ch
Feedback
জ্ঞান - Knowledge

জ্ঞান - Knowledge

前往频道在 Telegram

🙂🙂🙂

显示更多
1 961
订阅者
+124 小时
-37 天
-1030 天
帖子存档
চোখের সামনে চল্লিশের আশেপাশের মানুষগুলা ফট করে মরে যাচ্ছে। এদের অনেকেই মিড ক্যারিয়ারে আছে। ছোট ছোট বাচ্চা। সবার অনেক অনেক দায়িত্ব। ঘর সামলাও, চাকরি সামলাও, বাচ্চা সামলাও। তার সাথে আছে ফ্যামিলির নানা ইস্যু। সেভিংস নিয়ে চিন্তা। আরো কত কি? হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। কিন্তু আমার ছোট্ট জ্ঞানে বলে, কিছু না করে ভাগ্যকে মেনে নেয়া স্রেফ বোকামি। নিজেকে বাঁচাতে আমাদের অবশ্যই সিস্টেম তৈরি করতে হবে, এবং সেগুলা মানার চেষ্টা করতে হবে। ১। রেগুলার হেলথ চেকআপ করানো - প্রতি ছয় মাসে সকল বডি ভাইটালস চেক করুন। ব্লাড লিপিড প্রোফাইল, সুগার লেভেল, কিডনি হেলথ, এসব কড়া নজরে রাখুন। সবকিছু খুলে আলোচনা করা যায় এমন একজন যোগ্য ও ধৈর্যশীল ডাক্তার রাখুন। সুস্থ থাকলেও বছরে দুইবার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের মন গলাতে তাকে গিফট দিন। বাঙালি ছেলেরা অতি অবশ্য ইন্সুলিন রেসিস্ট্যান্স এবং লিপিড পার্টিকেল সাইজ টেস্ট করান এবং সময় নিয়ে ডাক্তারের সাথে রেজাল্ট এর সিগনিফিকেন্স নিয়ে আলোচনা করুন। ৫-১০ মিনিটের ভিজিটে এই কম্ম হবে না। ২। এক্সারসাইজ - শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নাই। আপনার টাকা-পয়সা কোনো কাজে আসবেনা যদি আপনি নাই বেঁচে থাকেন। সব বাদ দিয়ে হলেও সপ্তাহে ২০০ মিনিট হাঁটুন। ডেইলি ৫ মিনিটের জন্যে হলেও হৃদপিন্ডের গতি ১৪০-১৬০ রেঞ্জে নিয়ে যান। ৩। খাওয়া- ব্যালান্সড খাওয়া খুবই ইম্পর্টান্ট। চল্লিশের পরে ছেলেদের টেস্টেস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে থাকে। মাসল লস হয়, চুল পড়ে যায়। এই সময়ে যদি বিশ বা ত্রিশের মতো হাবিজাবি খেতে থাকেন তা আপনার জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনবে। কেউই বাজে খাবার খেতে চায় না। পরিস্থিতির চাপে পড়ে খায়। অফিসে অনেক কাজ। ব্যাস একপ্লেট বিরিয়ানি এনে খেলাম। এটা না করে প্রতি বেলার খাওয়ার একটা সুনির্দিষ্ট প্ল্যান এবং একটি ব্যাকআপ প্ল্যান করুন। মনে রাখবেন, আপনার কি খাওয়া দরকার এটা আপনার থেকে ভালো ভাবে কেউ এনফোর্স করতে পারবেনা। পারলে খাওয়া বানানোর দায়িত্বটা নিজের হাতে তুলে নিন। ৪। সাপ্লিমেন্টেশন - আপনার ভাইটালস এর সাথে ভিটামিনস এবং মিনারেলস লেভেল চেক করুন। এস্পেশালি ভিটামিন ডি। অভিজ্ঞ ডায়েটিশিনের সাথে যোগাযোগ করে আপনার সাপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান কনফার্ম করুন। মনে রাখবেন আমাদের ভালো থাকা বা না থাকা সব হরমোনের খেল। কোয়ালিটি সাপ্লি আপনার হরমোনের দরজা খুলে দিতে পারে। ৫। ঘুম- উপরে আল্লাহ, আর নিচে ঘুম। বউয়ের সাথে ঝগড়া হইসে, ঘুমায়ে যান। বস বকা দিসে, ঘুমায়ে যান। ফোন বন্ধ করে বাথরুমে রেখে আসুন। সবচেয়ে আরামের চাদর বিছান। সবচেয়ে প্রিয় বালিশ, কোলবালিশ রাখুন পাশে। অনেক তো ছাড় দিলেন অন্য সবার জন্যে। এই বিছানার রাজত্ব নিজের হাতেই রাখুন। কোনো বিশ্বকাপ, ইলেকশন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ আপনার ঘুমের চেয়ে বেশি ইম্পর্টান্ট না। স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে কিনা পরীক্ষা করান। থাকলে সিপ্যাপ ব্যবহার করুন। ৬। ওষুধ - আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে বড় হইছি- ম্যালেরিয়া হলে পরে, কুইনিন দেয় তারে গিলিয়ে। এই ওষুধ ভীতিই আমাদের চল্লিশের ঘরের মানুষের অকাল মৃত্যুর মূল কারণ। শারীরিক সমস্যা করো অল্প বয়সে হতেই পারে। এটা লজ্জার কিছু না। তাই বলে আমি বীরপুরুষ সেজে ওষুধ খাবো না, টুপ করে মরে যাবো, এর মতো বোকামি আর হয়না! ওষুধের সাইড এফেক্ট নিয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। একটা গেমপ্ল্যান সেট করুন। ৭। স্ট্রেস এন্ড এক্সপেকটেশন ম্যানেজমেন্ট- একটা 'সো হোয়াট' মেন্টালিটিতে চলে যান। ইউং বলেছেন-- আমরা ছোটবেলা থেকে অভিনয় করতে করতে 'ইগো' নামক যেই মুখোশটা পরে ফেলেছি, সেই মুখোশটা বাঁচাতেই আমাদের অবিরাম চেষ্টা। ইগোর বাইরে আসার চেষ্টা করুন। জীবনটা সহজ হবে। প্রয়োজনে সোলো ট্রিপ দিন। টক্সিক মানুষদের পজ বাটন টিপে দিন। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করান। দরকার হলে অ্যান্টি অ্যাংজাইটি বা অ্যান্টি ডিপ্রেশন মেডিকেশন নিন। রিমেম্বার, নো ট্যাবু অন নেসেসারি মেডিকেশন। প্রকৃতি আর জন্তু-জানোয়ারের মাঝে থাকুন। এরা মানুষ থেকে বহুত ভালো। লিখেছে: Shams Tanvir

