967
订阅者
无数据24 小时
+37 天
-330 天
帖子存档
কারবালার ঘটনাকেন্দ্রিক বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে এখন থেকে। সময় মাত্র ২০ মিনিট।
⏱️ কুইজের লিংক: https://forms.gle/xxTy9CoF7evsFn4Y9
অনেক অনেক শুভকামনা রইল সবার জন্য। 🧡
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…
অবশেষে এলো কুইজ প্রতিযোগিতার মাহেন্দ্রক্ষণ! কারবালার ঘটনাকেন্দ্রিক এ বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতা শুরু হবে আজ সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ মিনিটে।
কুইজের গুগল ফরম লিংক সন্ধ্যার পোস্টে সংযুক্ত থাকবে, ইন শা আল্লাহ। 🧡
জরুরি নিয়মাবলি —
• সময়সীমা: ফর্মটি সাবমিট করার জন্য আপনি ঠিক ২০ মিনিট সময় পাবেন। ঠিক সন্ধ্যা ৭:৫০ মিনিটে ফর্মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যাবে।
• ব্রাউজার সতর্কতা: ফেসবুক অ্যাপের ভেতর থেকে সরাসরি লিংকে ঢুকলে অনেক সময় জিমেইল লগইনজনিত সমস্যা দেখাতে পারে। তাই লিংকটি কপি করে আপনার ফোনের Chrome ব্রাউজারে পেস্ট করে ওপেন করুন এবং নিজের জিমেইল দিয়ে লগইন করে অংশ নিন।
• প্রশ্ন ও উত্তর: ৩০টি এমসিকিউ-এর মধ্যে আপনার যতগুলো ইচ্ছা উত্তর দিতে পারবেন (কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই)। তবে নাম ও মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া বাধ্যতামূলক।
• বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার: সবচেয়ে দ্রুত সর্বোচ্চ সঠিক উত্তর দেওয়া সেরা ৫ জন প্রতিযোগী পুরস্কার হিশেবে পাবেন সুকুনের অন্যতম সেরা বই 'সীরাতে ইবনে কাসীর' এবং পরবর্তী যেকোনো একটি অর্ডারে সম্পূর্ণ ফ্রি ডেলিভারি চার্জের দারুণ সুযোগ!
সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। 🧡
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…
ইট, বালি আর সিমেন্টের চারকোনা একটা বদ্ধ জায়গা। আমরা নিশ্চিতভাবে একে বলি ‘ঘর’। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, যে পাথরের দেয়াল আপনাকে রোদে পুড়তে দেয় না, বৃষ্টিতে ভিজতে দেয় না, সেই একই দেয়ালের ভেতরে কেন রোজ অশান্তির দাবানল জ্বলে? কেন চারকোনা এই পাথরের খাঁচাটুকু অনেক সময় শয়তানের অবাধ চারণভূমিতে পরিণত হয়?
আসলে, ঘর নিরাপদ রাখার জন্য শুধু লোহার গ্রিল আর মজবুত দরজাই যথেষ্ট নয়। শয়তানের চক্রান্ত ঘরের দেয়াল ভেদ করে ঠিকই ঢুকে পড়ে। আমাদের চিরশত্রু শয়তান ও তার দলবলের অনুপ্রবেশ থেকে এই ইট-পাথরের ঘরকে কীভাবে 'শান্তির নীড়' বানাবেন, তা জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঠিক এই সমাধানটুকুই বাতলে দেবে ড. মুহাম্মাদ আল আজমির বই ‘ঘর নিরাপদ রাখার আমল’ বইটি।
চমৎকার ও সুরক্ষামূলক আমলসমূহ জানতে সংগ্রহ করেছেন তো বইটি?
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন...
প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো?
