Abdullah bin bashir
الذهاب إلى القناة على Telegram
📈 نظرة تحليلية على قناة تيليجرام Abdullah bin bashir
تُعد قناة Abdullah bin bashir (@abdullahbinbashir) في القطاع اللغوي البنغالي لاعباً نشطاً. يضم المجتمع حالياً 11 325 مشتركاً، محتلاً المرتبة 7 950 في فئة الدين والقيم الروحية والمرتبة 2 062 في منطقة بنغلاديش.
📊 مؤشرات الجمهور والحراك
منذ تأسيسه في невідомо، حقق المشروع نمواً سريعاً وجمع 11 325 مشتركاً.
بحسب آخر البيانات بتاريخ 01 سبتمبر, 2026، تحافظ القناة على نشاط مستقر. خلال آخر 30 يوماً تغيّر عدد الأعضاء بمقدار 63، وفي آخر 24 ساعة بمقدار 4، مع بقاء الوصول العام مرتفعاً.
- حالة التحقق: غير موثّقة
- معدل التفاعل (ER): يبلغ متوسط تفاعل الجمهور 13.27%. وخلال أول 24 ساعة من النشر يحصد المحتوى عادةً 5.34% من ردود الفعل نسبةً إلى إجمالي المشتركين.
- وصول المنشورات: يحصل كل منشور على متوسط 1 502 مشاهدة. وخلال اليوم الأول يجمع عادةً 605 مشاهدة.
- التفاعلات والاستجابة: يتفاعل الجمهور بانتظام؛ متوسط التفاعلات لكل منشور يبلغ 31.
📝 الوصف وسياسة المحتوى
يصف المؤلف القناة بأنها مساحة للتعبير عن الآراء الذاتية:
“প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট”
بفضل وتيرة التحديث المرتفعة (أحدث البيانات بتاريخ 02 سبتمبر, 2026) تحافظ القناة على حداثتها ومستوى وصول مرتفع. وتُظهر التحليلات تفاعلاً نشطاً من الجمهور، ما يجعلها نقطة تأثير مهمة ضمن فئة الدين والقيم الروحية.
11 325
المشتركون
+424 ساعات
-37 أيام
+6330 أيام
أرشيف المشاركات
11 326
ডা. আইমানের ‘রিহুল জান্নাহ’ বইটি পড়ছি আর অবাক হচ্ছি! একজন ডাক্তার মানুষ, অথচ নুসুসে শরয়ীয়্যাহ, নুসুসে ফিকহিয়্যাহ, পূর্ববর্তীদের ইতিহাস ও সমকালীন ইতিহাস বলে যাওয়ার কি যে অপূর্ব উসলুব! এরপর নুসুস থেকে ফাহম, সেটা নিয়ে আর কী বলবো!
.
ইতিহাস তো এমন ব্যক্তিরাই তৈরি করে! এমন ব্যক্তি দিয়েই তো ইতিহাস হয় তাই না!
.
আজকের দিনে বইটি অনাকাঙ্খিত শুরু করেছি! এখন শেষ না করে আর ভালো লাগছে না!
.
বইটির পিডিএফ।
11 326
সমকামীতা নিয়ে তথ্যবহুল একটি ভিডিও। নিজে মন দিয়ে শুনবেন এবং অন্যকে শুনার ব্যবস্থা করে দিবেন।
11 326
Abu Usama Jafar ভাইয়ের তৈরি করতে থাকা একটি এটম বোমা থেকে সামান্য আগুন!
.
বিখ্যাত হানাফি ফকিহ ইমাম তাহতাবি রহিমাহুল্লাহ বলেন,
الحكمة فيه الإشارة إلى أن هذا الدين قد قام بالسيف
(যু*দ্ধে*র মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলে খতিব সাহেব যে তরবারির উপর ভর করে খুতবা দেবেন) এর মাঝে হিকমত হলো এই দিকে ইশারা করা যে, এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জি হা দের মাধ্যমে। -হাশিয়াতুত তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৩৪
.
আরেক বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবুল আব্বাস আলকুরতুবি রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
قوله: (إن الإيمان والجهاد أفضل الأعمال)؛ الإيمان هنا: هو المذكور في حديث جبريل، ولا شك في أنه أفضل الأعمال؛ فإنه راجع إلى معرفة الله ورسوله، وما جاء به، وهو المصحح لأعمال الطاعات كلها، المتقدم عليها في الرتبة والمرتبة، وإنما قرن به الجهاد هنا في الأفضلية، وإن لم يجعله من جملة مباني الإسلام التي ذكرها في حديث ابن عمر؛ لأنه لم يتمكن من إقامة تلك المباني على تمامها وكمالها، ولم يظهر دين الإسلام على الأديان كلها إلا بالجهاد، فكأنه أصل في إقامة الدِّين والإيمان، أصل في تصحيح الدِّين، فجمع بين الأصلين في الأفضلية. والله تعالى أعلم. وقد حصل من مجموع هذه الأحاديث: أن الجهاد أفضل من جميع العبادات العملية، ولا شك في هذا عند تعيُّنه على كل مكلف يَقدر عليه، كما كان في أوّل الإسلام، وكما قد تعيَّن في هذه الأزمان، إذ قد استولى على المسلمين أهل الكفر والطغيان، فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم).