কথোপকথনের সময় বোঝা গেল, তার ভয় স্বাস্থ্য নিয়ে নয়; বরং বন্ধুদের কথায় মনে হয়েছে— 👉“ছোট বুক মানেই আমি কম আকর্ষণীয়।” এই জায়গাতেই মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা শুরু হয়। যখন শরীরের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যকে সমাজ “দুর্বলতা” হিসেবে দেখায়, তখন ব্যক্তি নিজের শরীরের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। অথচ বিজ্ঞান বলছে — বুকের সাইজ কোনো ব্যক্তির নারীসত্তা, মাতৃত্ব বা স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে না। বরং নিজের শরীর নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 🛑🛑6️⃣ নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মসম্মানের লড়াই শরীর নিয়ে negative মন্তব্য ধীরে ধীরে আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে যায়। 🔹 Social Comparison “ইনস্টাগ্রামে সবাই আমার চেয়ে ভালো”—এমন অনুভূতি অনেক তরুণীর মধ্যেই দেখা যায়। 🔹 Self-objectification “আমি আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে বিচার করি”—এই অভিজ্ঞতা কাউন্সেলিংয়ে খুব সাধারণ। 🔹 Relationship Insecurity “আমার শরীর হয়তো যথেষ্ট নয়”—এই ভয় intimacy anxiety তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো 👉 depression 👉 body shame 👉 emotional withdrawal বাড়াতে পারে। 🛑🛑7️⃣ বাস্তব কাউন্সেলিং অভিজ্ঞতা — “সাইজ বাড়ানোর উপায় বলুন” 🔹 একজন স্কুলশিক্ষিকা বলেছিলেন— “বিয়ের কথা চলছে… আত্মীয়রা বলছে একটু মোটা হলে ভালো লাগবে।” 🔹 একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী— “আমি জিম করছি শুধু সাইজ বাড়ানোর জন্য।” 🔹 আরেকজন কর্মজীবী নারী— “অনলাইনে অনেক ক্রিম দেখি… মনে হয় ব্যবহার না করলে আমি কম হয়ে যাব।” এই কথাগুলো দেখায় — অনেক সময় শরীর পরিবর্তনের ইচ্ছা আসে না নিজের চাহিদা থেকে, বরং বাইরের অনুমোদনের জন্য। কাউন্সেলিংয়ের লক্ষ্য হলো— ব্যক্তিকে নিজের কারণ বুঝতে সাহায্য করা। 🛑🛑8️⃣ সমাজ ও সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ 👉 পরিবার ও সমাজ 1️⃣ Body-shaming বন্ধ করুন 2️⃣ শিশুদের শেখান — মানুষ তার চরিত্রে মূল্যবান 👉 সম্পর্কের ভেতরে 3️⃣ তুলনা নয়, appreciation 4️⃣ emotional safety-ই আসল আকর্ষণ 👉 নারীর নিজের জন্য Psychological Self-Help Toolkit 5️⃣ নিজের শরীরকে “বাসস্থান” হিসেবে দেখুন 6️⃣ প্রতিদিন নিজের সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বাক্য বলুন 7️⃣ সোশ্যাল মিডিয়া comparison trigger করলে digital break নিন 8️⃣ নিজেকে প্রশ্ন করুন — “আমি কি নিজের জন্য বদলাচ্ছি?” 🛑🛑 Counselling Psychologist পেইজ Perspective নারীর বুকের সাইজ কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এটা মানুষের শরীরের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। যে সমাজ একজন নারীকে শুধুমাত্র শরীর দিয়ে বিচার করে— প্রকৃত অর্থেই সে সমাজ তার মেধা, শক্তি ও মানবিকতাকে উপেক্ষা করে। সত্যিকারের সম্পর্ক তৈরি হয় 👉 সম্মান থেকে 👉 বোঝাপড়া থেকে 👉 মানসিক নিরাপত্তা থেকে কাউন্সেলিংয়ে আমরা প্রায়ই দেখি— যখন একজন নারী নিজের শরীরকে গ্রহণ করতে শেখেন, তখন তার আত্মবিশ্বাস শুধু নিজের জীবনেই নয়, তার চারপাশের সম্পর্কেও আলো ছড়িয়ে দেয়। 🔻🔻 মনে রাখবেন — আপনি আপনার শরীরের মাপ নন। আপনি একটি সম্পূর্ণ মানুষ — চিন্তা, অনুভূতি, শক্তি ও সম্ভাবনার সমন্বয়। 🔯🔯আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে। পোস্টটি Save করুন — ভবিষ্যতে মনে করিয়ে দেবে, আপনি কোনো মাপ নন… আপনি একজন সম্পূর্ণ মানুষ। 👉 Follow: Counselling Psychologist কারণ এখানে পাবেন — মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, বাস্তব কাউন্সেলিং ইনসাইট, সম্পর্ক, আত্মসম্মান ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতনতা যদি আরও গভীরভাবে মানসিক সাপোর্ট, আলোচনা ও guidance পেতে চান এবং যে কোনো মানসিক সমস্যার সচেতনতা ও সহায়তার জন্য 👉 আমাদের Telegram Support Group-এ যুক্ত হন। লিংক কমেন্টে দেওয়া আছে। 👇

