🚀 ইতিহাসের সবচেয়ে বড় IPO আসছে, SpaceX শেয়ার কিনে কি রাতারাতি কোটিপতি হওয়া যাবে ;-)
মহাকাশ বিজয়ের গল্প এবার নেমে আসছে সাধারণ মানুষের পকেটে, Elon Musk তার সবচেয়ে বড় চমক দিতে চলেছেন, প্রথমবারের মতো SpaceX শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা, কারণ এটি হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় IPO, কিন্তু এই সুযোগ আসলেই লাভের নাকি ফাঁদের, বিনিয়োগের আগে জেনে নিন পুরো সত্য।
SpaceX তাদের IPO এর মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের মূলধন তোলার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে মোট ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে, প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার, এই বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানির লক্ষ্য প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার তোলা, আর এই IPO সম্পন্ন হলে কোম্পানির মোট ভ্যালুয়েশন দাঁড়াবে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রাইভেট কোম্পানি থেকে সরাসরি টপ লেভেল পাবলিক কোম্পানির কাতারে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ থেকে এই শেয়ার কেনা কিছুটা জটিল হলেও অসম্ভব না, প্রথমেই একটি আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে, যেমন Interactive Brokers, Charles Schwab বা Fidelity International, যেখানে পাসপোর্ট, NID এবং ঠিকানার প্রমাণ দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে, এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে বিদেশে টাকা পাঠানোর অনুমতি নিতে হবে, কারণ সরাসরি বিনিয়োগের জন্য Capital Account Transaction অনুমোদন প্রয়োজন হয়, তারপর ডলার ফান্ডিং করতে হবে ডুয়াল কারেন্সি কার্ড বা ব্যাংক ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে, সবশেষে যখন SpaceX এর ticker চালু হবে তখন সরাসরি buy অর্ডার দিয়ে শেয়ার কিনতে পারবেন।
গত ৯০ দিনে Elon Musk এর কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স দেখলে বোঝা যায় বাজার কতটা অস্থির, SpaceX এর ভ্যালুয়েশন প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রাইভেট মার্কেট থেকে IPO তে এসে ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, Tesla এর শেয়ার মার্চে ৩৯৮ ডলার থেকে নেমে ৩৪৩ ডলার হয়ে আবার মে মাসে ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত উঠে বর্তমানে প্রায় ৩৯১ ডলারের কাছাকাছি অবস্থানে আছে, আর X যা আগে Twitter নামে পরিচিত ছিল সেটি এখন সম্পূর্ণ প্রাইভেট, তবে এটিকে xAI এবং SpaceX এর সাথে একীভূত করার পরিকল্পনা চলছে।
এই শেয়ারে লাভের সম্ভাবনা যেমন বিশাল তেমনি ঝুঁকিও কম না, Starlink ইতিমধ্যেই ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক নিয়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে, পাশাপাশি রকেট লঞ্চ এবং NASA প্রজেক্ট SpaceX কে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অবস্থানে রাখছে, তবে ১৩৫ ডলারের IPO মূল্য অনেক বিশ্লেষকের মতে ওভারভ্যালুড, এছাড়া মহাকাশ প্রকল্পে যেকোনো দুর্ঘটনা বা ব্যর্থতা শেয়ারের দামে বড় ধাক্কা দিতে পারে, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা Class A শেয়ার পাবে যার ভোটিং পাওয়ার কম, আর কোম্পানির প্রায় ৮২.৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে Elon Musk এর হাতে।
এই IPO পুরো গ্লোবাল মার্কেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, Nasdaq Index শক্তিশালী হতে পারে যদি IPO সফল হয়, তবে একসাথে এত বড় অঙ্কের অর্থ বাজার থেকে SpaceX এ চলে গেলে Apple, Microsoft এর মতো বড় কোম্পানির শেয়ারে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে, একই সাথে ক্রিপ্টো মার্কেটেও অস্থিরতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে Dogecoin এবং Bitcoin এর মতো কয়েনে, কারণ Elon Musk এর বড় কোনো মুভমেন্ট সাধারণত ক্রিপ্টো মার্কেটে তীব্র প্রভাব ফেলে।
সবকিছু মিলিয়ে SpaceX IPO হতে যাচ্ছে একদিকে বিশাল সুযোগ, অন্যদিকে বড় ঝুঁকির খেলা, তাই বিনিয়োগ করার আগে হাইপ নয়, হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।