ch
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

前往频道在 Telegram

显示更多
未指定国家未指定类别
1 099
订阅者
无数据24 小时
+227
+2630
帖子存档
বই নিয়ে এই জীবনে অনেক ধরনের পাগলামিই করেছি। যদিও বই পড়ার বয়স বেশি না। কত কত বই একাধিক অনুবাদ সংগ্রহ করলাম। যেটাকে তুলনামূলক ভ
বই নিয়ে এই জীবনে অনেক ধরনের পাগলামিই করেছি। যদিও বই পড়ার বয়স বেশি না। কত কত বই একাধিক অনুবাদ সংগ্রহ করলাম। যেটাকে তুলনামূলক ভালো মনে হয়েছে, সেটা সংগ্রহে রেখে অন্যটা রিসাইকেলে সেল করে দিছি। কিংবা নতুন বই সংগ্রহ করার জন্য ভালো বই—যা ওই সময় খুব দরকারি মনে হয়নি—তাও রিসাইকেলে সেল করে দিয়েছি... বিদেশ আসার আগেও বেশকিছু বই হাতছাড়া হয়েছে। ওগুলো আবার নতুন করে সংগ্রহ করব ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি নতুন দরকারি বইগুলোও... বই পড়ার ক্ষেত্রে একটা বড় ভুল করেছি সিরাত কম পড়ে। আবার পড়ার ফুরসত পেলে ধুমধাম অনেকগুলো সীরাত ও সাহাবাদের জীবনী পড়ে নেব ইনশাআল্লাহ। নবী-জীবনী সংগ্রহ আবার বাড়াব ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি আর রাহিকুল মাখতুম আর নবীয়ে রহমত নিয়ে একটা পাগলামি করার ইচ্ছা আছে, আল্লাহ তাওফীক দিলে। এই দুটোর কমপক্ষে ৩/৪ টা করে অনুবাদ সংগ্রহ করব ইনশাআল্লাহ... গার্ডিয়ানের বইয়ের প্রোডাকশন দারুণ। তারা একাডেমিক ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা করে। তবুও, তাদের কোনো বই আমার সংগ্রহে নেই। দুয়েকটা যাও সংগ্রহ করেছিলাম, সাধারণ বাক্যগঠনেই মিল পাইনি। আশাহত হয়েছিলাম। তবে তাদের মাখতুমটা নেব ইনশাআল্লাহ শো-পিসের জন্য হলেও। কেন জানি এই প্রচ্ছদটা জাস্ট ওয়াও লাগছে।

বইটা পড়ার সুযোগ হয়নি। মাত্র দুদিন হলো বইটা সম্পর্কে জানলাম। শর্ট পিডিএফ থেকে টুকটাক পড়লাম। তানতাভীর লেখা, সেরা তো হবেই। আশার
বইটা পড়ার সুযোগ হয়নি। মাত্র দুদিন হলো বইটা সম্পর্কে জানলাম। শর্ট পিডিএফ থেকে টুকটাক পড়লাম। তানতাভীর লেখা, সেরা তো হবেই। আশার কথা হলো, অনুবাদক নবীন হলেও যুগসচেতন, ভাষায় পারদর্শী বলে শুনেছিলাম। শর্ট পিডিএফ দেখতে পারেন।

হযরত মাওলানা আবু তাহের মেছবাহ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ এর মূল্যবান এই নসিহতটি আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত। হযরত বলেন, "বর্তমানকে যারা যাপন করে ভবিষ্যতকে স্মরণ রেখে, জীবনের সফলতা শুধু তাদের জন্য। বর্তমান চিরকালের জন্য নয়, কিছু সময়ের জন্য। ভবিষ্যত অনেক দীর্ঘ। আবার ভবিষ্যতের রয়েছে ভবিষ্যত এবং তা অনন্ত। তোমার যৌবনের প্রতিটি দিনের হিসাব চাইবে তোমার আগামী বার্ধক্য। বার্ধক্যকেও হিসাব দিতে হবে মৃত্যুর কাছে। তোমার বাবার তুমি কেমন সন্তান, তা একদিন বুঝিয়ে বলতে হবে তোমাকে তোমার সন্তানের কাছে। বর্তমানের তরঙ্গদোলায় দোল খেয়ে খেয়ে যাদের সকাল-সন্ধ্যা হারিয়ে যায়, তাদের জীবনে নেমে আসে অনেক দুর্গতি।"

