আকাবির-কথন
Open in Telegram
Show more
The country is not specifiedThe category is not specified
1 212
Subscribers
+1524 hours
+237 days
+3830 days
Posts Archive
1 212
+1
তাহিরপুরের ওদিকের প্রসিদ্ধ এক মাদ্রাসার নাজিম এখন। শেষ এক বছর সকালের নাস্তা আমাকে ছাড়া খেতেনই না 🙂
1 212
+6
এই ছবিগুলো যার তোলা, তিনি এখন প্রকাশ্যে নিয়মিত খেলা নিয়ে কথা বলেন। আজও পোস্ট দিলেন, গতরাতে হওয়া আর্জেন্টিনার খেলা বারবার হাইলাইটস দেখবেন (যাতে ব্রাজিল ফ্যানসহ অন্যদের জ্বলে, কিন্তু 'অতি' মোল্লাদের জ্বলে)।
আরেক ভাইকে ভীষণ মিস করি। চট্টগ্রাম বাড়ি। এডভোকেট। উনার ওয়াইফও সম্ভবত এডভোকেট। আবদুল্লাহ আযযাম, আসেম উমরদের বই পড়তেন। শিবির সন্দেহে তার সরকারি চাকরি হয়নি। এরপর সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য পুরো বদলে গেলেন। ফ্রেন্ডলিস্ট একেবারে পরিষ্কার করলেন। এখন নিজের ও আহলিয়ার ছবিও পোস্টান।
মানুষের এই যে বদলে যাওয়া, আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমি খুবই কঠোর। একটু উনিশ-বিশ হলেই মেজাজ চড়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একেবারে নিরস। কিন্তু দ্বীনী লাইন থেকে কেউ হারিয়ে গেলে কিংবা আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেলে ভীষণ কষ্ট লাগে।
আরেকটা বড় তিক্ত বাস্তবতা হলো, হেদায়েত ও দ্বীনের বুঝ আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় দান। কদর করুন। যদি আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের নফসের উপর ছেড়ে দেন, তাহলে গন্তব্য হারাতে এক সেকেন্ডও লাগবে না।
1 212
সাত. আমি দেখলাম—দুনিয়ার প্রত্যেকেই তার জীবিকা উপার্জন করার জন্যে প্রাণান্ত প্রয়াস করছে। তারা এর জন্যে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে। এক্ষেত্রে তারা কোনটা হারাম আর কোনটা সন্দেহজনক; তার কোনো বাছ-বিচারই করে না। নিজেকে ছোট করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। অবলীলায় নিজের মান-সম্মান গুটিয়ে হীন জায়গাতেও নেমে পড়ে। তখন আমি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর গভীরে লক্ষ করলাম—
পৃথিবীর বুকে যতো প্রাণী রয়েছে, তাদের সবার রিযিক আল্লাহর ওপর। [সূরা হুদ : ৬]
তখন আমি বুঝে নিলাম—আমার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর। তিনি এর দায়িত্বভার নিয়ে রেখেছেন। কাজেই আমি নিজেকে তার ইবাদতে নিমগ্ন করে নিয়েছি। তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমার কামনা গুটিয়ে নিয়েছি।
আট. আমি লক্ষ করেছি, দুনিয়ার সবাই কোনো না কোনো সৃষ্টবস্তুর প্রতি নির্ভর করে আছে। কেউ টাকা-পয়সার ওপর নির্ভর করে আছে। কেউ অর্থ-সম্পদ আর রাজত্বের ওপর নির্ভর করে আছে। কেউ তার পেশা ও শিল্পের ওপর নির্ভর করে আছে। কেউ তার মতো আরেক সৃষ্টিজীবের ওপর নির্ভর করে আছে। তখন আমি আল্লাহ তাআলার এই আয়াতের ওপর লক্ষ করলাম—
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে আল্লাহ তার জন্যে যথেষ্ট হন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কাজ পূর্ণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রতিটি বস্তুর জন্যে একটি পরিমাণ নির্ধারিত করে রেখেছেন। [সূরা তালাক : ৩]
তখন থেকে আমি আল্লাহর ওপর এতটাই নির্ভর হয়ে গেছি যে, তিনিই আমার জন্যে যথেষ্ট। তিনিই উত্তম কার্যসম্পাদক।
তখন হযরত শাকীক রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাকে তাওফীক দান করুন। আমি তাওরাত, যবুর, ইনযিল ও কুরআন কারীম গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছি। আমি দেখতে পেয়েছি—ওই চার গ্রন্থ এই আটটি উপকারিতা কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। যে ব্যক্তি এগুলোর ওপর আমল করবে, সে এই চার কিতাবের ওপর আমলকারী হয়ে যাবে।
[ইমাম গাযালী রহ.-এর খোলা চিঠি : ২৪-২৯]
1 212
প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত হাতেম আসম রহ. ছিলেন আরেক বুযুর্গ হযরত শাকীক বালকী রহ.-এর শিষ্য। একদিন হযরত বালখী রহ. তাঁর প্রিয় শাগরেদ হাতেম রহ.-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি দীর্ঘ তেত্রিশটি বছর আমার কাছে শিক্ষার্জন করেছ। এই দীর্ঘ সময়ে তুমি কী অর্জন করলে?
