es
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

Ir al canal en Telegram

Mostrar más
El país no está especificadoLa categoría no está especificada
1 215
Suscriptores
+524 horas
+277 días
+4230 días
Archivo de publicaciones
photo content
+5

একজন আদর্শ তাবলীগের সাথি দৈনিক ঘরে ও মসজিদে ২০-৩০ মিনিট তালীম করেন। -কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ১ বা আধা পারা -১০০ বার সুবহানাল্লাহ -১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ - ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ -১০০ বার আল্লাহু আকবার -১০০ বার দরুদ শরীফ - ১০০ বার ইসতেগফার (এটা সকাল সন্ধ্যা দুই বার) -মাসনুন দুয়াগুলো পড়েন -দৈনিক ২.৩০ ঘণ্টা দাওয়াত (ঈমানী আলোচনা ও তাশকিল) -সপ্তাহে একদিন শবগুজারীতে যান। আসর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বয়ান, হায়াতুস সাহাবা শোনা, তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত। -মাসে ৩ দিনের জন্য পূর্ণ সময় নিয়ে তাবলীগে যান। -৩ মাসে একবার মাস্তুরাত সহ জামাতে যান। ফলে ধীরে ধীরে বেশ চমৎকারভাবে তার ঘরে দ্বীনী পরিবেশ কায়েম হতে থাকে। -বছরে অন্তত ৪০ দিনের জন্য সফরে যান। একজন তাবলীগের সাথি মোটামুটিভাবে কাজগুলো করে গেলেও ঈমান তরতাজা থাকে। একদম দুনিয়ামুখী ও আমলহীন হওয়ার সুযোগ পায় না। এই মেহনতে অসাধারণ একটি দ্বীনী সার্কেল পাওয়া যায়, যা দ্বীনের ওপর অটল থাকতে সহায়তা করে। © মুহাম্মাদ হোসাইন

যে সব পেয়ারের ছোটভাই এখনো মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সাহেবের বইগুলোই পড়ো নাই, তারা প্লিজ উনার বইগুলো দিয়ে পড়াশোনা শুরু করো। তোমাদের পাঠাভ্যাস খুবই কম। আমি বইপোকা না; বরং সাধারণ লেভেলের পড়ুয়া। তবু তোমাদের দেখলে আমার হতাশ লাগে। এক্টিভিজম করা ভালো। কিন্তু পাশাপাশি ভেতরে কিছু না তৈরি করলে বিপদে পড়বা। জনগণ তোমাকে নেতা হিসাবে মেনে নেবে। এরপর বলবে, বড়ভাই, এখন কী করব? দেখবা বাস্তবতার দুনিয়ায় তাদের বলার মতো কোনো কথা বা কাজ তোমার নাই। শুধু মোটিভেশন আর উচ্চবাচ্যে জীবন চলে নারে ভাই। দ্বীন শেখা, বেসিক বইপত্র গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়া, কুরআন তিলাওয়াত সহীহ করা, মাসআলা শেখা, আখিরাত সংক্রান্ত বইপত্র পড়া, আলেমদের নসীহতের মজলিসে নিয়মিত বসা, এসবই তোমার শিকড়। এই শিকড় তোমাকে প্রবল ঝড়ে উপড়ানো থেকে রক্ষা করবে। নাহয় বাতিল মতবাদের ঝড়, গুনাহের ঝড়, বিপদাপদের ঝড়, রাজনৈতিক বিচ্ছৃঙ্খলা তোমাকে উপড়ে ফেলবে। শেষ করে দেবে। ০১. মাওলানা মনযুর নোমানী ০২. মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ ০৩. মুফতী তাকী উসমানী মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সাহেবের পাশাপাশি অন্তত এই তিন জনের যে কয়টা বই পারো পড়তে থাকো। © মুহাম্মাদ হোসাইন

