয়তো ফজরে উঠতেই কষ্ট হয়। বাকি ফরজ সালাত গুলোও দায়সারা ভাবে পড়া হয়। নফল সালাতের কথা তো মনেও থাকে না। কুরআনের সাথে আবার দূরত্ব বেড়েছে। যিকর, দুয়াও হারিয়ে গেছে জীবনের নানা ব্যস্ততায়। তিন বেলা খেয়েও শরীর ক্লান্ত আর মন অতৃপ্ত থাকে।  এই যে ঈমান ও আমলের এই ছন্দপতন, একেই বলে Post Ramadan Dip। প্রতি বছর অনেকেই এর মুখোমুখি হয়ে থাকেন। হজ্ব-উমরাহ করে আসার পরও অনেকে একই রকম পরিস্থিতিতে পড়েন। এক মাস দুনিয়া থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবার ব্যস্ততা জেঁকে বসলে, রূহ অনাহারে ডুকরে কাদে। কারণ রুহের খাবার তো আল্লাহর কালাম।  যদি আপনিও বর্তমানে এমনই অবস্থায় থেকে থাকেন, তাহলে অবিলম্বে এখান থেকে উঠে আসার চেষ্টা করুন। সালাত ও কুরআনকে আবার আঁকড়ে ধরুন, জিকিরে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। নতুবা রুহানিয়াতের ক্ষতি হয়ে যাবে আরও বেশি। পানিতে ডুব দিয়ে কয়েক মুহূর্ত থাকা যায়, কিন্তু সময় বেশি অতিক্রান্ত হলে আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। সামনে আসছে জিলহজ্ব মাস, আরো আসছে বছরের শ্রেষ্ঠ দশটি দিন। আবার একটি রুটিন বা টার্গেট সেট করুন, দুআ ও আমলের লিস্ট আপডেট করুন।  গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ান, আবার শুরু করুন হাঁটা- জান্নাতের পথে।  #Nashita_Wellness

photo content

রাত ভর ইবাদত করবেন বলে জেগে আছেন? তাহলে সুখবর আপনার জন্য!
রাত ভর ইবাদত করবেন বলে জেগে আছেন? তাহলে সুখবর আপনার জন্য!

এরকম কি কখনো হয়েছে যে, আপনার কাছে যেই তারিখে লাইলাতুল কদর মনে হয়েছে,  আরেকজনের কাছে তা মনে হয়নি বলে আপনি হতাশ হয়েছেন। কিংবা, আরেকজন আপনার সাথে লাইলাতুল কদর এর তারিখ বিষয়ে একমত হওয়ার কারণে রামাদানের শেষের দিকে আপনার ইবাদাত মন্থর হয়ে এসেছে। আসলে আমরা যে রাতে ইবাদাত করে বেশি প্রশান্তি অনুভব করি, সেটাকেই লাইলাতুল কদর বলে বিশ্বাস করি। সাথে আরো কিছু বিষয়ও হয়তো মিলিয়ে দেখি, যেমন- ঝিরিঝিরি বাতাস, বৃষ্টি ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ হয়তো স্বপ্নের মাধ্যমেও জেনে থাকতে পারেন। একেক জনের একেক রাতে প্রশান্তি অনুভব করার যে ব্যপার, তা কিছু আলেম এভাবে ব্যাখ্যা করেন- রামাদানের একেক রাতে আল্লাহ কিছু বান্দাকে ক্ষমা করেন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এটা  এমনি এমনি দেন না, বরং সেই বান্দাদের প্রচেষ্টা ও আন্তরিক দুয়ার কারণে এই দয়া তিনি দেখিয়ে থাকেন। এখন বান্দা যে রাতে তার সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ খুশু নিয়ে ইবাদাত করবে, কিংবা সর্বোচ্চ ইখলাস নিয়ে কোন হারাম ত্যাগ করবে, সে রাতেই হয়তো তার দুয়া কবুল হবে। আর এমনটা হলে মনে প্রশান্তি কাজ করাটা স্বাভাবিক, চাই সে রাত লাইলাতুল কদর হোক বা না হোক। অর্থাৎ, মনে প্রশান্তি অনুভব হলেই সেটা কদরের রাত হবে না, তবে তা আল্লাহর তরফ থেকে কবুলিয়াত ও ক্ষমা লাভের একটি লক্ষণ অবশ্যই।  আবার এমনও হতে পারে যে, সেটাই কদরের রাত, তবে তার মানে এই না যে আমরা আমাদের পর্বত সমান গুনাহ ও জাহান্নাম থেকে চিরস্থায়ী নিষ্কৃতি পেয়ে গেছি। আর যদি সবাই একমত হয়েও যায় যে লাইলাতুল কদর গত হয়েছে, কিংবা রামাদানের শেষ প্রায় ঘনিয়ে এসেছে, তাতে আনন্দে উদ্বেল বা হতাশায় কাতর কোনটিই হওয়া যাবে না।  রামাদানের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই প্রকৃত মুসলিমের কর্তব্য, আর এটাই আমাদের রাসূলের সুন্নাহ। "ধুলায় ধুসরিত হোক তার নাক যার নিকট রামাদান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল।" (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫) আল্লাহ্‌ এই রামাদানে আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন, জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন। #Nashita_Wellness

