2 651
Subscribers
No data24 hours
No data7 days
No data30 days
Posts Archive
উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়।
★ দুআ, দুআ, দুআ
‘সুরা ফুরকান’-এর ৭৪ নং আয়াত তো পড়বেনই। আর ‘সুরা কাসাস’-এর ২৪ নং আয়াত বেশি করে পড়বেন। ইসতিগফার জারি রাখবেন। যাকারিয়া আলাইহিস সালামের একটি দুআ আমার ভীষণ পছন্দ—ও রব, আমাকে একা রেখো না; তুমি তো উত্তম ওয়ারিস। [সুরা আল-আম্বিয়া, ২১ : ৮৯]
এ ছাড়াও মনের প্রশান্তির জন্য, পেরেশানি থেকে মুক্ত হবার জন্য দুআ করুন। মন খারাপ, খুব কান্না আসছে? দুআ করুন। মন ভালো, ফুরফুরে; দুআ করুন। দুআ কবুলের কোনো সময়-সুযোগ বাদ দেবেন না। সর্বাবস্থায়ই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের সাথে দুআ করুন। অন্যের জন্য বেশি করে দুআ করবেন। কাওকে সুখে দেখলে তার জন্য দুআ করুন। পেরেশান দেখলে দুআ করুন। বিয়ে নিয়ে যাকেই পেরেশান দেখবেন, তার জন্যও ঠিক সেভাবেই দুআ করুন যেমনটা নিজের জন্য আপনি আশা করেন। এভাবে আপনি মালাকদের দুআও পেয়ে যাবেন।
অসহায়ত্বের সময়টা কাজে লাগাতে চেষ্টা করুন। আল্লাহকে বলুন আপনি আর পারছেন না। আপনি বলতে না-পারলেও আপনার রব সব জানেন। তাই, আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হওয়া যাবে না। দুআ করা বাদ দেয়া যাবে না। জীবনসঙ্গী হতে হবে এলার্ম ক্লকের মতো। আপনি ঘুমিয়ে গেলে অর্থাৎ দ্বীনপালনে একটু এদিক-ওদিক হলে আপনাকে জাগিয়ে দেবে। তাই আপনিও ঘুমিয়ে থাকবেন না। প্রস্তুতি আপনাকেও নিতে হবে।
ভেবে নিন, অপেক্ষার এই প্রহরগুলোতে আপনি হলেন কাদামাটি। নতুন একটা ভালোবাসাকে বোঝার জন্য আপনাকে উত্তমরূপে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ভালোবাসার সম্পর্কটা আর কোনো সম্পর্কের সাথে মেলে না। এই সম্পর্ক বিশেষভাবে আলাদা। আপনি এই সময়টায় সেই সম্পর্কের কদর করা শিখছেন। আপনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে যেন আপনি এসব দায়িত্ব-কর্তব্যের জন্য নিখুঁত হয়ে ওঠেন। প্রাপ্তিগুলোর গুরুত্ব বুঝে রবের কাছে কৃতজ্ঞ অন্তরের সাথে যেন নত থাকেন। দেখবেন, একদিন দুআগুলো হুট করে কবুল হয়ে যাবে। যেন কোনোদিন আপনি পেরেশানই ছিলেন না। কোনোদিন আপনি কষ্টই পাননি। কোনোদিন আপনাকে কোনো বিষণ্ণতা স্পর্শই করেনি।
লা-তাহযান।
______
‘বিয়ে নিয়ে কিছু কথা’
- মাহজাবিন খান শম্পা
কৃতজ্ঞতা : ইলমওয়েব.নেট
আপনি বাবার বাড়িতে যেভাবে চলেছেন একই পদ্ধতি শ্বশুরবাড়িতে বজায় নাও রাখতে পারেন। এসব নিয়ে হতাশ হওয়া যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকতার অভাব দেখলে ধীরে ধীরে টেকনিক্যালি হ্যান্ডেল করবেন। আপনার ও তাদের চালচলনের মাঝে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করবেন। তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনার সংসার ও স্বামী একদিনের জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য। তাই রিল্যাক্স!
★ নিরাপত্তাবোধ
বিয়ের পাত্র ও পরিবারের সাথে দেখাসাক্ষাতের ক্ষেত্রে আপনি কতটুকু নিরাপদবোধ করছেন, শান্তি অনুভব করছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অন্য মানুষের কাছে তখনই নিরাপদবোধ করি, যখন তাদের সাথে আমাদের ভালো চিন্তাভাবনার মিল খুঁজে পাই কিংবা তাদের চিন্তাভাবনা আমাদের চেয়েও ভালো দেখতে পাই। এই নিরাপত্তাবোধটা জরুরি। কারও সাথে কথা বলে, কাউকে দেখে, খোঁজ-খবর নিয়ে অন্তরে প্রশান্তি আছে না কি অশান্তি, এই ব্যাপারগুলো বিয়ের ক্ষেত্রে আমলে নেয়া উচিত। কথাবার্তা বা চলাফেরার মাধ্যমে মানুষের অন্তর দেখা যায় না, তা ঠিক; কিন্তু অনেকটা হলেও বোঝা যায়। তাই পর্যবেক্ষণ করা ও খোঁজ নেয়া উচিত।
★ ভাবিয়া করিয়ো কাজ
যেকোনো মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে শ্বাশুড়ির পছন্দ হওয়াটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ওপর বিবাহিত জীবনের অনেক কিছু নির্ভর করে। অবিবাহিত বোনেরা যদি শোনেন পাত্রসহ সবার পছন্দ হলেও পাত্রের মায়ের আপনাকে বিশেষ পছন্দ হয়নি, তাহলে সেই পরিবারে যাওয়ার আগে শতবার ভাববেন। সেই আলাপই উপেক্ষা করবেন। যদিও সব আল্লাহর ইচ্ছা।
★ পাত্র যাচাই
পাত্রকে প্রশ্নের ক্ষেত্রে আমল-আখলাক সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন রেখে সাথে জীবনঘনিষ্ঠ, সাংসারিক দায়-দায়িত্ব ও হক-সম্পর্কিত প্রশ্ন করলে ভালো। আপনাকে পাত্রের দায়িত্বশীলতা ও পরিপক্বতা (maturity) যাচাই করতে হবে। পারিবারিক মূল্যবোধ, পরিবারের প্রতি তার দায়িত্বশীলতা, এই ব্যাপারগুলো দেখার দিন প্রশ্ন ও কথাবার্তায় পর্যবেক্ষণ করে জেনে নিতে হবে। স্ত্রীর প্রতি তার দায়িত্বশীলতা কেমন হবে—এটাই কেবল প্রশ্নে না-রেখে পুরো পরিবারের প্রতি তার আবেগ-অনুভূতি জেনে নেবেন। এটা আপনার নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য বোঝা সহজ করবে আর সাথে তার পরিপক্বতা (maturity) আর দায়িত্ববোধও বোঝা যাবে। আমি, আমার স্ত্রী, আমার স্বামী—এই ‘আমি’ ‘আমি’ সব যুগলের ক্ষেত্রে খাটে না হয়তো। যারা পরিবার নিয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে আপনি তার ব্যক্তিগত জীবনকেন্দ্রিক প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকতে পারবেন না। যদি তিনি নিজ থেকেই তার পরিবারের প্রতি দায়দায়িত্ব, আবেগ-অনুভূতির কথা বলে দেন, তাহলে তো আপনার কাজ আরও সহজ হয়ে গেল। কারও অতীত নিয়ে টু শব্দ করবেন না। এর মানে দাঁড়ায়, আপনি সন্দেহপ্রবণ এবং সেই মানুষটার প্রতি যথেষ্ট পরিমাণ বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারবেন না। দ্বীনে ফেরার পর থেকে মানুষটা কেমন, আপনার জানার বিষয় ঠিক সেটিই।
