Al Asar
前往频道在 Telegram
নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিপতিত। তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, পরস্পরকে হকের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়’ (সূরা আসর)
显示更多1 393
订阅者
无数据24 小时
-67 天
-2430 天
帖子存档
1 393
রমাদান প্রস্তুতি শিরোনামে প্রতিযোগিতা।
ভালো কাজের ও গুনাহ ছাড়ার প্রতিযোগিতা।রমাদান প্রায় ১৩৫(+/-) দিন বাকি। হাটি হাটি পা করে এগিয়ে যাচ্ছি রমাদানের কাছে। আর দৃঢ়ভাবে বলতে গেলে কবরের দিকে, মৃত্যুর কাছে। প্রায়ই রমাদানের শুরুটা অনেক কিছু করবো এটার নিয়্যাত থাকলে, আমি হতাশ হই যখন আমার রুটিনে ভাটা পড়ে, এলেমেলো হয়ে যায়। এজন্য ওয়ার্ম আপ জরুরি। অর্থাৎ একমাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে আগে থেকেই শুরু হোক রমাদানের প্রস্তুতি। বিস্তারিত :https://t.me/bataayan/2400
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৯
আসলে রামাদানের প্রস্তুতি কী?
একজনের মুমিনের জীবনে প্রতিদিনই ইবাদত থাকার কথা। এই চেষ্টা রোজ থাকার কথা যে, আমরা খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকবো। ভালো হবো আগের চাইতে। তাই এই রুটিন, এই অভ্যাস- এগুলো এজন্য না যে রামাদানের কয়টা দিন আমরা একেবারে বদলে যাবো, আর তার আগে আর পরে সব যেমন ছিল তেমন চলবে।
এতদিন আমরা যা কিছু নিয়ে কথা বলেছি, হয়ত বা আরো বলবো, এই সবই আমাদের জীবনের অংশ হওয়ার কথা। তাহলে রামাদানের ব্যাপারটা কী?
এই জীবনের অংশ যা কিছু, সেসবের চাইতে বেশি কিছু করা, যেন রামাদান শেষে আবার যখন আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবো, সেটা এখনকার চাইতে আরো উন্নত হয়। রামাদানে একমাস যখন আমরা সত্যিই অনেক চেষ্টা করি ঠিক হয়ে চলতে, সেটা আমাদের আল্লাহর ইচ্ছায় সাহস দেয় বাকি সময়ও আরেকটু চেষ্টা করার।
এই প্রস্তুতি হিসেবেই ভাবতে পারি আমরা, আমাদের কী কী দোষ আছে। আমরা কিন্তু জানি। নিজেদের গুনাহগুলো। সেগুলো লেখার প্রয়োজন নেই কোথাও। কিন্তু নিজের মনে একটা লিস্ট করা যায়। কী কী ত্রুটি নিজেদের মাঝে আমরা আর চাই না। সেটা বাদ দেয়ার জন্য এখন থেকে চেষ্টা করা যায়। সম্পূর্ণ না পারতে পারি। কিন্তু এখন থেকে সেটা নিয়ে সচেতন হলে হতে পারে রামাদানের এক মাস সেসব থেকে দূরে থাকা সহজ হবে? হয়ত রামাদানের পর আমরা এখনকার চাইতে ভালো হবো?
যেমন গীবত। যার এই অভ্যাস আছে, এই দোষ নিয়ে পড়ালেখা করুন। এর গুনাহ কী জানুন। ক্ষতি কী। শাস্তি কী। কিভাবে এর থেকে বাঁচা যায়। কেন বার বার এর মাঝে পড়া হয়? জানলে বের হয়ে আসা সহজতর হবে ইন শা আল্লাহ। তারপর এটা নিয়ে সচেতন থাকা। তারপরও হয়ে যাবে ভুল। আবার তাওবা করা। ঠিক করা। রামাদান যত এগিয়ে আসবে, তত চেষ্টা করা জানতে রামাদানে এই গুনাহের পরিণতি কী? সচেতন হতে চেষ্টা করা আগে থেকে যেন রামাদান আসতে আসতে সচেতন থাকাটা অভ্যাসে পরিণত হয়।
কত রামাদান আসে আর যায়, আমরা ভাবি গীবত মুক্ত রামাদান হোক, কিন্তু হয়না?
