en
Feedback
fatwaa.org || উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা বিভাগ

fatwaa.org || উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা বিভাগ

Open in Telegram

আমাদের উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ইসলামের সঠিক ফাতওয়া তুলে ধরা।

Show more
4 121
Subscribers
No data24 hours
-17 days
+2430 days
Posts Archive
ব্যাংক-সম্পর্কিত কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কার্ডমেশিন বিক্রির বিধান প্রশ্ন: আমি বিদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, যাদের কাজ হলো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কার্ডমেশিন বিক্রি করা। আমি কাস্টমারদের এ মেশিন কেনার অফার দিই। তারা কিনলে আমি কমিশন পাই। এ কার্ডমেশিন ব্যাংকের সাথে সম্পর্কিত। কারণ, এর মাধ্যমে ভিসা, মাস্টার, ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং ব্যাংক থেকেই এসব কার্ড প্রদান করা হয়ে থাকে। এখন আমার জানার বিষয় হলো, ক) কার্ডমেশিন সরবরাহকারী কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নেওয়া এবং তাদের হয়ে কাজ করা শরীয়ত অনুযায়ী কতটুকু বৈধ? খ) এ কার্ডমেশিন বিক্রির মাধ্যমে আমি কি পরোক্ষভাবে ব্যাংকের সাথে যুক্ত হচ্ছি কিংবা মানুষকে ব্যাংক ব্যবস্থার দিকে উৎসাহিত করছি? -আহমাদ উত্তর: সত্ত্বাগতভাবে কার্ডমেশিনের সঙ্গে সুদের কোনো সম্পর্ক নেই। কার্ডের কাজ মূলত অর্থ লেনদেন করা। তাছাড়া এই মেশিন সুদি লেনদেনে ব্যবহৃত হলেও এর অধিকাংশ ব্যবহার অসুদি লেনদেনের জন্য হয়ে থাকে। সে হিসেবে এই মেশিন বিক্রির মধ্যস্থতা করে উপার্জন করা নাজায়েয নয়। তবে অবশ্যই তাতে ক্রয় বিক্রয় ও ক্রয় বিক্রয়ে মধ্যস্থতার শরঈ নীতিমালা মানা জরুরি। যেমন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় না নেওয়া, পণ্যের অবাস্তব বর্ণনা না দেওয়া ইত্যাদি। একইভাবে সুদি ব্যাংককে এই সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকাও জরুরি। -ফাতাওয়া শামী: ৪/২৬৮ ও ৫/৬৯; জাওয়াহিরুল ফিকহ: ৭/২৯৬-২৯৭; দারুল ইফতা, জামিয়া ইসলামি বিন্নুরি টাউন, ফতোয়া নং ১৪৪৫০১১০১৯১১ والله تعالى أعلم بالصواب -আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ২০-০৪-১৪৪৭ হি. ১৩-১০-২০২৫ ঈ.

ভালো নিয়তে হারাম কিছু শিখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন: ভালো নিয়তে হারাম কোনো কিছু শিখা জায়েয হবে কি? যেমন, মানুষের ছবি আঁকা শিখা! মুহাম্মাদ আকতাব উত্তর: না ভালো নিয়তেও হারাম কাজ শেখা জায়েয নয়। -ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন: ৪/৩৬৮ (দারুল মারেফা); ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন: ১৩/৩৭ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ); আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর: পৃ: ৩২৮; আদ্দুররুল মুখতার (রদ্দুল মুহতার সহ): ১/৪৩ والله تعالى أعلم بالصواب -আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ২৩-০৪-১৪৪৭ হি. ১৬-১০-২০২৫

মেয়েদের কোচিং সেন্টার পরিচালনার বিধান প্রশ্ন: আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যথাসম্ভব দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করি। বর্তমানে অর্থের প্রয়োজনে একটি কোচিং সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা করেছি। তবে সহশিক্ষা হওয়ায় মনে শঙ্কা জাগছে। কেউ কেউ ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা শিফট করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমন অবস্থায় আমার জন্য শরঈ দৃষ্টিতে সঠিক সিদ্ধান্ত কী হবে? সাব্বির আহমেদ উত্তর: আপনার জন্য মেয়েদের কোচিং পড়ানো জায়েয হবে না। আপনি শুধু ছেলেদের পড়াতে পারেন। তবে পড়ানোর বিষয় বস্তুর মধ্যে যদি শরীয়ত বিরোধী কিছু থাকে, সেটা তাদের সামনে পরিষ্কার করে দিতে হবে যে, এটা শরীয়ত বিরোধী। -আল ইস্তেকামা লিবনি তাইমিয়া: ১/৩৬১; ফাতাওয়ায়ে বাযযাযিয়া: ২/২৬ আরো জানতে দেখুন: ফাতওয়া নং: ৪০৭; বর্তমানে প্রচলিত জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা গ্রহণের বিধান ফাতওয়া নং: ১৪১; সহশিক্ষার হুকুম কী? والله تعالى أعلم بالصواب -আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ২২-০৪-১৪৪৭ হি. ১৫-১০-২০২৫