★ স্বামী বাছাই
জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই দ্বীনকে প্রাধান্য দেবেন। তবে আপনার কুফু অনুসারে কিছু বিষয় সঙ্গতিপূর্ণ উপায়ে চাওয়াটা অন্যায় নয়। আবার বিষয়টা এমন না যে আপনি দুনিয়াবি জিনিসগুলো একেবারেই ছাড় দেবেন না। ছাড় না-দিয়ে উল্টো এভাবে সময়ই নষ্ট করবেন। কিছুটা ছাড় দেয়া লাগতেই পারে, আবার নাও লাগতে পারে। যতটুকু ছাড় দেয়াটা আপনার কাছে স্বাভাবিক ও সন্তুষ্টজনক মনে হবে, সেভাবে ছাড় দেবেন। দ্বীনি ইলমের স্তর মানানসই কি না, সেটার চেয়েও জরুরি হলো জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনার মিল রয়েছে কি না, আচার-আচরণে মিল হয় কি না। ইমান-আকিদাহর সাথে চিন্তাভাবনার মিল থাকলেই হলো। বাকি মোটা মোটা তাত্ত্বিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে কেউ আপনার মতো না-ই হতে পারে। সংসারে এগুলো কাজে আসে না। শুধু ভাবনার মিল কাজে আসে। ইলমের স্তর মিলে গেলে সেটা উপরিলাভ। কারও নফল আমলের চেয়ে ফরয আর সুন্নাহতে গুরুত্ব দেবেন বেশি। অনেক সময় দেখা যায় কেউ তাহাজ্জুদগোজার না হলে তার দ্বীনদারিতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে মানুষজন। এটা অনুচিত। ফরযপালনে ধারাবাহিকতা ও দৃঢ়তা, হালাল-হারামের জ্ঞান ও এ ক্ষেত্রে দৃঢ়তা এবং আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ অন্তরকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত।
★ ভয়কে করো জয়
আরেকটা বিষয় হলো, বিয়ে নিয়ে আতঙ্ক রাখবেন না। আতঙ্ক মন খুলে করা দুআ ব্যাহত করে। তাকদিরে থাকলে বিয়ে হবেই। তাই অযথা ভয় নিয়ে ঘুরবেন না। ভালো-খারাপের দুনিয়া। চারদিকে খারাপ যেমন আছে, ভালোও তো আছে। কেন নেতিবাচকটাই মাথায় রাখা লাগবে? মাথা থেকে সব নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলে দিন। কারও খারাপটা শুনলে তার কল্যাণের দুআ করুন। স্বাভাবিক থাকুন। শিশুদের মতো নির্ভাবনা থাকুন। তারা কেমন সহজ-সরল চিন্তা করে, তাই না? দুনিয়া যেমনই হোক, আল্লাহ আমাকে ভালো রাখবেন। এমন একটা চিন্তা লালন করুন। আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখে মন খুলে আল্লাহকে বলুন কেমন মানুষ, কেমন পরিবার চান। জীবনসঙ্গীর আমল-আখলাকের ছোট-বড় কিছুই বাদ রাখবেন না। দ্বীন, দুনিয়া, চেহারা, পেশা, শিক্ষা, পরিবার, বংশমর্যাদা, মন -মানসিকতা প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আপনার পছন্দ আল্লাহকে বলুন। আকাঙ্ক্ষা রাখা খারাপ কিছু নয়। তাই আকাঙ্ক্ষা রাখবেন,
বিয়ে নিয়ে আজকাল দুই ধরনের চিন্তাভাবনা লক্ষ করা যায়—ফ্যান্টাসি ও দুশ্চিন্তা। বিয়ে নিয়ে বোনদের কেবল দুশ্চিন্তাই করতে দেখেছি। মেয়েরা বিয়ে নিয়ে রোমান্টিক গল্পের চাইতেও হরর গল্পগুলো মনে রাখে বেশি। নেতিবাচক কিছু যে ঘটছে না, তা নয়। কিন্তু ইতিবাচকগুলো আমরা জানতে পারি কম। সুখ-শান্তির কথা, স্বামী-স্ত্রীর খুনসুটির কথা আলোচনা কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। লজ্জাশীলতা কিংবা বদনজরের ব্যাপারগুলো আছে না? তাই বলে কি কেউ সুখে নেই?
বোনেরা, বি পজিটিভ। বিয়ের জন্য সবার আগে প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি সুধারণা ও ইতিবাচকতা। কারও খারাপ অভিজ্ঞতা শুনলে মন থেকে তার জন্য কল্যাণের দুআ করে দেবেন। কিন্তু নিজের মনে ভয় আনবেন না যেন। আল্লাহর কাছে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনসাথী ও সংসারের জন্য মন খুলে দুআ করুন। তার প্রত্যেকটা গুণের ব্যাপারে আল্লাহকে বিস্তারিত বলবেন। কোনো গুণ বাদ রাখবেন না। শতভাগ পাব না, এটা মাথায় নিয়ে চাওয়া যাবে না। শতভাগটাই আল্লাহকে বলবেন। দেয়ার মালিক আল্লাহ। বিয়ের জন্য বোধ করি তিন ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন—আত্মিক, মানসিক ও শারীরিক।
★ আত্মিক প্রস্তুতি
আত্মিক প্রস্তুতি হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্কটা মজবুত করা। আমল-আখলাককে একটু ঘষামাজা করে পরিষ্কার করা। মাঝেমধ্যে কিছু বোন জিজ্ঞেস করেন, আপু জীবনে অনেক গুনাহ করে ফেলেছি; আমি কী উত্তম জীবনসঙ্গী পাব? সবসময় মনে রাখবেন, কেউ যতই পুণ্যের কাজ করুক না কেন, সে মানুষ হিসেবে আল্লাহর খুবই তুচ্ছ ও গুনাহগার বান্দা। আল্লাহ আপনাকে নিজ রহমতে ক্ষমা করে দিয়ে উত্তম জীবনসঙ্গী দিতে কার্পণ্য করবেন না। আল্লাহর কাছে তাই খুব করে ক্ষমা ও রহমত চাইবেন। আপনার মাঝে কৃত গুনাহের অনুশোচনা থাকতে হবে। ক্ষমা চেয়ে সংশোধন ও কল্যাণের দুআ করতে হবে। আপনার কাজ অনুশোচনায় ভোগে হতাশ হওয়া নয়, বরং অনুশোচনার সাথে সুধারণা করা। আল্লাহ নিজে বলেছেন তিনি বান্দার ধারণা অনুসারে তার সাথে আচরণ করবেন। আপনি গুনাহগার হতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে একজন উত্তম জীবনসঙ্গী দিতেই পারেন। দেখবেন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে শেষ করতে পারছেন না। দেখা যাবে এভাবে আপনি একটি কৃতজ্ঞ অন্তরের সাথে আল্লাহর দিকে দৌড়াচ্ছেন। তাই বলে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা বাদ দেয়া যাবে না।