এটা একটা উদাহরণ। এরকম আরো অনেক গুনাহ আমাদের আছে। যা সংশোধন করা সম্ভব।
বিষয়টা বলা হয়ত সহজ, করা এত সহজ না। কিন্তু, সহজ না বলে কখনোই যদি আমরা শুরু না করি, তাহলে তো আজীবন এই গুনাহগুলোর মাঝেই থাকতে হবে তাই না? একজন মুসলিম হিসেবে এটা কখনো কাম্য না।
রামাদানকে আমরা একটি লক্ষ্য হিসেবে নিতে পারি, যা শুরু হওয়ার আগেই আমরা এসব গুনাহ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে চেষ্টা করবো। ইন শা আল্লাহ।
https://t.me/WiththeQuran/2275
জীবনকে বানাই যেন রমাদান, তাহলে মৃত্যু হবে যেন ঈদের চাঁদ। ~~~ বান্দা রেজা রাহিমাহুল্লাহ।
1 393
আসসালামু আলাইকুম।
শুরু হচ্ছে *রমাদান প্রস্তুতি* প্রতিযোগিতা।
(ভালো কাজের ও গুনাহ ছাড়ার প্রতিযোগিতা)
নিয়মাবলি : সম্পূর্ণ পোস্টটি ভালো করে পড়ে অংশ নিন।
★প্রতিযোগিতাটি শুধু তাদের জন্যই, যারা হারাম থেকে বেঁচে থাকতে পারছি না, তবুও মনের গহীনে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আছে। ফজর জামাতে পড়তে চাই, তবে অলসতায় চেপে বসে। হ্যাঁ, নিজেকে পরিবর্তন করে আল্লাহর কাছে আসতে চাই, এমন সবার জন্যই এই প্রতিযোগিতাটি।
★২ টি বিভাগে প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হবে।
★কঠিন বিভাগ : যারা টুকটাক প্রাক্টিসিং কিন্তু নিজেকে আরেকধাপ উপরে দেখতে চাই। যেমন : নামাজ পড়ি কিন্তু জামাতে পড়ি না। এবং গুনাহ থেকে পুরাপুরি বেঁচে থাকতে চান।
মধ্যম বিভাগ : যারা প্রাক্টিসিং নন। যেমন : নামাজে নিয়মিত হতে চান এবং হারাম থেকে দূরে থাকতে চান।
★টানা ৪১ এর দিনের রিপোর্টে উল্লেখিত আমলগুলোর হিসাব রাখতে হবে।
★প্রতিযোগিতা শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর।
কঠিন বিভাগ:: ১.তাকবীরুল্লাহর সাথে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে / ফজর নামাজ জামাতে পড়তে হবে। মেয়েদের জন্য আওয়াল ওয়াক্তের (সঠিক সময়ের) মধ্যে নামাজ পড়তে হবে। ২. কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। ৩. ফজরের পরে না ঘুমানো এবং ফজর নামাজ পড়ে কুরআন, তাফসীর ও অর্থ সহ তেলওয়াত করা। মধ্যম বিভাগ:: ১.নামাজ জামাতে পড়া। ২.কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ৩.নিয়মিত কুরআন তেলওয়াত করা। ★প্রতিযোগিতা শুরু হবে আপনি কোড পাওয়ার পরের দিন থেকে। অবশ্যই ২০ অক্টোবরের পূর্বে কোড নিতে হবে। ★সময়সীমা : ২১ অক্টোবর ~ ৩০ নভেম্বর। ৪১ দিন টানা রিপোর্ট রাখতে হবে। একদিন সমস্যা হলেও পরবর্তী দিন মিস করবেন না। চালিয়ে যান। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন। ★সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার রিপোর্ট এর ছবি দিতে হবে। ★ভালো কাজ করার এবং গুনাহ ত্যাগ করার প্রতিযোগিতার কারণে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছ থেকে পুরষ্কার তো পাচ্ছিই। ★ উৎসাহ প্রদানে চ্যানেলের পক্ষ থেকে ৪ জনকে পুরষ্কার দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। তবে স্পন্সর পেলে পুরষ্কার সংখ্যা বাড়তে পারে। সর্বোপরি, আমাদের আমল গুলো হোক শুধু মাত্র আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই। ★কোড পেতে এখানে মেসেজ দিন :: @Alaasaar
1 393
শুরু হচ্ছে *রমাদান প্রস্তুতি* প্রতিযোগিতা।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন: আর তারা সৎকর্মে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে আর এরাই হলো, সৎকর্ম শীল।’ (সূরা: আলে ইমরান, ১১৪) আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে অগ্রসর হও এবং জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২১)
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ’আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, ’আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
