বাংলাদেশের দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা, সীমিত চাকরির বাজার, গবেষণার অভাব এবং জীবনমানের নানা সীমাবদ্ধতা দেখে অনেক স্টুডেন্টই ভাবে, "The Biggest Bangladeshi Dream is to Leave Bangladesh." কিন্তু বিদেশে সেটেল হতে চাইলে একটা প্রশ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ: Medical naki Varsity ?
প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার সংখ্যা (আনুমানিক) :
🎓 B.Sc / Varsity Graduates: ৫০,০০০+ জন
🩺 MBBS / BDS Graduates : ৫০০-৬০০ জন (সর্বোচ্চ)
The Hard Truth : যে ৫০০–৬০০ জন ডাক্তার প্রতি বছর কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা জার্মানিতে যান, তাদের বেশিরভাগই সরাসরি Clinical practice এর জন্য যান না ! তারা সাধারণত MPH (Public Health), Health Informatics বা অন্যান্য Non-Clinical বিষয়ে পড়তে যান যেটা অনেকটা ভার্সিটির গ্রাজুয়েটদের মতোই । অর্থাৎ, শেষ পর্যন্ত হিসাব করলে বাংলাদেশ থেকে যদি ১০০ জন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিদেশে যান, সেখানে মেডিকেল থেকে যেতে পারেন বড়জোর ১–২ জন !
এত বিশাল পার্থক্যের কারণ কী কী ?
1 . Degree Recognition & Transferability : বাংলাদেশি ভার্সিটি গুলোর জেনারেল ডিগ্রি (B.Sc, BBA) আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত । কিন্তু বাংলাদেশের MBBS ডিগ্রির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত সীমিত ( নিম্নমানের মেডিকেল কলেজ হওয়ার কারণে ) বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে চাইলে বাংলাদেশি ডাক্তারদের প্রতি পদে পদে অতিরিক্ত কোর্স, সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশন এবং কঠোর স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়
2 . Funding & Scholarships : STEM, Engineering, Business ও life science এ প্রতিবছর বিলিয়ন ডলারের গবেষণা ফান্ডিং থাকে । ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজেই TA (Teaching Assistantship), RA (Research Assistantship) বা Full Scholarship পেয়ে যান । অন্যদিকে Medical/Dental ক্ষেত্রে, Clinical ট্রাক এ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Funding পাওয়া অত্যন্ত কঠিন । উন্নত দেশগুলো প্রথমে নিজেদের নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেয়। ফলে অনেক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটকে Non Clinical Track এ যেতে হয়, যেখানে প্রতিযোগিতাও অত্যন্ত বেশি
3 . Licensing & Work Permits : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করে সহজেই OPT বা Post Study Work Permit পেয়ে চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন । আলাদা কোনো Professional License লাগে না । Medical/Dental এর স্টুডেন্টরা এখানে এসেই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খায় ! দেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে MBBS ডিগ্রি শেষ করলেও যতক্ষণ না ওই দেশের নির্দিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের লাইসেন্সিং পরীক্ষা (যেমন: আমেরিকার USMLE Step 1, 2, 3 বা UK এর PLAB/UKMLA) পাস করা যাচ্ছে, ততক্ষণ হাসপাতালের ভেতরে ঢোকার বা রোগী স্পর্শ করার কোনো অনুমতি মেলেনা না ! এই লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শেষ করতে বছরের পর বছর অমানুষিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। বাইরে থেকে ডাক্তার নেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো আক্ষরিক অর্থেই ১০০টি ফিল্টার বসিয়ে রেখেছে । পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার ভালো হলেও, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে UK-তে ৩০০ জন এবং আমেরিকায় মাত্র ৫০-৮০ জনের বেশি ডাক্তার ক্লিনিক্যাল রেসিডেন্সিতে (পেইড জব) সুযোগ পান না । বাকিদের স্ট্রাগল চলতেই থাকে
4. Research Profile & Publications : ভার্সিটিতে আন্ডারগ্র্যাড লেভেলেই থিসিস, প্রজেক্ট, পেপার পাবলিশ করার সুযোগ থাকে। মেডিকেলে সিলেবাস মুখস্থনির্ভর, রিসার্চ কালচার প্রায় নেই। ফলে বিদেশে অ্যাডমিশন ও ফান্ডিংয়ে পিছিয়ে পড়েন। ( কোনোদিনও শুনছেন ঢাকা মেডিকেল বা সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে রিসার্চ পাবলিশ করতে ? ) ফলে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে Research Profile ভারী না হওয়ায় ডাক্তাররা শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে পড়েন
শেষ কথা , মেডিকেল বা ডেন্টাল পড়াশোনা দেশে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও, এর গণ্ডি মূলত দেশের মধ্যেই ভীষণভাবে সীমাবদ্ধ ! তাই আন্তর্জাতিকভাবে Move করা অনেক কঠিন । অপরদিকে জেনারেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটির কারিকুলাম ডিজাইনই করা হয় Global Standard-এ । যার কারণে গ্লোবাল ইমিগ্রেশন, কর্পোরেট জব ও স্কলারশিপের মার্কেটটা ভার্সিটি স্টুডেন্টদের জন্য অনেক বেশি ওপেন, স্মুথ এবং ইজি