“আমি জানি না এটা বলা ঠিক কিনা… কিন্তু আমার বুক ছোট। আমি কি কম আকর্ষণীয়?” কথাটা কাউন্সেলিং রুমে এক তরুণী আকুতি। তার প্রশ্নটা শুধু ব্যক্তিগত ছিল না—এটা ছিল সমাজের তৈরি ভয়, তুলনা আর অদৃশ্য চাপের প্রতিফলন। আজকের সোশ্যাল মিডিয়া যুগে অনেক মেয়েই মনে করেন— 👉“আমার বুক ছোট, তাই হয়তো আমি কম আকর্ষণীয়।” এই চিন্তাটা হঠাৎ তৈরি হয়নি। এটা এসেছে মিডিয়া ইমেজ, পুরুষের চাহিদা নিয়ে ভুল ধারণা, এবং শরীরকে মূল্যায়নের বিকৃত সামাজিক মানদণ্ড থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — 👉 গবেষণা কি সত্যিই বলে বড় বুক মানেই বেশি মূল্য বা বেশি আকর্ষণ? চলুন ধাপে ধাপে দেখি — বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক বাস্তবতা কী বলছে। 🛑🛑1️⃣ সংস্কৃতি ও মিডিয়া কীভাবে “বড় বুক”কে স্ট্যান্ডার্ড বানিয়েছে মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে নারীর শরীরকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে দেখিয়েছে। 👉 সিনেমা, বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অনেক সময় এমন শরীরকেই “আইডিয়াল” বানায়, যা বাস্তবে অধিকাংশ মানুষের সঙ্গে মেলে না। মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটাকে বলা হয় Objectification — যেখানে নারীকে একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং শরীরের অংশ দিয়ে বিচার করা হয়। 🔎 গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি body-objectification অনুভব করেন, তাদের মধ্যে ✔️ self-doubt ✔️ anxiety ✔️ body dissatisfaction বেশি দেখা যায়। 🔯 Brain Insight (মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা) সোশ্যাল মিডিয়ায় “পারফেক্ট” শরীরের ছবি দেখলে মস্তিষ্কের reward system সক্রিয় হয়। ডোপামিন রিলিজের কারণে মানুষ সেই ইমেজকে স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করে। ফলে বাস্তব শরীরকে অনেক সময় কম আকর্ষণীয় মনে হয়—যদিও সেটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। 📌 Reality vs Social Myth ❌ Myth: মিডিয়ায় যেটা বেশি দেখানো হয় সেটাই সুন্দর ✔️ Reality: মিডিয়া beauty standard তৈরি করে, বাস্তবতা নয় 🛑🛑2️⃣ “সব ছেলে বড় বুক পছন্দ করে” — এই ধারণা কতটা সত্য? বাস্তবতা হলো — পুরুষদের পছন্দ একরকম নয়। বিভিন্ন ক্রস-কালচারাল স্টাডিতে দেখা গেছে: 👉 অনেক পুরুষ মাঝারি সাইজ বা প্রাকৃতিক শেপকে বেশি পছন্দ করেন। 👉 দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাইজ নয়, emotional connection বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: মানুষের আকর্ষণ শুধু শারীরিক নয় — ✔️ আচরণ ✔️ আত্মবিশ্বাস ✔️ হাসি ✔️ যোগাযোগ দক্ষতা এসবই আকর্ষণের বড় অংশ। অর্থাৎ “ছেলেদের চাহিদা” একরকম নয় — বরং সমাজ সেটা একরকম করে দেখায়। 🔯 পুরুষদের জন্য ছোট বার্তা একজন পুরুষ যখন শরীর নিয়ে তুলনা করে, তখন সে শুধু মন্তব্য করে না—সে একজন নারীর আত্মসম্মানে আঘাত করে। সত্যিকারের masculinity আসে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্যে, বিচার করার মধ্যে নয়। 🛑🛑3️⃣ বিভিন্ন দেশের সমীক্ষা — নারীরা নিজের শরীর নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট? একটি বড় আন্তর্জাতিক গবেষণায় (৪০+ দেশ) দেখা যায় — ✔️ প্রায় ৪৭% নারী মনে করেন তাদের বুক বড় হলে ভালো হতো ✔️ প্রায় ২৩% নারী আবার ছোট করতে চান ✔️ মাত্র ৩০% নারী নিজের সাইজে সন্তুষ্ট এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — 👉 অসন্তুষ্টি শুধু এশিয়া বা ভারত নয়, ইউরোপ ও আমেরিকাতেও সমানভাবে দেখা যায়। অর্থাৎ সমস্যা “সাইজ” নয় — সমস্যা হলো সমাজের তুলনা সংস্কৃতি (comparison culture)। 🔯 Psychological Insight যখন মানুষ বারবার তুলনা করে, তখন মস্তিষ্ক threat signal পাঠায়— 👉“আমি কি যথেষ্ট নই?” এই প্রশ্ন থেকেই insecurity শুরু হয়। 🛑🛑4️⃣ কোন দেশের নারীদের বুক বড় — এই আলোচনা কতটা বৈজ্ঞানিক? ইন্টারনেটে প্রায়ই দেখা যায় — “এই দেশের মেয়েদের বুক বড়”, “ওই দেশের ছোট” — এমন তালিকা। ⚠️ কিন্তু বেশিরভাগ তালিকা বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে নয়। কারণ — ✔️ ব্রা সাইজ দেশভেদে আলাদা ✔️ অনেক সময় self-report ভুল হয় ✔️ শরীরের গঠন BMI, জেনেটিক্স ও পুষ্টির উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানীরা বলেন — 👉 শরীরের গড় বৈশিষ্ট্য অঞ্চলভেদে বদলাতে পারে, কিন্তু সেটা দিয়ে কোনো নারীর মূল্য নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। 📌 Reality Check ❌ Myth: নির্দিষ্ট দেশের মেয়েরা বেশি আকর্ষণীয় ✔️ Reality: আকর্ষণ সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিগত—শুধু সাইজ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না 🛑🛑5️⃣ শারীরিক স্বাস্থ্য — ছোট বুক নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা সমাজে এখনও অনেক জায়গায় এমন একটি ভুল বিশ্বাস প্রচলিত আছে— 👉“ছোট বুক মানেই স্বাস্থ্য খারাপ” বা “ছোট বুক হলে দুধ কম হয়।” বাস্তবে স্তনের সাইজ নির্ভর করে মূলত ফ্যাট টিস্যুর উপর, আর দুধ উৎপাদন নির্ভর করে গ্ল্যান্ডুলার টিস্যু ও হরমোনের উপর। অর্থাৎ বাহ্যিক আকার বড় হলেই যে মাতৃত্বের সক্ষমতা বেশি হবে, এমন কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কাউন্সেলিং রুমে প্রায়ই এমন প্রশ্ন শোনা যায়— 👉 “আমার বুক ছোট… ভবিষ্যতে কি সমস্যা হবে?” 👉 “আমি কি কোনোভাবে সাইজ বাড়াতে পারি? সবাই বলে এটা জরুরি।” একজন কলেজ পড়ুয়া তরুণী একদিন খুব দ্বিধা নিয়ে বলেছিলেন— 👉“ইউটিউবে অনেক ভিডিও দেখি, সেখানে নানা ব্যায়াম বা ক্রিম দেখায়। সত্যিই কি এগুলো কাজ করে?”

আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দান করুন। যেন আমরা একে অপরের সাথে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারি। আমিন। #পরিবার #শান্তি #সমাজ #কুরআন #ইসলাম #আল্লাহ #ঈমান #ইসলামিকপোস্ট #ভালোবাসা #ক্ষমা #সদ্ব্যবহার #মুসলিম #ইসলামিকজ্ঞান #সম্প্রীতি

৬. মানুষের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া সওয়াবের কাজ। সূরা: আল-হুজুরাত | আয়াত: ৯ আরবি: وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا ۖ فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَىٰ فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّىٰ تَفِيءَ إِلَىٰ أَمْرِ اللَّهِ ۚ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا ۖ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ. বাংলা অর্থ: আর যদি মুমিনদের দুটি দল যুদ্ধে লিপ্ত হয় তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর বাড়াবাড়ি করে তবে যে দল বাড়াবাড়ি করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না সে আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে মীমাংসা করো এবং ইনসাফ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন। অনুপ্রেরণা: পরিবার বা সমাজে যখন কারো মধ্যে ঝগড়া হয় তখন সেটা মিটিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা যদি ন্যায়ভাবে মীমাংসা করি তাহলে শান্তি ফিরে আসে। ঝগড়া বাড়ানো নয়, বরং সমাধান খুঁজে দেওয়াই মুমিনের কাজ। ৭. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা সবার দায়িত্ব। সূরা: আলে ইমরান | আয়াত: ১১০ আরবি: كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ۗ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم ۚ مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ. বাংলা অর্থ: তোমরা সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত তাহলে তাদের জন্য মঙ্গল হতো। তাদের মধ্যে কিছু মুমিন আছে কিন্তু তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। অনুপ্রেরণা: সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা যদি একে অপরকে সঠিক পথ দেখাই তাহলে সমাজ থেকে অন্যায় কমে যাবে এবং শান্তি বৃদ্ধি পাবে। ৮. মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। সূরা: আল-হুজুরাত | আয়াত: ১০ আরবি: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ. বাংলা অর্থ: নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই। সুতরাং তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও। অনুপ্রেরণা: ঈমানের বন্ধন রক্তের সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী। আমরা সবাই এক ভাই। তাই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হলে তা মিটিয়ে দেওয়া আমাদের কাজ। এই ভ্রাতৃত্ববোধ থাকলে সমাজে শান্তি ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। ৯. কাউকে উপহাস বা ঠাট্টা করা নিষিদ্ধ। সূরা: আল-হুজুরাত | আয়াত: ১১ আরবি: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَىٰ أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَىٰ أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ. বাংলা অর্থ: হে ঈমানদারগণ! কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষদের উপহাস না করে, হতে পারে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরা যেন অন্য নারীদের উপহাস না করে, হতে পারে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপনামে ডাকো না। ঈমানের পর পাপাচার কতই না মন্দ নাম। আর যারা তওবা করে না তারাই জালিম। অনুপ্রেরণা: পরিবার ও সমাজে অশান্তির একটা বড় কারণ হলো একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা করা, অপমান করা। আল্লাহ এটা নিষেধ করেছেন। আমরা যদি সবাইকে সম্মান করি এবং কারো দুর্বলতা নিয়ে হাসি না করি তাহলে সমাজে শান্তি বজায় থাকবে। ১০. অনুমান ও গীবত থেকে দূরে থাকা জরুরি। সূরা: আল-হুজুরাত | আয়াত: ১২ আরবি: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ. বাংলা অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ। আর তোমরা গোপনীয়তা অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। অনুপ্রেরণা: পরিবার ও সমাজে অশান্তির সবচেয়ে বড় কারণ হলো খারাপ ধারণা করা এবং পরচর্চা। আমরা যদি কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা না করি, তাদের দোষ খুঁজতে না যাই এবং গীবত না করি তাহলে সম্পর্ক ভালো থাকবে এবং চারদিকে শান্তি বিরাজ করবে।

পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক কুরআনের ১০টি আয়াত ১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া আল্লাহর নিদর্শন। সূরা: আর-রুম | আয়াত: ২১ আরবি: وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ. বাংলা অর্থ: তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য নিদর্শন রয়েছে। অনুপ্রেরণা: পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া। আল্লাহ নিজেই এই দুটি গুণ আমাদের মাঝে রেখেছেন। যখন আমরা একে অপরের প্রতি মমতা ও সহানুভূতি দেখাই তখন ঘরে শান্তি নেমে আসে। ২. পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ইবাদত। সূরা: আল-ইসরা | আয়াত: ২৩ আরবি: وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا. বাংলা অর্থ: তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া কারো ইবাদত করো না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। অনুপ্রেরণা: পরিবারে শান্তির জন্য পিতামাতার সাথে সম্মান ও ভালোবাসার সম্পর্ক খুবই জরুরি। তাঁরা বৃদ্ধ হলে আরও বেশি যত্ন ও মমতার প্রয়োজন। আমরা যদি তাঁদের সাথে কোমলভাবে কথা বলি এবং সেবা করি তাহলে ঘরে বরকত আসবে এবং শান্তি বিরাজ করবে। ৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ফরজ। সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ১ আরবি: يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا. বাংলা অর্থ: হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে তার সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দুজন থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার সম্পর্ককেও ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক। অনুপ্রেরণা: পরিবার ও সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই একই মূল থেকে এসেছি। তাই আমাদের একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। ৪. ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সূরা: আশ-শুরা | আয়াত: ৪০ আরবি: وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ. বাংলা অর্থ: মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ। কিন্তু যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে। নিশ্চয়ই তিনি জালিমদের পছন্দ করেন না। অনুপ্রেরণা: পরিবার ও সমাজে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। কিন্তু আমরা যদি ক্ষমা করতে শিখি এবং সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করি তাহলে শান্তি বজায় থাকবে। প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাই আসল শক্তি এবং আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন। ৫. প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করা আবশ্যক। সূরা: আন-নিসা | আয়াত: ৩৬ আরবি: وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا. বাংলা অর্থ: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার করো পিতামাতার সাথে, আত্মীয়স্বজনের সাথে, ইয়াতিম, মিসকিন, নিকটবর্তী প্রতিবেশী, দূরবর্তী প্রতিবেশী, পাশের সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাধীনদের সাথে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। অনুপ্রেরণা: সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মীয় হোক বা অপরিচিত, কাছের হোক বা দূরের, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। এভাবেই আমরা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে পারি।

যদি আপনি নিজের জীবনের অগ্রাধিকার নিজে ঠিক না করেন, তবে অন্য কেউ তা আপনার ওপর চাপিয়ে দেবে। • আপনি সব কিছু করতে পারবেন না; তাই কোনটা বাদ দেবেন তা বেছে নেওয়াই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা। • 'Priority' শব্দটি যখন প্রথম ইংরেজিতে আসে, তখন এটি ছিল একবচন; অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ একটিই হয়। • যখন আমরা কোনো কিছুতে 'না' বলতে পারি না, তখন আমরা অজান্তেই আমাদের নিয়ন্ত্রণ অন্যদের হাতে তুলে দিই। • কম কাজ করা মানে অলসতা নয়, বরং সঠিক কাজে আপনার পূর্ণ শক্তি বিনিয়োগ করা। • জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল সরাতে হলে আপনাকে 'হয়তো কোনোদিন কাজে লাগবে'—এই মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। • ৭. যদি কোনো কাজ করার ব্যাপারে আপনার উত্তর 'অবশ্যই হ্যাঁ' না হয়, তবে সেটা সরাসরি 'না'। • অনেক সময় কিছু পাওয়ার চেয়ে কিছু হারানো বা ছেড়ে দেওয়া আপনার উন্নতির জন্য বেশি জরুরি। • একই সঙ্গে অনেক দিকে এক ইঞ্চি এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে, একদিকে দশ ফুট এগিয়ে যাওয়া অনেক বেশি ফলপ্রসূ। • বিরতি নেওয়া বা ঘুমানো বিলাসিতা নয়; এটি আপনার মেধার ওপর বিনিয়োগ, যা আপনাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে। • প্রতিটি বড় অর্জনের পেছনে অনেকগুলো ছোট ছোট 'না' বলার গল্প থাকে। • আমরা প্রায়ই এমন সব জিনিসের পেছনে সময় নষ্ট করি যা আসলে আমাদের জীবনের বড় লক্ষ্যগুলোর সাথে যুক্ত নয়। • জীবনকে সহজ করা মানে কোনো কাজ না করা নয়, বরং জীবনের উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করা। • ব্যস্ত থাকা মানেই উৎপাদনশীল হওয়া নয়; অনেক সময় ব্যস্ততা হলো লক্ষ্যহীনতার লক্ষণ। • আপনার সময় এবং শক্তি সীমিত; তাই এগুলোকে যত্রতত্র খরচ না করে কেবল সেরা কাজের জন্য জমিয়ে রাখুন। • প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করুন—আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কী? এবং সেটিই আগে করুন। • 'না' বলাটা শুরুতে কঠিন হতে পারে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে অন্যদের সম্মান ও নিজের শান্তি এনে দেবে। • অতীতে কী হারিয়েছেন বা কতটা সময় নষ্ট করেছেন তা না ভেবে, বর্তমানে আপনার হাতে থাকা অপশনগুলো নিয়ে ভাবুন। _______ Source: Essentialism

