আকাবির-কথন
رفتن به کانال در Telegram
نمایش بیشتر
کشور مشخص نشده استدسته بندی مشخص نشده است
1 099
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
+237 روز
+2630 روز
آرشیو پست ها
1 099
মাসউদ আল হামাযানী নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। সিয়ারু আলামিন নুবালায় তার জীবন নিয়ে আলোচনা আছে। তার একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো। কেউ কষ্ট দিলে মাফ করে দিতেন। মাফ চাইতে এলে বলতেন:
الماضي لا يذكر
আগের কথা বলে লাভ নাই। যা হওয়ার হয়ে গেছে। থাক।
মাসউদ আল হামাযানী ইন্তিকাল করলে কেউ তাকে স্বপ্নে দেখলো। জিজ্ঞেস করল: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?
আল হামাযানী বললেন:
আল্লাহ তায়ালাও বলেছেন -
الماضي لا يذكر
অতীতের কথা বলে লাভ নেই। যাও তোমাকে মাফ করে দিলাম।
© আম্মারুল হক
1 099
রবী বিন সুলাইমান বলেন, 'আমি আদবের কারণে ইমাম শাফিয়ীর সামনে পানি পান করতাম না।'
[শিক্ষার্থীর অমূল্য পাথেয় : ৮৫]
1 099
এ কথাটি খুবই প্রসিদ্ধ বরং অকাট্য বাস্তব যে, আল্লাহর ওলীগণের সময়ের মাঝে খুব বেশী বরকত হয়ে থাকে। তারা অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বড় বড় কাজ সমাধা করে থাকেন। হযরত ইমাম গাযযালী (রহ.)-এর লিখা কিতাবসমূহকে যদি তার পূর্ণ বয়সের মধ্যে হিসাব মত ভাগ করে দেয়া হয় তবে প্রতিদিনের ভাগে পড়ে ১৬ খণ্ডের একটি রচনা, যা কোনভাবেই বুঝে আসার কথা নয়।
এছাড়া শাইখ আবদুল ওয়াহহাব শা'রানী (রহ.) তার লিখিত গ্রন্থ 'আল ইওয়াকীত ওয়াল জাওয়াহের' এর মধ্যে বলেছেন যে, এই কিতাবের মধ্যে তিনশত বাব বা অধ্যায় রয়েছে। এর প্রত্যেকটা অধ্যায় লিখার পর পর আমি শাইখে আকবর ইবনে আরাবী (রহ.)-এর লিখিত কিতাব 'আল ফুতুহাত' শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছি। আল ফুতুহাত কয়েক হাজার পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব। সেমতে 'আল-ইওয়াকীত ওয়াল জাওয়াহির' কিতাবটি লিখার সময় সম্পূর্ণ 'ফুতুহাত' গ্রন্থটি তিনশত বার পাঠ করা হয়েছে। এর সাথে তিনি একথাও লিখেছেন যে, এ কিতাবটি আমি ৩০ দিনে লিখেছি। সেমতে প্রতিদিন 'ফুতুহাত' দশবার পাঠ করা হয়েছে। যে কিতাবটিতে দুই হাজারেরও অধিক পৃষ্ঠা রয়েছে। উলামায়ে কিরাম, সুলাহায়ে ইযাম এবং বুযুর্গানে দ্বীনের এ ধরনের অনেক ঘটনা প্রসিদ্ধ রয়েছে।
এখানে একটি প্রশ্ন হয় যে, সময়ের মধ্যে এত অধিক প্রশস্ততা ও বরকত কিভাবে সৃষ্টি হয়। কারণ ঘণ্টাতো ষাট মিনিটেই হয়, এর থেকে তো আর বাড়ে না। তারপর রাত্র ও দিন চব্বিশ ঘণ্টাতেই হয়ে থাকে, এর থেকেও বৃদ্ধি পায় না। এক্ষেত্রে হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসেম তানুতবী (রহ.) গবেষণাসুলভ বক্তব্য হচ্ছে, সময়ের একটা দৈর্ঘ্য রয়েছে যা সকলেই জানে। ঘণ্টা আর মিনিটের এই হিসাব হলো সময়ের দৈর্ঘ্য। অনুরূপভাবে সময়ের মাঝে একটি প্রস্থও রয়েছে যা সাধারণ নযরে দেখা যায় না। এ সকল বুযুর্গানে দ্বীন সময়ের সেই প্রস্থতার মাঝেই বড় বড় কাজ সমাধা করে নেন।
[মাজালিসে হাকীমুল উম্মত : ৩০৭]
1 099
মুহাম্মদ আল ফাতিহ সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন উনিশ বছর বয়সে। একুশ বছর বয়সে তিনি জয় করেন কনস্টান্টিনোপল যা শতাব্দীর পর শতাব্দি অভিযান চালিয়েও মুসলিম বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিল। ৪৯ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন, অর্থাৎ তার পুরো রাজত্বকাল ছিল মাত্র ত্রিশ বছর।