“... ঈমানই সকল আনুগত্যকে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বানায়। ঈমানই অন্য সকল আমলের চেয়ে মর্যাদা ও মর্তবার দিক থেকে অগ্রগামী। আর ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বর্ণিত হাদিসে যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি*হা*দকে ইসলামের রোকনের অন্তর্ভুক্ত করেননি তবুও এই হাদীসে এসে সর্বোত্তমতার দিক থেকে ঈমানের সাথে জি*হা*দকে সম্পৃক্ত এজন্যই করেছেন যে সেই রোকনগুলো পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা করা এবং অন্য সকল দীনের উপরে ইসলামের বিজয় জি*হা*দ ছাড়া সংঘটিত হয়নি। যেন জি*হা*দ দীন ও ঈমান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল আর ঈমান হলো দীনকে সহিহ করার ক্ষেত্রে মূল। এজন্য এই হাদিসে এই উভয় মূল ও ভিত্তিকে একত্রিত করেছেন। এ সকল হাদীসের খোলাসা এটাই যে, সকল কর্মগত ইবাদতের মধ্যে জি*হা*দ সর্বশ্রেষ্ঠ। আর যখন জি*হা*দে সক্ষম প্রত্যেক মুকাল্লাফের উপর ফরযে আইন হয় তখন তো এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহই নেই। যেমনটা ইসলামের শুরু যুগে ছিল। যেমনিভাবে এই যুগগুলোতেও জি*হা*দ ফরযে আইন হয়ে গেছে। কেননা মুসলিমদের উপরে কা]ফের ও অবাধ্য সম্প্রদায় আক্রমণ করে সবকিছু দখল করে নিয়েছে।” -আলমুফহিম ৩\৭১২
11 326
দেখুন আমাদের সবার আগে সত্য বুঝতে হবে, সত্য বলতে হবে। তারপর সমাধান হতেও পারে নাও পারে।
১/১১ করেছিল আমেরিকা। ৫ই আগস্ট এবং তারপর ইউনুস সরকার সংঘটনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হলো আমেরিকা।
এখানে একটা গুড কপ, ব্যাড কপ পলিসি আছে। ইন্টারোগেশনের সময় একদল নির্যাতন করে আরেকদল সুন্দর সুন্দর কথা বলে সহানুভূতি কুড়ায়। ১/১১ ঘটিয়ে প্রথমে এদেশে মুসলমানদের ব্যাপকভাবে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, জেল, গুম, ক্রসফায়ার করিয়েছে আমেরিকা। আই রিপিট ভারতের চেয়ে অধিক দায় ছিল আমেরিকার। র্যাবকে ট্রেইন করেছে এফবিআই। কাউন্টার টেররিজম পুরোটাই মার্কিন স্কিম। মৌলবাদ দমনের যাবতীয় দার্শনিক কাঠামো এবং সফট ও হার্ড পাওয়ারগুলোর নিয়ন্ত্রা আমেরিকা। তারপর এদেশের মুসলমানদের নিশ্বাস যখন ওয়াটার বোর্ডিং করতে করতে যায় যায় অবস্থা তখন আমেরিকা গুড কপ পলিসির অধীনে ৫ই আগস্ট সংঘটন করে মুসলমানদের জন্য একটা মিনিমাম ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু দাবি আগেও যা ছিল এখনো তাই আছে।
হয় ইসলাম ছেড়ে দাও নয়তো জিজিয়া দিয়ে ইসলামকে একান্ত ব্যাক্তিগত পরিসরে কিছু কালচারাল অ্যাসপেক্ট পালন করো নয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও
এই দাবি গত ষোল, সতেরো, বিশ বছরে একচুল নড়চড় হয় নাই। রিমান্ডে এক বেলা টানা পিটিয়ে দশ মিনিট রেস্ট দিয়েছে। ঠান্ডা একটু পানিও দিয়েছে। আর বলছে আমাদের কথা মেনে নে নয়তো আমরা আবার পেটাবো। হাসিনা ব্যাড কপ। ইউনুস অ্যান্ড কোং গুড কপ, অ্যাটলিস্ট ফর দ্যা টাইম বিং। পুরো সিনারিওটা জাস্ট এটাই।
এখন আমাদের কাজটা কি?
