en
Feedback
পর্দা - The Sign of Modesty

পর্দা - The Sign of Modesty

Open in Telegram
2 651
Subscribers
No data24 hours
No data7 days
No data30 days
Posts Archive
“যে ফজরের সালাত আদায় করলো, সে আল্লাহর তত্ত্বাবধানে চলে এলো। আল্লাহ যেন নিজ তত্ত্বাবধানের কোনো কিছু সম্পর্কে তোমাদের বিরুদ্ধে বাদী না হন। কারণ, তিনি যার বিরুদ্ধে আপন তত্ত্বাবধানের কোনো কিছু সম্পর্কে বাদী হবেন, তাকে পাকড়াও করবেন, এরপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।” এই হাদীস আমার ভাবনার জগৎটাই এলোমেলো করে দিচ্ছে। কী মোহগ্রস্ততায় আমি নিজেকে নিজে ঠেলে দিচ্ছি অনিশ্চিত অন্ধকারে, জানি না। বিছানার মোলায়েম স্পর্শে সালাতকে ভুলে থেকে আগুনের নির্মম স্পর্শের জন্যে কেন নিজেকে প্রস্তুত করছি তিল তিল করে, জানি না। শুধু জানি, এই আত্মবিধ্বংসী অভ্যাস থেকে আমাকে মুক্ত হতে হবে। হতেই হবে। এই হাদীস আমার ভেতর আরেকটা উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে। আমার অস্থিরতাপূর্ণ আটপৌরে জীবন, বেলা করে ঘুম থেকে ওঠার পর শুরু হওয়া উদয়াস্ত ব্যস্ততা, যেখানে আসমানী মদদের ছিটেফোঁটা নেই, সেই জীবনটাকে আল্লাহর কাছে সমর্পিত করতে পারলে আরেকটু কি গোছানো হতো? আরেকটু নির্ভার হতো? মনে হয় হতো। বিশ্বাসী অন্তর আমাকে কেন জানি প্রণোদনা দিচ্ছে এদিকে। এই সমর্পণের চমৎকার একটি সিঁড়ি হলো ফজরের সালাত। তাহলে কেন এই সুযোগ হাতছাড়া করবো আমি? আমার মানসিক যন্ত্রণা আরও বহুগুণ বেড়ে গেলো, যখন জানতে পারলাম, আমাকে প্রচণ্ডভাবে নিন্দা করা হয়েছে কুরআনের পাতায়। আমি উৎসুক হয়ে আয়াতটা খুলে পড়তে লাগলাম : فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا “এদের পরে এমন সব মন্দলোক স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা সালাত নষ্ট করলো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করলো। এরা শিগগির ‘গাই’ (জাহান্নামের একটি উপত্যকা)—এর মুখোমুখি হবে।” কারা সেই হতভাগ্য, যাদেরকে আল্লাহ নিজেই ‘মন্দ’ বলছেন! এরা তারাই, যারা আমার মতো সালাতে হেলা করে। বলতে দ্বিধা নেই, চিন্তাভাবনা করে দেখলাম, আমি সেই মন্দলোকদেরই একজন হয়ে যাচ্ছি। আমি সালাত নষ্ট করছি। নিজের খেয়াল—খুশি মতো ঘুমিয়ে থাকছি, আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর চেয়ে আয়েশি ঘুমের স্বা আস্বাদনে প্রবৃত্ত হচ্ছি। জাহান্নামের উপত্যকাই কি তবে আমার শেষ ঠিকানা? আমি কি এতটাই নীচ? আমি কি এতটাই হীন? হ্যাঁ, আমি এতটাই নীচ ও হীন যে, আমার কানে এমনকি নির্গত হয় শাইত্বানের শ্রাব। খতীব সাহেবের মুখে অনেকবার এ কথাটা শুনেছি, কিন্তু কথাটা খুব হালকা বলে মনে হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ হতো। যখন আল্লাহর রাসূলের ﷺ কাছ থেকেই শুনলাম, তখন কি আর সংশয়ের সুযোগ থাকে? আমাদেরকে গল্পটা শোনাচ্ছেন ‘আবদুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ। ذكر عند النبِيّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رجل، فقيل: ما زال نائما حتّى أصبح، ما قام إِلَى الصَّلاَة، فقال: ذاك رجل بال الشيطان في أذنِه. [৮২] “রাসূলুল্লাহর ﷺ কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা হলো। বলা হলো : ভোর হওয়া পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে ছিলো, সালাতে দাঁড়ায়নি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন : সে এমন লোক, শাইত্বান যার কানে প্রসাব করেছে।” এই যে শাইত্বানের প্রসাব করে দেয়া, এটার অর্থ হলো, শাইত্বান আমার উপর জয়ী হয়েছে। আমি যে তার অনুগত ও বশ্য, সেই সত্যের স্মারক হলো তার এই প্রসাব করে দেওয়া। ছোটলোকের ছোটলোকি কারবার আর কি! কিন্তু আমার সাথে কেন এই ছোটলোকির সুযোগ সে পেলো? কারণ, আমিও তার কথা মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার মতই নীচ হয়ে গেছি। ছিঃ। এ কেমন আমি? এখানেই শেষ নয়। দুনিয়ায় যতো ভর্ৎসনাপ্রকাশক শব্দ আছে, এর মধ্যে জঘন্যতম অভিব্যক্তির একটা তালিকা যি করা হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে ‘মুনাফিক’ শব্দটা প্রথমদিকেই থাকবে। চোখ বন্ধ করে কল্পনা করার চিন্তা করি, কেউ যদি আমাকে ‘মুনাফিক কোথাকার!’ বলে, আমার কেমন অনুভূতি হয়! অথবা আমি যদি কাউকে ‘মুনাফিক’ বলে সম্বোধন করি, তাহলে কী বিপুল তেজ ও ক্রোধ নিয়ে সে আমার দিকে তেড়ে আসবে? এর কারণ কী? কারণ হলো, মুনাফিকি একটি ঘৃণিত চরিত্র, গর্ব করার মতো কোনো বিষয় নয়। লেখক : আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব

এক মিনিটও বিশ্বকাপ খেলা দেখলাম না। আমি কি খুব মৌ-ল-বা-দী হয়ে গেছি? আমি কি সেকেলে হয়ে গেছি? আমি কি সমাজ-চ্যু-ত হয়ে গেছি? জানি না। তবে হ্যাঁ, আমি ইসলামের মূল, মৌলভিত্তি ও মূল্যবোধের সাথে থাকতে চাই বা থাকার চেষ্টা করি। তবে খেলাধুলা নিয়ে মাতামাতি যে একেবারেই করি না, এটা নিশ্চিত। আমার লাভটা কি হলো খেলা না দেখে? আমি বলব - খেলাগুলো না দেখে আমার ক্ষতিটাই বা কি হলো? - ড. আবুল কালাম আজাদ (হাফি.)

