Iftekhar Jamil
Ir al canal en Telegram
9 280
Suscriptores
-724 horas
-157 días
-4730 días
Archivo de publicaciones
9 280
রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক, দূরত্ব
কওমি/আলিয়া মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের অসহায়-নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন আমার কোন কালেই পছন্দ ছিল না। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকলে, নিজস্ব সিলেবাস-জীবনযাপন নিয়ে বাঁচতে চাইলে অর্থনৈতিক-রাষ্ট্রীয় কিছু জটিলতা আসবেই। মালয়েশিয়ান অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ মাদরাসার উস্তাজরা বিনাবেতনে শিক্ষকতা করেন, অধিকাংশ মসজিদে কোন স্থায়ী ইমাম নেই।
তবে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রচুর ধর্মীয় অধিদপ্তর আছে। প্রত্যেক রাজ্যে স্বতন্ত্র ইফতা বিভাগ আছে, ধর্মীয় বিভাগের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী পর্যন্ত আছে, ধর্মীয় আদালত আছে—এসব অধিদপ্তরে ধর্মীয় কর্মসংস্থানের পরিধিটা অনেক বড়। কাজেই, যারা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন, তারা যথেষ্ট ধনী। আমাদের কেন্দ্রীয় মসজিদের যিনি খতিব, তার দুই-তিনটি গাড়ি আছে—প্রতিটার দাম কোটি টাকার ওপরে। বলাইবাহুল্য, এদের সামাজিক প্রভাবও অনেক বেশী।
কাজেই, যারা কওমি/আলিয়া মাদরাসার লোকদের গরীব/অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে, তারা বোকা বা প্রতারক। আলিয়া মাদরাসা ইতিমধ্যে আংশিকভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অংশ নিয়েছে, শিক্ষকদের বেতন-সামাজিক মর্যাদাও কিন্তু কম নয়—তবে এসবের জন্য তাদেরকে ভারী মূল্যও দিতে হয়েছে? আপনারা কি এমন মূল্য দিতে প্রস্তুত? দুনিয়ার কোন কিছুই বিনামূল্যে অর্জন করতে পারবেন না।
আমার মতামত জিজ্ঞাসা করলে বলব, আমি হাইব্রিড ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, সকল মাদরাসায় সমানভাবে ইলমি সিলসিলার প্রতি মনোনিবেশ করা সম্ভব নয়। প্রতিবছর ত্রিশ হাজার নয়, সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ছাত্র ট্র্যাডিশনাল ডিগ্রির অনুমতি পেতে পারেন। বাকিদেরকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অংশ নিতে হবে। তারা সাধারণ চাকরিতে চলে যাবেন। ভালো জিনিস সংখ্যায় অধিক হয়ে গেলে তারও মূল্য কমে যায়। পাশাপাশি, এত বিপুল সংখ্যক ছেলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে যাবার ঝুঁকি নিতে পারে না।
ঝুঁকি নেবার পরিণাম হল, অনেকে মাদরাসার ছাত্রদেরকে অসহায়/নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তাদের সামাজিক অবস্থানে অবনতি ঘটছে। আলেমদের সামাজিক অবস্থানে অবনতি ঘটলে এর ক্ষতিটা সবাইকেই পোহাতে হবে। যে দেশে আলেমরা মর্যাদাহীন, সে দেশে সেকুলারিকরণ বৃদ্ধি পাবে—সেটা চোখ বন্ধ করে বলা যায়। আপনারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে যে অসম্ভব কুরবানি আঞ্জাম দিলেন, সেই কুরবানিটাই আপনার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াল।
ধরতে পারছেন?