1 393
রমাদান প্রস্তুতি ১: সোশাল মিডিয়ার আসক্তি কমানো।
রমাদান প্রস্তুতি ২: ফরজ নামাজের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানো
রমাদান প্রস্তুতি ৩:সুন্নাত, নফল নামাজে( তাহাজ্জুদ, সালাতুত দোহা ইত্যাদি) গুরুত্ব দেওয়া।
রমাদান প্রস্তুতি ৪: কুরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ানো।
রমাদান প্রস্তুতি ৫: কুরআন নিয়মিত পড়া।
রমাদান প্রস্তুতি ৬: নফল সিয়াম রাখা
রমাদান প্রস্তুতি ৭: অর্থ / তাফসির সহ কুরআন পড়া
রমাদান প্রস্তুতি ৮: কোন তাফসীর পড়বো? সে বিষয়ে সুন্দর পরিকল্পনা করা
~~~ With The Quran
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৮
এমন অনেকের হয় যে, রামাদানে তাফসীর পড়ার অনেক ইচ্ছা থাকে কিন্তু,
-প্রথমে পুরা কুরআনের তাফসীর পড়ার টার্গেট নিয়ে শুরু করার পর দেখা যায় সেটা হচ্ছে না।
-যেহেতু সেটা হচ্ছে না, এরপর কতটুকু পড়া হবে, কই থেকে, সেটা বাছাই করতে সময় চলে যায়।
-কেউ কেউ কোন গ্রন্থ থেকে পড়বেন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। একটা শুরু করে দেখেন বেশি সংক্ষিপ্ত, অন্যটা আবার বেশি বড়। কোনোটা কঠিন লাগছে।
-এসব ট্রায়াল এরোর করে করে অনেকের আর তাফসীর পড়া হয়না রামাদানে।
এই বিষয়গুলো নিয়ে রামাদানের আগেই ভাবুন।
প্রথমত কেন তাফসীর পড়তে চাই?
কুরআন বুঝার জন্য। কুরআনের শিক্ষা জীবনে প্রয়োগ করার জন্য। রামাদানে খতম তো না বুঝে অনেক দেয়া সম্ভব। কিন্তু একটু হলেও কুরআন বুঝে পড়ার জন্য।
তিরিশ পারার তাফসীর তিরিশ দিনে পড়ে শেষ করাটা একটু কঠিন। বিশেষ করে যদি তিলাওয়াত আর সালাতে সময় দেয়া হয়। কারো পক্ষে সেটা সম্ভব হলে অবশ্যই করুন। সেই এক্সপেরিমেন্ট রামাদানে শুরু না করে এখন থেকে করুন। দেখুন আসলে কতটুকু পড়তে পারেন দৈনিক।
এই প্র্যাকটিসের মাঝে কোন তাফসীর পড়তে আরাম লাগে সেই এক্সপেরিমেন্ট ও রাখবেন। যারা আগে কখনো তাফসীর পড়েননি, তারা বাংলায় শায়খ ড. আবু বকর যাকারিয়ার তাফসীর পড়তে পারেন। আগে পড়ে থাকলে তাফসীর ইবন কাসীর পড়তে পারেন। ইংলিশে শুধু সংক্ষেপে পড়তে চাইলে "Interpretation of the meanings of the Noble Qur‘an" পড়তে পারেন, ড. মুহাম্মদ মুহসীন খান এবং ড. মুহাম্মদ তকিউদ্দীন আল হিলালি এর। আর আরেকটু বিস্তারিত পড়তে চাইলে তাফসীর আস সা‘দি পড়তে পারেন। অনেক সুন্দর অনুবাদ।
নিজের পড়ার গতি নিয়ে ধারণা পাওয়া আর কী পড়বেন বাছাই করা শেষ হলে, তারপর ঠিক করুন রামাদানে কী পড়বেন। সেটা হতে পারে একটা সূরা- যেমন সূরা আল হুজুরাতের তাফসীর- ভালো করে পড়ে নিজের সামাজিক আচার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার জন্য। হতে পারে সূরা আল কাহফের তাফসীর- প্রতি শুক্রবার যেই সূরা পড়া হয় সেটা নিয়ে জানার জন্য। হতে পারে আমপারার তাফসীর- সালাতে কী পড়ি বুঝার জন্য। হতে পারে শেষ পাঁচ পারার তাফসীর, অথবা অন্য কোনো অংশ থেকে।
প্ল্যানটা এমনও হতে পারে যে, সারা বছরের জন্য একটা প্ল্যান থাকবে তাফসীর পড়ার। রামাদানে সেই প্ল্যানের যেই অংশ পড়বে, সেটাই পড়ে শেষ করবো। যেমন আগামী দুই বছরের প্ল্যান পুরা কুরআনের তাফসীর পরে শেষ করার। এক্ষেত্রে রামাদানে স্বাভাবিক গতিতে পড়া যেতে পারে। যেমন বাকি মাসগুলোতে পড়া হবে।
যেটাই করি, নিজেদের পরিস্থিতি বুঝে আগে থেকেই প্ল্যান করে নিলে রামাদান শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট হবে না, ইন শা আল্লাহ।
https://t.me/WiththeQuran/2275
জীবনকে বানাই যেন রমাদান, তাহলে মৃত্যু হবে যেন ঈদের চাঁদ। ~~~ বান্দা রেজা রাহিমাহুল্লাহ।
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৭
অনেকে বলেন রামাদানে বেশি বেশি কুরআন খতম দিতে। সালাফরা দিতেন। অনেকে বলেন না বুঝে খতম দিতে না থেকে তাফসীর পড়েন। আপনি কোনটা করবেন?