মাত্র আর দু'দিন পেরিয়েই কিন্তু প্রতিযোগিতা...💛
কারবালার প্রকৃত ইতিহাস আমাদের শেখায় কীভাবে চরম সংকটেও হকের ওপর অবিচল থাকতে হয়, কীভাবে সরলতা ও বিশ্বাসঘাতকতার খেলা চলে। এই মহান শিক্ষা কোনো কাল্পনিক প্রেমের গল্প থেকে পাওয়া অসম্ভব। তাই অন্ধ আবেগ, কুসংস্কার আর শোক পালনের নামে অসংগত সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের ইতিহাসের জ্ঞান রাখাটা জরুরি।
মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ-সিন্ধু’ নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ, একটি অসাধারণ শিল্পোত্তীর্ণ উপন্যাস। কিন্তু একে কোনোভাবেই ইতিহাসের বই বলা চলে না। যদি আপনি কারবালার রূঢ়, সত্য এবং বিশুদ্ধ ইতিহাস জানতে চান, তবে আপনাকে কল্পনার চাদর ছিন্ন করে গবেষণামূলক গ্রন্থের শরণাপন্ন হতে হবে।
আর ঠিক এই সত্যের মুখোমুখি করবে ‘যেভাবে ঘটেছিল কারবালা’ বইটি। সম্পূর্ণ কুরআন, বিশুদ্ধ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত এই বইটি আপনাকে সত্য-মিথ্যের পার্থক্য করতে সাহায্য করবে, ইন শা আল্লাহ।
আপনার সংগ্রহে আছে তো 'যেভাবে ঘটেছিল কারবালা' বইটি?
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…
সাহিত্য বা ইতিহাস পছন্দের শুরুর দিকে মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ-সিন্ধু’ পড়েননি বা নাম শোনেননি, এমন পাঠক বোধহয় আমাদের দেশে মেলা ভার। লেখকের জাদুকরী গদ্য আর আবেগের অতল স্রোতে ভেসে গিয়ে চোখের জল ফেলেননি—এমন মানুষও খুব কম আছেন। কিন্তু, সাহিত্য সরিয়ে ইতিহাসতত্ত্বের কষ্টিপাথরে যদি এটিকে যাচাই করি, তবে দেখতে পাব ইতিহাসের সত্যের সাথে এর দূরত্ব আসলে যোজন যোজন।
আসুন, কারবালার ইতিহাস আর সাহিত্যের ভেতরের মূল তফাতগুলো আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ের আলোকে বোঝার চেষ্টা করি —
প্রথমত, বিষাদ-সিন্ধুর পুরো উপন্যাসের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে জয়নাবের প্রতি এজিদের অনিবার্য রূপতৃষ্ণা ও এক কাল্পনিক প্রেমকে কেন্দ্র করে। অথচ প্রকৃত ইতিহাস ও নির্ভরযোগ্য দলিল সাক্ষী দেয়, কারবালার এই বেদনাবিধুর দ্বন্দ্বের সাথে জয়নাবের রূপের কোনো দূরতম সম্পর্কও ছিল না; এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার রূপান্তর, খিলাফতের উত্তরাধিকার এবং কুফাবাসীদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
দ্বিতীয়ত, উপন্যাসে এজিদকে এক ব্যাকুল প্রেমিক ও ট্রাজিক নায়ক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব। ইতিহাসে সে কোনো প্রেমিক পুরুষ ছিল না, বরং সে ছিল একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী শাসক, যার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটেছিল।
তৃতীয়ত, উপন্যাসের সূচনাতেই মুআবিয়া (রা.)-এর বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা, এক অলৌকিক রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং বাধ্য হয়ে আশি বছরের এক বৃদ্ধাকে বিয়ে করার যে গল্প ফেঁদেছেন লেখক, তা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ইতিহাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং লোকমুখের পুঁথি আশ্রিত এক চরম অসত্য।
চতুর্থত, এজিদের জন্ম সেই বৃদ্ধার গর্ভে হয়েছে বলে উপন্যাসে যে অলৌকিকতা দেখানো হয়েছে, তা ইতিহাসের পাতায় খণ্ডিত হয়ে যায়। কারণ ইতিহাসে এজিদের মাতা ছিলেন মায়মুনা বিনতু বাহদাল, যিনি কালব গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত ও তরুণী নারী ছিলেন।