অমুসলিমের মালিকানাধীন জমিতে নামায আদায়ের বিধান প্রশ্ন: আমাদের এলাকার মসজিদের কিছু অংশ হিন্দু এক ব্যক্তির জমির মধ্যে পড়ে গেছে। তিনি সেখানে নামায পড়তে নিষেধ করছেন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় কী? এবং ওই জায়গায় নামায আদায় করলে তা কি সহীহ হবে? -মুহাম্মাদ সালিহান উত্তর: এ অংশে নামায পড়লে নামায সহীহ হয়ে যাবে। তবে অংশটি যতক্ষণ তার মালিকানায় থাকবে, ততক্ষণ সে অংশ মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে না। তাই আপনাদের চেষ্টা করা উচিত যেকোনোভাবে তার মালিকানাধীন অংশটি সমঝোতা কিংবা ক্রয় করে নিয়ে নেয়া, যাতে তা মসজিদ হয়ে যায় এবং তাতে মসজিদের সকল শরঈ বিধান প্রয়োগ হয়। -জাওহারাহ নাইয়িরাহ: ১/৪৬; হেদায়া: ২/৩৮৫ ও ৩/২০; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৮১ ও ৪/৩৪০ والله تعالى أعلم بالصواب -আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ২০-০৪-১৪৪৭ হি. ১৩-১০-২০২৫ ঈ.

হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান প্রশ্ন: হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ‘শারদীয় শুভেচ্ছা’ জানানোর হুকুম কী? কেউ যদি বলে—শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের সকলের মাঝে সুখ বয়ে আনুক— তবে তার এ বক্তব্যের বিধান কী? সে কি তাকফীরের যোগ্য গণ্য হবে? রিফাত জিহাদ উত্তর: দু-র্গা পূ-জার মতো এমন আনুষ্ঠানিক ও প্রতীকি (শি-র-কের শেয়ার ও নিদর্শন স্তরের) মূ-র্তি-পূ-জাকে শুভেচ্ছা জানানো কিংবা সুখ ও কল্যাণের বাহক মনে করা ও বলা নিঃসন্দেহে কু-ফ-র। তবে কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করলে তাকে কা-ফে-র আখ্যায়িত করার জন্য যেসব ‘মাওয়ানে’ (তা-ক-ফী-রের প্রতিবন্ধক) ও শর্তের প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি, এ বিষয়গুলো যথাযথ অনুধাবন করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করা একজন বিজ্ঞ আলেমের পক্ষেই সম্ভব। একারণে এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে তা-ক-ফী-র করবে না; বরং বিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হবে। -সুনানে বায়হাকী: ১৮৮৯৫; ফাতাওয়াল বুলকীনী: ২/৯০৯ (দারু ইবনিল কায়্যিম); আল-বাহরুর রায়েক: ৫/১৩৩ (দারুল কিতাবিল ইসলামী); মুয়ীনুল মুফতী লিত-তুমুরতাশী: পৃ: ২৪৭, ২৫৪ (দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়া); রদ্দুল মুহতার: ৪/২০৮ (দারুল ফিকর) তবে তাকে কা-ফে-র আখ্যায়িত করা থেকে বিরত থাকার অর্থ এটা নয় যে, তার এ অন্যায় কর্মের ব্যাপারে আমরা গাফেল হয়ে যাব এবং তাকে আর দশজন মুমিনের মতো স্বাভাবিক মনে করব। বরং তাকে এবং সমাজকে এধরনের কাজ থেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। তাকে সামাজিকভাবে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, প্রয়োজনে বয়কট করতে হবে। তার সঙ্গে নতুন করে আত্মীয়তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আগের আত্মীয়তা থাকলে আলেমদের মাধ্যমে তার ঈমানের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে সে আত্মীয়তা থাকবে কি থাকবে না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ বাস্তবে যদি তার ঈমান নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তার বিয়ে ভেঙ্গে যাবে। -লামাআতুত তানকীহ: ১/৩১৩ (দারুন নাওয়াদির); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪৭ (দারুল ফিকর); ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ২/২৮৩ (দারুল ফিকর); ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১২/২৪৩ والله تعالى أعلم بالصواب -আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ২২-০৪-১৪৪৭ হি. ১৫-১০-২০২৫