বিখ্যাত বিনিয়োগকারী চার্লি মুঙ্গার তার দীর্ঘ জীবনে যে ১০টি আত্ম-শৃঙ্খলার নিয়ম মেনে চলতেন, সে বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হলো৷ • ১. অসাধারণ হওয়ার চেয়ে বোকামি এড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। মুঙ্গার বিশ্বাস করতেন যে, খুব বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার চেষ্টার চেয়ে ধারাবাহিকভাবে বোকামি না করাটা দীর্ঘমেয়াদে বেশি ফলদায়ক। তিনি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতেন না এবং যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই, সেখানে পা বাড়াতেন না। ২. বুদ্ধিমত্তার আগে মেজাজ বা স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করুন। অত্যধিক বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও অনেক সময় ভুল করেন যদি তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে না থাকে। মুঙ্গারের মতে, ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং প্রতিকূলতায় মাথা ঠান্ডা রাখাটা আইকিউ (IQ)-এর চেয়েও বেশি জরুরি। ৩. উপার্জনের চেয়ে কম খরচ করুন এবং জমানো টাকা বিনিয়োগ করুন। এটি সম্পদ গড়ার মূল ভিত্তি। মুঙ্গার এবং ওয়ারেন বাফেট দুজনেই তাদের সারা জীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় টাকা নষ্ট না করে সেই টাকা বিনিয়োগ করা উচিত। ৪. আজীবন শেখার মানসিকতা রাখুন। মুঙ্গার নিজেকে একটি 'লার্নিং মেশিন' মনে করতেন। তিনি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ওই দিনের চেয়ে একটু বেশি জ্ঞানী হয়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। প্রচুর বই পড়া ছিল তার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। ৫. সব বিষয়ের সেরা ধারণাগুলো আয়ত্ত করুন। শুধুমাত্র একটি বিষয়ে (যেমন অর্থনীতি বা ব্যবসা) দক্ষ হওয়া যথেষ্ট নয়। মুঙ্গার মনোবিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং ইতিহাসের মতো বিভিন্ন বিষয়ের মূল সূত্রগুলো বোঝার ওপর জোর দিতেন, যাকে তিনি 'মেন্টাল মডেল' বলতেন। ৬. হিংসা, ক্ষোভ এবং আত্ম-করুণা বর্জন করুন৷ মুঙ্গার মনে করতেন হিংসা হলো সবচেয়ে বোকামিপূর্ণ পাপ, কারণ এতে কোনো আনন্দ নেই, শুধু কষ্ট আছে। তেমনি নিজের ভাগ্যের ওপর দোষারোপ বা আত্ম-করুণা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। ৭. প্রচণ্ড ধৈর্য ধরুন, কিন্তু সুযোগ এলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। তিনি বলতেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় চুপচাপ বসে থাকা এবং সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় থাকা প্রয়োজন। কিন্তু যখনই কোনো ভালো সুযোগ সামনে আসত, তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বড় বিনিয়োগ করতেন। ৮. ক্ষতিকর বা বিষাক্ত (Toxic) মানুষদের দ্রুত ত্যাগ করুন। যারা মিথ্যা বলে বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তাদের জীবন থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া উচিত। পরিবেশ এবং সঙ্গী ভালো না হলে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া কঠিন। ৯. উল্টোভাবে চিন্তা করুন। কোনো বিষয়ে সফল হওয়ার উপায়ের চেয়ে সেটি কেন ব্যর্থ হতে পারে—তা নিয়ে আগে ভাবতেন তিনি। যে কাজগুলো করলে জীবন বা ব্যবসা ধ্বংস হতে পারে, সেগুলো আগে তালিকাভুক্ত করে বর্জন করাই ছিল তার কৌশল। ১০. বাস্তবতাকে মেনে নিন, বিশেষ করে যখন তা অপ্রিয়৷ অনেকে নিজের ভুল স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু মুঙ্গার বিশ্বাস করতেন, বাস্তবতা যত কঠিনই হোক না কেন, তা মেনে নেওয়া উচিত। কোনো বিষয়ে নিজের মত দেওয়ার আগে তিনি সেই বিষয়ের বিপক্ষ যুক্তিগুলোও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতেন। ____ চার্লি মুঙ্গারের এই নিয়মগুলো পালনের জন্য কোনো অতিমানবীয় মেধার প্রয়োজন নেই। এগুলো মূলত যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলার খেলা। যা প্রতিদিন একটু একটু করে অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করা সম্ভব।

নামাজে দাঁড়ালেই কি আপনার মন দুনিয়ার হাজারটা চিন্তায় হারিয়ে যায়? পড়াশোনা বা কাজেও আগের মতো ফোকাস পান না? আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ভাই-বোন এই অভিযোগটি করেন— "মন সবসময় ছটফট করে। নামাজ, পড়াশোনা, ব্যবসা বা অফিস—কোথাও আমার মন স্থির থাকে না।" চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে আমরা 'অ্যাটেনশন ডেফিসিট' (মনোযোগের ঘাটতি) বলি, আপনি কি জানেন, পবিত্র রমাদানের ২০ রাকাত তারাবীহ হতে পারে আপনার এই বিক্ষিপ্ত মনকে স্থির করার এক অভাবনীয় আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র? কীভাবে এই অনুশীলন করবেন? নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার সর্বোচ্চ স্তর হলো ‘ইহসান’। বিখ্যাত 'হাদিসে জিবরীল'-এ রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহসানের সংজ্ঞায় বলেছেন: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» অর্থ: "(ইহসান হলো) তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (অন্তত এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে) তিনি তোমাকে দেখছেন।" (সহীহ বুখারী: ৫০; সহীহ মুসলিম: ৮) তারাবীহর দীর্ঘ সময়টিতে আপনাকে এই ইহসানের অনুশীলন করতে হবে। যখন ইমাম সাহেব তিলাওয়াত করবেন, শয়তান বা নফস বারবার আপনার মনকে দুনিয়ার চিন্তায় নিয়ে যেতে চাইবে। এটাই স্বাভাবিক। আপনার কাজ হলো— যখনি খেয়াল করবেন মন ছুটে গেছে, ঠিক তখনি সজ্ঞানে তাকে আবার এই অনুভূতির দিকে ফিরিয়ে আনা যে, "আল্লাহ আমাকে দেখছেন।" এখানে একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি— নামাজ কোনো মেডিটেশন বা নিছক মনোযোগ বাড়ানোর টুল নয়। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং অন্তরে 'খুশু-খুজু' বা একাগ্রতা অর্জন। তবে, রবের সন্তুষ্টি অর্জনের এই নিরন্তর চেষ্টার একটি জাদুকরী 'বাই-প্রোডাক্ট' (By-product) বা দুনিয়াবী উপহার রয়েছে। আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, মনকে এভাবে বারবার টেনে আনার এই ঐকান্তিক চেষ্টাই আপনার মস্তিষ্কের 'প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স'-কে শক্তিশালী করে। টানা ৩০ দিন যদি আপনি তারাবীহতে নফসের সাথে এই 'মনোযোগ ধরে রাখার জিহাদ' চালিয়ে যেতে পারেন, তবে ঈদের পর আপনি নিজেই চমকে যাবেন! দেখবেন— খুশু-খুজু অর্জনের পাশাপাশি নামাজের বাইরেও আপনার ফোকাস করার ক্ষমতা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে। পবিত্র রমাদান মাস এভাবেই আমাদের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা কাটানোর এক বিশাল সুযোগ। শুধু ফোকাস নয়, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীরে যে 'অটোফ্যাজি' (Autophagy) প্রক্রিয়া চালু হয়, তা বছরের পর বছর ধরে পেটে জমে থাকা জাদুর বিষক্রিয়া এবং নেতিবাচক এনার্জিকে প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সঠিক একটি রুটিন এবং গাইডলাইনের অভাবে আমরা অনেকেই রমাদানের এই শক্তিশালী হিলিং বা আরোগ্য ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারি না। রমাদানের এই প্রতিটি মিনিটকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আপনি নিজেই নিজের আত্মিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করবেন—সেই পথ দেখাতেই দীর্ঘ গবেষণার পর আমরা নিয়ে এসেছি একটি মাস্টার-গাইডলাইন: বই: রমাদান: রুকইয়াহ ও লাইফস্টাইল (আত্মশুদ্ধি, সেলফ রুকইয়াহ ও সুস্থতার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন) লেখক: রাকী আব্দুল মালেক (সিনিয়র রাকী, মাসনুন লাইফ) প্রকাশনায়: মাসনুন লাইফ এই বইটিতে আপনি যা পাচ্ছেন: সাহরী থেকে তাহাজ্জুদ পর্যন্ত একজন ভুক্তভোগী রোগীর ২৪ ঘণ্টার পুঙ্খানুপুঙ্খ রুটিন। বিজ্ঞান ও সুন্নাহর আলোকে পেটের জাদু নষ্ট করার ন্যাচারাল ডিটক্স প্রক্রিয়া। ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক ও দুর্বল রোগীদের জন্য সাহরী ও ইফতারের বিশেষ 'হিলিং ডায়েট'। জাদুর উৎস খোঁজার আমল, টার্গেটেড সেলফ-রুকইয়াহ এবং রুকইয়াহ গোসলের নিখুঁত নিয়ম। লা'নত দেওয়ার প্রপার নিয়ম। রমজান শেষে শয়তানের পাল্টা আক্রমণ থেকে বাঁচতে ঈদের দিনের রেড অ্যালার্ট ও এক্সিট প্ল্যান। সাথে থাকছে প্রতিদিনের আমল মিলিয়ে দেখার জন্য চমৎকার একটি "আমল ট্র্যাকার"! যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে অজানা অসুস্থতা, জিন-জাদু বা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন, অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে এই রমাদানে আপনি নিজেই হয়ে উঠুন নিজের চিকিৎসক। ডেলিভারি আপডেট: রমাদানের এই বরকতময় আমলগুলো যেন আপনি শুরু থেকেই সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য রমাদানের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই বইটি অত্যন্ত যত্নসহকারে আমরা আপনার হাতে তুলে দেব, ইনশাআল্লাহ। স্টক ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আপনার কপিটি আজই সংগ্রহ করুন। অর্ডার সংক্রান্ত আপডেড পেতে WhatsApp-এ ম্যাসেজ দিন: +8801605365301 অথবা, সরাসরি আমাদের হটলাইনে কল করুন: 09666815313 (সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত) #RamadanTip #FocusInSalah #SelfHealing #Ruqyah #MasnoonLife #RaqiAbdulMalek #রমাদান_রুকইয়াহ_ও_লাইফস্টাইল

