es
Feedback
Tasbeeh & Nusus

Tasbeeh & Nusus

Ir al canal en Telegram

সালাফে সালিহিনের উসুলে কুরআন ও হাদিসের ইলম প্রচার করার উদ্দেশ্যে এই চ্যানেলটি খোলা হলো। আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র তাওফিকদাতা।

Mostrar más
5 350
Suscriptores
+124 horas
+57 días
-930 días

Carga de datos en curso...

Nube de Etiquetas
Sin datos
¿Algún problema? Por favor, actualice la página o contacte a nuestro gerente de soporte.
Menciones Entrantes y Salientes
---
---
---
---
---
---
Atraer Suscriptores
agosto '26
agosto '26
+59
en 0 canales
julio '26
+88
en 0 canales
Get PRO
junio '26
+20
en 0 canales
Get PRO
mayo '260
en 0 canales
Get PRO
abril '260
en 0 canales
Get PRO
marzo '260
en 1 canales
Get PRO
febrero '260
en 0 canales
Get PRO
enero '260
en 0 canales
Get PRO
diciembre '25
+7
en 0 canales
Get PRO
noviembre '25
+32
en 0 canales
Get PRO
octubre '25
+45
en 0 canales
Get PRO
septiembre '25
+45
en 0 canales
Get PRO
agosto '25
+52
en 0 canales
Get PRO
julio '25
+71
en 0 canales
Get PRO
junio '25
+102
en 2 canales
Get PRO
mayo '25
+63
en 0 canales
Get PRO
abril '25
+63
en 0 canales
Get PRO
marzo '25
+182
en 3 canales
Get PRO
febrero '25
+88
en 0 canales
Get PRO
enero '25
+104
en 0 canales
Get PRO
diciembre '24
+176
en 1 canales
Get PRO
noviembre '24
+181
en 1 canales
Get PRO
octubre '24
+294
en 2 canales
Get PRO
septiembre '24
+125
en 2 canales
Get PRO
agosto '24
+168
en 4 canales
Get PRO
julio '24
+111
en 3 canales
Get PRO
junio '24
+142
en 3 canales
Get PRO
mayo '24
+66
en 1 canales
Get PRO
abril '24
+193
en 5 canales
Get PRO
marzo '24
+1 224
en 6 canales
Get PRO
febrero '24
+320
en 1 canales
Get PRO
enero '24
+38
en 0 canales
Get PRO
diciembre '23
+25
en 0 canales
Get PRO
noviembre '23
+28
en 0 canales
Get PRO
octubre '23
+149
en 1 canales
Get PRO
septiembre '23
+49
en 0 canales
Get PRO
agosto '23
+153
en 0 canales
Get PRO
julio '23
+66
en 0 canales
Get PRO
junio '23
+54
en 0 canales
Get PRO
mayo '23
+104
en 0 canales
Get PRO
abril '23
+2 198
en 0 canales
Fecha
Crecimiento de Suscriptores
Menciones
Canales
29 agosto+1
28 agosto+3
27 agosto+1
26 agosto+4
25 agosto+2
24 agosto+1
23 agosto+3
22 agosto+1
21 agosto0
20 agosto+1
19 agosto0
18 agosto0
17 agosto+4
16 agosto+3
15 agosto+1
14 agosto+1
13 agosto+1
12 agosto+3
11 agosto+7
10 agosto0
09 agosto+4
08 agosto+1
07 agosto+1
06 agosto+3
05 agosto+1
04 agosto+4
03 agosto0
02 agosto+2
01 agosto+6
Publicaciones del Canal
মুহাররাম হলো নফল রোজার শ্রেষ্ঠ মাস। আজ রাতে সাহরি খেয়ে কাল থেকে শুরু হচ্ছে মুহাররাম মাসের আইয়ামে বীযের নফল রোজা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রামাদানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররাম (মাসের রোজা)।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫] এজন্য মুহাররাম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম। বিশেষ করে আশুরার রোজা এবং আইয়ামে বীযের রোজা রাখা। আশুরার রোজা তো চলেই গেলো, এবার আইয়ামে বীযের রোজা রাখতে পারেন। আর আইয়ামে বীযের রোজাও যদি কোনো কারণে রাখতে না পারেন, তাহলে মাসিক তিনটি নফল রোজা রাখতে পারেন। এগুলো নফল রোজা, যা মাসের যেকোনো দিন রাখতে পারেন। মাসিক তিনটি নফল রোজা প্রত্যেক মাসেই রাখা উত্তম। ❖ আইয়ামে বীযের পরিচয়: আইয়ামে বীয অর্থ হলো, উজ্জ্বল ও শুভ্র দিনসমূহ। প্রত্যেক চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের জোছনাময় রাতগুলো বেশ উজ্জ্বল দেখায়। এজন্য এই দিনগুলোর নামকরণ করা হয়েছে আইয়ামে বীয। আপনারা জানেন, আরবি চন্দ্রমাসের দিন বা তারিখ শুরু হয় সূর্যাস্ত বা মাগরিবের সময় থেকে। আজ সন্ধ্যা থেকে মুহাররামের ১৩ তারিখ শুরু হবে। সুতরাং আজ রাতে সাহরি খেয়ে কাল সোমবার (২৯ জুন) রোজা রাখবেন। এরপর আরও দুই দিন। অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ই মুহাররাম রোজা রাখবেন। খ্রিস্টীয় তারিখ হিসেবে ২৯ ও ৩০ জুন এবং ১ জুলাই রোজা রাখবেন। যদি কোনো কারণে প্রথম বা শেষ দিনের রোজা মিস হয় বা রাখতে না পারেন, তাহলে মাসের অন্য কোনো দিন রাখবেন। ❖ আইয়ামে বীযের গুরুত্ব: আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (নবিজি) আমাকে তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন। সেগুলো হলো: প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দোহার (চাশতের) দুই রাকাত (নফল নামাজ) আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর (নামাজ) পড়া। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৮১] ❖ আইয়ামে বীযের ফজিলত: রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা রাখে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখে।” [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৬২; হাদিসটি সহিহ] ❖ আইয়ামে বীয কোন্ দিনগুলো? আবু যার (রা.)-কে নবিজি বলেছিলেন, ‘‘হে আবু যার! তুমি যদি প্রতি মাসে ৩ দিন রোজা রাখতে চাও, তবে (আরবি চন্দ্রমাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৬১; হাদিসটি হাসান সহিহ] #Nusus

2
যারা আশুরার রোজা রাখতে চান, তারা জেনে নিন: আশুরার রোজা ৩টি পদ্ধতিতে রাখা যায়। ❖ প্রথম পদ্ধতি (এটিই সর্বোত্তম): আশুরা মানে মুহাররাম মাসের ১০ তারিখ। আশুরার রোজা রাখার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, আশুরার আগের দিন (৯ই মুহাররাম) ও আশুরার দিন (১০ই মুহাররাম) রোজা রাখা। অর্থাৎ, আগামীকাল ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) ৯ মুহাররাম এবং পরদিন ২৬ জুন (শুক্রবার) ১০ মুহাররাম—এই দুই দিন রোজা রাখা উত্তম হবে। ইবনু আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা রাখলেন এবং (অন্যদের) রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন, তখন লোকেরা বললো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এটিতো এমন দিন, যাকে ইহু -দি ও খ্রিস্টানরা বিশেষ মর্যাদা দেয় (তাহলে এমন দিনে আমরা রোজা রাখবো কেনো?)!’ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আগামী বছর এই দিন আসলে, আমরা (আশুরার দিনের সাথে) ৯ তারিখেও রোজা রাখবো ইনশাআল্লাহ।’’ বর্ণনাকারী বলেন, পরের বছর আসার আগেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়ে যায়। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫৫৬] ❖ দ্বিতীয় পদ্ধতি: কেউ চাইলে আশুরার দিন (১০ই মুহাররাম) এবং এর পরের দিনও (১১ই মুহাররাম) রোজা রাখতে পারেন। অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা ইহু~ দি’দের বিরোধিতা কোরো—আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখো।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২১৫৫; ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৪৩১৫; হাদিসটি হাসান (শায়খ আহমাদ শাকিরের তাহকিক)] ❖ তৃতীয় পদ্ধতি: শুধু আশুরার দিন (১০ই মুহাররাম) রোজা রাখাও জায়েয; এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে, উত্তম হলো, দুইটি রোজা রাখা। [ইমাম ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ] আশুরা মানে ‘দশম’। অর্থাৎ, মুহাররামের দশ তারিখের (২৬ জুন) রোজাটি হলো আশুরার রোজা। তাই, কেবল ২৬ জুন, শুক্রবারের রোজাটিই আশুরার নিয়তে রাখবেন। এর আগের দিন বা পরের দিনের রোজা সাধারণ নফলের নিয়তে রাখবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি—তিনি (এর দ্বারা) পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৩৬] এক ব্যক্তি আশুরার রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন— ذَاكَ صَوْمُ سَنَةٍ ‘‘এটি এক বছরের (নফল) রোজা(র সমতূল্য)।” [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৩৬৩১; হাদিসটি সহিহ] অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রামাদানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররাম (মাসের রোজা)।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫] তাই, এই মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম ও ফজিলতের ব্যাপার। আমরা শুধু আশুরার রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবো না, বরং আল্লাহর মাসের বাকি দিনগুলোতেও সাধ্যানুসারে বেশি বেশি রোজা রাখার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। #Nusus
1 184
3
রোজা রাখার জন্য রমাদান ব্যতীত আরও একটি বিশেষ মাস রয়েছে। সেই মাসের দিনগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রমাদানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো, আল্লাহর মাস মুহাররাম (মাসের রোজা)।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫] আজ সন্ধ্যা থেকে মুহাররামের ৪ তারিখ শুরু হয়েছে। আলিমগণের বড় একটি অংশের মতে, রমাদানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো মুহাররাম। [ইমাম ইবনু রজব, লাত্বাইফুল মা‘আরিফ, পৃষ্ঠা: ৭৯-৮০] সব মাসই আল্লাহর, তবে মুহাররাম মাসকে হাদিসে বিশেষভাবে বলা হয়েছে শাহরুল্লাহ তথা ‘আল্লাহর মাস’। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫] যাদের শক্ত-সামর্থ্য আছে, তাদের উচিত এই মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখা। এগুলো নফল রোজা। সুতরাং নফলের নিয়তেই রাখতে হয়। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। #Nusus
968
4
এই মাসের আইয়ামে বীযের (৩টি) রোজা আজ থেকে রাখতে হবে। আজ প্রথম রোজার সাহরি খেতে হবে।
2 126
5
যারা শাওয়ালের ৬ রোজা রাখতে চান, তাদের উদ্দেশে এখানে ৩টি বিষয়ে আলোচনা করবো: শাওয়ালের ৬ রোজা নাকি কাজা রোজা—কোনটি আগে রাখতে হবে? রোজাগুলো বিরতিহীন রাখা কি জরুরি? শাওয়ালের ৬ রোজায় কীভাবে ১ বছরের নেকি হয়? ▬▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬▬ ➤ যদি কেউ সারা বছর রোজার ফজিলত অর্জন করতে চায়, তবে প্রথমেই তাকে রামাদানের কাজা রোজাগুলো রাখতে হবে, এরপর শাওয়ালের ৬ টি রোজা রাখবে। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি রামাদানের রোজা রাখলো, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন সারা বছর রোজা রাখলো।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৮] . এটি হাম্বলি মাযহাব এবং আলিমগণের একটি অংশের অভিমত। . তাঁদের মতে, হাদিসটিতে বলা হয়েছে—প্রথমে রামাদানের রোজা রাখা, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা। সুতরাং, আগে রামাদানের রোজা পূর্ণ করতে হবে, এরপর শাওয়ালের রোজা রাখতে হবে। তাহলেই হাদিসে বর্ণিত প্রতিদান পাওয়া যাবে। তাছাড়া কাজা আদায় করা ফরজ, পক্ষান্তরে শাওয়ালের ৬ টি রোজা নফল। সুতরাং, নফলের উপর ফরজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। . এই মতাবলম্বীদের একটি মত হলো, যদি এক রামাদানে কারো এত পরিমাণ কাজা হয়ে থাকে যে, সেগুলোর সবকটি রাখলে শাওয়াল মাসই শেষ হয়ে যাবে, তাহলে তারা প্রথমে শাওয়াল মাসে কাজা রোজাগুলো সমাপ্ত করবেন এবং পরবর্তী (জিলকদ) মাসে শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখবেন। যেহেতু তিনি অপারগ, তাই তার জন্য এই ছাড়। . ➤ হানাফি, শাফিয়ি ও মালিকি মাযহাব তথা অধিকাংশ আলিমের মতে, কেউ চাইলে আগে শাওয়ালের রোজা রাখতে পারবে, এরপর সময়-সুযোগ বুঝে কাজা রোজাগুলো রাখবে। এমনটি করা মাকরুহ হবে না। তাঁরা উপরের হাদিসটির ব্যাপারে বলেন, এই হাদিসটিতে সুস্পষ্টভাবে এটা বলা হয়নি যে, ‘আগে কাজা রোজাই রাখতে হবে’ বরং এটি উত্তম-অনুত্তমের ব্যাপার। আগে কাজা রেখে এরপর শাওয়ালের রোজা রাখা উত্তম, তবে আবশ্যক নয়। তাঁরা আরেকটি দলিল দেন এক্ষেত্রে; তা হলো: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, আয়িশা (রা.) রামাদানের কাজা রোজা শাবান মাসে রাখতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৫০] . তাহলে, আয়িশা (রা.) রামাদানের কাজা রোজা শাবান মাসে রাখলে, শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা কি রাখতেন না? তাঁর মতো মহীয়সী নারী শাওয়ালের নফল রোজা মিস করতেন, এমন ধারণা রাখা যায় না। আর শাওয়ালে তিনি যেহেতু কাজা রোজাগুলো রাখতেন না, বরং আরও ১০ মাস পর শাবান মাসে (অর্থাৎ আরেক রামাদানের আগের মাসে) রাখতেন, সেহেতু এটাই প্রমাণিত হয় যে, কাজা রোজা না রেখেও শাওয়ালের নফল রোজা রাখা যাবে। . ✿ সিদ্ধান্ত: প্রথম কথা হলো, আগে কাজা রোজা রাখা উত্তম, এই কথা সকল যুগের সকল আলিমের মত। তবে, কাজাগুলো রাখার আগে শাওয়ালের রোজা রাখা যাবে কি না তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা যথাসম্ভব আগে কাজা রোজা রেখে এরপর শাওয়ালের রোজা রাখুন। আর যাদের জন্য এটা কঠিন হয়ে যাবে, তারা চাইলে আগে শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখতে পারেন, এরপর কাজা রোজা রাখবেন। যেহেতু আয়িশা (রা.)-এর আমল ছিলো: তিনি কাজা রোজা শাবান মাসে রাখতেন, তাহলে অনুমান করা যায়, তিনি শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখতেন কাজা রোজাগুলো আদায় করার আগেই। আমরা বলবো, সম্ভব হলে আগে কাজা রোজা ও পরে শাওয়ালের রোজা রাখুন, এটি উত্তম, তবে, এটি বাধ্যতামূলক নয়। . ➤ শাওয়ালেন ৬টি রোজা বিরতিহীন রাখা যাবে আবার মাঝখানে গ্যাপ দিয়ে দিয়েও রাখা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। মোটকথা, শাওয়াল মাসের মধ্যে রাখলেই হলো। . আল্লাহ বলেন, “আর, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই গণনা পূর্ণ করবে (কাজা করবে)।” [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫] . আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা কাজা পালনের ক্ষেত্রে বিরতিহীন রোজা রাখার শর্ত আরোপ করেননি। সুতরাং এতে প্রশস্ততা রয়েছে। [ইমাম নববি, আল-মাজমু’: ৬/১৬৭; ইমাম ইবনু কুদামাহ, আল মুগনি: ৪/৪০৮; শায়খ ইবনু বায, মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ১৫/৩৫] . ➤ শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখা দ্বারা কীভাবে এক বছরের রোজা রাখার সমান সওয়াব হয়? . এর উত্তরে প্রথমেই আমাদের একটি সুত্র মনে রাখতে হবে, যেটি কুরআনে এসেছে— . مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا . অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একটি নেক আমল নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে অনুরূপ দশ (গুণ প্রতিদান)। [সুরা আন‘আম, আয়াত: ১৬০] . সহিহ ইবনে খুযাইমার হাদিসে এসেছে, “রামাদান মাসের রোজা দশ মাসের সমান (এক মাস সমান দশ মাস) আর ছয় দিনের রোজা দুই মাসের সমান (৬×১০=৬০)। এভাবে এক বছরের রোজা হয়ে যায়।” . আল্লাহ তা‘আলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন। #Tasbeeh