হযরত আসম রহ. বললেন, আমি ইলমের এই বিশাল ভুবন থেকে আটটি উপকারিতা অর্জন করেছি। তবে আমার মনে হয়েছে, এগুলো আমার জন্যে যথেষ্ট হবে। কেননা এগুলোর মাঝে আমি আমার নাজাত ও মুক্তির চাবিকাঠি পেয়েছি।
হযরত শাকীক রহ. জিজ্ঞেস করলেন, সেগুলো কী?
হযরত হাতেম বললেন—
এক. আমি আল্লাহর সৃষ্টিজীবগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। তখন লক্ষ করেছি, প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো প্রিয় বস্তু বা ব্যক্তি রয়েছে; যাকে সে ভালোবাসে এবং যার প্রেমে সে বিভোর থাকে। এই প্রিয় জিনিসগুলোর কোনোটি মৃত্যু পর্যন্ত সঙ্গ দেয়। কোনোটি কবরের পাদদেশ পর্যন্ত সঙ্গ দেয়। এরপর সব প্রিয়রাই ফিরে যায়। সে একাকী নিঃসঙ্গ পড়ে থাকে। তাদের কেউই তার সঙ্গে কবরে প্রবেশ করে না। তখন আমি চিন্তা করে দেখলাম, একজন ব্যক্তির জন্যে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস সেটাই, যা তাকে কবরেও সঙ্গ দেবে। সেখানেও সে ঘনিষ্ট হয়ে মেশবে। আমি খুব খোঁজাখুঁজির পর একমাত্র সৎ আমলকেই পেলাম, যা কবরের নিঃসঙ্গ মুহূর্তেও ব্যক্তিকে ছেড়ে যায় না। কাজেই তাকেই আমি আমার প্রিয় বানিয়ে নিলাম। যেন সে আমার জন্যে কবরের অন্ধকারে বাতি হয়, সেখানে আমার অন্তরঙ্গ হয় এবং আমাকে একা ছেড়ে চলে না যায়।
দুই. আমি কমবেশ সবাইকে দেখতে পেলাম যে, তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করছে। তাদের মনের ইচ্ছেগুলো পূরণ করার জন্যে প্রতিযোগিতা করছে। তখন আমি একটি আয়াত খুব গভীরভাবে ভেবে দেখলাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
আর যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে দাঁড়ানোর ভয় করে এবং নিজের আত্মাকে প্রবৃত্তি থেকে বাঁচিয়ে রাখে, জান্নাত হবে তার আশ্রয়স্থল। [সূরা নাযি'আত : ৪০-৪১]
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছি যে, একমাত্র কুরআনই সত্য ও বাস্তববাদী। কাজেই তার হিদায়াত মেনে আমি এখন আমার আত্মার বিরোধিতায় ছুটছি। তার দমনে কোমর বেঁধে লড়ছি। তাকে কখনই প্রবৃত্তির কাছে ভেড়ার সুযোগ দিচ্ছি না। এখন সে আল্লাহর আনুগত্যের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছে। তার কাছে সম্পূর্ণ নত হয়ে গেছে।
তিন. আমি সমস্ত লোককে লক্ষ করেছি যে, তারা দুনিয়ার তুচ্ছ বস্তুগুলো সঞ্চয় করতে প্রাণান্ত খেটে বেড়াচ্ছে। সেগুলোকে সে হাতের মুঠোয় দখলে রাখার জন্যে বজ্রমুষ্ঠি করে রেখেছে। তখন আমি আল্লাহর এই কথা গভীরভাবে ভেবে দেখলাম—
তোমাদের কাছে যা আছে, তা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা রয়ে যাবে। [সূরা নাহল : ৯৬]
তখন আমি আমার কাছে দুনিয়ার যা কিছু অর্জিত ছিল, তার সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করলাম। সেগুলো গরিব-মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করে দিলাম। যেন সেগুলো আল্লাহর কাছে আমার নামে সঞ্চিত থাকে।
চার. আমি দুনিয়াবাসীকে গভীরভাবে লক্ষ করেছি যে, তারা কোন জিনিস অর্জন করতে পারাকে নিজেদের সম্মান ও গৌরব মনে করে? তখন দেখলাম—তাদের একদল গোত্র ও বংশের জনবলের প্রাচুর্য্যকে তাদের গৌরব মনে করে। তারা এ নিয়েই বড়াই করে।