9 280
নারীদের চাকরি
বাংলাদেশের অর্থনীতি-লাইফস্টাইল যে দিকে আগাচ্ছে, তাতে আগামী দশ-পনের বছরের মধ্যে শহরের নারীরা প্রায় সবাই চাকরিতে নামতে বাধ্য হবে। যাদের টাকা আছে, ঢাকায় প্রোপার্টি আছে, বা খুবই দ্বীনদার/অভিজাত—এমন পরিবারগুলো ছাড়া আর কেউই নারীদেরকে চাকরি না করার স্বাধীনতা দিতে পারবে না। আপনি ভালো লাইফস্টাইল চাইবেন, শহরেও থাকবেন, নারীদেরকেও হেফাজত করবেন, সব একসাথে পারবেন না।
দেখেন, পরিবেশ ঠিক থাকলে নারীদের চাকরি করা অবশ্যই জায়েজ। নারীরা কৃষিকাজে ছিল সুপ্রাচীনকাল থেকেই। মহিলা মাদরাসাগুলোতে বেতন যত কমই থাকুক, নারীশিক্ষিকারাই তো প্রতিষ্ঠানগুলো চালাচ্ছে, তাই না? তাহলে চাকরি জায়েজ কি জায়েজ না, সেটা প্রধান আলোচ্যবিষয় নয়।
আধুনিকতা নারীদেরকে চাকরি করতে বাধ্য করতেছে, সারাদিন ঘরের বাইরে থাকতে হচ্ছে, টাকা নেই বলে/টাকা জমিয়ে রেস্টুরেন্টে-কক্সবাজারে ঘুরতে যেতে হবে বলে লোকাল বাসে পুরুষদের বিশ্রি চোখ-স্পর্শ সহ্য করতে হচ্ছে—এগুলা কোন ধরণের স্বাধীনতা? পৃথিবীর ইতিহাসে নারীদেরকে কেউ এত কম টাকায় এত ব্যাপকভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পেরেছে? বিশেষত, গার্মেন্টসের মত কাজগুলাতে কারা নারীদেরকে পাঠায়—নারীরা কেন এই পরিমাণ কায়িকশ্রম করবে—কোন অভিজাত ব্যাটাছেলে মা-বোনকে গার্মেন্টসের মত কাজে পাঠাবে? টাকা-সম্মান তো দিবেন দুনিয়ার সবচেয়ে কম।
পাবলিক প্লেসে তর্ক করবেন, হুজুররা নারীদেরকে ঘরে আটকে রাখতে চায়। এসব তর্ক না থাকলে নারীদেরকে এত অল্প নিরাপত্তা-সম্মান-পারিশ্রমিক দিয়ে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পারতেন? মোটেই পারতেন না। লোভ দেখাবেন, স্বাধীনতা-এজেন্সি দিচ্ছেন—বাচ্চা মেয়েদের ইমোশন নিয়ে খেলবেন, বাস্তবে অল্পটাকায় শ্রম কিনে অর্থনৈতিক লুটপাট চালাবেন। মূদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করে, ফেইক মডার্ন লাইফস্টাইল ইমপোজ করে নারীদেরকে চাকরি করতে বাধ্য করবেন।
কি একটা অবস্থা!
9 280
এই কনফারেন্সে আমি একটা গবেষণা পেশ করবো। শিরোনাম:
'Grey Areas Between Orthodoxy and Disbelief: Legal and Parental Perspectives'
9 280
ধর্মহীন আধ্যাত্মিকতা
কিছু বামপন্থীদের ইদানীং রুহানিয়াত-আধ্যাত্মিকতা শব্দটা অনেক বেশী ব্যবহার করতে দেখি। এতে অবাক হবার কিছু নেই, নাস্তিককুল শিরোমণি স্যাম হ্যারিসও 'Waking Up: A Guide to Spirituality Without Religion' শিরোনামে একটা বই লেখেন। দেশি বাম/নাস্তিক/সেকুলারদেরকেও বৌদ্ধ দর্শন, লালন ও রবীন্দ্রনাথের গান শুনে আপ্লুত হতে দেখবেন। এগুলোর মূলকথা একই।
বামপন্থা/সেকুলারিজম অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। আপনার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটলো, আপনি মৃত্যুর মুখামুখি, গভীর রাতে ভেঙ্গে গেল ঘুম, আপনার মনে প্রশ্ন আসবে, 'why is there something rather than nothing?' ‘কেন আমার জীবনটা এত কষ্টে কাটবে, লাইফ কেন ফেয়ার হবে না?’ ধর্ম এসবের উত্তর দিতে পারে, ধর্মহীনতা এসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অক্ষম। এমন জটিলতায় আপনার এক রকমের ভাববাদ লাগবেই। বৌদ্ধ দর্শন, লালন বা রবীন্দ্রনাথ, সেকুলার সুফিবাদ বা ধ্যানে দেশি বাম/ নাস্তিকরা অর্থহীনতা ঘুচাতে চান।
পশ্চিমা বৌদ্ধ ধর্ম ও দেশি লালন চর্চায় আসলে বিশেষ পার্থক্য নেই। কষ্ট পেলে আপনার আশ্রয় দরকার, আপনি মাঝেমাঝে অর্থহীনতাতেও ভুগতে পারেন, এগুলো কিন্তু ইসলামও বলে। আপনার একজন আল্লাহ আছে, তিনি আপনার ডাকে সাড়া দেন, তিনি আপনার কেয়ার করেন। ‘হে নবী, আমার বান্দারা আপনার কাছে আমার কথা জিজ্ঞাসা করলে আপনি বলুন, আমি কাছেই আছি। আমাকে ডাকলে আমি সাড়া দেই। তাদের বলুন, তারা যেন আমার কথা মানে, আমার প্রতি ঈমান আনে। দেখবেন তারা ভালো থাকবে, সুপথে চলতে পারবে’।