★ মানসিক প্রস্তুতি
বিয়ের ক্ষেত্রে মানসিক প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বাদ দিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন। ফ্যান্টাসি ও দুশ্চিন্তা দুটোই এড়িয়ে যেতে হবে। সংসার জীবনের জন্য কিছু স্কিল ডেভেলপ করে নেবেন। এখানে স্কিল বলতে শুধু সাংসারিক কাজকর্ম বোঝাচ্ছি না। এটা তো আছেই। রাগ দমন করা, তর্ক পরিহার এবং নিজের অপছন্দনীয় কিছু দেখলে সেটা এড়িয়ে যাওয়া অর্থাৎ মানিয়ে নেয়াটাও আপনার স্কিল।
★ শারীরিক প্রস্তুতি
শারীরিক প্রস্তুতি হিসেবে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করবেন। বিয়ে নিয়ে পেরেশানি থাকলে সেটা যথাসাধ্য এড়িয়ে এবং নিজের চেষ্টা জারি রেখে আরামে সময়মতো ঘুমাবেন। নিজেকে খুশি রাখার জন্য একটু সাজগোজ করবেন মাঝেমধ্যে। ত্বকের যত্ন নেবেন। নিজেকে নিয়ে কোনো প্রকার হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। আপনি দেখতে যেমন, সেভাবেই আপনি খুব সুন্দর, মাশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।
‘সুরা ত্বিন’-এ কি আল্লাহ বলেননি—অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে? [সুরা ত্বিন, ৯৫ : ৪]
আপনার জন্য যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তার চোখে ও মনে আপনার চেয়ে প্রশান্তিময় আর কেউ নেই। বিয়ের পর স্বামীর জন্য সাজগোজ করবেন। সাজতে এত আয়োজন বা সময় লাগেনা। পরিপাটি থাকবেন। সাজ বলতে একটু কাজল, লিপস্টিক, পারলে একদম পাতলা করে আইলাইনারই যথেষ্ট। সাজগোজ দেখানোর জন্য হাতে ঢের সময় থাকলে ইচ্ছেমতো সাজবেন। স্বামী হালকা বা ভারী যেমন সাজে দেখতে পছন্দ করে সেভাবে সাজবেন। একান্নবর্তী পরিবারের (জয়েন্ট ফ্যামিলি) অজুহাতে লজ্জায় অল্প হলেও সাজগোজ এড়িয়ে যাবেন না। স্বামী আপনার। নিজের হালাল স্বামীর জন্য আপনি যা কিছু ভালো করবেন, তা অবশ্যই শালীনতা বজায় রেখে নিঃসংকোচে করবেন। জানি, পরিবার একটু উদারমনা হলে বিষয়টা খুব সহজ। তবে ফাঁকে ফাঁকে চেষ্টা করা বাদ দেবেন না। তাদের চোখে স্বামীর জন্য শালীন প্রচেষ্টাকে একটু একটু করে স্বাভাবিক করে তুলবেন।
★ সহ্য হচ্ছে না!
প্রত্যেক মানুষ ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনার অধিকারী। জীবনসঙ্গী বা পরিবারের মাঝে অপছন্দনীয় কিছু দেখলে বিরক্ত হওয়া চলবে না। কিছু বলে ফেলার আগে বা তাদের আপনার সহ্য হচ্ছে না, এসব বলার আগে ভাবুন সেই বিষয়টা আসলেই অশান্তি করার মতো কিছু কি না। যদি তা না হয়, তাহলে শুধু নিজের ভালো লাগে না বলে সেটা নিয়ে অশান্ত হওয়া বা ঝামেলা করার কোনো মানে নেই। হতেই পারে এটা কেবলই চিন্তাভাবনা ও প্রয়োগের ভিন্নতা।
★ তাড়াহুড়ো করবেন না
প্রিয় বোন! যে ছেলে বিয়ের আগেই তার বন্ধু-বান্ধব দিয়ে আপনাকে দেখায়, সে বিয়ের পর আপনার পর্দা রক্ষা করবে না, আপনাকে পর্দা করতে দিবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।
সমাজের এই অ-সু-স্থ প্রচলন আপনাকে দূর করতে হবে। বংশের আর কারও এই পদ্ধতি ছাড়া বিয়ে হয়নি; না হোক, সমাজের এই নো-ং-রা সংস্কৃতির মুখে আপনিই প্রথম চুনকালি মেখে দিন। আপনি অনড় থাকুন, পাত্র ছাড়া আর কোনো পুরুষ আপনাকে যেন না দেখতে পারে। এমনকি পাত্রের বাবাও না।
যেই ছেলে অন্য কোনো পুরুষকে দিয়ে আপনাকে দেখাতে চায়, সেই ছেলের কাছে আপনি নিরাপদ নন, আপনার সতীত্ব নিরাপদ নয় তার কাছে।
~ প্রকাশিতব্য 'পর্দা' বিষয়ক বই থেকে!
দাম্পত্য জীবনের সম্পর্কটা সুন্দর রাখতে দু'জনের সমান যত্ন, ভালোবাসা দরকার হয়। কিন্ত প্রত্যেকেই নিজ জায়গা থেকে সম্পর্ক টাকে আগলে রাখার মানসিকতা রাখতে হবে। কখনো এক পক্ষ কোনো ভুল করলে যেন অন্য পক্ষ এফোর্টলেস না হয়ে বরং খুব যত্নের সাথে তার সহযোগী হয়ে ভুলটাকে কারেক্ট করে। তারচেয়ে বড় যেটা সেটা হলো আমরা যেন স্বামী স্ত্রী একে অপরের দ্বীনের সহযোগী হই, একজন আরেকজনের আয়না হই - যে আয়নাতে আমার ভুল, গুনাহের ধূলো ফোঁটে উঠে এবং তা তৎক্ষনাৎ অপরপক্ষ পরিষ্কার করে ফেলতে হেল্প করে দ্বীনি বন্ধুর মতোন।
স্বামী স্ত্রীর কেউ যখন গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায় তখন সেই পরিবার থেকে রহমত উঠে যেতে থাকে, তাই দু'জন ই একে অপরকে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে প্রতিনিয়ত বন্ধুর মতোন হেল্প করতে হবে, ঈমান আমল হিদায়াহ নিয়ে কনফিডেন্ট না থেকে সর্ব অবস্থায় একে অপরকে দু'আ, ইস্তিগফার, ঈমানের যত্ন নিতে সাহায্য, রিমাইন্ডার দিতে হবে। এমন সুন্দর এক বন্ধুত্ব গড়তে হবে যেন একে অপরের কাছে নিজের কোনো সংকীর্ণতা, ভুল, সংকোচ শেয়ার করতে, পরামর্শ বা হেল্প চাইতে, ভালোবাসা চাইতে ইতস্তত বোধ না হয়। পরস্পরের দ্বীনের সহযোগী হলে রব্ব এই দাম্পত্য জীবনে অফুরান বারাকাহ দিবেন যার ফলে এই জার্নি চলবে জান্নাতের অনন্ত সময়েও ইন শা আল্লাহ।
'দাম্পত্য কথন'
- সায়মা সাজ্জাদ মৌসি
দ্বীনের বুঝ আসা শুরু করলে চিন্তায় আস্তে আস্তে পরিবর্তন আসে–কোন বোরখায় পর্দা বেশি ভালো হবে?