আমাদের কাজ হলো এই আপাত গুড কপ পলিসির আওতায় আমরা একটু নিশ্বাস নেবো। নিজেরা নিজেদের ক্ষতগুলোকে একটু সাড়িয়ে নেবো। পাশাপাশি লো-প্রোফাইল বজায়ে রেখে অ্যাটেশান এড়িয়ে যথাসম্ভব নিরবে নিভৃতে আমাদের শক্তি অর্জন করতে চেষ্টা করবো। এখানে লো-প্রোফাইল থাকা মানে হলো এটা নিশ্চিত করা যে আমরা যেনো এই জালিমদের প্রধান সমস্যায় পরিনত না হই যতক্ষণ না আমরা এই জালিমদের চ্যালেঞ্জ করার শক্তি অর্জন করি। আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে আমরা কোনভাবেই স্ট্র্যাটিজিক্যালি ওভাররিচ করবো না। পাশাপাশি আমরা আমাদের আকিদা নিয়ে কম্প্রোমাইজ করবো না। আমরা জনগণকে সঠিক দ্বীন বোঝাবো। দ্বীনের গভীর সমঝদার এমন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী তৈরি করবো। ফলে আমরা মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে টিকিয়ে রাখতে পারবো। তারপর একটা সময় ইতিহাসের স্বাভাবিক নিয়মে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক পাওয়ার স্ট্রাকচার ও ব্যালেন্স দশ বছর পরে হোক বা একশত বছর পরে হোক ভেঙে পরবে। তখন আমরা সেই পাওয়ার ভ্যাকুয়াম দখল করবো। এভাবে আমরা যখন শক্তি অর্জন করবো তখন আমরা দুশমনের বিষদাঁত ভেঙে ফেলবো ইনশাআল্লাহ।
©
11 326
সিয়াসাত বিষয় পড়ার পরামর্শ চেয়ে অনেকে মেসেজ দেন, তাদের সমীপে
.
সিয়াসাত বিষয়ে অনেকেই পড়তে চান, তাদের আগ্রহকে আমি মুবারকবাদ জানাই। আল্লাহ আপনাদের এই আগ্রহে ইসতিকামাত দিক। আমীন। কিন্তু যারা আমার সাথে পরামর্শের জন্য মেসেজ দেন তাদের কয়েকটি কথা জেনে রাখা দরকার বলে মনে হয়।
১। সিয়াসাত বিষয়ে আমার শাস্ত্রীয় কোনো পড়াশোনা নেই এবং এই বিষয়ে কোনো উস্তাদের কাছে বসে কোনো কিতাবও পড়া হয়নি। যখন আমি নিজে এই বিষয়ে পড়ার জন্য একজন উস্তাদের সাথে পরামর্শ করি তখন হুজুর বলেছিলেন, ‘আসলে এই বিষয়ে এই বিষয়ে আমার নিজেরও পড়াশোনা নাই এবং ব্যাপক পড়াশোনা আছেন এমন কাউকে জানিও না। তাই আপনার কষ্ট হবে বাকি হিম্মত করলে সহজ। আপনি প্রথমে আমাদের সালাফদের কিতাবগুলো শুরু করেন এরপর সমকালীন সর্বজন নির্ভরযোগ্য যে আলেমরা এই বিষয়ে কলম ধরেছেন তাদেরগুলো পড়বেন। তখন ইনশাআল্লাহ, আপনি নিজেও কিছু দিক পেয়ে যাবেন’
তো সকলের ক্ষেত্রে এই পরামর্শই আমি দিবো।
২। ফেসবুকে যারা আমার কাছে পরামর্শ চান, যেহেতু আমি আপনাদের চিনি না, তাই আপনাদের বিশ্বাসও করি না। আপনি কে? আপনার আসলে ইসতেদাদ কতটুকু? আপনি কী আসলেই পড়বেন কি না? এসকল কিছুই আমি জানি না। তাই আপনাকে পরামর্শ দিয়ে আমি সময়ও নষ্ট করতে চাই না৷ আমি অনলাইনকে সাধারণত অবিশ্বাসের চোখেই দেখি, এবং এই উসুল মেনে চলি।
৩। এরপরেও যাদের আগ্রহ আছে তাদের ব্যাপারে পরামর্শ হলো আমি কোনো গোপন পাহাড়ে থাকা লোক নই। বাস্তবিকই যদি আপনার সিয়াসাত পড়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে একদিন আমার মাদরাসায় মেহমান হন। আপনার সাথে দেখা হোক, কথা হোক, ইনশাআল্লাহ তখন আমার জানার পরিধির মাঝে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবো। আর যদি ইলমের জন্য এতটুকু রিহলা না করতে পারেন তাহলে আপনার পিছনে আসলে আমার সময় দেয়ারও কোনো ইচ্ছে নেই।
.