অপর দলকে দেখলাম, তারা মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করা, তাদের ওপর জোর-জুলুম করা এবং তাদের রক্ত প্রবাহিত করাতেই গর্ব ও সম্মান অনুভব করে।
আরেকদলকে পেলাম, যারা সম্পদ অপচয় করা, অপব্যয় করা, স্রোতের মতো ভাসিয়ে দেওয়াকেই গৌরবের কাজ মনে করে। তখন আমি আল্লাহর একটি আয়াতের ওপর গভীর মনোযোগ দিলাম—
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্য হতে ওই ব্যক্তিই বেশি সম্মানিত, যে তাঁকে অধিক ভয় করে। [সূরা হুজুরাত : ১৩]
তখন থেকে আমি তাকওয়াকে অগ্রাধিকার দিলাম এবং এই দৃঢ়বিশ্বাস মনের মধ্যে গেঁথে নিলাম—কুরআন যা বলে, তাই সত্য এবং তাই বাস্তব। আর অন্যরা যা ধারণা করছে, তার সবগুলোই মিথ্যা ও অবান্তর।
পাঁচ. আমি লক্ষ করলাম, লোকেরা একে অন্যের সমালোচনা করে। তাদের একদল অপরদলের গীবত করে বেড়ায়। তখন আমি এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখলাম সম্পদ, সম্মান ও জ্ঞানের হিংসা-প্রতিহিংসাই এর একমাত্র কারণ ও উৎস। তখন আমি আল্লাহর এই বাণীকে গভীরভাবে ভেবে দেখলাম—
আমি পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকা তাদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছি। [সূরা যুখরুফ : ৩২]
তখন আমি বুঝলাম—আল্লাহ তাআলা যা দেয়ার, অনাদিকালেই বণ্টন করে দিয়েছেন। এরপর থেকে আমি আর কাউকে হিংসে করি না। আল্লাহ আমার ভাগ্যে যতটুকু বণ্টন করে দিয়েছেন, তার ওপরই সন্তুষ্ট থাকি।
ছয়. আমি লোকদেরকে লক্ষ করলাম, তারা বিভিন্ন স্বার্থে ও কারণে পরস্পরে শত্রুতা করে। তখন আমি আল্লাহর এই আয়াতের ওপর গভীর মনোনিবেশ করলাম—
নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। কাজেই তাকেই তোমরা শত্রুরূপে গ্রহণ করো। [সূরা ফাতির : ৬]
তখন থেকে আমি বঝে নিলাম, এক শয়তান ছাড়া আর কারো সঙ্গে শত্রুতা করা ঠিক হবে না।
1 212
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ সবকিছুর মাঝে সুন্নাতে নববী আঁকড়ে ধরার জন্য পরিপূর্ণ চেষ্টা করতেন। বরং কখনো কখনো তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুসরণের আগ্রহে বিশেষ কোনো কোনো আমল করতেন (যা করা উম্মতের জন্য ফরয, ওয়াজিব বা মুস্তাহাবও নয়)।
ইমাম মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ আমাকে বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো হাদীসের ওপর আমল করা ব্যতীত আমি তা লিখতাম না। এমনকি যখন হাদীস শরীফে পেলাম যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজামাহ বা শিঙা লাগিয়েছেন এবং আবু তায়বাহকে এক দীনার দিয়েছেন। আমিও শিঙা লাগানোর সময় শিঙাওয়ালাকে এক দীনার দিয়েছি।
আবু হামেদ বালখী বলেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, আমি যে হাদীসই লিখেছি, একবার হলেও তার ওপর আমল করেছি। যেন তা আমার বিরুদ্ধে দলীল না হয়ে যায়। এমনকি মাগরিবের আযান ও ইকামতের মাঝে দু'রাকাত নফল নামাযও পড়েছি।