photo content

photo content
+7

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বহু কিতাব রচনা করে গিয়েছেন। এক হাজারের মতো রচনা, কোনোটার কপিরাইট নাই। ঢাকা শহরে আলেমদের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী সুপরিচিত। তারা হলেন : ১। হাফেয মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ রহ. (হাফেজ্জী হুযুর) ২। মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব রহ. (পীরজী হুযুর) ৩। মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ (সদর সাহেব হুযুর) তিনজনই থানভী বাগানের ফুল। এক বোঁটায় তিন ফুল। একসঙ্গে এসেছেন থানাভবন থেকে। হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি (হরদুই হযরত) এই বাগানের ফুল। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই বাগানের ফুল। হযরত মাওলানা আতাহার আলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বহুত বড় আল্লাহর অলী ছিলেন। তিনিও থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির খলীফা। হাকীমুল উম্মত রহমাতুল্লাহি আলাইহির অনেকগুলো কিতাবের বাংলায় তরজমা হয়ে গেছে। এই অনুবাদগুলোর পেছনে তার শাগরেদদের বিরাট অবদান। এই কিতাবগুলো আমাদের সংগ্রহে থাকা উচিত। [প্রফেসর হযরতের মালফুযাত : ৯৬-৯৭]

photo content
+1

photo content

আবু দারদা রা. আমাদের তিনটি বিষয়ের শিক্ষা দিয়েছেন, যা দুর্বল করে দেয় মানুষের অভ্যন্তরীণ প্রবৃত্তিকে এবং সহায়তা করে স্রষ্টার সান্নিধ্য অর্জনে। তিনি বলেন, আমি এমন তিনটি জিনিসকে ভালোবাসি, যেগুলোকে সাধারণ মানুষ অপছন্দ করে : দারিদ্র্য, রোগ-ব্যাধি এবং মৃত্যু। দারিদ্র্যকে ভালোবাসি, কারণ তা রবের সামনে বিনয় প্রকাশের মাধ্যম। মৃত্যুকে ভালোবাসি, কারণ, রবের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য মৃত্যুই একমাত্র পন্থা। এবং রোগ-ব্যাধিকে ভালোবাসি, কারণ রোগ-ব্যাধি পাপরাশি মুছে দেয়। জনৈক সালাফ বলেন, তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষের বিবেকের পরীক্ষা করা হয় : অধিক সম্পদ, বিপদাপদ ও ক্ষমতা। ইয়াজিদ বিন মাইসারা রহ. বলেন, বান্দা রোগে আক্রান্ত হলো। এদিকে আল্লাহর কাছে তার কোনো উত্তম আমল নেই। তখন আল্লাহ তাকে অতীতের কোনো গুনাহের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ফলে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে মাছির মাথা পরিমাণ হলেও অশ্রু বের হয়। তারপর আল্লাহ তাকে সুস্থ করলে সে গুনাহ থেকে পবিত্র অবস্থায় সুস্থ হয় কিংবা মৃত্যু দান করলে গুনাহ থেকে পবিত্র অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। বই : সবর মুমিনের সাফল্যের সোপান

...এখানে ইমাম মালিক রাহ.-এর একটি ঘটনা আমাদের মনে রাখা উচিত। ঐ যামানার বুযুর্গ আব্দুল্লাহ আলউমারী রাহ. ইমাম মালিক রাহ.কে লিখলেন, ‘আপনি নির্জনতায় আসুন এবং ইনফিরাদী আমলে মশগুল হোন (ইমাম মালিক রাহ.-এর মূল ব্যস্ততা ছিল ফিকহ ও হাদীসের শিক্ষাদান)।’ ইমাম তাঁকে লিখলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যেমন রিযক বণ্টন করেছেন তেমনি কর্মও বণ্টন করেছেন। কারো জন্য নফল নামায সহজ করেছেন, কিন্তু রোযা রাখা সহজ করেননি। আবার কারো জন্য সদকা আসান করেছেন, কিন্তু রোযা রাখা আসান করেননি। কারো জন্য জিহাদের আমলকে সহজ করেছেন। ইলমের প্রচার প্রসারও একটি নেক আমল। আল্লাহ তাআলা এটি আমার জন্য সহজ করেছেন। এরই উপর আমি সন্তুষ্ট। আপনি যে কাজে আছেন (অর্থাৎ নির্জন সাধনা), আমার ধারণা আমার পছন্দের আমলটি তার চেয়ে অনুত্তম নয়। আশা করি, দুজনই আমরা কল্যাণ ও পুরস্কারের পথে আছি।’-সিয়ারু আলামিন নুবালা, যাহাবী ৭/৪২৪ উম্মাহর ঐক্য : পথ ও পন্থা , মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ

