en
Feedback
নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের

নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের

Open in Telegram

টেলিগ্রাম চ্যানেল। অনলাইন দুনিয়ার কাছের মানুষদের টাচে রাখার প্রয়াস। চিন্তাভাবনা আর দৈনন্দিন কার্যক্রম জনপরিসরে শেয়ার করার প্রচেষ্টা থাকবে।

Show more
781
Subscribers
+724 hours
+127 days
+5230 days
Posts Archive
photo_2023-12-22_12-34-59.jpg1.73 KB

যে ব্যক্তি মানুষের দোষ ত্রুটি ছাড়া দেখতে পায়না তার দৃষ্টান্ত হলো এমন ব্যক্তির মত যার নাকে দূর্গন্ধ ছাড়া লাগেই না। শেষে আবিস্কার হয়, সেই দূর্গন্ধের উৎস হলো তার নিজেরই শরীর। -শায়খ হাজ্জাজ আল-'আজামি

ফেসবুকে দারুণ দারুণ লেখা দেখি। জ্ঞানী মানুষদের লেখালেখি থেকে জ্ঞান আহরণ করি। কী দারুণ লিখিয়ে চারপাশে!  একই সাথে হতাশ হই। উচ্চ মানের লেখায় খুব সাধারণ বানান ভুল। আমি বানান এক্সপার্ট নই, খুবই সাধারণ পড়ুয়া। বানানের কিছু সাধারণ ভুল আমার মতো অজ্ঞ লোকের চোখও আটকে যায়। একটু সচেতন হলে আমরা অন্তত কমন মিসটেক থেকে দূরে থাকতে পারি৷ বাংলা বানান অনেক কিছুর সাথে জড়িত। আমি নিজেও অনেক ভুল করি। এখানে কয়েকটা মৌলিক বিষয় তুলে ধরছি, হয়তো সামান্য উপকৃত হবেন। অন্তত সোস্যাল মিডিয়াতে লেখালেখি কিছুটা হলেও সঠিক বানানে বন্ধুদের সামনে উপস্থাপিত হবে৷  এই ভুলগুলো আমরা করব না— —কখনো ক্রিয়াপদের সাথে 'না' একসাথে হয় না। যায়না, খায়না, বলেনা, খেলেনা—ভুল বানান৷ যায় না, খায় না, বলে না, খেলে না—শুদ্ধ বানান।  —'কোন' আর 'কোনো' শব্দ দুটো বহুল ব্যবহৃত; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এই শব্দ দুটোর ব্যবহারে বেশ ভুল করি৷ কোন কোন বই তুমি পছন্দ করো আর কোনো বই-ই আমার পছন্দ নয়। সাধারণত আমরা সবসময় 'কোন' শব্দ ব্যবহার করি। আসলে ইংরেজি Which শব্দের অর্থে 'কোন' আর Any শব্দের অর্থে 'কোনো' ব্যবহৃত হয়। যেকোন নয়, যেকোনো।  —বিদেশি যেকোনো শব্দের ক্ষেত্রে সাধারণ একটা ব্যাপার মাথায় রাখুন—সর্বদা ই-কার হবে; ঈ-কার নয়। মীস্টার, আরবী, ইংরেজী, হিন্দী—ভুল বানান। মিস্টার, আরবি, ইংরেজি, হিন্দি—শুদ্ধ বানান৷ বহুল প্রচলিত কিছু রিলিজিয়াস আরবি শব্দ ব্যতিক্রমী হিসেবে ঈ-কার হতে পারে; ঈদ, নবী। বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ষ কিংবা শ হয় না সাধারণত; স ব্যবহার করতে হয়। স্কুল, সিস্টার, সিস্টেম, সুপার।  —আমরা এখনো অনেকে দোষ ‘শিকার’ করি, আবার পাখি ‘স্বীকার’ করি! এগুলো ভুল। কোনো কিছু কবুল করা মানে 'স্বীকার করা' আর কোনো কিছু ধরাশায়ী করা মানে 'শিকার করা'।  —একটা কমন মিস্টেকের দুটো শব্দ—মত আর মতো৷ শিহাবের চেহারা ঠিক তামিমের মত। এখানে 'মত' ভুল বানানে লেখা হয়েছে৷ মতামত অর্থে 'মত' ব্যবহৃত হয় আর সদৃশ অর্থ বুঝাতে 'মতো' ব্যবহার করতে হবে৷  'এ ব্যাপারে আমার মত হাসিবের মতের মতো নয়।'  —‘পরা’ আর ‘পড়া’ নিয়েও আমরা বেশ সমস্যায় পড়ি। কেবল পরিধান করা অর্থে ‘পরা’ এবং বাকি সব ক্ষেত্রে ‘পড়া’ এটা আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুলে যাই!   —টা, টি, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ—প্রভৃতি শব্দগুলো কোনো বচনের পরে আমরা অনেক সময় আলাদা করে লিখে থাকি। অর্থাৎ বই গুলি, গ্রন্থ সমূহ, শিক্ষক গণ—এমনভাবে লিখি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে। তাই লিখতে হবে—বইগুলি, গ্রন্থসমূহ, ছেলেরা, শিক্ষকগণ, অতিথিবৃন্দ প্রভৃতি। —নয়, নই এবং চায়, চাই নিয়ে অনেকে গণ্ডগোল হয় বেশ। অনেকে লিখি—আমার মন চাই তোমাকে সহযোগিতা করি। ভুল। খেয়াল রাখা দরকার—উত্তম পুরুষের সাথে সব সময় নই/চাই; মধ্যম পুরুষের সাথে নও/চাও; নাম পুরুষের ক্ষেত্রে নয়/চায়।  আমি/আমরা হলে নই, চাই; তুমি/তোমরা হলে নও/চাও; সে/রহিম/করিম/তারা হলে নয়, চায়।  আমি সাহসী নয়—ভুল। আমি সাহসী নই—সঠিক। তুমি সাহসী নয়—ভুল।  তুমি সাহসী নও—সঠিক।  তারা সাহসী নই—ভুল। তারা সাহসী নয়—সঠিক। আমি কলমটি চায়—ভুল। আমি কলমটি চাই—সঠিক।  সে/তারা কলমটি চাই—ভুল। সে/তারা কলমটি চায়—সঠিক।  (এগুলো সাধারণ ভুল, যতটা সম্ভব আমাদের লেখালেখি নির্ভুল হওয়া চাই। একটা ভালো লেখার আবেদন দৃষ্টিকটু বানান ভুলের কারণে কমে যায়।) 

দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াতের হরতালের সমর্থনে মিছিল
+2
দুপচাঁচিয়া উপজেলা জামায়াতের হরতালের সমর্থনে মিছিল

কুরআন যদি মুহাম্মাদ ﷺ কতৃক রচিত হতো, তাহলে কুরআনের ভাষার সাথে তাঁর অন্যান্য কথাবার্তা ও ভাষার মিল থাকাটা অবশ্যম্ভাবী ছিল। কারণ মানুষ সাধারণত সৃষ্টিকর্মে নিজের ছাপ রেখে যায়। অর্থাৎ প্রতিটি সৃষ্টিকর্মে তার শিল্পীর প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। মুহাম্মাদ ﷺ-এর হাজার হাজার হাদিস সংরক্ষিত আছে। সাহাবা, তাবেয়িন, তাবে-তাবেয়িনদের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম প্রতিটি হরফসহ অপরিবর্তিত আছে। সম্প্রতি কুরআনের ভাষার সাথে হাদিসের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষত : কুরআনের সাথে সহিহ বুখারির ভাষার তুলনা করা হয়েছে। সহিহ বুখারি হলো হাদিসগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। গবেষণার পর সব রকমের ভাষাতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, কুরআন ও হাদিস এদুয়ের প্রবক্তা ভিন্ন। যে সকল ভিত্তির ওপর এ উপসংহারে আসা হয়েছে, তার কিছু নিম্নরূপ : • ✅এক অক্ষর দিয়ে তৈরি শব্দ কুরআনে অনেক বেশি পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে,  কন্তিু হাদিসে এর ব্যববহার তেমন একটা দেখা যায় না। • ✅কুরআনে হাদিসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যকবার নয় ও দশ অক্ষরের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এখান থেকে বোঝা যায়, কুরআনে হাদিসের তুলনায় দীর্ঘতর শব্দের ব্যবহার হয়েছে বেশি (আট অক্ষরের বেশি)। • ✅সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলোÑহাদিসে ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে ৬২ শতাংশ শব্দই কুরআনে পাওয়া যায় না। আবার কুরআনের ৮৩ শতাংশ শব্দ হাদিসে নেই। শব্দের এই বড়ো হেরফের থেকেও এটা স্পষ্ট হয়, কুরআন ও হাদিসের উৎস ভিন্ন। কুরআন যদি আসলেই মুহাম্মাদ ﷺ-এর রচিত হতো, তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব, ২৩ বছর যাবৎ তিনি সব সময় স্পষ্ট পার্থক্য রেখে দুটো ভিন্ন স্টাইলে কথা বলে আসছেন? কুরআনের অনেকগুলো আয়াত হঠাৎ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে নাজিল হয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা করে ভিন্ন রীতি অনুসরণ করার সময়-সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই ছিল না, তবুও কীভাবে কুরআন ও হাদিসের ভাষাভঙ্গিতে আলাদা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রাখা সম্ভব? এটা  নবিজির রচনা হলে এই পাথক্য কখনোই সম্ভব হতো না। আবার মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর নবুয়তি ও দাওয়াতি জীবনে অনেকগুলো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর সন্তানের মৃত্যু, প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা রা.-এর ইন্তেকাল, অবরুদ্ধ অবস্থায় তিন বছর কাটানো, ঘনিষ্ঠ সাহাবাদের ওপর চলমান অকথ্য অত্যাচার, এমনকী হত্যার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে কুরআনের মতো সুস্থির সাহিত্যরীতি রক্ষা করা অসম্ভব। কুরআন তাঁর রচনা হলে এতে এই সমস্ত আবেগের প্রতিফলন পাওয়া যেত, কিন্তু কুরআনে এগুলোর কোনো প্রতিফলন নেই। হাদিসে নববিতে তাঁর এই আবেগগুলো উঠে এসেছে। আপনি হাদিসের কিতাবগুলোতে দেখবেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, কিন্তু কুরআনের ভাষায় সেই উঠানামা নেই। কুরআনের ভাষায় আল্লাহ তায়ালা অবিরতভাবে তাঁর ইলাহি গুণ ধরে রেখেছেন। ওয়ার্ল্ড বেস্টসেলার বই ‘দি ইটার্নাল চ্যালেঞ্জ’ বই থেকে...

পৃথিবীতে পা রাখছে, এমন প্রত্যেক শিশুর জন্য এ এক সারপ্রাইজ গিফট। প্রথমত, দারুণ খুশি হবে নবজাতকের মা-বাবা। দ্বিতীয় খুশির জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে, নবজাতক বুঝতে শিখবে যখন। এই ডায়েরি নবজাতকের জন্ম থেকে ১০ বছর পর্যন্ত খুটিনাটি ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখবে। সকল নবজাতকের জন্য এটি গিফট আইটেম। কোনো স্বজনের নবজাতককে দেখতে গেলে এই উপহার সাথে নেবেন। অত:পর ফিডব্যাক কেমন, দেখবেন ইনশাআল্লাহ।

টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে গার্ডিয়ানের যেকোনো দুটি বইয়ে উপভোগ করুন ২৫% ছাড় (ফিক্সড প্রাইসের ওপর)! শুধু তা-ই নয়, ১০০ জন অর্ডারকারী পাচ্ছেন ১টি মূল্যবান বই একদম ফ্রি! (লটারির মাধ্যমে ১০০ জনকে নির্বাচন করা হবে) চ্যানেল লিংক : https://t.me/guardianpubs