আচ্ছা, এটা নিয়ে এত আগে কথা বলে কী হবে?
ওই যে, পরিকল্পনা করা। আগে থেকে যদি একটা পরিকল্পনা থাকে, প্রস্তুতি নেয়া যায়। অভ্যস্ত হওয়া যায়। নাহলে রামাদানের প্রথম সপ্তাহ কেবল ভাবতে আর "ট্রায়াল এরোর" করতে ব্যয় হবে।
যারা আরবী ভাষা জানেন, কুরআন পড়ে গেলে বুঝেন এবং সাবলীলভাবে কুরআন পড়তে পারেন- তাদের জন্য খতম বেশি দেয়ার দিকে মনোনিবেশ করা অনেক উপকারী। কারণ যখনই তারা পড়বেন তখনই মোটামুটি বুঝবেন আল্লাহ কী বলছেন। যদিও তাফসীরের বিকল্প নেই। সেই প্রসঙ্গে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করবো ইন শা আল্লাহ। এরকম যারা, তারা অন্তত তিনবার খতম দেয়ার টার্গেট রাখতে পারেন।
যারা ভাষা জানেন না, কিন্তু সাবলীলভাবে কুরআন পড়তে পারেন, তারাও কুরআন খতম আর তাফসীর পড়ার একটা সুন্দর প্ল্যান করতে পারেন। যেমন রামাদানে দুই খতম আর নির্ধারিত সময় তাফসীর পড়া।
কুরআন সহজে পড়ে যেতে পারলে খুব বেশি সময় লাগে না। দিনে দুই পারা শেষ করতে এক ঘণ্টা লাগবে।
যারা সহিহ করে পড়তে পারেন কিন্তু পড়তে সময় লাগে, তারা এক খতম দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এটাতেই অনেক সময় চলে যাবে। বাকি সময়টা তাফসীর পড়াতে মন দিতে পারেন।
অনেকে বলেন পূর্ববর্তীরা সব বাদ দিয়ে অজস্র খতম দিতেন তাই কোনদিকে না তাকিয়ে খতম দিন। এটা নির্ভর করবে আপনি কী চান তার উপর। পূর্ববর্তী যাদের উদাহরণ আমরা পাই, তারা তাফসীর জানতেন, ভাষা জানতেন। এমতাবস্থায় যতবার পড়বেন ততবার হৃদয়ে ভালো প্রভাব পড়বে। সোয়াব তো হবেই। যারা ভাষা জানেন না, অর্থ বোঝেন না, তারা পড়ে গেলে সোয়াব হবে ইন শা আল্লাহ। কিন্তু, হৃদয়ের কী হবে?
তাই আপনি যদি শুধু সোয়াবটুকুই চান, তাহলে খতম দিবেন। যদি মনে করেন রামাদান সুবর্ণ সুযোগ আপনার কুরআন পড়ার অভ্যাসকে দৃঢ় করার, তাহলে খতম দিবেন যতবার সম্ভব। কেউ যদি চান অর্থ বুঝতে, কুরআনের শিক্ষা বুঝে এগোতে, তাহলে কুরআন একবার খতম দিন, আর সাথে তাফসীর পড়তে মন দিন।
যেটা আপনার পরিস্থিতিতে, আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী, আপনার জন্য উপকারী, সেটা করুন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।
আগে তাই ভাবুন, ঠিক করুন আপনার জন্য কী করা উপযুক্ত। যেটা বেছে নিবেন, সেই অনুযায়ী প্র্যাকটিস করুন। যিনি অনেকবার খতম দিতে চান তার এখন থেকেই পড়া প্র্যাকটিস করা লাগবে। যিনি একবার খতম দিতে চান তারও চেষ্টা করতে হবে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করার। সেটা কিভাবে করবেন?
