আকাবির-কথন
Ir al canal en Telegram
Mostrar más
El país no está especificadoLa categoría no está especificada
1 214
Suscriptores
+1524 horas
+237 días
+3830 días
Archivo de publicaciones
1 214
যাইদ ইবনু আসলাম রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন :
এক লোক আলিমদের কাছে ঘুরে ঘুরে বলছিল, 'কে আমাকে এমন আমল বলে দেবেন যা আমি সবসময় করতে পারব? কারণ, আমি দিন-রাতের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর জন্য কাজ করে যেতে চাই।' তাকে উত্তর দেওয়া হলো, 'তোমার প্রয়োজন পূর্ণ করছি। তুমি যতটুকু পারো ভালো কাজ করতে থাকো। যখন ক্লান্ত হয়ে যাবে বা কাজ ছেড়ে দেবে তখন ভালো কাজের ইচ্ছে পোষণ করবে। কেননা, ভালো কাজের ইচ্ছে পোষণকারী ওই ব্যক্তির মতো, যে ভালো কাজ করে।'
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ তার বাবার কাছে বলেছিলেন, 'বাবা, আমাকে উপদেশ দিন।' জবাবে তিনি বললেন, 'ছেলে আমার, তুমি ভালো কাজের ইচ্ছে পোষণ করবে। মনে রেখো, যতদিন তুমি ভালো কাজের ইচ্ছে পোষণ করবে ততদিন তুমি ভালোই আছ।'
[জীবন পথে সফল হতে : ১৩০]
1 214
জীবনের অংক কারোরই মিলে না। আল্লাহ কেন এমনটা করেন, আল্লাহই ভালো জানেন। তবে আল্লাহ যা-ই করেন, আমাদের ভালোর জন্যই করেন।
মানুষের অনেক দিক, অনেক কিছু নিয়ে মাঝেমধ্যে ভাবি, কোনোকিছুরই হিসাবের কূল পাই না।
আল্লাহ আপনার সংসারজীবনকে সুখময় করে দিন।
1 214
আপা, একটা মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার কাছে এসেছি। আপনার মেয়েটাকে আমাদের বড় পছন্দ হয়েছে।
-আমাদের মেয়েকে কোথায় দেখেছেন, সে তো খাস পর্দা করে?
-জি, আপা আপনার মেয়ে খাস পর্দা করে সেটা আমরা জানি। তার ছবিটা আমরা অনলাইনে পেয়েছি।
-অনলাইনে? অসম্ভব। আমাদের মেয়ের কোনো ছবি অনলাইনে নেই।
-জি, আপু, আপনার কথা সত্য। তার পুরো ছবি অনলাইনে নেই।
-তাহলে কোথায় পেয়েছেন?
-আমরা ফেসবুক থেকে তার মেহেদীরাঙা ডানহাতের ছবি নিয়েছি। ওয়াটসএ্যাপ থেকে তার চেহারার একাংশের ছবি, ইনস্টাগ্রাম থেকে আরেকাংশের ছবি নিয়েছি। স্ন্যাপশট থেকে বামহাতের ছবি নিয়েছি। টুইটারে তার দীঘল কালো চুলের ছবি পেয়েছি। আলতা ও ঘুঙুর পরা পায়ের ছবি পেয়েছি ইমোতে।
পাজলের মতো বিচ্ছিন্ন অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে পুরো ছবিটা পেয়েছি। মা শা আল্লাহ, আপনার মেয়েটা অনেক সুন্দর, লাজুক আর ‘পর্দানশীন’। আল্লাহ তাআলা তাকে আরো পর্দানশীন বানিয়ে দিন।
© আতীক উল্লাহ
[এই মানুষটা আবার অনলাইনে একটিভ হোক—খুব করে চাইতাম। দাওয়াতি, হাসিমজাক, নিত্যনতুন শিক্ষণীয় লেখায় আবার ফেইসবুক জমে উঠুক—এটাই কামনা।]
1 214
প্রথমে একটা সুসংবাদ দিয়ে দেই। কে জানি আকাবির-কথন নামে একটা ওয়েবসাইট করে ফেলছে আকাবির-কথনের লেখা সংরক্ষণের জন্য! আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
চতুর্দিকে যখন ফুটবল নিয়ে চলছে মাতামাতি, তখন ছেলেমেয়েদের আবারও বইয়ের টেবিলে নিয়ে যেতে মাকতাবাতুল হাসান দিচ্ছে বিভিন্ন বইয়ের উপর বিশাল ডিসকাউন্ট! (ডিসকাউন্ট দেখতে তাদের পেজ থেকে ঘুরে আসতে পারেন)
যাকগে, এখানে মাকতাবাতুল হাসানের একগুচ্ছ নির্বাচিত আছে। এখান থেকে আপনি কয়টা পড়েছেন?