আমি যদি কখনো দেখি আমার ছেলে আমাকে তার স্ত্রীর ওপর প্রায়োরিটি দিচ্ছে, আমি সেদিন মা হিসেবে নিজেকে একজন failed parent মনে করবো। এখন একদল এসে বলবে, ব্যালেন্স করে চলা কেন শেখাবেন না? ব্যালেন্স একটা বুলশিট আইডিয়া। এটা বহু আগেই প্রমাণিত যে ছেলেরা ব্যালেন্স করতে গিয়ে ওয়াইফের হক নষ্ট করে। এই ব্যালেন্স করতে গিয়ে ছেলেরা বউয়ের জন্য কিছু কিনতে গেলে, বউকে সময় দিতে গেলে, বউকে নিয়ে ঘুরতে গেলে হয় মাকেও প্যাকেট করে নিয়ে যায়, নাহলে অপরাধবোধে ভোগে, এখানে মায়েরও হক আছে মনে করে। ব্যালেন্স করার কিছু নাই। স্ত্রীর পাশে কাউকে রাখাই যাবে না, ব্যালেন্সের প্রশ্ন তো পরে। আপনাকে অনেক ক্ষেত্রে prioritize করতেই হবে। গাড়ির পাশের সিটটায় তার বউই বসবে। খাবার টেবিলে পাশের জায়গা বউয়েরই থাকবে। তার মানিব্যাগে, বেডরুমে তার ওয়াইফের ছবি থাকবে। কোন ইভেন্টে পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রে আগে ওয়াইফ প্রায়োরিটি পাবে। ওয়াইফের ওপর হাজবেন্ড এবং হাজবেন্ডের ওপর ওয়াইফের হক সব দিক থেকে আগে। সন্তানেরও আগে। এখন দুই লাইন বেশি বোঝাদের জন্য একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করি, প্রায়োরিটি দেয়া মানে বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন না করা না। আপনার সামর্থ্য থাকলে নিশ্চয়ই পালন করুন। বরং ছেলে মেয়ে সবার করা উচিত বলে আমি মনে করি। প্রয়োজন বুঝে বাবা মাকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রায়োরিটি দেয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেটা প্রয়োজন হলে, নিয়মিত আপনার পার্টনার, সন্তানের অধিকার খর্ব না করে। আমি মনে করি আমার ছেলের প্রতি আমার দায়িত্ব আর আমার প্রতি তার দায়িত্ব কখনোই সমান না। বাবা মা হিসেবে আমার সন্তানকে মানুষ করা আমার দায়িত্ব, বদলে তার কাছে আমি মানবিকতা, ভালোবাসা, সম্মান ছাড়া কিছুই আশা করি না। আমার ছেলে যদি তার ওয়াইফের জন্য কিছু কিনতে গেলে প্রতিবার তার মায়ের কথা মনে পড়ে, মনে হয় মাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, আমার জন্য সেটা চরম লজ্জার ব্যাপার হবে। আমার ছেলে যদি বউয়ের সাথে ঘুরতে গিয়ে মনে করে "মাকে আনা উচিত ছিল" আমি ভীষণ disappointed হব। আমার ছেলে যদি নিজের ওয়াইফের জন্য দামী কিছু কিনে আমার কাছে লুকানোর প্রয়োজন মনে করে, ভাবে মা জানলে কষ্ট পাবে, আমি সেদিন প্যারেন্ট হিসেবে ফেইল করবো। আমার সন্তানের রোজগারে আমি কখনো নিজের বিন্দুমাত্র অধিকার আছে বলে দাবি করবো না। এবং আমি এমন ভাবতে পারার সাহস পাই কারণ আমি এমন একজন পুরুষকে বিয়ে করেছি যে আমাকে আমার অধিকার দেয়ার সাহস রাখে। যেসব নারী নিজের হাজবেন্ডের কাছ থেকে প্রাপ্য অধিকার, সম্মান পায় না, তারাই মূলত ছেলেকে প্রক্সি হাজবেন্ড/pseudo husband বানিয়ে রাখতে চায়। ছেলের থেকে সেসব চাহিদা সে পূরণের আশা রাখে যা পূরণের দায়িত্ব মূলত তার হাজবেন্ডের ছিল। নোংরা শোনাচ্ছে না? তাহলে কাজটা কতটা অন্যায় ভেবে দেখুন। আমার ছেলে আমার সোনার আংটি না। আমার ছেলে আমার সোনার ডিম পাড়া হাঁস না। আমার ছেলে আমার লাইফটাইম ইনভেস্টমেন্ট না। সে তার মতো আলাদা মানুষ। তার নিজের জীবন সে নিজের মতো করে সাজাবে। মেয়ে সন্তানকে বোঝা ভাবা বন্ধ করুন। ছেলে সন্তানের ঘাড়ে বোঝা হওয়ার চিন্তা বাদ দিন। সময় থাকতে নিজেকে প্রায়োরিটি দিন, নিজের যত্ন নিন, নিজের ভবিষ্যতের জন্যও সম্পদ জমান। Fariha Rashid Parenting page: The Cycle Breaker Mom

৩. অন্ধ আনুগত্য নয়, প্রশ্ন করতে শেখান: "আমি বড়, তাই আমি যা বলছি সেটাই করতে হবে"—এই ডিক্টেটরশিপ থেকে বেরিয়ে আসুন। বাচ্চাকে শেখান কেন একটি নিয়ম মানতে হবে। তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিন। যে বাচ্চা ঘরের ভেতরে নিরাপদ পরিবেশে বাবা-মায়ের সাথে যুক্তি বা তর্ক করতে শেখে, সে-ই বাইরের পৃথিবীতে নিজের অধিকার নিয়ে দাঁড়াতে পারে। ৪. মতামতের মূল্য দিন: ছোট ছোট বিষয়ে তার মতামত নিন। "আজ আমরা কোন রঙের জামাটা পরব?" বা "দুপুরে তুমি কী খেতে চাও?"—এই ছোট সিদ্ধান্তগুলো তাকে বোঝাবে যে তার নিজস্ব পছন্দের একটি মূল্য আছে। পরিশেষে আমরা এমন একটি সমাজ চাই না যেখানে শিশুরা ভয়ে চুপ থাকতে শেখে। আমরা চাই এমন সন্তান, যে বড়দের সম্মান করবে ঠিকই, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়। যে নিজের সীমানা বা বাউন্ডারি তৈরি করতে জানবে এবং অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে দৃঢ়কণ্ঠে বলতে পারবে—"না, আমি এটা চাই না।" আপনার সন্তানের সেই সাহসের ভিত গড়ার কাজটা শুরু হোক আপনার ঘর থেকেই। 📣 প্যারেন্টিং বিষয়ক যেকোনো পরামর্শ ও হাজারো মায়ের অভিজ্ঞতা পেতে জয়েন করুন আমাদের Kidora - Parenting Club ফেইসবুক গ্রুপে!