জীবনটা যদি এমন হতো! আজকে মুফতী আরিফ জব্বার কাসেমী ভাইয়ের সাথে পড়াশোনা বিষয়ে আলাপ করতে গিয়ে এই ঘটনাটি সামনে আসে, আপনাদের সমীপে উল্লেখ না করে পারলাম না। হাদীস বিশারদ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ রহিমাহুল্লাহর অসাধারণ জীবনযাপন। চারটি কাজে তার জীবন কেটেছে : ১. পাঠদান ২. পড়াশোনা ৩. তাসবীহ এবং ৪. নামাজ। قال موسى بن إسماعيل التبوذكي : لو قلتُ لكم : إني ما رأيتُ حمادَ بنَ سلمة ضاحِكًا لصَدقتُ মুসা ইবনে ইসমাইল রহ. বলেন, আমি যদি তোমাদেরকে এ কথা বলি যে আমি হাম্মাদ রহ.-কে হাসতে দেখিনি, তাহলে আমি সত্য কথাই বলেছি। كانَ مَشْغُوْلا ، إما أن يُحَدِّثُ ، أو يَقْرأُ ، أو يُسَبِّحُ ، أو يُصَلِّيِّ ، قد قسم النهار على ذلك তিনি চারটি কাজের কোনো একটি কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকতেন : ১. হয়তো হাদীস পড়াচ্ছেন ২. অথবা নিজে পড়াশোনা করেছেন, ৩. অথবা তাসবীহ পাঠ করছেন, ৪. অথবা নামাজ পড়ছেন। এভাবেই তিনি দিবসকে বণ্টন করে নিয়েছেন। এবার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি খেয়াল করেন, قال يونسُ بْنُ محمد المؤدبُ : ماتَ حَمّادُ بنُ سَلَمَةَ في الصلاةِ في المسجدِ ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল মুয়াদ্দিব রহ. বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা : ৪৪৮ © আরিফ বিন হাবিব হাফি.

ঈদের মজা সেই কবে হারিয়ে গেছে। তাও মাদরাসায় ঈদ কাটালে সুন্দর লাগত, ভালোও লাগত। প্রবাসে ঈদ বলতে 'রেস্ট' নেওয়া, এটুকুই। এখন তো আমাদের বাচ্চাকাচ্চাদের 'ঈদ'-এর সময়... ঈদ মুবারক