ইসলাম আল্লাহর কাছে আশ্রয়ের কথা বলে, আপনার কষ্টে আপনি একা নন। আল্লাহ আপনার পাশেই আছেন। এটাই মোটাদাগে ভাববাদিতা, আপনি শতবার গুনাহ করেন, তাওবা ভঙ্গ করেন, তাওবার দরজা কিন্তু খোলা। তবে ইসলাম ঈমান ও আমলের শর্তও আরোপ করে। বৌদ্ধ ধর্ম বা লালনবাদে এসব শর্ত নেই। তারা ধর্মহীন ভাববাদিতা কায়েম করতে চান। আধুনিক মানুষের মনে অহংকার অনেক, সে কীভাবে অলৌকিক সত্ত্বার কাছে নতজানু হতে পারে, সে কীভাবে নিজের বুদ্ধি-প্রবৃত্তির শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার ছাড়তে পারে? চিন্তার শিরিকির চেয়ে বড় শিরিকি আর নাই।
তলিয়ে দেখলে বুঝবেন, ঈমান-আমল ছাড়া আধ্যাত্মিকতা হতেই পারে না। ঈমান ছাড়া মনে স্থিরতা আসে না। মুজাদ্দিদে আলফে সানি বলেন, আমল ছাড়া আধ্যাত্মিকতা করলে সেটা দর্শনে পরিণত হয়ে যায়। যদি দর্শনই করেন, তবে আধ্যাত্মিকতার কেন দরকার হবে? আল্লাহ আপনার পাশে আছেন, আপনাকে তিনি দেখে রাখছেন সবসময়। আপনাকে ছাড়তে হবে অহংকার, আল্লাহর কাছে করতে হবে আত্মসমর্পণ। গুনাহ করলে তওবা করবেন, বিপদে পড়লে আল্লাহর আশ্রয় চাইবেন, ধর্মহীন আধ্যাত্মবাদ আপনাকে আত্ম ও প্রবৃত্তি পূজা থেকে মুক্তি দিবে না।
ধর্মহীন আধ্যাত্মিকতা আপনাকে আরও বেশী অর্থহীন, আশ্রয়হীন করে তুলবে
9 280
তালিবদের সফলতার রহস্য
তালিবানদের সাংগঠনিক সফলতার একটা বড় কারণ তাদের ইলমি চর্চা। নতুনদের অবশ্যই মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করতে হয়। শিক্ষা চলতে থাকে, ক্রমশ নতুনরা প্রশিক্ষকে পরিণত হন। সিনিয়র সদস্যরা তরুণ প্রশিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ নেতাদের দরসে বসেন সিনিয়র নেতারা।
এভাবে ক্রমধারায় সবাই ইলমের সাথে সংযুক্ত থাকেন। কঠিন যুদ্ধের মধ্যেও তারা ইলমি চর্চায় অবহেলা করেন না। যারা মৌলিক শিক্ষাগ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাদেরকে সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। তালিবানদের সাংগঠনিক কাঠামো এভাবে উস্তাদ-শাগরিদদের মিথস্ক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। ছোটরা বড়দের সম্মান করেন, বড়রা ছোটদের দেখেন ছাত্র হিসেবে।
তালিবানদের সফলতা থেকে যদি শুধু একটি বার্তা নেওয়া যায়, তবে সেটি হল সবাইকে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। সাধারণরা তো আছেনই, বিশেষত যারা রাজনীতি ও প্রশাসনের সাথে যুক্ত হবেন, তাদেরকে অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে হবে, সবসময় কোন একভাবে ইলমের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। প্রত্যেককেই ইসলামি বিশ্বদৃষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে। ভুল করলে না হয় তাওবা করে নিলেন, ভুল যে করছেন, সেটা অন্তত জানা থাকুক, মনে আসুক অনুতাপ।
ইলম চর্চা শুধু জানার জন্য নয়, এটা এক বিশেষ লাইফস্টাইল। তৎকালীন তালিবান শীর্ষ নেতা ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সালাম জাইফ মন্ত্রীত্ব ছেড়ে মসজিদের ইমামতি-শিক্ষকতার জীবন বেছে নেন।
9 280
কাবুল বিজয়ের পাঁচ বছর
দুই হাজার এক ও তিন সালে আফগান ও ইরাকের পতনে অনেকের ঈমানে টান পড়েছিল। যদি আল্লাহ সর্বশক্তিমান হন, যদি ইসলামই হয় সত্য ধর্ম, তবে শুধু মুসলমানরাই কেন বিপর্যয়ের শিকার হবে—অনেকেই এমন কথা ভেবেছেন ও বলেছেন।
সর্বশেষ রোহিঙ্গা গণহত্যায় আমাদের দেশে ব্যাপক হতাশার জন্ম হয়। রাবেয়া স্কয়ারের কথা না বললেই নয়, দুই হাজার তেরো সালের চৌদ্দই আগস্ট মারা যান কয়েক হাজার মানুষ। আসমা বেলতাগির কথা হয়তো মনে আছে অনেকের, কিশোরী মেয়েটার হাসিমাখা মুখ—অনেকে প্রশ্ন করতে থাকেন, আল্লাহ কি এসব দেখেন না?