ইবরাহীম ইবনে হানী বলেন, আহমাদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ আমার নিকট তিন দিন পর্যন্ত লুকিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমার জন্য আরেক জায়গা তালাশ করো, যেখানে প্রস্থান করব। তাঁকে বললাম, হে আবু আবদুল্লাহ! (বের হওয়া) আপনার জন্য নিরাপদ মনে করছি না।
তিনি বললেন, তুমি যদি কোনো একটি জায়াগার খোঁজ নাও, তোমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখাব। আমি তার জন্য একটি স্থান তালাশ করলাম। যখন তিনি বের হলেন বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুহায় তিন দিন লুকিয়ে ছিলেন। তারপর অন্যত্র প্রস্থান করেছিলেন। এমন করা উচিত নয় যে, নিরাপদ সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করব আর বিপদে তাঁর অনুসরণ ছেড়ে দেব।
[মাওয়ায়েযে আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. : ২১-২২]
1 212
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের এমন এক অভূতপূর্ব সুযোগ করে দিয়েছে যে, চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই নিজের লেখা বা বক্তব্য হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এর জন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রেণীকক্ষ কিংবা গ্রন্থাগারের প্রয়োজন নেই। আপনি যে বিষয়েই লিখুন বা কথা বলুন, তা শোনার জন্য সবসময়ই একদল মানুষ অপেক্ষা করছে। তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা নেই। নিছক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ, নতুন কিছু জানার কৌতূহল কিংবা দিনের ক্লান্তি শেষে মনকে একটু অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তাদেরকে আপনার কাছে নিয়ে আসে। তারা নতুন তথ্য জানতে চায়, নতুন তত্ত্ব শুনতে চায়, নতুন বিশ্লেষণের সঙ্গে পরিচিত হতে চায়।
এই মানুষগুলোই একজন লেখক বা আলোচকের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের আগ্রহ আপনাকে আরো পড়তে এবং ভালোভাবে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আপনি ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি কিংবা অন্য যে বিষয়েই কাজ করুন না কেন, ধীরে ধীরে এমন একটি পাঠক ও দর্শকগোষ্ঠী গড়ে উঠবে যারা আপনার কাজের অপেক্ষায় থাকবে এবং তা মূল্যায়ন করবে। তাই মানুষের আগ্রহের পেছনে না ছুটে যে বিষয়ে আপনার নিজের গভীর অনুরাগ আছে, সেই বিষয়েই লেখা উচিত, কথা বলা উচিত।
তবে এই পথের একটি নীরব বিপদও আছে। এই বিপদটি আসে তাদের পক্ষ থেকে যাদের আমি ঘরোয়া আড্ডায় ‘প্রবীণ যোদ্ধা’ বলে থাকি। প্রতিটি বিদ্যা ও পেশায় এমন কিছু মানুষ থাকেন যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী, কিন্তু বয়স, ব্যস্ততা কিংবা স্বভাবগত কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় থাকেন না, লেখালেখি করেন না। তারা নীরবে পর্যবেক্ষণ করেন। আপনার বহু লেখাই তাদের সামনে যায়, তারা পড়েনও কিন্তু কখনো নিজের উপস্থিতি জানান দেন না। কিন্তু আপনি যদি কোনো ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন কিংবা দুর্বল কোনো বিশ্লেষণ দেন, তাহলে তারাই হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়াবেন। আপনার দীর্ঘ লেখার নিচে তাদের কয়েক লাইনের একটি মন্তব্যই পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। তাদের মন্তব্য এমন কোনো দিক উন্মোচন করবে যা হয়তো আপনার চোখেই পড়েনি।
