en
Feedback
প্রজন্ম

প্রজন্ম

Open in Telegram

সবাই মিললে শক্তিশালী ✊

Show more
307
Subscribers
No data24 hours
-17 days
-1030 days
Posts Archive
শিক্ষার্থীরা মাঠ কাঁপাবে, সাইবার যোদ্ধারা অনলাইন কাঁপাবে, আর প্রবাসীরা রেমিটেন্স কাঁপাবে।সবাই এক হলে আমাদের জয় হবে ইনশাআল্লাহ।

ডিবি অফিসে আটক থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কের বিবৃতি: গত ২৬শে জুলাই ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে ডিবি পুলিশ জোরপূর্বক মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে আসে। মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ছিল। ২৭শে জুলাই সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে সাইন্সল্যাব থেকে জোরপূর্বক ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে আসা হয়। ২৮শে জুলাই সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে ভোররাতে বাসা ভেঙে জোরপূর্বক ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয়। মূলত আন্দোলন ও নেতৃত্বকে ছত্রভঙ্গ করতেই ১৯ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের গুম, গ্রেফতার, নির্যাতন ও হয়রানি করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় 'নিরাপত্তা'র নামে ছয় সমন্বয়ককে সাতদিন ধরে ডিবি হেফাজতে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিবি প্রধান নিরাপত্তার কথা বললেও আমাদেরকে আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার জন্যই ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আমরা গুম, গ্রেফতার ও নির্যাতন থেকে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম; আমরা আমাদের মত প্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূতভাবে আমাদেরকে ডিবি হেফাজতে আটকে রাখা হয়। প্রথমে নিরাপত্তার কথা বললেও পরে আদালতের কথা বলা হয়। আদালতের আদেশ ছাড়া নাকি আমাদের ছাড়া যাবে না। যারা নিরস্ত্র ছাত্র-নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে তাদের হেফাজতে কেউই নিরাপদে থাকতে পারে না। সরকারের কাছে আমরা এই প্রহসনের নিরাপত্তা চাই না ৷ আমরা আমাদের ভাই বোনদের খুনের বিচার চাই। আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে প্রচারিত ছয় সমন্বয়ককের ভিডিও স্টেটমেন্টটি আমরা স্বেচ্ছায় দেইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সিদ্ধান্ত ডিবি অফিস থেকে আসতে পারে না। সারাদেশের সকল সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে না। ডিবি অফিসে আমাদের জোর করে খাবার টেবিলে বসিয়ে ভিডিও করা হয়। আমাদের ছেড়ে দেবার আশ্বাস দিয়ে পরিবারকে ডেকে ১৩ ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং মিডিয়ায় মিথ্যা স্টেটমেন্ট দেওয়ানো হয়। আমাদের শিক্ষকরা দেখা করতে আসলে, দেখা করতে দেওয়া হয়নি। অন্যায়ভাবে সমন্বয়কদের আটক, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গত ৩০ জুলাই রাত থেকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের ডিবি অফিসে আটক অবস্থায় অনশন কর্মসূচী শুরু করেন। পরবর্তীতে সে খবর জানামাত্র সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুলাহ ও নুসরাত তাবাসসুমও অনশন শুরু করেন। অনশনের কথা পরিবার ও মিডিয়া থেকে গোপন করা হয়। প্রায় ৩২ ঘন্টারও অধিক সময় অনশনের পরে ডিবি প্রধান ছয় সমন্বয়ককে মুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে অনশন ভাঙা হয়। আমাদেরকে পহেলা অগাস্ট দুপুর ১.৩০ টায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। গত সাতদিন ডিবি অফিসে আমাদের ও আমাদের পরিবারের সাথে নানা হয়রানি, নির্যাতন ও নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্দেশেই আমাদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ছাত্র-নাগরিকের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সরকার এখনো শিক্ষার্থীদের উপর দমননীতি অব্যাহত রেখেছে এবং সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করছে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাধা প্রদান করছে। ছাত্র-নাগরিক হত্যার বিচার ও আটককৃত নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। সারাদেশে ছাত্র-নাগরিকদের প্রতি আহ্বান থাকবে সরকারের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ও দমন-পীড়নকে তোয়াক্কা না করে রাজপথে নেমে আসুন। শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না। বার্তা প্রেরক— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম সারজিস আলম হাসনাত আব্দুল্লাহ আসিফ মাহমুদ নুসরাত তাবাসসুম আবু বাকের মজুমদার