একাধিক খতম এর প্ল্যান থাকলে এখন থেকেই দিনে অন্তত ১০ পাতা করে পড়ুন (মাদানী মুসহাফ এর হিসাবে বলছি)। দুই মাসে একবার খতম হবে। তৃতীয় মাসে এক পারা করে পড়ুন দিনে। চতুর্থ মাসে দুই পারা করে, অর্থাৎ দুইবার খতম হবে। পঞ্চম মাসে চেষ্টা করুন আরেকটু বাড়াতে। এরপর রামাদান। তিন পারা ইন শা আল্লাহ অনায়াসে পড়তে পারবেন দিনে। অর্থাৎ অন্তত তিন খতম।
যারা এক পারা করে পড়তে চান রামাদানে, তারা প্রথম দুই মাসে একবার খতম দিয়ে এরপর রামাদান পর্যন্ত মাসে/দেড়মাস এ একবার খতম দিতে চেষ্টা করুন। দেখবেন রামাদানে বিষয়টি সহজ হয়ে আসবে ইন শা আল্লাহ।
আর এই সম্পূর্ণ প্রস্তুতিপর্বে আল্লাহর কাছে অনেক বেশি করে দোয়া করুন, তৌফিক চেয়ে।
https://t.me/WiththeQuran/2275
জীবনকে বানাই যেন রমাদান, তাহলে মৃত্যু হবে যেন ঈদের চাঁদ। ~~~ বান্দা রেজা রাহিমাহুল্লাহ।
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৬
প্রস্তুতি নিয়ে যখন বলা হয়, উদ্দেশ্য এটা থাকে না যে সকলের সব রকম প্রস্তুতি নিতে পারতেই হবে। উদ্দেশ্য থাকে আইডিয়া দেয়া- সব না হোক কিছু হয়ত কাজে আসবে। একেক জনের জন্য একেকটা আইডিয়া সহজ লাগবে, এবং সেই অনুযায়ী কিছুটা প্রস্তুত হওয়া যাবে।
সিয়াম পালন করে যারা খুব অভ্যস্ত না, তাদের রামাদানের প্রথম দুই তিন দিন সিয়ামের ধাক্কা সামলাতে চলে যায়। অনেকে সিয়ামরত অবস্থায় দুর্বল বোধ করেন। অনেকের মাথা ব্যথা করে। এবং বলেন যে কুরআন পড়তে পারছেন না।
কারো কারো ক্ষেত্রে বিষয়টা অভ্যাসের না, যখনই সিয়াম রাখেন তখনই সমস্যা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টা অভ্যাসের। তাই যাদের সিয়াম রাখার অভ্যাস নেই, তারা চেষ্টা করতে পারেন সপ্তাহে একদিন করে হলেও সিয়াম রাখার এখন থেকে। সোমবার। বা বৃহস্পতিবার। অভ্যস্ত হয়ে গেলে দুই দিনই।
এতে কী হবে? সিয়ামের সোয়াব তো হবেই ইন শা আল্লাহ। সিয়ামে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যাবে, ফলে রামাদানের প্রথম দিন গুলো অসুস্থ লাগবে না ইন শা আল্লাহ। আর তাই তখন শরীর খারাপ লাগছে, দুর্বল লাগছে, মাথা ব্যথা করছে বলে কুরআন থেকে দূরে থাকতে হবে না ইন শা আল্লাহ।
https://t.me/WiththeQuran/2275
সিয়ামের অভ্যাসের জন্য : যাদের পক্ষে সম্ভব:: আইয়ামে বীজের ৩টি নফল রোজা রাখতে হবে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর, বৃহস্পতি-শুক্র-শনিবার। আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://muslimsday.com/আইয়ামে-বীজ-রোজার-ফজিলত
জীবনকে বানাই যেন রমাদান, তাহলে মৃত্যু হবে যেন ঈদের চাঁদ। ~~~ বান্দা রেজা রাহিমাহুল্লাহ।
1 393
শুরু হচ্ছে
*রমাদান প্রস্তুতি* প্রতিযোগিতা।
(ভালো কাজের ও গুনাহ ছাড়ার প্রতিযোগিতা।)
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন: আর তারা সৎকর্মে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে আর এরাই হলো, সৎকর্ম শীল।’ (সূরা: আলে ইমরান, ১১৪)
আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে অগ্রসর হও এবং জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২১)
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ’আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, ’আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৫
কুরআন সহিহ করে পড়তে শেখা একটা বিষয়। আর কুরআন নিয়মিত পড়া কিন্তু আরেকটা বিষয়। অনেকে যারা সহিহ করে পড়তে কখনো শিখেছিলেন, নাজেরা করেছিলেন, তারা চর্চার অভাবে সেটা হারিয়ে ফেলতে পারেন। পড়ার মান খারাপ হতে পারে। এরকম কারো হয়ে থাকলে তার উচিত হবে কাউকে নিয়মিত পড়া শোনানো। যেন রামাদানে বেশি করে কুরআন পড়তে পারেন।
-----
কেউ হয়ত সহিহ করে কুরআন পড়তে পারেন। পড়েন ও। কিন্তু এতটা নিয়মিত হয়না যে যেকোনো স্থান থেকে অনায়াসে পড়তে পারবেন, তিনি কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন?
