আকাবির-কথন
前往频道在 Telegram
显示更多
未指定国家未指定类别
1 212
订阅者
+1524 小时
+237 天
+3830 天
帖子存档
1 214
লজ্জাবোধ একজন দ্বীনদার মানুষের থেকেই থাকে। কিন্তু ইন্টারনেটের বিস্তার এখন দ্বীনদারদের মাঝেও লজ্জাহীনতা তৈরি করছে। অনিচ্ছাকৃত চোখে পড়া অশ্লীলতা চোখকে অভ্যস্ত করে তুলছে। একসময় অপরাধবোধ আর খারাপ লাগার অনুভূতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবাধে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যাতায়াতের অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে; এমন-সব ওয়েবসাইট, যেখানে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ রয়েছে।
অভ্যস্ততা এমন এক খারাপ ব্যাপার, যার মাধ্যমে আল্লাহওয়ালা মানুষও নিজের অজান্তে ধীরে ধীরে গুনাহের সাথে আপস করে ফেলে। ব্যাপারটা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়। মেনে নেয়া হয়। অথচ একই ব্যক্তি হয়তো একসময় কঠোরভাবে নজরের হেফাজত করত। আজ অভ্যস্ততার মারপ্যাঁচে পড়ে সেই তাকওয়াপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না।
[কল্পিত কারাবাস : ৩০]
1 214
সুন্নাত বইয়ে পড়লেই শেখা হয় না। কারও না কারও সোহবতে গিয়ে যথাযথ পথ ও পদ্ধতি জেনেই আমল করতে হয়। এরকম আরেকটা বিষয় আছে চার বিয়ে। যাকগে, ওটা ভিন্ন আলাপ।
অনেকেই আমাকে বলত বাবরিতে আমাকে দারুণ লাগবে। অথচ হালকাপাতলা গড়ব আর বয়সের কমতির কারণে কখনোই রাখা হয়নি।
আগে তো বয়সে মুরুব্বী হওয়ার পর উস্তাদরা বাবরি রাখতেন আর জুব্বা পরতেন। এখন মোছ উঠার আগেই জুব্বা পরে অনেকেই আকাম করে জুব্বার বদনাম কুড়াচ্ছে।
1 214
আমাকে গুম করে রাখা হয়েছিল মোহাম্মদপুর, RAB-2 -তে। সেখানে এক রুমে আমরা তিনজন ছিলাম। তার মধ্যে এক ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছিল চট্টগ্রাম থেকে।
সে ফেইসবুকে এক জিহাদী শায়েখের সাথে সম্পর্ক করেছিল। তো একদিন তাকে স্বপ্ন দেখালো তাকে মুজাহিদ বানিয়ে দেবে। সেই রাজি হলো। শায়েখের সাথে কথা হয়েছিল, নির্দিষ্ট দিনে শায়খ তাকে তার নির্ধারিত স্থান থেকে রিসিভ করবে, তারপর তার মুজাহিদ হওয়া ঠেকায় কে ?!
নির্দিষ্ট দিনে, নির্ধারিত স্থানে সে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ করে কিছু লোক তাকে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে চোখ বেধে ফেললো। তারপর তো নিজেকে আবিষ্কার করে RAB-2 হেফাজতে।
তো বলছিলাম, যাকে চিনিনা-জানিনা, যার ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র ধারনা নেই, তার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আমার কোন খোজ-খবর নেই, এমন লোককে কিভাবে আমি দ্বীনের ক্ষেত্রে , তাও আবার এতবড় ঝুকিপূর্ণ বিষয়ে শায়খ বানিয়ে ফেলি ?!
আকল খাটান রে ভাই, আকল খাটান...
যে আওয়াজ করে সে কাজ করে না ...
সে কাজ করে যে আওয়াজ করে না ...