আফগান ও ইরাক যুদ্ধের সময় আমরা ছোট ছিলাম। মাত্রই পত্রিকার শিরোনাম পড়তে শিখেছি। বাবা ফজরের নামাজে কুনুতে নাজেলা পড়তেন। নিয়মিত। মাঝেমাঝে মুসুল্লিরা হাউমাউ করে কান্না করতো। আন্তর্জাতিক পাতায় দেখতাম শুধু নির্যাতন, মৃত্যু, ধ্বংসের খবর। আমরা বড় হয়েছি এসব পরাজয় দেখতে দেখতে। আমরা ভাবতাম, এগুলো কি আমাদের পাপের ফসল, অন্য জাতিগুলো তো আরও বেশী পাপে লিপ্ত, বিপদ কেন আসবে শুধু মুসলমানের মাথায়?
ইকবালের ভাষায়,
There are other communities too. There are sinners in them too/ There are weak, wretched ones. There are those intoxicated with the wine of pride.
Your mercies are on the houses of the Others/When lightning falls, then it's on the poor Muslims!
ইকবাল বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা দানের চেষ্টা করেছেন। আমি-আপনিও সে ব্যাখ্যাগুলো জানি। বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যাখ্যায় সবসময় মন ভরে না। মানুষ চোখে ও চেখে দেখতে আগ্রহী। আফগানিস্থানের বিজয় সাধারণ মুসলমানদের আত্মিক শান্তি দিতে পেরেছে, এটুকুই অনেক। আফগানিস্থান বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে অবস্থিত। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেক ভিন্ন। বাংলাদেশের মানুষ আসলে বিশেষ কিছু চায় না। তারা দেখতে চায় মুসলিম দেশগুলো ভালো থাকুক। আফগানিস্থানে বন্ধ হোক যুদ্ধ। বিরাজ করুক রাজনৈতিক সন্ধি, ঐক্যমত।
আগামীকাল সকালে বাবা শিশু সন্তান নিয়ে রাস্তায় বের হোক নিরাপদে, নারীরা হিজাবে শিক্ষা ও কাজে যোগ দিক, পশতুনরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোক তাজিকদের সাথে, আবার খুলুক মাদরাসাগুলো। বিকেলবেলায় নালার পাশে কিশোররা লেখুক কুরবানি, স্মৃতি, শোক ও প্রেমের কবিতা।
9 280
আধুনিকতার সমস্যা
আধুনিক শিক্ষা-সভ্যতার দুটো দুর্বলতম দিক আছে—আর্থসামাজিক বৈষম্য, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যদি উন্নয়নের গল্প এতটাই সত্য হয়, তবে সমাজে এত বৈষম্য কেন, পাশাপাশি প্রকৃতি মানুষের ভোগবিলাসের চাপ সহ্য করতে পারছে না। বাতাস-পানি-মাটির মত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক চিন্তা-দর্শনে এসবের সহজ কোন সমাধান নেই। কিছু বললেই তারা 'সাসটেইনেবিলিটি' তত্ত্ব ধরিয়ে দেয়, কিন্তু এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক-বিলাসিতার উপাদান। আর্থসামাজিক বৈষম্য আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভূত আধুনিক সমাজ-সভ্যতা-দর্শনকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সবাই শুধু দৌড়াচ্ছে, আপাতত সমাধান নাই কোথাও।
9 280
রাজনীতি ও শরীয়া
তখন মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায়। তারা কেন দ্রুত ‘ইসলাম কায়েম’ করে ফেলছে না, সে নিয়ে আমাদের মধ্যে উত্তেজনা। আমরা ভাবছিলাম, ‘ইসলাম কায়েম’ মানে ‘ইসলামি বিধিবিধান’ সব বাস্তবায়ন করতে হবে—যেমন তালিবরা করেছিল। আমি একটা আরবি রচনা লেখে ফেললাম। শিরোনাম দিলাম, ‘ইসলামি আইন’ ছাড়া ‘ইসলামি শাসন’ কীভাবে সম্ভব? আমাদের মরহুম এক শিক্ষক লেখাটা দেখে মুখটিপে হাসলেন, কিছুই বললেন না।
ব্রাদারহুড খুব বেশীদিন ক্ষমতায় থাকতে পারলো না। আমাদের প্রজন্মের সবাই একটা ধাক্কা খেলাম—কিশোর বয়সের কথা। আমার পড়াশোনা-জানাশোনার পরিধি খুবই সীমিত ছিল। আমি বিকল্প লেখকদের অনুসন্ধান করতে লাগলাম।
ইতিমধ্যে একটা তত্ত্ব আমার মনে ধরলো : আলহুররিয়াতু ওয়াশশারঈয়াতু কাবলাশ শারিয়াহ। যার মর্ম হল, রাজনৈতিক বৈধতা-স্বাধীনতার দিকটা শরীয়ার আনুষাঙ্গিক বিষয়ের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যদি দেশে অবৈধ শাসন চালু থাকে, সবাই রাষ্ট্রের কাছে পরাধীন থাকে, তবে শরীয়ার আনুষাঙ্গিক বিষয়দির কথা কল্পনাও করা যায় না। আপনার কাছে যদি সতর ঢাকার মত কাপড় না থাকে, তবে পাগড়ি বাঁধার কথা ভাববেন কীভাবে?