2 689
6
. تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ . [তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম] অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে (নেক কাজগুলো) কবুল করুন। [ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৬২৯৬ ও শু‘আবুল ঈমান: ৩৭২০; বর্ণনাটির সনদ হাসান] . অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’ অর্থ: আল্লাহ আমার ও আপনার পক্ষ থেকে (নেক কাজগুলো) কবুল করুন। . তবে, ‘ঈদ মুবারক’ বা এজাতীয় আঞ্চলিক পরিভাষা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোও বৈধ। এতে কোনো সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে আলিমগণ একমত। . ❖ ঈদের দিনে গোসল করা ও নতুন কাপড় বা পরিচ্ছন্ন কাপড় পড়া সুন্নাহ। [ইমাম মালিক, আল-মুওয়াত্তা: ৪১৪; ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৪৮] . ❖ সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করা: . ইমাম মালিক (রাহ.) বলেন, ‘আমি আলিমদের কাছ থেকে শুনেছি, তাঁরা প্রত্যেক ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার ও সাজ-সজ্জা করাকে মুস্তাহাব (উত্তম কাজ) বলেছেন।’ [আল-মুগনি লি ইবনি কুদামাহ] . ❖ ফিতরা আদায় করা: . আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনের ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বেই যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৫০৯] . ❖ ঈদের নামাজের তাকবিরসংখ্যা: . মোটাদাগে এদেশে অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ৬টি তাকবিরে ঈদের নামাজ আদায় করেন আর আহলে হাদিস মাসলাকের অনুসারীগণ ১২ তাকবিরে আদায় করেন। দুটোই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা উচিত নয়। [১২ তাকবিরের হাদিস: সুনানে আবু দাউদ: ১১৪৯; ৬ তাকবিরের হাদিস: মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৫৬৮৬ ও ৫৬৮৭; দুটো হাদিসই সহিহ] . ❖ ঈদের নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ: . প্রায় সমস্ত আলিম মত দিয়েছেন—ঈদ ও জুমার নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ করা জরুরি নয়। আলিমগণের একাংশ নারীদের ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বেশ জোর দিয়েছেন। তাঁরা উম্মু আতিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের দলিল দিয়েছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৭৪ ও ৯৮১; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৯৩০] . তবে, হানাফি মাযহাবের অনেক আলিমের মতে, স্বাভাবিকভাবে নারীদের ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। তাঁরা বলেন, বর্তমানে সেই পরিবেশ নেই, সঠিক পর্দাব্যবস্থা নেই, ফলে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই, নারীদের অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। তবে, কোনো নারী অংশ নিলে তার নামাজ নষ্ট হবে না। . যাহোক, আমরা বলবো, যথাযথ পর্দা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলে কোনোরূপ সাজসজ্জা ও সুগন্ধি ব্যতীত নারীরা ঈদের নামাজে যাবেন। বাসায় একাকী ঈদের নামাজ পড়া জায়েয নেই। কারণ ঈদের নামাজ জামাতে আদায় করতে হয়। . ❖ ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো নামাজ না পড়া: . আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন, কিন্তু এর আগে বা পরে কোনো নামাজ পড়েননি। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৬৪] . ❖ ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা সুন্নাহ নয়, তবে জায়েয। এটি করা যাবে। তাই বলে, এটিকে এই দিনের জন্য রীতি বানিয়ে নেওয়া উচিত নয়। . ❖ ঈদের মাঠে/মসজিদে নামাজ শেষ করার পর মুসাফাহা ও কোলাকুলি করা সুন্নাহ নয়। তবে, সুন্নাহ বা জরুরি মনে না করে দীর্ঘদিন পর কারো সাথে দেখা হলে স্বাভাবিক সৌজন্যে তার সাথে কোলাকুলি করা যাবে। . সবাইকে ঈদ মুবারক। সবার ঈদ সুন্দর কাটুক। তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। . #Tasbeeh
2 415
7
ঈদের রাতের আমল প্রসঙ্গ এবং ঈদের দিনের আমলগুলো সহিহ হাদিসের আলোকে ▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬ ❑ ঈদের রাতের আমল প্রসঙ্গে: . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে দুই ঈদের রাতে জেগে থাকবে, তার অন্তর সেদিন মরবে না, যেদিন অন্তরগুলো মরে যাবে।’’ (অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন তার ভয় থাকবে না) [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৮২; হাদিসটি দুর্বল। ইমাম নববি, ইমাম ইবনু হাজার, শায়খ আলবানি (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ প্রায় সকল মুহাদ্দিস হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন] . ঈদের রাতের বিশেষ মর্যাদা বা আমলের ব্যাপারে কয়েকটি হাদিস এসেছে। মুহাদ্দিস ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে সেগুলোকে ‘দুর্বল’ বলেছেন। তবে, যেহেতু সাধারণ ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের উপর আমল করতে অসুবিধা নেই, তাই অধিকাংশ আলিম ঈদের রাতে নেক আমল করা ‘মুস্তাহাব’ (ভালো কাজ) গণ্য করেছেন। অতএব, কেউ চাইলে ঈদের রাতে সাধারণভাবে যেকোনো নেক আমল করতে পারেন। [ইমাম শাফিয়ি, কিতাবুল উম্ম: ২/৪৮৫; ইমাম নববি, শারহু মুসলিম: ৮/৭১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়্যাহ: ২/৩৩৫] . অবশ্য বিশুদ্ধ হাদিস না থাকায় কোনো কোনো আলেম এই রাতের বিশেষত্বকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন। তবে, অধিকাংশ আলিম বলেছেন, যেহেতু দুর্বল হাদিস আছে, সেহেতু এই রাতকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মনে করে নেক আমল করতে অসুবিধা নেই। তবে, এই রাতের নির্দিষ্ট কোনো আমলের কথা সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়নি। তাই, এই রাতে তিলাওয়াত, নফল নামাজ, যিকর, দু‘আ, দরুদ, ইস্তিগফার ইত্যাদি যেকোনো নেক আমল করতে পারেন। . ❑ ঈদের দিনের উল্লেখযোগ্য আমল ও আদব: . ❖ ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং ঈদুল আজহায় কিছু না খেয়ে যাওয়া সুন্নাহ: . বুরায়দা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিনে ফিরে আসার আগে কিছুই খেতেন না। ফিরে এসে তাঁর কুরবানির পশুর মাংস থেকে খেতেন।’