পঞ্চমত, ইমাম হাসানের (রা.) মৃত্যু নিয়ে বিষাদ-সিন্ধুতে সতীন জয়নাবের প্রতি ঈর্ষাকাতর হয়ে স্ত্রী জাএদার বিষ প্রয়োগের যে নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে, তা মূলত লেখকের নিজস্ব পারিবারিক অভিজ্ঞতাজাত সপত্নী-বিরোধের সাহিত্যিক রূপান্তর মাত্র। ইতিহাসে এমন কোনো সতীনের ঝগড়া নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁকে বিষ দেওয়া হয়েছিল।
ষষ্ঠত, উপন্যাসে বিষ সরবরাহকারী হিসেবে ‘মায়মুনা’ নামের যে কুটিল বৃদ্ধা চরিত্রের অবতারণা করা হয়েছে, ইতিহাসে তার কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই; এটি মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্যের ‘দুর্বলা দাসী’র মতো একটি কাল্পনিক সৃষ্টি।
সপ্তমত, মাবিয়ার প্রেরিত দূতকে এজিদ এক বাণে হত্যা করে পাথরে গেঁথে ফেলার যে দৃশ্য উপন্যাসে আছে, তা অতিপ্রাকৃত এবং ইতিহাসের রূঢ় বাস্তবতার সাথে বড্ড বেমানান।
অষ্টমত, মারোয়ানকে ছদ্মবেশে মদিনার গলিতে গলিতে ষড়যন্ত্রকারী ও নিজে তরবারি নিয়ে কারবালার সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ করতে দেখা গেলেও, প্রকৃত ইতিহাসে তিনি ছিলেন মদিনার একজন উমাবি নেতা ও কূটনীতিবিদ, যিনি কারবালার মাঠে গিয়ে সরাসরি কোনো যুদ্ধই করেননি।
নবমত, উপন্যাসের শেষ খণ্ডগুলোতে মোহাম্মদ হানিফাকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক অতিমানব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি এজিদ বধের জন্য অলৌকিক শক্তির সাহায্য নেন। অথচ ইতিহাসে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা ছিলেন একজন অত্যন্ত বাস্তববাদী, রাজনৈতিক ফিতনা থেকে দূরে থাকা পরম পরহেযগার মানুষ।
সর্বশেষে, সীমারের অবাস্তব ও নাটকীয় সংলাপ, হোসেন (রা.)-এর ছিন্ন মস্তক থেকে রক্ত দিয়ে আরবী হরফে ভাগ্য লেখা হওয়া, মস্তক আকাশে উড়ে যাওয়া কিংবা বীর আজরের কাল্পনিক আত্মাহুতির মতো যত অলৌকিক ঘটনা মীর মশাররফ হোসেন দেখিয়েছেন, তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তিনি মূলত মধ্যযুগের দোভাষী পুঁথি যেমন ‘জঙ্গনামা’ বা ‘মকতুল হোসেন’ থেকে এই লোকবিশ্বাসগুলো ধার করেছিলেন, যা মহাকবি কায়কোবাদ বা কাজী আবদুল ওদুদের মতো সমালোচকদের কাছেও তীব্র নিন্দিত হয়েছিল। এমনকি তৎকালীন হিন্দু পাঠকসমাজ ও বঙ্কিমী গদ্যের প্রভাবে মুসলিম চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও ‘আল্লাহ’র পরিবর্তে ‘ঈশ্বর’ বা ‘ভগবান’ শব্দের ব্যাপক ব্যবহার ধর্মীয় সত্যতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ইতিহাসে যেখানে ইমাম হোসেন (রা.) এজিদের চেয়ে অন্তত ২০ বছরের বড় ছিলেন, সেখানে উপন্যাসে তাদের সমবয়সী ও ছোটবেলার খেলার সাথী বানিয়ে কালগত চরম অসঙ্গতি তৈরি করা হয়েছে।
প্রিয় পাঠক, ইতিহাস আর রূপকথাকে গুলিয়ে ফেললে একটি সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় বিকাশ থমকে যায়। কারবালার মতো একটি সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়ে কাল্পনিক কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে যদি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে ওঠে, তবে তা সম্মানিত সাহাবি ও আহলে বাইতের প্রতি মানুষের মনে অযথা ভুল ধারণা ও বিদ্বেষ তৈরি করে।
ফেসবুক কিংবা ইউটিউবের কমেন্ট সেকশনে চোখ বুলিয়ে থাকলে আপনার চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য। হয়তো সামান্য বা একেবারে আলাদা ভিন্নমত দেখবেন—ব্যস, মুহূর্তের মধ্যেই যেন কমেন্ট সেকশনগুলো হয়ে উঠবে একেকটা যুদ্ধক্ষেত্র।
এখানেএকজন আরেকজনকে ধুয়ে দেবে, বাবা-মা কিংবা চরিত্র তুলে গালিগালাজ হবে, ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালা হবে। স্ক্রিনের ওপারের মানুষটার প্রতি আমাদের এই যে তীব্র ক্ষোভ আর অহংকার, একে শান্ত করার কোনো উপায় কি আমাদের জানা আছে?
আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগের একটা ঘটনা জেনে আসি।
এক সফরে রসিকতাস্বরূপ এক মুহাজির সাহাবি এক আনসারি সাহাবিকে আঘাত করে বসলেন। ব্যস, শয়তান সুযোগ পেয়ে গেল। চোখের পলকে সাধারণ একটা ঠাট্টা রূপ নিল গোত্রীয় সংঘাতে! পরিস্থিতি যখন আরও জটিল হতে চলল, তখন খলনায়ক আবদুল্লাহ ইবনু উবাই উস্কানিমূলক কথা বলে সেই আগুনে যেন পেট্রোল ঢেলে দিল। চারদিকে চরম উত্তেজনা।
এমন উত্তপ্ত মুহূর্তে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করেছিলেন জানেন?
তিনি কোনো দীর্ঘ বিচার-সালিশ করলেন না, আবার কাউকে দোষারোপ করে সময়ও নষ্ট করলেন না। তিনি এক অভিনব ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি কাফেলাকে কোনো বিরতি না দিয়ে একটানা একদিন আর একরাত হাঁটালেন!
প্রখর রোদে দীর্ঘ সফর শেষে যখন কাফেলা থামল, তখন সাহাবিরা এত বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে মাটিতে পিঠ ঠেকাতেই সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেলেন। ঝগড়া করার মতো শক্তি বা অবসর—কোনোটিই আর কারও অবশিষ্ট ছিল না। নবিজি (সাঃ) খুব চমৎকারভাবে মানুষের মনস্তত্ত্বকে ব্যবহার করে ক্ষোভের তীব্রতাকে ধূলিসাৎ করে দিলেন। কারণ মানুষ যখন অবসর পায়, তখনই অনর্থক তর্ক আর ক্ষোভ উগরে দেয়।
পারিবারিক জীবন, কর্মক্ষেত্র কিংবা আজকের এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের পদে পদে এমন শত শত কনফ্লিক্ট বা সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমরা কি জানি কীভাবে প্রজ্ঞা আর মনস্তত্ত্ব দিয়ে এগুলো সামলাতে হয়?
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই জটিল সংঘাতগুলো নবিজি (সাঃ)-এর দূরদর্শী পদ্ধতিতে সমাধান করার জাদুকরী সব কৌশল নিয়ে ‘সীরাতের দর্পণে কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট’ বইটি।
আপনার সংগ্রহে আছে তো এই ছোট্ট বইটি?
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কখনো খেয়াল করেছেন—ধীর গতিতে হেটে যাওয়া মানুষটার কপালে চিন্তার ভাঁজ কতটা গভীর? ট্রাফিকের জ্যামে জবুথবু হয়ে বসে থাকা রিকশাচালকটার দিকে তাকিয়ে কি কখনো মনে হয়েছে, লোকটার দিনটা কেমন যাচ্ছে? কিংবা অফিসের ডেস্কে চুপচাপ বসে থাকা কলিগটা, যে হয়তো ভেতরে ভেতরে কোনো এক ঘটনায় ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে?
আজকের জমানায় আমরা বড্ড ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ফেসবুকের টাইমলাইনে আমাদের হাজারটা রিয়্যাকশন, কিন্তু রক্তমাংসের মানুষটার মুখের দিকে তাকানোর ফুরসত আমাদের নেই। আমরা সবাই এক তীব্র প্রতিযোগিতার দৌড়ে শামিল। সেখানে হিংসা আছে, অহংকার আছে, আর আছে তীব্র স্বার্থপরতা।
কারো ভালো দেখলে আজকাল আমাদের বুকটা হাহাকার করে ওঠে, আবার কারো বিপদে আমরা বগল বাজাই। স্বার্থ ছাড়া তো আমরা আজকাল কাউকে একটা মিষ্টি কথাও বলি না! 'নরম ও কোমল আচরণ' কিংবা 'আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব' শব্দগুলো যেন কেবলই প্রাগৈতিহাসিক যুগের কোনো শব্দ—যান্ত্রিক এই সমাজে তার অস্তিত্ব মেলা বড্ড ভার!
অথচ আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী শিখিয়েছেন? ফরজ ইবাদতগুলোর পর আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় আমল কী জানেন?