বাংলাদেশে যারা বিপ্লবের পরে ‘ইসলাম কায়েমের’ আলোচনা করছেন, তাদের সাথে কিশোরবেলার স্মৃতি শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। মনে রাখবেন, আনুষাঙ্গিক বিষয়/বিবাদের চেয়ে প্রতিবিপ্লব/জাতীয়তাবাদ ঠেকানোটা বেশী জরুরি।
(এখানে কিছু রেটোরিক ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্ণ রুপটা এমন হবে :
ضروريات الشريعة أهم من تحسينياتها وجزئياتها ، فإن حفظ النفوس والنظام من مهمات الشريعة، فالشريعة في 'الحرية والشرعية قبل الشريعة' يراد بها جزئياتها.
জরুরি বলেই রেটোরিক ইউজ করা হয়েছে)
9 280
যে কারণে কুরআন শরীফ বুঝা জরুরি
আমরা এখন প্রচুর বিদেশি কন্টেন্ট দেখি। বই পড়ি, ভিডিও দেখি। আমাদের রুচি-আকাঙ্খা-কল্পনা পাল্টে যাচ্ছে। কুরআন-হাদিসের সাথে সম্পর্কের মাধ্যমেই নিজেদের রুচি/ফিতরত খানিকটা ধরে রাখা সম্ভব। সবচে’ ভালো হয় যদি সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলা যায়, বুজুর্গদের সাথে সম্পর্ক রাখা যায়। কারণ তারা জীবন্ত কুরআন-হাদিস।
9 280
ইমাম ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম
ইমাম ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম ইসলামি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আলেম। কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ, কয়েক শব্দে সেটা ব্যাখ্যা যাক।
ক) তিনি একা ক্রুসেডার দখলদার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
খ) ক্রুসেডারদের সহযোগিতাকারী শাসকদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। গণবিপ্লবে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
গ) তিনি ছিলেন গরীব বংশের সন্তান, অনেক বড় হয়ে ধর্মীয় পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং সমকালীন সবচেয়ে বড় আলেমে পরিণত হয়েছেন। যারা গরীব বা বয়স্ক অবস্থায় জ্ঞানঅর্জন শুরু করেছেন, তারা তাঁর থেকে উৎসাহ পাবেন।
ঘ) রাজনীতি নিয়ে লেখেছেন। অনেক নীতিমালা ও সূত্র ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি যে সময়ের সন্তান ছিলেন, তখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। ফলে রাজনীতিমুক্ত আলেম হওয়া তাঁর জন্য সমীচীন ছিল না। যেমন এখন সমীচীন নয়।
ঙ) তাসাউফ ও মাকাসেদ নিয়ে লেখেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের দ্বীনদারিতায় ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে তাসাউফের কোন বিকল্প ছিল না। পাশাপাশি আলেম হিসেবে তাকে প্রায়োরিটি সেট করতে হচ্ছিল, মাকাসেদ তাকে এক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য করেছিল। ইমাম শাতেবি (রাহঃ) এর আগে মাকাসেদে শরিয়া বিষয়ে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
চ) দামেস্কের শাসকের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি মিসরে চলে যান এবং বিচারিক-ধর্মীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সেখানেও নানারকম অনিয়ম চলছিল। তিনি সমস্ত মন্ত্রী-সামন্তনেতাদের বিরুদ্ধে রায় দেন। মিসরের এলিট সমাজ এতে ক্ষেপে যায়।
শায়েখ সিদ্ধান্ত নেন তিনি মিসর থেকে চলে যাবেন। তাঁর সাথে আলেমরাও চলে যাচ্ছিলেন। তখন অভূতপূর্ব পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মিসরের ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় পুরুষ সমাজও বেরিয়ে আসে। ঘরে বসে থাকেনি নারী-শিশুরাও। তারাও মিসর ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্তগ্রহণ করে। একপর্যায়ে বাদশা সব শর্ত মেনে নেন।
