Iftekhar Jamil
Ir al canal en Telegram
9 343
Suscriptores
+224 horas
-237 días
+130 días
Archivo de publicaciones
9 343
হামযা বকরির তিন ঘন্টার পডকাস্ট। চমৎকার আলোচনা। বাংলাদেশের ওলামাদেরকেও যদি এত দীর্ঘ পডকাস্টে আনা যেত, তাদের কথা শোনা যেত—তাহলে কত গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ হত। কমেন্টে লিংকটা দিয়ে দিলাম—সোহবত কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, হামযা বকরি সে গল্পগুলো শেয়ার করেছেন পডকাস্টের শুরুতে।
9 343
জন্মহার বৃদ্ধি নিয়ে রাজনীতি
বাংলাদেশে নারীদের জন্মহার খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে লিবারেল পাড়ায় মাতম চলছে। প্রথম আলো-ডেইলিস্টার ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমের দৈনিক ওয়াদা এর বিরুদ্ধে কাউন্টার দিয়েছে। শফিক সাহেব প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণের বিরোধী। বাংলাদেশে এই প্রথম হয়তোবা প্রথমা গ্রুপের বিপরীতে মধ্য ডানপন্থী বিকল্প মিডিয়া আসতে যাচ্ছে। অনেকে হয়ত বলতে পারেন, প্রথম আলোর লেখার সাথে তো অধিকাংশ মানুষ একমত নয়। বাস্তবতা হল, বাংলাদেশে যারা পাওয়ার ডিল করে, তারা প্রথম আলো পড়ে— প্রথম আলো নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পলিসি-এক্সপার্ট ভয়েজ তৈরি করতে পারে। ইন্টিরিমের কথা মনে আছে? অধিকাংশই ছিলেন খানিকটা প্রথম আলোর বলয়ভুক্ত বা তাদের গুডবুকের অন্তর্ভুক্ত। শফিকুল আলম কি বিকল্প ধারা তৈরি করতে পারবেন? পত্রিকার ট্যাগলাইনটা যথেষ্ট চমৎকার— On the right side of history
9 343
ধর্ম ব্যক্তিগত/প্রাইভেট বিষয়—এই ব্যাপারটি ইউরোপিয়ান প্রটেস্টান্টদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রটেস্টান্টদের আগে কেউ এভাবে কল্পনাও করেনি।
এই বক্তব্যে দুর্বলতা অনেক।
ক) ধর্ম ক্যাটাগরির বাইরেও তো বিশ্বাস-মতাদর্শের অস্তিত্ব আছে। সেগুলোকে কীভাবে বাদ দিবেন? মার্কসবাদের কথাই ধরেন, এ তো পুরদস্তুর মতাদর্শিক-বিশ্বাসকেন্দ্রিক বিষয়। মার্কসবাদে পরকালে বিশ্বাসের কথা নেই, তবে পরকালে অবিশ্বাস/গুরুত্বহীনতার কথা তো আছে—মার্কস যে ভেবেছিলেন, আপনারা পরকালে বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রধানত পার্থিব যাতনা ভুলে থাকতে চান?
বিশ্বাস মানবজীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিষয়, সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়। বিশ্বাস করেন-স্বপ্ন দেখেন বলেই তো বাংলাদেশে জুলাইয়ের মত বিপ্লব ঘটে। একইভাবে মিছিলকারীদের প্রাণের দাম নেই বিশ্বাস করেন বলেই তাদেরকে হত্যা করার আদেশ দেওয়া যায়। সর্বোপরি, মানুষ তো যন্ত্র নয়, বিশ্বাস-মতাদর্শের ইউটোপিয়া থেকে মানুষকে কীভাবে মুক্ত করবেন? কগনিশনকে; চেতনাকে; মাথার ভেতরে বসে থাকা নিউরন দিয়ে গঠিত 'ব্যাঙটা'কে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? মানুষ যে হঠাৎ হঠাৎ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে পাগল হয়ে যায়, ব্রেইনস্ট্রোকে মুহূর্তেই শরীর অবশ হয়ে যায়, ধর্ষকের শরীরে ভর করে জান্তব আবেগ—অথচ আপনারা বাচ্চাদের মত ভাবেন 'বিশ্বাস'কে প্রাইভেট বানিয়ে ফেলবেন।
