2 651
Subscribers
No data24 hours
No data7 days
No data30 days
Posts Archive
চলন্ত বাসে বৃদ্ধ লোকটা কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। মেয়েটা ঠিক স্বস্তি পাচ্ছে না। আবার লোকটাকে দেখে মায়াও লাগছে। কেমন অসহায়ের মতো চেয়ে আছে। অনেকক্ষণ হলো লোকটা বাসে তার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। হাতে বড় একটা চটের ব্যাগ, ব্যাগের ভেতর পুটলির মতো কত কী, বেশভূষা দেখে তো গ্রাম থেকে এসেছে মনে হচ্ছে। মেয়েটা এবার মুখ তুলে বৃদ্ধ লোকটার দিকে তাকিয়ে মুহূর্তেই মুখ নামিয়ে নিল, লোকটা এখনও তাকিয়ে আছে। আর ঠিক তখনই লোকটা প্রথম কথা বলে উঠল,
— “তোমার মতো আমারও একটা মেয়ে আছে। ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে। আমি মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি।” মেয়েটা এবার একটু স্বস্তিবোধ করতে লাগল। সহজ হয়ে সেও কথার জবাব দিল,
— “ও আচ্ছা! দেখা হয়েছে আপনার মেয়ের সাথে?”
মেয়েটাকে অবাক করে দিয়ে বৃদ্ধ লোকটা ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।
— “এ কী! কাঁদছেন কেন? আপনার মেয়ে ঠিক আছে? কোনো সমস্যা হয়েছে?”
ধরা গলায় বৃদ্ধ বলতে লাগল,
— “মেয়ে আমার সাথে দেখা করেনি। বলেছে ডিপার্টমেন্ট থেকে পিকনিকে গেছে। আমার মন ঠিক সায় দিচ্ছিল না। আমি তার ভার্সিটির ডিপার্টমেন্টে খোঁজ নিলাম। সেখানে জানাল ডিপার্টমেন্ট থেকে কোনো পিকনিক যায়নি। পরে তার এক বান্ধবীর কাছে জানলাম, সে পিকনিকে যায়নি। এক ছেলের সাথে কক্সবাজার গেছে।”
বৃদ্ধ লোকটা কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। লজ্জায়, অপমানে, বুক ভরা কষ্টে তার চোখ বেয়ে পানি উপচে পড়ছে। চেষ্টা করেও তিনি তা আটকাতে পারছেন না।
এর পরের পুরোটা সময় আর কেউ কোনো কথা বলেনি। গন্তব্যের কাছাকাছি এসে মেয়েটা নেমে গেল। এতক্ষণ ধরে আটকে রাখা চোখের পানি সে আর আটকে রাখতে পারল না। কাঁদতেই কাঁদতেই বাড়ির দিকে রওনা হলো। আজ থেকে সে নিজের সাথে নিজে শপথ করেছে। যতদিন বেঁচে থাকবে, কোনোদিন সে বাবা-মা’কে কষ্ট দেবে না। কোনোদিন না।
.
বই : যে জীবন ফড়িঙের যে জীবন জোনাকির, পৃ : ১২৭-১২৮
বোন, শুধুমাত্র ৪টি জিনিস সামলাতে পারলেই আপনি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন। পছন্দসই যেকোন একটি গেইট দিয়ে বি-ইযনিল্লাহি তায়ালা -
১. পাঁচ ওয়াক্ত সলাত
২. ফরজ সিয়াম
৩. লজ্জাস্থানের হিফাযত ও
৪. স্বামীর আনুগত্য।
ব্যাস, জান্নাত!
এতো প্যারা নেওয়ার কিছু নেই। পুরুষকে তার কাজ সামলাতে দিন। তবে আপনাকে যদি সুখে থাকতে ভূ-তে কি-লা-য়, তাহলে ভিন্ন বিষয়।।
.
~ রাজিব
ফ্রি মিক্সিং, মাহরাম ছাড়া ট্যুরে যাওয়া, নারী পুরুষের নির্জনতা এই সংক্রান্ত ইসলামের নিষেধাজ্ঞা সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। সমাজে আজ এই বিধানগুলো চর্চা হয় না। ফলাফল আমরা সামাজিক অবক্ষয়ের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে বসবাস করছি।
যিনা ব্যভিচার, পরকীয়া, ধ~র্ষ~ণ ও এগুলোর জের ধরে নির্মম ও ভয়াবহ সব হ~ত্যা~কাণ্ড। প্রতিনিয়তই এই ধরণের ঘটনা ঘটছে। বলতে গেলে এগুলো যেন সমাজের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে ট্যুরিস্ট গ্রুপগুলো ফ্রি-মিক্সিং আর অশ্লীলতার অন্যতম এক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইদানিং সময়ে ট্যুরিস্ট গ্রুপগুলোতে ক্যাম্পিংয়ের ব্যাপারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছেলে মেয়ে একসাথে ট্যুরে যাচ্ছে। রাতে ক্যাম্পিং করে একই তাবুর নিচে থাকছে। এরপর যা হওয়ার হচ্ছে। কারো কারো তাবু ভ্রাম্যমান প~তি~তা~লয়ে পরিণত হয়েছে। এমন কিছু ঘটনা কানে আসে, যেগুলো শোনার পর আত্মমর্যাদাশীল কোন মুসলিম চিন্তিত না হয়ে থাকতে পারবে না।
আহ মুসলিম উম্মাহর আত্মমর্যাদা আর গায়রাত আজ কোথায় হারিয়ে গেল! যেই ছেলে নিজ বোনের প্রতি আত্মমর্যাদার কারণে চোখ তোলে তাকিয়ে কথা বলতে লজ্জা করত, তার সাথে অনর্থক কথা বলতে ভিতরে এক শিহরণ জেগে উঠত, সে আজ নির্দ্বিধায় সেই বোনের শরীরের কা~মু~ক দৃষ্টি ফেলছে, স্পর্শ করছে। কখনো কখনো ক্ষু~ধা~র্ত হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়ছে।
যেই মেয়েরা নিজেদের আত্মমর্যাদার দরুণ গাইরে মাহরাম পুরুষের পদচিহ্নে পর্যন্ত পা ফেলত না, পরপুরুষের দৃষ্টিতে পরা যাদের কাছে মরে যাওয়ার চেয়েও উত্তম ছিল, যারা নিজ হায়া ও শারাফাত রক্ষার্থে কর্কশ ছিল, তারা আজ ল~ম্প~ট ছেলেদের সামান্য প্ররোচনায় নিজের শরীরকে বিলিয়ে দিচ্ছে, উন্মুক্ত করে দিছে নিজের মূল্যবান দেহকে।