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৫৪২; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৪২২; হাদিসটি সহিহ] . সুন্নাত হলো, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৫৩] . ❖ ঈদের দিনে বেশি বেশি তাকবির বলা: (পুরুষরা শব্দ করে, নারীরা নীচু আওয়াজে) . হাদিসে এসেছে, ইবনু উমার (রা.) উভয় ঈদে তাকবির বলে বলে ঈদগাহে যেতেন। [ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ১০৫৬] . একটি সুন্নাহসম্মত তাকবির: . اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد . আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার; ওয়া লিল্লা-হিল হামদ। . (আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আল্লাহই সবচেয়ে বড়; আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা) . এটি প্রখ্যাত সাহাবি ইবনু মাস‘উদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত। [ইমাম দারা কুতনি, আস-সুনান: ১৭৫৬; শায়খ আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৬৫৪; বর্ণনাটির সনদ সহিহ] . আরেকটি বিশুদ্ধ সনদের সহজ তাকবির: . প্রখ্যাত সাহাবি সালমান আল ফারসি (রা.) বলেন, ‘তোমরা তাকবির দাও (এভাবে)— . اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ كَبٍيْرًا . আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার কাবি-রা . (আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; আল্লাহ সবচেয়ে বড়; তিনি মহান)।’ [ইমাম বাইহাকি, ফাদ্বাইলুল আওক্বাত: ২২৭; ইমাম ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ২/৪৬২; বর্ণনাটির সনদ সহিহ] . এছাড়াও আরও তাকবির বর্ণিত হয়েছে। তবে, এ দুটোই উত্তম ও প্রসিদ্ধ। . আলিমগণ বলেন, ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর (সূর্যাস্ত) থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বেশি বেশি তাকবির দিতে থাকবে। নারীরা চুপে চুপে (শুধু নিজে শুনতে পেলেই যথেষ্ট) আর পুরুষরা আওয়াজ করে। [ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৪/২২০; ইমাম ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ: ২/৩৬০; ইমাম শামি, রাদ্দুল মুহতার: ৩/৬১; আল্লামা উসমানি, ইলাউস সুনান: ৮/১৫৬] . ❖ ঈদগাহে যাওয়া-আসায় রাস্তা বদলানো উত্তম। . জাবির (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন (যাওয়া-আসায়) রাস্তা পরিবর্তন করতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৮৬] . ❖ সামর্থ্যবান হলে পায়ে হেঁটে যাওয়া সুন্নাহ। . ইবনু উমার (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে হেঁটে ঈদের (নামাজের) জন্য যেতেন এবং হেঁটে হেঁটে ফিরতেন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১২৯৪; হাদিসটি হাসান] . ❖ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়: . মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ আল আলহানি (রাহ.) বলেন, আমি সাহাবি আবু উমামা আল বাহিলি (রা.)-কে ঈদের দিন তাঁর সাথীদের উদ্দেশ্যে বলতে দেখেছি—
1 306
8
রামাদান শেষ হতে আর ১ ঘণ্টাও বাকি নেই। আমরা কেউ জানি না, আরেকটি রামাদান আমাদের নসিবে আছে কিনা। পবিত্র জুমার দিনের স্পেশাল দোয়া কবুলের এই মুহূর্তে, আসুন সবাই নিজেদের গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে রোনাজারি করি। রামাদানের এই বিদায়লগ্নে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের এই রামাদানের যাবতীয় নেক আমলকে কবুল করুন এবং সামনের রামাদান পর্যন্ত হায়াতে তাইয়িবাহ নসিব করুন। আমিন।
958
9
রামাদানের শেষ জুমার দিন আজ (সন্ধ্যা থেকে শুরু হলো)। আসুন, জুমার রাত এবং দিনকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাই। আজ আন্তরিকভাবে তাহাজ্জুদ পড়ি, শেষ রাতে নিজের গুনাহের জন্য কান্নাকাটি করি। সুরা কাহাফ পড়ি, বেশি বেশি দরুদ পড়ি। আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টাতে আন্তরিকভাবে দু‘আয় মশগুল হই, তাওবাহ-ইস্তিগফার পড়ি। এমনিতেই অন্য সময়ে এই সময়ের দু‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, রামাদানে তো আরও বেশি সম্ভাবনাময়। আবার ইফতারের আগ মুহূর্তে দু‘আ কবুল হয়। তাই আসুন, আল্লাহর দেওয়া এই সুযোগগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করি।
1 210
10
আজ রামাদানের সর্বশেষ বিজোড় রাত। অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কদরের রাত। নেক আমল দিয়ে রাতটিকে সমৃদ্ধ করতে আমরা যা করবো: . (১) ১০ বার সুরা ইখলাস পড়বো। (২) সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বো। (৩) আয়াতুল কুরসি পড়বো। (৪) সুরা মুলক পড়বো। (৫) সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এগুলোর প্রত্যেকটি ১০০ বার করে পড়বো। (৬) ৪ থেকে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বো। (৭) কিছু সাদাকাহ করবো। (৮) অবশ্যই ইশা ও ফজর জামাতে পড়বো। (৯) লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ২০/৩০ বার পড়বো। (১০) আস্তাগফিরুল্লাহ/আল্লাহুম্মাগফিরলি ১০০ বার পড়বো। মন দিয়ে সাইয়িদুল ইস্তিগফার পড়বো। (১১) ১০০ বার দরুদ পড়বো। (১২) আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি ২০/৩০ বার পড়বো। (১৩) আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দু‘আ করবো। নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দু‘আ করবো। বিশেষত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য এবং অন্যায়ভাবে কারাবরণকারীদের মুক্তির জন্য দু‘আ করবো। (১৪) হিদায়াত লাভ, দ্বীনের উপর অবিচলতা, শির্ক-কুফর ও বান্দার হক নষ্ট করা থেকে পানাহ চাওয়া, গুনাহ মাফি, ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা, সুস্থতা ও নিরাপত্তা, ঈমানের উপর মৃত্যু ইত্যাদি বিষয়ে দু‘আ করবো। . মোটকথা, নফল নামাজ, তিলাওয়াত, যিকর, তাসবিহ, ইস্তিগফার, দু‘আ এবং দরুদের মাধ্যমে এই রাতটির যথাসাধ্য কদর করবো। আগামী রামাদান আমরা পাবো কি না, কেউ জানি না। এমনকি আরেকটি রোজা পাবো কি না, সেটাও নিশ্চিত না। আল্লাহ যেন আমাদেরকে রামাদানের রহমত-বরকত থেকে বঞ্চিত না করেন। আমিন। . #Tasbeeh
1 901
11
মক্কায় অদ্ভূত এক নারী ছিলো, যে সুতা পাকিয়ে সুন্দর সুন্দর কাপড়, টুপি, কম্বল ইত্যাদি তৈরি করতো। এরপর সে নিজেই সুতার দুই দিক থেকে টান দিয়ে এগুলোকে নষ্ট করে ফেলতো। এই নারীকে লোকজন পাগল মনে করতো তার এমন কাজের জন্য। সে এত পরিশ্রম করে পাকানো সুতাগুলোকে খামখেয়ালিপনায় টুকরো টুকরো করে ফেলতো। . ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.) তাঁর ‘তাফসিরুল কুরআনিল আযিম’-এ বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে এই নারীর উদাহরণ দিয়ে বলেন— . وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِن بَعْدِ قُوَّةٍ أَنكَاثًا . ‘‘তোমরা ওই নারীর মতো হয়ো না, যে পরিশ্রমের পাকানো সুতো টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে।’’ [সুরা নাহল, আয়াত: ৯২] . আয়াত দ্বারা যদিও শপথ পাকাপাকি হওয়ার পর তা ভেঙে না ফেলতে বলা হয়েছে, তথাপি শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিল (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর জনপ্রিয় লেকচার সিরিজ Gems of Ramadan (ধূলিমলিন উপহার: রামাদান বই)-এ এই ঘটনাটিকে সামনে এনে রোজাদারদের সতর্ক করেছেন। রোজাদারদের অনেকে সারা মাস রোজা রাখে, আমল করে, কিন্তু রামাদানের শেষ দিকে এসে হাল ছেড়ে দেয়, গুনাহে জড়িয়ে যায় আর সারা মাসের সিয়ামসাধনাকে পণ্ড করে দেয়। এটি খুবই বাস্তব একটি বিষয়। ব্যাপারটি এমন যে, কেউ ৩ ঘণ্টা ধরে পরীক্ষার খাতায় চমৎকার উত্তর লিখেছে। এরপর খাতাটি জমা না দিয়ে ছিঁড়ে বাইরে ফেলে দিয়েছে। . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ কোনো আমল করে, তখন আল্লাহ পছন্দ করেন, সে ওই আমলটি পূর্ণাঙ্গভাবে করবে।’’ [ইমাম বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ৪৯৩০; ইমাম তাবারানি, মু‘জামুল আওসাত্ব: ৮৯৭; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১৮৮০; হাদিসটি সহিহ] . সুতরাং, রামাদানের এই শেষ লগ্নে এসে আমরা হাল ছাড়বো না, বরং সুন্দর ও যথার্থভাবে রামাদান শেষ করবো। দীর্ঘ এক মাসের সিয়ামসাধনা এবং ইবাদত-বন্দেগি ধরে রাখবো। . এরপর, রামাদান শেষে নতুন করে আবার অন্ধকারময় গুনাহের জীবনে ডুবে যাবো না। রামাদানের মতই সারা বছর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো। বলা হয়, জীবন যদি কাটে রামাদানের মতো, তবে মৃত্যুর মুহূর্তটিও হবে ঈদুল ফিতরের মতো (আনন্দময়)! . #Nusus