photo content

Repost from Nashita Wellness
নাশিতার দুয়া লিস্টটি সকলের সুবিধার্থে পিডিএফ আকারে দেয়া হল। উপকৃত হলে আমাদের দুয়াতে রাখবেন।

আপনাদের দুআ লিস্ট তৈরিতে সহায়ক হতে পারে এই ফাইলটি।

আজ আমাদের দেশে ২৩ রামাদান, অর্থাৎ বেজোড় রাত। একই সাথে জুমাবারের রাত। ইবনে হুবাইরা (রহঃ) এর মতে: “যদি রমযানের শেষ দশকের কোন এক বেজোড় রাত শুক্রবারের রাত হয় তাহলে সেটি লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক।” [ইবনে রজব লিখিত ‘লাতায়েফুলা মাআরিফ’, পৃষ্ঠা-২০৩] এটি বলার কারণ- শুক্রবারের রাত হলো সপ্তাহের সবচেয়ে উত্তম রাত। তাই শেষ দশকের বেজোড় কোন রাত যদি শুক্রবার রাতে পড়ে তাহলে সেটি লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবার সাহাবীদের অনেকে রামাদানের ২৩তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। [মুসলিম: ২৬৬৫] একদিন এক সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, ‘আমার একটি খামার আছে এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি সেখানেই সালাত পড়ি। আপনি আমাকে রাতটি (কদরের) সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি এই মসজিদে আসতে পারি।’ তখন তিনি বলেন, "তুমি রামাদানের ২৩তম রাতে আসব" এই সাহাবীর পুত্র বলেন, 'আমার পিতা রামাদানের ২২ তারিখে আসরের সালাত আদায়ের পর মসজিদে যেতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত কোনো প্রয়োজন ব্যতীত সেখান থেকে বের হতেন না। অতঃপর ফজরের সালাতের পর তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে নিজ খামারে প্রত্যাবর্তন করতেন।’ [আবু দাউদ: ১৩৮০] যারা কর্মব্যস্ততার কারণে ১০ দিন ইতিকাফ করতে পারছেন না, তারা অন্তত আজকের রাত ও দিনটি মসজিদে বেশিক্ষণ কাটাতে পারেন। আল্লাহ চাইলে পেয়েও যেতে পারেন লাইলাতুল কদর! #Nashita_Wellness