কয়টা বই আপনার সংগ্রহে আছে?
1 214
স্মার্টফোন, আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে স্যোশাল মিডিয়া মানুষকে কর্মহীন স্বপ্নবিলাসী বানিয়ে দিয়েছে। এখানে বাকপটুতা পরিশ্রমের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে। নিজের কাজের প্রতি উদাসীনতা ও অন্যের কাজের ওপর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সমালোচনার প্রবণতা এখানে প্রসার পেয়েছে। এই ব্যাধি আমাদের ভেতরে ভেতরে অচল করে দিচ্ছে। যুবকদের যেকোনো বাস্তব দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অলস স্কুলিং; নিজের প্রতি সুধারণা; নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ, আকর্ষণীয় আর চমৎকার করে উপস্থাপনের প্রবণতা কেবলই বাড়ছে।
এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে ইন্টারনেটের কারণে কিছু-না-কিছু দ্বীনী ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। কারণ, এটা অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। এখানে ব্যবহারকারীর হাতের বাইরে অনেক কিছু হতে পারে। সে না চাইলেও অনেক কিছু দেখতে বাধ্য হতে পারে। এমন অনেক কন্টেন্ট তার কাছে আসতে পারে, যা তাকে চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যাবে গুনাহের কাছে; অন্তত বেহুদা ব্যস্ততায় তো লিপ্ত করবেই।
ফেসবুকে এমন ভূরি ভূরি মানুষ আছেন, যারা বারেবার সিদ্ধান্ত নেন, এখান থেকে দূরে সরে যাবেন। কিন্তু এ যে এক চক্র; যেখানে বারেবার ফিরে আসে আসক্ত মানুষেরা। যেন এ থেকে মুক্তি নেই। মরণ-চক্র। ঘুরে ঘুরে ফিরে আসাই এর নিয়তি।
[কল্পিত কারাবাস : ৩৬]
1 214
নিজেকে বদলে ফেলো সিরিজ। ৬০% ছাড়ে!
বইগুলো সম্পর্কে আমরা শুধু এতটুকুই বলতে চাই যে, এ বইগুলো সংগ্রহ করতে ও পড়তে আপনার যে অর্থ ও সময় ব্যয় হবে ইনশাআল্লাহ তা হবে আপনার জীবনের একটি সেরা ইনভেস্টমেন্ট।
এ সিরিজের ধারাবাহিকতায় রয়েছে ৫টি বই :
১। বদলে ফেলুন নিজেকে
২। আপনি নন অভ্যাসের দাস
৩। আমার একটি স্বপ্ন আছে
৪। প্রকাশ করুন আপনার পরিমার্জিত সংস্করণ
৫। হতাশা শব্দটি আপনার জন্য নয়
বইগুলো কয়েক কালারে মুদ্রিত। আকর্ষণীয় বক্স।
চারদিকে এখন শুধু খেলা আর খেলার আলোচনা। তবে এই উন্মাদনায় যারা 'উন্মাদ' হবেন না, পুরো বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও দেখবেন না—এই অফার শুধুমাত্র তাদের জন্য!