আমার মাদরাসার ঠিকানা
মাদরাসাতু আলী রা., পাঠানটুলি, শিবুমার্কেট, নারায়ণগঞ্জ।
.
জাযাকাল্লাহ খাইরান।
11 326
একটি শাসন কাঠামো বুঝার জন্য সেটার প্রায়োগিক দিকটি বুঝা অত্যান্ত জরুরি। মুসলিম বিশ্বে শরীয়ার বাস্তবায়নটা কেমন ছিলো সেটা অনেকটা ইতিহাসের বইগুলোতে পাওয়া যায় না। বা যাও পাওয়া যায় তা এত বিক্ষিপ্ত যে এগুলো বহু পাঠাকই ধরতে পারে না। এজন্য অনেক গবেষক বিষয়টিকে গুরুত্বে নিয়ে এই বিষয়ে স্বতন্ত্র কাজ করেছেন। এই বিষয়ে আরবে এখন বেশ কাজ হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সময় সুযোগ আমার সংগ্রহে ও পড়া সে বইগুলো নিয়ে আলাপ করবো।
.
ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইসলামী ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক অধ্যাপক একেএম আব্দুল আলীম এই বিষয়ে একটি কাজ করেছেন। তিনি ভারতবর্ষের প্রসিদ্ধ দুই শাসন—সুলতানি ও মোঘল আমলের শাসনব্যবস্থা ও পরিচালনা পদ্ধতি কেমন ছিলো সে বিষয়ে এই বইটি রচনা করেছেন।
.
সামগ্রিক বিচারে বইটি বেশ চমৎকার। বিশেষত ইসলামি খি*লা*ফত ও সিয়াসত বিষয়ে যারা পড়তে আগ্রহী তাদের জন্য অবশ্য জরুরি একটি বই। আমাদের ফিকহের কিতাবে শাসন পরিচালনার যে বিষয়গুলো আমরা পড়ে থাকি সেগুলোর তাতকিক কেমন ছিল এই বিষয়ে বইটি বেশ উপকার দিবে।
.
বইটি সামগ্রিক বিচারে চমৎকার হলেও বেশকিছু ভ্রান্তি থেকে মুক্ত নিয়, এর সবচেয়ে বড় কারন, ইতিহাস বিষয়ে লেখকের দখল থাকলে ইসলামের সামগ্রিক বিষয়ে লেখকের জানার কমতি বলেই আমার মনে হয়েছে।
.
আমাদের ইসলামি ইতিহাসে জালেম শাসক থাকলেও স্বৈরাচারের যে প্রচলিত অর্থ বা ইউরোপে স্বৈরাচারি শাসক বলতে যা বুঝায় তা কখনোই ছিলো না। কারণ এরকম স্বৈরাশাসক হওয়া মুসলিমদের মাঝে হওয়া সম্ভবই নয় যদি ইসলামি শিক্ষা সঠিকভাবে থাকে। মুসলিম শাসকগন বাস্তবিক কেমন ছিলেন, তাদের ক্ষমতার পরিধি কেমন ছিলো এই বিষয়ে লেখক বইয়ের শুরুতেই চমৎকার আলোচনা করেছেন৷ এখানে একটি উদ্ধৃতি নকলের লোভ সামলাতে পারছি না। লেখক লেখেন, ‘সুলতানরা মুসলিম আইনের অধিনে ছিলেন, তা রক্ষা করা ও কার্যকর করা ছিলো তাদের প্রধান কর্তব্য। যদিও মুসলিম আইন ব্যাখ্যা করার একটু সীমিত অধিকার তাদের ছিলো তথাপি তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা তাদের ছিলো না৷... যদিও মুসলিম আইন বিশেষজ্ঞগণ আইনের সর্বোচ্চ ব্যাখ্যাকারী হিসেবে শাসকদের অধিকার স্বীকার করিতেন, কিন্তু কার্যত শাসকরা আইনের স্বীকৃত ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে যেতে পারতেন না৷... মোটের উপর দিল্লের সুলতানরা রাজ্য শাসনব্যবস্থায় এবং জনগণের প্রতি আচরনে শরীয়তের প্রতি অসাধারণ সম্মান প্রদর্শন করতেন যা অস্বীকার করা চলে না৷... দিল্লির সুলতানদের খুব কমই আইনপ্রণয়নের ক্ষমতা ছিলো রাজ্যের জনগনের ধর্মীয় আইনে তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারতেন না৷... উলামা ও আইন বিশারদদের সমর্থনও সুলতানরা কামনা করতেন৷’ পৃষ্ঠা ১৮-২০
শরীয়া আইনের প্রভাব ও পরিবেশ ছিলো এমন যে, খোদ সুলতান মুহাম্মদ তোঘলকের আমলে রাজপরিবারের এক মেয়ে জি না করলে তাকে রজম করে হ ত্যা করা হয়।
.