মাদকাসক্ত, দুর্নীতিবাজ, অমানবিক, ইভটিজার, চোর,বাটপার, অসৎ, অভদ্র সব ছেলেগুলো বিবির। ভদ্র,মানবিক,ধার্মিক,সৎ,সুশিক্ষিত,মেধাবি,প্রতিবাদী সব ছেলেগুলো শিবির।

পঁচাত্তর আর চব্বিশ এক নয়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন কোন মানবতা নেই। কোন সুখবর পেলেই ব্যবসায়ীরা মিস্টির দাম বাড়িয়ে দিবে। 😁

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ১লা আগস্ট, ২০২৪ "প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল" কর্মসূচী পালন প্রসঙ্গে। প্রিয় দেশবাসী, আমাদের প্রাণের জন্মভূমি আজ এক মহাসংকট কাল অতিক্রম করছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা পরিচালনা করে শান্তি প্রিয় ছাত্র-জনতার রক্তে রাজপথকে রঞ্জিত করছে। কারো পরিচয় শিক্ষার্থী হলে তার ফোন চেক করে অত্যাচার নির্যাতন চালানোর মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড অথচ আজ ছাত্র হওয়া যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজও রক্ষা পাচ্ছে না তাদের নির্যাতনের হাত থেকে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করতেও ছাড়ছে না। শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমর্থনকারী ছাত্র জনতা কাউকে পেলেই গ্রেফতার ও এর মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে বাছাই করে পাড়া মহল্লায় রেইড দিয়ে গণ গ্রেপ্তারের নামে গ্রেফতার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গুম করার হুমকি দিয়ে আদায় করছে মোটা অংকের অর্থ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সমন্বয়ক সহ অসংখ্য ছাত্র-জনতা কে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ কেন্দ্রীয় ৬ সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দিলেও এখনো ডাকসুর সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন, সমন্বয়ক আরিফ সোহেল সহ অসংখ্য ছাত্র জনতাকে কারাগার ও রিমান্ডে নির্যাতন করছে। জুলুম নির্যাতনে নিষ্পেষিত ছাত্র জনতা মুক্তির প্রহর গুনছে। অসংখ্য ছাত্র জনতা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে। অনেক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ চোখ, কান, হাত, পা কিংবা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। আজ ছাত্রসমাজ ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। প্রতিমুহূর্তে কাটাতে হচ্ছে গ্রেফতার ও গুম হওয়ার আতঙ্কে। শহীদ ও গুম হয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে বাংলার আকাশ বাতাস। এছাড়াও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীর উপর ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলা করেছে পুলিশের সন্ত্রাসীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী ও নুসরাত জাহান চৌধুরীর গায়েও হাত তুলেছে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা। এই ঘৃণ্য হামলার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী ও সচেতন ছাত্রসমাজ, আপনারা জানেন আমরা আমাদের কোন ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আন্দোলন করছি না। আমাদের আন্দোলন আপনার ও আপনার সন্তানের মুক্তির জন্য। কী অপরাধ ছিল আমাদের? সাংবিধানিক অধিকার চাওয়াটা কি আমাদের অপরাধ? কী অপরাধে শত শত ভাইদেরকে হত্যা করা হলো? আমরা এর জবাব জানিনা। কিন্তু এর জবাব ও বিচার না নিয়ে আমরা আমাদের আন্দোলনকে থামাবো না। জাতির এই দুর্দিনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে শহীদ, আহত, পঙ্গু ও গ্রেফতার হওয়া সকলের স্মরণে আগামীকাল দেশব্যাপী "প্রার্থনা-কবর যিয়ারত ও ছাত্র জনতার গণমিছিল" কর্মসূচি ঘোষণা করছি। কর্মসূচি: গণহত্যা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল সারাদেশে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া-কবর জিয়ারত,  মন্দির, গির্জা সহ সকল প্রার্থণালয়ে প্রার্থনার আয়োজন ও জুমার নামাজ শেষে ছাত্র জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিক, পেশাজীবি, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবি, আলেম-ওলামা সহ বাংলাদেশের সকলস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে আগামীকালের "প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল'' কর্মসূচিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করে তুলুন। মসজিদের ইমাম ও খতিবদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে চুপ থাকবেন না। মসজিদের মেম্বার থেকে প্রতিবাদের ঘোষণা দিন। মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারাই জাতির দুর্দিনের কান্ডারী। এই দুঃসময়ে ঘরে বসে না থেকে গণহত্যা ও গণ গ্রেফতার এর প্রতিবাদে এবং ৯ দফা আদায়ের দাবিতে বাদ জুমা মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে 'ছাত্র জনতার গণমিছিল' মিছিল বের করুন। বার্তা প্রেরকঃ আব্দুল কাদের সমন্বয়ক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ১লা আগস্ট, ২০২৪ "প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল" কর্মসূচী পালন প্রসঙ্গে। প্রিয় দেশবাসী, আমাদের প্রাণের জন্মভূমি আজ এক মহাসংকট কাল অতিক্রম করছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা পরিচালনা করে শান্তি প্রিয় ছাত্র-জনতার রক্তে রাজপথকে রঞ্জিত করছে। কারো পরিচয় শিক্ষার্থী হলে তার ফোন চেক করে অত্যাচার নির্যাতন চালানোর মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড অথচ আজ ছাত্র হওয়া যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজও রক্ষা পাচ্ছে না তাদের নির্যাতনের হাত থেকে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করতেও ছাড়ছে না। শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমর্থনকারী ছাত্র জনতা কাউকে পেলেই গ্রেফতার ও এর মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে বাছাই করে পাড়া মহল্লায় রেইড দিয়ে গণ গ্রেপ্তারের নামে গ্রেফতার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গুম করার হুমকি দিয়ে আদায় করছে মোটা অংকের অর্থ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন সমন্বয়ক সহ অসংখ্য ছাত্র-জনতা কে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ কেন্দ্রীয় ৬ সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দিলেও এখনো ডাকসুর সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন, সমন্বয়ক আরিফ সোহেল সহ অসংখ্য ছাত্র জনতাকে কারাগার ও রিমান্ডে নির্যাতন করছে। জুলুম নির্যাতনে নিষ্পেষিত ছাত্র জনতা মুক্তির প্রহর গুনছে। অসংখ্য ছাত্র জনতা হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে। অনেক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ চোখ, কান, হাত, পা কিংবা শরীরের অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। আজ ছাত্রসমাজ ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। প্রতিমুহূর্তে কাটাতে হচ্ছে গ্রেফতার ও গুম হওয়ার আতঙ্কে। শহীদ ও গুম হয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে বাংলার আকাশ বাতাস। এছাড়াও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীর উপর ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলা করেছে পুলিশের সন্ত্রাসীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী ও নুসরাত জাহান চৌধুরীর গায়েও হাত তুলেছে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা। এই ঘৃণ্য হামলার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী ও সচেতন ছাত্রসমাজ, আপনারা জানেন আমরা আমাদের কোন ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আন্দোলন করছি না। আমাদের আন্দোলন আপনার ও আপনার সন্তানের মুক্তির জন্য। কী অপরাধ ছিল আমাদের? সাংবিধানিক অধিকার চাওয়াটা কি আমাদের অপরাধ? কী অপরাধে শত শত ভাইদেরকে হত্যা করা হলো? আমরা এর জবাব জানিনা। কিন্তু এর জবাব ও বিচার না নিয়ে আমরা আমাদের আন্দোলনকে থামাবো না। জাতির এই দুর্দিনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে শহীদ, আহত, পঙ্গু ও গ্রেফতার হওয়া সকলের স্মরণে আগামীকাল দেশব্যাপী "প্রার্থনা-কবর যিয়ারত ও ছাত্র জনতার গণমিছিল" কর্মসূচি ঘোষণা করছি। কর্মসূচি: গণহত্যা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল সারাদেশে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া-কবর জিয়ারত,  মন্দির, গির্জা সহ সকল প্রার্থণালয়ে প্রার্থনার আয়োজন ও জুমার নামাজ শেষে ছাত্র জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিক, পেশাজীবি, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবি, আলেম-ওলামা সহ বাংলাদেশের সকলস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে আগামীকালের "প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল'' কর্মসূচিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করে তুলুন। মসজিদের ইমাম ও খতিবদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে চুপ থাকবেন না। মসজিদের মেম্বার থেকে প্রতিবাদের ঘোষণা দিন। মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারাই জাতির দুর্দিনের কান্ডারী। এই দুঃসময়ে ঘরে বসে না থেকে গণহত্যা ও গণ গ্রেফতার এর প্রতিবাদে এবং ৯ দফা আদায়ের দাবিতে বাদ জুমা মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে 'ছাত্র জনতার গণমিছিল' মিছিল বের করুন। বার্তা প্রেরকঃ আব্দুল কাদের সমন্বয়ক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আমাদের কেন্দ্রীয় ৬ সমন্বয়ক এর ফোনে পেগাসাস নামক এপ ইন্সটল করা হয়েছে বলে তাদের থেকে জানা গেছে। তাদের একাউন্টের নিয়ন্ত্রণও এই মুহুর্তে তাদের কাছে নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। তাদের কোনো পোস্টে বা বার্তায় কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। 📌(Confirm Needed) #antiquotadu #quotamovement  #studentmovement #saveBangladeshstudent