সময় এখন দম ধরে রাখার... আপনি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখুন—সময় জিনিসটাই ঘুর্নায়মান। ভালো কিংবা খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়। আপনি মজলুম হয়ে থাকুন, কখনোই জালিম হবেন না। আপনি আল্লাহর কাছে মজলুম হয়ে পৌঁছে যান, ফায়দা আছে। ভুলেও কোনো কঠিন সময়েও জালিম হবেন না। তবে প্রতিরোধ আর জুলুম শব্দের বিস্তার ফারাক নিশ্চয়ই বোঝেন। প্রতিকূল সময়ে নেতৃত্বের ব্যাপারে অহেতুক প্রশ্ন তোলে কেবল নৈরাশ্যবাদীরা। মনে রাখবেন—পরাজিত মানুষের ভুল ধরতে বিশেষজ্ঞ হতে হয় না, বিজয়ীর ভুল সাহস বলে বিবেচিত হয়। আজকের জয় চূড়ান্ত কিছু নয়, আজকের পরাজয় চূড়ান্ত পরাজয় নয়। আপাত পরাজয়ের ছিদ্রান্বেষণ না করে সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে ভাবুন৷ কঠিন পরিস্থিতিতে হামেশাই মন্তব্য পরিহার করুন। পরিস্থিতির উত্তপ্ততায় আপনার মন্তব্য খানিকবাদেই ইনভ্যালিড হয়ে যেতে পারে। তখন লজ্জিত হবেন। আপনি আমৃত্যু সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকুন। যা কিছুকে আপনি সত্য ও ধ্রুব মনে করেন, তা নিয়ে কেবল সময়ের ফোঁড়নে হতাশ হবেন না। পাথরে ফুল ফোটানোর আয়োজনই তো করেছেন! আপনার অধিকার ছিনতাই হতে পারে জুলুমের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে, কিন্তু আপনার বিশ্বাস ও বোধ কারও কাছে ছিনতাই হতে দেবেন না। আপনার কলিজা ছিঁড়ে কেউ বিশ্বাস কেড়ে নিতে পারবে না। এই বিশ্বাস আপনাকে একদিন বিজয় মাল্য উপহার দেবে৷ অনেক কিছু হয়েছে, অনেক কিছু হবে। আপনি কিছু করলেও হবে, না করলেও হবে। আপনি পেরেশান হলেও হবে, শান্ত থাকলেও হবে। প্রশ্নটা হলো, আপনি এই কাঠিন্যকে কীভাবে পাড়ি দিচ্ছেন। প্রস্তুতি নিন—দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে আপনার। দমটা ধরে রাখুন। ফুল এখনো ফোটেনি...

এখানে তো এমন কিছু আছে- যা আপনার অশান্ত মনকে প্রশান্ত করবে, কলুষিত হৃদয়কে পবিত্রতার চাদর পরিয়ে দেবে, আঁধারের মেঘ কেটে আশার আলোকচ্ছটা এনে দেবে। হতাশার সমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়া আপনাকে আশার ভেলায় উঠিয়ে দেবে। এমন কিছু এখানে পাবেন, যা দিয়ে আপনি পঙ্কিলতা ছুড়ে ফেলে আত্মসমর্পণের নুড়ি পাথরে চুমো দেবেন তওবার আলিঙ্গনে। আর হ্যাঁ, আপনার কোনো বন্ধু কিংবা স্বজনকে বইটা গিফট করার কিছুদিন পর তার ফিডব্যাক নেবেন আশা করি এবং কোনোভাবে আমাকে জানাবেন প্লিজ। [মাঝেমধ্যে খারাপ লাগে, কেন এই গ্রন্থগুলো পাঠকদের কাছে হাজির করতে পারছি না। আত্মদহনে পুড়ছি। ইনশাআল্লাহ, গার্ডিয়ানের আরও কিছু আন্ডাররেটেড বই আপনাদের সামনে হাজির করার নিয়ত করেছি।]