ইতিহাসবিদরা তাকে একবাক্যে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে স্বীকার করেন। যারা তার বিরোধী ছিলেন, তারাও তার প্রতিভা ও মহত্ত্বকে অস্বীকার করতে পারেননি। তিনি ছিলেন একাধারে একজন শাসক, সেনাপতি, কবি, বহুভাষাবিদ এবং জ্ঞানের অনুরাগী। তিনি কবিতা রচনা করতেন, ইতিহাস পাঠ করতে ভালোবাসতেন এবং রাতে ইতিহাসের বই না পড়ে ঘুমাতে যেতেন না। তার বিশেষ আগ্রহ ছিল গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মানচিত্রবিদ্যায়।ভাষার দিক থেকে তিনি নিশ্চিতভাবে তুর্কি, ফারসি, গ্রিক এবং সার্বিয়ান ভাষায় দক্ষ ছিলেন। অনেক ইতিহাসবিদ দাবি করেন তিনি আরবি, লাতিন, হাঙ্গেরীয় এবং বুলগেরিয়ান ভাষাও জানতেন। বইয়ের প্রতি তার ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে একবার ইতালির এক শাসকের কাছে অর্থের পরিবর্তে বই চেয়ে বলেছিলেন, তোমাদের কাছ থেকে অর্থ নয়, তোমাদের সংগ্রহের বইগুলো চাই।
তিনি সারাজীবন জিহাদেই কাটিয়েছেন। ত্রিশ বছরের রাজত্বে তিনি কখনো যুদ্ধের ময়দান থেকে দূরে ছিলেন না। এমনকি তার মৃত্যুও হয় নতুন এক সামরিক অভিযানে অংশ নেয়ার সময়।
সুলতানের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি কনস্টান্টিনোপল জয়। মুহাম্মদ আল ফাতিহ জানতেন ইতিহাসের চিরন্তন নীতি, সালতানাত হয়তো শক্তিশালী হয়, নয়তো দূর্বল হয়। এর মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই। শক্তির কোনো শূন্যস্থান নেই, যেখানে এক শক্তি পিছু হটে, সেখানে আরেক শক্তি এগিয়ে আসে। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আটশো বছর ধরে মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ চালিয়ে আসছিল অথবা ক্রুসেডারদের মুসলিম ভূমিতে আক্রমণেসাহায্য করছিল। এই সাম্রাজ্য মুসলিম বিশ্বের জন্য সবসময় একটি বড় হুমকি ছিল। মুহাম্মদ আল ফাতিহ যদি আক্রমণ না করতেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে কনস্টান্টিনোপল নতুন হামলার নেতৃত্ব দিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের পর বলেছিলেন, এখন থেকে আমরা তাদের আক্রমণ করব, তারা আর আমাদের আক্রমণ করবে না। এটি কোনো আগ্রাসনের ঘোষণা নয়, বরং এটিই চিরন্তন নিয়ম, যে শক্তি স্থির থাকে, সে পিছিয়ে পড়ে।
কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ঔজ্জ্বল্যে মুহাম্মদ আল ফাতিহর অন্যান্য অর্জনগুলো আড়ালে পড়ে গেছে। অথচ যদি তিনি কনস্টান্টিনোপল জয় না করে শুধু বাকি কাজগুলোই করতেন, তাহলেও তিনি ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক হিসেবে স্মরণীয় থাকতেন। পুরো এশিয়া মাইনর তিনি উসমানী সালতানাতের অধীনে আনেন। ক্রিমিয়ার মোঙ্গল খানাতকে নিজের অধীনে নেন। কৃষ্ণ সাগরের সমগ্র উত্তর উপকূল, যা আজকের ইউক্রেন, তা সুলতানের হাতে ধরেই উসমানি সালতানাতের অধীনে আসে। তিনি সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও গ্রিসের অধিকাংশ অঞ্চল জয় করেন। বেলগ্রেড ছাড়া পুরো বলকান তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেই সময়কার পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য ভেনিস প্রজাতন্ত্রের সাথে তিনি ষোলো বছর যুদ্ধ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ভেনিসকে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করেন। তার বাহিনী ইতালির পূর্বাঞ্চলের ওট্রান্তো পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথমবার। তুর্কি ইতিহাসবিদ আহমেত আকগুন্দুজ লিখেছেন, ফাতিহ ১৪০টিরও বেশি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। দুটি সাম্রাজ্য, বাইজেন্টাইন ও ভেনিস, তার কাছে নতি স্বীকার করেছে। তিনি দুইশোরও বেশি নগর ও শহর জয় করেছেন।
(১৪৮১ সালের ৩ মে ইন্তেকাল করেন এই মহান সুলতান)