© ASK SUMON
1 214
যাদের বয়স ২৫-এর বেশি তারা মাথায় রাখতে পারেন
১. শরীরের বয়স বাড়া মানেই অভিজ্ঞ ব্যাপারটা এমন না। অনেকের বয়স ৫০ পার হলেও বালখিল্য আচরণ বন্ধ হয় না। শুধু বয়সে বড় বলেই আপনি সবার মুরব্বি এবং আপনি আদেশ করবেন, সবাই কাজ করবে—এই মানসিকতা বর্জন করুন। বয়সের সাথে পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা, পরামর্শ, বিশ্লেষণ যোগ হলে তখন মানুষ নেতৃত্বের পর্যায়ে যায়। অন্যথায় সমাজে সিংহের চামড়া পরিধান করা গাধার সংখ্যাই বাড়ে।
উমর রা. বলেছিলেন, তোমরা নেতৃত্বের আগে যোগ্যতা অর্জন করো। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে চাইলে আগে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন—আপনি এ বিষয়ে যোগ্য কি না। সবচেয়ে ভালো হবে, নেতা হওয়ার খাহেশ রাখবেন না। নিজেকে মুজাদ্দিদ ভাববেন না। আপনার আগে দ্বীনের কাজ কেউ বুঝেনি, আপনি একাই বুঝে ফেলেছেন—এই মনোভাব রাখবেন না। সব গোমরাহ ফিরকা এই কথা বলেই নিজের গোমরাহি চালু করেছে।
২. অনর্থক উত্তেজনা সরবরাহ করবেন না। আপনি হয়তো উত্তেজনা সরবরাহ করে নিজের প্রিভিলেজড লাইফেই থাকবেন। আপনার ফিন্যান্সিয়াল, প্রশাসনিক ব্যাকআপের কারণে নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু অল্পবয়সি মেট্রিক/ইন্টার পাশ কোনো ছেলে নিজের উপর এমন বিপদ টেনে নিবে, যা পুরো পরিবারকেই ধবংস করবে।
হঠকারী কোনো কাজে কাউকে উৎসাহ দিবেন না। "অতিরিক্ত হকপন্থি" সাজবেন না, অন্যের কাছেও আশা করবেন না। নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ্য রাখবেন। কাউকে কল্পিত জগতের লোভ দেখাবেন না। আপনি যা, মানুষ যেন তা-ই মনে করে। এমন ভাব নিবেন না যে, পুরো পৃথিবীর জিম্মাদারি আপনি একা নিয়েছেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন।
অল্পবয়সি ছেলেদের আবেগ বুঝে কথা বলবেন। কোনো ভুল বার্তা দিবেন না। যা পারবেন না, তা করার ভান ধরবেন না। একদিকে একের পর এক সংগঠন খোলার তাল করবেন, দুদিন পর সেগুলো বন্ধ করবেন আর অনুসারীদের সামনে ভাব নিবেন—তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আপনি দারুল কুফরে থাকবেন, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করবেন, ফ্রি মিক্সিং আছে জেনেও বড় প্রতিষ্ঠানে পড়াবেন, আর ইন্টার পাশ ছেলেটার কাছে আশা করবেন—তারা যেন সব ছেড়ে ঘরে বসে থাকে। এসব কোনো দাঈর মেজাজ হতে পারে না। যা বলবেন, তা আগে নিজে আমল করবেন বা করার চেষ্টারত থাকবেন।
৩. দাওয়াতের কাজ করবেন উসুলিভাবে। সবাইকে উৎসাহ দিবেন তা করতে। দাওয়াতের নামে অযথা যে-কোনো কাজকে নিরুৎসাহিত করবেন। যারা এমন করে তাদের থেকে দূরে থাকবেন।
৪. নিজেদের আশেপাশে কোনো ছাপড়ি রাখবেন না। এদের উৎসাহ দিবেন না। এই ছাপড়িরাই আপনাদেরকে রূপকথার নায়ক বানায়, এরাই আপনাদেরকে বিপদে ফেলে। যারা গত দুইবছরে একের পর এক ভুল ইস্যুতে জড়িয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াবেন না। সবার ভুল নিজের কাঁধে নিবেন না।