1 559
12
আরও যারা অধিক পরিমাণে আমল করতে চান: سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ (কমপক্ষে ১০০ বার) سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ (যত খুশি) لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ (যত খুশি) যারা কুরআন পড়তে পারবেন, তারা সুরা ইখলাস পড়বেন বেশি পরিমাণে। ঘণ্টাখানেক সময় অন্তত কুরআন তিলাওয়াত করবেন। সাধ্যানুসারে তাহাজ্জুদ পড়বেন। কিছু দান-সাদাকাহ করবেন। এছাড়া অন্যান্য আমল করবেন। অবশ্যই আন্তরিকতার সাথে লম্বা সময় নিয়ে দোয়া করতে হবে। হায়েয অবস্থায় দোয়া করতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াত করা যায় না। #Tasbeeh
1 488
13
যারা নফল নামাজ পড়তে অলসতাবোধ করেন কিংবা পিরিয়ডের কারণে নামাজ ও তিলাওয়াত থেকে দূরে আছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল দেওয়া হলো। কদরের রাতে এই আমলগুলো করলে আশা করি অনেক উপকৃত হবেন এবং মনেও আনন্দ লাভ করবেন, ইনশাআল্লাহ। (১) কমপক্ষে ১০০ বার নিচের তাসবিহ ও যিকিরটি। لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ [লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হদাহু লা শারি-কা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদি-র] অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার এটি পড়বে— ◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে; ◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে; ◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে; ◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে) ◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭] অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি এগুলোর প্রত্যেকটি ১০ বার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭] (২) কমপক্ষে ১০০ বার নিচের তাসবিহ ও যিকিরটি। سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَر সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হানি (রা.)-কে বলেন— ◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে; ◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে; ◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে; ◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান] (৩) কদরের রাতের বিশেষ আমল (দোয়া) বেশি বেশি করা: আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো— . اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ . [আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি] . অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ] (৪) শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফারগুলোর মধ্যে অন্যতম নিচের ইস্তিগফারটি সাধ্যানুসারে বেশি বেশি পড়া: . ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি এটি পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।” . ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮْﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ [আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযি লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতু-বু ইলাইহি] . অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৭; হাদিসটি সহিহ] (৫) ব্যাপক অর্থবোধক একটি দোয়া বেশি বেশি পড়া: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ [আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ] অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা, সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ] (৫) দ্বীনের উপর অটল থাকার দু‘আ করা: উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো– يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي [ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলু-ব, সাব্বিত ক্বলবি ‘আলা দি-নিকা] . অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২২; হাদিসটি সহিহ] (৬) অধিক পরিমাণে দরুদ পড়া: নিচে সহিহ হাদিসে বর্ণিত একটি ছোট্ট দরুদ দেওয়া হলো। اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
1 258
14
কদরের রাতে পড়ার জন্য বিশেষ দুটো দু‘আ . ❂ প্রথম দু‘আ: . আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো— . اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ . (আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি) . অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ] . ❂ দ্বিতীয় দু‘আ: . আয়িশা (রা.) বলেন, যদি আমি জানতে পারি, লাইলাতুল কদর কোন রাতটি, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে ‘আফিয়াত’ ছাড়া আর কিছু চাইবো না। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ২৯১৮৭; বর্ণনাটি সহিহ] . আরবি ‘আফিয়াত’ শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। এর দ্বারা নিরাপত্তা, সুস্থতা, দয়া কামনা ইত্যাদি বুঝায়। হাদিসে ‘আফিয়াত’ শব্দটি দিয়ে একাধিক দু‘আ আছে। . ইমাম নাসায়ির সুনানুল কুবরায় এই হাদিসটি আরেকটু বড় পরিসরে এসেছে, দু‘আটির বাক্যগুলোসহ। তবে, হাদিসটি মাওকুফ (সাহাবির বক্তব্য), অর্থাৎ, আয়িশা (রা.)-এর নিজের বক্তব্য। তিনি সম্ভাব্য কদরের রাতে এটি পড়তেন বলে প্রতীয়মান হয়। . اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ . (আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়াহ) . হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা ও আফিয়াত (নিরাপত্তা-সুস্থতা) চাই। [ইমাম নাসায়ি, সুনানুল কুবরা: ১০৭১৪; বর্ণনাটির সনদ হাসান] . আফিয়াত শব্দযোগে সরাসরি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সহিহ বর্ণনা আছে। তার একটি হলো: . اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ . (আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ) . অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা ও সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ] #Tasbeeh
1 079
15