প্রবল বৃষ্টির সময় কি ঘরে নামায পড়ার অবকাশ আছে? প্রশ্ন: বৃষ্টির কারণে মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামায আদায় করার কি অবকাশ আছে? উত্তর: যদি বৃষ্টির কারণে মসজিদে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়; তাহলে ঘরে নামায আদায় করার অনুমতি আছে। প্রখ্যাত তাবেয়ী নাফে’ (রহ) বর্ণনা করেন, أن ابن عمر، أذن بالصلاة في ليلة ذات برد وريح، ثم قال: ألا صلوا في الرحال، ثم قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمر المؤذن إذا كانت ليلة ذات برد ومطر، يقول: «ألا صلوا في الرحال. -رواه البخاري 666 و مسلم: 697 و مؤطأ مالك: 64 و النسائي: 654 و أبو داؤد: 1062 “আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি) এক ঠাণ্ডা-ঝড়ের রাতে নামাযের আযান দিলেন এবং বললেন, তোমরা তোমাদের তাবুতে নামায আদায় করে নাও। অতঃপর বললেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝড়-বৃষ্টির রাতে মুয়াজ্জিনকে নির্দেশ দিতেন, মানুষকে বলে দাও, তোমরা নিজেদের তাবুতে নামায আদায় করে নাও’।” -সহীহ বুখারী: ৬৬৬ আরেকটি হাদীসে এসেছে, عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَمُطِرْنَا، فَقَالَ: «لِيُصَلِّ مَنْ شَاءَ مِنْكُمْ فِي رَحْلِهِ. رواه مسلم: 698 “জাবের (রাযি) বর্ণনা করেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে বের হলাম এবং বৃষ্টির কবলে পড়লাম। তিনি বললেন, ‘তোমাদের কারো ইচ্ছে হলে নিজের তাবুতে নামায আদায় করে নিতে পারো’।” —সহীহ মুসলিম: ৬৯৮; মুওয়াত্বা মুহাম্মাদ: ১/২৮৪; ফতোয়া হিন্দিয়া: ১/৮৩; ফাতহুল কাদীর: ১/৩৪৫; মুহীতে বুরহানী: ১/৪২৮; ই’লাউস সুনান: ৩/১২৪৯; ফতোয়া শামী: ১/৫৫৫; আল—ইস্তিযকার: ১/৪০১; আত—তাজু ওয়াল ইকলীল: ২/২৭১; আত—তাবসিরা লিল লাখমী: ৩/৪৪৩; ফাতহুল বারী লি ইবনে রজব: ৬/৮৪; কিতাবুল উম: ১/১৮১; রওজাতুত ত্বালিবীন: ১/৩৪৪; আল—জামে লি উলূমী ইমাম আহমাদ: ৬/২৭০; আল—কাফী: ১/২৮৮ অবশ্য ঘরে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে পরিবারকে নিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করা ভালো। আবু বাকরাহ (রাযি) বর্ণনা করেন, أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «أقبل من نواحي المدينة يريد الصلاة، فوجد الناس قد صلوا، فمال إلى منزله، فجمع أهله، فصلى بهم». رواه الطبراني في الأوسط (4601) قال الحيثمي في مجمع الزوائد: و رجاله ثقات. “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের উদ্দেশ্যে মদিনার প্রান্ত থেকে এসে দেখলেন, লোকেরা নামায আদায় করে নিয়েছে। তিনি ঘরে গিয়ে পরিবারের লোকদের জমা করলেন এবং তাদের নিয়ে জামাতের সঙ্গে নামায আদায় করলেন।” -তবারানী, মুজামে আওসাত: ৪৬০১ والله سبحانه وتعالى أعلم আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ০৭-০৫-১৪৪৪ হি. ০২-১১-২০২২