আর মা-বাবা ও অভিভাবকদের কথা কি আর বলব। আজকের মা-বাবারা নিজেদের সন্তানের প্রতি ওভার কনফিডেন্সে ভুগছেন। মনে হয় তারা নিজ সন্তানদেরকে ফেরেশতা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাই মানবীয় কোন চাহিদা কিংবা অপরাধ প্রবণতা তাদের মাঝে আসতেই পারে না। তাই ছেলে মেয়েকে যেখানে সেখানে ছেড়ে দিচ্ছেন। এরপর যখন দিহান আনুশকার মত দূর্ঘটনা ঘটে তখন তাদের হুশ হয়। নিজের মেয়ে যখন প্রেগন্যান্ট হয়ে হাসপাতালে দৌঁড়ে তখন তাদের কপালে ভাঁজ পড়ে। যখন ধ~র্ষ~ণ পরবর্তী লা~শ হয়ে ফিরে তখন আবিষ্কার করে নিজেকে অপরাধী হিসেবে।
মুসলিম প্রজন্মকে যদি আমরা দ্বীনি গায়রাত, ফিতরি হায়া ও শারাফাতের উপর গড়ে তুলতে না পারি, পর্দা, ফ্রি মিক্সিং, মাহরাম ও গাইরে মাহরাম ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট ইসলামের বিধানগুলোকে ব্যাপক ও প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি তবে আল্লাহর কসম! কোন আইন বিদ্যমান সামাজিক অবক্ষয়কে রুঁখতে পারবে না। বাঁধাহীন স্রোতের ন্যায় আমাদের সামাজিক কাঠামো ভেসে বঙ্গোপসাগরে বিলীন হয়ে যাবে। ধ~র্ষ~ণ, পরকীয়া, অশ্লিলতা, ব্যভিচার, পরিবার ভাঙ্গন ও এই সংশ্লিষ্ট হ~ত্যা~কাণ্ডগুলো দিন দিন বৃদ্ধিই পেতে থাকবে।
- ইফতেখার সিফাত
শাড়ির সাথে নিকাব, নিকাবের সাথে টাইট ফিটিং ড্রেসআপ, নিকাবের সাথে টিপ/টিকলি এই টাইপ কম্বিনেশন কোনোকালেই আমাদের সহমতের জায়গা হওয়ার কথা না। অনলাইনের বদৌলতে কত কী দেখতে হয়! শুধুমাত্র কালারিং বোরকা হিজাব দেখার দিনকাল বাদই দিলাম। এই যে সেদিন দেখলাম এক মহিলা ভ্লগার শাড়ির সাথে হাজারো অলংকার পরে নিকাব পরে বিয়ে এটেন্ড করছে। আউজুবিল্লাহ, এই নাকি পর্দা! এমনও দেখেছি যে নিজে শুধুমাত্র নিকাবি কিন্তু অবলীলায় বেপর্দাদের সাথে ছবি শেয়ার করছে৷
পর্দা করে কাপল পিক, কিস হাগসহ সে বেহায়াপনা আজকাল দেখানো হচ্ছে এটা একটা কথাই জানান দেয় তা হলো, হিজাবি কিংবা নিকাবির সংখ্যা হুহু করে বাড়লেও বাড়েনি প্রকৃত নিকাবিদের সংখ্যা যারা বুঝে নিকাব কেবল নাক আর মুখ ঢেকে রাখাই নয়। আমি জানি, নিকাবের সঠিক সংজ্ঞায়ন করতে গিয়েও হিউ-মিলে-ইট হয় অনেকে। অবশেষে ব্লক বা ব্যান করে। ব্লক কিংবা ব্যান করে নির্দিষ্ট কিছু পাবলিকের চোখ থেকে সরানো যায় নিজেকে, কিন্তু আল্লাহ সুবহানা তা'আলার দৃষ্টি!
এমনই কি ছিল নারী সাহাবীদের পর্দা? এরকমটাই কি কুরআনের আয়াতে আয়াতে বলেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা? কুরআনে বলা হয়েছে,
وقرن فى بيوتكن ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى
‘নিজ গৃহে অবস্থান করো, সাজ-সজ্জা প্রদর্শন করে বেড়িও না যেমন প্রাচীন জাহেলী যুগে প্রদর্শন করা হত।’
কেবল চুল ঢাকা কিংবা নাক আর মুখ ঢাকা মানেই হিজাব-নিকাব, এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কেবল এই ধারণার কারনেই হিজাব নিকাব পরেও নিজেদের আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলার একটা প্রতিযোগিতা তৈরী হচ্ছে আমাদের মাঝে। কিছু বলতে গেলেই ওপার থেকে উত্তর আসে, "হিজাব, নিকাব করলেও আপনারা এতো কথা বলেন কেন?" সঠিক হিজাব নিকাব না করে কেবল মডারেট পর্দা করে হিজাবের অবমাননা কার দেখতে ভালো লাগে? সোশ্যাল মিডিয়ার সবচাইতে পপুলার সেকশন আজ কাপল ভ্লগ আর হিজাবি কাপল হলেতো মা শা আল্লাহ আর গদগদ কমেন্টে কমেন্টবক্স পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
দুই শ্রেণীর দো~য~খী এখনও আমি দেখিনি। (কারণ তারা এখন নেই, ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করবে) এক শ্রেণী হচ্ছে ঐ সকল মানুষ, যাদের হাতে ষাঁ~ড়ে~র লেজের মতো চা~বু~ক থাকবে, যা দিয়ে তারা মানুষকে প্র-হা-র করবে। (দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে) ঐ সকল নারী, যারা হবে পোশাক পরিহিতা, ন-গ্ন, আকৃষ্ট ও আকৃষ্টকারী; তাদের মাথা হবে উটের হেলানো কুঁজের ন্যায়। এরা জান্নাতে যাবে না এবং জান্নাতের খুশবুও পাবে না অথচ জান্নাতের খুশবু তো এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে। (মুসলিম ২/২০৫, হাদীস : ২১২৮)
অলংকারাদি প্রদর্শনের যে এক প্রতিযোগিতায় বিভোর হয়ে নারীরা আজ যা করছে তার সতর্কতাস্বরুপ নিচের কথাই যথেষ্ট।
ইমাম যাহাবী রাহ. বলেন, যে সব কর্ম নারীর উপর লানত করে তা হল অলংকার ও আকর্ষণীয় পোশাকের সৌন্দর্য প্রকাশ করা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার। (আলকাবায়ের : পৃ. ১০২)
চলুন আমরা তেমন পর্দা করি যেমনটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তাদের ফলো করি যারা আমাদের প্রকৃত আইডল। এসব ভ্লগার একজন মুসলিম মেয়ের আইডল হতে পারেনা, আমাদের আইডল নারী সাহাবাগন। রাদিআল্লাহু আনহুম।
- কামরুন নাহার মীম