একজন মুসলিম ভাইয়ের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানো, তার অন্তরে আনন্দ বিলিয়ে দেওয়া। হতে পারে তার কোনো একটা অভাব দূর করে, ঋণ পরিশোধে একটু সাহায্য করে, কিংবা নিছক একটা আন্তরিক সান্ত্বনার কথা বলে। শুনতে কত সহজ না? কিন্তু এই সহজ আমলটাই আজ আমাদের সমাজ থেকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
যান্ত্রিকতার এই দেয়াল ভেঙে চলুন না আজই একজন মুসলিম ভাইয়ের মুখে নিঃস্বার্থ এক চিলতে হাসি ফোটাই। 💛
ছড়িয়ে থাকা এমন অজস্র আমল, যা রবের অত্যন্ত প্রিয় কিন্তু আমরা ভুলে গেছি, সেসব নিয়েই সাজানো ‘রবের প্রিয় আমল’ বইটি।
আপনার সংগ্রহে আছে কি এমন কোনো আমলের সংগ্রহ যা রবের অত্যন্ত প্রিয়?
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…
কারবালা। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক তপ্ত মরুভূমি, বিশ্বাসঘাতকতা আর রক্তাক্ত দিনের কথা। আমরা অনেকেই শব্দটির সাথে পরিচিত হলেও কতটা জানি এ সম্বন্ধে? নাকি যুগ যুগ ধরে চলে আসা কিছু অতিরঞ্জিত গল্প আর কুসংস্কারে আটকে আছে আমাদের পুরো জ্ঞান?
সত্যটাকে একদম নিখাদভাবে জানার তাগিদ থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। @SukunPublishing আয়োজন করতে যাচ্ছে কারবালার ঘটনাকেন্দ্রিক একটি বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতা। নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার আর সত্য ইতিহাসকে বুকে ধারণ করার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে!
প্রতিযোগিতার বিস্তারিত—
• তারিখ: ৩ জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার)
• সময়: সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট
• প্রশ্নের ধরন: ৩০টি এমসিকিউ (MCQ)
• সিলেবাস: যেকোনো রেফারেন্সভিত্তিক কারবালার ইতিহাসের বই।
ইন শা আল্লাহ, নির্ধারিত সময়ে গুগল ফরমের মাধ্যমে কুইজটি নেওয়া হবে, যার লিংক ওইদিন সন্ধ্যার পোস্টে পেয়ে যাবেন।
ওহ হ্যাঁ, সেরা ৫ জন বিজয়ীর জন্য পুরস্কার হিশেবে থাকবে সুকুনের অন্যতম সেরা বই 'সীরাতে ইবনে কাসীর' এবং পরবর্তী যেকোনো একটি অর্ডারে সম্পূর্ণ ফ্রি ডেলিভারি চার্জের সুযোগ!
তাহলে আর দেরি কেন? আজই ইতিহাসের পাতা ওল্টানো শুরু করুন।
আপনার লিস্টের ফ্রেন্ডদের মেনশন করে জানিয়ে দিন এই সুযোগের কথা!
.
সুকুন পাবলিশিং
শব্দে আঁকা স্বপ্ন…
মাঝেমধ্যে ভীষণ ইচ্ছে করে, দূর কোনো দেশ থেকে কেউ একজন আমার নামে একটা চিঠি পাঠাক!
এমন এক যুগে আমার জন্ম, যখন প্রযুক্তির আলোয় চারপাশটা ঝলমল করছে, কিন্তু মনের ভেতরের নব্বই দশকের সেই নস্টালজিয়া, সেই আদিম আবেগগুলো কেমন লুকোচুরি করে! যেন মনে হয়—প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগ সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু ভেতর থেকে খাঁটি অনুভূতিগুলো কেড়ে নিয়েছে। এই ব্যস্ত শহরে আমি যেন প্রতিনিয়ত আমার নিজেকেই খুব মিস করি!
অপরিণত বয়সে একবার এই চিঠি পাওয়ার তীব্র ব্যাকুলতা থেকে নিজেই এক পত্রিকাকে উদ্দেশ্য করে একটা চিঠি লিখে ফেললাম। কত কত আবেগের সাহিত্য মাখা ছিল সেই পাতায়! কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি। সম্ভবত, আমার সেই অবুঝ আবেগভরা চিঠিটা ডাস্টবিনের এক কোণায় জায়গা পেয়েছিল, ক্ষতি নেই তাতে!
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার ইচ্ছেগুলোও রঙ বদলাতে শুরু করল। এক সময় চিঠি পাওয়ার চেয়ে ডাকপিয়নের কাজটার প্রতি আমার এক অদ্ভুত মোহ তৈরি হলো। মনে হতো—কত সুন্দর একটা জীবন! রোজ সকালে ঝোলা কাঁধে বের হওয়া, মানুষের ঘরে ঘরে সুখ-দুঃখের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, কত শত মানুষের সাথে পরিচয় হওয়া!