photo content

• দুআ লিস্ট তৈরি না করে জলদি করুন। নিজের ও আপনজনদের কি চাওয়া সব লিখে ফেলুন। মুসলিম উম্মাহকে ভুলবেন না। • একটি দুআর শর্টলিস্ট রাখবেন। দুআ কবুলের সময় গুলোতে পড়ার জন্য। (যেমন- ইফতারের আগে, শেষ রাতে, বৃষ্টির সময়, ভালো কাজের পর, আজানের পর ইত্যাদি) • কুরআনের ও হাদিসের দুআ গুলো সব পড়বেন, প্রয়োজনে দেখে দেখে। এগুলোর মধ্যেই মোটামুটি আমাদের যা প্রয়োজন তা মোটাদাগে আছে। • আল্লাহর সুন্দরতম নামগুলোর সাহায্যে, একাগ্রতার সাথে, কিবলামুখী হয়ে এবং দুহাত তুলে চাইবেন। নিশ্চয়ই কবুল হবে। আর কবুল না হওয়ার হলে বুঝবেন এর থেকেও উত্তম কিছু আল্লাহ আপনার জন্য লিখে রেখেছেন। • লাইলাতুল ক্বদরের একটি বিশেষ দুআ আছে যেটা বেশি বেশি পড়বেন-  اللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ  (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউন, তু'হিব্বুল 'আফওয়া, ফা'ফু 'আন্নী) হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও। 🌙 ইলম অর্জন  লাগাতার ইবাদাত কষ্টকর হতে পারে, মাঝে মধ্যে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেও সাওয়াব পেতে পারেন। • ভালো কোন বই পড়ুন। কাগজের বই, পিডিএফ না। ফোন থেকে দূরে থাকাই উত্তম। • সেটাও কষ্ট হলে ভালো কোন লেকচার শুনুন। লেকচারটি আগেই সেইভ করে রাখতে পারেন, যেন তখন ইন্টারনেট চালু করার প্রয়োজন না হয়।  🌙 অন্যান্য  সাওয়াব অর্জনের উপায় কি শুধু উপরের গুলোই? না। বরং আরো অনেক উপায়েই হতে পারে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয়।  • সন্তানের যত্ন নেয়া, মা বাবার খেয়াল রাখা, পরিবারের জন্য রান্না করা, ছোট খাটো গৃহস্থালি কাজ করা ইত্যাদি যাই করবেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবেন। • দিনের বেলা আত্মীয়ের খোঁজ নিন। কারো উপর রাগ পোষণ করে থাকবেন না। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে আপনার দুআ কবুল নাও হতে পারে। • অন্তত শেষ দশদিন নিজের জিহবা ও পেটকে লাগাম দিন। কম খেলেই বেশি ইবাদাত করতে পারবেন, বিশ্বাস করুন! • তারাবীর আগে একটু এক্সারসাইজ বা স্ট্রেচিং করে নিন। দেখবেন অনেক এনার্জি পাবেন। • নিজেকে পরিপাটি ও সজ্জিত করা, উত্তম পোশাক পড়ার মাধ্যমেও সাওয়াব পেতে পারেন। রাতের সালাতের আগে মিসওয়াক করে, আতর মেখে বা বাখুর জ্বালিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে নিবেন, কারণ আপনি দুনিয়ার মালিকের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন! • ঘরটিকেও সুন্দর করে পরিষ্কার করে গুছিয়ে নিবেন। ফেরেশতারা যে মেহমান হতে পারে আপনার ঘরে! • যেহেতু রাতে ঘুম কম হবে, দুপুরে একটু কায়লুলা বা পাওয়ার ন্যাপ নিলে ভালো হবে। তবে আবার বেশি ঘুমাবেন না।  • ছোট খাটো কোন নতুন সুন্নাহ পালনের টার্গেট নিতে পারেন। বাড়ির অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারেন যেন আপনার সাওয়াব আরো বৃদ্ধি পায়।  • অসুস্থতার কারণে কিছুই করতে না পারলে শুয়ে শুয়ে আল্লাহর দেয়া নিয়ামত নিয়ে ভাবুন, ইস্তিগফার এবং যিকর করুন। তবু আশা হারাবেন না। আপনার সাথে আপনারই তুলনা হবে, আর কারো সাথে না। রাসূল (সাঃ) কোমর বেঁধে (দৃঢ়ভাবে) ইবাদাত করতেন রামাদানের শেষের দশদিন। পরিবারের অন্যদেরকেও জাগিয়ে দিতেন। আমরাও তাঁর মত চেষ্টা করবো নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে ইবাদাত করার, আপনজনদের সঙ্গে নিয়ে। হতে পারে এটাই আমাদের জীবনের শেষ লাইলাতুল ক্বদর। আল্লাহ আমাদের সকলকে লাইলাতুল ক্বদর মিলিয়ে দিন ও সে রাতের প্রচেষ্টা কবুল করে নিন। আমিন। #Nashita_Wellness