'বাধ্য সন্তান' তৈরির ভয়ংকর রূপ: আপনার সন্তান কি সবার মন জোগাতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে (People Pleaser)? ...... পারিবারিক কোনো আড্ডায় হয়তো একজন বয়স্ক আত্মীয় আপনার সন্তানকে জোর করে কোলে নিতে চাইলেন বা চুমু খেতে চাইলেন। বাচ্চাটি অস্বস্তিতে গুটিয়ে গেল এবং 'না' বললো। কিন্তু মা হিসেবে আপনি হয়তো সাথে সাথে ধমক দিয়ে উঠলেন, "ছিঃ বাবা, আঙ্কেল কষ্ট পাবে তো! ভালো বাচ্চারা বড়দের সব কথা শোনে। যাও আঙ্কেলের কাছে যাও।" আমাদের সমাজে 'বাধ্য সন্তান' বা 'গুড বয়/গুড গার্ল'-কে সবচেয়ে বেশি বাহবা দেওয়া হয়। যে বাচ্চা কখনো মুখে মুখে তর্ক করে না, নিজের খেলনা হাসিমুখে অন্যকে দিয়ে দেয়, এবং বড়দের সব কথা অন্ধের মতো মেনে নেয়—তাকে আমরা আদর্শ সন্তান মনে করি। কিন্তু শিশু মনোবিজ্ঞান আমাদের এক ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এই যে আমরা বাচ্চাদের নিজের ইচ্ছা বা অস্বস্তিকে গলা টিপে মেরে অন্যের মন রক্ষা করতে শেখাচ্ছি, এর মাধ্যমে আমরা আসলে একজন 'পিপল প্লিজার' (People Pleaser) তৈরি করছি। আজকের কিডোরা স্পেশাল আর্টিকেলে আমরা জানবো, অতিরিক্ত বাধ্য করার এই প্রবণতা কীভাবে আপনার সন্তানের আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। পিপল প্লিজার (People Pleaser) আসলে কী? ভদ্র হওয়া বা অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া চমৎকার একটি গুণ। কিন্তু 'পিপল প্লিজার' হওয়াটা কোনো ভালো গুণ নয়, বরং এটি এক ধরনের মানসিক ট্রমা রেসপন্স (Trauma Response), যাকে সাইকোলজির ভাষায় বলা হয় ফনিং (Fawning)। পিপল প্লিজার শিশুরা মনে করে, তাদের নিজস্ব কোনো মূল্য নেই। অন্যকে খুশি করতে পারলেই কেবল তারা ভালোবাসা বা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। বাবা-মা বা চারপাশের মানুষকে রাগিয়ে দেওয়ার ভয়ে তারা নিজেদের কষ্ট, রাগ বা অপছন্দকে লুকিয়ে রাখে। তারা 'না' বলতে ভুলে যায়। অন্ধ আনুগত্য বা 'গুড বয় সিনড্রোম'-এর ভয়ংকর পরিণতি আপনার কাছে যে বাচ্চাটি আজ খুব 'শান্ত ও বাধ্য', কাল বাইরের পৃথিবীতে সে এক ভয়ংকর বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। এর মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো হলো: ১. অ্যাবিউজ বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি: সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটি হলো, অ্যাবিউজার বা শিকারিরা এমন বাচ্চাদেরই টার্গেট করে যারা 'না' বলতে পারে না। যে বাচ্চাকে শেখানো হয়েছে 'বড়দের সব কথা শুনতে হয়', কেউ তার সাথে খারাপ বা অস্বস্তিকর স্পর্শ (Bad Touch) করলেও সে প্রতিবাদ করতে পারে না। সে ভাবে, প্রতিবাদ করলে হয়তো বড়রা রেগে যাবে বা সে 'খারাপ বাচ্চা' হয়ে যাবে। ২. বুলিং ও টক্সিক সম্পর্ক (Toxic Relationships): স্কুলে বা খেলার মাঠে এই বাচ্চারা খুব সহজেই বুলিংয়ের শিকার হয়। বন্ধুরা তাদের খেলনা কেড়ে নিলেও তারা কিছু বলে না, কারণ তারা সংঘাত (Conflict) এড়িয়ে চলতে চায়। বড় হয়েও ব্যক্তিগত জীবনে বা কর্মক্ষেত্রে তারা টক্সিক সম্পর্কের ফাঁদে পড়ে। বস বা পার্টনারের সব অন্যায় তারা মুখ বুজে সহ্য করে শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য। ৩. নিজস্ব পরিচয় হারিয়ে ফেলা (Loss of Identity): এই শিশুরা জানে না তারা নিজেরা কী চায়। তাদের নিজেদের কোনো বাউন্ডারি বা সীমানা থাকে না। সারাজীবন অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে একসময় তারা চরম বিষণ্ণতা (Depression) এবং মানসিক ক্লান্তিতে (Burnout) ভোগে। আপনার সন্তান কি পিপল প্লিজার হয়ে যাচ্ছে? (লক্ষণসমূহ) নিচের লক্ষণগুলো আপনার সন্তানের মধ্যে আছে কি না, খেয়াল করুন: * সে কি নিজের কোনো ভুল না থাকলেও কথায় কথায় 'সরি' (Sorry) বলে? * অন্য বাচ্চারা তার সাথে অন্যায় করলেও কি সে প্রতিবাদ না করে চুপ থাকে? * সে কি খুব সহজে নিজের মতামত বদলে ফেলে শুধু অন্যদের সাথে তাল মেলানোর জন্য? * বাবা-মা রেগে গেলে বা একটু মন খারাপ করলে কি সে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে? * সে কি নিজের কষ্ট বা শারীরিক ব্যথা লুকিয়ে রেখে বলে, "আমি ঠিক আছি"? কীভাবে এই চক্র ভাঙবেন? (বাবা-মায়ের করণীয়) আপনার সন্তানকে রোবটের মতো 'বাধ্য' নয়, বরং একজন আত্মবিশ্বাসী ও সম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। এর জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে: ১. 'না' বলার অধিকার দিন (Normalize Saying 'No'): আপনার সন্তানের 'না' শব্দটিকে সম্মান করতে শিখুন। সে যদি কোনো আত্মীয়কে জড়িয়ে ধরতে না চায়, তাকে জোর করবেন না। তার শরীরের ওপর তার অধিকার (Body Autonomy) প্রতিষ্ঠা করতে দিন। সে যদি তার প্রিয় খেলনাটি আজ অন্য কোনো বাচ্চার সাথে শেয়ার করতে না চায়, তাকে 'স্বার্থপর' বলবেন না। ২. শর্তহীন ভালোবাসা (Unconditional Love): বাচ্চাকে বোঝান যে আপনি তাকে ভালোবাসেন শুধু সে আপনার কথা শোনে বলে নয়। তাকে বলুন, "তুমি যখন রেগে যাও বা যখন আমার কথা শোনো না, তখনও আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার ভালোবাসা তোমার রেজাল্ট বা আচরণের ওপর নির্ভর করে না।"

দিন ২/৩০ — (রমাদান চ্যালেঞ্জ: ৩০ দিনে ৩০ দোয়া) আমাদের দুশ্চিন্তার বড় একটা জায়গা হলো রিজিক। আর এই দুশ্চিন্তা থেকেই অনেক সময় মানুষ হালাল–হারামের সীমা গুলিয়ে ফেলে। আজকের দোয়া আপনাকে দুটো জিনিস শেখায়— হালালেই তৃপ্তি চাইতে, আর মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি চাইতে। আপনি যখন এই দোয়া পড়বেন, শুধু “রিজিক বাড়ুক” বলবেন না— বলবেন: হালালেই আমাকে যথেষ্ট করে দিন, এবং আপনার ফজলে আমাকে স্বাধীন করে দিন। اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনী বি হালালিকা ‘আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বি ফাদলিকা ‘আন্মান সিওয়াক। রেফারেন্স: জামে‘ আত-তিরমিজি