ইমামুল মুসলিমিন বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
"একজন পুরুষের ভূমিকা হল আয়-উপার্জন করে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা আর একজন নারীর ভূমিকা হলো ভালোবাসার ছোঁয়ায় বাচ্চাকাচ্চা লালন-পালন করা এবং তাদেরকে মায়া-মমতা প্রদর্শন করা।"
[ফাতওয়া বিন বায, ১/৪১৯]
নিজেকে গুনাহ থেকে পবিত্র রাখা কিন্তু শুধুমাত্র পরকালীন সফলতা কেন্দ্রিক সুবিধার জন্য, এমন না। কতক গুনাহ ব্যাক্তি, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক দুর্দশার কারণ হয়।
যে সমস্যাটা মহামারি এই যুগে, নজরের গুনাহ। এই নজরের হেফাযত না করলে তো ইবাদতের স্বাদ নষ্ট হয় আর ইবাদতের তৌফিক থেকে বঞ্চিত হতে হয়ই। কুরাআন তিলাওয়াতের আগ্রহ হয় না। তিলাওয়াত কেন, কোন ইমোশনাল কথাবার্তাও চোখে কৃতজ্ঞতার, শুকরিয়ার পানি আনে না।
এর সাথে সাথে আয় রোজগারে বরকত নষ্ট হয়, পরিবারকে আর্থিক ভোগান্তিতে পরতে হয়। অসুখ বিসুখেও পরতে হয়, যা টাকার বরকত নষ্ট করে দেয়।
যে চোখ বেপরোয়া, সে চোখে নিজের স্ত্রীর সৌন্দর্য তেমন কিছুই লাগে না। স্ত্রীর কাছে গেলে সুকুনও আসে না। পারিবারিক কলহ তো বোনাস।
একটা সময় যেয়ে পরকিয়াতে সমস্যা গিয়ে গড়ায়। দরজা খুলে যায় সামাজিক অবক্ষয়ের৷ ভিক্টিম হয় অনেক মাসুম নারী, নাবালক ছেলে মেয়েরা।
গুনাহ বেপরোয়া হতে থাকলে সন্তানরা চোখের প্রশান্তি হয় না। উলটো হয় চোখের জ্বালা।
এক শাহাওয়াতের গুনাহ আরো কী করে, টানতে টানতে আরো অনেক দিকেই নেয়া যাবে।
কাজেই, ব্যাপার গুলো যে শুধুই পরকালীন, এমনটা মোটেও না। হাতেনাতে নগদ নগদ ভুক্তভোগীও হতে হয় জানতে অজান্তে।
- সাব্বির আহমেদ
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রাহি’মাহুল্লাহ বলেন,
“পরনারীর প্রেমে এমন সব ফাসাদ রয়েছে, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ গুনে শেষ করতে পারবে না। এটা এমন ব্যাধিগুলোর একটি, যা মানুষের দ্বীনকে নষ্ট করে দেয়। মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে নষ্ট করে দেয়, অতঃপর তা শরীরকেও নষ্ট করে।”
- [মাজমুউল ফাতওয়াঃ ১০/১৩২]
চক্ষু নিচু করার অভ্যাস গড়ে তোলা, নন-মাহরাম পুরুষ যাদের সাথে নারীদের বিবাহ বৈধ তাদের সাথে কোমল কন্ঠে কথা না বলার অভ্যাস গড়ে তোলা, সর্বোপরি নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার অভ্যাস গড়ে না তোলা, গড়ে না ওঠার পথে অন্যতম প্রধান বাধার নাম "সহশিক্ষা"।
শীতকাল এলেই কিছু তরুণ ভাইয়েরা বিয়ে-বউ, স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গতা—ইত্যাদি নিয়ে এসব রসিকতাপূর্ণ কথাবার্তা পোস্ট করেন।
এদের প্রোফাইল ঘেটে দেখলাম ম্যাক্সিমামই মোটামুটি দ্বীনের সাথে কানেক্টেড। সেই হিসেবেই এটাই অন্তত ভালো বিষয় যে তারা গার্লফ্রেন্ডের চিন্তা না করে বউয়ের চিন্তা করেন৷
কিন্তু সেই সাথে তাদের যদি এই দ্বীনি গায়রতটুকুও থাকতো যে, একটা গাইরতসম্পন্ন দ্বীনদার ছেলের সাথে এটা কখনোই মানানসই নয় যে সে এসব বিষয় নিয়ে ফেসবুকে এসে রসিকতাপূর্ণ হাহাকার প্রদর্শন করবে।
প্রিয় ভাই, তোমার সামর্থ্য থাকলে তুমি বিয়ে করো। আল্লাহর নিয়ামাতের উষ্ণতা নাও। কোনো নিষেধ নেই। বরং উৎসাহিত। কিন্তু ফেসবুকে এসব করে আসলে তুমি কি নিজেকেই বেগায়রত হিসেবে উপস্থাপন করছো না?
আর সামর্থ্য না থাকলে, সবর করো। সুন্নাহ মেনে প্রস্তুতি নাও। আর হ্যাঁ, একজন মুমিনের শীতকাল শুধুই বিয়ে, বউ, অন্তরঙ্গতার জন্যই সেরা মৌসুম নয়। সালাফরা বলতেন,
الشتاء ربيع المؤمن .
শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল।
কারণ, এর দিন ছোট তাই সিয়াম রাখা সহজ। এর রাত লম্বা তাই পর্যাপ্ত ঘুমিয়েও কিয়াম (তাহাজ্জুদ) করা সহজ। হ্যাঁ যদিও শীতের প্রকোপ আছে, তাই সালাত কষ্টকর। তবে এর বিনিময়ও অনেক বেশি। অধিক ইবাদাত করতে না পারলেও, অধিক গুনাহ থেকে শীত তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তাই এটা অন্তত খেয়াল রাখো।
বিয়ে, বউ, অন্তরঙ্গতা এসবকে জীবনের মাকসাদ বানিয়ো না। ধ্যান-জ্ঞান বানিয়ে ফেলো না। জীবন আরও অনেক বড়ো কিছু। আরও অনেক বেশি কিছু। একটু চিন্তা করো, অনেক কিছু করার আছে তোমার। ছোট্ট এই জীবনেই অনেক কিছুর ব্যস্ততা আছে তোমার।
- শাকির মাহমুদ সাফাত
রিজিক ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। ধরুন, এক পরিবারের ইনকাম বেশ কম। তাদেরকে ধনী বলা চলে না। মোটামুটি নিজেদের খরচ কাটিয়ে ওঠেন এরকম। মাস শেষে হাতে আলগা টাকা থাকে না। কিন্তু তারা সৎ। হালালের ব্যাপারে অতি সচেতন। কাউকে ঠকান না। কারো টাকা মেরে দেন না। নিজেরা অতি বিলাসী ভাবে না চলতে পারলেও সাধ্যমতো দান-খয়রাত করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
.