এভাবে চলতে চলতে যদি কখনো মনে হয়–“কোন বোরখায় নিজেকে একটু স্মার্ট লাগে?” তাহলে বুঝতে হবে অধঃপতন আরো আগেই শুরু হয়ে গেছে।
এলিট সমাজে চলতে গিয়ে যদি মনে হয়–আমি টাকাওয়ালা ঘরের মানুষ, আমাকে কেন দেখতে কামের খালার মত দেখাচ্ছে! আরেকটু স্মার্ট হলে পর্দার ক্ষতি কী! তাহলে হয় এই চিন্তার বিরূদ্ধে চলতে হবে, নয়তো এলিট সোসাইটি এড়াতে হবে। এই দুইয়ের বাইরে কিছু নাই দ্বীনের অধঃপতন ঠেকানোর জন্য।
যে বোরখা পরলে নিজেকে ছোট/নিচু মনে হয় সেটা পরাই উত্তম। পর্দা তো আমি স্মার্ট দেখানোর জন্য করি না, অথবা আমার পোশাক-আশাকে অচেনা পথিককে আমার এলিট ক্লাস দেখিয়ে বেড়াবার জন্যেও না। তাহলে ওয়াসওয়াসা কেন আসে?
শুধুই এই কারণে আসে যে শয়-তান চায় আমার অধঃপতন হোক। নফস চায় আমি দুনিয়ার মাঝে ডুবে যাই।
হাজারো ডিজাইন আর বাহারি কাপড়ের দিকে চোখ বিঁধতে শুরু করলে, বিনা প্রয়োজনে নিজের পর্দার পোশাককে দোকানের নতুনটার কাছে ম্যাড়মেড়ে মনে হলে, অমুক তমুক বোনের/ভাবীর দেখাদেখি একটার বদলে পাঁচটা পোশাক কিনতে ইচ্ছে হলে বুঝতে হবে আত্মার চিকিৎসা দরকার আছে। কোথাও সূক্ষ্ম তাল কেটে গেছে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়া বেশি প্রিয় হতে শুরু করেছে।
১৮টা তালি দেয়া পোশাকেও যদি খলিফাতুল মুসলিমিনের সম্মান না কমে থাকে, তবে একটু পুরাতন বোরখায় মুসলমান মহিলার সম্মান কমার চিন্তা অবান্তর। ইস্যু হল আমি আমার সম্মানের মানদণ্ড কোন জিনিসকে বানিয়েছি। তাকওয়া নাকি দুনিয়ার আভিজাত্য?
“আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রব্বকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ডাকে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না।” [সূরা কাহফ, আয়াত ২৮]
মানুষের ওপর পরিবেশের মারাত্মক প্রভাব আছে। অল্পে তুষ্ট আখিরাতমুখী মানুষের সাথে মিশলে যুহদ হাসিল হবে, ঈমানও বাড়বে। আর সম্পদশালীদের সাথে চলতে থাকলে চাহিদা বাড়তে থাকবে, কমে যাবে আত্মতৃপ্তি। ১০/২০টা পোশাক থাকার পরও নতুন কিনতে মন যদি চায় তবে সেই মনে দুনিয়ার চাহিদার অশান্তি ঢুকে গেছে, যার শেষ সীমা অসীমে। এর চিকিৎসা শুধুই নফসকে টেনে ধরায়।
যে কয়টা পোশাক আছে, সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হলে তবেই আরেকটা। বোরখা যেটা আছে তাতে পর্দা নষ্ট হচ্ছে এই পর্যায়ে ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত আরেকটা নয়। নতুন নতুন পেইজ বেড়ে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে ডিজাইনের ফিতনা। কালোর মাঝেও হাজারো ডিজাইন। যত ভ্যারিয়েশন তত ফিতনা। নফসকে টেনে ধরে বলি–‘গতানুগতিকই সই। ওইদিকে দৃষ্টি দিও না।’
_____
হালফ্যাশনের পর্দা
- খাদিজা তাহিরা
© রৌদ্রময়ী
আপনি সারামাস রোজা রাখলেন, আল্লাহর ভয়ে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকলেন। কিন্তু সে আপনিই আবার ঈদের দিন সর্বোত্তম উপায়ে সেজে নিজেকে সবার মাঝে উন্মুক্ত করে দিলেন!
হয়তো না বুঝে দিয়েছেন, এই পোস্ট দেখার সাথে সাথে আল্লাহর ভয়ে নিজেকে উন্মুক্ত করা ছবিগুলো অনলি মি বা ডিলেট করে দিই প্লিজ!
পারা যাবে বোন ইন শা আল্লাহ? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে মহান রব্বুল আলামীন খুব খুবব খুউব খুশি হবেন।
বিশ্বাস করো না। আল্লাহর শপথ! সে মি-থ্যু-ক!
উপদেশ নং-৭
হে আমার মেয়ে! যুবকেরা তোমাদের আড়ালে যে সমস্ত কথা বলে তা যদি তোমরা শুনতে, তাহলে এক ভীষণ ভী-তি-ক-র বিষয় জানতে পারতে। কোন যুবক তোমার সাথে যে কথাই বলুক, যতই হাসুক, যত নরম কণ্ঠেই বলুক ও যত কোমল শব্দই ব্যবহার করুন, সেটি তার আসল চেহারা নয়; বরং সেটি তার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ভূমিকা ও ফাঁ-দ ব্যতীত অন্য কিছু নয়।
উপদেশ নং-৮
হে আমার মেয়ে! সে যদি তোমাকে তার ষ-ড়-য-ন্ত্রে-র জালে আটকাতে পারে তাহলে কি হবে? কি হবে তোমার অবস্থা? তোমার কি তা জানা আছে? একটু চিন্তা কর ।
কোন নারী যদি এমন কোন দু-ষ্ট পুরুষের কবলে পড়ে যায়, তখন সে হয়ত সেই পুরুষের সাথে মিলে কয়েক মিনিট ক-ল্পি-ত স্বাদ উপভোগ করবে। তারপর কি হবে? তুমি কি তা জান? পরক্ষণই সে তাকে ভুলে যাবে। সে তাকে দ্বিতীয়বার পাওয়ার আশাপোষণ করবে। হয়ত কয়েকবারের জন্য তাকে পেলে পেতেও পারে, তবে স্বামী হিসাবে তার সাথে চিরদিন বসবাস করার জন্যে এবং স্বীয় যৌবন পার করার জন্যে নয় । সে অচিরেই তাকে ভুলে যাবে। এটিই সত্য। কিন্তু সেই মহিলাটি চিরদিন সেই স্বল্প সময় উপভোগের জ্বা-লা ভোগ করতে থাকবে, যা কখনও শেষ হবে না। এও হতে পারে যে, সে তার পেটে এমন কলঙ্ক রেখে যাবে, যা থেকে কখনই সে পরিত্রাণ পাবে না। চিরদিন তার কপালে হতাশার ছাপ থাকবে, চেহারায় দুশ্চিন্তার ছায়া পড়বে। সে তাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটি শি-কা-র খুঁজতে থাকবে এবং নতুন নতুন সতীদের স-তী-ত্ব ও স-ম্ভ্র-ম হরণ করার অনুসন্ধানে বের হবে।
লিখেছেন - শায়খ আলী আত তানতাবী
বইটি অর্ডার করতে ইনবক্স করুন!