খ) এখানে প্রাইভেট-পাবলিক বর্গটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে বেতন দিতে চান না। যেহেতু আপনারা মসজিদকে কল্পনা করেন প্রাইভেট প্রোপার্টি আকারে। কিন্তু শিল্পকলা পাবলিক বিষয়, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের গান শেখানো লাগবে, আর্ট শেখানো লাগবে—এ নিয়ে আপনারা খুবই আগ্রহী। কারণ আর্ট-গান তো পাবলিক বিষয়। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানে অপরিসীম গুরুত্ব দেওয়া হয়, অথচ বাস্তবে 'বিজ্ঞান' করেন কেবল অল্পকিছু মানুষ। তাহলে সবাই কেন বিজ্ঞান পড়বে? কারণ বিজ্ঞান পাবলিক বিষয়।
বাচ্চারা বিজ্ঞানকে কেবল 'টেকনিক' হিসেবে শেখে না। তারা বিজ্ঞানের ভিত্তিতে 'রিয়ালিটি'কে কল্পনা করে। বাচ্চাদের কাছে বিজ্ঞান ওয়ার্ল্ডভিউ-ম্যাটাফিজিক্স-এথিক্স-এপিস্টিমলজির গুরুত্ব বহন করে। বিজ্ঞানে মুগ্ধ বালক-কিশোরদের সামনে অলৌকিকতা-ম্যাজিকের সৌন্দর্য কমে যায়। তারা বিশ্বাস করতে ভয় পায়, তারা বাহ্যিক 'রিয়ালিটি'তে ঘুরপাক খেতে থাকে। প্রাইভেট-পাবলিক বিতর্ক শেষ পর্যন্ত 'রিয়ালিটি-ওয়ার্ল্ডভিউয়ে' এসে থামে, বালক-কিশোররা আর 'বিজ্ঞান' করতে পারে না। বিশ্বাস-কল্পনা-স্বপ্ন ছাড়া আপনারা কীভাবে চাক্ষুষ রিয়ালিটিকে অতিক্রম করবেন।
গ) যদি বিশ্বাসই না থাকে, কীভাবে ইলহাম-কারামত-ওয়াসওসাকে ধরবেন—এগুলো তো বারবার আপনার মনে আসতেই থাকবে। আপনি চিন্তা করেন বটে, তবে মালমশলাগুলো কেউ একজন পাঠিয়ে দেয়। কে পাঠায়? আপনার হাত লেখার কাজ করে না, লেখে আপনার মাথার ভেতরের কেউ একজন। মাথার ভেতরে নিউরন দিয়ে তৈরি চেতনার ব্যাঙকে কীভাবে জব্দ করবেন? আপনি যদি কারাগারে যান, তবে প্রধানত চারদেয়ালগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না। কারাগার মোটামুটি বিশাল জায়গা, অনেকেই এর চেয়ে ছোট জায়গায় দিনের পর দিন কাটিয়ে দেন।
মূলত ক্লান্তি ঢুকে যায় মাথার ভেতরে, দেয়াল ওঠে মগজের খাপে খাপে। দুঃখ পেলে মানুষ খালি ঘুমাতে চায়, পালাতে চায় মাথার ভেতরে বসে থাকা ব্যাঙ থেকে—কারাগারের বাসিন্দারা নিয়মিত একটা স্বপ্ন দেখেন—তাদেরকে কেউ ধরতে আসছে। মানুষের সাথে কথা বললে আপনি মাঝে মাঝে হেসে দিবেন, তারা যে কি রকম অদ্ভুত কল্পনা-ভয়-অভিমান নিয়ে বসবাস করেন। অবশ্য আপনি হাসবেন না—কারণ আপনি জানেন, নিউরন অদ্ভুত রকমের আচরণ করতে পারে, কখনো পাগলামি, কখনো পাশবিকতা, কখনোবা পবিত্রতা।
When the game is being played, it feels like it will never end, like you will be in active combat with your brain for what remains of your wretched life.
আপনি কীভাবে বিশ্বাসের মত মৌলিক বিষয়কে অস্বীকার করবেন, 'ব্যক্তিগত' বলে কল্পনা করবেন?