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার কাছে তিনটি জিনিস অধিক প্রিয়। স্ত্রী, সুগন্ধি আর আমার চক্ষু শীতল হয় নামাজের মাধ্যমে।’ (নাসায়ি শরিফ, হাদিস : ৩৯৩৯)

এতো দিন পূর্ণ পর্দা করলেন আর বিয়ের দিন বিয়ের সাজের সাথে নিকাব পড়লেই তা পর্দা হয়না। এটা লোকদেখানো পর্দা। এর অর্থ হলো আপনি ইসলামের বিধানও ছাড়তে পারবেন না, আধুনিকতা, সমাজও ছাড়তে পারবেন না। অর্থাৎ আপনি একজন মডারেট পর্দাশীল! যেকোনো একটা বেছে নিতে হবে। রবের সন্তুষ্টি যদি চান তাহলে বিয়ের দিনেও পর্দা করবেন। বিয়েতে সাজুন শরীয়ত উপায়ে এবং মার্জিত ভাবে। সুস্থ আয়োজন করুন। একদিনের জন্য আল্লাহকে ভুলে যাবেননা। নামাজ কাজা করবেন না। পর্দা তুলে ফেলবেন না। বরং বেশি দুয়া করবেন যাতে আজকের দিন থেকে অর্ধেক দ্বীন পূর্ন হবে সেটা যেনো শরীয়ত সম্মত হয় এবং বাকি অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করার তৌফিক দেন আল্লাহ। সকল নবোঢ়ার জন্য শুভকামনা। - ওয়ালিদা মিমি

বিয়ের দিন পর্দানশীন বোনেরা কীভাবে পর্দা করবেন? কিছু বোনের প্রশ্ন ছিল বিয়ের দিন কীভাবে পর্দা করব? বিয়ের দিন সাজগোজ করা যাবে কিনা? বিয়ের দিন কী করব না করব এ নিয়ে কিছু বোন প্রশ্ন করেছিলেন। নিজস্ব কিছু আইডিয়া এবং বাস্তবতা তুলে ধরছি। সাজ সেতো নারীদের জন্যই। কিন্তু তা কেবল প্রকাশ করবে স্বামীর সামনে। পরিপাটি থাকবে সবসময়। সবসময় পর্দা করে নিরামিষ হয়ে থাকেন কিছু বোন। নিজের যত্নটুকুও নেয়না অনেকেই। পর্দা ফরজ বিধান মানে এই নয় পর্দার ভিতরে জংলী হয়ে থাকব। আর বিয়ের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে নারীর সাজ যেনো অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে পর্দানশীন বোনেরা চিন্তায় পড়ে যান। বিয়েতে সাজলে তো গাইরে মাহরাম দেখে ফেলার চান্স থাকতে পারে তাহলে উপায়? বিয়েতে কি একটু সাজতেও পারব না? ইসলাম কী বলে? প্রথমে ভাবে নিন আপনার পরিবেশ কেমন! এবং আপনি কতটা ছাড় দিতে চান পর্দার ক্ষেত্রে। এবং বিয়ের পরিবেশে আপনি কতটা পর্দা রক্ষা করতে পারবেন। যদি পরিবেশ একেবারেই প্রতিকুল হয়ে থাকে তাহলে পরিপূর্ণ পর্দা করা উচিৎ। সাধারণ থাকতে হবে। আর যদি আপনার মাঝেই নফস ও পর্দার খুঁটি নড়বড়ে হয় তাহলে কিছুই বলার নেই। আর যদি পরিবেশ ওতোটাও কঠিন না হয় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। বিয়েতে ছবি তোলা নিষেধ করুন। বিয়ের দিনেই প্রমাণ হয় মেয়ে কতটা দ্বীনদার ও পর্দানশীন। অনেক বোনকে পরিবার বাধ্য করে অপসংস্কৃতিতে আসতে। এজন্য বিয়ের আগে থেকে দ্বীন কড়াকড়ি পালন করুন এবং পরিবারকে সর্তক করে দিন। আর যদি গাইরে মাহরামদের ভিড় না থাকে এবং মহিলাদের বিয়ের আলাদা আসর থাকে তাহলে আপনি সাজতে পারেন। দ্বিতীয়, নামাজ কাজা না করার চ্যালেঞ্জ। কিছু আপু আছেন বিয়ের সাজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে কয়েক ওয়াক্ত কাজা করেন। আফসোস একদিনের সাজের জন্য কয়েক ওয়াক্ত, কয়েক রাকআত, কত্ত সাওয়াব এবং আল্লাহর থেকে দূরে সরে যান। অথচ চিন্তা করা উচিৎ বিয়ের আসরেই মালাকুল মঊত আমার জন্য কাফনের সাজ নিয়ে আসতে পারে! এবং এরকম উদাহরণ আমরা দেখেছিও বিয়ে আসরে নববধূর মৃত্যু! কখনোই এই চিন্তা করবেন না, একদিন নামাজ না পড়লে কিচ্ছু হবেনা। এজন্য বিয়ের দিন এশার নামাজ পড়েই সাজুন হবু স্বামীর জন্য। অথবা এমন একটু সাজুন যাতে নামাজ পড়া যায়। ইসলাম বলে, নারীরা তাদের হাত সবসময় রাঙিয়ে রাখবে। সুতরাং বিয়ের দিন আপনি সাজ হিসেবে হাতে মেহেদি পড়তেই পারেন। ইসলাম বলে নারীর জন্য সব সাজ জায়েজ কেবল টিপ, ভ্রু প্লাক, নকল চুল (পাপড়িও একই গোত্রের), সুগন্ধি ব্যবহার হারাম। এই সাজগুলো ছাড়া সব সাজ সাজতে ইসলাম অনুমিত দিয়েছেন। সব রকম অলংকার ব্যবহার করার জায়েজ আছে। নারীরা মাহরামদের সামনে ও বাসায় সব রঙ এর পোশাক পড়তে পারবে। বাঙালি বিয়েতে মেয়ের সাজ মানেই বিয়ের দিন লাল শাড়ি পরবে, গা ভর্তি গহনা এবং প্রচুর সাজবে। আপনি কেমন সাজবেন তা আপনার ইচ্ছাধীন। কিন্তু এ সাজের উদ্দেশ্য হবে কেবল স্বামীর জন্যই। আমাদের সমাজের নিয়ম মেয়ে কী কী পড়েছে, কী পেয়েছে, কত দামের কী পড়েছে এগুলো মানুষকে দেখিয়ে পড়বে। এখন অনেক সুন্নাহ বিয়ে হলেও এই লোক দেখানোর নিয়ম এখনো যায়নি। বিশেষ করে মহিলাদের স্বভাব এটা। একদম নিচু মনের মানসিকতা এটা। এসব অভ্যাস পরিহার করুন। আত্মীয় স্বজনদের জন্য না সেজে বরের জন্য সাজবেন। বিয়ের দিন দুপুর ১২টায় সেজে থাকে অনেক বোন সারাদিন সে সাজ নিয়েই থাকেন। বিয়ে শেষে কান্নাকাটি, হুড়াহুড়িতে সাজ নষ্ট হয়ে যায়। নতুন জামাই বেচারার জন্য যে সাজ সেজেছে সে সাজ চোখের পানি, নাকের পানিতে নষ্ট হয়! বেচারার জন্য দেখার মতো অবস্থায় থাকেনা। অনেক বোন তো মেকাপ নষ্ট হওয়ার ভয়ে কাঁদতে গিয়ে কাঁদতেও পারেন না। তাই পরামর্শ, বিয়ের দিন হাবিজাবি না