হে আমার মেয়ে! জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে আপন মেয়ের প্রতি একজন বয়োবৃদ্ধ পিতার হৃদয় নিংড়ানো উপদেশ -
উপদেশ নং-১
হে আমার মেয়ে! আজ আমি চল্লিশের কোঠা পার হয়ে পঞ্চাশের কোঠায় উপনীত এক প্রৌঢ় যে যৌবনকে বিদায় জানাচ্ছে। এখন আমার নতুন কোন স্বপ্ন বা উচ্চ আকাঙ্খা নেই।
আমি অনেক দেশ ও শহর ভ্রমণ করেছি। বহু জাতির কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচিত হয়েছি। জীবন ও জগৎ সম্পকে অনেক ধারণা অর্জন করেছি। আজ আমার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শোন। কথাগুলো সঠিক ও সুস্পষ্ট। এগুলো আমি আমার বয়স ও অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি । আমি ছাড়া অন্য কেউ তোমাকে এগুলো বলবে না।
আমি অনেক লিখেছি। মিম্বারে ও সমাবেশে দাঁড়িয়ে অনেক ভাষণ দিয়েছি। অনেক নসীহত পেশ করেছি। উত্তম চরিত্র অর্জনের আহবান জানিয়েছি । সকল প্রকার অন্যায় কাজ ও অশ্লীলতা বর্জনের ডাক দিয়েছি । নারীদেরকে ঘরে ফিরতে ও কুরআনের সুপ্রসিদ্ধ বিধান পর্দার আবরণে আবৃত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।
লিখতে লিখতে কলম দুর্বল হয়ে গেছে। কথা বলার সময় মুখে তা আটকে যাচ্ছে । এত কিছু করার পরও আমি মনে করি না যে, আমরা কোন অ-শ্লী-ল কাজ সমাজ থেকে দূর করতে পেরেছি। বেহায়াপনা দিন দিন বেড়েই চলছে । পাপাচারিতা দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং অ-শ্লী-ল-তা দেশ থেকে দেশাস্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় কোন ই-স-লা-মি দেশই এই আ-ক্র-ম-ণ থেকে মুক্ত নয়। মিশর, সিরিয়া, তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সীমা পার হয়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ সমগ্র এশিয়ায় এর আক্রমণ বেড়েই চলছে। মহিলারা বের হচ্ছে পর্দাহীন হয়ে, সৌন্দর্যের স্থানগুলো প্রকাশ করে। মুখমন্ডল, বক্ষদেশ ও কেশ উন্মুক্ত করে ।
আমার ধারণা নসীহত করে আমরা সফল হইনি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। হে আমার কন্যা! তুমি কি জান কেন আমরা সফল হইনি? কেননা, আমরা এখনও গ্রহণযোগ্য পন্থায় নসীহত করতে পারিনি এবং সংশোধনের দরজায় পৌঁছুতে পারিনি ।
হে আমার মেয়ে! সংশোধনের দরজা তোমার সামনে । দরজার চাবিও তোমার হাতে । বন্ধ তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ।
উপদেশ নং-২
হে আমার মেয়ে! আমরা তোমার দ্বীনি বোনদেরকে আল্লাহর ভ-য় দেখিয়েছি, কিন্তু কাজ হয়নি। অতঃপর অ-বৈ-ধ সম্পর্ক ও ব্য-ভি-চা-রে লিপ্ত হওয়ার কারণে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। এ বিষয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। বহু বক্তৃতা দেয়া হয়েছে। তাও ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমি ক্লান্ত । শরীরে পরাজিত সৈনিকের ন্যায় ময়দান ছেড়ে বিদায় নিতে যাচ্ছি। আমরা বিদায় নিয়ে তোমার দ্বীনি বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ও সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব তোমার হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি। তোমার বিপদগামী বোনদেরকে উদ্ধার ও সংশোধনের দায়িত্ব তোমার উপরই রেখে দিয়ে তোমার সফলতার দিকে চেয়ে আছি ।
উপদেশ নং-৩
হে আমার মেয়ে! তুমি জেনে রেখো যে, তোমার হেফাজত তোমার হাতেই। একথা সঠিক যে, পাপের পথে অগ্রসর হওয়াতে পুরুষকেই প্রথম দায়ী করা যায়। নারীগণ কখনই প্রথমে এ পথে অগ্রসর হয় না। তবে তাদের সম্মতি ব্যতীত কখনই তারা অগ্রসর হতে পারে না । নারীগণ নরম না হলে পুরুষেরা শক্ত হয় না। মহিলারা দরজা খুলে দেয় আর পুরুষেরা ভিতরে প্রবেশ করে ।
উপদেশ নং-৪
হে আমার মেয়ে! তুমি যদি চো-রে-র জন্য ঘরের দরজা খুলে দাও । আর চোর চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে বল, হে লোকসকল! আমাকে সাহায্য কর । আমাকে সাহায্য কর । তাহলে তোমার চেচামেচি করা কি ঠিক হবে? তোমার কান্নাকাটিতে কি লাভ হবে? তোমার সাহায্যের জন্য কেউ কি এগিয়ে আসবে?
উপদেশ নং-৫
হে আমার মেয়ে! যদি তুমি জানতে পারতে যে, পুরুষেরা হচ্ছে নে-ক-ড়ে, আর তুমি হচ্ছে ভে-ড়া, তাহলে কিন্তু তুমি নে-ক-ড়ে-র আ-ক্র-ম-ণ থেকে ভেড়ার ন্যায় পলায়ন করতে । তুমি যদি জানতে পারতে যে, সকল পুরুষই চো-র তাহলে কৃপণের ন্যায় তুমি তোমার সকল মূল্যবান সম্পদ পুরুষদের থেকে হেফাযত করার জন্য সিন্দুকে লুকিয়ে রাখতে। মনে রেখো, নে-ক-ড়ে কিন্তু ভে-ড়া-র গোশত ছাড়া অন্য কিছু চায় না। আর পুরুষ তোমার কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নিতে চায় তা কিন্তু ভে-ড়া-র গোশতের চেয়ে অনেক মূল্যবান। তা যদি তোমার কাছ থেকে চলে যায়, তাহলে জেনে রাখবে তা হারিয়ে তোমার বেঁচে থাকার চেয়ে ম-রে যাওয়া অনেক ভাল। সে তোমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি নষ্ট করতে চায়, যার মধ্যে নিহিত রয়েছে তোমার সম্মান, যা নিয়ে তুমি গর্ব কর এবং যা নিয়ে তুমি বেঁচে থাকতে চাও। নে-ক-ড়ে কর্তৃক ভে-ড়া-র গোশত ভক্ষণের চেয়ে পুরুষ কর্তৃক নারীর সতীত্ব হরণ শতগুণ নৃ-শং-স ও বেদনাদায়ক। সে তোমার সতীত্বই ভ-ক্ষ-ণ করতে চায়।
উপদেশ নং-৬
হে আমার মেয়ে! আল্লাহর শপথ কোন পুরুষ যখন কোন যুবতী মহিলার দিকে দৃষ্টি দেয় তখন সে মহিলাটিকে ব-স্ত্র-হী-ন অবস্থায় কল্পনা করে। এছাড়া সে অন্য কিছু চিন্তা করে না । তোমাকে কোন যুবক যদি বলে, সে তোমার উত্তমচরিত্রে মুগ্ধ, তোমার আচার-ব্যবহারে আকৃষ্ট এবং সে কেবল তোমার সাথে একজন বন্ধুর মতই আচরণ করে এবং সে হিসাবেই তোমার সাথে কথা বলতে চায়; তাহলে তুমি তা
এরপর শুরু হয়, এই “যদি”র খেলাঃ
” যদি আপনার স্বামী আপনাকে ছেড়ে চলে যায়?”