আমাকে আপনাকে যদি বলা হয় যে, একটি দুআই শুধু কবুল করা হবে, আমরা তখন আল্লাহর কাছে কী চাইবো? অবশ‍্যই একেকজনের চাওয়া সেইসময় ভিন্ন ভিন্ন হবে। সবাই যার যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটার কথাই বলবে। তবে ঠিক এরকমই একটি প্রশ্ন একবার আল্লাহর রাসুলকে(ﷺ)তার চাচা আব্বাস (রা)ও করেছিলেন। অনুরোধ করেছিলেন, তাকে যেন এমন একটি দুআ শেখানো হয়, যেই একটি দুআই এত ব্যাপক অর্থপূর্ন হবে যে, সেটা যদি কবুল হয় তাহলে আর কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হবে না। রাসুল ﷺ তখন তাকে যে দুআটি শিখালেন, তা হলো, اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে 'আফিয়াহ' চাই।দুনিয়া এবং আখিরাতে। কী অর্থ 'আফিয়ার'? — আফিয়াহ অর্থ দু:খ কষ্ট থেকে মুক্ত থাকা। — আফিয়াহ অর্থ সুস্থ থাকা। — আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি প্রয়োজন মাফিক রিযিক থাকে আপনার। যদি জীবনকে আপনি উপভোগ করতে পারেন, যদি আপনার সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকে সবধরনের অনিষ্টতা থেকে, আপনি আফিয়াহতে আছেন। — যদি আপনাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদি দেয়া না হয় কোন শাস্তি বা আযাব, আপনি আফিয়াহতে আছেন। সুবহানাল্লাহ! কত সংক্ষিপ্ত দুআ, অথচ কী ব্যপক অর্থবোধক। আপনি আফিয়াহ চাচ্ছেন, তার মানে আপনি আল্লাহকে বলছেন, তিনি যেন আপনাকে বাঁচিয়ে রাখেন যে কোন যন্ত্রনা, কষ্ট, অসচ্ছলতা, ক্ষতি ও পরিক্ষা থেকে। দুনিয়া আখিরাতের যাবতীয় মুসিবত থেকে। আব্বাস (রা.)-কে যখন রাসুল ﷺ দুআটির কথা বললেন, তিনি প্রথমে উত্তর দিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এত ছোট দুআ, আমি তো আরও বড় কিছু চেয়েছিলাম। রাসুল ﷺ জবাব দিয়েছিলেন, প্রিয় চাচা! আল্লাহর কাছে আফিয়াহ চান। দেয়ার মত আফিয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না। _____ তথ্যসূত্রঃ সুনান তিরমিযি, ২৬৭৫ ও রিয়াদুস সালেহীন। © মাওলানা রিযওয়ানুল কবির হাফি.

যিন্দেগি আযান আওর নামায কে বিচ কা এক সফর হ্যায়— যব আয়ে থে, তব আযান সুনি আওর যব জায়েঙ্গে, তব নামায হোগি

ছবিটা ২০/২১ সালের দিকে হবে। আব্দুজ জহুর সেতুর পাশেই তোলা। সেদিনের তিনজন আজ তিন জায়গায়। একজন দেশে। একজন লন্ডন। একজন সৌদিতে। যা
ছবিটা ২০/২১ সালের দিকে হবে। আব্দুজ জহুর সেতুর পাশেই তোলা। সেদিনের তিনজন আজ তিন জায়গায়। একজন দেশে। একজন লন্ডন। একজন সৌদিতে। যাকগে, বইটাও দারুণ।