প্রতিদিন যদি পাঁচ পৃষ্ঠা করে কেউ কুরআন পড়া শুরু করেন আগামীকাল থেকে, ইন শা আল্লাহ রামাদানের আগে একটা খতম হয়ে যাবে। পাঁচ পৃষ্ঠা পড়তে এক দিনে কত সময় যায়? খুব বেশি হলে আধ ঘণ্টা। সেটা এত অল্প সময় যে, একবারে বসে পড়ে ফেলা সম্ভব। অথবা প্রতি সালাতের পর এক পৃষ্ঠা করে পড়া সম্ভব। অর্থাৎ প্রতি সালাতের পর পাঁচ মিনিট সময়। কেউ কি বলবেন এই সময়টুকুও বের করা সম্ভব না? না। এটা আমরা কেউ বলবো না ইন শা আল্লাহ।
এভাবে পড়ে লাভ কী?
অভ্যস্ত হওয়া। কুরআন পড়তে। কুরআন নিয়ে বসতে। কুরআন শুদ্ধ করে পড়তে।
এই অভ্যাস আমাদের এমনিতেই থাকা উচিত সারাবছর। রামাদান এ সেটা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার কথা।
সারা বছর কুরআন নিয়ে না বসে রামাদানে শুধু পড়তে গেলে হোঁচট খাওয়া স্বাভাবিক। সেটাই আমরা চাইছি না। আমরা চাইছি আগে থেকে পড়া সুন্দর করতে, পড়ার অভ্যাস করতে যেন কুরআনের মাস আসলে আমরা কোনমতে আটকে আটকে কুরআন পড়ার চাইতে সুন্দর কিছু করতে পারি।
https://t.me/WiththeQuran/2275
জীবনকে বানাই যেন রমাদান, তাহলে মৃত্যু হবে যেন ঈদের চাঁদ। ~~~ বান্দা রেজা রাহিমাহুল্লাহ।
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৪
কুরআন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কালাম। আর আমরা মুসলিম। তারপরও কেন যেন সাধারণভাবে বেশিরভাগ মানুষ কুরআন থেকে অনেক দূরে। পড়া থেকে। বুঝা থেকে। শিক্ষা নেয়া থেকে।
মানুষ যখন অল্প অল্প দ্বীনের দিকে ফিরে, কুরআনের অর্থ বুঝতে চায়। সেটা অনেক প্রশংসনীয় বিষয়। কিন্তু অনেকেই আর সময় করে উঠতে পারেন না কুরআন পড়তে শেখার বিষয়ে। অনেকে খোঁজেন সহজে কোনোভাবে শেখা যায় কিনা। কুরআন শিক্ষার তো কোনো ট্যাবলেট নেই যে রাতারাতি শেখা হয়ে যাবে। তিরিশ সেকেন্ড এর রিল দেখে শেখারও উপায় নেই। এই জায়গায় অনেকে আবার শুরু করতে অস্বস্তি বোধ করেন। ভয় পান। সময় পান না।
ছোট বেলায় মুখস্থ করা সূরা গুলো ছাড়া, আর কিছুই পড়তে পারেন না। অনেকে শুধু মুসহাফের (কুরআনের লিখিত কপি) শেষ পৃষ্ঠা থেকে তিনটা সূরা পারেন। আর কিছু পড়তে গেলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। অনেকে হরফ চেনেন না।
মুসলিম হিসেবে এমন জীবন তো কাম্য না তাই না, যেই জীবনের সৃষ্টি হয়েছিল আল্লাহর ইবাদতের জন্য; অথচ সেই জীবনে আল্লাহর কালাম উচ্চারণ করার আগ্রহ নেই?
