আকাবির-কথন
Open in Telegram
Show more
The country is not specifiedThe category is not specified
1 099
Subscribers
No data24 hours
+227 days
+2630 days
Posts Archive
1 099
হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিয়েছিলেন, হে বৎস, বাঘের পেছন পেছন হেঁটো, তবুও কখনো কোনো নারীর পেছনে যেয়ো না। কেননা, বাঘ ফিরে এলে হয়তো তুমি প্রাণ হারাবে। কিন্তু নারী ফিরে এলে তোমার ঈমান হরণ করে নেবে।
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেন, ভদ্র নারীদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, আর মন্দদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখো।
[এখন যৌবন যার : ১৩১]
1 099
মানুষ বুযুর্গদের কাছে এ জন্যই যায় এবং অবস্থান করে, যেন প্রত্যেক কাজ সাওয়াবের আশা নিয়ে করার অবস্থা তৈরি হয়। আর এটাই ইহতিসাব, যে কাজই করুক না কেন, সাওয়াবের নিয়তে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ কাজও ইবাদত হয়ে যাবে।
সাধারণ মানুষ এবং বুযুর্গদের মাঝে পার্থক্য এটিই যে, বুযুর্গরা যে কোনো কাজ করেন, চাই তা প্রাকৃতিক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হোক, যেমন খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো ও জাগ্রত হওয়া, হাসা ও কথা বলা, কারও সাথে কোনো আচরণ করা—সবকিছুতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রেরণা কার্যকর থাকে।
-সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.
[মাজালিসে হাসানাহ : ২/১৭৫]
1 099
মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ সাহেবের সাথে আকীদা বিষয়ে সাধারণ মানুষ কীভাবে পড়াশোনা করবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলো। এর সার এখানে লিখছি। কথা কমবেশি হলে সে ভুল আমার।
০১. আকীদার ইখতিলাফী মাসআলা বিষয় সাধারণ মানুষের এড়িয়ে চলা উচিত।
০২. ঈমান-আকীদা অনেক বিস্তৃত বিষয়। সুনির্দিষ্ট কোনো বই পড়লে তা দুরস্ত হবে তা ভাবা ভুল। আস্তে আস্তে পড়াশোনার দ্বারা তা অর্জিত হবে।
০৩. কিছু বিষয়ে পড়াশোনা করা দরকার :
হাদীসে জীবরীলের আলোচনাগুলো,
আসমাউল হুসনা ও তার ব্যাখ্যা
ঈমানের শাখাসমূহ বা শুয়াবুল ঈমান
আদইয়ায়ে মাসনুনাহর ব্যাখ্যা
আল্লাহর কুদরতের আলোচনা
তাযকিরাতুল আখিরাহ ইত্যাদি
০৪. কিছু বইয়ের নাম বললেন,
ফুরুউল ঈমান, থানবী রহ.
তাকবিয়াতুল ঈমান, শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.
মারিফুল হাদীস (১ম খণ্ড), ইসলাম কি ও কেন, দ্বীন ও শরীয়ত, কালেমার উদ্দেশ্য ও ব্যাখ্যা, মাওলানা মনযুর নোমানী রহ.
দস্তুরে হায়াত, আবুল হাসান আলী নদভী রহ.