বিয়ের সময় মেয়ের প্রতি মায়ের অমর উপদেশ . উমামা বিনতে হারিস তার কন্যাকে বিয়ের প্রাক্কালে উপদেশ দিয়ে বলেন: . “হে আমার প্রিয় কন্যা! . তুমি আজ সেই চিরচেনা নীড় ছেড়ে যাচ্ছ, যেখানে তুমি বড় হয়েছ। প্রবেশ করছ এমন এক নতুন ঘরে, যা তোমার কাছে অপরিচিত। এমন এক জীবনসঙ্গীর সান্নিধ্যে যাচ্ছ, যার সাথে তুমি আগে পরিচিত ছিলে না। . অতএব, তুমি তার জন্য জমিনের মতো (নম্র ও সহনশীল) হও; তবে সে তোমার জন্য আকাশের মতো (উদার ও আশ্রয়দাতা) হবে। . তুমি তার জন্য বিছানার মতো (কোমল) হও; তবে সে তোমার জন্য স্তম্ভের মতো (দৃঢ় ও রক্ষক) হবে। . তার নজরের খেয়াল রেখো—সে যেন তোমার মাঝে অপ্রীতিকর কিছু না দেখে। তার ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের যত্ন নিও—সে যেন তোমার কাছ থেকে সুবাস ছাড়া অন্য কিছু না পায়। . তার ক্ষুধার সময়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করো; কারণ তীব্র ক্ষুধা মানুষকে খিটখিটে ও রাগী করে তোলে। তার নিদ্রার সময় নিরবতা বজায় রেখো; কারণ ঘুমের ব্যাঘাত বিরক্তি সৃষ্টি করে। . তার সম্পদের যথাযথ হেফাজত করো এবং তার পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করো। . কখনো তার গোপন কথা ফাঁস করো না এবং তার আদেশ অমান্য করো না। কারণ, তুমি যদি তার অবাধ্য হও, তবে সে তোমার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হবে; আর যদি তার গোপনীয়তা প্রকাশ করে দাও, তবে সে তোমার ওপর আস্থা হারাবে। . সবশেষে মনে রেখো—তুমি যদি তার প্রতি অনুগত থাকো, তবে সে তোমার জন্য হবে সবচাইতে বিশ্বস্ত বন্ধু ও অতন্দ্র প্রহরী।” . ● [আল-ইকদুল ফারিদ, ইবনু আব্দ রাব্বিহি | উয়ুনুল আখবার, ইবনু কুতায়বা]

ইসলাম ও আমাদের জীবন সিরিজ সংগ্রহে না থাকলে এটা অবশ্যই সংগ্রহ করবেন।
ইসলাম ও আমাদের জীবন সিরিজ সংগ্রহে না থাকলে এটা অবশ্যই সংগ্রহ করবেন।

অতীতকে বয়ে চলতে হয় না, তার থেকে জ্ঞান নিতে হয়৷ নতুবা অতীত জীবনের উপর শৃঙ্খল পড়িয়ে দিবে৷ ভবিষ্যৎ হল পরিকল্পনার জন্য, যার বাস্তবতা মানুষের অজানা৷ বর্তমানই হল আসল বাস্তবতা, বর্তমানের উপরই জীবন প্রবাহিত হয়ে চলে৷ তাই “অতীতকে ধরে রেখে যেমন ভবিষ্যত নষ্ট করার মানে হয় না, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করারও মানে হয় না৷” অতীত বর্তমান ভবিষ্যত এগুলো হল সময়ের একটি সেতু৷ যার এক পাশে স্মৃতি, অন্য পাশে সম্ভাবনা৷ সম্ভাবনা ভাল না মন্দ হবে সেটা আমাদের মাঝখানের কর্মের উপর বর্তায়৷ যে অতীত থেকে শিক্ষা নেয় সে প্রজ্ঞাবান৷ যে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয় সে দূরদর্শী৷ কিন্তু যে বর্তমানকে বাঁচতে ভুলে যায় সে চরম বোকা, কারণ সে জীবনের আসল মুহূর্তগুলোই সে নষ্ট করে ফেলে। কবি বলেন; অতীতের চোরাবালিতে ডুবতে চাই না আর, ভবিষ্যতের মরিচিকায় থাকতে চাই না আর, বর্তমানের আজান কাজা করতে চাই না আর৷ © মাহবূবুল মুরসালীন ভাই