ইসলামে সমকামিতার শাস্তি কি? প্রশ্ন:ইসলামে সমকামিতার শাস্তি কি? প্রশ্নকারী- আব্দুল কাদের উত্তর: সমকামিতা হালাল মনে করলে কা-ফে-র হয়ে যাবে। আর যদি কেউ হারাম মনে করা সত্ত্বেও প্রবৃত্তির তাড়নায় এতে লিপ্ত হয়, তাহলে তার শাস্তি কী হবে, তা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে এর একমাত্র শাস্তি রজম তথা প্রস্তরাঘাতে হত্যা। বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত; সর্বাবস্থায় তাকে পাথর ছুঁড়ে হ-ত্যা করা হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা কওমে লূতকে পাথরবৃষ্টি দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। কারো মতে এর বিধান যিনা ও ব্যভিচারের অনুরূপ। বিবাহিত হলে র-জ-ম করে হ-ত্যা করা হবে, অবিবাহিত হলে একশ দোররা মারা হবে। হানাফী মাযহাব মতে এর শাস্তি ‘তাযীর’। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ যার জন্য যে শাস্তি যথোপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক মনে করবেন, তাকে তাই প্রদান করবেন, যাতে কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের সাহস না করে। এমনকি কেউ যদি লঘু শাস্তিতে নিবৃত্ত না হয়, প্রয়োজন মনে করলে তাকে হ-ত্যা করতে হবে। -ফাতহুল কাদির: ৫/২৬২-২৬৩; রদ্দুল মুহতার: ৪/২৭; আলমুগনি, ইবনে কুদামা: ৯/৬০-৬১ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ১০-০৭-১৪৪২ হি. ২৩-০২-২০২১ ইং

আক্রান্ত মুসলিম দেশের পার্শ্ববর্তী দেশের ওপর কখন জি-হা-দ করা ফরযে আইন হয়? প্রশ্ন: কোনো মুসলিম ভূমিতে কু-ফ-ফা-র-দে-র আগ্রাসন হলে যদি ওই এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে জি-হা-দ না করে, তাহলে কি অন্যান্য মুসলিমদের ওপর জি-হা-দ ফরয হয়ে যাবে? বিনীত আব্দুল কাদের উত্তর: হ্যাঁ, ওই এলাকার লোকজন জি-হা-দ না করলে পার্শ্ববর্তী মুসলমানদের ওপর জি-হা-দ ফরজে আইন হয়ে যাবে। পার্শ্ববর্তীরাও না করলে বা সক্ষম না হলে তাদের পার্শ্ববর্তীদের ওপর এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বের সকল মুসলমানের ওপর জি-হা-দ ফরযে আইন হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সামর্থ্যবানদের মধ্যে যারা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে না, তারা সবাই গুনাহগার হবে। আগ্রাসনের সময় জি-হা-দে-র বিধান সম্পর্কে ইবনু নুজাইম মিসরি রহ. (৯৭০ হি.) বলেন, فيجب على جميع أهل تلك البلدة، وكذا من يقرب منهم إن لم يكن بأهلها كفاية، وكذا من يقرب ممن يقرب إن لم يكن ممن يقرب كفاية أو تكاسلوا وعصوا وهكذا إلى أن يجب على جميع أهل الاسلام شرقا وغربا. اهـ “সে এলাকার সকলের ওপর জি-হা-দ ফরজ হয়ে যাবে। যদি তারা যথেষ্ট না হয়, তাহলে তাদের পার্শ্ববর্তীদের ওপর একই হুকুম বর্তাবে। যদি তাদের পার্শ্ববর্তী মুসলমানরাও যথেষ্ট না হয় অথবা (আল্লাহর) নাফরমানি করে অলসতা করে (জি-হা-দ না করে), তাহলে তাদের পার্শ্ববর্তীদের ওপর এই হুকুম বর্তাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে পূর্ব থেকে পশ্চিম; সমগ্র বিশ্বের সকল মুসলমানের ওপর জি-হা-দ ফরজ হয়ে যাবে।” -আলবাহরুর রায়েক: ১৩/২৮৯ ইবনু আবিদিন শামি রহ. (১২৫২ হি.) বলেন, الجهاد إذا جاء النفير إنما يصير فرض عين على من يقرب من العدو، فأما من وراءهم ببعد من العدو فهو فرض كفاية عليهم، حتى يسعهم تركه إذا لم يحتج إليهم. فإن احتيج إليهم بأن عجز من كان يقرب من العدو عن المقاومة مع العدو أو لم يعجزوا عنها، لكنهم تكاسلوا ولم يجاهدوا: فإنه يفترض على من يليهم فرض عين كالصلاة والصوم، لا يسعهم تركه ثم وثم إلى أن يفترض على جميع أهل الإسلام شرقا وغربا على هذا التدريج. اهـ “যদি শত্রুরা মুসলমানদের ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে (প্রথমত) জি-হা-দ ফরজে আইন হয় ওইসব মুসলমানের ওপর, যারা শত্রুর নিকটবর্তী। আক্রান্ত এলাকা থেকে যারা দূরে অবস্থান করছে, (শত্রু প্রতিহত করতে) যদি তাদের সাহায্যের প্রয়োজন না হয়, তাহলে তাদের ওপর জি-হা-দ করা (ফরজে আইন নয়; বরং) ফরজে কেফায়া। এ অবস্থায় তাদের জন্য জি-হা-দে শরীক না হওয়ার অবকাশ আছে। তবে যদি তাদের প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন শত্রুর নিকটে যারা রয়েছে, তারা শত্রু প্রতিরোধে অপারগ হল বা অপারগ হল না, কিন্তু অলসতাবশত জি-হা-দ করল না, তাহলে তাদের পার্শ্ববর্তীদের ওপর জি-হা-দ ফরজে আইন হয়ে যাবে; যেমন নামাজ-রোজা ফরজে আইন। তখন তাদের জন্য জি-হা-দ না করার অবকাশ থাকবে না। এভাবে তাদের পরের এবং তাদের পরের মুসলমানদের ওপর জি-হা-দ ফরজে আইন হতে থাকবে; পর্যায়ক্রমে পুর্ব থেকে পশ্চিম; সমগ্র বিশ্বের সকল মুসলমানের ওপর জি-হা-দ ফরজে আইন হয়ে যাবে।” -রদ্দুল মুহতার: ৪/১২৪ فقط، والله تعالى أعلم بالصواب আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদী উফিয়া আনহু ০১-০৪-১৪৪২ হি. ১৭-১১-২০২০ ইং