এই দম্পতি একদিন দোকানে গেল। দেখা গেলো, যে জিনিসটা তারা পছন্দ করেছেন, সেটা খুব কম দামেই পেয়ে গেলেন।
.
আবার, এমনও হলো, তাদের একটা বস্তুর প্রয়োজন ছিল। ওটা কেউ তাদেরকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলো৷
.
আরেকটা ব্যাপার হলো, তারা অল্পেই খুশি থাকতে জানেন। কেন প্রতি মাসে নতুন শাড়ি, নতুন গয়না কেনা হচ্ছে না, কেন নতুন নতুন গ্যাজেট, অত্যাধুনিক ফার্নিচার বাসায় নেই, এসব নিয়ে তাদের মনে কোনো আফসোস বা হাহাকার কাজ করে না। লোক দেখানোর চিন্তা মাথায় নেই বলে, তাদের চাহিদাও কম। এসব তুচ্ছ জিনিসপত্র কেনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মন কষাকষি হয় না। তাদের সন্তান-সন্ততিরা কমেই খুশি থাকে। আলগা আবদারে বাবা-মায়ের জীবন বিষিয়ে তোলে না। কেন জন্মদিনের পার্টি হলো না, কেন নতুন সাইকেল কেনা হলো না - এসব নিয়ে জেদ করে না।
.
এগুলোই হলো রিজিকের বারাকাহ।
.
আমাদের মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতিসাব একদিন বলছিলেন, অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রী বিপদে থাকে, হয়তো বেতন দিতে পারে না। উনারা সেটা মওকুফ করে দেন৷ এত হিসাব করে দেখেন না যে, এই যে বেতন নিলাম না, এখন আমাদের স্বল্প আয়ের মাদ্রাসা কীভাবে চলবে? কোথা থেকে ভাড়া দিব, শিক্ষকদের বেতন দিব? কিন্তু দেখা গেল, আল্লাহর সাহায্য একভাবে চলেই আসে। হুট করে হয়তো কোনো অপরিচিত লোক এলেন এবং মাদ্রাসার জন্য এক বিশাল অনুদান দিয়ে গেলেন। আল্লাহ তা'আলা সহজেই মাদ্রাসার খরচ চালিয়ে নিলেন।
.
আরেকটা ঘটনাও বলি, যেটা আমার মনে দাগ কেটেছে। জাভেদ কায়সার ভাই আল্লাহর কাছে চলে যাওয়ার পর, ভাই-ব্রাদাররা নিজে থেকেই উনার লেখাগুলো সংগ্রহ করলেন, ছাপার ব্যবস্থা করলেন। এই যে উনার কথাগুলো মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেলো - এটাও বারাকাহ এর দৃষ্টান্ত। উনাকে কিন্তু এক পয়সাও খরচ করতে হলো না, কারো কাছে কিছুই চাইতে হলো না, অথচ উনার বই আমাদের হাতে চলে এলো।
.
আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, মানুষ হিসেবে আমাদের চিন্তাশক্তি অতি সীমিত। আমরা বৃত্তের বাইরে চিন্তা করতে পারি না। আমরা ভাবি, টাকা আসার হয়তো একটাই পথ আছে। এবং আমাদের বিশ্বাস যে, যত বেশি টাকা কামাব, ততই শান্তিতে থাকব। নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা আর খরচ করতে পারব। আদতে, আল্লাহ তা'আলা চাইলে অল্প টাকাতেও অনেক বেশি "বারাকাহ" থাকা সম্ভব। আল্লাহ তা'আলা চাইলে কমেও খুশি থাকা সম্ভব। আবার আল্লাহ চাইলে মুহূর্তের মধ্যে লাখ-লাখ কোটি-কোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক না।
.
সেই হাদিসের কথা মনে করুন, যেখানে এক লোক আল্লাহর কাছে হাত তুলে দুয়া করেছিল - হে আল্লাহ, আমি এক লোককে কাজের জন্য রেখেছিলাম। এরপর সে বেতন না নিয়েই চলে যায়। আমি তার টাকা দিয়ে কিছু গরু কিনি। এরপর তাদের বাছুর হয়। এভাবে করে একটা সময় অনেক গরু, বাছুর হয়ে যায়।
.
একদিন সেই লোক ফিরে এসে তার পাওনা বেতন ফেরত চায়। তখন আমি তাকে এইসব গরু-বাছুর দেখিয়ে বলি, এ সবই তোমার। সে বলে, আল্লাহকে ভয় করো! আমার সাথে মজা কোরো না।
.
আমি বললাম, আমি মজা করছি না। এগুলো সবই তোমার। তখন সে সব গরু-বাছুরগুলো নিয়ে চলে গেল। এই ঘটনার উল্লেখ করে লোকটি আল্লাহর কাছে বিপদমুক্তির দোয়া করে, যে - হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজ তোমার কথা ভেবে করে থাকি, তাহলে আমাদেরকে এই বিপদ থেকে মুক্ত করো!
.
চিন্তা করুন সেই লোকটির কথা, যে হুট করেই এত গরু-বাছুর আর ধনসম্পদের মালিক হয়ে গেল! সে যে এতকিছু পাবার কল্পনাও করেনি, সেটা তার অবাক হওয়া দেখেই আমরা বুঝতে পারি। কারণ সে বলছিল, "আমার সাথে মজা কোরো না!" মানে এত সম্পদ কীভাবে আমার হতে পারে? এতকিছু কোথা থেকে আসলো? অথচ আল্লাহ তার রিজিককে এভাবেই বৃদ্ধি করে দিলেন।
.
আল্লাহকে ভয় করলে আল্লাহ এভাবেই রিজিকে বারাকাহ দেন। সেটা টাকার অংক বাড়ানোর মাধ্যমে বা অন্য যেকোনো উপায়েই হতে পারে, যা আপনার বা আমার কল্পনাও করার সাধ্য নেই। বান্দা হিসেবে আমাদের লক্ষ রাখার বিষয়, আমরা কতটা সৎ। আমরা আল্লাহর কথা মানতে কতটা যত্নশীল।
.
- আনিকা তুবা
‘হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।’ (সূরা বাকারাহঃ ২১৬)
ছবির চশমাটার এই দশা হওয়ার ঘটনা ঘটলো দুই দিন আগে। চশমার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আমার চোখ রক্ষা করলেন।
প্রতিটি মানুষই তার জীবনের দিকে দৃষ্টি ও মনোযোগ দিলে এমন অসংখ্য বিষয় পাবে, যা সে বাহ্যিক দৃষ্টিতে অকল্যাণকর ভেবেছিল, অথচ পরে তা তার জীবনে কল্যাণ বয়ে এনেছে।
আমার কথাই যদি ধরি, আমার চোখের দৃষ্টি যদি পার্ফেক্ট থাকতো এবং চশমা পড়া না লাগতো; তাহলে দুইদিন আগের সেই ঘটনার পর চোখের কী অবস্থাটা হতো?