আজ লাইলাতুল কদরের সর্বাধিক সম্ভাবনাময় (২৭তম) রাত। আজ কোনো অবহেলা নয়। আমরা সাধ্যানুসারে আমলে লেগে থাকবো। ▬▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬▬ প্রখ্যাত সাহাবি উবাই ইবনু কা’ব (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে বলেন, ‘‘আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি সেই রাতটি সম্পর্কে জানি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ২৭তম রাতে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) দণ্ডায়মান থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৮] . মু‘আবিয়া (রা.) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি (নবিজি) বলেন, ‘‘রামাদানের ২৭তম রাত হলো কদরের রাত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮৬; হাদিসটি সহিহ] . তাছাড়া উমার ইবনুল খাত্তাব, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং অন্যান্য অনেক সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করতেন না যে, কদরের রাত ২৭তম রাত। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ] . তবে, এসব হাদিসের বিপরীতে শেষ দশকের অন্যান্য রাত—২১, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৯ তারিখের ব্যাপারেও সহিহ বর্ণনা রয়েছে যে, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতগুলোতে কদর তালাশ করতে বলেছেন। মূলত, কদরের রাতটি এজন্য গোপন রাখা হয়েছে, যেন সবাই শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করে। . উবাই (রা.) খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে ২৭তম রাতকে কদরের রাত বলেন। তখন অন্যরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘কীসের ভিত্তিতে আপনি এমন কথা বলছেন?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আলামত অথবা নিদর্শনের মাধ্যমে, যেগুলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলে গেছেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৭] . এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, ২৭তম রাত ফ্যাক্ট না, বরং কদরের রাতের আলামত বা Symptoms মিলতে হবে। নবিজির সময়ে একবার ২১তম রাতেও কিন্তু Symptoms বা আলামত মিলেছিলো, যেমনটি আমাদের জানিয়েছেন প্রখ্যাত সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি রা. (সহিহ মুসলিম: ২৬৬১)। (কদরের রাতের আলামত নিয়ে একটি পর্ব দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ)। . সুতরাং কদরের রাতটি ফিক্সড না। শেষ দশকের যেকোনো রাতেই এটি হতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২০] . আমরা আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলতে পারি, এটি শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে আছে। হাদিসে এসেছে, ‘‘তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৭] . বিজোড় রাতগুলোর মাঝে ২৭তম রাতটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। এ ব্যাপারে অধিকাংশ আলিম একমত। তবে, সুনিশ্চিতভাবে এটি বলার অবকাশ নেই যে, ২৭তম রাতটিই লাইলাতুল কদর। এটি অধিক সম্ভাবনার দাবি রাখে কেবল। কারণ, আলিমগণের বড় একটি অংশের মতে, কদরের রাতটি স্থানান্তরিত হতে পারে; প্রতি বছর একই তারিখে কদর হওয়া জরুরি না। এটি আমরা আগেই আলোচনা করেছি। পড়ে নিতে পারেন। . আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা আমলে লেগে থাকার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। রাতের সীমারেখা হলো: মাগরিব থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমরা সাধ্যানুসারে পুরো সময়টিতেই বিভিন্ন নেক আমল করবো। হায়েয (পিরিয়ড) ও নিফাসগ্রস্ত নারীরা কুরআন তিলাওয়াত এবং নামাজ বাদে বাকি আমলগুলো করতে পারেন। কদরের রাতের জন্য বিশেষ আমলগুলো জানতে কমেন্টে চোখ রাখুন। . আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমি একে (কুরআন মাজিদকে) অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে (সম্মানিত রাতে)। লাইলাতুল কদরের ব্যাপারে আপনি কি জানেন? লাইলাতুল কদর (সম্মানিত রাতটি) এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা আল ক্বাদর, আয়াত: ১-৩] . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪] . #Nusus
1 090
16
. (৫) সহজ ৩টি যিকর ও তাসবিহ পাঠ করা: . রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস! আমি কি জান্নাতের এক রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না?” আমি বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, “তুমি বলো— . لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ . (লা ‘হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ) . অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।’’ [ইমাম বুখারি আস-সহিহ: ৬৩৮৪] . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো— . سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ . (সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি সুব‘হা-নাল্লা-হিল ‘আযি-ম) . অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, প্রশংসা কেবল তাঁরই; মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৬৮২] . জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; হাদিসটি হাসান] . (৬) জীবিত ও মৃত সকল মুমিনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভালো দু‘আ করা: . ইবরাহিম (আ.)-এর দু‘আটি পড়তে পারেন— . ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏُ . অর্থ: হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল ঈমানদারকে আপনি সেদিন ক্ষমা করে দিয়েন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে। [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১] . হাদিসে এসেছে, কেউ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করলে, ফেরেশতারা বলেন, ‘‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক!’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৮২০] . (৭) বিশেষ একটি দু‘আ বেশি বেশি পড়া: . আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তখন ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো— . اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ . [আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘অ্ফু ‘আন্নি] . অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ] . (৮) সাধ্যানুসারে কিছু দান-সাদাকাহ করা: . নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সাদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকদের মাঝে ফয়সালা সমাপ্ত না হবে।” [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৭৩৩৩; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ৮৭২; হাদিসটি সহিহ] . যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই সাদাকাহ করুন। এটাই উত্তম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৩ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩] . যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা গরিবদের দিয়ে দিন। আশা করা যায়, নিয়তের বদৌলতে কদরের প্রতিদান পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। . উল্লেখ্য, হায়েযা অবস্থায় নারীদের কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নেই। এমনকি মুখস্থ পড়াও জায়েয নেই। এটি অধিকাংশ ফকিহের মত। #Nusus
1 085
17