9 343
‘জঙ্গিবাদ’ ও 'হোমগ্রৌন মিলিটেন্সি'
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই 'হোমগ্রৌন মিলিটেন্সি'র কিছু ইস্যু আছে। দুই হাজার একুশ সালে ট্রাম্প সমর্থকরা কীভাবে মার্কিন সংসদে হামলে পড়েছিল, সেটা নিশ্চয় ভুলে যাননি। সর্বোপরি, আমেরিকায় কেকেকের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। আপনাদের মনে থাকার কথা, মাসদুয়েক আগে আমেরিকান এক মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, দেশটির পুলিশ একে 'জঙ্গি বা সন্ত্রাসী' হামলা বলে চিহ্নিত করেনি। কারণটা খুবই স্পষ্ট— পশ্চিমা সংস্কৃতিতে 'হোমগ্রৌন মিলিটেন্সি'কে 'জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদ' বলা হয় না। অনেক দেশেই অধিক 'টেস্টোস্টেরনসম্পন্ন' কিছু যুবক দল থাকে, তারা নানারকমের ঝামেলা পাকায়।
পার্বত্য অঞ্চলে তো অনেকদিন ধরেই এসব ঝামেলা চলছে। আমি মোটেই এসব ঘটনাকে গুরুত্বহীন বলছি না, তবে নিছক 'সামরিক কায়দায়' এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। আর্থসামাজিক জটিলতাগুলো খতিয়ে দেখতে হবে, অপরাধ করলে শক্ত শাস্তি দিতে হবে, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। 'হোমগ্রৌন মিলিটেন্ট'রা আপনার দেশের সন্তান, এদের শাস্তি-বিচার-পুনর্বাসনের কাজটা করতে হবে সেভাবেই। বাংলাদেশের তথাকথিত 'জঙ্গিবাদ' বিশেষজ্ঞরা 'হোমগ্রৌন মিলিটেন্সি'কে জঙ্গিবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলে দেশের ক্ষতি করছেন, লোকাল সমস্যাকে আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত করছেন।
9 343
আল মাহমুদ নিয়ে কিছু কথা
আল মাহমুদ ভনিতা করতে পছন্দ করতেন না। আল মাহমুদের মতে প্রচলিত কোন মতাদর্শ-সমাজতত্ত্বই জীবন-জগতের প্রকৃত ব্যাখ্যা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছে না—যদি সক্ষম হত, তবে পৃথিবীতে এত বেশী বঞ্চনা-অত্যাচার ছড়িয়ে পড়তো না। আল মাহমুদ মনে করতেন, ইসলামের মাধ্যমেই মানুষের চিরন্তন মুক্তি সম্ভব। সমকালীনদের মধ্যে অনেকেই এমন ধারণা পোষণ করতেন—মান্নান সৈয়দ-আল মুজাহেদীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে আল মাহমুদ ছাড়া কারো পক্ষেই এসব বিশ্বাস অকপটে বলা সম্ভব ছিল না। আল মাহমুদ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কারেক্টনেসকে ভয় করতেন না।
অবশ্য আল মাহমুদ প্রচলিত ধর্মীয় ধারার কবিতা লেখেননি। ফররুখ আহমদ-সৈয়দ আলী আহসান-মান্নান সৈয়দের পথে হাটেননি আল মাহমুদ। বাংলা ভাষায় উর্দু/ফার্সি সাহিত্যের অনুকরণে রচিত শিল্পকর্মগুলো কিছু বিশেষ কারণে প্রভাব সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে—এগুলো মোটেই সাহিত্যিক/সাহিত্যকর্মের ব্যর্থতা নয়, আমরা এখন আর ইন্দো-পারসিয়ান ভাবালোকে বসবাস করি না, কাজেই ফররুখের কবিতার সাথে কানেক্ট করা আমাদের জন্য মোটেই সহজ নয়। এসব কারণেই সৈয়দ আলী আহসান পুথিসাহিত্যের আদলে রচিত শিল্পকর্মকে পরবর্তীতে এড়িয়ে যেতে চাইতেন।