মুনাযাতে মকবুল, থানবী রহ. (দরিয়াবাদী রহ. এর ব্যাখ্যাসহ)
আল আসমাউল হুসনা, (মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক ভাই অনূদিত)
ইত্যাদি
০৫. এর বাইরেও কিছু জটিল বিষয় আসবে। সেগুলো উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে নেবে।
© মুহাম্মদ হোসাইন
1 099
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, দুনিয়া সেই ব্যক্তির বাড়ি হতে পারে, যার প্রকৃত কোনো বাড়ি নেই এবং দুনিয়া ওই ব্যক্তির সম্পদ হতে পারে যার (আখেরাতের) কোনো সম্পদ নেই। আর যার কোনো জ্ঞানবুদ্ধি নেই সেই কেবল এই উভয়টি একত্র করতে পারে।
-মাওয়ায়েজে সাহাবা : ২৪৪
1 099
হযরত থানবী (রহ.) ইরশাদ করেন, বুযুর্গানে দ্বীনের সংস্পর্শে থাকার আসল উদ্দেশ্য হলো, ঐ বুযুর্গের মতো মন-মানসিকতাবিশিষ্ট হয়ে যাওয়া। আর এটা প্রকৃতপক্ষে আমল ও চেষ্টার দ্বারা অর্জিত হয় না; বরং এটা শুধু আল্লাহ পাক দান করলেই লাভ হতে পারে। তিনি যখন ইচ্ছা করেন, যাকে ইচ্ছা করেন দান করেন। আর আমল এবং বিভিন্ন কাজ মানুষের ইচ্ছাধীন বিষয়, এক মুহূর্তের মধ্যে সেটা পরিবর্তন করে ফেলা যায়; কিন্তু সুস্থ মানসিকতা অনেক সময় পঞ্চাশ বৎসরেও অর্জিত হয় না।
[[মাজালিসে হাকীমুল উম্মত : ১৫২]
1 099
সুফইয়ান সাওরি রহ. বলেন, একবার রবি বিন খুসাইম রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, দেহের রোগ কী? তিনি বললেন, গুনাহ। জিজ্ঞাসা করা হলো, তাহলে এর ওষুধ কী? তিনি বললেন, ইসতিগফার। আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, সুস্থতা মিলবে কীভাবে? তিনি বললেন, আর কখনো গুনাহ না করার মাধ্যমে।
[আখবারুস সালাফ : ১৬৩]
1 099
হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর পুত্র একবার তাঁকে অভিযোগ করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যারা জ্ঞানে-গুণে ও মর্যাদায় তাঁর চেয়ে নিম্নমানের এবং তাঁর ছাত্র হওয়ার যোগ্য, তিনি কেন এমন সব লোকদের ওয়াজ ও নসিহতের মজলিসে বসেন? এতে তার নিজের লজ্জা হয়। অনেক সময় এতে অন্য মানুষের ভুল বোঝাবুঝিরও সুযোগ হয়ে পড়ে।
পুত্রের এ কথা শুনে হযরত ইমাম আহমদ বলেছিলেন :
প্রিয় বৎস, মানুষ সেখানেই গিয়ে বসে, যেখানে সে নিজের কলব ও অন্তরের ফায়দা দেখে (আমি এখানে আমার কলব ও অন্তরের ফায়দা দেখতে পাই। তাই যে যা-ই মনে করুক, এখানে বসা আমার জন্য জরুরি)।
[ইসলামী জীবনের রূপরেখা : ২৫৮]
1 099
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.) ছিলেন তাবেয়ীদের মধ্যে বড় ইমাম। সাহাবীদের পরের প্রজন্মের বিখ্যাত একজন ব্যক্তিত্ব।
.
মানুষটার জীবনী পড়তে গিয়ে বেশ অবাক হয়েছি। এত বিদ্বান, এত গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রভাবশালী মানুষ হবার পরেও তিনি কিনা নারী ফিতনাকে ভয় করতেন!
.
তিনি বলেছেন, “শয়তান যখনই কারো ব্যাপারে হতাশ হয়ে যায় (অর্থাৎ তাকে কোনোভাবে গোমরাহ করতে না পারে), তখন সে নারীদের মাধ্যমে তার কাছে আসে। আমার বয়স এখন আশি বছর; আমার একটি চোখ হারিয়েছি এবং অন্যটি দিয়েও খুব ঝাপসা দেখি—তবুও নিজের ব্যাপারে আমি যে জিনিসটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, তা হলো নারীর ফিতনা।” [আল-কাশশাফ: ১/৫০১]
.