পিরিয়ডে (হায়েজ অবস্থায়) থাকা নারীরা রামাদানের শেষ দশকে এবং লাইলাতুল কদর তালাশে যেসব আমল করতে পারেন: (এই আমলগুলো যে কেউ করতে পারেন) ▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬ (১) দু‘আ করা: . পিরিয়ডকালে দু‘আ করতে কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং, উত্তম হবে—অজু করে লাইলাতুল কদরের মহান রজনীতে আন্তরিকভাবে দু‘আয় মনোনিবেশ করা। এই রাতে দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দু‘আ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। হাদিসে এসেছে, ‘‘দু‘আ হলো ইবাদত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৭৯; হাদিসটি সহিহ] . আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’’ [সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০] . দু‘আর আদব ও নিয়মগুলো অনুসরণ করে দু‘আ করলেই যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। . (২) তাওবাহ-ইস্তিগফার পাঠ করা: . এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হলো, আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ ও ইস্তিগফার পড়া। ইস্তিগফারের যত বাক্য মুখস্থ আছে, সবই পড়তে পারেন। ইস্তিগফারের জন্য নিচের বাক্যটি খুব সহজ। . আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি— . أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتوبُ إِلَيْهِ [আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতু-বু ইলাইহি] . অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯২৮, হাদিসটি সহিহ] . পাশাপাশি আরেকটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়তে পারেন। . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি খুব বেশি পড়তেন— . سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ . [সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি, আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতু-বু ইলাইহি] . অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৭৫] . সম্ভব হলে সায়্যিদুল ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়া উচিত। হাদিসের ভাষায় এটি হলো শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬] . এর পাশাপাশি তাওবাহর শর্তগুলো পূরণ করে অবশ্যই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করা উচিত। তাওবাহর তিনটি শর্ত হলো: কৃত গুনাহ স্বীকার করে সেসব আগে ছেড়ে দেওয়া, নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া এবং ভবিষ্যতে এসব গুনাহ আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করা। [ইমাম নববি, রিয়াদুস সলিহিন] . (৩) নবিজির উপর দরুদ পাঠ করা: . নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০টি (মর্যাদার) স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ] . নামাজের শেষ বৈঠকে যে দরুদ (দরুদে ইবরাহিম) আমরা পড়ি, সেটি সর্বোত্তম। এটি অগ্রাধিকারযোগ্য। তবে, অন্যান্য দরুদও পড়া যাবে। . সহজ দরুদ হিসেবে এটি পড়া যায়। . اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ . [আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আ-লি মু‘হাম্মাদ] . অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন। . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা আমার প্রতি দরুদ পড়ো এবং সাধ্যানুযায়ী দু‘আ করো ও বলো (উপরের দরুদটি)।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯১; হাদিসটি সহিহ] . আবু বকর (রা.)-এর কন্যা আসমা (রা.) যে বাক্য দিয়ে রাসুলের উপর একই সাথে দরুদ ও সালাম পাঠ করতেন, সেটিও পড়া যেতে পারে। . صَلَّى اللّٰهُ عَلٰى رَسُوْلِهِ وَسَلَّمْ . (সল্লাল্লা-হু ‘আলা রাসু-লিহি ওয়া সাল্লাম) . অর্থ: আল্লাহ তাঁর রাসুলের উপর সালাত (দরুদ) ও সালাম বর্ষণ করুন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৮৯৪] . (৪) সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া। . রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানি (রা.)-কে বলেন— ◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে; ◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে; ◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে; ◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, তাহলে এত প্রতিদান পাবে, যার ফলে আসমান ও জমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
961
18
লাইলাতুল কদরে নামাজ পড়ার নিয়ম ▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬ লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪] . এই রাতের সর্বোত্তম আমল হবে লম্বা সময় ধরে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) ও অন্যান্য নফল নামাজে দণ্ডায়মান থাকা। নামাজে যথাসম্ভব লম্বা কিরাত পড়া উচিত। কিরাত (তিলাওয়াত) ও কিয়ামকে লম্বা করতে একই রাকাতে অনেকগুলো সুরা পড়তেও কোনো অসুবিধা নেই। ধরুন, কারো দশটি সুরা মুখস্থ আছে; তাহলে তিনি প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর পাঁচটি ও দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহার পর পাঁচটি সুরা পড়তে পারেন। কেউ প্রথম রাকাতে ৬টি সুরা, দ্বিতীয় রাকাতে ৪টি সুরাও পড়তে পারেন। . শুধু নিজেই নয়, পরিবারের লোকদেরও জাগিয়ে দেওয়া উচিত। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘যখন রামাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৪] . কদরের আমল শুরু হয় মাগরিবের ওয়াক্ত থেকে এবং চলে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সুতরাং, এই পুরো সময়টিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই সময়টুকুতে যথাসাধ্য আমলে লেগে থাকতে হবে। বিশেষ করে নফল নামাজে। . ‘‘শবে কদরের নামাজ’’ বলতে বিশেষ নিয়মের, বিশেষ সুরা দিয়ে কোনো নামাজ আদায়ের কথা হাদিসে বলা হয়নি। সুতরাং, কদর অন্বেষণে সাধারণভাবেই ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়া হবে। কদর তালাশে নফল পড়ছেন, এই ইচ্ছাটুকু মনে রেখে নামাজ পড়তে থাকবেন। তাহলেই হলো। মুখে কিছু বলার মাধ্যমে নিয়ত করতে হবে না। কারণ এমনটি কুরআন-হাদিসের কোথাও আসেনি। তাছাড়া, শেষ রাতে যথাসাধ্য ৮/১০ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে চেষ্টা করা উচিত। . মাগরিব থেকে ইশার মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজ পড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবিগণ এবং সালাফে সালিহিনের অভ্যাস ছিলো। সুতরাং, এ সময় নফল নামাজ পড়া উত্তম। . কদরের রাতে তাওবাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। সাধারণভাবে তাওবাহর উদ্দেশ্য অন্তরে জাগরূক রেখে নিয়ত করাই যথেষ্ট, মুখে কিছু বলতে হবে না। এরপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন, যেভাবে সাধারণ নফল পড়েন। নামাজ শেষে আন্তরিকতার সাথে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবেন। . আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যখন কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।” [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪০৮; হাদিসটি হাসান] . নামাজের পর দু‘আ করবেন আন্তরিকভাবে। তবে, নামাজের সিজদায় এবং সালাম ফেরানোর পূর্বে ইস্তিগফার করা ভালো। . আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা আল ক্বাদর, আয়াত: ০৩] . হিসাব করলে দেখা যায়, হাজার মাস = ৮৩ বছর প্রায়! সুতরাং, যে-রাতের মর্যাদা এত বেশি, সেটিকে খুঁজে পেতে রমাদানের শেষ দশটি রাতেই ইবাদতে লেগে থাকা উচিত। . #Tasbeeh