শহীদের দুনিয়াবি বিধান কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? প্রশ্নঃ আফগানিস্তানে কি এখনও হাকিকি শহীদের বিধান বাকি আছে? আমরা জানি যে, সেখানে যুদ্ধ নেই। এখন সেখানে কেউ যদি কোনো শত্রুর আঘাতে বা ট্রেনিং অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে কি সে হাকিকি শহীদ হবে? প্রশ্নকারী- মুস্তাফা আল-আরাবি উত্তরঃ হাকিকি শহীদের বিধান ও অবকাশ পৃথিবীর সর্বত্রই বিদ্যমান। চাই তা শত্রুমুক্ত কোনো স্বাধীন ইসলামী ভূমি বা দারুল ইসলাম হোক, কিংবা শত্রু কবলিত কোনো মুসলিম এলাকা হোক। এমনকি দারুর হারবেও হাকিকি শহীদ হওয়ার অবকাশ আছে। কারণ হাকিকি শহীদ হল: এক. যে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ‘কাতলে আমাদ’-এর শিকার হয়। ফিকহের পরিভাষায় ‘কাতলে আমাদ’ এমন হত্যাকে বলা হয়, যা অন্যায়ভাবে এবং ইচ্ছাকৃত ঘাতক অস্ত্র দ্বারা সংঘটিত হয়। অথবা দুই. যে মুসলিম জিহাদের রণাঙ্গনে শত্রুর আঘাতে নিহত হয় অথবা ডাকাত, সন্ত্রাসী, বিদ্রোহী কিংবা রাতের আঁধারে চোরের হাতে নিহত হয়। অথবা তিন. যে ব্যক্তি নিজের জান-মাল, পরিবার-পরিজন অথবা সাধারণ কোনো মুসলিম বা যিম্মির জীবন রক্ষা করতে গিয়ে শত্রুর হাতে নিহত হয়। অথবা চার. যে ব্যক্তিকে জিহাদের রণক্ষেত্রে মৃত অবস্থায় এমন আলামতসহ পাওয়া যাওয়া যায়, যা থেকে বুঝা যায়; সে শত্রুর আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছে। উপরের সকল ব্যক্তি তখনই হাকিকি শহীদ বলে গণ্য হবে, যখন তারা আহত হবার পর মৃত্যুর আগে দুনিয়াবি কোনো সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করবে না এবং সজ্ঞানে পূর্ণ এক ওয়াক্ত নামাযের সময় অতিবাহিত করবে না। যুদ্ধক্ষেত্রে এই শর্ত কার্যকর হবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে। –বাদায়েউস সানায়ে’ ১/৩২০; আদ্দুররুল মুখতার: ১২৪; ইলইখতিয়ার: ১/৯৭ সুতরাং বর্তমান আফগানিস্তানে যদি কোনো মুজাহিদ বা সাধারণ মুসলিম উপর্যুক্ত কোনো এক প্রক্রিয়ায় নিহত হন এবং উল্লেখিত শর্তটি বিদ্যমান থাকে, তাহলে তিনিও হাকিকি শহীদ বলে গণ্য হবেন এবং তাকে গোসল ছাড়া জানাযা পড়ে রক্তমাখা অবস্থায় দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, দুনিয়ার হুকুমে সকলে শহীদ হলেও সাওয়াব ও ফযীলতের দিক থেকে সকলে সমান নয়। জীবিকা অন্বেষণে বের হয়ে ডাকাতের হাতে মারা পড়া, আর আল্লাহর দ্বীন বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে জান-মাল সাথে নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করতে করতে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়া সমমর্যাদার হতে পারে না; বরং যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের জান-মাল বিলিয়ে দিয়ে শাহাদাত বরণ করেন, তাদেরও সকলের মর্যাদা সমান নয়। -সুনানে আবু দাউদ: ১৪৪৯ অতএব,উপরের সকল প্রকার শহীদ শুধু দুনিয়ার বিধান তথা গোসল ব্যতীত রক্তমাখা অবস্থায় দাফন করার ক্ষেত্রে বরাবর। পক্ষান্তরে আখিরাতের সাওয়াব ও মর্যাদা আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেককে প্রত্যেকের ইখলাস, নিয়ত ও আমল অনুযায়ী প্রদান করবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সর্বোত্তম শহীদদের কাতারে শামিল হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন। فقط، والله تعالى أعلم بالصواب. আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ২৫-০৩-১৪৪৪ হি. ২২-১০-২০২২ ঈ.