রামাদান আসতে এখনও প্রায় পাঁচ মাস বাকি।
যারা কুরআন পড়া ভুলে গিয়েছেন, তারা টিচার খুঁজুন, দৃঢ় নিয়ত করুন কায়দা পড়ে আমপারা সহিহ ভাবে পড়তে শেখার।
যাদের মনে আছে কিভাবে পড়তে হয়, পড়েন কিন্তু উচ্চারণ ঠিক আছে কিনা জানেন না, তারাও কারো কাছে পড়া দিন। যেন কোনো ভুল থাকলে শুধরে নেয়া যায়।
যারা সহিহ করে পড়া শিখেছেন, কিন্তু সূরা তেমন মুখস্থ নেই, তারা মুসহাফ দেখে দেখে নফল সালাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলিয়ে পড়ুন। ওই যে আমরা আগের পোস্টে কিয়ামুল লাইল, সালাতুদ দোহার কথা বলেছিলাম? সেসব সালাতে ফাতিহার পর দেখে দেখে সূরা মিলিয়ে পড়ুন।
এই পাঁচ মাসে, কুরআনের সাথে সম্পর্ক আরো মজবুত করে নিবো আমরা ইন শা আল্লাহ, যেন রামাদানে সেই সম্পর্ক আরো অনেক দৃঢ় হয়।
যারা কুরআন সহিহ করে পড়তে পারেন, নাজেরা করেছেন, তারা কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন? ইন শা আল্লাহ সামনে সেই প্রসঙ্গ আসবে।
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ৩
ফরয সালাত এবং সালাতের পরের যিকির যখন আমরা ঠিকমত করার অভ্যাস করবো, এরপর আমরা মন দিতে পারি সুন্নাহ সালাতের দিকে।
▪️পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সুন্নাহ গুলো অভ্যাস করা। কিছুই পড়ার অভ্যাস না থেকে থাকলে ফজরের ফরয সালাতের আগের দুই রাকাত সুন্নাহ এবং এশার ওয়াক্তে বিতির পড়ার সুন্নাহ। এগুলো ঠিক হয়ে আসলে মাগরিব আর এশার সালাতের পরের দুই রাকাত সুন্নাহ সালাত। সব শেষে যোহরের সালাতের আগের ও পরের সুন্নাহ। সুন্নাহ সালাত কোনো কারণ ছাড়া বসে আদায় করা যায়- সোয়াব কম হবে। কিন্তু আদায় হবে। অলস লাগলে বসে হলেও সুন্নাহ গুলো পড়া, প্রথম দিকে। তারপর ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে সুন্দর করে পড়ার অভ্যাস করা।
▪️যাদের কুরআন মুখস্থ করার অভ্যাস নেই, তাদের ছোট ছোট কিছু সূরা মুখস্থ থাকে। সবদিন একই একই সূরা না পড়ে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়তে পারেন, সালাতে, সূরা ফাতিহা পড়ার পর।
▪️ তাহাজ্জুদে উঠার অভ্যাস না থাকলে এশার সময় বিতির পড়ার আগে দুই রাকাত অথবা চার রাকাত নফল সালাত পড়তে পারেন। সেটা কিয়াম হিসেবে কাউন্ট হবে ইন শা আল্লাহ। (কিয়াম- মাগরিবের পর থেকে ফজরের আগে আদায়কৃত নফল সালাত। তাহাজ্জুদ- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে ঘুম থেকে উঠে আদায় করা হয় যেই সালাত)
তাহাজ্জুদের অভ্যাস থাকলে বা সেই অভ্যাস করে নিলে সবচেয়ে ভালো।
▪️ সালাতুদ দোহা পড়ার অভ্যাস করা যায়। সূর্য ওঠার পনেরো মিনিট পর থেকে নিয়ে জোহরের ওয়াক্তের পনেরো মিনিট আগে পর্যন্ত যেকোনো সময় এই সালাত আদায় করা যায়। দুই রাকাত দিয়েই নাহয় শুরু হোক। পাঁচ মিনিট সময়ও লাগবে না। শুধু অভ্যাস করা লাগবে।
(চলবে)
https://t.me/WiththeQuran/2271
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ২
নিজের সালাতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন। সালাত কি ঠিক আছে? গত রামাদানের পর অনেকের সালাত সুন্দর হয়েছিল। এখনো কি সেরকম আছে?
প্রথমে একদম ফরয সালাতের দিকে তাকিয়ে দেখুন।
ধীরে সুস্থে পড়া হচ্ছে কি?
শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে পড়া হচ্ছে না তো?
সালাতের রোকন, ফরয, এগুলো সুন্দর করে করছেন কি?
সালাতের সুন্নাহগুলো কি করা হচ্ছে নাকি "সুন্নাহ" বলে বাদ চলে যাচ্ছে?
সালাতে আলস্য আসছে না তো?
সালাম ফিরানোর পরের যিকির গুলো করা হচ্ছে তো?
ভাইদের ক্ষেত্রে, মসজিদে জামাত ধরা হচ্ছে তো?
--------
রামাদানের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে সালাত এবং কুরআন পাঠ। এই দুইটা এমন অভ্যাস যা আগে থেকে ঠিক না করলে অর্ধেক রামাদান চলে যায় এসব একটা রুটিনে নিয়ে আসতে। অথচ আগে থেকে কতগুলো অভ্যাস ঠিক করা হলে রামাদানের সময় আর মনোযোগ- আমাদের হারিয়ে ফেলা অভ্যাস ঠিক করতে নষ্ট হয়না। সেই সময়টা আরো সুন্দর করে কাটানো যায়।
তাই আমরা একেবারে ফরয সালাত ঠিক করা দিয়ে শুরু করবো ইন শা আল্লাহ।
(গতদিন রামাদানের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা বলেছিলাম সোশ্যাল মিডিয়ার একাউন্ট যথাসাধ্য বন্ধ করার কথা। অনেকেই যারা বন্ধ করেছেন আগে, জানিয়েছিলেন যে আর সালাতে দাঁড়িয়ে অস্থিরতা, তাড়াহুড়া থাকে না। এটাও স্মরণ রাখার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করার অনুরোধ রইলো।)
https://t.me/WiththeQuran/2271
1 393
রামাদানের প্রস্তুতি ১
এই প্রসঙ্গে কথা এবার বেশি আগে শুরু হয়ে গেল তাই না?