সেজে হালকা, মার্জিত সাজুন। বিয়ে শেষে বাসর ঘরে যাওয়ার আগে বরের জন্য পরিপূর্ণ সাজুন। যাতে বরের চোখ আটকে যায়। এতে আপনার পর্দাও রক্ষা হবে এবং শাড়ি, গহনার ভার বহন করতে হবেনা। নামাজ কাজা হবে না। আত্মীয় স্বজনের জন্য না সেজে সাজটা বরের জন্য বাসর ঘরেই সাজুন। অনেক বোন রাজকন্যার মতো সাজেন কিন্তু বিয়ে শেষে যাওয়ার বেলায় দ্রুত শাড়ি কাপড় খুলতে পারেন না। সময়ও থাকেনা। উপরে বোরকা পরেন। তাই পরামর্শ, এমন ভাবে শাড়ি পরুন যাতে তার উপরেই সহজেই বোরকা পড়া যায়। কিছু গহনা খুলে ফেলুন। হালকা করুন। নিয়ত করবেন বাসর ঘরেই ভালো করে সাজার সেই ভাবে বিয়ের দিন থাকবেন। শাড়ি কিন্তু মুসলিম পোশাক নয়। তবুও যেহেতু বাঙালির ঐতিহ্যগত বস্তু তাই এটায় জোর নেই। আপনি চাইলে শাড়ি ছাড়াও বোরকার মতো গাউনও পড়তে পারেন। ইদানীং বিয়েতে কিছু বোন শাড়িও পড়েন, মেকাপ ও করেন, হিজাবও পড়েন, আবার নিকাব, হাত মোজাও পড়েন তারা ভাবেন এতে পর্দা রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু না এটা শার্ট, প্যান্টের সাথে হিজাব যেমন পর্দা নয় ফ্যাশন মাত্র এটাও একই পর্দা নয় ফ্যাশন মাত্র। বিয়ের সাজে আপনি সবই সেজেছেন আবার নিকাবও পড়েন তাহলে পর্দার মহত্ব কী থাকল? আপনার সব সৌন্দর্য তো প্রকাশই পাচ্ছে নিকাব আর কতটা সৌন্দর্য আড়াল করতে পারবে? নিকাব মুখ ডাকলেও আপনার শারীরিক সৌন্দর্য ঝলমলে শাড়ি ও গহনাতে দ্বিগুণ প্রকাশ করছে।

স্ত্রী হলেন স্বামীর জন্য সবচেয়ে বড় তাবিজ! যে সব নারীরা আলেম-ওলামা, ইমাম ও খতীবদের কাছে গিয়ে বলে শায়খ আমার স্বামী আমার সাথে ভালো আচরণ করে না, সংসারের প্রতি অমনোযোগী, বাইরে আড্ডা দিয়ে অথবা অফিসের নারী কলিগদের সাথে রাত-দুপুরে সময় কাটায় এবং গভীর রাতে বাসায় ফিরে এসে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে, এমতাবস্থায় তার সাথে সংসার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমাদের বিয়েটা যেন ভেঙ্গে না যায়; তাই তাকে কাছে পাওয়ার জন্য আমাকে একটি তাবিজ দিন। একজন নারীর মুখে এমন কথা শুনে আমি খুবই অবাক হয়ে যাই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এমন যুবতী নারীটি একজন পুরুষের স্ত্রী। যে নারীকে আল্লাহ্ বুদ্ধিমত্তা, সঠিক বুঝ, শিক্ষা, আকৃতি ও সুন্দর একটি শারীরিক অবয়বসহ সবকিছু দিয়েছেন। আর এত সব নিয়া‘মাত পাওয়ার পরও সেই নারী তাবিজের জন্য আলেম-ওলামা, মাসজিদের ইমাম ও খতীবের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একজন মহিলা যদি গুণবতী, চালাক এবং জ্ঞানী হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রতিটি কাজ, স্বামীর সাথে কথা বলার ঢং, তার সামনে হাঁটার স্টাইল, সারাক্ষণ মুখের হাসি ও রাত-দুপুরে স্বামীর প্রতি চাহনিসহ সকল ইশারা ইঙ্গিত হলো একজন নারীর স্বামীর সাথে স্বর্গীয় সুখে দাম্পত্য জীবন কাটানোর জন্য ১০০% কার্যকর ও শিরক মুক্ত তাবিজ। কারণ আল্লাহ্ নারী-পুরুষের হৃদয়ে জন্মগতভাবে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ ও দুর্বলতা রেখে দিয়েছেন। স্বামীর হৃদয়ে নারীর চুম্বকত্ব এমন যে, স্ত্রীর প্রতিটি কাজই হলো স্বামীকে নিজের কব্জায় রাখার তাবিজ। তাই আল্লাহ্ দয়া করে নারীকে একজন পুরুষের স্ত্রী বানিয়ে স্বামীর প্রতি আবেগ ও অনুরাগের এক কুদরতি তাবিজ দিয়েছেন। তাকে শব্দমালা ব্যবহারের তাবিজ দিয়েছেন। ইশারা ও চাহনির তাবিজ দিয়েছেন। নিজ উচ্ছ্বাস ও হালাল চাহিদা পূরণের ভঙ্গিমার তাবিজ দিয়েছেন। কেন নারী একজন পুরুষের স্ত্রী হয়ে স্বামীর সাথে এই সব তাবিজ ব্যবহার না করে আলুশা ও মালুশা, অঙ্গিশা ও জঙ্গিশা, অদনাশা ও বদনাশা, অল্লাশা ও কল্লাশা, ল্যাংটাশা ও চাল-ডালশার দরবারে নযর ও নিয়ায, চাদর ও চেরাগ, চামেলী ও গোলাপ, হালুয়া ও কাবাব নিয়ে হাযির হয়ে নিজের ঈমান ও আমল, আকীদাহ্ ও বিশ্বাস নষ্ট করে শিরক করছে? কেন একজন নারী ভ-ণ্ডবাবার কাগজের তাবিজের পেছনে ছুটবে? কেন মাযারের মোমবাতি ও আগর বাতির ছাইকে স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার টনিক ও সংসার জোড়া লাগার সুপার গ্লু মনে করবে? একজন নারী নিজ স্বামীর সাথে মন খুলে হালাল প্রেম, শারঈ ভালোবাসা বিনিময় না করায় ক্লান্ত স্বামী ঘরে ফিরে এসে স্ত্রীকে যদি নিজের চেয়ে বেশি ক্লান্ত দেখতে পায় তাহলে একজন ক্লান্ত স্বামী ক্লান্ত স্ত্রীর কাছ থেকে কী আরাম খুঁজবে? কীভাবে শারীরিক চাহিদা পূরণ করবে এবং কোন মানসিক প্রশান্তি পাবে? তাই আপনার ঈমানী দায়িত্ব হলো তাবিজ-তুমার বাদ দিয়ে সব সময় স্বামীর সামনে সতেজ থাকুন। বেলা শেষে আপনার স্বামী যখন নীড়ে ফিরে আসবেন তখন তার সাথে প্রেমের কথা বলুন। তার প্রতি সহানুভূতি দেখান। হৃদয় খুলে নিজের চেহারাকে ওয়ারদাহ্ মাফতুহাহ্ বানিয়ে হাশশাস ও বাশশাস হয়ে তাকে স্বাগত জানান। তার চাহিদা মতো আরো এমন কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করুন যাতে আপনার স্বামী খুশি হন। আপনার মতো নারীকে স্ত্রী পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন। মনে রাখবেন স্বামী-স্ত্রীর জন্য প্রেম-ভালোবাসার সব পদ্ধতি জায়েয। তাই তাবিজ এবং ভ-ণ্ডদের ভ-ণ্ডামী বাদ দিয়ে এসব করে দেখুন ঘরের ভিতরে কেমন সুখ আসে। এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এটি আপনার শারঈ অধিকার। বিশ্বাস করুন আপনাদের জীবন বীণার ছেঁড়তে যাওয়া তারখানী মুহূর্তের মধ্যে জোড়া লেগে মিলন রাগিনীতে ঝঙ্কার তুলবে। মনে রাখবেন নিজ স্বামীর জন্য তার স্ত্রী হলো ১০০% শিরক মুক্ত হালাল এবং গ্যারান্টি যুক্ত দাম্পত্য জীবনে সব চেয়ে বড় তাবিজ। - আতাউর রহমান নদভী (হাফি.)