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যাওয়া স্বত্বেও তাদের এখনো ছাড়া হয়নি। আমরা অবিলম্বে আমাদের এসকল শিক্ষার্থীদের মুক্তি চাই। আপনারাও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হোন। 🔻👉১।সুজয় শুভ(মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান)২০১৬-১৭ 🔻👉২। তমাল (মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান)২০১৭-১৮ 🔻👉৩।সিবাত (ম্যানেজমেন্ট)২০১৭-১৮ 🔻👉৪।ভূমিকা সরকার (অর্থনীতি)২০২০-২১ 🔻👉৫। আনিকা সিঁথি(ইংরেজি বিভাগ। 🔻👉৬।মহিদুল ইসলাম সজীব (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ)২০১৯-২০ 🔻👉৭। শেখ ঈমন(অর্থনীতি বিভাগ)২০২১-২২ আজকে, এখনই আমার ভাইদের মুক্তি দিতে হবে।

ডিবি কার্যালয়ে ৩২ ঘন্টা অনশনে ছিলেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ৬ সমন্বয়ক

'রক্ত আমাদের ভাসিয়ে দিয়েছে। সেখানে বৃষ্টির পানি কিছুই না।' এই বক্তব্যের পর প্রায় সব শিক্ষক ছাতা বন্ধ করে ফেলেছে। অপরাজেয় বাংলা থেকে।

পাখিরা পিঁপড়ে খেয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু পাখিটা মারা গেলে পিঁপড়ে গুলো পাখিটাকে খেয়ে নেয়। একটা গাছ থেকে লক্ষাধিক দিয়াশলাই কাঠি তৈরী হয়, কিন্তু লক্ষাধিক গাছ কে পুড়িয়ে দেবার জন্য একটি দিয়াশলাই কাঠিই যথেষ্ট। পরিস্থিতি যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, জীবনে কাউকে কষ্ট দিও না। আজ হয়তো তুমি শক্তিশালী, কিন্তু একটা কথা জেনে রেখো, সময় তোমার থেকেও বেশী শক্তিশালী।