© ইমরান রাইহান
1 099
আমার মেয়ে মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগে পড়ে।
ফজরের পর আমি নিজে নিয়ে দিয়ে আসি। মেয়ে মাদরাসায় প্রবেশের পর এক-দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে তারপর ফিরে আসি।
বেলা ১১ টায় বাসায় নিয়ে আসি। বাসায় এসে বিশ্রাম ও খানাপিনা সেরে আবার ২টার দিকে দিয়ে আসি।
আসরের পরপর আবার গিয়ে বাসায় নিয়ে আসি। সবক বাসাতেই মুখস্ত করে।
আমি না থাকলে তাকে মাদরাসায় পাঠানো হয় না।
আমি ৪০ দিনের চিল্লায় ছিলাম। মেয়ে বাসায় ছিল। বাসা থেকে ফোনে ফোনে পড়া শুনিয়েছে। যতটুকু সম্ভব হয়েছে আরকি।
ঝড়-বৃষ্টি হলে, রাস্তায় পানি থাকলে আমি মেয়েকে নিয়ে বের হই না।
আমার কথা হল, পড়াশোনা কম হোক, আস্তে ধীরে হোক, রেজাল্ট যাই হোক, মেয়ে চোখের আড়াল করব না ইনশাআল্লাহ।
এবং প্রতিদিন বাসায় আনার পথে পড়াশোনার খোঁজ নেয়ার সুরতে আমি খোঁজ খবর নেই। বাসায় আহলিয়া বিস্তারিত খোঁজ খবর নেয়। কোনো সমস্যা মনে হলে সরাসরি প্রধান উস্তাযার সাথে মেয়ের মা কথা বলে।
পর্দা-পুশিদা বা অন্য কোনো কিছু নিয়ে সংশয় দেখা দিলে মেয়ের মা কথা বলে।
মহিলা মাদরাসা অনাবাসিক হওয়ার পাশাপাশি এর ভেতরের পরিবেশ পুরোপুরি দ্বীনি হওয়া চাই। এমনকি আপনার বাচ্চার সহপাঠীরা নিজেদের মধ্যে কী ধরনের গল্প-গুজব করে তাও ঘরের নারী অভিভাবিকাদের মাধ্যমে খোঁজ রাখা চাই।
© আহমাদ ইউসুফ শরীফ হাফি.
1 099
মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন (রহ.) ব্যবসায় লোকসানের কারণে জীবনের একাংশ কেটেছিল অভাব-অনটনে। সে সময় তিনি বলতেন, তিরিশ বছর আগে আমি এক ব্যক্তিকে দরিদ্রতার কারণে লজ্জা দিয়েছিলাম। আমার আজকের এই অবস্থা আমার সেই গুনাহের শাস্তি।
তাঁর এই কথা শুনে আবু সুলাইমান দারানী বলেন, আসলে তাঁদের গুনাহ কম ছিল, তাই কোনো শাস্তি এলে বুঝতে পারতেন কোনটা কোন গুনাহের শাস্তি। আমাদের গুনাহ এত বেশি যে বুঝতেই পারি না কিসের শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
বই : সালাফের জীবন থেকে
1 099
পিতা-মাতার অধিকার নিয়ে তো অনেক পড়া হলো, এবার সন্তানের অধিকার নিয়েও কিছু পড়াশোনা হোক।
লিখেছেন শায়খ ইমদাদুল হক হাফি.
আসছে উমেদ প্রকাশ থেকে, আসন্ন অফারে ইনশাআল্লাহ।
1 099
আজ থেকে ১০ বছর আগে কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত হাদিসগুলো প্রথম প্রথম পড়লে আমাদের মন যেভাবে ভিজুয়্যালাইজ করত, এখনো কি সেভাবে করে?
.
করে না। যারা ২০ বছর আগে প্রথম পড়েছে, তাদের কাছে চিত্রটা আরও ব্যতিক্রম। যারা ৪০ বছর আগে পড়েছে, তাদের কাছে যেন যোজন যোজন পার্থক্য।
.
আসলে বাস্তবতা এমনই। সময় যতই গড়াবে, ফিতনা ততই কঠিন হবে; ততই সূক্ষ্ম হবে। ফিতনা এড়ানো দিনকে দিন চ্যালেঞ্জিং হবে।
.
দ্বীনের বেসিক বুঝকে যে যতটা স্পষ্টভাবে ধারণ করে এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন না করে সাহাবি, তাবেয়ি ও ইমামগণের প্রাচীন ইজমাকে আগলে ধরে রাখে, সে ততটা নিরাপদ থাকবে।
.
নয়তো মনের জজবা যেভাবে পাল্টায়, দ্বীনের খোলসও সেভাবে পাল্টে যাবে।
.
বুঝতেও পারবেন না ঈমানের তেজ কখন নিভে গেছে।
© মহিউদ্দিন রূপম
1 099
দ্বীনদারিতা ফিতনায় পড়ে তিন সময়—অর্থের অভাববোধ জাগলে, নারীর লালসা ধরলে এবং ক্ষমতার লোভ জেঁকে বসলে।
.
এই তিন জিনিস কখনোই এক সময়ে আসে না। এক বয়সেও আসে না। সবার ক্ষেত্রেও আসে না।
.
যার দুর্বলতা যেটায় বেশি, তার ফিতনায় পড়ার আশঙ্কাও সেটায় বেশি।
.
দিনশেষে আপনার নফসই আসল শত্রু।
.
যে এই শত্রুকে শত্রু-জ্ঞান করে, সে নফসকে বশ করতে জানে।
.
আর যে এই শত্রুকে বন্ধু-জ্ঞান করে, নফস তাকেই বশ করে ফেলে।
© মহিউদ্দিন রূপম