আমি ১৩-১৪ সাল থেকে দ্বীনি কমিউনিটির সাথে চলি। এই ১২-১৩ বছরে প্রচুর দ্বীনি ভাইয়ের সাথে উঠাবসা হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, তাদের মধ্যে যারা ইয়াং তারা অনেকেই কমবেশি নারী ফিতনার ফাঁদের সামনে পড়েছে। সবাই ফিতনাগ্রস্ত না হলেও ফিতনার হাওয়া ঠিকই লেগেছে। কেউ কেউ তো নারী ফিতনায় এতটাই মোহগ্রস্ত ছিল যে, এখন তাদের অনেকে নামাজও পড়ে না।
.
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.)-এর কথাটা কোনো সাধারণ কথা না। বারসিসার কাহিনীটাই দেখুন, এত ইবাদতগুজার, পরহেজগার হবার পরেও শেষ পরিণতি কী হলো? আপনারা অনেকেই এই গল্প পড়েছেন, কিংবা শুনেছেন। শেষ পরিণতি ঈমানহারা—তাও আবার নারী ফিতনায় পড়ে।
.
আসলে এটা একটা বাস্তব সত্য, শয়তান পরহেজগারদের সামনে সকল টোপ ফেলে যখন ব্যর্থ হয়, তখন সে নারী ফিতনার টোপ ফেলে। তবে এজন্য নারীরা যে সবসময় দোষী তা নয়। বরং আমাদের পুরুষদের 'খামখেয়ালিপনাই' মূলত দায়ী। আমরা মনে করি, "এটা কোনো বিষয়? সামান্য একটু হেল্প করতে পারলে হয়তো এই উসিলায় সওয়াবও পাব।" কিন্তু এই সওয়াব পাওয়ার বাসনা যে খায়েশ পূরণের বাসনা হতে বেশি সময় লাগে না, এটা ভুলে যাই।
.
আপনি নিজেকে যতই সুপারম্যান মনে করুন, আপনার নফস ক্ষুধার্ত বাঘের মতোই হয়ে থাকে। আপনি যখন হারামে জড়ান না, ফ্রি মিক্সিং থেকে নিজেকে বিরত রাখেন, মুভি-সিরিয়াল দেখেন না, তখন নফসের ক্ষুধাও বেশি থাকে।
.
নফসের এই ক্ষুধাকে হালাল দ্বারা প্রশমিত না করলে হারামের প্রতি তার লোলুপ চাহিদা সম্পূর্ণ দূর করা কঠিন। এজন্য বিয়ে করুন। বিয়ে করতে না পারলে অনলাইনে, অফলাইনে নারীদের সাথে কোনো অ্যাক্টিভিটিতে একদমই জড়াবেন না।
.
একান্তই কোনো হেল্প করতে হলে ঘরের নারীদের অ্যাসাইন করে দিন। কিংবা ওই নারীর মাহরাম পুরুষদের মাধ্যমে সাহায্য পৌঁছান।
.
আর যদি অনলাইনের কথা বলি, আপনার এলাকায় বহু গাফেল, গুনাহগার বান্দা আছে, আপনার প্রতিবেশীদের মধ্যেই আছে—তারা বেশি দাওয়াহ পাওয়ার হকদার।
.
অফলাইনে 'ঘরকুনো পুরুষ' আর অনলাইনে 'সমাজ সচেতন নাগরিক'—এমন নীতি আপনার জন্যই ক্ষতিকর। এই দাওয়াতি নীতিতে যারা চলেছে, তাদের অধিকাংশই এখন হারিয়ে গেছে।
.