তাই একজন লেখক বা আলোচকের দায়িত্ব শুধু লেখা বা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি তথ্য, উদ্ধৃতি এবং বিশ্লেষণ বারবার যাচাই করা তার দায়িত্ব। প্রকাশের আগে নিজের লেখাকে কঠোর সমালোচকের চোখ দিয়ে পড়তে হবে। কারণ জ্ঞানচর্চার জগতে জনপ্রিয়তার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার মূল্য অনেক বেশি।
তবে এত সতর্কতার পরও ভুল হবেই। আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। ভুল ধরা পড়লে দ্রুত তা সংশোধন করাই একজন সৎ গবেষক ও লেখকের পরিচয়। ভুল স্বীকার করলে ব্যক্তিত্ব ছোট হয় না। বরং ভুলকে সত্য প্রমাণ করার একগুঁয়েমিই একজন মানুষকে ছোট করে।
তাই ভুলের ভয়ে থেমে থাকবেন না। যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ, সেই বিষয় নিয়েই লিখুন, বলুন এবং মানুষকে জানার সুযোগ করে দিন। শুধু মনে রাখবেন, প্রতিটি লেখা প্রকাশের আগে কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে। ভুল হলে শোধরাতে হবে, কিন্তু কাজ বন্ধ করা যাবে না। কারণ যে মানুষ হাঁটে, তারই হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে কখনো হাঁটেই না, সে হোঁচট খায় না, কিন্তু কোনো গন্তব্যেও পৌঁছায় না।
সাহসকে স্বাগতম, সতর্কতাকেও স্বাগতম।
© ইমরান রাইহান
1 212
একসময় অনলাইন বুকশপের কারণে বিরক্ত হতাম। আর এখন নিজেই খুঁজে ফিরে বুকশপ, যদি এমন কোনো বইয়ের সন্ধান পাই, যে বই সম্পর্কে আমি জানি না...
অফ ডে এলেই লিস্টে আছে কিংবা নেই এমন অনেকের আইডিতে চক্কর দেই, দেখি বই নিয়ে কিংবা বইয়ের কোনোকিছু নিয়ে আলাপ-সালাপ কেউ করে কি না...
হতাশ হই। লেখক কিংবা পাঠকদের মাঝে শুধু মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর ভাইয়ের আইডিটাই সচল দেখি বই নিয়ে আলোচনায়।
আচ্ছা, আর কেউ আছে যে এখনো বই নিয়ে বকবক করে আপনার জানামতে?
1 212
সাদিক ফারহান ভাইর বাবা আজ মারা গেলেন। আমি এতদিন ভেবেছিলাম উনার জন্মের পরপর অথবা মায়ের পেটে থাকতেই বাবা মারা গেছেন।
উনার আব্বা আজ মারা গেলেন। বাবাকে নিয়ে উনার এই লেখাটা ১৭ সালের। আর হ্যাঁ, আজকের পোস্টটাও পড়তে পারেন।
https://www.facebook.com/share/p/1Du6Cm49JF/
1 212
আরিফবিল্লাহ শাহ হাকিম মুহাম্মাদ আখতার রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
মানুষ গোশত কিনতে গিয়ে কচি গরুর গোশত খোঁজে। কারণ, বয়স্ক গরুর গোশত মানুষ সচরাচর খেতে চায় না। সেই গোশতে স্বাদও তেমন থাকে না। আর এদিকে তুমি নিয়ত করে বসে আছো যে, বয়সটা আরও বাড়ুক, তারপর আল্লাহর ইবাদত করব! আল্লাহর জন্য তুমি তোমার জীবনের এমন একটা সময় কেন রাখতে চাও, যেটার তেমন কোনো দাম থাকে না!