“যদি আপনার স্বামী আপনাকে ঠকায়?”
“যদি সে আপনাকে অত্যাচার করে?”
“যদি সে দ্বিতীয় বিয়ে করে?”
“যদি সে মারা যায় আর আপনি ৫ টা বাচ্চা নিয়ে বিধবা, ঘরহারা হয়ে যান?”
“যদি তাকে আপনার আর ভাল না লাগে? এভাবে যদি দিন দিন আপনারা দূরে সরে যান? তাহলে তো আপনাকে ভালবাসাহীন একটা সম্পর্কে আটকে থাকতে হবে!”
মাফ চাই! ভয়ংকর এই সম্ভাবনাগুলোর ভয় জাগানিয়া নেগেটিভ কথাবার্তা দিয়ে আমি আমার জীবন চালাতে চাইনা৷ হতাশা থেকে উদ্ভুত কোনো সিদ্ধান্ত মানতে আমি নারাজ। সূক্ষ্মভাবে তৈরী করে দেয়া উদ্বেগ আর ভয়ের উপর নির্ভর করে আমি আমার জীবনের পছন্দ-অপছন্দ ঠিক করতে চাইনা।
এই সব ভয় বাজারজাত করা হয়েছে। এই ভয় আধুনিক সে-ক্যু-লা-র সমাজের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা-নো-য়া-ট বুলি যা তারা জোর করে নারীদের মনে ঢুকিয়ে দেয়৷ চী-নে যেমন ব্র্যান্ডের ভুয়া ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ বানায়, তেমনি করে সে-ক্যু-লাং-গা-র-রা তাদের ভু-য়া ফাঁপা বুলি ছড়ায়।
আসলে সত্যিটা হলো, সংসার জীবনে সবসময়ই কিছু ঝুঁকি ছিল। সেটা যেমন নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সংসার জীবনে একটা নির্দিষ্ট লেভেলের অনিশ্চয়তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে সংসারে স্বামী স্ত্রী যদি এসব “যদি” প্রশ্নের চাপে নিজেদের হারিয়ে ফেলতো, তাহলে কেউ ঠিক করে সংসার করার চেষ্টাটাও করতে পারতো না।
কিন্তু কেন যেন আমরা এটা ভুলে যাই যে, সংসারে যেমন ঝুঁকি থাকে, তেমনি অন্যসব কিছুতেই তো ঝুঁকি থাকে!
“যদি স্কুলে পড়ে আপনার ঈমান ভেঙে যায়, আপনি না-স্তি-ক হয়ে যান?”
“বছরের পর বছর ডিগ্রীর পেছনে ছুটেও যদি আপনি চাকরী না পান?”
“যদি নিজের কর্মক্ষেত্র আপনার অপছন্দ হয়?”
“যদি আপনার অফিসের ম্যানেজার একজন আত্নকেন্দ্রীক, নাক উঁ-চু, অ-ত্যা-চা-রী হয়?”
“নিজের শ্রম, মেধা, সময় সবকিছু চাকরীতে দেয়ার পর কী হবে যদি কোনো কারণ ছাড়া একদিন আপনাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেয়? এরপর আপনার জায়গায় যদি আরো কম বয়সী, বুদ্ধিমান বা শক্ত সামর্থ কাউকে নিয়ে আসে?”
“বছরের পর বছর কোম্পানির প্রতি অনুগত থেকে নিজে কষ্ট করে, শ্রম দিয়ে কোম্পানির জন্য লাখ লাখ টাকা মুনাফা অর্জনের পথ খুলে দিয়ে, যদি দেখেন একদিন আপনাকে ওদের আর দরকারই নাই? যদি এমন হয় আপনার হাতে এখন আর সেই উপযুক্ত সময়ও নাই যে আপনি বিয়ে করে সংসার করবেন, বাচ্চা জন্ম দিবেন? যদি আপনি একদম একা হয়ে যান?”
“যদি আপনি একজন অবসরপ্রাপ্ত নি:সংগ কর্মজীবী মহিলা হন? মৃত্যুর সময় কাউকে ছাড়া একা যদি মারা যান?”
আসলে ভাই, এমন “যদি”র খেলা তো সারাদিন চাইলে খেলা যাবে!
শুধুমাত্র আল্লহ জানেন অদৃশ্যের খবর৷ আগামীকাল কী ঘটতে যাবে এই নিয়ে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। আগামীকাল আসবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ ভবিষ্যতে কোন সিদ্ধান্ত কীভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে তা আমাদের জানা নেই...