উপরে একটি বিধানের কথা বলা হলো, স্ত্রীর মা অসুস্থ হলে তার সেবা করতে গেলেও স্বামীর অনুমতি লাগবে। এখন দেখেন, স্বামী-স্ত্রীর পারষ্পরিক বোঝাপড়া যদি মজবুত হয়, তাহলে কি স্ত্রীকে এই আবদার করতে হবে- আমাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিন? নাকি স্বয়ং স্বামীই তাকে বলবে- আসো, মা অসুস্থ, তাকে দেখে আসি। স্ত্রী যদি নিজের অসুস্থ মা-বাবাকে দেখতে যেতে না পারে, তাহলে তার মানসিক অবস্থা কেমন হবে? সে কি সারাদিন কান্না করবে না? স্বামীর সাথে কি আগের মতো প্রেমালাপ করতে পারবে? স্বামী এবং স্ত্রীর কাজকে যদি জবের সাথে তুলনা করেন, তাহলে দেখবেন উভয়কেই মূলত মূল জবের চেয়ে ওভারটাইম জব বেশি করতে হয়। এখানে কোনো পক্ষই গুনে গুনে শুধু দায়িত্ব সেরেই ক্ষান্ত হয় না। স্বামী-স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কাজ করতে হয়। এটাকে মেরামত করতে হয়, বিউটিফাই করতে হয়; এটা উভয়েরই দায়িত্ব। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ডায়মেনশন নানামাত্রিক। তাদের মধ্যকার প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্বের তুলনা অন্য কোনো সম্পর্কের সাথে হয় না। ... বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড এই সম্পর্কে অথোরিটির বিষয়টি অনুপস্থিত। বয়ফ্রেন্ড যদি বিয়ের আগেই অধিকার খাটাতে যায়, রশি ছিড়ে যায়। কিন্তু, দাম্পত্য জীবনটা সারাক্ষণ শুধু প্রেমালাপ, রসালো, মিষ্টি মিষ্টি কথায় ভরপুর থাকে না। দাম্পত্য জীবন ভালোবাসা, রাগ, অভিমান, ক্ষোভ সবকিছুর সমন্বয়। দাম্পত্য জীবনে যেমন স্বামীর আদুরে নিষেধাজ্ঞা, আদেশ থাকতে পারে, তেমনি কথা শুনতে না চাইলে গলার স্বর উঁচু করতে হয়। যখন ভালোবাসার আবেগ, যুক্তি দিয়ে বুঝানো যাবে না, তখন শেষকথা বলতে হয়- "আমি 'না' বলছি মানে না। তুমি যাবে না, তুমি করবে না।" একদিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অন্যদিকে স্ত্রী স্বামীর আনুগত্য করবে, এটা কোনোভাবেই কন্ট্রাডিক্টরি না। একসাথে দুটো রুল পালন করা সম্ভব। যেসব দম্পতির মধ্যে বোঝাপড়া পরিষ্কার, ভালোবাসা গাঢ়, তাদের মধ্যে অথোরিটি (স্বামীর) চর্চার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। স্বামী সবসময় যদি স্ত্রীকে আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়, সবসময় যদি কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে স্ত্রী কিছু করতে আদেশ-নিষেধ করে, তাহলে বুঝতে হবে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে আগাচ্ছে না। ইসলামের একেকটি বিধানকে পূর্ণাঙ্গভাবে দেখতে হয়। পূর্ণাঙ্গভাবে দেখলে বুঝা যায় এইসব বিধানের হিকমত কী। সম্পর্ক সংক্রান্ত বিধানগুলোতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল চেক এন্ড ব্যালেন্স করেছেন। প্রত্যেকটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা প্রমাণ করা সম্ভব। একদিকে নারীকে বলেছেন স্বামীর আনুগত্য করতে, স্বামীর নির্দেশ মানতে, অন্যদিকে বারবার পুরুষকে উৎসাহ দিয়েছেন স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করতে। স্ত্রীর মা অসুস্থ হলে তাকে বাপের বাড়ি যেতে না দেয়া কি উত্তম আচরণ হতে পারে? উত্তম আচরণের প্রসঙ্গ আসলে দেখা যায় স্বামী এমন অনেক কাজ করে, যা আদতে সে করতে বাধ্য নয়। বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়েও এগুলো করতে নবিজী উৎসাহ দেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জের মহাগুরুত্বপূর্ণ ভাষণে নারীদের (স্ত্রীদের) সাথে উত্তম আচরণ করার নির্দেশ দেন। স্ত্রীদের বক্রতার উদাহরণ দিয়ে বলেন তাদের সাথে কিভাবে ডিল করতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কের সাথে আনুগত্যের সম্পর্কও জড়িত। এটা কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যারা আনুগত্যকে স্রেফ মুসলিম দেশের মানবরচিত বিধান বলতে চায়, তারা জেনে বুঝে বা অজ্ঞাতসারে কুরআন-হাদীসের বিধানকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এটাকেই আগের একাধিক পোস্টে বলতে চেয়েছিলাম, দ্বীনি ফে-মি-নি-স্ট আসলে ঘো-ড়া-র ডি-ম। তারা ফে★মি-নি★স্ট চিন্তাভাবনার বিপরীতে কুরআনের আয়াত, হাদীস মেনে নিতে চাইবে না। নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে তারা প্রথমে অস্বীকার করে নির্দিষ্ট কিছু হাদীসকে, অতঃপর প্রশ্ন তুলে হাদীস শাস্ত্র নিয়ে। আর ক্লাসিক্যাল তাফসীর, ফিক্বহ তো তারা সহ্যই করতে পারে না। ফলে, এই জায়গায় তারা নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হয়। - আরিফুল ইসলাম