9 280
আড়িয়াল বিল
আড়িয়াল বিল আমার অন্যতম পছন্দের জায়গা। আমি এই এলাকায় অন্তত কয়েকশো বার গেছি বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না। ইদানীং বিলের মাঝ বরাবর নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিলের জীববৈচিত্র্যের ওপরে সড়কটার প্রভাব কেমন হবে, সেটা আসলেই দুশ্চিন্তার বিষয়। মরিচপট্টি থেকে ডুবলি, গালিমপুর থেকে জয়পাড়া, বারৈখালি থেকে হাশারা রোডের পর্যবেক্ষণ থেকে বুঝি, বিল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
তবে শুধু 'বয়ান' দিয়ে 'গ্রামীণ উন্নয়ন' থামানো যাবে না। আপনারা থাকবেন ঢাকায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উপভোগ করবেন, মাঝে মাঝে বিল দেখে শহরের ক্লেদ দূর করতে চাইবেন। গ্রামীণ জনপদকে কেন আপনাদের শহুরে জীবন ও দূষণের দায়ভার বহন করতে হবে? সরকার ঘোষণা করেছে, বিল এলাকায় নতুন করে বিশেষ কোন স্থাপনা বানানো যাবে না। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ আছে, সরকার সংরক্ষিত জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃতিও দিতে চাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাবে : গ্রামীণ মানুষরা কেন আপনাদের শহুরে 'আবদার' রক্ষা করবে?
পরিবেশ-নীতিবিদ্যায় এ এক সাংঘাতিক প্রশ্ন। ঠিক এ কারণেই পরিবেশ রক্ষাকে কেবল 'বৈজ্ঞানিক' দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাই যথেষ্ট নয়। নৈতিক-আর্থসামাজিক মূল্যায়ন-সমাধান পেশ করাও সমানভাবে জরুরী। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এক্ষেত্রে মোটামুটি ব্যর্থ।
9 280
আল জাজিরার আহমদ শারা’র দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সিরিয়ান রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলেছেন আমার প্রিয় সাংবাদিক আলী দফিরি।
9 280
ইসলামি আদালত চাই
আমাদের সমাজে যে নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি বিরাজমান, এর পেছনে আমাদের বিচারব্যবস্থার দায় মোটেই কম নয়। বিশেষত নিন্ম আদালতের বিচারকদের মধ্যে সদিচ্ছা-সক্ষমতার অভাবটা অত্যন্ত প্রকট। আমার ধারণা বিচারকদের অনেকেই আইন বুঝেন না—বিশেষত তাদের কয়জন আইনের ইতিহাস-দর্শন-ব্যাখ্যাতত্ত্ব বুঝেন, সে নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। পাশাপাশি, পেশাদারিত্বের অভাবটাও চোখে পড়ার মত—তাদের অনেকের আচরণ দেখলে মনে হবে তারা আইনের আওতায় পড়েন না। বিচারকের আসনে বসে যখন যেমন খুশি মন্তব্য করে বসেন, অথচ আচরণবিধি মেনে চলা সবার জন্যই অত্যন্ত জরুরী।
সর্বোপরি, ভুল রায় প্রদান করলে জবাবদিহিতার জায়গাটাও অত্যন্ত সীমিত। উকিলদের মধ্যে কয়জন দক্ষ-সৎ, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। জটিল মামলা সামলানোর জন্য যেমন দক্ষতা-কর্মনিষ্ঠা দরকার, সেগুলো অধিকাংশ আইনজীবীর মধ্যে পাবেন না। এই পেশায় জবান বলে কিছু আছে কিনা সে নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। যে যত ভালো ক্যানভাসার, সে তত ভালো উকিল। ব্যতিক্রম নেই সেটা বলবো না, তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের নিন্মআদালতের অবস্থা অত্যন্ত করুণ।