1 082
19
শবে কদর ও রামাদানের শেষ ১০টি রাত কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ? এই রাতগুলোকে আমাদের কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত? ▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬ রামাদানের শেষ দশটি রাতের কোনো একটি রাতে কদর সংঘটিত হয়। . ❑ শেষ দশকে নবিজির ব্যস্ততা: . আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমাদানের) শেষ দশকে (ইবাদতের জন্য) যে চেষ্টা-সাধনা করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ সচেষ্ট হতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮] . ❑ পরিবারকেও ইবাদতে শামিল রাখা: . আয়িশা (রা.) আরো বলেন, ‘যখন রামাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জাগতেন (ইবাদত করতেন) এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৪] . তাই, শেষ দশকে শুধু নিজে ইবাদতে মশগুল না হয়ে পরিবারের সদস্যদেরও শামিল রাখা উচিত। তাদেরকে জাগিয়ে দিলে, তারাও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং অন্যান্য ইবাদত করবেন। . ❑ ইতিকাফ: কদরের রাতপ্রাপ্তির মহাসুযোগ! . রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফের অন্যতম একটি কারণ হলো, লাইলাতুল কদর তালাশ করা। কারণ, যে ব্যক্তি রামাদানের শেষ দশটি দিন ও দশটি রাত উত্তমভাবে মসজিদের নির্জন পরিবেশে আল্লাহর ইবাদতে কাটাবে, সে ইনশাআল্লাহ্ সহজেই মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য হাসিল করে ধন্য হতে পারবে। . এই প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে— . রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি (রমাদানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করে এ মহান রাতটি খুঁজলাম, এরপর দ্বিতীয় ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। অতঃপর আমার কাছে (ফেরেশতা) আসলেন। আমাকে বলা হলো, এ রাতটি শেষ দশকে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই (শেষ দশকে) ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১] . আয়িশা (রা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত্যু দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর (ইন্তিকালের) পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৪] . যাদের পক্ষে সম্ভব, তাদের অবশ্যই ইতিকাফ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। কারণ ইতিকাফ করলে লাইলাতুল কদর নসিব হওয়ার প্রায় শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। আর, জীবনে যদি কদরের একটি রাতও সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এটি নিজের আমলনামার জন্য মহাসৌভাগ্যের সোপান হবে, ইনশাআল্লাহ। যারা ১০ দিনের সুন্নাত ইতিকাফ করতে পারবেন না, তারা শুধু রাতের বেলায় (মাগরিব থেকে ফজর) নফল ইতিকাফ করতে পারেন। . ❑ ভাগ্যরজনী: লাইলাতুল কদর . প্রতি কদরের রাতে আগামী এক বছরের যাবতীয় সিদ্ধান্ত হয়। তাই, এটিকে ‘ভাগ্যরজনী’ বলা হয়। যদিও সমাজে ভুল প্রচলন রয়েছে যে, শবে বরাত ভাগ্যরজনী। এটি সঠিক নয়। . আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘লাইলাতুল কদর (কদরের রাত) হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ এবং রুহ (জিবরাইল) তাঁদের রবের অনুমতিক্রমে সকল বিষয় (সিদ্ধান্ত) নিয়ে অবতরণ করেন। শান্তিময় সে রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৩-৫] . কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ্ বলেছেন, ‘‘এতে (এই রাতে) প্রত্যেক বিষয় স্থিরকৃত (সিদ্ধান্ত) হয়।’’ [সুরা দুখান, আয়াত: ০৪] . ❑ কদরের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া: . আনাস (রা.) বলেন, রামাদান শুরু হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘রামাদান মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ (রাত) থেকে বঞ্চিত হলো, সে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। শুধু বঞ্চিতরাই এর কল্যাণ হতে বঞ্চিত থাকে।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৬৪৪; হাদিসটি হাসান সহিহ] . মিনহাজুল কাসিদিন (১/৩৪৩) কিতাবে এসেছে, ‘মর্যাদাপূর্ণ দিন ও রাতগুলো থেকে উদাসীন থাকা উচিত নয়, কেননা ব্যবসায়ী যদি লাভের মৌসুমেই উদাসীন থাকে, তাহলে সে কখন লাভবান হবে?’ . #Tasbeeh
1 022
20
. لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ . (লা ‘হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ) . অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।’’ [ইমাম বুখারি আস-সহিহ: ৬৩৮৪] . [ঘ] ফজিলতপূর্ণ একটি বাক্য ১০০ বার পড়বো। . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো— . سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ . (সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি সুব‘হা-নাল্লা-হিল ‘আযি-ম) . অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, প্রশংসা কেবল তাঁরই; মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৬৮২] . [ঙ] আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যিকর: (১০০ বার) . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি— . سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ . (সুব‘হা-নাল্লাহিল আযি-মি ওয়া বি‘হামদিহি—অর্থ: মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত; প্রশংসা কেবল তাঁরই) পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৪৬৪; হাদিসটি সহিহ] . (৮) নবিজির উপর দরুদ পাঠ করা: . নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি (মর্যাদার) স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ] . সহজ দরুদ হিসেবে নিচের দরুদটি ১০০ বার পড়া যায়। দরুদে ইবরাহিমি বা নামাজের শেষ বৈঠকে পঠিত দরুদটি পড়তে পারলে আরও ভালো। কারণ এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ। . اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ . [আল্লা-হুম্মা সল্লি ‘আলা মু‘হাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আ-লি মু‘হাম্মাদ] . অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯১; হাদিসটি সহিহ] . ■ বেশি আমল করতে গিয়ে কোয়ালিটির প্রতি উদাসীন হওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছে আন্তরিকতাপূর্ণ আমলের মূল্য অনেক বেশি। . ■ উপরে উল্লিখিত আমলগুলোর মাঝে একটি বাদে কোনোটিকেই ‘‘শবে কদরের আমল’’ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়নি কুরআন-হাদিসে। বরং এগুলো সবসময়ের আমল। লাইলাতুল কদরের জন্য নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ বা ইবাদতের কথা সহিহ বর্ণনা থেকে জানা যায় না, কেবল আয়িশা (রা.)-কে শেখানো দু‘আটি ব্যতীত, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, সব ধরনের নেক আমলই সাধ্যানুযায়ী কদরের রাতে করা উচিত, যেহেতু রাতটি মর্যাদাপূর্ণ। . আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন। . #Nusus
892