গত রামাদানের পর অনেকে জানিয়েছিলেন মোবাইল আসক্তির কারণে তাদের রামাদান সুন্দর ভাবে পার হয়নি। অনেক কষ্টের কথা। সারাবছরের অপেক্ষা। আর ঠিক সেই সময়েই পদস্খলন।
তাই মনে হলো এবার একটু আগে থেকেই এই বিষয়ে কথা শুরু হোক।
পদস্খলন কিভাবে হয়?
ইদানিং প্রচুর মানুষের বর্ণনায় যা বুঝা যায়, সেটা হলো ভালো উদ্দেশ্যে স্ক্রল করতে গিয়েও পদস্খলন হয়। কী রকম?
মনে করুন কেউ এমনিই ঢুকেছিল ফেসবুকে অথবা ইনস্টাগ্রামে। ধরুন রান্না দেখতে। একটা ভিডিও শেষ হতে আরেকটা চলে এসেছে। সেটা কোনো মুভির ক্লিপ। না চাইতেও একটু দেখা হয়ে গিয়েছে। হয়ত বর্তমানে চলছে এমন কোনো মুভি বা হঠাৎ trending আগের কোনো মুভির ক্লিপ। বেশ কয়েকবার চোখে পড়লো। কয়েকবার সামনে আসার কারণে নামটাও জানা হয়ে গিয়েছে মুভির। সিন টা ভালো লাগছে। এবার মন চাইলো একটু সার্চ দিয়ে দেখতে। ট্রেলার দেখে আরো ভালো লাগলো। মন চাইলো দেখতে। দেখা হলো। অনুশোচনা হলো। কিন্তু আবার কিছু একটা করতে গিয়ে আরেকটা রিল আসলো। এবার সেটা কোনো ড্রামার দৃশ্য। একটু মুসলিম মুসলিম লাগছে- ভদ্র। "মুসলিমদের" ড্রামা। কিছুক্ষণের জন্য শয়তান ভুলিয়ে দিবে যে, ভদ্র হলেও সেটা অশ্লীলতা। হারাম। এবার ওটা খুঁজে দেখা। এগুলো আবার অল্প দেখায় শেষ হয়ে যায় না। অজস্র পর্ব। এবার অভ্যাস হয়ে গেল দেখার। একটা থেকে আরেকটা। অনুশোচনা এখনও আছে। কিন্তু পাপ থেকে সরে থাকার মজবুত মনটা কেমন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
গতবার যারা মন খারাপ করে নিজেদের অধঃপতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন, এভাবেই দিয়েছেন। কিভাবে একটু একটু করে হারিয়ে ফেলে মানুষ নিজেকে। অতঃপর সালাতে তাড়াহুড়া। সুন্নাহ বাদ দেয়া। কুরআনে সময় না দেয়া। ড্রামা এমন জায়গায় এসে থামলো, যে রামাদানে না দেখলে পর্ব মিস।
এই বিষয়টা থেকে রামাদান এ না শুধু, সবসময়ই সতর্ক হওয়া উচিত।কারণ, মৃত্যুর তো কোনো নির্দিষ্ট মাস নেই!
যাদের এধরনের সমস্যা নেই, তাদের জন্যও কিন্তু সময় নষ্ট এক অনেক বড় সমস্যা। এই অযথা স্ক্রল করার অভ্যাস রামাদানের অনেক অমূল্য মুহূর্ত ছিনিয়ে নেয়।
তাহলে কী করণীয়?
এই একাউন্টগুলো বন্ধ করে দিন। যেকোনো আসক্তির মত প্রথম প্রথম খারাপ লাগবে। তারপর দেখবেন, এসব ছাড়া চলা যায় এবং খুব ভালোই চলা যায়। অ্যাপ মুছে দিন। যেন অন্যমনস্ক হয়ে সেসবে ঢুকতে না পারেন।
এই চেষ্টা এখন থেকে শুরু হোক। ইন শা আল্লাহ আমরা অনেক সুন্দর একটি রামাদান পাবো সামনে।
https://t.me/WiththeQuran/2271