উচ্চআদালতের অবস্থা হয়ত ততটা খারাপ নয়, সেখানে যোগ্য উকিলের সংখ্যাও বেশী, তবে সেসব বড়লোকদের জন্য। গরীবকে তো নিন্মআদালতেই খাবি খেতে হয়, কোন ক্রিটিকাল কেইস না হলে গরীবরা সাধারণত উচ্চআদালতে যান না। আমরা এসবের সংস্কার চাই—ব্যাংকব্যবস্থার মত বিচার বিভাগেও আমরা ইসলামি বিকল্প চাই। সিভিল অপশন থাকুক, তবে পাশাপাশি আমরা ইসলামি কোর্ট-সালিশব্যবস্থা চাই। দেশে এমন বাজে বিচারব্যবস্থা টিকিয়ে রাখবেন, আর সমাজে নৈরাজ্য থাকবে না, সেটা তো হতে পারে না।
9 280
বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ‘মানবাধিকারের’ কথা বলে। অথচ আমরা সবাই জানি, শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক—মার্কিন বাণিজ্য আধিপত্য জারি রাখার চেষ্টা। যাতে পশ্চিমা মার্কেটে গ্লোবাল সাউথের কম দামি প্রোডাক্ট কম ঢুকতে পারে—কারণ প্রধানত এটাই। কাজেই, মানবাধিকার তথাকথিত নীরিহ ক্যাটাগরি নয়।
9 280
ধর্ম মানে কী—বিশ্বাস? বিশ্বাস ছাড়া তো মানুষ চলতে পারে না। সবারই কোন না কোন বিশ্বাস আছে। আইডিয়ালজি-মডেল-ফ্রেমওয়ার্ক বিশ্বাস ছাড়া চলতে পারে না। যদি তাই হয়, তাহলে তো কারো পক্ষেই রাজনীতি করা সম্ভব না। মুবাশার হাসানসহ বেশ কয়েকজন পশ্চিমা গবেষক বলেছেন, আওয়ামীলীগ জাতীয়তাবাদী-সেকুলার ধর্মে পরিণত হয়েছিল। কাজেই, একই যুক্তিতে কি লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে?
9 280
কুরআন সহিহ করুন
আমাদের সমাজে অনেকের কুরআন শরীফ পড়া শুদ্ধ নয়। এটা খুবই খারাপ কথা। ইরান-তুরান সবকিছু বুঝতে সময় দেন, আল্লাহর কুরআন পড়তে শিখবেন না, এটা কেমন কথা? আল্লাহর কালামের ক্ষমতা অনন্য, ‘আল্লাহর জিকিরেই মনে প্রশান্তি আসে।’
কুরআন তিলাওয়াত স্বতন্ত্র ইবাদত ও আমল। সুফিরা মুরিদদেরকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তিলাওয়াত করতে বলতেন, তাতে মানসিক স্থিরতা অর্জিত হত। যদি কখনো মন ভেঙ্গে যায়, সামনে শুধু অন্ধকার দেখেন, মনে করেন আপনার অন্তরে মরিচা পড়ে গেছে, তবে কুরআন পড়ুন ; পড়তে না পারলে তিলাওয়াত শুনুন। শান্তি পাবেন।
আল্লাহ আপনাকে পৃথিবীতে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। সেই দায়িত্বের বিবরণ দিয়েছেন কুরআনে পাকের মধ্যে। আপনি যদি মুসলমান হয়েও সেই কালাম পড়তে না শিখেন, বুঝতে না শিখেন তার মধ্যে কী আছে, তাহলে এটা কি দুর্ভাগ্য নয়?
* এখন অনলাইনেও অনেকে কুরআন ও কুরআনিক আরবি শিক্ষা দেন। একটু খোঁজ নিলেই কাউকে পেয়ে যাবেন।
9 280
আশরাফ আলী থানবি : ব্যক্তি ও প্রভাব
গতপরশু ছিল আশরাফ আলী থানবির তিরাশিতম মৃত্যুবার্ষিকী। শাহ ওয়ালি উল্লাহ-এর পরে, গত দেড়শ বছরে, দক্ষিণ এশিয়ায় আশরাফ আলী থানবিই ছিলেন হয়তো সবচেয়ে বড় আলেম। প্রভাব ও উৎপাদনে তার ধারেকাছেও সহজে কেউ যেতে পারবে না। একটা ছোট দৃষ্টান্ত দিলে বিষয়টা আরও ভালোভাবে ধরতে পারবেন, তকি উসমানীর প্রসিদ্ধি-প্রভাব এখন দুনিয়াব্যাপী। তবে তার লেখাজোখা একটু গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়লে মনে হবে, তিনি মূলত থানবির বক্তব্য-ব্যাখ্যা সহজভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তকি উসমানী নিজেও এই বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় স্বীকার করেছেন।
তাসাউফ সংকলন-পরিমার্জনে থানবির ভূমিকার কোন তুলনা হতে পারে না। জালালুদ্দিন রুমির ওপর তিনি প্রায় সাত আট হাজার পৃষ্ঠার বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখেছেন। আল্লামা ইকবাল এক চিঠিতে লেখেন, রুমির বিষয়ে আশরাফ আলী থানবিই সবচেয়ে বড় জীবন্ত অথরিটি । থানবি কুরআন-হাদিসের আলোকে তাসাউফকে উপস্থাপন করেছেন। একজন সূফী সাধক কীভাবে মুরিদদের সংশোধন করেন, তার নমুনা মিলবে তরবিয়াতুল সালিকিনে। আমি জুনায়েদ বাবুনগরির কাছে কিতাব পড়ার বিষয়ে পরামর্শ চাইলে তিনি আত তাকাসশুফ ও আত তাশাররুফ পড়ার কথা বলেন। বস্তুত এই দুই কিতাবে তাসাউফের সারকথা চলে এসেছে।