©
▋একজন নারী কেন হারাম পরিবেশে চাকরি করবে না?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন,
যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন।[১]
এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই।[২] নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।[৩]
(সূরা তালাক, আয়াত ২-৩)
তাফসীর আহসানুল বায়ানঃ
[১] অর্থাৎ, যাবতীয় কঠিন সমস্যা ও পরীক্ষা থেকে নিষ্কৃতি লাভের উপায় বের করে দেবেন।
[২] অর্থাৎ, তিনি যা করতে চান, তা থেকে তাঁকে কেউ বাধা দিতে পারে না।
[৩] কষ্টসাধ্য ও সহজসাধ্য সকল কর্মের জন্যই। নির্ধারিত সময়েই উভয় (সহজ ও কঠিন) জিনিসেরই পরিসমাপ্তি ঘটে।
▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁
𒊹︎︎︎ নারীদের জন্য চাকরি বা ব্যবসার বিধানঃ
وَقَرْنَ فِى بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ ٱلْجَٰهِلِيَّةِ
"আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের প্রদর্শনীর মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।" (সূরা আহযাব, আয়াত ৩৩)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“প্রত্যেক নারী তার স্বামীর গৃহের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর কিয়ামতের দিন সে তার এ দায়িত্ব সম্পর্কেই জিজ্ঞাসিত হবে।” [১]
“নারীর ভরণ-পোষণ স্বামীর দায়িত্বে। কিন্তু কোনো নারীর যদি উপার্জনে সক্ষম অভিভাবক না থাকে তাহলে নিরুপায় অবস্থায় অর্থ উপার্জনের জন্য তার কর্ম বা চাকুরি করার অনুমতি আছে। তবে এজন্য শর্ত হলো, তার ভাবগাম্ভীর্যতা, অনুকূল পরিবেশ ও পর্দার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরপুরুষের সঙ্গে একত্রে দায়িত্ব পালন করা জায়েয নেই। ” [২]
এই পরিস্থিতিতে নারীর চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে, নতুবা তা জায়েয হবেনা
● চাকরি বা ব্যবসাটি হালাল হতে হবে এবং তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে। যেমনঃ- ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা।
● কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
● চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।
● কর্মক্ষেত্রে আসা - যাওয়ার পথে যাতে কোনো হারাম কাজ করতে না হয়। যেমনঃ ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী ভ্রমণ, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।
● নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। [৩]
● যদি বিবাহিত নারী ওজরের কারণে চাকরি বা ব্যবসা করতে চান সেক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক।
[১] সহীহ বুখারী- ৮৯৩
[২] আপকে মাসায়েল আওর উনকা হাল- ৬/৩৮
[৩] ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১ ; ফিকহুন নাওয়াযিল- ৩/৩৫৯ ; আল মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুওয়াইতিয়্যাহ- ৭ / ৮৩-৮৪ ; তাবয়ীনুল হাকায়েক- ৬/১১৭ ; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫ ; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০ ; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৮ , ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯
যারা কথায় কথায় নারী ডাক্তার এর বিষয়টা তুলে আনেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলা, শারইয়্যাহ নারী ডাক্তার পাওয়া না গেলে পুরুষ ডাক্তার দেখানোর অনুমতি দিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে পুরুষ ডাক্তারের চেয়ে নারী ডাক্তারের সংখ্যাই বেশি। মেডিকেল এডমিশন টেস্ট এও নারীরাই বেশি চান্স পায়৷
আর যারা বলেন, চাকরি না করলে সমাজ, পরিবার এর কাছে সম্মান পাওয়া যায় না, তাদের উদ্দেশ্যে বলা, পড়ালেখার উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন, চাকরি না। আপনি যদি পড়াশোনার উদ্দেশ্য চাকরি করা মনে করেন তাহলে বলা যায় আপনার শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যই পূরণ হয়নি। ইল্ম তথা জ্ঞান অর্জন ফরজ সেই জ্ঞান অর্জনের জন্যই আপনি পড়ালেখা করেননি। যদিও হাদিসে জ্ঞান বলতে দ্বীনি ইল্ম কে বোঝানো হয়েছে। আর সে ফরজে আইন এর জ্ঞানটুকুই আমাদের অনেকেরই নেই।
আপনি যদি হারাম পরিবেশে লোকলজ্জার ভয়ে বা সম্মান লাভের জন্য চাকরি করতে চান, তাহলে কুরআনের এই আয়াত আপনার জন্য,
“তুমি মানুষকে ভয় করছ অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে।” (সূরা আহযাব, আয়াত ৩৭)
উমার রা. বলেন,
“আমরা তো লা-ঞ্ছি-ত জাতি ছিলাম। ইসলাম আমাদের সম্মানিত করেছে। এরপরে যে ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর মধ্যে সম্মান খুঁজবে, সে পুনরায় লা-ঞ্ছি-ত হয়ে যাবে।”
▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁▁
উম্মে খালিদ (হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট এটা এজন্য উল্লেখ করলাম কারণ, নাহলে কিছু বোনেরা বলেন যে, অশিক্ষিত, অযোগ্য, জ্ঞান কম দেখে একজন নারী এসব কথা বলে) বলেন,
খুব অদ্ভুত ব্যাপার হলো আমার এই অবস্থা বর্তমান দুনিয়ার অনেকের কাছেই খুব অনিরাপদ ও অনিশ্চিত লাগে, অনেকে এটাকে গা-ধা-মি মনে করে৷
“পুরুষের উপর এভাবে নির্ভরশীল হয়ে কেন আপনি নিজেকে এমন দুর্বল অবস্থানে রাখছেন?”
“কেন আপনি ঘরের বাইরে গিয়ে একটা চাকরী করে নিজে ইনকাম করছেন না? কেন আপনার স্বামী থেকে আর্থিকভাবে স্বাধীন হচ্ছেন না? বলা যায় না, যদি…..”
সুতরাং ধীরেসুস্থে সালাতের দিকে যান, শান্তভাবে সালাত আদায় করুন। তাহলেই আপনি শান্তি পাবেন। আপনার মন যদি সারা দিনের কাজকর্ম ও চিন্তার জগতে ঘুরপাক খায়, তাহলে একটু সময় নিন একে শান্ত করতে। আপনার অস্থির মনকে ভাবুন এক কাপ চায়ের মত, যা চামচ দিয়ে নাড়া দেওয়া হয়েছে। চামচ সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথেই এটি থেমে যায় না, একটু সময় নেয়। একইভাবে, সালাত আদায় করার আগে যা করছিলেন, সে সব কাজ বন্ধ করে একটু শান্ত হয়ে বসুন। প্রয়োজন থাকলে প্রাকৃতিক কাজ সেরে নিন, তারপর সুন্দর করে ওযূ করুন। পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে নিন ও কাপড় পরিচ্ছন্ন কিনা দেখে নিন। শত হোক, আপনি কিছুক্ষণের মাঝে নিজেকে বিশ্বজগতের মালিকের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন!