কিন্তু সমাজ তো আর শখের পেছনে ছুটতে দেয় না। গতানুগতিক ছকের বাইরে গিয়ে কেউ কৃষক, জেলে বা ডাকপিয়ন হতে চাইলে তার কপালে অবহেলাই জুটবে। সবার ইচ্ছের সাথে সুর মিলিয়ে সিদ্ধান্ত হলো—আমি ডাক্তার হব। অথচ আমার বায়োলজি ভালোই লাগত না, কেমিস্ট্রির টাইট্রেশনে কালার চেঞ্জ দেখেই যেন আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতাম!
যাইহোক, সেসব দিনের বয়স এখন পেরিয়ে গেছে। জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় আমি আসলে এখনও নির্দিষ্ট কিছু হয়ে উঠতে পারিনি। আবার অদ্ভুতভাবে, আমি যেন সবার কাছে সবকিছু হয়ে গেছি। কারও কাছে একটা পুরোনো স্মৃতি, কারও কাছে মিষ্টি একটা ডাকনাম, কারও ভালো বন্ধু কিংবা কারও খুব কাছের মানুষ। শুধু... আমি আর আমার নিজের হয়ে উঠতে পারলাম না!
ওহ হ্যাঁ, আসল কথাই ভুলে গেলাম। ইদানীং আবার আমাকে ডাকপিয়নের নেশায় পেয়েছে।
সুকান্তের একটা কবিতা ছিল এমন —
''হাতে লন্ঠন করে ঠন্ঠন্, জোনাকিরা দেয় আলো মাভৈঃ রানার ! এখনো রাতের কালো । এমনি ক’রেই জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে, পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে ‘মেলে’। ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে। অনেক দুঃখে, বহু বেদনায়, অভিমানে, আনুরাগে, ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে। রানার! রানার! এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে? রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে? ঘরেতে অভাব; পৃথিবীটা তাই মনে হয় কালো ধোঁয়া, পিঠেতে টাকার বোঝা, তবু এই টাকাকে যাবে না ছোঁয়া, রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে, দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে। কত চিঠি লেখে লোকে – কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কত দুঃখে ও শোকে । এর দুঃখের চিঠি পড়বে না জানি কেউ কোনো দিনও, এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ, এর দুঃখের কথা জানবে না কেউ শহরে ও গ্রামে, এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে। দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি, – এ-কে যে ভোরের আকাশ পাঠাবে সহানুভূতির চিঠি – রানার ! রানার ! কি হবে এ বোঝা বয়ে? কি হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে?''চিঠি পাওয়ার শখ থেকে যখন আমি এই রানারদের জীবনের ভেতরের গল্পটা জানতে পারলাম, তখন খুব কষ্ট পেলাম। কত তীব্র দায়িত্ব তাদের! পিঠে লাখ টাকার বোঝা, নিজের পরিবারকে সময় দিতে পারে না হয়তো ঠিকঠাক অথচ ক্ষুধার্ত পেটে বুকে প্রাণের ভয় আর দস্যুর আতঙ্ক নিয়ে রাতের অন্ধকারে তাদের ছুটতে হয়! অবশ্য পরে বুঝেছি, আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো জায়গা থেকে এই রানারদেরই মতো! হুট করে একবার মনে হলো, এই ভয় আর বাধা পেরিয়ে অনেক আগেই তো একদল বার্তাবাহক পৃথিবীর বুকে হেঁটে গেছেন, যাঁরা প্রকাশ্য শত্রুর সাথে লড়াই করে মানবজাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বার্তা। হ্যাঁ, আমি সেই মহান বার্তাবাহকদের কথাই বলছি! এই আল্ট্রা-মডার্ন যুগে এসে আমার সমস্ত আগ্রহ যেন আজ আটকে গেছে সেই শ্রেষ্ঠ বার্তাবাহকের জীবনের পাতায়!💛 বুদ হয়ে ভাবতে থাকি—এই আল্ট্রা মর্ডান যুগে আমি কি সেকেলের ডাকপিয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেত পারব? কী মনে হয়, হবে আমাকে দিয়ে? . সুকুন পাবলিশিং শব্দে আঁকা স্বপ্ন...
现已上线!2025 年 Telegram 研究 — 年度关键洞察 