‘মানুষ! তুমি যদি দুনিয়ার কোনো বাদশাহর দরজায় যাও, হতে পারে সে তোমাকে অভ্যর্থনা জানাবে না এবং তোমার প্রতি লক্ষপাতও করবে না। এমনকী এও হতে পারে, সে তোমাকে তার কাছেও ভিড়তে দেবে না। কিন্তু সকল বাদশাহর বাদশাহ বলছেন- “যে ব্যক্তি আমার দিকে হেঁটে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে দৌড়ে যাই।” তবুও তুমি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য কিছুর পেছনে দৌড়াচ্ছ! তুমি সবচাইতে জঘন্যভাবে প্রতারিত হয়েছ এবং পথ হারিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়েছ।’ তেরো. ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেছেন- ‘তোমার দীর্ঘশ্বাস ও অনুতাপের বের হওয়া নিশ্বাস আকাশে উড়ে যায় এবং মেঘমালা তৈরি করে; যে মেঘ থেকে তোমার ওপর ক্ষমার বৃষ্টি ঝড়ে পড়ে। তুমি যদি তোমার গালে অনুতাপের এক ফোঁটা অশ্রু ঝড়াও, সে অশ্রু তোমার মরু হৃদয়ে প্রাণের সঞ্চার করবে।’ চৌদ্দ. লোকমান হাকিমের উপদেশ- ‘তুমি যদি নামাজে থাকো, তাহলে তোমার হৃদয়ের দিকে লক্ষ রাখো। তুমি যদি খাওয়ার মধ্যে থাকো, তাহলে গলার দিকে লক্ষ রাখো। তুমি যদি অন্য মানুষের ঘরে যাও, তাহলে নিজ চোখের দিকে লক্ষ রাখো। তুমি যদি মানুষের মাঝে থাকো, তাহলে নিজ জিহ্বার দিকে লক্ষ রাখো। দুটি জিনিসকে মনে রাখবে এবং দুটি জিনিসকে ভুলে যাবে। মনে রাখবে আল্লাহ ও মৃত্যুকে। ভুলে যাবে তোমার জীবনে করা ভালো কাজগুলো, যা তুমি অন্যের জন্য করেছ এবং মন্দ কাজগুলো- যেগুলো লোকেরা তোমার সাথে করেছে।’ পনেরো. ইয়াসমিন মুজাহিদ বলেন- ‘কল্পনা করুন।-আপনি এমন একজনের সাথে কেনাকাটা করতে গেছেন, যাকে আপনি ভালোবাসেন। না, কেবল ভালোবাসেন না; বরং পাগলের মতো ভালোবাসেন। এখন মনে করুন, তিনি আপনার জন্য একটি বিশেষ স্টাইল ও বিশেষ রঙের একটি গিফট পছন্দ করলেন। আপনার তখন কেমন অনুভতি হবে? নিশ্চয় আপনি আনন্দে উদ্বেলিত হবেন। গিফটটি আপনার পছন্দ হোক বা না হোক, নিশ্চয়ই যত্ন করে গিফটটি রেখে দেবেন। এটি আপনি করবেন উপহারটির জন্য নয়; বরং উপহারদাতার জন্য। কেননা, উপহারদাতা আপনার হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।’ একইভাবে আপনার জীবনে এমন কিছু জিনিস, পরিস্থিতি ও ঘটনা ঘটে, যেগুলোকে আল্লাহ আপনার জন্য পছন্দ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আপনি সেই গিফটগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট কি না। উপহারদাতার পছন্দ নিয়ে আপনার ভেতর অভিযোগ পুঞ্জীভূত হয়েছে, নাকি সন্তুষ্টি জমা হয়েছে? যদি দেখতে পান আল্লাহর বাছাই করা গিফটগুলো নিয়ে আপনি অসন্তুষ্ট, তাহলে ধরে নিন- আল্লাহকে জগতের সবকিছুর চাইতে বেশি ভালোবাসার প্রশ্নে আপনি পিছিয়ে আছেন। আপনি যদি আল্লাহকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসতেন, তাহলে আপনার জন্য তাঁর পছন্দ নিয়ে আপনি অসন্তুষ্ট হতেন না।’ ষোলো. হাসান আল বসরি (রহ.)-কে কোনো এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিল-‘আপনার ধার্মিকতার গোপন রহস্য কী? তিনি জবাবে বলেছিলেন-‘আমি চারটি জিনিস বুঝে নিয়েছি- ১. আমি বুঝে নিয়েছি, আমার রিজিক আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এবং কেউ তা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। ফলে আমার হৃদয় প্রশান্ত হয়ে গেছে। ২. আমি বুঝে নিয়েছি, আমার ইবাদত অন্য কেউ করে দিতে পারবে না। ফলে আমি নিজেই তা করা শুরু করে দিয়েছি। ৩. আমি বুঝে নিয়েছি, আল্লাহ আমাকে দেখছেন। কাজেই আমি কোনো পাপ করতে লজ্জাবোধ করি। ৪. আমি বুঝে নিয়েছি, আমার জন্য মৃত্যু অপেক্ষা করছে। তাই আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছি।’ এই ১৬টি অ্যাডভাইস গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স-এর অন্যতম আন্ডাররেটেড বই 'টাইমলেস অ্যাডভাইস' থেকে তুলে ধরলাম। বইটিকে আন্ডাররেটেড এ জন্য বললাম, অনেক পাঠকের কাছে আমরা এই অসাধারণ মণিমুক্তাগুলো তুলে ধরতে পারিনি। মাত্র ৭৮ পৃষ্ঠার ছোট্ট বই। ১০৮টি উপদেশ আছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের কিছু ঐতিহাসিক উপদেশ আছে এখানে। ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কায়্যিম, ইবনে জাওজি, ইমাম গাজালি, হাসান আল বসরি (রহ.)দের মুখনিঃসৃত সংক্ষিপ্ত কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপদেশ বিবৃত হয়েছে এই ৭৮ পৃষ্ঠায়। অনুবাদক রোকন উদ্দিন খান ভাই সম্পর্কে আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন। আমি আফসোস করি, কেন ভাই এত কম অনুবাদ করেন। আল্লাহ তায়ালা সবার কলমে সাবলীলতা দান করেন না, যা রোকন ভাইকে দিয়েছেন। কঠিনকে সহজ করার এক দুর্লোভ যোগ্যতা তার। এই রিভিউ লিখতে গিয়ে বইটা আবার পড়লাম। ১০৮টি উপদেশ যেন ১০৮ অধ্যায়ের নির্যাস। এক একটা উপদেশ পড়ে কিছুক্ষণ ভেবেছি, নিজের জীবনের দিকে তাকিয়েছি। কখনো হতাশ হয়েছি, আবার প্রত্যয় পেয়েছি, স্বপ্ন বুনেছি। আত্মসমালোচনার উপাত্ত পেয়েছি। আরও অনেককিছু করার আছে, জীবনকে শুধরে নেওয়ার বাকি আছে ঢের। সম্মানিত পাঠক, ১০৮টি মণিমুক্তো এখানে সাজিয়ে রাখা আছে। জ্ঞান-সাগরের তীরে ঘুরে বেড়ানো মুসাফির হিসেবে খুঁজে নিন আপনারটা। চাইলে সবগুলো নিয়ে যেতে পারেন, চাইলে কেবল আপনার পছন্দেরটা। দেখুন তো, বাদ দিতে পারেন কি না!