৫. পারলে ছেলেপেলের জন্য গঠনমূলক কিছু করুন। তাদেরকে স্কিল শেখান, পড়াশোনা শেখান, দাওয়াতি কাজ শেখান, ইলম শেখার ব্যবস্থা করে দেন। না পারলে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে নিয়ে থাকুন। সন্তান মানুষ করার চিন্তা করুন। তবুও আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা যা করবেন না বা করতে পারবেন না, তা করার ভান দেখিয়ে ছেলেদের জীবন নষ্ট করবেন না।
আপনাদের কারণেই নানাজন টোপ ফেলে। নিরীহ ছেলেরা ধরা খায়। বছরের পর বছর কারাগার ও আদালতে কেটে যায়। আপনারা ফেসবুকে মায়াকান্না করেন। তারপর আগের চক্রের আবার পুনরাবৃত্তি ঘটে। কাজের কাজ কিছুই হয় না।
৬. নিজের কাজের দায় নেয়া শিখুন। নানাজনের পোস্ট শেয়ার দিয়ে ইস্যু গরম করবেন। তারপর বেকায়দা দেখলে চুপিসারে ডিলেট করে দিবেন। এটা ধোঁকা ছাড়া আর কিছু না। কোনোকিছু লেখা বা শেয়ার করার আগে ভেবেচিন্তে করুন। যা করবেন তা ভুল হলে স্পষ্ট করুন। ভুল স্বীকার করুন। নিজে সাধু সেজে সবাইকে অপরাধী বানানোর নোংরা খেলা বন্ধ করুন।
কথাগুলোতে কষ্ট পেলে মাফ করবেন। এগুলো প্রথমে নিজেকে বলা, এরপর সবাইকে বলা।
(নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি। আপনারা কারো দিকে নিবেন না। তবুও নিলে, যে নিয়েছেন, দায় তার।)
© মাহমুদ সিদ্দিকী
1 214
যাদের বয়স ২৫ এর নিচে তারা মাথায় রাখতে পারেন—
১। যদি ছাত্র হন তাহলে ভালোভাবে পড়াশোনা করুন। ফ্রি মিক্সিংয়ের কারণে সমস্যা হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হোন। পরামর্শ নিন। অমুক হকপন্থী ভাই, তমুক গুরাবা ভাইয়ের কথায় কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না। কমিউনিটির যাদের দেখে আপনারা অনুপ্রাণিত হন, তাদের কেউই কিন্তু লেখাপড়া ছেড়ে দেয়নি। বরং সবাইই সাধ্যমত উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, করছেন। সমস্যা আছে, থাকবে, এগুলো কীভাবে পাশ কাটানো যায় সেই পরামর্শ নিবেন অভিজ্ঞ আলেমদের থেকে। তারা বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিবেন।
একান্তই পড়াশোনা ভালো না লাগলে স্কিল শিখুন, ব্যাবসা করুন, হালাল রিজিক উপার্জনের ব্যবস্থা করুন। পেশাগত ব্যস্ততায় ঢুকে যান। অবসর থাকবেন না। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।
২। হুটহাট আবেগে হঠকারী কোনো কাজ করবেন না। যারা করে তাদের থেকে এক হাজার গজ দূরে থাকবেন। এবার আপনাকে ভীরু, কাপুরুষ যাই বলা হোক, পরোয়া করবেন না। রাজনীতি করতে মন চাইলে কোনো দলে ঢুকে যান। প্রচলিত দলগুলোর নানা সমস্যা আছে সত্য, কিন্তু ইস্যুগুলোকে তারা যেভাবে বুঝতে পারে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা তা পারে না।