আল মাহমুদ মান্নান সৈয়দের মত সরাসরি ধর্মীয় উপাদানকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনা করতে চাননি। শিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক অবলোকনকে অনেকক্ষেত্রেই ধর্মীয় উপাদানের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, আল মাহমুদ কবিতাকে দার্শনিক চর্চার ‘টুল’ বানাতে নারাজ ছিলেন। বস্তুত কবিতাকে নিছক ‘টুল’ হিসেবে দেখার বিপদটাও কম নয়। শিল্পের জন্য শিল্প যেমন কবিতার মর্যাদাহ্রাস করতে পারে, একইভাবে কবিতাকে ‘টুল’ হিসেবে দেখলে কবির পক্ষে ভনিতাহীন একান্ত ভাবালোককে প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। আল মাহমুদ ধর্মকে দেখেছেন কবির একান্ত ব্যক্তিগত বোঝাপড়া হিসেবে—তিনি ‘ইন্দো-পারসিয়ান’ সংস্কৃতির পুনরুত্থান বা ধর্মের দার্শনিক বাছবিচারের প্রলোভনে বিভ্রান্ত হননি।
আল মাহমুদের সবচেয়ে বড় দুই দুর্বলতার বিষয় ছিল জীবিকা ও নারীর প্রসঙ্গ। তিনি বৈষয়িক বিচারে সতর্ক ছিলেন—আর দশজন কবির মত তিনি জীবন-জগতকে অর্থহীন মনে করতেন না। আমাদের অধিকাংশ সাহিত্যিক জীবিকার প্রতি নেতিবাদি দৃষ্টিভঙ্গি লালন করলেও আল মাহমুদ ছিলেন অত্যন্ত ইতিবাচক চিন্তার মানুষ—ঠিক এ কারণেই তিনি প্রচুর ফরমায়েশি কাজ করেছেন, যেগুলো শৈল্পিক বিচারে সবসময় উত্তীর্ণ ছিল, সেটা বলা যাবে না।
নারীরা ছিল আল মাহমুদের কবিতার নিয়মিত উপাদান—অবশ্য নারীকে সর্বক্ষেত্রে আক্ষরিকভাবে দেখলে ভুল করবেন। আল মাহমুদের কাছে নারীর মানে জগতের সৌন্দর্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা, জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ। সরাসরি অনুকরণ না করলেও আল মাহমুদের কবিতায় ইন্দো-পারসিয়ান সংস্কৃতির ‘প্রেম-প্রেমিকা-যৌনতার’ রুপক উপস্থিত ছিল জোরালোভাবেই—অবশ্য ভাষা-ভাব-প্রসঙ্গটা ছিল আল মাহমুদের একান্ত নিজস্ব।
আল মাহমুদ কীভাবে নিজস্ব ভাষা-কল্পনা-শব্দ আবিষ্কার করলেন, সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আল মাহমুদ ভনিতা করতে পছন্দ করতেন না, এখানেই তার সমস্ত শক্তি ও দুর্বলতা নিহিত।
#আল_মাহমুদ
9 343
জেনারেল শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে থানবি রাহিমাহুল্লাহুর পরামর্শ
১) প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন। ২) আলেমদের সাথে সম্পর্ক, সোহবত। ৩) বিজাতীয়দের বইপত্র থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকা।
থানবি বলেন, অনেকে জেনারেল শিক্ষাকে হারাম বলতে চান। আমার কর্মপদ্ধতি খানিকটা ভিন্ন। সমাজে যদি কোনকিছু প্রচলিত হয়ে যায়, লোকজন কোন কাজ করতে শুরু করে, তখন সেই কাজকে কীভাবে কম ক্ষতিকর-বেশি উপকারী-উপযোগী বানানো যায়, সেটাই আমার কর্মপন্থা। অন্যথায় সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক-বিবাদ সৃষ্টি হয়, যা আমার মোটেই পছন্দ নয়।
9 343
পূর্বসূরিদের অনুসরণ
পূর্বসূরিদের অনুসরণ কোনভাবেই দূষণীয় নয়, বরং অত্যন্ত প্রশংসনীয় বিষয়। সূরা ফাতিহার মধ্যে আল্লাহ তাআলা সিরাতে মুসতাকিমের ব্যাখ্যায় পূর্বসূরিদের অনুসরণের গুরুত্ব আরোপ করেন। এটাই ইসলামের সনদ-সিলসিলার মূলকথা : ইলম সিনা বসিনা প্রবাহিত হয়, ব্যক্তিগত-বিচ্ছিন্ন চর্চা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দিত কাজ।
শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি লেখেন, মাজহাব সৃষ্টি হয়েছে প্রধানত সাহাবিদের অনুসরণের প্রেক্ষিতে। আবু হানিফা কুফার সাহাবিদের অনুসরণ করেছেন, ইমাম মালিক প্রধানত মদিনার আলেমদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন, এভাবেই ভিন্ন ভিন্ন মাজহাবের জন্ম হয়েছে।