মোটকথা, আমাদের মুসলিম আমলে শরীয়ার আলোকে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা, মন্ত্রীত্বের পদ, অর্থব্যবস্থা, পুলিসিব্যবস্থা, সামরিকব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো কীভাবে প্রায়োগিক পরিচালিত হতো সেটা জানার জন্য বেশ উত্তম একটি বই।
.
তবে এখানে মনে রাখতে হবে, ইতিহাস থেকে শরীয়তের মাসআলা প্রমানিত হয় না, যদি কোথাও শাসকগণ শরীয়তের বাহিরে গিয়ে কিছু করে থাকে তাহলে তা ভুল ছিলো। এটার দায় তাদের, শরীয়তের ও ইসলামের নয়।
11 326
কতটা উগ্রতা শিখিয়ে গেছেন কওমীর ছাত্রদের এই মানুষগুলো! আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
11 326
সংযুক্তি :
আমলে সালেহ ও আমলে সাইয়িয়াহ :
এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে বলতে চাই, তাবুকের যুদ্ধে কয়েকজন সাহাবা যখন জি হা দ থেকে বিরত থাকলে আল্লাহ তাদের সে বিষয়টি কুরআনে এই শব্দে বলছেন,
ﵟوَءَاخَرُونَ ٱعۡتَرَفُواْ بِذُنُوبِهِمۡ خَلَطُواْ عَمَلٗا صَٰلِحٗا وَءَاخَرَ سَيِّئًا عَسَى ٱللَّهُ أَن يَتُوبَ عَلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌﵞ
আর অন্যকিছু লোক রয়েছে, যারা নিজেদের গোনাহ স্বীকার করেছে, তারা তার মিশ্রিত করেছে এক সৎকর্মের সাথে অপর মন্দ কর্ম। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ অতিক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা তাওবা : ১০২
আমলে সালেহ (নেক আমল) ও আমলে সাইয়িয়াহ দ্বারা আয়াতে কী উদ্দেশ্য? আমলে সালেহার ব্যাখ্যায় ইমাম সুয়ুতি রহিমাহুল্লাহ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন সেখানে একটি বলেছেন জিহাদ। তিনি লেখেন,
{خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا} وَهُوَ جِهَادهمْ قَبْل ذَلِكَ أَوْ اعْتِرَافهمْ بِذُنُوبِهِمْ أَوْ غَيْر ذَلِكَ {وَآخَر سَيِّئًا} وَهُوَ تَخَلُّفهمْ
সৎকর্ম হলো তারা ইতিপূর্বে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামের সাথে যে জি হা দ করেছেন। আর সাইয়িয়াহ হলো জি হা দ থেকে পিছনে থাকা।
আমালে সাইয়িয়াহের ব্যাখ্যায় আরো স্পষ্ট করে জি হা দ থেকে বিরত থাকাকেই ইমাম তাবারি রহিমাহুল্লাহ বলছেন,
والآخر السيئ: هو تخلفهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، حين خرج غازيا، وتركهم الجهاد مع المسلمين.
আমলে সাইয়িয়াহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জিহাদ থেকে পিছনে থাকা এবং মুসলমানদের সাথে মিলে জিহাদ করা ছেড়ে দেয়া।
কুরআন তো জিহাদ করাকে আমলে সালিহ বলছে, আর জিহাদ ছেড়ে দেয়াকে সাইয়্যিআহ। এহিসেবে আয়াতের মর্ম দাঁড়াবে, জিহাদের মাধ্যমে আমলে সালিহ করলে আল্লাহ খিলাফত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর জিহাদ ছেড়ে দিলে তো আমলে সালিহ থাকলো না, বরং আমলে সাইয়্যিআহ হলো, যার সাথে খিলাফতের প্রতিশ্রুতি নেই। বরং ভিন্ন আয়াতে শাস্তির ঘোষণা রয়েছে।
আমলে সালেহের বিষয়ে একটি মৌলিক কথা :
পবিত্র কুরআনে যতো যায়গায় 'আমলে সালিহ'-এর কথা এসেছে, জালালালাইনসহ সব তাফসীরে এর ন্যুনতম ব্যাখ্যা করা হয়েছে أي أدّى الفرائض সর্বনিম্ন হচ্ছে; ফরজ আদায় করা। ফরজ ছেড়ে দেওয়া কখনোই আমলে সালিহ নয়। আর জিহাদের বিধানটি তো অবশ্যই একটি ফরজ বিধান। তাহলে এটিকে বাদ দিলে আমলে সালিহই বা থাকলো কোথায়?