কুরআন বিষয়েও থানবির বিশেষ আগ্রহ ছিল। গত শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাফসীরের একটি বয়ানুল কুরআন। দেওবন্দি ধারায় লিখিত পরবর্তী তাফসীরগুলো মূলত বয়ানুল কুরআনের ছায়া অনুবাদ। উলুমুল কুরআন ও তাজবিদ বিষয়েও তার বেশকিছু কিতাব আছে। ফার্সি ও উর্দুতে রচিত পূর্ববর্তী অনুবাদে কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে, সে বিষয়ে তিনি বেশকিছু রিভিউও লেখেন। থানবি ইলমে কেরাআতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এখন রুকইয়া-চিকিৎসার বহুল প্রচলন ঘটেছে, থানবি কুরআনি চিকিৎসা নামে আমালিয়াত বিষয়ে একটা নতিদীর্ঘ বই লেখেন।
ইলমে কালামে থানবির অবদান কোন অংশে কম নয়। আল ইনতিবাহাতুল মুফিদা গতশতকের আলোচিত কালামি কিতাবের একটি। ইউটিউবে সার্চ করলে অনেক আরব শায়েখের দরস পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি সমকালে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোও তিনি উত্তর দানের চেষ্টা করেছেন, একাধিক সংকলন বের হয়েছে। যুক্তির আলোকে ধর্মীয় বিধিবিধান তুলে ধরেছেন। ফিকাহে তার দক্ষতা ও প্রভাব তুলনাহীন। উসুলে ফিকাহ ও ইফতা বিষয়ক লেখাজোখা এখন সংকলিত হয়েছে, ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে ছয় খণ্ডে। ই’লাউস সুনান ও আহকামুল কুরআন রচিত হয়েছে তার নির্দেশনায়।
আশরাফ আলী থানবির সবচেয়ে বড় অবদান হয়তো রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বে (Political theology)। পাকিস্তান তত্ত্বের রাজনৈতিক পরিগঠন হয়েছে ইকবাল-জিন্নাহের হাত ধরে, ফিকহি কাঠামো দান করেছেন আশরাফ আলী থানবি। শুধু তাই নয়, আলেম সমাজের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন হবে, তারা কতটুকু স্বতন্ত্র থাকবেন, কতটুকু সম্পর্ক রাখবেন, এই বিষয়েও থানবি বিশদ ব্যাখ্যা দান করেছেন। এভাবে রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বেও তার ভূমিকা অপরিসীম। যদি এক কথায় বলতে চাই, তাহলে বলতে হবে উপমহাদেশে ‘ট্র্যাডিশন’ এর বর্তমান কল্পনা ও কাঠামো অনেকটাই থানবির তৈরি।
তবে আপনারা যারা সালাফ-আকাবিরদের লেখা পড়ে অভ্যস্ত নন, তারা আশরাফ আলী থানবি থেকে উপকৃত হতে পারবেন না। একই কথা তকি উসমানী লেখলে ধরতে পারবেন, থানবি লেখলে বুঝতে কষ্ট হবে। কেননা থানবি আধুনিক রুচি-ভাষা-রচনাশৈলী অনুসরণ করেননি। প্রি-মডার্ন যুগের লেখালেখি হজম করা একটু কঠিন। খোদ আবুল হাসান আলী নদবীর মতো ব্যক্তিত্বকেও এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। যুবক বয়সে তিনি সাধারণত আরব ও পশ্চিমা ধারার লেখা পড়ে অভ্যস্ত ছিলেন। ইতিহাস, দর্শন ও সমাজতত্ত্ব তাঁকে টানত বেশী। তিনি মুজাদ্দিদে আলফে সানির রাসায়েল পড়তে আগ্রহ বোধ করতেন না। বড় ভাইয়ের অব্যাহত চাপে তিনি একসময় রাসায়েল পড়েন, তার সামনে একটি নতুন জগত খুলে যায়।
সালাফ-আকাবিরদের লেখায় অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে, এতে দোষের কিছু নেই। যত্ন ও চেষ্টা ছাড়া কোনকিছুই সম্ভব নয়।
9 280
ব্লু মসজিদ, সেলাঙ্গর রাজ্যের প্রধান মসজিদ। মসজিদের পাশেই বহুতল বিশিষ্ট শরিয়া আদালত ও ইফতা বিভাগ অবস্থিত।