এ থেকে একটি ভাবনা অন্তরে আসে–মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হওয়া একটি 'ত্রুটি'ও কীভাবে তাকে অন্য এক বৃহৎ ত্রুটি ঘটে যাওয়া থেকে রক্ষা করার মাধ্যম হতে পারে..
মূলত, এই দুনিয়ার জীবনে স্রেফ মানবীয় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জানা সম্ভব নয়–কীসে কল্যাণ, কীসে অকল্যাণ।
ভালকে মন্দ এবং মন্দকে ভাল মনে করার ধোঁ-কা থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হেফাজত করুন।
- তাহসিন কামাল
যার অন্তরে আল্লাহ ভীতি আছে, যে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে সে আজ হোক বা আগামীকাল মারা যাবে, তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে- সে কখনোই ফ্রি মিক্সিংয়ে বিশ্বাসী হতে পারেনা। সে কখনোই একজন নন মাহরামের সাথে অপ্রয়োজনে কথা বলতে পারেনা। সে কখনোই পর্দার লঙ্গন করতে পারেনা- হোক সেটা তার পরিবার অথবা শিক্ষাঙ্গনে।
একজন তাকওয়াবান পুরুষ কখনোই একজন নন মাহরাম মহিলার দিকে তাকাতে পারেনা। অসাবধানে দৃষ্টি চলে গেলেও সে তা নামিয়ে নেয়। সে নিজের ঈমানের হেফাজত করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করতে বলেছেন, নতুবা রোজা রাখতে বলেছেন। প্রেম করতে বলেননি। অবাধ মেলামেশা করে সময় কাটাতে বলেননি।
একজন নারী, যে কাঠফাঁটা রোদের মধ্যেও পরিপূর্ণ হিজাব পরিধান করে, সে জানে তার এই সেক্রিফাইসের মধ্যে কি এক মজা লুকিয়ে আছে। সে জানে কিয়ামতের মাঠের সেই বিভীষিকাময় তাবদাহের চেয়ে দুনিয়ার এই তাপ কিছুই নয়। সে কিয়ামতের মাঠের সেই তাবদাহ থেকে বাঁচতে, দুনিয়ার তাপটুকু হাসিমুখে সয়ে নেয়। তার কাছে এই হিজাবই সম্মান।
একজন পুরুষ, যে তার সকল কামনা-বাসনাকে জমিয়ে রাখে কেবল আল্লাহর প্রতিশ্রুত সেই নারীর জন্য যেখানে বলা হচ্ছে ‘মুমিন নারী মুমিন পুরুষের জন্য’। [২]
সে জানে দুনিয়ার লিজা, লাকি, সাদিয়া আর সুমাইয়ারা- যারা তাদের শরীর প্রদর্শনে ব্যস্ত, তারা তার জন্যে নয়। তার জন্যে আল্লাহ তা’য়ালা একজন মুমীনাকে হেফাজত করছেন যার প্রতিশ্রুতি তাকে কুরআন দিচ্ছে। সে অপেক্ষা করে। দোয়া করে। সবর করে। সিয়াম রাখে।
‘বন্ধু’ তো সে, যে বিপদে পাশে থাকে, সাহায্যকারী হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নারীকে আপনি আজ স্রেফ ‘বন্ধু’ বানাচ্ছেন, আগামীকাল সে আপনাকে জাহান্নামের জ্বালানী বানিয়ে দিবে না তো?
আজ যে ছেলেটাকে আপনি ‘বন্ধু’ বানিয়ে নিচ্ছেন, আগামীকাল সে আপনার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবার কারণ হয়ে দাঁড়াবে না তো?
রেফারেন্সঃ
(১) Ahmad, Al-Tirmidhī & Al-Hākim
(২) Sura Aan-Nur
‘আমরা তো স্রেফ বন্ধু কেবল’
- আরিফ আজাদ
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একভাই একবার আমার কাছে তার মধুর প্রেমের গল্প করতে লাগলো। দু’জন দুই ডিপার্টমেন্টের। শাটল ট্রেনে তাদের পরিচয়। চোখাচোখি, আলাপ এবং বন্ধুত্ব। প্রথমদিকে তারা কেবল ‘বন্ধু’ ছিলো। বন্ধু মানে কি? একজন অন্যজনের খোঁজ-খবর রাখবে, সুখের-দুঃখের আলাপ করবে, শেয়ার আর কেয়ারে কাণায় কাণায় ভরে উঠবে বন্ধুত্বময় জীবন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তো, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম কিভাবে?’
সে বললো, ‘এটা আসলে হয়ে যায়’।
আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিভাবে হয়ে যায়?’
এরপর সে বললো, ‘প্রথম প্রথম দু’জনে দু’জনের খুব কেয়ার করতাম। একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা, নানান গল্প করা, ভালো লাগা মন্দ লাগা শেয়ার করা, বাড়িতে চলে যাওয়ার পরেও ফোনে কথা বলা ইত্যাদি...’।
- ‘তারপর?’
- ‘তারপর একটা সময়ে গিয়ে বুঝলাম, কাজগুলো আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসলে আমারও যেতে মন চাইতো না, সে ক্লাস মিস করে বেরিয়ে এলে আমিও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে পড়তাম। সে অসুস্থ হলে একটু পর পর ফোন দিয়ে তাকে খাওয়ার কথা, ঔষুধের কথা মনে করিয়ে দিতাম। তার মন খারাপ হলে আমারও মন খারাপ হয়ে যেতো’।
- ‘তারও কি ঠিক একইরকম অনুভূতি হতো?’
- ‘হ্যাঁ’।
- ‘এরপর?’
- ‘এরপর আর কি! আমাদের মধ্যে প্রেম হয়ে গেলো...’।
ঘটনার এখানেই সমাপ্তি টেনে দিই। তাদের সেই প্রেম সফল হয়েছিলো কিনা, তাদের বিয়ে হয়েছিলো না ব্রেকআপ- সেসব আমার আলোচ্য বিষয় নয়। আমার আলোচ্য বিষয় অন্যকিছু।
ছেলেটাকে মোটামুটি ধার্মিক বলে জানতাম। জিরো পয়েন্ট এলাকার মসজিদে একসাথে প্রায়ই যোহরের সালাত পড়তাম। মজার ব্যাপার হলো সে সালাতের মধ্যে দোয়া করতো যেন তাদের দু’জনের সম্পর্কটা টিকে থাকে। বেশ সৎ প্রেমিক ছিলো বলা যায়!