ছবিটা দেখার পর বাচ্চাকালের 'আঁধার রাতের বন্দিনী'র কাল্পনিক খুবায়েব-সায়েমার কথা মনে পড়ে গেল। বইটা পড়া হয়নি। পুরো বইটার সারমর্ম
ছবিটা দেখার পর বাচ্চাকালের 'আঁধার রাতের বন্দিনী'র কাল্পনিক খুবায়েব-সায়েমার কথা মনে পড়ে গেল। বইটা পড়া হয়নি। পুরো বইটার সারমর্ম শুনেছিলাম চাচাতো বোনের কাছ থেকে। আগে তো অবসরে গল্প-উপন্যাস হলেও পড়ত। এখন হাতে হাতে মোবাইল এসে বই পড়া একেবারেই... যাও দুয়েকজনের বই পড়ার ঝুঁক আসে, সেটাও অসময়ে। যখন মনমস্তিষ্ক থাকে বিক্ষিপ্ত, দুনিয়াবি ঝামেলা-পেরেশানি টালমাটাল, কিংবা সাংসারিক ঝামেলায় পড়ারই সময়-সুযোগ থাকে না।

আমাত-উল্লাহ তাসনিম (১৯০৮ – ১৯৭৬ ই.) হলেন শায়খ হাকিম সাইয়েদ আবদুল হাই হাসানির রহ. কন্যা এবং আবুল হাসান আলী নদভির রহ. বড় বোন।
আমাত-উল্লাহ তাসনিম (১৯০৮ – ১৯৭৬ ই.) হলেন শায়খ হাকিম সাইয়েদ আবদুল হাই হাসানির রহ. কন্যা এবং আবুল হাসান আলী নদভির রহ. বড় বোন। লেখালেখির দিকে তার গভীর আগ্রহ ছিল। ১৯২৬ সালে চাচাতো ভাই আবুল খায়ের হাসানির রহ. সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং স্বামীর উৎসাহে তার সাহিত্য রচনায় আগ্রহ বেড়ে যায়। তিন সন্তানের মা হয়েছিলেন তিনি, সবাই শৈশবেই মারা যান। তার বড় ভাই ড. আব্দুল আলী হাসানির রহ. পরামর্শে তিনি ইমাম নববির রহ. ‘রিয়াযুস সালিহীন’ উর্দুতে অনুবাদ করেন ‘জাদে সফর’ শিরোনামে এবং তা ব্যাপক সমাদৃত হয়। তিনি ‘বাচ্চু কা কাসাসুল আম্বিয়া’ নামেও ৫ ভলিউমের একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ‘দিয়ারে হাবিব স.’ নবিজির শানে একটি কাব্যও রচনা করেছেন। ছবির বইটি বেরিয়েছে ‘মাকতাবাতুল আফনান’ থেকে, ২০১৭ সালে। ©