বুক রিভিউ বইঃ টাইমলেস এ্যাডভাইস লেখকঃ বি. বি. আব্দুল্লাহ অনুবাদকঃ রোকন উদ্দিন খান পৃষ্ঠাঃ ৭৮ মূল্যঃ ১০০ টাকা (ফিক্সড প্রাইস) [কোনো আলাপ ছাড়া বইটি থেকে কিছু অ্যাডভাইস তুলে ধরব। আমি নিশ্চিত মাত্র ১৬টি অ্যাডভাইস ফ্রি পেয়ে আপনি ধন্যবাদ জানাবেন। আচ্ছা, ধন্যবাদ লাগবে না, মনে মনে দুআ করবেন এই অ্যাডভাইসগুলো যেন ব্যক্তিজীবনে আমি অনুশীলন করতে পারি।] এক. বনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ‘শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) একবার আমাকে বলেছিলেন-“যদি কোনো রাখালের পোষা কুকুর তোমার দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে এবং আক্রমণ করার জন্য উদ্যত হয়, তাহলে তুমি সেই কুকুরের সাথে লড়তে যেয়ো না; তুমি বরং কুকুরের মালিক রাখালের দিকে ফিরে যাও এবং তার সাহায্য চাও- যাতে তিনি তার পশুকে শেকলবন্দি করেন এবং তোমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।” [বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে রাইট ক্লিক গুরুত্বপূর্ণ। আপরা প্রত্যেকেই উদ্ধার পেতে চাই, উদ্ধার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্ন নাই; কিন্তু উত্তোরণের পথ পুনর্বিবেচনা করা দরকার।] দুই. হাসান আল বসরি (রহ.) বলেছেন- ‘বুদ্ধিমান মানুষের জিহ্বা থাকে তার হৃদয়ের পেছনে। সে যদি কোনোকিছু বলতে চায়, তাহলে সে প্রথমে হৃদয়ের সাথে পরামর্শ করে- কথাটি কী সে আদৌ বলবে, না কী চুপ থাকবে। আর নির্বোধ লোকের জিহ্বা থাকে তার হৃদয়ের সামনে। সে যদি কোনো কিছু বলতে চায়, তখন জিহ্বাকে সে প্রথমেই তা বলার নির্দেশ দেয়।’ [কথা ঠিক তীরের মতো, বেড়িয়ে গেলে আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তীর ছুঁড়বেন কি ছুঁড়বেন না, সে সিদ্ধান্ত ফাইনাল করবেন তীরন্দাজ আপনিই।] তিন. ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেছেন- ‘তুমি যদি আল্লাহর কাছে তোমার মান কেমন তা জানতে চাও, তাহলে লক্ষ করো- আল্লাহ তোমাকে কীভাবে ব্যবহার করছেন এবং কোন কাজে তিনি তোমাকে ব্যস্ত রেখেছেন।’ [আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে বান্দা হিসেবে এখন কীভাবে দেখছেন, তা বুঝতে একবার নিজের দিকে তাকাতে হবে। আপনি যদি পবিত্রতা আর আমলে সালেহতে ডুবে থাকেন, তাহলে বুঝবেন আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কল্যাণের চোখেই দেখছেন। আর যদি এখনও অপরাধে ডুবে আছেন জানেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ঠিক সেভাবেই দেখছেন, পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। নচেৎ বিপদ আসন্ন।] চার. নামান আলি খান বলেছেন- ‘যখন আপনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আর ভাবছেন আল্লাহ কোথায়? তখন জেনে রাখুন- পরীক্ষার সময় শিক্ষক সাধারণত নীরব থাকেন।’ পাঁচ. ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেছেন- ‘তোমার জীবনের জাহাজ গোরস্থানের তীরের কাছে এসে পড়েছে। তোমার কী হয়েছে যে তুমি জাহাজের ভেতর মালামাল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছ?’ [জাহাজ তীরে আসলে প্রায়োরিটি নেমে যাওয়ার চেষ্টা করা। মালামাল সংগ্রহে এতটা ব্যস্ত হয়ে যাওয়া উচিৎ নয়, যা তীরে নামাকে ভুলিয়ে দেয়।] ছয়. উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদি.) বলেছেন- ‘দুআর জবাব নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই; বরং দুশ্চিন্তা হলো আমার দুআ নিয়ে। কেননা, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছ থেকে দুআ করার তাওফিক লাভ করেছে, সে শীঘ্রই তার দুআর জবাব পাবে।’ [দুআ করার তৌফিক যখন কেউ পায়, তখন তা কবুলের পেরেশানিতে থাকা উচিৎ নয়। দুআর সুযোগ যখন পেয়েছে, কবুলের সুযোগও আসবে। চিন্তিত হওয়া উচিৎ, আমি কন্টিনিউ দুআ করার সুযোগ পাচ্ছি কিনা।] সাত. ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন- ‘দুনিয়াটা ছায়ার মতো। তুমি যদি এর পেছনে দৌড়াও, তাহলে কখনো একে ধরতে পারবে না। কাজেই তোমার কাজ হবে দুনিয়া থেকে নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে উলটো পথে যাত্রা করা। দেখবে, দুনিয়া তখন তোমাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করছে।’ আট. ইমাম গাজালি বলেন, ‘ওহে বন্ধু! তোমার কাফনের কাপড় হয়তো ইতোমধ্যে কাটা হয়ে গেছে এবং ইতোমধ্যে হয়তো তা বাজারেও চলে গেছে; অথচ তুমি এখনও বেখেয়াল হয়ে আছো?’ নয়. হাসান আল বসরি (রহ.) বলেছেন- ‘তোমার বর্তমান জীবনটাকে বিক্রি করে দাও পরবর্তী জীবনের বিনিময়ে; এতে তুমি উভয়টিই লাভ করবে। আর যদি পরবর্তী জীবনকে বিক্রি করে দাও বর্তমান জীবনের বিনিময়ে, এতে তুমি উভয় জীবনই হারাবে।’ দশ. ইবনুল কাইয়্যুম বলেন- ‘যে ব্যক্তি তার খেয়াল-খুশি ও কামনা-বাসনার বিপরীতে চলে, শয়তান তার ছায়াও মাড়ায় না।’ [শয়তানের ঠ্যাকা পড়েনি তার কাছে যেতে, যে নিজের খায়েশ মতো চলে। শয়তানের সময় এই আহম্মকের পেছনে খরচ করার কোনো দরকার নাই। শয়তান তার কাছে যাবে, যে নিজের সক্ষমতা আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে।] এগারো. হাসান আল বসরি (রহ.) বলেছেন- ‘শান্তি ও স্বস্তির সময় মানুষ একই রকম থাকে। কিন্তু যখন তার কাছে কঠিন পরিস্থিতি ও পরীক্ষা এসে উপস্থিত হয়, তখন তার প্রকৃত চেহারা বের হয়ে আসে।’ [আপনি লোকটা কেমন তা বুঝার উত্তম সময় হলো কোনো ক্রাইসিসে ঠিক কীভাবে আপনি রোল প্লে করেন। আপনার ভেতরটা বের হয়ে আসে পরীক্ষার সময়। ভালো সময়ে সবাই-ই বীর, প্রজ্ঞাবান, মেধাবী।] বারো. ইবনে রাজাব আল হাম্বলি (রহ.) বলেছেন-

গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স-এর ১৬১টি বইয়ের তালিকা পিডিএফ

Guardian Publications Book List.pdf · version 14.39 MB

এসব প্রশ্ন অবশ্যই প্রাসঙ্গিক— ০১. কোন শক্তি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে এই জাতীয় দুর্যোগে এখনো একসাথে মিছিল করতে দিচ্ছে না? সত্যিই কি পরিবর্তন প্রত্যাশী কেউ এই ঐক্যে ভিন্নমত পোষণ করতে পারে? ০২. যেভাবে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, নি:সন্দের কর্মীরা বড়ো ঝুঁকি নিচ্ছে। তৃণমূলের কর্মীদের সাহসের তারিফ করছি৷ কিন্তু প্রকাশ্যে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে না গেলে কি আন্দোলনের ইমপ্যাক্ট তৈরি করা সম্ভব হবে? ০৩. হরতাল-অবরোধ চলতেই থাকবে? নাকি ইসি, সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি আসবে? আসলে কবে? জনতার বিজয় অনিবার্য। কিন্তু খেয়ালিপনা করা যাবে না একদম।