অনুসরণ মানে অন্ধত্ব নয় : তকি উসমানী হানাফি মাজহাবের প্রধান আলেম, তবে প্রয়োজন-প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে শাফেয়ি /মালেকি মাজহাবের মতামত গ্রহণ করেছেন। আমার মনে হয়, উপমহাদেশে তার মত এত ব্যাপকভাবে কেউই অন্য মাজহাবের মতামত গ্রহণ করেননি।
অর্থাৎ সালাফ-আকাবিরদের অনুসরণের মানে কোন নির্দিষ্ট মতামতের প্রতি অন্ধত্ব নয়। সালাফ-আকাবিররা যে প্রক্রিয়ায় চিন্তা করতেন, যে তরিকায় মতামত দিতেন, সেই প্রক্রিয়া-তরিকার আলোকে বর্তমানকে ব্যাখ্যা করাকেই মোটাদাগে অনুসরণ হিসেবে ধরা হয়। কোন বিষয়ে সাহাবি-কিবারে তাবেঈদের পক্ষ থেকে কোন মতামত পাওয়া গেলে আবু হানিফা সাধারণত নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেন না। প্রেক্ষাপট-প্রয়োজন পাল্টে গেলে মূলনীতির আলোকে ভিন্নমত গ্রহণ করতেন।
যারা এই ইলমি সিলসিলা-তরিকাকে অন্ধত্ব-পূজা-গোলামি হিসেবে ধরে নেয়, তারা হয়ত মূর্খ, বোকা বা প্রতারক।
9 343
পরিচিতদের ইনভাইট করুন
অনেকেই নিয়মিত চ্যানেলটা ফলো করছেন। পড়ছেন, মন্তব্য করছেন, শেয়ার করছেন। প্রয়োজনীয় মনে হলে পরিচিতদের কাছে চ্যানেলটা শেয়ার করতে পারেন। ফেসবুক আমাদের যে পরিমাণ সময় নষ্ট করে, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করে, অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন-বিনোদনে ডুবিয়ে রাখে, সে তুলনায় টেলিগ্রাম যথেষ্ট ভালো। আপনি লেখালেখি করলে টেলিগ্রামে শিফট হবার কথা চিন্তা করতে পারেন। যেসব চ্যানেল ফলো করেন, পরিচিতদের কাছে সেগুলোর কথা শেয়ার করতে পারেন, ইনভাইট করতে পারেন।
9 343
স্বপ্নটা যত্নে থাকুক
ইসলামপন্থীরা যে আবেগ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে, একটা পর্যায়ে সে আবেগটা ধরে রাখতে পারে না। নব্বই দশকের আগে পৃথিবীর প্রতিটা ইসলামি দলের প্রধান দাবী ছিল, আমরা পূর্ণ শরীয়া কায়েম করতে চাই। নব্বই দশক থেকে একে একে এখন প্রায় সকল ইসলামি দলের ম্যানিফেস্টো থেকে শরীয়ার দাবীটা হারিয়ে গেছে। মরক্কোর তাত্ত্বিক মুহাম্মদ জাবরুন লেখেছেন, এটা ইসলামি রাজনীতির অনিবার্য ফলাফল। দিনশেষে ইসলামি দলগুলো মুসলিম রাজনীতি-ইসলামি মূল্যবোধের ওপরেই জোর দেয়, পূর্ণ শরীয়ার দাবী থেকে সরে আসে—বাস্তবতা হল, মূল্যবোধ শরীয়ার মত সুনির্দিষ্ট নয়, মূল্যবোধকে খেয়াল-খুশীমতো সেট করা যায়, মিসইউজ করা যায়।
ওয়েল হাল্লাক লেখেন, আধুনিক রাষ্ট্র ইতিহাসের শেষ কথা নয়—কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা-অর্থনীতির বেলুন একদিন ফুটো হয়ে যাবে। আমরা আশা করি একটা সময় বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠবে। যেখানে সরকারি-বিরোধী দলের বাইনারি থাকবে না, নাগরিকরা নিজেরাই নিজেদেরকে পরিচালনা করবে—প্রতিটা শহর-গ্রাম নিজেদের সিস্টেম চালাবে। সবাই একই রাজনৈতিক সংগঠনে অংশ নিবে, নাগরিকমাত্রই দলের সদস্য—দলের ভেতরেই বিরোধিতার দরজা উন্মূক্ত থাকবে—ইয়েস, খে লাফত এভাবেই চলেছে।
তবে বর্তমানকে কি পরিত্যাগ করবেন, রাজনীতিতে অংশ নিবেন না? সেটাও সম্ভব নয়। মুফতি আমিনি বলতেন, ‘রাজনীতি ছাড়া মসজিদ-মাদরাসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।’ অর্থ্যাৎ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বলে কিছু হয় না । আপনি রাজনীতির খেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে রাজনীতি আপনাকে নিয়ে ফুটবলের মত খেলবে না—সেই নিশ্চয়তা আপনাকে কেউই দিবে না। পরীপূর্ণ সমাধান বলে কিছু নেই—পরীপূর্ণতা কেবল জান্নাতেই পাবেন। আপনাকে আপনার বর্তমানকেই ডিল করতে হবে।
শুধু খেয়াল রাখবেন, আপনার মনের স্বপ্নটা যেন বেঁচে থাকে, যত্নে থাকে
9 343
মুসলমানরা যেভাবে আকসা পুনরুদ্ধার করেছিল
ইমাম আবু হামেদ গাজালি মুসলিম বিশ্বের সামাজিক-রাজনৈতিক অধঃপতন দেখছিলেন সামনে থেকেই—তিনি থাকতেন খিলাফার রাজধানীতে, নিজ কানে শুনছিলেন ভেঙে পড়ার শব্দ। তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজেকে নতুন সময়ের জন্য প্রস্তুত করবেন, লিখবেন নতুন সময়ের পয়গাম।
গাজালি চলে যান অন্তরালে, তাদাব্বুর-তাজকিয়ার জগতে হারিয়ে যান। তিনি সারাদিন কাটাতেন বন্ধ এক রুমে, দরজা আটকে রাখতেন। মাঝে মাঝে বসতেন সুফিদের হালাকায়। তার সামনেই চলছিল ক্রুসেডার আনাগোনা, তিনি নিজেকে সবকিছু থেকে নিবৃত রাখেন।
এই তাদাব্বুর-তাজকিয়ার মধ্যেই গাজালি লেখেন ইসলামি ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব—ইহইয়াউ উলুমিদ দ্বীন। পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে যায় এই বইয়ের প্রভাব। আলেমরা হালাকাবদ্ধ হয়ে এই বই পড়তে থাকে, প্রায় চারশোর বেশী মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয় এই ধারায়।
একসময় নেতৃত্ব চলে আসে হাম্বলি আলেম ও সুফি আবদুল কাদের জিলানির হাতে। তৈরি হয় নতুন এক প্রজন্ম। নারীরাও পিছিয়ে থাকেনি—শামের মাদরাসাগুলোতে শিক্ষাগ্রহণ করে পাঁচশর অধিক নারী মুফতি। মাদরাসার ফারেগিনরা ছড়িয়ে যায় দেশে দেশে। তারা জনতার মধ্যে তৈরি করে আবেগ, প্রস্তুত করে শত শত বাহিনী। শাখাস্রোত মিলিত হয় মোহনায়, সালাহুদ্দিন আইয়ুবির হাতে চলে আসে নেতৃত্ব।
সালাহুদ্দিন আইয়ুবি আসমান থেকে নাজিল হননি, তিনি তিন-চার প্রজন্মের শিক্ষা-শুদ্ধি-তাজকিয়ার সন্তান। শুরুটা ইমাম গাজালির নির্জনবাস থেকে। এগারটা বছর তিনি ঘুরলেন পথে পথে, জনপদ থেকে দূরে রইলেন, লেখলেন নতুন সময়ের নতুন পয়গাম। বই থেকে হালাকা—হালাকা থেকে চারশো মাদরাসা—হাজার হাজার ফারেগিন। আবদুল কাদের জিলানির প্রদীপে আগুন দিলেন নতুন করে।
আগুন ছড়িয়ে গেল চারদিকে, ঝলসে গেল ক্রুসেডারদের চোখ
9 343
গাজালি ও ইবনে তাইমিয়া
একটু বিব্রতকর শোনালেও অনেক গবেষকের মতে গাজালির চেয়ে ইবনে তাইমিয়া দর্শন অনেক বেশি পড়েছেন। যদিও প্রথমজনের পরিচয় দার্শনিক হিসেবে, দ্বিতীয়জন পরিচিত দর্শন বিরোধী হিসেবে। তবু, কিছু ক্ষেত্রে গাজালি ইবনে তাইমিয়ার চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। এর কারণ ঠিক কী? গাজালি ইমাম জুয়াইনির মত বিখ্যাত শিক্ষক পেয়েছেন, পাশাপাশি নিজামুল মূলকের মত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও গ্রহণ করেছেন, সর্বোপরি তৎকালীন বিশ্বের সর্বোচ বিদ্যাপীঠ নিজামিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। একইসাথে ক্যারিয়ারের তুমুল জনপ্রিয়তার মধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সুফি জীবন গ্রহণ করেন, সফর ও আত্মসংশোধনে নিযুক্ত হন। এই দিকগুলো ইবনে তাইমিয়ার মধ্যে অনুপস্থিত। এগুলো অবশ্য তাকদিরের ফায়সালা—এফিলিয়েশনের কথা বিচার করলে ইবনে তাইমিয়া গাজালির মত এতটা সৌভাগ্যবান ছিলেন না।