©
1 214
তাওবা না করা এবং সে জন্য ক্ষমা না পাওয়ার একটি প্রতারণামূলক চিন্তা হলো—কৃত গোনাহের বিপরীতে কোনো শাস্তির ভাবনা মনের মধ্যে না রাখা। কিন্তু বিষয়টি তো এমন নয়। যেমন ইবনুল জালা তার নিজের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আমি একদিন বাইরে দাঁড়িয়ে এক খ্রিষ্টান বালকের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে ছিলাম। এ সময় আমার শাইখ আমাকে এ অবস্থায় দেখে বললেন, এ কী করছ? অবশ্যই তুমি এর প্রতিফল দেখতে পাবে—দেরিতে হলেও।
এবং ঠিক তা-ই হলো, এর চল্লিশ বছর পর আমি কোরআন ভুলে গেলাম—যা আমার সম্পূর্ণ মুখস্থ ছিল।
জেনে রেখো, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, গোনাহের পরও নিরাপদ ও নির্ভাবনায় অবস্থান করা। কারণ, এখানে শাস্তি আসে বিলম্বে এবং ভয়াবহভাবে।
আর সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো, মানুষ এ ব্যাপারে সচেতন না থাকা। হয়তো তার দ্বীন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার অন্তর কালো হয়ে যায়। নিজের জন্য সে খারাপ পথ অবলম্বন করে। অথচ বাহ্যিকভাবে তার শরীর সুস্থ থাকে। জাগতিক উদ্দেশ্যগুলো পূরণ হয়। সম্পদ-সচ্ছলতায় জীবন ভরে ওঠে। কিন্তু এটা তো তাকে ঢিল প্রদান করা হচ্ছে—এটা তো প্রবল ঝড় ও বর্ষণের আগে সাময়িক স্থিরতা।
এ বিষয়ে একজন সরাসরি ভুক্তভোগী বলেন, আমি একবার এমন দিকে দৃষ্টিপাত করেছিলাম, যা আমার জন্য জায়েয ছিল না। এরপর আমি এর শাস্তির জন্য ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে লাগলাম। এরপর হঠাৎ এক দীর্ঘ সফরের জন্য বের হলাম। সফরে ভীষণ কষ্টে আপতিত হলাম। সৃষ্টির মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় একজনের মৃত্যু হলো। আমার অনেক মূল্যবান জিনিস বিনষ্ট হয়ে গেল। আমি বুঝছিলাম- এর সবই আমার সেই কুদৃষ্টির ফল।
আমি প্রভুর দরবারে প্রবলভাবে তাওবা করতে লাগলাম। একসময় হয়তো মাফ করা হলো এবং অবস্থা ভালো হয়ে উঠল। কিন্তু এরপর আবারও আমি একই ধরনের গোনাহে লিপ্ত হলাম—চোখের গোনাহ। এবার আমার অন্তর কালো হয়ে গেল। চোখের আদ্রতা ও কোমলতা চলে গেল। প্রথম যা হয়েছিল, তার চেয়ে অধিক পরিমাণে আমার থেকে দ্বীন উঠিয়ে নেওয়া হলো। মুহূর্তের অপরাধের কারণে যা প্রাপ্ত হলাম—তা প্রাপ্ত না হওয়া কতই না ভালো ছিল!
এরপর যখন সেই অপরাধের আনন্দ ও তার পরিমাণ এবং তার পরিবর্তে শাস্তি ও তার পরিমাণ নিয়ে চিন্তা করলাম- আমার অন্তর আচমকা চাবুকের আঘাতে চিৎকার করে উঠল! এটা তুমি কেন করলে?
[হৃদয়ের দিনলিপি : ৩১৪-৩১৫]
1 214
একবার ইমাম আবু হানিফা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এত ফিকহ মুখস্থ রাখেন কীভাবে?