রাশেদ মুহাম্মাদ
আশেকে আহলুল্লাহ
1 212
অতীতকে বয়ে চলতে হয় না, তার থেকে জ্ঞান নিতে হয়৷ নতুবা অতীত জীবনের উপর শৃঙ্খল পড়িয়ে দিবে৷ ভবিষ্যৎ হল পরিকল্পনার জন্য, যার বাস্তবতা মানুষের অজানা৷ বর্তমানই হল আসল বাস্তবতা, বর্তমানের উপরই জীবন প্রবাহিত হয়ে চলে৷
তাই “অতীতকে ধরে রেখে যেমন ভবিষ্যত নষ্ট করার মানে হয় না, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করারও মানে হয় না৷”
অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত এগুলো হল সময়ের একটি সেতু৷ যার এক পাশে স্মৃতি, অন্য পাশে সম্ভাবনা৷ সম্ভাবনা ভাল না মন্দ হবে সেটা আমাদের মাঝখানের কর্মের উপর বর্তায়৷
যে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়, সে প্রজ্ঞাবান৷ যে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়, সে দূরদর্শী৷ কিন্তু যে বর্তমানকে বাঁচতে ভুলে যায়, সে চরম বোকা। কারণ জীবনের আসল মুহূর্তগুলোই সে নষ্ট করে ফেলে।
কবি বলেন;
অতীতের চোরাবালিতে ডুবতে চাই না আর,
ভবিষ্যতের মরিচিকায় থাকতে চাই না আর,
বর্তমানের আজান কাজা করতে চাই না আর৷
~ মাহবূবুল মুরসালীন
1 212
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.)—যিনি বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও বুযুর্গ ছিলেন। তিনি তার দান-সদকাসমূহ শুধু উলামাদের মধ্যে খরচ করতেন। কেউ আরজ করল, আলেম ছাড়া অন্যদেরকেও যদি আপনি দান করতেন, তবে কতই না ভালো হতো! তিনি বললেন, আমি নবুওতের মর্যাদার পর ইলমের সমান মর্যাদাশীল আর কোনো কিছু পাইনি। যখন কোনো ইলমওয়ালা অন্য কোনো দিকে মনোনিবেশ করে, তখন তার ইলমের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্য তাদেরকে ইলমের কাজে মগ্ন থাকার জন্য নিশ্চিন্ত করে রাখা সবচেয়ে উত্তম কাজ।
[ফাযায়েলে সাদাকাত, ১ম খণ্ড]
1 212
মাতাপিতার জন্য উচিত—সন্তান যেন আপনাদের প্রতি সদাচারী থাকে, সেজন্য তাদের প্রতি কোমল আচরণ করা। এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করা। তাদের পরীক্ষা না করা। আমরা মানুষরা তো আল্লাহর আনুগত্য করতে পারি—আল্লাহ তায়ালা এজন্য আমাদের সাহায্য করার কারণেই। তিনি সাহায্য না করলে এবং তাওফিক না দিলে আমাদের পক্ষে তার আনুগত্য করা সম্ভব ছিল না। তাই আপনিও সন্তানদের সাহায্য করুন আপনার আনুগত্যের ক্ষেত্রে।
[ইসলামের অনুপম শিষ্টাচার : ৪০]
1 212
ছোট নেক কাজগুলো হলো মেহমানের মতো। মেহমান যেমন বেড়াতে এলে সমাদর না পেলে আর বেড়াতে আসে না, এই নেক কাজগুলোও এমন। যদি সুযোগ এলেও তা করা না হয়, তাহলে আর সুযোগ আসে না।
[সালাফের জীবন থেকে : ১৭৭]