11 326
"খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা মাওউদ না মামুর" এই শিরোনামে উপরের লেখাটি যারা পিডিএফে পড়তে চান। তারা এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
11 326
বস্তুত প্রতিটি নেক আমলের একটি প্রতিক্রিয়া আর দুনিয়ার বাহ্যত ফলাফল রয়েছে। জি হা দ-কিতাল হলো দুনিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ ও টিকিয়ে রাখার আমল যার মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের ক্ষমতা দেন ও বিজয় দান করেন। এই বিষয়টির দিকেই খুব সংক্ষিপ্তভাবে ইঙ্গিত করেছেন বর্তমান ইমারতের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আব্দুল বাকি হ ক কানী হাফিজাহুল্লাহ। তিনি ইসলামি হুকুমত (রাষ্ট্র) প্রতিষ্ঠা করা ফরজ এই বিষয় তার “আস সিয়াসাত ওয়াল ইদারাত ফিল ইসলাম” গ্রন্থে বিস্তর আলোচনা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘ইমাম প্রতিষ্ঠা করা (ইসলামি হুকুমত) এটা ফরজ বিধান। তারজন্য কাজ করা ব্যক্তি সাওয়াবের অধিকারী হবেন এবং তা ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। আর এর দলিল হলো কুরআন, সুন্নাহ, ইজমাউস সাহাবা ও শরীয়তের স্বীকৃত মূলনীতিসমূহ।’ এরপর তিনি এর অনেকগুলো কারন উল্লেখ করেন। এক জায়গায় লেখেন, ‘এক্ষেত্রে উসুলবিদদেন নিকট একটি সর্বস্বীকৃত বাস্তবতা রয়েছে। আর তা হলো, জি হা দ হাসান লিগাইরিহী (একটি বিশেষ লক্ষ্যের কারণে উত্তম কাজ)। আর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই হলো ইসলাম হুকুমতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কালিমা এবং তার দ্বীনকে বুলন্দ করা। আর জি*হা*দ হলো ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার কারণ ও মাধ্যম। শরীয়ত সম্মতভাবে এটা কখনোই কল্পনা করা যায় না যে, কারণ ও মাধ্যম আদিষ্ট (ফরজ দায়িত্ব) হবে কিন্তু মূল লক্ষ্যটা আদিষ্ট (ফরজ দায়িত্ব) হবে না।’ -আসসিয়াসাত ওয়াল ইদারাত ফিল ইসলাম পৃ. ৯৮
11 326
وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦ يَٰقَوۡمِ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ إِذۡ جَعَلَ فِيكُمۡ أَنۢبِيَآءَ وَجَعَلَكُم مُّلُوكٗا وَءَاتَىٰكُم مَّا لَمۡ يُؤۡتِ أَحَدٗا مِّنَ ٱلۡعَٰلَمِينَ
এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতের কথা স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নবী প্রেরণ করেছিলেন, তোমাদেরকে রাজক্ষমতার অধিকারী করেছিলেন এবং বিশ্ব জগতের কাউকে যা দেননি তোমাদেরকে তা দান করেছিলেন। -আল মায়িদাহ – ২০
মুসা আ. তার কওমকে পূর্বের রাজক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং সেটাকে পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জি হা দের ময়দানে আহবান করছেন। কিন্তু বনী ইসরাইল জি হা দের এই কাজে ফিরে না আসার কারনে আল্লাহ তাদের ক্ষমতা দেননি বরং শাস্তি দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَٰقَوۡمِ ٱدۡخُلُواْ ٱلۡأَرۡضَ ٱلۡمُقَدَّسَةَ ٱلَّتِي كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمۡ وَلَا تَرۡتَدُّواْ عَلَىٰٓ أَدۡبَارِكُمۡ فَتَنقَلِبُواْ خَٰسِرِينَ 21 قَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّ فِيهَا قَوۡمٗا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَن نَّدۡخُلَهَا حَتَّىٰ يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا فَإِن يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا فَإِنَّا دَٰخِلُونَ 22 قَالَ رَجُلَانِ مِنَ ٱلَّذِينَ يَخَافُونَ أَنۡعَمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمَا ٱدۡخُلُواْ عَلَيۡهِمُ ٱلۡبَابَ فَإِذَا دَخَلۡتُمُوهُ فَإِنَّكُمۡ غَٰلِبُونَۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَتَوَكَّلُوٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ 23 ﵞ ﵟقَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّا لَن نَّدۡخُلَهَآ أَبَدٗا مَّا دَامُواْ فِيهَا فَٱذۡهَبۡ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَٰتِلَآ إِنَّا هَٰهُنَا قَٰعِدُونَ
হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ কর, যা ল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। এবং নিজেদের পিছনের দিকে ফিরে যেয়ো না, তা হলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তারা বলতে লাগল, হে মূসা! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে (সেই দেশে) অবস্থানরত থাকবে, ততক্ষণ আমরা কিছুতেই সেখানে প্রবেশ করব না। আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হলে) তুমি ও তোমার রব্ব চলে যাও এবং তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আমরা তো এখানেই বসে থাকব। তারা বলল: হে মূসা, আমরা জীবনেও কখনো সেখানে যাব না, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে। অতএব, আপনি ও আপনার পালনকর্তাই যান এবং উভয়ে যু দ্ধ করে নিন। আমরা তো এখানেই বসলাম। -আল মায়িদাহ : ২৪
আয়াতের প্রথম অংশ :
এবার আসি আয়াতের প্রথম অংশ নিয়ে। আল্লাহ তায়ালা সূরা নূরের সে আয়াত বলতেছেন নেক আমল করলে আল্লাহ ক্ষমতা প্রধান করবেন। কিন্তু খি লা ফ ত কে মাওউদ বলা ভাইরা এটা ভুলে যান যে, নামাজ-রোজা, হজ, জাকাত, ইলম চর্চা, ইলমের প্রসার যেমন নেক আমল, তেমনি জি হা দও একটি নেক আমল। বরং কোনো কোনো হাদিসে তো জি হা দকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে আক্ষায়িত করা হয়েছে। যেমন,
عن أبي هريرة: أن رجلا أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنده، فسأله، فقال: يا نبي الله: أي الأعمال أفضل؟ قال: " الإيمان بالله، والجهاد في سبيل الله. (مسند أحمد 15/15، برقم: 9038، )
হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, একলোক এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর উপর ঈমান আনা ও আল্লাহর রাস্তায় জি হা দ করা। -মুসনাদে আহমদ
বাস্তবতা হলো জি হা দ তো এমন একটি আমল যা ছেড়ে দিলে আল্লাহ লাঞ্চনা ছাপিয়ে দিবেন। আর এই লাঞ্চনা ততদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে যতদিন না মুসলমানরা দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। আর হাদিসে দ্বীনের দিকে ফিরে আসার ব্যাখায় বহু মুহাদ্দিস বলেছেন জি হা দের দিকে ফিরে আসা। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الإِخْبَارُ لِجَعْفَرٍ وَهَذَا لَفْظُهُ .
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে এরূপ বলতে শুনেছি,... যদি তোমরা জিহাদ পরিত্যাগ কর, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান প্রবল করে দেবেন যে, যতক্ষণ না তোমরা দ্বীনের উপর পূর্ণরূপে প্রত্যাবর্তন করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদের থেকে ঐ অপমান দূর করবেন না। - সুনানে আবু দাউদ : ৩৪৬২
এই হাদিসে বর্ণিত “যতক্ষন তোমরা দ্বীনের দিকে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তণ করবে” এর ব্যাখ্যায় খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
(حتى ترجعوا إلى دينكم) أي: اعملوا على شريعة الإِسلام، وجاهدوا في سبيل الله.
অর্থাৎ তোমরা শরীয়তের উপর আমল করো এবং আল্লাহর রাস্তায় জি হা দ করো। -বাজলুল মাজহুদ
11 326
খি লা ফ ত প্রতিষ্ঠা করা মাওউদ না মামুর
.