photo content

photo content

ঈদ মুবারক।

ইলম বিষয়ে জুরজানির তিনটি উক্তি যে কোনো গ্রন্থ পাঠের সময় সেটার ভূমিকা পড়া অত্যন্ত জরুরি। এখান থেকে পুরো গ্রন্থের বিষয়বস্তু, রচনাপদ্ধতি এবং মূল প্রতিপাদ্য সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। আর আমাদের সালাফে সালিহীন তথা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের কিতাবের মুকাদ্দিমাহ তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইলমের একেকটি খাজানা। গতদিন একদল শিক্ষার্থীদের আল্লামা আবদুল কাহির জুরজানি (মৃ. ৪৭১ হিজরি) রাহিমাহুল্লাহ এর কালজয়ী গ্রন্থ 'দালাইলুল ই'জায' এর মুকাদ্দিমাহ পড়াচ্ছিলাম। আমার নিয়ম অনুযায়ী, মুকাদ্দিমাহ থেকে ইলম-সংক্রান্ত চয়নকৃত কয়েকটি চমৎকার বাক্য তাদেরকে মুখস্থ করে রাখার পরামর্শ দিলাম। এখানে মাত্র তিনটি বাক্য উল্লেখ করছি। এক. এখন তো আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যে, যে বিষয়ে আমাদের কোনো জানাশোনা নেই, সে বিষয়েও মন্তব্য ও বক্তব্য দিতে কোনো লজ্জাবোধ করি না। যেন আমরা সবাই সবজান্তা হয়ে গেছি। অথচ জুরজানি তাঁর ভূমিকার শুরুতেই এই দোয়া-বাক্যটি যুক্ত করেছেন— ونعوذُ باللهِ من أنْ ندَّعيَ العلمَ بشيءٍ لا نعلمُه. “আর আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এ থেকে যে, আমরা এমন কোনো বিষয়ে জ্ঞানের দাবি করি, যা আমরা আসলে জানি না।” দুই. ইলমের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে জুরজানি বলেন— والعلمُ هو الوفيُّ إذا خانَ كلُّ صاحبٍ، والثقةُ إذا لم يُوثَقْ بناصحٍ. “ইলমই হলো সেই বিশ্বস্ত সঙ্গী, যখন সব সাথী সঙ্গ ত্যাগ (বিশ্বাসঘাতকতা) করে; আর সেটাই ভরসা, যখন কোনো উপদেশদাতার ওপর আস্থা রাখা যায় না।” তিন. ইলম কেবল কিছু বই-পুস্তক ভাসাভাসাভাবে পড়ে নেওয়ার নাম নয়। ইলমের জন্য চাই সঠিক চিন্তা, পরিশুদ্ধ আকল এবং দীর্ঘ অধ্যাবসায়। অথচ আজকাল ইলমের অঙ্গনে ‘দুই বছর মেয়াদি মুজতাহিদ (হাইব্রিড) প্রোগ্রাম’ এর মতো হাস্যকর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। আরবি ভাষার কথাই ধরুন। কেবল নাহু-সারফের কয়েকটি নিয়মকানুন জানার নামই কি আরবি ভাষা শিখে ফেলা? জুরজানি বলেন— إنَّ ههنا دقائقَ وأسرارًا طريقُ العلمِ بها الرَّويَّةُ والفكرُ، ولطائف مُستقاها العقلُ. “এখানে এমন সূক্ষ্ম বিষয় ও গোপন রহস্য রয়েছে, যেগুলোর জ্ঞান লাভের পথ গভীর চিন্তা ও মনন এবং এমন সূক্ষ্ম তত্ত্ব, যা বুদ্ধি দ্বারা আহরণ করা হয়।” আমার বিশ্বাস, তরুণ আলেম এবং তালিবুলইলম সাথীদের জন্য জুরজানির এই মুকাদ্দিমাহ পাঠ অনেক ফলপ্রসূ হবে, ইনশাআল্লাহ। ©

সাকসেস হতে হলে পাগল হতে হয়। যে লাইনেই হোক। আমার এক (কোর্সের) সহপাঠী। স্বপ্ন ছিল ইউরোপ যাবেই। বোধহয় সিলেটের কোনো এজেন্সি বাকি
সাকসেস হতে হলে পাগল হতে হয়। যে লাইনেই হোক। আমার এক (কোর্সের) সহপাঠী। স্বপ্ন ছিল ইউরোপ যাবেই। বোধহয় সিলেটের কোনো এজেন্সি বাকি রাখেনি কথা বলতে। পাগলের মতো দৌড়ঝাঁপ করেছিল। অবশেষে আইল্টেস দিয়ে লন্ডন গিয়ে সেখান থেকে স্পেন গিয়ে লিগ্যাল হয়ে দেশে ফিরে বিয়ে করল। কোনোকিছুতেই এভাবে পাগল/সিরিয়াস হতে পারলাম না দেখেই...