জবাবে তিনি বলেন, নির্বিঘ্ন মনোযোগের মাধ্যমে।
[হৃদয়ের দিনলিপি : ৩১১]
1 214
এক গুলিতে পাঁচ তালাক
ইমাম আসমায়ী গল্প করছেন, খলীফা হারুনুর রশীদ রহ.-এর সাথে। আজকের গল্প এক রগচটা বদমেজাজি আরবের।
- আমীরাল মুমিনীন এই লোক একসাথে পাঁচ নারীকে তালাক দিয়েছিল।
-এ কী করে সম্ভব? শরীয়ত মতে একজন একসাথে চার বিবি রাখতে পারে।
- জি, তার চারবিবিই ছিল। লোকটা ছিল জালেম প্রকৃতির। রুক্ষ্ণ স্বভাবের। স্ত্রীদের পান থেকে চুন খসলেই আর রক্ষে ছিল না। সেদিনও কোত্থেকে রেগে বোম হয়ে ভর দুপুরে ঘরে ফিরে দেখল দুই বিবির ঘরদুয়ারে বসে আকাশ ফাটিয়ে ঝগড়া করছে। লোকটা রাগে ফেটে পড়ল,
-এই তোদের ঝগড়া থামাবি?
এক ঝগুড়নি রাগের মাথায় ঝামটা দিয়ে বলে উঠল,
-ঝগড়া করব না তো কী করব?
বদমেজাজি জামাই সাথে সাথে বলে উঠল,
-যা তুই তালাক।
এটা দেখে দ্বিতীয় ঝগুড়নি থাকতে না পেরে বলে উঠল,
-এ কেমন অনাসৃষ্টি কাণ্ড, দোষ করলে বলে কয়ে সংশোধনের রাস্তা আছে, তা না করে সরাসরি তালাক, এ কেমন বিচার? এতবড় জুলুম খোদা সইবে না গো।
-তোর বড্ড বাড় বেড়েছে দেখছি, যা তুইও তালাক।
স্বামীর এহেন পাশবিক আচরণ দেখে, তৃতীয় বিবি বলে উঠল,
-আল্লাহ তোমার মুখ ঝলসে দিক। এ দুইজন কত ভাল ছিল। ঝগড়া করলেও সবসময় তোমার সেবাযত্নে একপায়ে খাড়া ছিল। ঘরের কাজেও বেশ পটু ছিল। তোমার সুবিধা অসুবিধার দিকে চৌকান্না ছিল। এমন দুটি ভালো মানুষকে এককথায় তালাক? মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে গো।
ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে লোকটা বলল
-যা তুইও তাদের পথ ধর।
চতুর্থ বিবি এতক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকলেও আর পারল না। রীতিমতো বিস্ফোরিত হয়ে বলল,
-জানোয়ারও এর চেয়ে ভাল। প্রকৃত পুরুষ কখনো অবলা নারীকে তালাক দিয়ে শাসন করে না। তালাক হল কাপুরুষের হাতিয়ার।
-কী বললি? পাখা বেশ পাখা গজিয়েছে না? যা তুইও বিদেয় হ।
পাশের বাড়িতে তুমুল হট্ট গণ্ডগোল দেখে, প্রতিবেশি মহিলা দেখতে এসেছিল। এমন সৃষ্টিছাড়া কাণ্ড দেখে মহিলা বলে উঠল
-আল্লাহর কসম! তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কোনও আরব আছে বলে আমার জানা নেই।
বদমেজাজি মূর্তিমান মিস্টার তালাক ক্রোধে দিশেহারা হয়ে গেল। প্রতিবেশিনীকে কিছু করতে না পেরে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল,
-তোর স্বামী যদি অনুমোদন করে, তাহলে যা তুই ও তালাক।
বেগানা পুরুষের সাথে তর্ক জুড়তে যাওয়াতে প্রতিবেশি স্বামীও স্ত্রীর প্রতি রেগে কাঁই হয়ে ছিল। মি. তালাকের কথা শোনার সাথে সাথে ঘরের ভেতর থেকেই বলে উঠল
-অনুমোদন, অনুমোদন!
© আতীক উল্লাহ