দুঃখের ব্যাপার হলো এই, বিশ্ববিদ্যালয়েজুড়ে এরকম হাজার হাজার মুসলিম ছেলেমেয়ে আছে যাদের কাছে পর্দার সঠিক জ্ঞানটা নেই। আমি দেখেছি এরা মোটামুটি ধর্ম মানে। অনিয়মিত হলেও সালাত পড়ে। কিন্তু, পাশাপাশি প্রেমও করে। ক্যাম্পাসজুড়ে এরকম অসংখ্য হিজাবী আপু (যদিও তাদের টাইট-ফিট বোরকাটাকে হিজাব বলতে আমার ঢের আপত্তি আছে) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে যারা বোরকা পরে, নিক্বাব করে, আবার একইসাথে বয়ফ্রেন্ড মেনটেইন করে।
একজন মুসলিম ছেলে এবং মেয়ের অবশ্যই জানা উচিত যে, যে দ্বীনের উপর সে জন্মগ্রহণ করেছে, সেই দ্বীন তার জন্যে কিছু নিয়ম, কিছু রুলস, কিছু সুযোগ এবং কিছু সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে নিয়ম এবং রুলসগুলো মানতে বাধ্য। সুযোগগুলো সে অনায়েশে নিতে পারে, এবং সে কখনোই দ্বীন কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার বাইরে যেতে পারবেনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুসলিম তরুণকে জিজ্ঞেস করুন সে কুরআনে বিশ্বাস করে কিনা? সে বলবে, ‘আলবৎ করি। আমি একজন মুসলিম। কুরআনে বিশ্বাস না করলে আমি কিভাবে মুসলিম হবো?’
তাকে আবার বলুন, ‘আচ্ছা, কুরআনে যা করতে বলা হয়েছে তা না করলে, বা তার উল্টো কিছু করলে কি হবে?’
সে বলবে, ‘গুনাহ হবে’।
আচ্ছা ঠিক আছে। এবার তাকে বলুন, ‘ভাই, আল্লাহ সুবনাহু ওয়া’তায়ালা কুরআনে বলছেন ‘মুমিন পুরুষদের বলে দিন তারা যেন দৃষ্টি সংযত করে চলে এবং তাদের গোপন অঙ্গের হেফাজত করে’। এখন, এই যে আপনি বেপর্দা একজন মহিলাকে ‘গার্লফ্রেন্ড’ নাম দিয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আপনি কি মনে করছেন না যে আপনি আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতা করছেন? মহিলাটা আপনার জন্য মাহরাম নয়। তার সাথে ঘুরে বেড়ানো তো দূর, তার সাথে চোখ তুলে কথা বলার অনুমতিও তো শরীয়াহ আপনাকে দেয়না। সেখানে আপনি তাকে নিয়ে ঘুরছেন, খাচ্ছেন, খাইয়ে দিচ্ছেন, হাসাহাসি করছেন, ফোনে কথা বলছেন। এটা তো পুরোদাগে শারীয়াহ বহিঃভূত কাজ’।
সমস্যাটা হলো, তাদের কাছে ইসলামটা একটা ধর্মই থেকে গেলো, দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) হয়ে উঠতে পারেনি। তাদের কাছে পর্দার ব্যাপারটা পরিষ্কার নয়। মাথায় একটা কাপড় পেছিয়ে এবং একটা টাইট বোরকা পরলেই কেবল ধর্মোদ্ধার হয়না। একজন পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশার ব্যাপারটাকে তারা এতো তুচ্ছভাবে দেখে, যেন এটা হাঁচি দেওয়ার পরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে ভুলে যাওয়ার মতো খুব নগন্য কোন বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ভাইটা বলেছিলো তারা প্রথমে বন্ধু হয়, এরপর বন্ধু থেকে জান, সোনা, ময়না,পাখি হাবিজাবি! আসলেই ঠিক। শয়তান তার পরিকল্পনাকে এভাবেই বাস্তবায়ন করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ যখন একাকী থাকে, তখন সেখানে তৃতীয় পক্ষ হিশেবে শয়তান উপস্থিত হয়’। [১]
এই শয়তান প্রথমে তাদের স্রেফ ‘বন্ধু’ বানায়। এরপর আস্তে আস্তে তাদের নিয়ে যায় ফিতনার দ্বারপ্রান্তে।
প্রশ্ন করা হয়, ‘বিবাহ বহিঃভূত প্রেম ভালোবাসা জায়েজ কিনা?’ ইসলামে যেখানে একজন নারীর জন্য তার খালাতো ভাই, মামাতো ভাই আর চাচাতো ভাইরা মাহরাম (যাদের সামনে যাওয়ার অনুমতি শারীয়াহ প্রদান করে) নয়, সেখানে ক্যাম্পাসের এক অপরিচিত ছেলের সাথে মেলামেশা করা, তার সাথে প্রেম ভালোবাসা জায়েজ হবার তো প্রশ্নই আসেনা।
পুরুষ তাদের দৈহিক গঠন আর শক্তিবলের ফলে কঠিন কাজও অনেক সময় ধরে করার ক্ষমতা রাখে। একে আমরা বলতে পারি উদ্বৃত্ত শ্রম।
নারীরাই একমাত্র সন্তান ধারণে সক্ষম। একে আমরা বলি প্রজনন ক্ষমতা।
সংসারে পুরুষ তার এই উদ্বৃত্ত শ্রম ও নারী তার প্রজনন ক্ষমতার বিনিময়ে এমন একটি প্রক্রিয়া গড়ে তোলে যা একে অপরের মংগল সাধন করে এবং গড়ে তোলে পরিবার। এই প্রক্রিয়ায় উভয় লিঙগের স্বভাব, আল্লহ প্রদত্ত ক্ষমতা ও মনস্তত্ত্ব দারুণভাবে খাপ খেয়ে যায়৷
এভাবে নারী পুরুষ উভয়েই তাদের নিজেদের সহজাত গুনাগুণ ও কাজের প্রতি পূর্ণভাবে মনোযোগী হতে পারে এবং সুন্দরমতো দায়িত্ব পালন করতে পারে৷
এটি সংসারকে করে মসৃণ, নির্বিঘ্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিন্তু বর্তমানে নারীদের মাঝে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং তাদের একইসাথে পুরুষদের কাজ করতে প্ররোচিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ একই সময়ে তাদের উদ্বৃত্ত শ্রম ও প্রজননের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় যেকোনো মানুষের জন্য তা সাধ্যের বাইরে।
অথচ নারী, এই সাধ্যাতীত কাজ করার জন্য তোমাকে বাধ্য করা হচ্ছে।
‘অস্বস্তি’র যেই অনুভূতি তোমার মাঝে ঢুকানো হয়েছে তা তোমার জন্য বিষ! তোমার জন্য এটি এক বহিরাগত অচেনা অনুভূতি যা নারীবাদ তোমার মাঝে জোর করে ঢুকিয়ে দিচ্ছে! সুযোগ থাকতেই এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসো!