কাল সন্ধ্যা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে রামাদানের শেষ দশক। আর যদি এই মাস ২৯ দিনের হয়, তাহলে তো ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।  এবার পালা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনের! এটা হলো লাইলাতুল ক্বদরকে খুঁজে পাওয়ার মিশন। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে গুলোয় লাইলাতুল কদর খোঁজে কর।" [বুখারি, মুসলিম] কিন্তু কিভাবে করবো খোঁজ? আগে থেকে কিভাবেই বা বুঝবো কবে হবে সেই মহিমান্বিত রজনী? এই রাতকে নিশ্চিত ভাবে পেতে হলে তাই সালাত, যিকর, সাদাকাহ, দুআ, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য সব ইবাদত বাড়িয়ে দিতে হবে আজ থেকে। যেটাই করা হবে না কেন এই রাতে, সাওয়াব বেড়ে যাবে হাজার গুণ! এত সুবর্ণ সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? এই দশদিন ইবাদাত করবেন আপনার নিজের সামর্থ অনুযায়ী। তা সফলভাবে যেন করতে পারেন সেজন্য আমরা কিছু টিপস থাকছে- 🌙 দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্নতা :  কোয়ালিটিফুল ইবাদাতের জন্য প্রথমেই দুনিয়াবি চিন্তা ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত।  • বেস্ট হল মসজিদে ইতিকাফ করা। তবে ইচ্ছা থাকলেও সেই সুযোগ এ বছর হয়তো হবে না অনেকেরই। বাসার ভেতরেও আলাদা রুমে বা এক কোনায়, একাকী ইবাদত করতে পারেন। এটা ইতিকাফ না, তবে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।  • তাও না সম্ভব হলে দুনিয়াবি আলাপ থেকে এই কটা রাত যথাসম্ভব দূরে থাকুন, অন্তত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে।   • মহিলাদের পক্ষে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা কষ্টকর, সংসারের কাজ থাকেই। সেসব কাজ যথাসম্ভব দিনের বেলা গুছিয়ে নিবেন। • ছোট বাচ্চার মায়েরা রাতের বেলা জলদি সন্তানদের ঘুম পাড়ানোর পর একটু নিরিবিলি ইবাদাত করতে পারেন।  🌙 সালাত :  ফরজ ও সুন্নাহ সালাতের পাশাপাশি নফল সালাতের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। • শেষ রাতে কিয়ামুল লাইল পড়বেন, অন্তত দুই রাকাত হলেও। পরিপূর্ন বিশ্বাস ও সাওয়াবের আশা নিয়ে সালাত পড়লে তা পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফের উসিলা হতে পারে। (সুনান নাসাঈ) • সালাত জামাতে পড়ার মাধ্যমে সাওয়াব ২৭ গুণ করে ফেলতে পারেন।  • রাতে ওযুর পর দু রাকাত নফল সালাত পড়তে পারেন, এই সালাতের ফজিলত অনেক। • রুকু ও সিজদাহ দীর্ঘ করার চেষ্টা করবেন রাসূল (সাঃ) এর মত। নতুন কিছু তাসবীহ মুখস্ত করে নিন আগে। • চেষ্টা করবেন সালাতে যেন সর্বোচ্চ ফোকাস (খুশু) ধরে রাখতে। 