গাজীপুরের ইমামের কাহিনীসহ গত দুই বছরে বহু ইস্যু এমন এসেছে যেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সতর্কতাই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া দলীয় রাজনীতি করে কোনো ঝামেলায় পড়লে দলকে পাশে পাবেন। একা বিপদে পড়লে কেউ পাশে থাকবে না। এবং এটা স্বাভাবিক। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি দাওয়াতি চিন্তাধারা থাকলে দলীয় রাজনীতিতে না জড়ানো উত্তম। কিন্তু যদি মাঠের কর্মসূচি ভালো লাগে তাহলে দল করাই উত্তম।
৩। দ্বীনের জন্য কিছু করতে মন চাইলে বিদ্যমান যে কোনো দাওয়াতি, ইলমি ও ফিকরি মেহনতে সংযুক্ত হোন। যেটা সম্ভব নয়, সেখানে পণ্ডশ্রম করবেন না। অভিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ শুনবেন না, কাজ করবেন নিজের মনোমতো, এরপর বিপদে পড়লে কেউ কেন উদ্ধার করতে যাচ্ছে না—সেই কান্না করবেন, এটা উচিত না।
৪। কমিউনিটির যারা তিনবেলা উত্তেজনা সরবরাহ করে তাদের থেকেও দূরে থাকবেন। তাদের পোস্ট দেখে আপনি গরম হবেন, প্রথম আলো পোড়াবেন। উনারা হয়তো পোস্ট ডিলেট করবেন বা তাবিল করবেন। আপনি থাকবেন জেলখানায়, নিজের মামলার ঘানি নিজে টানবেন। কাউকেই পাশে পাবেন না। বাস্তবতা অনেক কঠিন। কখনো বাস্তবতা ভুলবেন না। কেউ বিপদে পড়লে তার পরিবারই সাফার করে। অন্য কেউ না। সবসময় বিপদ থেকে বেঁচে থাকার দোয়া করবেন। অযথা বিপদ টানবেন না, বিপদে পড়ার আগ্রহও রাখবেন না।
৫। নিজের জীবন, যোগ্যতা ও পেশা নিয়ে সিরিয়াস হবেন। নিজেকে গঠন না করে কেউ জাতিকে গঠন করতে পারে না। অযোগ্য লোক বড়জোর কালো পাগড়ি আর ময়লা বাবরি নিয়ে বাইকে করে এলাকা চক্কর দিয়ে জিহাদি নাশিদ লাগিয়ে ভিডিও ছাড়বে, এর বেশি কাজে তাকে পাবেন না। মুতামিদ বিন আব্বাদ বলেছিলেন, এক হাজার অসুস্থ লোক দিয়ে কোনো সেনাবাহিনী বানানো যায় না, বরং তা দিয়ে হাসপাতাল খোলা যায়। হাজার হাজার অসুস্থ মানুষের কোনো দরকার নেই, যোগ্য অল্পকিছু মানুষই যথেষ্ট।
৬। যে-কোনো ইস্যু সামনে আসলে ৫ দিন অপেক্ষা করবেন, এরপর সিদ্ধান্ত নিবেন। গত দুই বছরে দেখুন, বেশিরভাগ ইস্যু প্রথমে যেমন মনে হয়েছে পরে আর তেমন থাকেনি। সুতরাং অপেক্ষা করুন, ইস্যুটা ভালোমত স্পষ্ট হোক। ইস্যু না বুঝেই যিশু সেজে অন্যের পাপ নিজের কাঁধে নেয়া থেকে বিরত থাকবেন।
যাদের বয়স ২৫ এর বেশি তাদের কিছু বলা দরকার নেই। এতদিনে তাদের বাস্তবতা বুঝে আসার কথা। যদি না আসে তাহলে বলেও লাভ হবে না।
কথাগুলোতে কষ্ট পেলে মাফ করবেন।
© মাহমুদ সিদ্দিকী
1 214
তালিবুল ইলমদের জীবন গঠন নিয়ে বাজারে বেশকিছু বই আছে। সেগুলোর মধ্যে আবার অনেকগুলো বই অসাধারণ।
মিডিয়াম স্তরে যেসব তালিবুল ইলমরা পড়ে, তারা যদি এই বইগুলো বুঝে বুঝে পড়ে, কিংবা গার্ডিয়ান কেউ যদি পড়ে পড়ে তাদের উপলব্ধি করাতে পারেন, তাহলে আশা করি তাদের জীবন, জীবনের লক্ষ্য পুরোটাই বদলে যাবে।
তালিবুল ইলমদের জীবন গঠন নিয়ে যেসব বই আমার খুবই ভালো লেগেছিল, উপরের বইটা তন্মধ্যে অন্যতম। পিডিএফ না পড়ে সম্ভব হলে বইটা সংগ্রহও করতে পারেন।
1 214
অতীত আর স্মৃতি ভুলতে পারলে বোধহয় মানুষ সবচেয়ে সুখী হতে পারত। আমিও পারতাম।