সাহাবীরা জবাব দিলেন, তারা কখনো শুনেননি। অতঃপর নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আতিকা বিনতে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, অন্যান্য নারীদেরকে জানিয়ে দিতে- স্ত্রী যদি তার স্বামীর সাথে ভালো আচরণ করে, তাকে সহযোগিতা করে, তাকে মান্য করে, তাহলে সে সমান সওয়াব পাবে (স্বামী বাইরে গিয়ে যেসব সওয়াব কামায়)। একজন নারী সাহাবী গেলেন আল্লাহর ইবাদাত করে (হজ্জ-উমরা, জানাজা, যু★দ্ধ) করে সওয়াব অর্জনের প্রশ্ন নিয়ে, আর নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য সেসব বিধান শীতিল করে সেগুলো করতে না বলে কী বললেন? স্বামীর খেদমত। স্বামীর খেদমত করলে নারীরা তেমন সওয়াব পাবে। আতিকা বিনতে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন উত্তর শুনলেন, তখন আনন্দচিত্তে তাকবীর দিতে দিতে নারীদের কাছে যান সুসংবাদ দিতে। [ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান : ৮৩৬৯, মুসান্নাফ ইবনে আব্দির রাজ্জাক : ১৫৯১৪] আনুগত্য দুই ধরনের হতে পারে। শর্তহীন আনুগত্য, শর্তযুক্ত আনুগত্য। শর্তহীন আনুগত্য লাভের অধিকারী আল্লাহ ও তাঁর রাসূল। বাকি সবার প্রতি আনুগত্য শর্তযুক্ত। আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের সাথে কনফ্লিক্ট হয়, এমন কারো আনুগত্য করা যাবে না বলে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেন। [সহীহ বুখারী : ৬৮৩০] নফল রোজা দেখবেন সবচেয়ে বেশি রাখে নারীরা। একজন পুরুষ যদি নফল রোজা রাখতে চায়, স্ত্রীর অনুমতি নেয়া লাগে না। কিন্তু, একজন নারী যদি নফল রোজা রাখতে চায়, স্বামীর অনুমতি লাগবে। [সহীহ বুখারী : ৫১৯২] একটি নফল আমল করার সময়ও নারীকে স্বামীর অনুমতি নিতে হচ্ছে, সে চাইলে এখানে তর্ক করতে পারবে না 'আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখবো, তুমি না করবে কেনো?' অনুমতির ব্যাপারটি শার'ঈ স্বীকৃত। বিয়ের পর একজন নারীর কাছে যদি স্বামী-বাবা দুইদিক থেকে আনুগত্যের কনফ্লিক্ট হয়, তাহলে সে কার আনুগত্য করবে? শায়খ আসিম আল হাকিমের মতে, এই বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই যে, স্ত্রী স্বামীর আনুগত্য করবে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুল্লাহর কাছে একটি কেইস যায়৷ একজন নারীর মা অসুস্থ। এখন সে যদি তার মায়ের সেবা করতে যায় তবুও কি স্বামীর অনুমতি নিতে হবে? ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, হ্যাঁ, তবুও অনুমতি নিতে হবে। স্বামী অনুমতি দিলে তবেই যাবে। [শারহু মুনতাহা আল-ইরাদাত ৩/৪৭] স্ত্রীকে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে এটা স্বীকৃত বিষয়। লেখাটি শুরু করেছিলাম জাহান্নামীদের মধ্যে অধিকাংশ নারী হবার কারণ স্বামীর অবাধ্যতা। এই অংশ শেষ করবো, নারীদের জান্নাত লাভের একটি উপায় হলো স্বামীর আনুগত্য। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের চারটি আমলের কথা বলেছেন। এগুলো তারা যথাযথভাবে করলে জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে তারা প্রবেশ করতে পারবে। আমলগুলো হলো : ১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ২. রমজান মাসের রোজা ৩. সতীত্ব রক্ষা ৪. স্বামীর আনুগত্য। [সহীহ ইবনে হিব্বান : ৪২৫২] ... দাম্পত্য জীবনের ভিত্তিমূল কী? উপরে যা বললাম সেগুলো ল' এন্ড অর্ডার। দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ল' এন্ড অর্ডার; তবে এটা দাম্পত্য জীবনের ভিত্তিমূল না। পবিত্র কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের প্রাণশক্তি বলা হয়েছে 'মাওদ্দাহ ওয়ারাহমাহ'- ভালোবাসা ও দয়া। এই দুটো আল্লাহ নিজেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্ষণ করেন। কথা হচ্ছে, অন প্রিন্সিপ্যালের ওপর; যেসব স্বামী অথোরিটির মিসইউজ করে তারা এই আলোচনার বিষয় না। এভারেজ একজন স্বামী সারাক্ষণ কি তার স্ত্রীকে অর্ডার করতে পারেন? অফিসের পিওনকে যেভাবে চা আনতে বলেন, স্ত্রীকেও তেমনি বলেন? স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের চাবিকাঠি হলো পারষ্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ। ভালোবাসার গভীরতা যতো বেশি থাকে, আবদার মেটাতে পারার আগ্রহ ততো বেশি। স্ত্রী একদিন রেস্টুরেন্টে খেতে চায়। ভালো রেস্টুরেন্ট। বিল ৩-৫ হাজার টাকা আসতে পারে। স্বামীর পক্ষে এফোর্ড