🌙 কুরআন : কুরআন নাযিলের মাসে কুরআনের সাথে অধিক সময় কাটাবেন অবশ্যই।  • কুরআন তিলাওয়াত করুন বেশি বেশি। প্রতিটি হরফের জন্য ১০ নেকি! তিলাওয়াত করতে না পারলে অন্তত অডিও শুনুন। • তিলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থও পড়ুন। সালাতে পড়ার সূরাগুলোর প্রতিটি শব্দের অর্থ জানুন, বিশেষ করে সূরা ক্বদরের। সম্ভব হলে সেগুলোর তাফসীরও পড়বেন এবং গভীরভাবে চিন্তা করবেন। • নতুন কোন সূরা বা কুরআনের ছোট্ট কোন দুআ মুখস্ত করতে পারেন। 🌙 যিকর : যখনই সময় পাবেন যিকর করবেন। চলতে-ফিরতে, শুয়ে-বসে কিংবা রান্না করতে করতেও যিকর করা যায়। কিছু সহজ যিকরের উদাহরণ দেয়া হল, যেগুলো পড়লে প্রচুর লাভবান হবেন- • আজানের পর শাহাদাহ বাক্য- পড়লে জান্নাতের সব দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে • দুরূদ- একবার পড়লে দশবার রহমত নাজিল হয় • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা শারিলাহু, লাহুল মূলক ওয়া লাহুল হামদ, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বদীর- একশবার পড়লে দশজন ক্রীতদাস মুক্তির সাওয়াব • সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি- সকালে ও সন্ধ্যায় একশো যে পড়বে, কিয়ামতের দিন তার থেকে বেশি ভালো কিছু কেউ উপস্থিত করতে পারবে না • সালাত শেষে সুবহানাল্লাহ (৩৩), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩), আল্লাহু আকবর (৩৩)- সমুদ্রের ফেনার মত গুনাহও মাফ হবে • লা হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ- জান্নাতের একটি অলংকার  • আস্তাগফিরুল্লাহ- রাসূল (সাঃ) দৈনিক অন্তত ৭০-১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন • সকাল সন্ধ্যার যিকিরসমূহ (দেখুন হিসনুল মুসলিম)- এগুলো প্রতিদিন পড়লে সমূহ বিপদ ও শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করে। 🌙 সাদাকা : প্রতি রাতেই অল্প অল্প করে সাদাকাহ করার চেষ্টা করবেন।   • কত টাকা সাদাকা করবেন আগেই নির্দিষ্ট করে ফেলুন। যেহেতু বেজোড় রাতে এবং শেষের দিকে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাই দশদিনের জন্য এভাবে টাকা ভাগ করতে পারেন- ১৫০, ১০০, ১৫০, ১০০, ২৫০, ১০০, ২৫০, ১০০, ২৫০, ১০০। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। আপনার সুবিধা অনুযায়ী ভাগ করুন। • বিকাশে বা নগদে পাঠালে ফোন নাম্বার আগেই লিখে কোথাও লিখে রাখুন। যেন ওই সময়ে ফোন হাতে সময় অপচয় না হয়।  • বিকাশ, নগদ কিছুই না থাকলে একটি খামে প্রতি রাতে টাকা আলাদা করে রাখবেন, পরদিন সকালে বা পরে একবারে দিয়ে দিবেন। 🌙 দুআ : দুআ হল লাইলাতুল ক্বদরের মূল আকর্ষণ। এটিও কিন্তু এক প্রকার ইবাদাত, তাই এতে পর্যাপ্ত সময় দিন।