একজন নারী হিসেবে আমাদের উত্তম স্বামী নির্বাচন করতে হবে (অভিভাবকের বিচার-বিবেচনা, ইস্তিখারা এবং পরামর্শ দ্বারা)। এরপর আমাদের প্রয়োজন স্বামীর উপর আস্থা করতে শেখা৷
আর অবশ্যই সমীকরণের অপর পাশে অবস্থিত আমাদের পুরুষদের হতে হবে তাদের উপর নির্ভরশীলদের জন্য ইসলামী মানদণ্ড অনুযায়ী উত্তম অভিভাবক, স্বামী এবং বাবা৷ তাদের আল্লহর আদেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। মাশাআল্লাহ! অধিকাংশ মুসলিম পুরুষ এ ব্যাপারে সচেতন।
যখন পুরুষ তাদের পৌরুষ ভূমিকা শক্তভাবে পালন করবে এবং নারীও ‘অস্বস্তি’তে না ভুগে তাদের নারীত্বকে কাজে লাগাবে, তখনই আমাদের সংসার জীবন সুন্দর ও শান্তির হবে ইনশাআল্লহ।
- উম্মে খালিদ
▬▬▬▬▬▬▬▬▬
মূলত নারীদের ডাবল শ্রম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে নারীদেরই অজান্তে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের লিঙ্গভেদে দায়িত্ব দিয়েছেন। Gender Role নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নারীরা ঘর সামলাবে আর পুরুষেরা রিযিক অন্বেষণ করবে। এজন্যই পুরুষের আবেগ নারীদের তুলনায় কম। আর নারীরাই শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নারী ও পুরুষ একে অপরের প্রতিযোগী নয়। একে অপরের পরিপূরক। নারী-পুরুষের শারীরিক, মানসিক গঠনগত পার্থক্য রয়েছে। যার কারণে একজম যে কাজ সাচ্ছন্দ্যে করত্ব পারে, আরেকজন সেটা করতে গিয়ে অনেক কষ্ট ও চাপ অনুভব করে। নারী ও পুরুষের তুলনা সম্ভব না। দুজন দুজনের জায়গায় স্বতন্ত্র।
পুঁ-জিবাদীরা মুনাফা বেশি করার জন্য কৌশলে নারীদেরকে চাকরিক্ষেত্রে এনেছে। ভাবুন, কেন নারী হয়ে আপনি নিজের দায়িত্বের সাথে পুরুষের দায়িত্ব (রিযিক অন্বষণের দায়িত্ব) পালন করবেন? নিজের সন্তানকে ছেড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাহিরে কষ্ট করবেন?
আপনার স্বামী দুর্ভাগ্যক্রমে দায়িত্বহীন হলে আপনি তো আপনার পুত্র সন্তানকে শিক্ষা দিতে পারেন যাতে সে এমন না হয়, মেয়ে সন্তানের জন্য দু'আ করতে পারেন যাতে আল্লাহ তাকে দায়িত্ববান স্বামী যেন মিলিয়ে দেন। যেন আপনার মেয়ে আপনার মতো কষ্ট অনুভব না করে। অথচ আমরা সেটা না করে চাকরি করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পরি।
পুঁ-জিবাদীদের এজেন্ডাও এক্ষেত্রে নারীদের উস্কে দিয়েছে। যে নারী সমাজসংস্কারে ভূমিকা রাখে তাকে উত্তম প্রজন্ম গঠনের শিক্ষা না দিয়ে দিয়েছে চাকরি করার শিক্ষা, পুঁ-জিবাদের দা-সী হওয়ার শিক্ষা।
উপমহাদেশের কিছুসংখ্যক পুরুষের দায়িত্বহীনতার ফায়দা নিয়েছে তারা। ইসলামে চাকরি শর্তসাপেক্ষে জায়েয। এমন নারীদের জন্য জায়েয যাদের দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই। অসহায় নারীদের জন্য জায়েয। আর নারীদের কল্যাণে কিছু ক্ষেত্রে যেমনঃ ডাক্তার, শিক্ষিকা, নার্স প্রভৃতি ক্ষেত্রে জায়েয। তাও এক্ষেত্রে এমন পরিবেশে চাকরি করতে হবে যেখানে পুরুষের আনাগোনা নেই।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী নারীরা থাকবে সম্ভ্রান্ত। কারো স্বামী দায়িত্বহীন হলে তার উচিত দু'আ করা। আল্লাহ আমাদের তার নিকট চাইতে বলেছেন। কেউ যদি দু'আ না করে হারাম পরিবেশে চাকরি করতে চলে যান এর জবাবও আপনাকে দিতে হবে। পুরুষের জবাব পুরুষ দিবে আর নারীর জবাব নারী!
নারীরা যদি এখন না বুঝে তবে, পরে এমন দায়িত্বহীন পুরুষের জন্ম হবে, যারা নারীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নিতে চাবে না। যারা চাবে না তার স্ত্রী তার ওপর নির্ভরশীল হোক। চাবে স্ত্রী যেন নিজের খরচ নিজের টাকা দিয়ে চালায় যেহেতু সে চাকরি করছেই! একই সাথে নারীকে সংসার ও রিযিকে ঘানি টানতে বাধ্য করবে। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশেরই একজন ভাই এরূপ দাবি করেছেন। এটা পা-শ্চা-ত্য অমুসলিম আধুনিকতার দর্শন, সমতা ও স্বাধীনতার নীতি।
অথচ নির্ভরশীল হওয়াটাই প্রকৃতির নিয়ম। আল্লাহ আমাদের এভাবেই বানিয়েছেন। নারীরা এখনও আসল ষড়যন্ত্র না বুঝলে তাদের মারাত্মক খেসারত দিতে হবে।
- নিশাত তাম্মিম
গৃহিণী হওয়ার প্রতি নারীদের কেন এতো ‘অস্বস্তি’?
আমি বিয়ে নিয়ে একদল অবিবাহিত নারীর সাথে কথা বলছিলাম। তাদের বয়স হবে বিশ থেকে ত্রিশের কোঠায়।
এক বোন বললো, সে একইসাথে বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছে এবং চাকরির চেষ্টা করছে৷ সে চাকরি খুঁজছে কারণ নিজে টাকা আয় করে সে ‘স্বাধীন’ থাকতে চায়। সে আরো বললো, বিয়ের পর সে তার নিজের মতো থাকতে চায় এবং সে মনে করে নিজে টাকা আয় করেই তা হাসিল করা সম্ভব। স্বামীর যদি অনেক টাকাও থাকে, তবুও পুরোপুরি স্বামীর উপর নির্ভর করা হবে, তার ভাষায় তার জন্য ‘অস্বস্তি’র বিষয়।
এর আগেও একই ধ্যান ধারণার আরো মডার্ণ মুসলিম নারীদের থেকে কাটায় কাটায় একই কথা শুনেছি। তাদের সবারই সেই একই ‘অস্বস্তি’।
সংসারের প্রথাগত দায়িত্ব পালন করতে নারীদের কেন এই অনীহা? নারীরা নিজেদের পরিবার, ঘর-সংসার আর সন্তানদের দেখভাল করবে আর পুরুষ করবে আয় উপার্জন ভরণ পোষণ – এটা মেনে নেয়া কেন এতো অস্বস্তিকর?