আমার ছোট ভাই, (আবু সাঈদের হত্যা মামলায় গ্রফতার) মো: আলফি শাহরিয়ার মাহিম বয়স:১৬বছর ১০মাস শ্রেণি: একাদশ (এইচএসসি ২৫) কলেজ আইডি: 17660 বিদ্যালয়: পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ রংপুর। সিদ্দিক মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। আমার ভাই অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ভদ্র একটা ছেলে। ভাইয়ের এক্সাম চলছিল। ১৫তারিখ কলেজে পরিক্ষা দেয়ার পর সে অসুস্থ হওয়ায়, ১৫-৭-২৪ বিকেল থেকে ১৭-৭-২৪সে রংপুর মেডিকেলে সে এডমিট ছিল।[সমস্ত প্রমাণাদি বিদ্যমান] এর পর ১৮তারিখ সে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হলে জানতে পারে, পরীক্ষা স্থগিত। তখন বন্ধুদের সাথে মিছিলের মাঝে জড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের টিয়ারসেলে বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা ১৮তারিখ আনুমানিক ৪টায় ওর বন্ধুদের থেকে জানতে পারি তার পায়ে রাবার বুলেট লেগেছে, সেখানের লোকাল মানুষজন কোনো হসপিটালে এডমিট করিয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত সব হসপিটাল ক্লিনিক খুঁজেও যখন পাচ্ছিলাম না, তখন বাবার কাছে একটা কল আসে। তারা জানায়, "আপনার ছেলে আমাদের হেফাজতে আছে। জানাজানি করিয়েন না তাতে ছেলের ক্ষতি হবে। তাকে আগামীকাল সকালে ছেড়ে দেয়া হবে। চিন্তার কিছু নেই।" কিন্তু পরের দিন ১৯-৭-২৪ সকালে আমরা খোঁজ নিলে তারা অস্বীকার করে বলে তাদের কাছে এই নামে কেউ নেই। এরপর আনুমানিক বিকেল ৪:৩০টায় কোর্ট থেকে কল আসে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা কোর্ট থেকে নথিপত্র নিয়ে জানলাম তাকে আবু সাইদ ভাই এর হত্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সেদিন থেকে বার বার কারাগারের দরজা থেকে ফিরে এসেছি। একটা বার দেখা তো দূর, তার কন্ঠও শুনতে দেয়নি কেউ। মেট্রো কোর্ট তার মামলা কিছুতেই শিশু কোর্টে দিতে চায়নি অনেক চেষ্টা করে গত ৩০জুলাই শিশু কোর্টে নেয়া হলে ডেট দেয় আগামী ৪ই আগস্ট। ৪তারিখ কি রায় দিবে আমার জানা নেই। তবে আমি আমার ভাইকে ফিরে চাই, বেকসুর খালাস দেওয়া হোক এটা চাই। যে ছেলেটা লিগাল ডকুমেন্টস অনুযায়ী শিশু, এমনকি মামলায় প্রদত্ত ঘটনার সময় সরকারি হাসপাতালে এডমিট ছিল, তাকে তারা কোন হিসেবে এভাবে হ্যারাস করাচ্ছে? সব থেকে বড় কথা তার গায়ে কলেজ ড্রেস ছিল, আইডি ছিল, সে পুলিশদের ইনস্টিটিউট এরই ছাত্র। এক্ষেত্রে কি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, সহপাঠী, আইনজীবী কারো কিছুই করার নাই? আমার ভাই কে কোন লজিকে তারা আটকে রেখেছে, দেখাও করতে দিচ্ছে না! -সানজানা আক্তার (মাহিমের বড় বোন)