গাজালির মধ্যে রাজনৈতিক ভেদজ্ঞান অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। তিনি যেমন সেলজুকদের সাথে সম্পর্ক রাখতেন, আব্বাসিদের সাথেও যোগাযোগ রাখতেন, পাশাপাশি এদের সবাইকে বর্জন করার ক্ষমতাও রাখতেন। গাজালি শিয়া-ফালাসিফাদের ভিত্তির ওপরে মারাত্মকভাবে আঘাত করতে সক্ষম হন, পাশাপাশি গুপ্ত হত্যার হুমকির মধ্যেই পাবলিক লাইফ ছেড়ে দেন। সফর ও মুজাহাদাকালীন সময়ে ক্রুসেড হামলার মধ্যেও নিজেকে শান্ত রাখেন, যুদ্ধের প্রতি কোন আগ্রহ দেখাননি। নিজের কাজটা করে গেছেন, তাসাউফ-উসুলে ফিকাহের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই রচনা করেন, পরিশুদ্ধ করেন নিজেকেও।
এই বিষয়গুলো কতটা তাৎপর্যপূর্ণ আপনারা সেটা ধরতেও পারবেন না : বাগদাদে থাকলে গাজালি নিশ্চিতভাবে গুপ্তহত্যার শিকার হতেন, আত্মসংশোধনের সফরে না বের হলে মাস্টারপিসগুলো লেখতে পারতেন না। সর্বোপরি ক্রুসেডাররা ত্রিশ-চল্লিশ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসলেও তিনি যুদ্ধ-রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাননি। লেখে গেছেন পরবর্তী যুগের ইশতিহার। গাজালির গাইডলাইন কেন্দ্র করে শত শত মাদরাসা গড়ে ওঠে, সেই মাদরাসার ছাত্ররাই ক্রুসেডারদেরকে ঠেকিয়ে দেয়।
অবশ্য, গাজালিও বাঁচতে পারেননি। অনেকের মতে তিনি নিজ মাতৃভূমিতে গুপ্তহত্যার শিকার হন, ইবনে তাইমিয়ার মত তার মৃত্যুটাও ঘটে অস্বাভাবিকভাবে।
9 343
ইবনে রুশদ
স্বাভাবিকভাবেই ইবনে তাইমিয়া ইবনে রুশদের সমালোচক ছিলেন। তবে তিনি ইবনে রুশদ সম্পর্কে এত বেশি আলোচনা করেছেন যে, বর্তমানে ইবনে রুশদের চিন্তাধারার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইবনে তাইমিয়ার লেখাজোখার মাধ্যমে নিরীক্ষা করা হয়। ইবনে রুশদ দর্শনের পাশাপাশি ফিকাহ নিয়েও আগ্রহী ছিলেন, বড় ফকিহ ছিলেন। ইউরোপে ইবনে রুশদকে কেন্দ্র করে বিশেষ স্টাডিসার্কেল তৈরি হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ধারা তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতে পোপ শঙ্কিত হয়ে ওঠেন, রুশদবাদীকে কাফের বলে ঘোষণা করেন। টমাস একুইনাসসহ বেশকিছু দার্শনিককে চিন্তাগতভাবে মুকাবিলার জন্য নিযুক্ত করেন— একুইনাস রুশদকে মোকাবিলা করেন মুতাজিলা-গাজালির চিন্তা দিয়ে। এভাবে, ইউরোপিয়ান মধ্যযুগ আবর্তিত হয় একজন মুসলিম ফকিহ ও দার্শনিকের চিন্তাকে কেন্দ্র করে, যদিও তৎকালীন ইউরোপিয়ান সমাজ ইবনে রুশদকে কতটুকু বুঝেছিল, সে নিয়ে ভালো প্রশ্ন আছে।
9 343
মানুষ স্বতন্ত্রতা হারাচ্ছে
অনলাইনে সবাইকে আপনার 'কাছাকাছি' বলে মনে হবে। সবাই একই রকমের কন্টেন্ট দেখে, একই রকমের ইস্যুতে উত্তেজিত হয়, একই রকমের ইতিহাসে অভ্যস্ত। অনেকে যেমন বলে, সবাই একেকটা ইকো চেম্বারে বন্দী, ভিন্ন গ্রুপের লোকজনের লেখাজোখা পড়ে না—এটা অর্ধ সত্য। আমি মাঝে মাঝে আমার পরিচিতজনদের জিজ্ঞাসা করি, তারা ইদানীং কোন কোন কন্টেন্ট দেখেছে, পড়েছে। দেখি সবাই কিছু কমন কন্টেন্টে অভ্যস্ত। এতে অসুবিধা কী?