আমাদের এই অস্বস্তি কোথা থেকে আসলো? মনের মধ্যে এই অবিশ্বাস, এই সন্দেহ, এই উদ্বেগ কবে থেকে?
আমি বুঝতে পারছি এর ব্যাখা অনেক ভাবেই দেয়া যায় এবং হজম করা কঠিন হলেও আমি এগুলো নিয়েই কথা বলতে চাই।
সন্দেহ নেই, বাস্তবে এমন কিছু উদাহরণ দেখতে পাবো যেখানে পুরুষ ভরণ-পোষণকারী হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালনে গুরুতরভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে নারীদের বাধ্য হয়ে সেই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে। কিছু স্বামী এবং/ অথবা বাবাদের ভুল থেকে তাদের স্ত্রী, কন্যা অথবা বোনদের মধ্যে পুরুষদের প্রতি অনাস্থা জন্ম নিচ্ছে। তাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে যে পুরুষ মাত্রই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এবং বিশ্বাস ভংগকারী। ইসলামী মানদণ্ডে এমন পুরুষেরা অভিভাবক, স্বামী এবং বাবা হিসেবে ব্যর্থ। এমন দুর্বল, অনুশাসনহীন, অযোগ্য পুরুষেরা তাদের নারীদের হতাশ করেছে।
এটাই কি তবে মূল কারণ?
এমন ঘটনা কতই বা ঘটে থাকে? মুসলিম পুরুষদের শতকরা কত অংশ এমন ব্যর্থ? অধিকাংশ পুরুষই কি এমন? শতকরা অর্ধেক? এক-চতুর্থাংশ? ৫%?
অথচ আমরা নারীরা এমনভাবে এই বিষয়টা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে জল্পনা কল্পনা রটাই, যেন মনে হবে ৯৯.৩% পুরুষই এভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।
স্বীকার করছি, দায়িত্বজ্ঞানহীন পুরুষ সমাজে অবশ্যই আছে, তবে তার চেয়েও বেশি আছে নারীদের কল্পনার বাড়াবাড়িতে।
কারণ এই ঘটনাগুলো এমনভাবে বার বার বলা হয় তা এক পর্যায়ে সত্যের সাথে রঙমাখা গল্পে রুপ নেয়৷ নারীরা অন্যের সংসারের ঘটনাগুলো থেকে নিজেদের মতো করে শিক্ষা নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে চলে আসে, যদিও তাদের জন্য এগুলো ছিল শুধুই শোনা গল্প এবং তারা বাস্তবে এমন ঘটনা নিজেদের চোখে কখনোই দেখেনি।
এখানে আরেকটি প্রভাবক হলো উদারপন্থী বা লিবারেল মতবাদের দীক্ষা এবং নারীবাদের মগজ ধোলাই। চলুন না, যা সত্যি আমরা তাই বলি!
নারীদের মাথায় ঢুকানো হচ্ছে এই গাঁ-জাখুরি বুলি : “নারী, তুমি স্বাধীন। পুরুষদের বিশ্বাস করা যাবেনা! হয়তো দেখা যাবে তোমার স্বামী একটা কিপ্টের জাসু! অথবা একজন অলস উদ্যমহীন বেকার! অথবা সে ঠকিয়ে বাচ্চাসহ তোমাকে ফেলে চলে যাবে! অন্য মেয়ের হাত ধরে ভেগে যাবে! সে হয়তোবা তোমাকে পশুর মতো নির্যাতন করবে! অপমান করবে! অথবা কি হবে যদি সে মারা যায়?! কি হবে যদি কোনো কারণ ছাড়া তোমাকে তালাক দিয়ে দেয়?! কতশত ভয়ানক পরিনতি! এভাবে একজন বিশ্বাসের অযোগ্য কারোর উপর নির্ভর না করে নারী তুমি নিজে আয় করো যাতে তুমি স্বাধীন থাকতে পারো! নারী, তুমি যেকোনো কিছুর জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখো! বলা তো যায়না, কখন কি হয়!”
কি ভয় জাগানিয়া কথাবার্তা!
সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অনিরাপত্তার বীজ বপনকারী!
এক্ষেত্রে মরিয়া হয়ে শুধু নিজেই প্রচেষ্টা করে যাওয়া যাতে তাওয়াক্কুল তথা আল্লহর উপর আস্থা স্থাপনের কোনো নাম-গন্ধ নেই! আমরা যেন তাওয়াক্কুল এবং রিযিকের সেই হাদীস ভুলে গিয়েছি:
حديث عمر ، قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: “لو أنكم تتوكلون على الله حق توكله لرزقكم كما يرزق الطير، تغدو خماصاً وتروح بطاناً.”
“তোমরা যদি আল্লহর উপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল করো তবে আল্লহ তোমাদের জন্য এমনভাবে রিযিকের ব্যবস্থা করবেন যেমনভাবে তিনি পাখিদের জন্য করেন৷ তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাদের নীড় থেকে বের হয় এবং ভরা পেটে ফিরে আসে।”
কিন্ত আধুনিক যুগের মগজ ধোলাই নারীদের শুরু থেকেই খারাপ কিছুর প্রত্যাশা করা শেখাচ্ছে, কিছু ঘটার আগেই সবচেয়ে মন্দ পরিণতিটা ধরে নিতে বলছে।
যার ফলে স্বামীদের কিছু করার আগেই পর্যুদস্ত করে দেয়া হচ্ছে।
যু-দ্ধের ভাষায় একে বলে অগ্রিম আ-ক্রমণ (Preemptive strike)।
এমন পরিস্থিতিতে সংসার কিভাবে টিকে থাকবে?
সবচেয়ে কার্যকরী ও সুষ্ঠু দায়িত্বের বন্টন সম্ভব উভয় লিঙগের মধ্যে কাজের ভারসাম্যে।
নারী পুরুষ উভয়েরই এমন কিছু আছে যা আরেকজনের নেই। নিজের ভালোটা অপরের জন্য কাজে লাগানোর মাধ্যমে নারী পুরুষ নিজেদের, তাদের পরিবার ও সমাজের উপকার করে থাকে।
অতীতের সমাজ থেকেও আমরা এমনি চিত্র দেখতে পাই।