সোশ্যাল মিডিয়াকে স্রেফ কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স বোঝার মাধ্যমে, এবং ক্যারিয়ারে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে 'পার্সোনাল ব্রান্ডিং' এর একটি টুল হিসেবে ইউজ করুন। তাহলে ফিতনা থেকে যেমন বাঁচবেন, সময়টাও প্রোডাক্টিভ হবে ইনশাআল্লাহ।
© মহিউদ্দিন রূপম
1 099
আধ্যাত্মিকতার চার ভিত্তি
আবুল কাসিম বলেন, আমি জুনাইদ (বাগদাদী)-কে বলতে শুনেছি, আমাদের এই আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি চারটি। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলা, তীব্র ক্ষুধা ব্যতীত না খাওয়া, প্রচণ্ড চাপ ব্যতীত না ঘুমানো, আর আল্লাহর ভয় ছাড়া নীরব না হওয়া।
[শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা : ১৩৯]
1 099
আবূ উসমান সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত রহ. বলেন, আমি যুননুন রহ.-কে বলতে শুনেছি, যারা এ জগৎ (আধ্যাত্মিকতা) থেকে ফিরে এসেছে, তারা মাঝরাস্তা থেকেই ফিরে এসেছে। যদি তারা আল্লাহর নিকট পৌঁছুতে পারত, তাহলে মাঝপথ থেকে ফিরে আসত না। তাই হে আমার ভাই, যুহদ অবলম্বন করো। তাহলে আশ্চর্যকর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করতে পারবে।
[শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা : ৩৭]
1 099
আল্লাহওয়ালা বুজুর্গদের সান্নিধ্য শুধুমাত্র আমল নয়, বরং বর্তমান সময়ে ঈমান হেফাজতেরও মাধ্যম।
-শায়খুল হাদীস বিলাল বাওয়া হাফিযাহুল্লাহ
1 099
প্রতিদিন আমরা রবের দেওয়া রিজিক উপভোগ করছি। এটিকে সম্বল করেই আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু আমাদের বিশ্বাসটা ঠিক দৃঢ় হয় না। অনেক সময় আমরা ভাবি পার্থিব উপায়-উপকরণগুলোই আমাদের রিজিক দিচ্ছে। আবু উসাইদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনার রিজিকের ব্যবস্থা হয় কীভাবে? তিনি জবাব দিলেন, আশ্চর্য, যে আল্লাহ কুকুরকেও রিজিক দেন, তিনি কি আবু উসাইদকে বঞ্চিত করবেন?
হাতেম আল-আসামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনার রিজিকের ব্যবস্থা হয় কী করে? তিনি জবাব দিয়েছিলেন, আল্লাহ আমাকে রিজিক দেন। প্রশ্নকর্তা বললেন, তিনি কি আসমান থেকে দিনার-দিরহাম পাঠান? হাতেম আল-আসাম জবাব দিলেন, এই আসমান তাঁর, জমিন তাঁর। তিনি নির্দেশ দিলেই জমিন আমাকে রিজিক দেয়। কীভাবে আমি দরিদ্রতার ভয় করি, অথচ আমি জানি আমার রব অনুকূল ও প্রতিকূল দুই অবস্থাতেই রিজিক দেন। সৃষ্টির সকলকিছু এমনকি সমুদ্রের মাছকেও তিনি রিজিক দেন।
[নির্মল জীবন : ১০৯]
1 099
জ্ঞান ও অন্তর্জ্ঞানের শুভ মিলন ছাড়া শুধু ইলমের বাহার হবে কাগজি ফুলের বাহার, যাতে না আছে সজীবতা, না আছে সুবাস। দুনিয়ার বাজারে কাগজি ফুলের অভাব নেই। আমি-আপনি তাতে বিশেষ কোনো অবদান রাখতে পারব না। এখানে তো প্রয়োজন নবুয়তের চিরসবুজ উদ্যানের চিরসজীব 'পুষ্পের', যার সুবাসে জাহান হবে সুবাসিত, যার সামনে দুনিয়ার ফুলেরা লজ্জায় মুখ লুকোবে পাতার আড়ালে।
-সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.
1 099
আলেমগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলছি, দ্বীনের উপর চলার মূল ভিত্তি সালাফের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। এজন্য তাঁদের গায়ে আপত্তি ও অবজ্ঞার আঁচড় না লাগার বিষয়ে যথাসম্ভব সচেষ্ট থাকতে হবে।
-হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.
[মালফূযাতে হাকীমুল উম্মত : ১/২৯২]
