আমি বাদে সব দেশের প্রায় সব ইউটিউবারস ফেইক ভিউজের পেছনে দৌঁড়ায়। আপনারা তাদের ভিডিওতে দেখেছেন বিভিন্ন ডিজিট ভেসে উঠে এবং কমেন্ট প্রায় সবই এক। এগুলি মাইক্রোজব সাইট থেকে নেয়া হচ্ছে। চিটিং একটা প্রসেস মাত্র, এটা কোন সাকসেস নয়। যার প্রেক্ষিতে ইউটিউব ব্যাপারটা নোটিশ করেছে এবং ধরে ফেলেছে। একজন ইউজার একই কমেন্ট বিভিন্ন ভিডিওতে কপি পেস্ট করছে, যা ইউটিউবকে সন্দেহ করতে বাধ্য করছে।
এলগরিদম কিভাবে কাজ করে? এরা একটা ভিডিও রিলিজ করে মাইক্রোজব সাইটে এড দেয়। শুরুতেই প্রচুর ভিউস জেনারেট হয়, তারপর ধীরে বন্ধ হয়। অথচ এলগরিদম একটা ভিডিওর পজিটিভ, নেগেটিভ লাইক কাউন্ট করে। ভিডিও কতটুকু সময় দেখা হল সেটার উপর গুরুত্ব বিবেচনায় আরো রিচ দেয়। কমেন্ট যাচাই করে।
অথচ ইউটিউব দেখতে পাচ্ছে এই অঞ্চলের অধিকাংশ ইউটিউবারস যখন ভিডিও দেয় তাদের লাইক ডিজলাইক রেশিও অস্বাভাবিক। এখানে শুধু লাইক পরে, কেবল ভালো ভালো কমেন্ট হয় এবং সব একই কমেন্ট। কেউ ভিডিওর বিষয়ে প্রশ্ন করে না। কেউ ডিজলাইক দেয় না।
এই জিনিসগুলি ইউটিউবের কাছে অস্বাভাবিক লাগে এবং আমিসহ আরো কিছু বড় চ্যানেল যারা এসব করছে না, তাদের চ্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় মুম্বাইভিত্তিক ইউটিউব অফিস। গতমাসে, তারা ডাটা কালেক্ট করে এবং এই মাস থেকে খড়গ নেমে আসা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এই চার দেশে সবচেয়ে বেশি এরকম চিটিং তারা দেখতে পাচ্ছে। এছাড়া ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনে এটা রোগ হিসাবে তারা চিহ্নিত করেছে।
এখন এসব চিটিংবাজ চ্যানেলের ভিডিওগুলি ম্যানুয়ালি চেক করা হচ্ছে এবং ইন্ডিয়ার অনেকের চ্যানেল সাসপেন্ড হয়েছে। দেশে আমার গ্রুপের দুজনের চ্যানেল সাসপেন্ড হয়েছে। ডজনের উপর চ্যানেলে স্ট্রাইক দিয়েছে।
মোটকথা, এরকম চিটিং বাদ দিতে হবে। এভাবে ভিউ বাড়িয়ে ইনকাম করা ছাড়তে হবে নয়ত চ্যানেলই থাকবে না। ইউটিউব সাপোর্টে চ্যাট করলাম কয়েকদিন আগে, ওরা বললো সতর্কতা স্বরূপ কমিউনিটি স্প্যাম চিহ্নিত করে স্ট্রাইক দেয়া হয়েছে। এটা চলমান থাকলে চ্যানেল সাসপেন্ড করে দেয়া হবে পরবর্তী নব্বই দিনের ভেতর এবং সকল পাওনা আটকে দেয়া হবে।