বইমেলা থেকে কী কী সিরাতের বই কিনলেন? আশ্চর্য হলেও সত্য—এ-বছর বইমেলা উপলক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিরাতগ্রন্থও প্রকাশ পেয়েছে। যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি এবং বিষয় বৈচিত্র্যেও অনন্য। মেলার স্টলে সবগুলি ছিল কি না জানা নেই। রকমারিতে নিশ্চয় ছিল। রকমারির হিসেবে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত প্রকাশিত সব বই এ-বছর বইমেলার বই। বইমেলা ২০২২ ক্যাটাগরির সিরাতগ্রন্থগুলোর মধ্যে আমার লিস্টে মোট ৬০টি বই আছে। ৪টি বই নারীর হাতে লেখা। এবং বিস্ময়ের কথা হলো, সবক’টি মৌলিক। ১। নবীজি (সা.) : দ্য ব্লেসড ওয়ান, লেখক নীলা হারুন। প্রথম ভেবেছিলাম অনুবাদ হবে। এরকম ইংরেজি শিরোনামে লেখা দুটি মৌলিক বই হলো, মিনহাজুল ইসলাম মাসুমের ‘দ্যা প্রফেট এট এ গ্ল্যান্স’ এবং আবু জাকারিয়ার ‘ফরবিডেন প্রফেসিস’ (তবে দুটিই পুরুষের লেখা)। ২। প্রাণের চেয়ে প্রিয়, লেখক ফারহীন জান্নাত মুনাদী। ৩। অতুলনীয় হযরত মুহাম্মদ (স.), লেখক শামীমা শাহীন ৪। আপনি আমার শুদ্ধতম প্রেম, লেখক রুকাইয়া মাবরুরা চাইলে আপনি ড. আয়িশা আবদুর রহমানের লেখা ‘নবী প্রেয়সী’কেও এই তালিকায় রাখতে পারেন। সমকালীন লেখকদের মধ্যে মুসা আল হাফিজের ‘রাসুলুল্লাহ’ প্রথম পছন্দে রাখার মতো। তবে আমি বলব সৈয়দুল হকের ‘প্রশংসিত’র কথা—বাংলা সিরাত সাহিত্যে এটি অনন্য সংযোজন। এর পরই থাকবে আরিফুল ইসলামের ‘সিরাজুম মুনির’ (ফররুখের ‘সিরাজাম মুনীরা’র কথা মনে পড়ে। সাইয়েদ আমীমুল ইহসানেরও একটা বই আছে এই নামে। অধমের অনুবাদে জিয়াউর রহমান ফারুকির একটা বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল একই শিরোনামে)। এই তালিকায় আরেকটি বই হলো শব্দশৈলী থেকে আসা হাসান রউফুন রচিত ‘মহানবির যুদ্ধজীবন’। শুধু একটি বই আছে কবিতার—হাসান রোবায়েতের ‘মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। অনবদ্য, অপূর্ব। সিরাত বলে নয়, কবিতার স্বাদ আপনার জিভে লেগে থাকবে বহুদিন। সমকালীন ও প্রাচীন স্কলারদের বেশ কয়েকটি অনুবাদ পাঠের তালিকায় রাখার মতো। ১। ড. ইয়াসির ক্বাদির লেকচার সিরিজে মুগ্ধ হয়ে তড়িৎ-প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন অনুবাদ করেছেন ‘মহানবি মুহাম্মদের (সা) জীবন ও সময়’ শিরোনামে। এটি প্রথম খণ্ড, আরও দুই খণ্ড আসবে। ২। ড. তারিক রমাদানের ফুটস্টেপস অব প্রোফেট স.। এত দারুণ অনুবাদ হয়েছে এই বইটির, মনে হয় রমাদান নিজে বাংলায় বলছেন। ৩। ড. মাজিদ আলী খানের ‘মুহাম্মাদ দ্যা ফাইনাল মেসেঞ্জার’। দশ বছর আগে এটা ইফা থেকে ‘শেষ নবী’ নামে বেরিয়েছিল, প্রচারের অভাবে বইটার কথা লোকজন জানতেই পারে নি। ৪। সিরিয়ান খ্যাতিমান স্কলার উস্তাদ ড. নুরুদ্দিন ইতরের পুস্তিকা ‘নবি জীবনের সুরভিত পাঠ’। ৫। সিরিয়ার আরেক শায়খ সাইদ রমাদান বুতির ‘ফিকহুস সিরাহ’ তো অতুলনীয় এক গ্রন্থ। এই বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ পাওয়া বাংলাভাষীদের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি মনে করি। এ ছাড়া আমাদের পূর্বসূরিদের কয়েকটি বই নজর কাড়ার মতো। হতে পারে এর সবগুলো আমরা ইতোমধ্যে ছাত্রজীবনে উর্দু বা আরবিতে পড়েছি, বাংলায় নতুন করে পেলাম। ১। ইমাম নববির ‘সিরাতুন নবী’। ২। ইদরিস কান্ধলবির ‘সিরাতে মুস্তফা’। ৩। সাইয়েদ সুলাইমান নদবীর ‘পয়গামে মুহাম্মাদী’। ৪। আবুল হাসান আলী নদবীর ‘নববি চরিত্রের সৌন্দর্য’। (সহলেখক রাগিব সারজানি) ৫। কাজী জায়নুল আবিদিনি মিরাঠির ‘আরবি নবি’। (সহলেখক প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান) ৬। শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর ‘প্রিয় নবীজি’। একটি বই আছে অমুসলিম লেখকের—‘আরবের নবি’। স্বামী লক্ষণ প্রসাদ রচিত এই বইয়ের ভূমিকা মাসিক আল কাউসার পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল এবং অধমের পক্ষ থেকে এই বই রচনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ নিশ্চয় আপানারা শুনেছেন। বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি বই আছে—এ-ক্ষেত্রে সবার উপরে থাকবে ‘সিরাতের প্রচলিত ভুল’ বইটি। যদিও এতে ঠিক ভুল নয়, কোথাও অপ্রচলিত, কিংবা বিতর্কিত, অথবা বলায় যায়, যেসব ঘটনা নিয়ে প্রবলভাবে কেউ কেউ দ্বিমত করেছেন, তার সারাংশ তুলে এনেছেন লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল আওশান। এ ছাড়া আছে— ২। রাসুলুল্লাহর সাথে রোমাঞ্চকর একদিন (অধ্যাপক মফিজুর রহমান)। ৩। নববি তরবিয়ত : নবিজি যেভাবে সন্তান লালন পালন করেছেন (শায়খ জামাল আব্দুর রহমান)। ৪। বি জিনিয়াস উইথ মুহম্মাদ (আব্বাস মাহমুদ আক্কাদ)। ৫। খ্রিস্টান পাদরীর চোখে শেষ নবী (মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমী) ৬। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে মুহাম্মদ স. (আব্দুস সালাম মিয়া হুমায়ুন)। ৭। পারিবারিক সংকটে নবিজির উপদেশ (ড. ইয়াদ কুনাইবি)। ৮। লিডারশিপ লেসন্স : ফ্রম দ্য লাইফ অব রাসুলুল্লাহ স. ( মির্জা ইওয়ার বেগ)। ৯। মুহম্মাদ (স.) এর বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক দর্শন (মাহমুদুল হাসান নিজামী)। ১০। বিশ্বনবী (সা.) ও বিশ্বশান্তি (ড. মুহাম্মাদ মোস্তফা কামিল মাদানী) সবিশেষ—একটি ছোট্ট বইয়ের কথা বলি : ‘রাসুলের জন্য ভালোবাসা’। আমার প্রিয় লেখক আলী তানতাভির রচনা। হৃদয় দিয়ে অনুবাদ করেছেন আহনাফ তাহমিদ। কমেন্টে তালিকা দিলাম। উল্লেখযোগ্য আরও বই থাকতে পারে। জানাবেন—তালিকা আপডেট করে নেব। ©

নবিজীবনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে রচিত গ্রন্থ। অজস্র বই আছে এই জনরায়। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটা বইয়ের নাম বলি— ১. আলী সাল্লাবির লেখা ‘গাযওয়াতুর রসুল’। ‘নবীজির যুদ্ধ জীবন : পাঠ ও পর্যালোচনা’ শিরোনামে অনুবাদ করেছেন কাজী আবুল কালাম সিদ্দিক (আকিক পাবলিকেশন্স) ২. ফয়সাল বি আলী বাদানীর লেখা ‘হাকাজা কানা ন্নাবী স. ফি রমাদান’। ‘রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন’ শিরোনামে অনুবাদ করেছেন কাউসার বিন খালেদ (ইসলাম হাউস)। ৩. সালেহ আল মুনাজ্জিদের লেখা ‘নবীজির সংসার’ (মূল নাম জানি না)। মাকতাবাতুল আসলাফ প্রকাশ করেছে। ৪. ইবনুল কায়্যিম জাওযির লেখা ‘আল্লাহর রসুল কিভাবে নামাজ পড়তেন’ (মূল নাম জানি না)। আবদুস শহিদ নাসিমের অনুবাদ (বর্ণালী বুক সেন্টার)। ৫. মাওলানা মুস্তফা খন্দকার সঙ্কলিত ‘নবিজির বয়ান’। মাকতাবাতুল ইসলাম। ৬. বুলবুল সরোয়ার লিখিত ‘নবিজীবনের শত বিষয়’। চমনপ্রকাশ। পাঁচ. নবিজীবনের বিশ্লেষণ। মানে নবিজির বিভিন্ন এক্টিভিটি আধুনিক সময়ের ভাষায় বিশ্লেষণ। যেমন—হিশাম আওয়াদির ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ’ (মাসুদ শরীফের অনুবাদ), রামাজান বুতির ‘ফিকহুস সিরাহ’, তারিক রামাদানের ‘ফুটস্টেপ অব প্রোফেট’, মির্জা ইওয়ার বেগের ‘লিডারশিপ লেসন্স’ ইত্যাদি। সবগুলো একই নামে অনুবাদ আছে। মোহর আলীর ‘সিরাতুন্নবি অ্যান্ড দ্যা ওরিয়ান্টালিস্ট’ (ইফা থেকে প্রকাশিত ‘সীরাত বিশ্বকোষ’ ৮ ও ৯ নং খণ্ড এই বইয়ের অনুবাদ)। আবার ধরেন অমুসলিমদের রচিত বিভিন্ন বই আছে, যেমন ক্যারেন আর্মস্ট্রং বা লেইজলি হ্যাজেলটনরা যা লিখেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল বইপুস্তক তো আছেই। মওলুদুন্নবি টাইপের এক ধরনের বই আছে, ওগুলো নিয়ে বলব না। নবিজিকে নিয়ে বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থও আছে—কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরুভাস্কর’ বা ফররুখ আহমদের ‘সিরাজাম মুনীরা’—যার কোনওটা ধারাবাহিক জীবনীর মতো, আবার কোনওটা পুঁথির মতো। আবার শিশু-কিশোরতোষ সিরিজের বই আছে, যেমন— ১. আবু তাহের মিসবাহ লিখিত ‘শিশু সীরাত সিরিজ’। দারুল কলম থেকে প্রকাশিত। ২. ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভি লিখিত ‘প্রিয় নবী’। মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত। ৩. আবদুল আযীয আমান লিখিত ‘একগুচ্ছ কিশোর-সীরাত সাহিত্য : নবীজীবনের নিউক্লিয়াস’। বইকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত। কেউ যদি নবিজিকে প্রথম থেকে জানতে চান, তাহলে উপরের ধরনগুলো পাঠের ধারবাহিকতা মনে করেও পড়তে পারেন। মানে প্রথমে এক নম্বরের বইগুলো ধরেন। তবে একেবারে নতুন হলে প্রথমে সংক্ষিপ্ত সিরাত গ্রন্থ পড়া যেতে পারে। ২টি সংক্ষিপ্ত সিরাত বইয়ের নাম দিচ্ছি— ১. জুবাইর আহমদ আশরাফ লিখিত ‘সংক্ষিপ্ত সিরাত’। দারুত তিবয়ান। ২. মুসা আল হাফিজ লিখিত ‘মহানবীর জীবনপঞ্জি। এরপর পূর্ণাঙ্গ সিরাতগ্রন্থ পড়ুন। এরপর শামায়েল ধরুন। ‘ব্যক্তি ও নবী’ পড়ুন। এরপর ‘ফিকহুস সিরাহ’ পড়ুন। এই পর্যায়ে এসে একটা বইয়ের কথা বলি, যেটা উপরে বলা হয় নি, ড. ইয়াসির কাজির সিরাত লেকচারের অনুবাদ ‘মহানবি মুহাম্মদের (স) জীবন ও সময়’ (মাওলা ব্রাদার্স)—দুই খণ্ডের এই বইটা পড়ুন। সর্বশেষে পড়ুন অন্যান্য বিশ্লেষণ নির্ভর গ্রন্থ। সবশেষে—প্রকাশকদের যারা সিরাতের ভালো কী বই অনুবাদ করানো যায় বলে ভাবেন, তাদের জন্য ২টি বইয়ের নাম বলি (প্রাচীন ২টা গ্রন্থের নাম বহুবার বহু জায়গায় বলেছি : মুসা ইবনে উকবার ‘মাগাজি’ আর ইবনে আবদিল বার-এর ‘আল মুখতাসার’। এই সময়ের জন্য ভিন্ন ২টি বইয়ের কথা বলছি)— ১. আকরম জিয়া উমরির লেখা : السيرة النبوية الصحيحة، محاولة لتطبيق قواعد المحدثين في نقد روايات السيرة النبوية ২. মাহদি রিজকুল্লাহর লেখা : السيرة النبوية في ضوء المصادر الاصلية উপরের বইগুলোর চেয়ে ভালো বই, দরকারি বই, উন্নত বই অনেক থাকতে পারে। কিন্তু অধমের জানাশোনা মতে প্রকাশনার মান, সহজপাঠ্য, সহজবোধ ও সহজলভ্য যে-বাংলা বইগুলো প্রথম পর্যায়ে পাঠকদের বলা যায় বলে মনে হয়েছে, সেগুলো বললাম। আল্লাহ তাওফিকদাতা। ©