কওমি মাদ্রাসার হুজুররা আর কতদিন আন্দোলন আর দাবি দাওয়া পেশ করবেন?
এবার ভিন্ন পথে হাটার চিন্তা করেন, হয় নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার যুগ্য লোক তৈরি করেন, অথবা আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন,যেটা থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার নিজস্ব লোক তৈরি হয়, এছাড়া নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাড়াবে।
মনে রাখবেন, সুন্নত আর নফলের উপর আমল করা জরুরি নয়, বড় পাঞ্জাবি আর টুপি পরিধান করা জরুরি নয়, ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ফরজ ওয়াজিব ও হারাম হালালের উপর আমল করা জরুরি।
রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে নিজেদের লোক বসানো অতিব জরুরি, আইন এবং আদেশ নিষেদের চেয়ার নিজেদের দখলে না আসা পর্যন্ত কখনো ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা হবেনা।
রাসুল সঃ ও সাহাবায়ে কেরামগুণ রাষ্ট্র ক্ষমতায় দখল করে,কোরআনের আইন জারি করেছেন, তবেই সব জায়গা থেকে অপরাধ দুর হয়েছে।
আজ ইরানের হাতে জ্ঞান বিজ্ঞানের ও অস্ত্রের শক্তি না থাকলে, ইজরা য়েল ও আমেরিকা, ইরানকে মাটির সাথে নিশিয়ে দিত।
অন্যদিকে ফিলিস্তিন তাদের হাতে জ্ঞান বিজ্ঞান ও অস্ত্রের শক্তি না থাকার কারণে লক্ষ মুসলিম ভাই বোন শিশু বৃদ্ধ এবং তাদের বাড়ি ঘর সহ সবকিছু মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।
মনে রাখা উচিত, মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে, হযরত শাহজালাল রঃ ইয়ামন থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
ফিলিস্তিনের ভাইবোনদের রক্ষা করতে আমরা কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
ইসলাম এসেছে শুধু বড় পাঞ্জাবি পড়ে নামাজ পড়ার জন্য নয়, মুসলিম জাতির স্বার্থ রক্ষার জন্য, আল্লাহর পক্ষের লোকজনকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার জন্য, এখানে মুসলিমরা ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছেন।
অমুসলিমরা তাদের নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে এবং তাদের নিজেদের লোকদের রক্ষা করতে, যা যা প্রয়োজন সবকিছু করে যাচ্ছে, এদিকে মুসলমানরা ঘুমের ঘরে।
আল্লাহ কোরআনে নির্দেশ করেছেন, হে ইমানদাররা তোমরা নিজে এবং তোমাদের জাতিকে, জাহান্নামের আগুন থেজে বাচাও।
তোমরা কাফেরদের প্রতি কঠোর অবস্থান নেও, আর একে অপরের প্রতি সহনশীল হও বা সহযোগিতার হাত বাড়াও।
কওমি আলেমরা এতোদিন যাবত উল্টো পথে হাটছেন,আর নয়, এখন থেকে সচেতন হোন, নিজে এবং নিজের স্বজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
মানুষের দয়া করুণা আর সহযোগীতা আর কতকাল বেচে থাকবেন?নিজের পায়ে দাড়ানোর চিন্তা করুন, অবশ্যই আসমানি সাহায্য আসবে।
নিজের অন্তর আত্মাকে পরিশুদ্ধ করুন,আচরণ পরিশুদ্ধ করুন,চিন্তাশীল হোন, লক্ষ্য ঠিক করুন, আর কতকাল বিড়ালের মতো নিরিহ প্রাণীর হয়ে বেঁচে থাকবেন?
উমর উসমার আলীর রাঃ এর মতো হোন, দেখবেন কাফের বাতিল এবং তাদের অনুসারীরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াবে।
একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করুন।
একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে এসে জোটবদ্ধ হয়ে, নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করুন।
১। অর্থের শক্তি লাগবে।
২। জ্ঞান বিজ্ঞানের শক্তি লাগবে।
৩। রাজনৈতিক শক্তি লাগবে।
৪। পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।
৫। কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৬। নিজেদের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাগবে।
৭। সামাজিক মানবিক কাজ করে, সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে হবে।
৮। প্রথমে আঞ্চলিক জনপ্রিয়তা অর্জন করে,আঞ্চলিক জনপ্রতিনিধি হতে হবে।
৯। প্রত্যেকের নিজস্ব শক্তিশালী কর্মসংস্থান করতে হবে।
১০। নিজেদের সন্তানদেরকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাল ডিগ্রি অর্জন করাতে হবে।
এসব করতে পারলে,বেশিদিন লাগবেনা, রাষ্ট্র সমাজ সবকিছু ইসলামি হুকুমতের লাইনে চলে আসবে।
এগুলো কিছুই না করে, শুধু মসজিদের কোণে বসে তাসবি জপে কখনো জান্নাতে যেতে পারবেননা।
সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই কামনা করি।
ইসলাম ও মুসলমানের পক্ষে কাজ করা ও মানবতার পক্ষে কাজ করাই আমাদের জীবনের মুল লক্ষ্য।