এসব চিটিংবাজ ইউটিউবারস ভেবেছিলো তারা তো ভিডিওতে বিভিন্ন সাইন দিচ্ছে এবং ওয়ার্কাররা কাজের বিপরীতে ইউটিউবে গিয়ে ভিডিও সার্চ করেই সেটা দেখে প্রশ্নোত্তর করে তাদের রিচ বাড়াচ্ছে অথচ এসব পোলাপান বুঝতে পারেনি, তাদের ভিডিওতে কপি পেস্ট কমেন্ট হচ্ছে। টানা লাইক পড়ছে এবং কোন লিগ্যাল এংগেজ হচ্ছে না।
ফলস্বরূপ, স্ট্রাইক ও সাসপেন্ডে চোখের পানি, নাকের পানিতে একাকার হচ্ছে। কয়েকদিনে আমাকে তিন চারজন নক করেছে এই ব্যাপারে জানার জন্য, তারা কারণ ছাড়াই স্ট্রাইক পেয়েছে উক্ত চিটিংয়ের অপরাধে।
তারা বুঝতে পারছে না, এসব একই জিনিস মানুষ দীর্ঘদিন খেতে চায় না। তারা জোর করে খাওয়াচ্ছে বিধায় পেইড ছাড়া ভিউ আসে না। তারা সেই মান্ধাতার আমলের ক্লিক টু আর্নের মত সস্তা অ্যাপ প্রোমট করছে, টুকটাক টেক টিপস দিচ্ছে। যে কারণে দুই দিনেও ৫০০ ভিউ হয় না লিগ্যালভাবে। অথচ এখন ট্রেডিং - এয়ারড্রপ জামানা। বিভিন্ন প্রজেক্টের ছোট ছোট আপডেট দিলেই তো একটা করে ভিডিও হয়ে যায়। সবাই একটা প্রজেক্টে জয়েন করে আপডেট জানতে চায়, এসবই বুঝে না এরা। আমি বড় ছোট সবাইকে আহ্বান করবো নিজের ক্যারিয়ার ডোবাতে না চাইলে ট্রেডিং, এয়ারড্রপ, সেক্টরে মুভ করতে। আগামী দিনগুলিতে এটাই আপাতত ট্রেন্ডিংয়ে থাকবে নতুন কোন ইনকাম প্রক্রিয়া না আসা পর্যন্ত।
শুরুতে ছিল,
- ক্যাপচা টাইপিং + ওডেক্স ফ্রিল্যা্সিং
- পিটিসি সাইটস, + ওডেক্স ফ্রিল্যান্সিং
- ডাটা এন্ট্রি সাইটস, + আপওয়ার্ক + ফাইভার
- এমএলএম সাইট + ফাইভার
- বাজারে এলো বিকাশ নগদে পেমেন্ট করা সস্তা অ্যাপস + আপওয়ার্ক + ফাইভার
- মাইক্রোজব সাইটস, + আপ + ফাই
- লিয়াম এয়ারড্রপস, + আপ + ফাই
- বাইনারী ট্রেডিং + ফরেক্স + আপ + ফাই + পিওডি সাইটস
- ক্রিপ্টো ট্রেডিং + ফরেক্স + আ:ফাই+
এখন সর্বশেষটা ট্রেন্ডিং। আপনি যদি অন্তত একশ ডলার ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করেন তার মানে অধিকাংশ ব্যাপার জানা আছে। কন্টেন্ট মেকিং করতে সমস্যা নাই। সারা জীবন সব আপডেট, সিস্টেম নিয়ে ভিডিও বানাতে পারবেন। ট্রেডিং স্কিলের ব্যাপার, সাধনার ব্যাপার। শিখবেন + শেখাবেন।
নতুন যাই আসুক, শুরু থেকেই ফ্রিল্যান্সিং রয়েছে। এটা থাকবে যতকাল ইন্টারনেট আছে। এবং শুরুর কথা মাথায় রেখে কন্টেন্ট পরিবর্তন করেন। সময়ের সাথে আপডেট না হলে ফিনিশ হয়ে যাবেন। চ্যানেল সাসপেন্ডের আগে সোজা হউন।