ধর্মনিরপেক্ষ নেতার কর্মীরা কি মুসলমান? প্রশ্ন: যদি কোনো দলনেতা নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে এবং তার কর্মীরা নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করে, তাহলে তাদের দাবি কতটুকু গ্রহনযোগ্য? প্রশ্নকারী- মাসুদুর রহমান উত্তর: ধর্মনিরপেক্ষ (সেকুলার) ব্যক্তি মুসলামান হতে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষতা ‍কু-ফু-র। সুতরাং যে দলনেতা ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরূপ জেনে বুঝে নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করবে, সে কা-ফে-র। আর কর্মীদের সকলের বিধান সমান নয়। দলনেতার কু-ফু-রে-র কারণে তারাও কা-ফে-র হয়ে যাবে না। তাদের বিধান তাদের আকিদা বিশ্বাস ও কর্মের ওপর ভিত্তি করেই আরোপিত হবে। যারা ধর্মনিরপেক্ষতা বা অন্য কোনো কু-ফ-রি মতবাদ বা বিশ্বাসে বিশ্বাসী কিংবা কোনো কু-ফ-রি কর্মে লিপ্ত, তারা কা-ফে-র হবে। আর যারা কোনো হারামে লিপ্ত তারা ফাসেক। অনতিবিলম্বে এ ধরনের দল থেকে ফিরে এসে তাদের তওবা করা জরুরি। উল্লেখ্য, মুসলিম দাবিদার কোনো ব্যক্তি যে কোনো কু-ফু-রি কাজ করলেই তাকে সুনির্দিষ্টভাবে কা-ফে-র আখ্যায়িত করে তার ওপর কু-ফু-রে-র বিধান আরোপ করা যায় না। সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে কা-ফে-র আখ্যায়িত করার জন্য শরীয়তে বেশ কিছু বিধি নিষেধ আছে। সেগুলোর আলোকে তার অবস্থা বিশ্লেষণ করে একজন বিজ্ঞ আলেমই শুধু কারো ওপর সুনির্দিষ্টভাবে কা-ফে-রে-র বিধান আরোপ করতে পারেন। সাধারণ মানুষের জন্য তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিধান জানার জন্য তারা বিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হবে। فقط، والله سبحانه وتعالى أعلم আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু) ১১ ই যুলকা’দাহ, ১৪৪১ হি. ৩ রা জুলাই, ২০২০ ইং