আযান দিন, যদি ইতিমধ্যে দেওয়া না হয়ে থাকে, তারপর সুন্নাহ সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ান।
সুন্নাহ আদায়ের পর সালাতের স্থানে বসেই কিছু যিকির করুন।
যখন আপনি নিশ্চিন্ত বোধ করবেন এবং ফরয সালাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবেন, তখন দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করুন। ধীরে ধীরে, সালাতের প্রতিটি কাজের মাঝে যথেষ্ট পরিমাণ সময় নিয়ে সালাত আদায় করুন। শারীরিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে প্রশান্ত অবস্থাতেই কেবল ফরয সালাত আদায় করুন।
সালাত শেষ হয়ে গেলেই উঠে দৌড় দিবেন না, একটু সময় নিয়ে সালাহ-পরবর্তী যিকির আদায় করুন।
যখন আপনি আপনার সালাতে প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে শুরু করবেন, তখনই আপনার জন্য সালাত বোঝা হবার বদলে আনন্দের ক্ষণ হয়ে দাঁড়াবে।
সালাতে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা কাটিয়ে দিতেও তখন আপনি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না। আপনি এক ওয়াক্ত সালাতের পর পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য অধীর হয়ে থাকবেন এবং ওয়াক্ত হওয়া মাত্র আদায় করে ফেলবেন। সালাতরত অবস্থায় আপনার মনে হবে যদি এ সালাত সারাজীবন ধরে চলতে থাকতো, আর কখনো শেষ না হতো! এ পর্যায়ে পৌঁছে সালাতের গুরুত্ব আপনার কাছে খাওয়া, পান করা ও যেকোনো বিনোদনের চেয়ে বেশি দামী মনে হবে, আপনি সালাত ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতেও পারবেন না। আর সে সময়েই আপনার কাছে সালাতকে মনে হবে সেই সবল সুঠাম ঘোড়ার মতো, যার পিঠে যখন ইচ্ছা তখনই চড়ে যাওয়া যায়।
লেখা : বাবর আহমাদ
© রেইনড্রপস
আল্লাহ আযযা ওয়াজাল কুরআনে বলেন :
“অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ। যারা বিনয়-নম্র নিজেদের নামাজে।” (২৩:১-২)
এবং
“তোমরা নামাযসমূহ ও মধ্যবর্তী নামাযের (আসর) ব্যাপারে যত্নবান হও এবং বিনীতভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও।” (২:২৩৮)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “সালাত ইসলামের খুঁটি”।
আল-মিরাজের দিনে রাসূলুল্লাহকে (সা) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের যে আদেশ দান করেছিলেন, তা ছিল তাঁর এবং সমগ্র উম্মাহর প্রতি আল্লাহর তরফ থেকে এক অসামান্য উপহার! সালাতকে কখনোই আমরা এভাবে দেখতে পারব না যে সালাতের দ্বারা আমরা আল্লাহকে ‘পুরস্কৃত’ করছি বা কোনরূপ প্রতিদান দিচ্ছি। কেননা আমাদের পক্ষে আল্লাহকে প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়, না সালাতের সাহায্যে, না অন্য কোন কাজের মাধ্যমে।
বরং সালাতের বিধান দেওয়া হয়েছে যেন আমরা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারি। সালাত কেবল ইসলামের একটি খুঁটি কিংবা একটি ফরয দায়িত্ব থেকেও বেশি কিছু : এটি আপনার সাথে গোটা বিশ্বজগতের মালিক আল্লাহ তা’আলার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম।
সালাতকে একটি ‘হটলাইন’ এর সাথে তুলনা করা যায় যা দিয়ে আপনি যেকোন সময় আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এজন্য সালাফগণ বলতেন “যদি আপনি আল্লাহর সাথে কথা বলতে চান, তাহলে সালাত আদায় করুন আর যদি আপনি চান আল্লাহ আপনার সাথে কথা বলুক, তাহলে কুরআন পড়ুন”।
সালাত হলো যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তির পথ, অস্থিরতায় প্রশান্তি। এটি আপনাকে স্বস্তি দেবে, শান্ত করবে, আস্থা যোগাবে। সালাতের মাধ্যমে আপনি যেকোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারবেন – হোক তা যুদ্ধের মত গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় অথবা রান্না বা কাপড়ের দাগ তোলার মত তুচ্ছ কোন কাজেও! সালাত যে কোন বিষয়ে আল্লাহর দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ পাওয়ার উপায়। লোকে সঙ্গ পেতে বা বিনোদনের খোঁজে অনেক সময় এমনিতেই টেলিভিশন বা রেডিও ছেড়ে রেখে দেয়, হয়তো সে শুনছেও না বা দেখছেও না। নিঃসন্দেহে সালাহ এসব “সঙ্গের” চাইতে উত্তম সঙ্গ দান করে।
সালাত আপনাকে সুযোগ করে দেয় আল্লাহর সামনে অন্তরটা মেলে ধরবার, তাঁর কাছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল খোঁজার। লম্বা সফরের পর, বা কোন বিপদে পড়লে, অথবা অসুস্থতায় কিংবা পথ হারিয়ে যাবার পর ফিরে আসতে পেরে সন্তান যেভাবে বাবার বুকে পরম নির্ভরতায় আশ্রয় নেয়, সালাতও তেমনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় পাবার মাধ্যম। আল্লাহর দয়া ও ক্ষমতার মাঝে হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পাবার মাধ্যম। সালাতের উপকারিতার শেষ নেই, তবে তা পেতে হলে আপনাকে এর জন্য দাম দিতে হবে, এবং তাতে বিনিয়োগ করতে হবে।
আপনার সালাতকে মনে করুন একটি ঘোড়ার মত। যখন আপনার ঘোড়ার বয়স অল্প, তখন আপনি না এতে চড়তে পারেন, না পারেন অন্য কাজে ব্যবহার করতে। কিন্তু আপনি যদি একে ভালোভাবে দেখাশোনা করেন, প্রতিদিন পরিষ্কার করেন, প্রশিক্ষণ দেন, খাওয়া-দাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যা করেন, এর ওপর খরচ করে একে বড় করতে থাকেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে কাজটি কষ্টসাধ্য হলেও এই ঘোড়াটিই একসময় পরিণত হয়ে আপনার জন্য এক শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও বাধ্য ঘোড়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। যখনই আপনার প্রয়োজন হবে, এটি আপনার খেদমতে হাজির থাকবে। সফরে, যুদ্ধে কী বিপদ থেকে পালাতে যখনই দরকার পড়বে আপনি এর পিঠে চড়তে পারবেন।
অনুরূপ আপনার সালাত। আপনার সালাত যখন দুর্বল, অল্পবয়সী ও অপরিণত, তখন সেটাকে বোঝার মত মনে হবে। প্রথম প্রথম সালাতের জন্য এ কাজগুলো করা খুব কঠিন মনে হবে : ওযূ করা, সময়মত আদায় করা, অর্থ-না-জানা সূরাগুলো মনযোগ দিয়ে পাঠ করা ও মুখস্থ আওড়ে যাওয়া, কিংবা ব্যস্ততা বা ক্লান্তির মাঝেও সালাত আদায় করা ইত্যাদি। তবে আপনি যদি লেগে থাকেন, অনেক চেষ্টা করেন, তাহলে চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে আপনার সালাতই আপনাকে সাহায্য করবে। সালাত আপনাকে দেবে অন্তরের প্রশান্তি, স্থিরতা, দৃঢ়তা, শক্তি, সুখ, আশাবাদ ও সাহস। আর কেবল তখনই আপনার সালাত আপনার বোঝা হবার পরিবর্তে পরম উপভোগ্য বিষয়ে পরিণত হবে।
কিছু লোক অভিযোগ করে যে তারা বছরের পর বছর সালাত আদায় করছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সালাত তাদের কোন উপকারে আসে নি! বাস্তবতা হলো – সালাত তাদেরকে উপকার করতে ব্যর্থ হয় নি, বরং তারাই ব্যর্থ হয়েছে সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে। সালাত আপনাকে কখনোই ব্যর্থ করবে না যদি না আপনি প্রথমে সালাতকে ব্যর্থ করে দেন। ভেবে দেখুন, আপনি কি এমন একজন যার কাছে সালাত উপভোগ্য নয়, বরং বোঝা স্বরূপ? যদি তা-ই হয়, সালাতের আগে পরে নিজের কাজের প্রতি লক্ষ্য করুন। আপনি কি তাড়াহুড়া করে সালাত আদায় করতে যান? কোনরকমে সালাত আদায় করেন যাতে করে যতো দ্রুত সম্ভব সালাত থেকে উঠে চলে আসতে পারেন? ভাবুন, সালাতের মাঝে কি আপনি তড়িঘড়ি করেন? সালাম ফেরানোর পরেই চট করে উঠে পড়েন? এই ব্যাপারগুলো যদি ঘটে থাকে, তাহলে বলা যায় যে আপনি সালাত থেকে উপকৃত হচ্ছেন না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সূরা বাক্বারায় বলেন:
তোমরা নামাযসমূহ ও মধ্যবর্তী নামাযের (আসর) ব্যাপারে যত্নবান হও এবং বিনীতভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও। (২:২৩৮)