আমরা যেমন ঐতিহাসিকভাবে দেখে এসেছি, প্রতিটা মানুষই স্বতন্ত্র, প্রত্যেকের নিজস্ব জগত-অভিজ্ঞতা আছে। এই ভেদাভেদগুলো এখন মুছে যাচ্ছে/কমে যাচ্ছে।
খুলনার লোকদের সাথে কক্সবাজারের লোকজনের কন্টেন্ট সেন্সে বড় রকমের কোন তফাত নেই, রুচি-কল্পনা যথেষ্ট কাছাকাছি। মানব জীবন পরিণত হচ্ছে ভীষণ রকমের যান্ত্রিক-জান্তব অভিজ্ঞতায়। বৈচিত্র্য-নিজস্বতা-স্বতন্ত্রতা নাই হয়ে যাচ্ছে। এআইয়ের প্রেক্ষিতে জটিলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু আমরা সবাই এখন এআইয়ের ভাষা-পরিভাষার সাথে পরিচিত। কাজেই, কেউ এআই দিয়ে কোন পোস্ট লেখলে পড়ার ইচ্ছাটাই চলে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা কি আসলে হবে? প্রোডাক্টিভিটির নাম করে এআই হয়ত মানব জীবনের সৃজনশীল অভিজ্ঞতা-নিজস্বতা-বৈচিত্র্যকে অনেকাংশে ধ্বংস করে ফেলবে।
পুনশ্চ—Martin Puchner খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করেন। তার যুক্তি-প্রতিযুক্তি নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করবো।
9 343
ইসলাম প্রচারে তরবারির প্রভাব
ইমাম গাজালি লেখেছেন, অধিকাংশ মানুষ 'তরবারির প্রভাবে' ইসলাম গ্রহণ করেন। এখানে তরবারির প্রভাব কথাটা রুপক—তরবারির প্রভাবের মানে রাজনৈতিক আধিপত্য। ইমাম গাজালি লেখেন, মুসলমানরা যুদ্ধে জয় লাভ করলে দলে দলে সেই এলাকার মানুষজন ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে। ইতিহাস সাক্ষী—যুদ্ধজয়ের প্রেক্ষিতে যে পরিমাণ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে, দাওয়াত-যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তার সিকিভাগকেও ধর্ম পরিবর্তন করানো যায়নি।
আধুনিক মানুষদের পক্ষে এমন বক্তব্য হজম করা যথেষ্ট কঠিন—বাস্তবতা হল, খোদ আধুনিকতা গড়ে ওঠেছে অস্ত্রের ছায়াতলে। উপনিবেশকে বাদ দিয়ে কি কোনভাবে আধুনিকতাকে কল্পনা করা যায়? আধুনিকতা মানে তো আফ্রিকা থেকে স্লেভ ধরে আনা—কানাডা-নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের ভূমিদখল—আদিবাসী সন্তানদের বোর্ডিংস্কুলে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। অবশ্য ঘটনা ঘটলো সম্পূর্ণ উল্টো—মুসলমানরা উপনিবেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াল। অভিযোগ আসলো, 'ইসলাম নাকি তরবারির জোরে প্রচারিত হয়েছে'।
উপনিবেশ-আধুনিকতা কীভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নটা উহ্যই থেকে গেল
9 343
কসীদায়ে বুরদা
মুসলমানরা তখন বড় বিপদে। একদিকে ক্রুসেডারদের সাড়াশি আক্রমণ, অন্যদিকে রক্তপিপাসু মঙ্গোলরা এগিয়ে আসছে পঙ্গপালের মত। এমন নিষ্ঠুর সময়ে মিসরি এক সুফি ভাবছিলেন, মঙ্গোলরা যদি হিজাযে আক্রমণ করে, যদি তারা মক্কা-মদিনায় লুণ্ঠন চালায়, যদি তারা রওজা পাকের দিকে হাত বাড়ায়, তবে মুসলমানরা কোথায় যাবে?
এমন বেদনার দিনে সুফি কবি শরফুদ্দিন বুসিরি বুরদাহ রচনা করেন, যেটি আজকাল কসীদায়ে বুরদাহ নামে পরিচিত—মাওলা ইয়া সাল্লি ওয়া সাল্লিম দাইমান আবাদান/আলা হাবীবিকা খাইরিল খালকি কুল্লিহিমি। ‘ইয়া রাব্বি বিল মুস্তাফা, বাল্লিগ মাকাসিদানা/ অগফির লানা মা মাদা, ইয়া অসিআল কারামি’।
যদিও এই কবিতার আক্ষরিক মানে, আল্লাহর কাছে নবীজির অসিলায় মাগফিরাত কামনা, তবে অনেকের আলেমের মতে মূলত রওজার শোকেই এমন লাইনের অবতারণা—বুসিরি আল্লাহর কাছে নবীজির কবর ভিক্ষা চাইছেন। যদি রওজায়ে পাক হাতছাড়া হয়ে যায় তবে মুসলমানদের কী হবে?
Is it from remembering neighbors at Dhū Salam
That you shed tears admixed with blood from your eyes?
But for passion, you would not shed tears at an abandoned camp,
Or lie awake at night recalling the fragrant willow or the mountain;
মাওলা ইয়া সাল্লি ওয়া সাল্লিম দাইমান আবাদান/আলা হাবীবিকা খাইরিল খালকি কুল্লিহিমি। ‘ইয়া রাব্বি বিল মুস্তাফা, বাল্লিগ মাকাসিদানা/ অগফির লানা মা মাদা, ইয়া অসিআল কারামি।
9 343
ব্রিটিশ ভারতে হানাফি ফিকহের ক্রমবিকাশ : আশরাফ আলী থানভীর চিন্তাদর্শন
(লিঙ্ক কমেন্টে)
9 343
ব্রিটিশ ভারতে হানাফি ফিকহের ক্রমবিকাশ : আশরাফ আলী থানভীর চিন্তাদর্শন
https://www.youtube.com/watch?v=6bvrvkTvAKo&t=2385s
আশরাফ আলী থানভীর রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব
https://www.youtube.com/watch?v=vETnGqGDIOc&t=1s