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে ডিএমপির লজিস্টিকস, ফিন্যান্স বিভাগের মহা. আশরাফুজ্জামানকে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে ডিএমপির লজিস্টিকস, ফিন্যান্স বিভাগের মহা. আশরাফুজ্জামানকে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৪ "Remembering Our Heroes" কর্মসূচী পালন প্রসঙ্গে। প্রিয় দেশবাসী, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ আজ সন্ত্রাসের কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার এই দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর রাষ্ট্রযন্ত্র, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবহিনী ও তাদের দলের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছে। সরকার ও তার মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও যৌথবাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতায় শহীদ হয়েছে শিশুসহ শত শত সাধারণ নাগরিক। চলছে রাতের আঁধারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানাদার বাহিনীর কায়দায় গণগ্রেফতার ও গ্রেফতার বাণিজ্য। সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের রাস্তায় ধরে মোবাইল চেক, হয়রানির ও নির্বিচার গ্রেফতারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিদিনের চিত্র। এছাড়াও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীর উপর ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলা করেছে পুলিশের সন্ত্রাসীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী ও নুসরাত জাহান চৌধুরীর গায়েও হাত তুলেছে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা। খুলনায়, সিলেট, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে, মহানগর ও শহরে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এসকল ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একটি স্বাধীন দেশে এমন নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এমন ভয়ানক অন্ধকার পরিস্থিতিতে সারাদেশে ছাত্র-জনতার উপর গণহত্যা, গণপ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ও  জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং ছাত্র সমাজের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল (০১.০৮.২০২৪) রোজ বৃহস্পতিবার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন "Remembering Our Heroes" কর্মসূচি ঘোষণা করছে। কর্মসূচিতে পালণে করণীয় :
১। নির্যাতনের ভয়ংকর দিন-রাতগুলোর স্মৃতিচারণ;
২। শহীদ ও আহতদের নিয়ে পরিবার এবং সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ;
৩। চিত্রাংকন/গ্রাফিতি, দেওয়াল লিখন, ফেস্টুন তৈরী, ডিজিটাল পোট্রের্ট তৈরি প্রভৃতি। ৪। ক্যাম্পাস ও এলাকা ভিত্তিক জমায়েত হয়ে গণহত্যা, গণপ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানানো এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন (মৌন মিছিল/ মশাল মিছিল /পথনাটক/মঞ্চনাটক/প্রতিবাদী গানের আসর/মাইম) ইত্যাদি কর্মসূচি আয়োজন করা।
শহীদদের স্মরণে উপরের যেকোনো কন্টেন্ট/লেখা লিখে নিম্নোক্ত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনলাইনে ও অফলাইনে প্রচার করা। #JulyMassacre #RememberingOurHeroes শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী পালণে সর্বাত্মক অংশ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। বার্তা প্রেরক রিফাত রশিদ সমন্বয়ক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদকে বদলি করা হয়েছে

পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামী করা হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কলেজ শিক্ষার্থীকে! চলমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়া প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মূল আসামি গ্রেফতার না করে বরাবরের মত নিরপরাধ মানুষদের ফাঁসানো হচ্ছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার কৃত আলফি শাহরিয়ার মহিম (১৬) এর বোনের ফেসবুকের পোস্ট হুবহু তুলে দেয়া হল। আমার ছোট ভাই, (আবু সাঈদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার) মো: আলফি শাহরিয়ার মাহিম বয়স:১৬বছর ১০মাস শ্রেণি: একাদশ (এইচএসসি ২৫) কলেজ আইডি: 17660 বিদ্যালয়: পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ রংপুর। সিদ্দিক মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। আমার ভাই অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ভদ্র একটা ছেলে। ১৮ তারিখ সে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হলে জানতে পারে পরীক্ষা স্থগিত, তখন বন্ধুদের সাথে মিছেলের মাঝে জড়িয়ে পরে, এবং পুলিশের টিয়ারসেলে বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা ১৮ তারিখ আনুমানিক ৪ টায় ওর বন্ধুদের থেকে জানতে পারি তার পায়ে রাবার বু*লেট লেগেছে, সেখানের লোকাল মানুষজন কোনো হসপিটালে এডমিট করিয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত সব হসপিটাল ক্লিনিক খুঁজেও যখন পাচ্ছিলাম না। বাবার কাছে একটা কল আসে, তারা জানায় আপনার ছেলে আমাদের হেফাজতে আছে জানাজানি করিয়েন না তাতে ছেলের ক্ষতি হবে, তাকে আগামীকাল সকালে ছেড়ে দেয়া হবে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু পরের দিন ১৯-৭-২৪ সকালে আমরা খোঁজ নিলে তারা অস্বীকার করে বলে তাদের কাছে এই নামে কেউ নেই। এরপর আনুমানিক বিকেল ৪:৩০টায় কোর্ট থেকে কল আসে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা কোর্ট থেকে নথিপত্র নিয়ে জানলাম তাকে আবু সাইদ ভাই এর হত্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সেদিন থেকে বার বার কারাগারের দরজা থেকে ফিরে এসেছি একটা বার দেখা তো দূর তার কন্ঠও শুনতে দেয়নি কেউ। মেট্রো কোর্ট তার মামলা কিছুতেই শিশু কোর্টে দিতে চায়নি অনেক চেষ্টা করে গত ৩০জুলাই শিশু কোর্টে নেয়া হলে ডেট দেয় আগামী ৪ই আগস্ট। ৪ তারিখ কি রায় দিবে আমার জানা নেই, তবে আমি আমার ভাইকে ফিরে চাই, বেকসুর খালাস দেওয়া হোক এটা চাই। যে ছেলেটা লিগাল ডকুমেন্টস অনুযায়ী শিশু, তাকে তারা কোন হিসেবে এভাবে হ্যারাস করাচ্ছে? সব থেকে বড় কথা তার গায়ে কলেজ ড্রেস ছিল, আইডি ছিল, সে পুলিশদের ইনস্টিটিউট এরই ছাত্র। এক্ষেত্রে কি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, সহপাঠী, আইনজীবী কারো কিছুই করার নাই? আমার ভাই কে কোন লজিকে তারা আটকে রেখেছে, দেখাও করতে দিচ্ছে না! এই বিচারপতিলীগদের বিবেকবোধ অনেক আগেই মরে গেছে!