দুই-তিনজন ভাই পেজের এডমিন হতে চেয়েছিলেন। সে সময় বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে করিনি। পেজের মেসেজ অপশনও বন্ধ করে দিলাম। এই সপ্তাহের শেষে কিংবা আগামী সপ্তাহের শেষে এক ভাইকে পেজটা বুঝিয়ে নিজেকে নিজে একটু রেস্ট দেব। এতে পেজ আর চ্যানেল হয়তো স্থবির হয়ে যাবে, আমি কিছুটা রিলাক্স পাব। ১৫-১৬ সালের আগে যেরকম একটিভিটি, লাইফস্টাইল ছিল, সেভাবেই আবার ফিরে যাব। ইনশাআল্লাহ। দোয়ার দরখাস্ত।
1 214
আমরা মেওয়াতের নূহ মারকায থেকে রোখে যাচ্ছিলাম। বাংলায় কথা বলছি বলে জিপগাড়িতে থাকা এক নারী আমাদের এক ভাইকে আমাদের ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন। বাংলাদেশ শুনে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে গেলেন। নিজে থেকেই দুঃখের কথা শোনাতে লাগলেন। তার পরিবার থাকে রংপুরে। বাবা 'দ্বীনী' আবেগে তাবলীগের মেহনতের জন্মভূমি 'মেওয়াতে' মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের কালচার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহিলা দুঃখ করে বলছিলেন, এখানে পানি টেনে আর রুটি খেতে খেতে আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ওখানকার নারীদের দূর-দূর থেকে মাথায় করে পানি টেনে আনতে হয়।
আমাদের এক ভাই কুষ্টিয়ার দিকে কোথাও তাবলীগে গেলেন। ভাই ছিলেন হাফেযে কুরআন। উনার অমায়িক আচরণ ও অসাধারণ বয়ান শুনে এক ছেলে তার বোনকে বিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগল। এবং শেষ পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করে উভয় পক্ষকে রাজি করিয়ে সফর শেষে বিয়ে সম্পন্ন করল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, মেয়েপক্ষ তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়নি। আবেগে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। অথচ বাস্তবে এই ভাই ছিলেন মাদকাসক্ত, নামাজও পড়তেন না। সারাদিন বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিয়ে দিন পার হতো। কামাই-রোজগার কিছুই করতেন না।
আফসোস, সে সংসার সুখের হয়নি। অভাব আবেগকে দূর করে দেয়। ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকল ঘরে। একটা মেয়ে জন্ম নিল এই ঘরে। শেষ পর্যন্ত সে ভাই দুঃখজনকভাবে বিষাক্ত কিছু পান করেন। কিছুদিন পর মারা যান। আল্লাহ তাআলা ভাইকে ক্ষমা করে দিন। তার স্ত্রী-সন্তানকে হেফাজত করুন।
ফেসবুকের পোস্ট পড়ে পাগল হয়ে বিয়ে করে কত মেয়ে/ছেলে বিপদে পড়ল তা তো চোখের সামনেই। আর ছেলে দ্বীনদার হলেই তার পরিবার দ্বীনদার হয় না। পর্দানশীন মেয়ে গিয়ে পড়ে বিপদে। ছেলে বউকে পর্দা করানোর হিম্মত পরিবারে দেখাতে পারে না। একটা সম্ভাবনাময় দ্বীনদার মেয়ে এই প্যাঁচে পড়ে একটা অ্যাভারেজ দ্বীনদারীর ওপর জীবন পার করে। এটাও দীর্ঘ আলাপ।
বিয়ে অনেক বড় সিদ্ধান্ত। একে খেলতামাশ বানানো যাবে না। বিয়ের আগে ছেলে/মেয়ে এলাকা থেকে তার সম্পর্কে পূর্ণ খোঁজখবর নিয়ে ইস্তিখারা করে তারপর সামনে বাড়তে হবে।
© হুসাইন ভাই, উমেদ