কুয়াশা যতোই পরিবেশ ঝাঁপসা করে রাখুক, উজ্জ্বল সূর্য ওঠার সাথেসাথে তা ম্লান হয়ে যায়, পরিবেশের স্বচ্ছতা ফুটে ওঠে। তদ্রুপ, মিথ্যা যতই সত্যকে ঢাকা দিতে চাইবে তা ততই উজ্জ্বল করে জ্বলে উঠবে। সত্যকে কেউ ধমাতে পারে না, সত্যের কোনো সমর্থক লাগে না, সত্য একাই নিজেই নিজের সমর্থক। Ruhul Amin

বুদ্ধ বলেন- "যা তোমার নয়, তুমি নও, তা ছেড়ে দাও, আর ছেড়ে দেওয়াতেই সুখ" (ত্রিপিটক, সংযুক্তনিকায়) অন্যের কোনোকিছুকে নিজের করে চাওয়া, নিজের ভাবা, এক অদৃশ্য সীমা পুতে দেওয়া, অধিকারীত্ব বা দখলদারিত্ব দেখানো সবই এক অষ্টমাশ্চর্য মিথ্যা। এই চরম সত্যজ্ঞান প্রতিটা মানুষের ভেতর আছে, প্রতিটা মানুষের মনে বুদ্ধের এরূপ বীজ বোনা আছে, পবিত্র প্রদীপ জ্বলে। কিন্তু সব জেনে-বুঝেও কেউ স্বীকার করতে চায় না, কেউ তার দূর্বলতা প্রকাশে অনিচ্ছুক, সবাই চায় বাহিরে একটা বুজরুকি বোঝ দিয়ে শান্ত রাখে। যদি একটা অক্টোপাস বা রাসেল ভাইপারের মতো বিষধর সাপ একটা ধারালো তলোয়ারে পেঁচিয়ে ধরে, আরও শক্ত করে ধরে, সমস্ত ইচ্ছা, আবেগ, শক্তি-ক্ষমতা প্রয়োগে পেঁচিয়ে ধরে, তাহলে অক্টোপাস বা রাসেল ভাইপার নিজেই নিজের শক্তিতে রক্তক্ষয়ী হবে, একটা সময় মারা যাবে। তদ্রুপ, বুদ্ধের দৃষ্টিতে মানুষও ঐ অক্টোপাস বা সাপের মতোই যা তার নয় নয়, সেখানে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে বশে আনতে চেয়ে নিজের মৃত্যু ডেকে আনে। বুদ্ধ বলেন- এই রূপ, শরীর, শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, দুঃখ-শোক, ব্যথা, রোগ, ধারণা, ধারণ, চেতনা, বোধ, সম্পর্ক, ভালোবাসা, স্নেহ কোনোকিছুই প্রকৃত অর্থে তোমার না। তাই সেসবে নিজেকে জড়িয়ে বস্তাবন্দী করা বোকামী, কারণ এগুলো চলমান অন্তবিহীন পথ, বহমান নদীর মতো, তাকে গন্তব্যের দিকে ছেড়ে দিতে হয়। মানুষ মূলত খানিক সুখের জন্য জড়িয়ে গিয়ে প্রকৃত সুখ বিক্রি করে। ব্যাপার যেন স্বর্ণের মোহর ফেলে দস্তার সস্তা আঁদুলি কুঁড়ে নিলো। কিন্তু বুদ্ধ বলেন- ছাড়ো, ছাড়ো, ছাড়ো, তোমার যা নয় তা ছেড়ে দিলেই সুখ।

"মানুষ আজ ঈশ্বরকে ধর্মগ্রন্থে বন্দি করে নিজেরাই তাঁর আসন দখলে নিয়েছে। এখন সেই ঈশ্বরের কারামুক্তির জন্য নতুন করে আন্দোলন করতে হবে। ওরা বলে- ওদের মুক্তি আর আমি বলি- ঈশ্বরমুক্তি" - বয়ানে রুহুল আমিন

সত্য জানার চেয়েও প্রকাশ করা কঠিন, বিশেষ করে এই বাংলাদেশে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত রোজা কাজা করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে তা কাজা করে নিবে। এটাই অধিক সতর্কতামূলক অবস্থান। ➧ (৫) রোজা অবস্থায় অসতর্কতা বশত কোনও কিছু খেলে বা পান করলে রজা ভঙ্গ হয় না। তবে স্মরণ আসার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করতে হবে। এমনকি মুখে থাকলেও তা ফেলে দিতে হবে। ➧ (৬) নারীদের পিরিয়ড বা সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব: রোজা থাকা অবস্থায় দিনের যেকোনো সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। ❑ ৫. যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে (৫টি শ্রেণি): ✪ ১. অসুস্থ ব্যক্তি: যদি রোজা রাখার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সুস্থ হলে তা কাজা করবেন। ✪ ২. মুসাফির: সফরের কারণে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। তবে কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। ভাঙ্গলে পরবর্তীতে তা কাজা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআালা বলেন, وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ "আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা সফরে আছে (সে অন্য সময়ে কাজা করবে)।" [সূরা আল বাকারা: ১৮৫ ✪ ৩. ঋতুমতী ও প্রসূতি নারী: মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্রাব চলাকালীন সময় (সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন) রোজা রাখা আবশ্যক নয়। রোজা অবস্থায় স্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে স্বয়ংক্রিয় রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে রমজানের পরে আগামী রমজানের পূর্বে তা কাজা করে নিতে হবে। ✪ ৪. গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী মা: যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে তার তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাজা করবেন। তবে যদি কোনও ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে তবে রোজা রাখা মুস্তাহাব। ✪ ৫. অতিবৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদী রোগী: যারা একেবারেই রোজা রাখতে সক্ষম নন তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদ্রব্য (ফিদিয়া যার পরিমাণ সোয়া কেজি চাল) দিতে হবে। ❑ ৬. রোজার মূল শিক্ষা ও উদ্দেশ্য: ❍ ১. তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জন: রোজার প্রধান এবং মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের মনে আল্লাহর ভয় বা সচেতনতা সৃষ্টি করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ "হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" [সূরা বাকারা: ১৮৩] ❍ ২. নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ (আত্মশুদ্ধি): সারাদিন নিজের বৈধ চাহিদা (খাবার ও পানীয়) পরিহার করার মাধ্যমে একজন মুমিন তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। এটি মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। ❍ ৩. ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা: ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে রোজাদার ধৈর্যের গুণ অর্জন করে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসকে "ধৈর্যের মাস" হিসেবে অভিহিত করেছেন। ❍ ৪. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ: অনাহারে থাকার যন্ত্রণা অনুভবের মাধ্যমে সমাজের অভাবী ও দরিদ্র মানুষের কষ্টের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। এটি দান-সদকা ও মানুষের সেবায় উৎসাহিত করে। ❍ ৫. আখলাক বা চরিত্রের সংশোধন: রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা, গিবত করা বা ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক। রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ "যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ বর্জন করেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনও প্রয়োজন নেই।" [সহিহ বুখারী: ১৯০৩] ❍ ৬. শারীরিক সুস্থতা: চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, যা সুস্থতার জন্য সহায়ক। এ ছাড়াও অনেক উপকার আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ "আর তোমাদের রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পারো।" [সূরা বাকারা: ১৮৪] আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতির আলোকে সিয়াম পালনের তওফিক দান করুন এবং তা কবুল করুন। আমিন। লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব #abdullahilhadi