ছাত্র সমাজ বিক্রি হয়না চৌধুরী সাহেব ✊

'ও যাবে। না গেলে মুনাফিক হয়ে যাবে।' . ১৯ জুলাই শুক্রবার। ঘড়িতে সময় বিকাল ৫টা বেজে ৩০ মিনিট। মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর আহম্মেদ তাঁর বাবার সাথে কথা বলছিলেন। বাবা গ্রামে থাকা সাধারণ কৃষক। . সাগর: আব্বু আমাদের এখানকার অবস্থা ভালো না। আমাকে বিকাশে এক হাজার টাকা পাঠাও। বাবা::মণিরে সাবধানে থাইকো। . বাবা জানান, 'ফোনের কথা শেষ করেই নারুয়া বাজারে যাই। বিকাশে টাকা পাঠিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফিরতে ফিরতে টাকা পাইছে কি না নিশ্চিত হতে ফোন করি, কিন্তু ফোন আর ধরে না। তখন থেকে আমার বুকটা কেমন যেন করছিল। . মাগরিবের নামাজ শেষ করে সালাম ফেরানোর সময় পকেটের ফোন বাইজা ওঠে। মনটা কেমন যেন আঁতকে ওঠে। আমার মেয়ে মৌসুমি ফোন করে বলে, “আব্বু বাড়ি আইসো।” . বাড়ি আইসা দেখি সব এলোপাতাড়ি। কেউ কিছু বলছে না। বড় ভাইয়ের বড় জামাতা রঞ্জু এদিক-ওদিক করছে। পরে আমার এক নাতি বলছে, বাবাইর (সাগর) মাথায় গুলি লাগছে, হাসপাতালে আছে।’ . ১৯ জুলাই সকালেও মা-বাবার সাথে সাগরের কথা হয়। সাগর ওর মাকে বলে- ঢাকার পরিস্থিতি ভাল না। আমার জন্য দোয়া করো, আন্দোলনে যাব। মা বলেছিলেন- যেয়ো না বাবা। তখন বাবা বললেন- ও যাবে। না গেলে মুনাফিক হয়ে যাবে। . তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘যখনই কথা হতো তখনই সাগর বলত, “আব্বু তোমাকে আর রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করতে হবে না। চাকরি করে তোমাদের ঢাকায় নিয়ে যাব।” আমার মানিক হোটেলে কাজ করত। রাতে মেসে ফেরার সময় কিছু খাবার নিয়ে আসত, রাস্তায় থাকা মানুষকে দিত।’ . মায়ের কাছে দোয়া চেয়ে সাগর বলেছিল- মা তোমার সাগরের জন্য না, লক্ষ সাগরের জন্য দোয়া কোরো। . সাগরের চাচাতো ভাই সাইফুল বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে লাশের স্তূপ থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা খোঁজ করে পরিচয়পত্র দেখে সাগরের লাশ শনাক্ত করেন তাঁরা। দেখা যায়, সাগরের মাথার ডান দিকে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বের হয়েছে।