করার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। স্ত্রীর এমন আবদারে স্বামী কতো দ্রুত রেসপন্স করবে বা কতো সুন্দরভাবে গুছিয়ে জবাব দিবে, বাজেট ঘাটতি থাকলে বুঝাবে সেটা নির্ভর করবে দুজনের মধ্যকার ভালোবাসার মাত্রার ওপর। এই মাত্রার তারতম্যের কারণে কেউ পরদিনই স্ত্রীর ইচ্ছেপূরণের জন্য চলে যাবে রেস্টুরেন্টে (প্রয়োজনে ধার নিবে), এই মাত্রার তারতম্যের কারণে কেউ স্ত্রীকে ধমক দিয়ে ঠাণ্ডা করবে, পারলে আরো কিছু কথা শুনাবে। এই ভালোবাসার মাত্রা যতো লেভেল বাড়তে থাকবে, সম্পর্কে ততো এক্সিলেন্সি অর্জন হবে। এই এক্সিলেন্সিটাই ইহসান। আইনানুগ অনেক কাজ স্ত্রী করতে বাধ্য না, অনেক কাজ স্বামী করতে বাধ্য না। কিন্তু, উভয়ের বন্ডিং যখন এমন একটা লেভেলে চলে যাবে, তখন তারা একজন আরেকজনের জন্য সর্বোচ্চ করতে দ্বিধান্বিত হবে না।

স্ত্রীকে কি স্বামীর আনুগত্য করতে হয়? নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তাঁকে জাহান্নাম দেখানো হয়। তিনি দেখতে পান সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসী হলো নারী। কারণ, তারা কু-ফ-রী করে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, তারা কি আল্লাহর সাথে কু-ফ-রি করে? নবিজী বললেন, না, তারা স্বামীর অবাধ্য এবং অকৃতজ্ঞ হয়। [সহীহ বুখারী : ২৯] এখানে দুটো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি এলার্মিং হাদীস বলেন, জাহান্নামীদের অধিকাংশ নারী এবং এটার কারণ কু-ফ-রি। স্বাভাবিকভাবেই সাহাবীরা আল্লাহর সাথে কু-ফ-রি-কে মনে করেন। তবে শাব্দিক অর্থে কু-ফ-রি শুধুমাত্র আল্লাহর সাথে কু-ফ-রি না-ও হতে পারে। নবিজী বিষয়টি ক্লিয়ার করে বলেন- স্বামীর অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতা। দ্বিতীয় বিষয় হলো, পাপ। এখানে নারীদের দুটো পাপের কথা বলা হয়েছে, যে কারণে তাদের স্রেফ গুনাহই হচ্ছে না, তাদের জাহান্নামে যাবার কারণ। স্বামীর অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতা। অবাধ্যতার বিপরীত বাধ্যতা, আনুগত্য। তারমানে, স্ত্রী স্বামীর আনুগত্য করবে, স্বামীর কথা মানবে, এটা অপশনাল না; আবশ্যক। স্ত্রীকে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে, এটা কি কুরআনে আছে? অবশ্যই আছে। আল্লাহ বলেন : "পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে আল্লাহ তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত। তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযতকারিণী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাজত করেছেন। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ কর এবং তাদেরকে (মৃদু) প্র-হা-র কর। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমুন্নত মহান।" [সূরা আন-নিসা ৪ : ৩৪] স্ত্রী যদি স্বামীর আনুগত্য না মানে, স্বামীর অবাধ্য হয়, তাহলে স্বামী স্ত্রীকে বুঝাবে, স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা থাকবে। এগুলো ধারাবাহিকভাবে করবে। এরপরও যদি স্ত্রী আনুগত্য না করে, তাহলে স্বামী তাকে মৃদু প্র-হা-র করতে পারে। এই যে স্বামী স্ত্রীকে শাস্তি দেবার অধিকার আছে, এটা অথোরিটির বিষয়। স্বামীকে আল্লাহ এমন অথোরিটি চর্চার সুযোগ দিয়েছেন। আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদাহর অনুমতি নেই। সিজদাহ পাবার একমাত্র হকদার হলেন আল্লাহ। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক্ষেত্রে একটি মেটাফোর ব্যবহার করেন। তিনি বলেন : "আমি যদি কোনো মানুষকে সিজদাহ করার অনুমতি দিতাম, তবে স্ত্রীদেরকে নির্দেশ দিতাম স্বামীদেরকে সিজদাহ করার। কেননা, আল্লাহ স্ত্রীদের ওপর স্বামীদের অধিকার দিয়েছেন।" [সুনানে আবু দাউদ : ২১৪০, জামে আত-তিরমিজি : ১১৫৯, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৫২] এই হাদীসকে মুহাদ্দিসগণ 'হাসান', 'সহীহ' হিশেবে আখ্যায়িত করেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রীকে স্বামীর সিজদাহ করার নির্দেশ দেননি, কিন্তু স্ত্রীর কাছে স্বামী কেমন এটা বুঝার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ দিয়েছেন। কাউকে সিজদাহ দেয়া মানে তার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করা। আর এটা তখনই সম্ভব, যখম একজন থেকে আরেকজন শ্রেষ্ঠ হবে। সমানে-সমানে সিজদাহর মতো এমন উদাহরণ নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিতেন না। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা, কর্তৃত্বকে কখনো 'সমান' বলে উল্লেখ করেনি; বরং স্বামীকে, পুরুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন : "নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।" [সূরা বাকারা ২ : ২২৮] নারী-পুরুষ কি সবকিছুতে সমান? না। ইসলামে নারী-পুরুষ সবকিছুতেই সমান নয়, সবকিছুতে তাদের সমান অধিকার নেই। ধর্মীয় বিধান মেনে চলার জন্য, সওয়াবের বেলায়, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে নারী-পুরুষ তার এফোর্ট অনুযায়ী সওয়াব পাবে। পুরুষ নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব, নারী নামাজ পড়লে কম সওয়াব এমন না। আবার ইসলাম তাদেরকে একই দায়িত্ব দেয়নি। দুজনের ভূমিকা ভিন্ন। ইবাদাতের ক্ষেত্রে নারী 'নারী' হবার কারণে অনেক ইবাদাত সক্রিয়ভাবে করতে পারে না। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী আসমা বিনতে ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা মদীনার নারীদের পক্ষে তাঁর কাছে জানতে গেলেন- তারা (স্ত্রীরা) তো স্বামীর 'চাহিদা' পূরণ করে, সন্তান লালন পালন করে, গৃহস্থালি দেখাশোনা করে। অন্যদিকে, স্বামীরা জুমুআর নামাজে যায়, অসুস্থকে দেখতে যায়, জানাজার নামাজ পড়তে যায়, হজ্জ-উমরা করতে যায়, যুদ্ধে যেতে পারে। নারীদের তো সেই সুযোগ নাই। তারা তো পিছিয়ে গেলো। তারা কিভাবে সেইসব সওয়াব অর্জন করতে পারে, যা নারী হবার কারণে তারা বঞ্চিত? নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই নারী সাহাবীর প্রশ্ন শুনে এতো খুশি হলেন যে, তিনি বাকি সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, দ্বীনের ব্যাপারে এই নারীর মতো বুদ্ধিদীপ্ত কোনো প্রশ্ন কি তোমরা এর আগে কখনো শুনেছো?

আমি চাই আমার বাচ্চারা মুসআব ইবনে উমার (রা.) এর গল্প বুকে নিয়ে বড় হোক। কীভাবে মক্কার সবচেয়ে ফ্লাশী ধনী, হ্যান্ডসাম টিনেজার ছেলেটা গোটা মদীনাকে প্রস্তুত করেছিল রাসুলের (সা.) আগমনের আগে। যার আতরের কন্ঠ শোকার জন্য লাইন ধরে মক্কার মানুষ দাঁড়িয়ে থাকতো, আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের জন্য এই মুসআব কীভাবে ছেঁড়া-ফাটা জামা পরে, না খেয়ে দিনের পর দিন কাটাতো। কিভাবে তার চমৎকার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মদিনার ইয়াং লিডারদেরকে সে ইসলামের পথে ডেকেছিল, এবং তার হাতেই বড় বড় মদিনার গোত্রের লিডাররা মুসলিম হয়েছিল সেই মদিনাতে! আজকের মদিনা কখনোই মদিনা হতো না যদি কিনা মুসআব (রা.) তার অবদান না রাখত! ঐ মদিনার লিডার সা'দ ইবনে মুআয (রা.) ১৮ কি ২০+ বছর বয়সে কতটা দৃঢ়তার সাথে রাসুল (স) কে বদরের যু★দ্ধের সময় বলেছিল , "ইয়া আল্লাহর রাসূল (সা.), আপনি এগিয়ে যান আমরা আপনার সাথে সাথে আপনাকে ফলো করবো, যদি আপনি যদি লড়তে লড়তে সমুদ্রের ভেতরেও চলে যান, আমরা একজন আপনাকে ছেড়ে অন্য দিকে যাব না ..." আমার প্রচন্ড ইচ্ছা আমার সন্তানরা এই মানুষগুলোকে ভালোবেসে বড় হোক। আমার সন্তানরা মুসআব, সা'দ, বিলাল (রা.), সালমান বিন ফারসী―এই মানুষদের জীবন গল্প শুনে বড় হোক। এরা ওদের রোল মডেল হোক। তাদের স্যাক্রিফাইস এবং সাহসিকতা জেনে ওদের চোখে পানি আসুক। রো★নাল-দো-রা তাদের জীবনের একমাত্র idol লিস্টে না থাকুক। খেলোয়াড়ের কান্না দেখে সে কাঁদবে, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে গিয়ে চোখে একফোঁটা পানিও আসে না এই বিপর্যয় যেন আমাকে দেখতে না হয়। একটি তারের জালে বল ঢুকাতে পারার আনন্দে সে আশেপাশের সমস্ত পাড়ার মানুষকে কষ্ট দিয়ে চিৎকার না করুক। সভ্যতার সাথেও কিছু কাজ করা যায়। এই উন্মাদনার শেষ আছে? হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। "অতএব, আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা বাকবিতন্ডা ও ক্রীড়া-কৌতুক করুক সেই দিনের সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যে দিনের ওয়াদা তাদের সাথে করা হচ্ছে।" (কুরআন, ৭০ : ৪২) - শারিন সফি অদ্রিতা

আত্মসম্মানের ভয়ে যারা হাত পাতে না, তাদের হাত মজবুত করুন। রাস্তায় দেখবেন অনেক মহিলা ওজন মাপার মেশিন নিয়ে বসে থাকে। অনেক বৃদ্ধ আমলকি নিয়ে বসে থাকে। সারাদিন তারা কতোই বা উপার্জন করে একবার ভেবেছেন? এই উপার্জনে তাদের সংসার চলবে? কিন্তু, প্রচণ্ড আত্মসম্মানের কারণে তারা মানুষের কাছে হাত পাতে না। এইসব মানুষের কথা মাথায় রাখুন। একদিন না হয় ওজন মেপে ৫০/১০০ টাকা দিন। ১০ টাকার আমলকি কিনে ৫০ টাকার নোট দিয়ে হাসিমুখে বলুন - "মামা, রেখে দিন।" - আরিফুল ইসলাম

একদিকে মুয়াজ্জিন আযান দিচ্ছেন, অন্যদিকে আপনার বাবা আপনাকে ডাকছেন। মুয়াজ্জিনের আযান শুনে আগে মসজিদে যাবেন নাকি বাবা কী জন্য ডাকছেন শুনে আসবেন? বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহকে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাব দেন - “আগে বাবার ডাকে সাড়া দিবে।” মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির রাহিমাহুল্লাহ বলেন : “আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ভেঙ্গে তার ডাকে সাড়া দিবেন।” ইয়াকুব আল-আজলী বিখ্যাত তাবেয়ী আতা ইবনে আবি রাবাহ রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, বৃষ্টির দিনে আমার মা আমাকে মসজিদে জামআতে নামাজ পড়তে নিষেধ করেন। তিনি আমাকে বাড়িতে নামাজ পড়তে বলেন। এখন আমি কার কথা শুনবো? ফরজ নামাজ পড়ার জন্য আমি কি মসজিদে যাবো, নাকি মায়ের কথামতো বাসায় নামাজ পড়বো? আতা ইবনে আবি রাবাহ জবাব দেন- “তুমি তোমার মায়ের কথামতো বৃষ্টির দিন বাসায় নামাজ পড়ো।” একজন মা তার সন্তানকে ওয়াদা করান- সে শুধুমাত্র ফরজ-ওয়াজিব নামাজ পড়বে আর রমাদ্বান মাসের রোজা রাখবে। এছাড়া কোনো নামাজ পড়বে না, কোনো রোজা রাখবে না। এমন অবস্থায় কি সে তার মায়ের ওয়াদা পালন করবে? নাকি ওয়াদা ভঙ্গ করবে? আতা ইবনে আবি রাবাহকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন - “সে তার মায়ের ওয়াদা পালন করবে।” রাতের খাবারের টেবিলে রেডি করে মা-বাবা আমাদেরকে ডাকতে থাকেন, আর আমরা বলি একটু পর আসছি। তখন আমরা কী করি? আমরা তখন মোবাইল টিপি বা পড়ালেখা করি। হিশাম ইবনে হাসান রাহিমাহুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি যখন রাতে কুরআন তেলাওয়াত করেন, তার মা তখন খাবার রেডি করে তাঁকে ডাকতে থাকেন। এমন অবস্থায় তিনি বিড়ম্বনায় পড়ে যান। মন চায় কুরআন তেলাওয়াত করতে, ঐদিকে তাঁর মা তাঁকে ডাকছেন। তিনি কী করবেন? আল-হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু পরামর্শ দেন- “তুমি তোমার মায়ের ডাকে খেতে বসবে। মাকে সন্তুষ্ট করা আমার কাছে নফল হজ্জের চেয়েও প্রিয়।” এক সাহাবী নিজের মা-বাবাকে কাঁদিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হিজরত করে তাঁর বাইয়াত গ্রহণ করতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শুনলেন, লোকটি তাঁর মা-বাবাকে কান্নারত অবস্থায় ফেলে রেখে এসেছেন, তখন বললেন, “তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদেরকে যেভাবে কাঁদিয়েছো, সেভাবে গিয়ে হাসাও।” [সুনানে আবু দাউদ: ২৫২৮] আল্লাম ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহর ‘আল-বিররুল ওয়ালিদাইন’ বই থেকে অনূদিত। - আরিফুল ইসলাম

আপনি কি জানেন যে আপনার অন্তরের অনেকগুলো আমল আছে? অন্তরের আমল ? সেটা কি? অন্তরের আমল হচ্ছে : তাওয়াক্কুল করতে পারা, আল্লাহর উপরেই ভরসা দৃঢ় রাখা, আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রাখা, আল্লাহকে ভালোবাসা, আল্লাহ যাদেরকে ভালোবাসেন, তাদের ভালোবাসা, আল্লাহ বান্দার কল্যাণের জন্য ‌যে নিয়ম কানুন ঠিক করে দিয়েছেন, সেই নিয়মগুলোকে ভালোবাসা‌ (যদিও ক্ষেত্রবিশেষে আমরা নিয়ম গুলো সব পালন করতে পারি না, তখনও সেগুলোর প্রতি মহব্বত রাখা অন্তরের গুরুত্বপূর্ণ আমল)। অন্তরের কাজের ব্যাপারে সচেতন না হলে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা খুবই কঠিন! জুনায়েদ (রহ.) বলেছেন, "তাওহীদ হলো অন্তরের কথা আর তাওয়াক্কুল হল অন্তরের কাজ!" ঈমান এমন একটি বিষয় যেটা শুধু জানলেই হবে না, সেই অনুসারে অন্তরকে আমলও করা লাগবে। অন্তরের আমল চলতে চলতে একসময় দৃঢ় ইচ্ছার সাথে পূর্ণ শক্তি যুক্ত হয় এবং তখনই মানুষ অন্তরের আমলের সাথে সাথে বাস্তবেও নেক আমল করতে পারবে। আবার ইচ্ছার কমতি থাকলে, অন্তরের আমলের অভাব থাকলে সেটা আর বাস্তবায়িত হবে না, বান্দা ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিন্তু অন্তরের আমল, দৃঢ় ইচ্ছা এবং পূর্ণ শক্তি রাখলে অবশ্যই বান্দা নেক আমল করে সাফল্যের পথে থাকবে ইনশাআল্লাহ। সেজন্য যে কোন বিষয়ে অন্তরের শুধু ইলম থাকলেই চলবে না, ঐ অনুসারে অন্তরের আমলটাও রাখতে হবে। হাতে-কলমে আমল এর পাশাপাশি অন্তরের আমল দিয়ে সচেতন হওয়াও জরুরী! রাসূল(স) চমৎকার একটা দুয়া করতেন তার অন্তরের আমল সংক্রান্ত, "হে আল্লাহ, অনোপকারী ইলম, অতৃপ্ত মন, অগ্রহণযোগ্য দুআ এবং অবিনয়ী অন্তর থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই!" (দুআর আরবি কমেন্ট বক্সে) ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, "অন্তর যখন জানবে মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, এই জানার সাথে সাথে যদি মুহাম্মদের (সা.) প্রতি অন্তরে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা তৈরী না হয়, এবং অহংকারবশত রসূলের অনুসরণ না করে ঐ ব্যক্তি আর মুমিন হতে পারল না, সে কাফের রয়ে গেল।" অনেক সময় অন্তর আল্লাহকেও ভালোবাসে! আবার তার পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসকেও ভালোবাসে, যেভাবে শুধু আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত! আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেন, "কতক মানুষ অন্য কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে; এবং সেসবকে ভালোবাসে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো করেই। অথচ মুমিনরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে আল্লাহকে!" (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৬৫) ________ অন্তরের আমল - শারিন সফি অদ্রিতা