photo content

photo content

দ্বীনের পথে আমার হাঁটার একেবারে শুরুর দিককার কথা। আল্লাহ যখন একটু একটু করে বোঝার তৌফিক দিচ্ছিলেন, তখন ‘তাজকিয়া’ বা আত্মশুদ্ধি বিষয়ক বইগুলোর প্রতি আমার এক ধরনের অদ্ভুত অনীহা ছিল। আমার কাছে মনে হতো, এগুলো খুব একঘেয়ে এবং স্রেফ গৎবাঁধা মোটিভেশনাল কথাবার্তা। তাই আমি এই ঘরানার বইগুলো এড়িয়ে যেতাম এবং অন্যান্য বিষয়ের বই বেশি পড়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে আমার চিন্তায় একটা বড় ধাক্কা লাগে। আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করে রীতিমতো অবাক হলাম। মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে প্রখর মেধাবী স্কলারদের যদি একটা তালিকা করা হয়—যেমন ইমাম গাজ্জালি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কায়্যিম আল জাওজিয়া, ইবনে রজব হাম্বলি কিংবা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মতো বড় বড় আলেমরা—তাঁরা প্রত্যেকেই এই তাসকিয়ার ওপর শত শত, হাজার হাজার পৃষ্ঠার কিতাব লিখে গেছেন! হঠাৎ করে বিষয়টা মাথায় আসার পর আমি যত ভাবলাম, ততই বিস্মিত হলাম। প্রশ্ন জাগলো—কেন? ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠ মস্তিষ্কগুলো তাজকিয়া নিয়ে এত বিপুল সময় কেন দিলেন? পরে চিন্তা করে দেখলাম, আসলে সমীকরণটা খুব পরিষ্কার। ব্যক্তিজীবনের চূড়ান্ত সফলতা থেকে শুরু করে দুনিয়ার বুকে সভ্যতার উত্থান-পতন, এমনকি আখিরাতের জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা—এর প্রায় পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করে মানুষের অন্তরের ওপর। মানুষের অন্তর কতটা পরিশুদ্ধ, সেটার ওপর ভিত্তি করেই তার দ্বীনের প্রতি নিবেদন তৈরি হয়। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, অন্তরের এই ব্যাধিগুলোর কারণেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হয়, সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে, সামগ্রিকভাবে সমাজ ধ্বংস হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, অন্তরের এই অসুখের কারণেই আমাদের জীবন থেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত উঠে যায়। আমাদের সালাফ এবং বড় বড় ইমামরা ঠিক এই ‘রুট-কজ’ বা মূল সমস্যাটি ধরতে পেরেছিলেন বলেই তাসকিয়ার ওপর এতটা জোর দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামের যুগের দিকে তাকালে আমরা ঠিক এই অ্যাপ্রোচটাই দেখতে পাই। মাক্কী জীবনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিন্তু খুব বেশি শরিয়তের বিধি-নিষেধ বা আইনি বিধান পাঠাননি। বরং সেই দীর্ঘ সময়টাতে তিনি জান্নাত, জাহান্নাম, তাওহীদ এবং আল্লাহর মহত্ত্বের বয়ান দিয়ে আগে সাহাবিদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করেছেন। তাঁদেরকে আগে একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে গড়ে তুলেছেন, এরপরই তাঁদের ওপর বিভিন্ন বিধি-বিধান এসেছে। এখান থেকে একটা বিষয় বোঝা খুব জরুরি। আমরা অনেক সময় তাসকিয়া বা আত্মশুদ্ধির ব্যাপারটিকে কম গুরুত্ব দিই, কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব এবং গুরুত্ব ব্যাপক। আমাদের উচিত নিয়মিত তাসকিয়া বিষয়ক বই পড়া এবং এ সংক্রান্ত লেকচার শোনা। আমরা দুনিয়া ও দ্বীনের অন্যান্য সব কাজই করব, তবে নিজেদের অন্তরের পরিচর্যার জন্য রুটিনে যেন একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে, ইনশাআল্লাহ। © ইরফান সাদিক