বর্তমান সময়ে খি লা ফ ত প্রতিষ্ঠা নিয়ে যে কটি আপত্তি বাজারে চলছে তার মাঝে অন্যতম একটি হলো ‘খি লা ফ ত প্রতিষ্ঠা করা বান্দার উপর আবশ্যক নয়, বরং এটা আল্লাহ বান্দাকে দিবেন। বান্দার জন্য আবশ্যক হলো নেক আমল করে যাওয়া। সুতরাং যারা এই দাবী করে যে, জি হা দের মাধ্যমে খি লা ফ ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে তারা স্পষ্ট ভুল।’ এই দাবীর পক্ষে তারা দলিল হিসেবে কুরআনে এই আয়াতটি পেশ করেন।
وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مِنكُمۡ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ كَمَا ٱسۡتَخۡلَفَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمۡ دِينَهُمُ ٱلَّذِي ٱرۡتَضَىٰ لَهُمۡ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّنۢ بَعۡدِ خَوۡفِهِمۡ أَمۡنٗاۚ يَعۡبُدُونَنِي لَا يُشۡرِكُونَ بِي شَيۡـٔٗاۚ وَمَن كَفَرَ بَعۡدَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে নিজ খলীফা বানাবেন, যেমন খলীফা বানিয়েছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তাদের জন্য তিনি সেই দীনকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দান করবেন, যে দীনকে তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তারা যে ভয় - ভীতির মধ্যে আছে, তার পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে। আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। এরপরও যারা অকৃতজ্ঞতা করবে, তারাই অবাধ্য সাব্যস্ত হবে। -আন নূর : ৫৫
.
আপত্তির জবাব :
১. মূলত এই মাওকিফটি হলো ক্রিয়ার পালটা প্রতিক্রিয়া। মাওলানা মওদুদি রহিমাহুল্লাহ যখন খিলাফত (রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা)কে দীনের অন্যতম মাকসাদ বলে মত দিলো এবং অন্যান্য আমলকে তেমন গুরুত্ব দিলো না, তখন এর খণ্ডনেই মূলত দেওবন্দি একদল আলেমদের ভিতর বিপরীত এই মতটি দেখা দিলো—খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার আদিষ্টই নয় মানুষ, বরং এটা আল্লাহ দিবেন অর্থাৎ, খি লা ফ ত মাওউদ, মামুর নয়।
কিন্তু বর্তমানে এই অবস্থানটি হয়ে গেছে যারা জি হা দের মাধ্যমে পৃথিবীতে খি লা ফ তকে পূনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেন তাদের খণ্ডনের জন্য। অর্থাৎ, 'তোমরা জি হা দে র মাধ্যমে দুনিয়াতে খি লা ফ ত প্রতিষ্ঠা করতে চাও, এটা তো সঠিক নয়, কারন খি লা ফ ত আল্লাহ দিবেন। সুতরাং খি লা ফ তে র জন্য জি হা দ লাগবে এই প্রবক্তারা একটি ভুল কথা ছড়াচ্ছেন।' কিন্তু আমাদের দাবী হলো, খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা মানুষের উপর একটি আবশ্যকীয় দায়িত্ব। আর এরজন্য জিহাদ হলো অন্যতম বিশেষ একটি পন্থা।
২. খি লা ফ ত আদিষ্ট নয় বরং আল্লাহ দিবেন এটার সপক্ষে তারা যে আয়াতটি পেশ করেন সেই আয়াতের মধ্যেই জি হা দে র মাধ্যমে খি লা ফ ত আল্লাহ দিবেন সেটার ইঙ্গিত রয়েছেন।
মূলত আয়াতে দুটো অংশ রয়েছে। এক. নেক আমল করলে খি লা ফ ত দিবেন। দুই. যেমনটা পূর্ববর্তী উম্মতকে দিয়েছেন।
আয়াতের দ্বিতীয় অংশ নিয়ে আমরা প্রথমে আলোচনা করি। আল্লাহ পূর্ববর্তীদের কীভাবে খি লা ফ ত বা কেন্দ্রীয় শক্তি দিয়েছেন। সূরা নূরের এই আয়াতে উম্মতে মুহাম্মদির খি লা ফ তের পূর্বসুরী কারা সে ব্যাপারে ইমাম রাজি রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
فقد وعد الله الذين آمنوا منكم وعملوا الصالحات أي الذين جمعوا بين الإيمان والعمل الصالح أن يستخلفهم في الأرض فيجعلهم الخلفاء والغالبين والمالكين كما استخلف عليها من قبلهم في زمن داود وسليمان عليهما السلام وغيرهما، (التفسيرالكبير 24/412)
অর্থাৎ, পূর্বসূরী হলেন দাউদ, সুলাইমান ও অন্যরা।
এখন দেখার বিষয় হলো, পূর্ববর্তীদের কীভাবে আল্লাহ ক্ষমতা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কুরআনের দুটো ঘটনার দিকে আমরা আলোকপাত করলে আশা করি পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। ১. বাদশাহ তালুত ও হযরত দাউদ আ.-এর মাধ্যমে। ২. হযরত মূসা আ.-এর সময় বনী ইসরাইলকে ক্ষমতা প্রধানের জন্য জিহাদের আদেশ।
সূরা বাকারায় আল্লাহ তায়ালা তালুত বাদশাহের মাধ্যমে নিঃস্ব বনী ইসরাইলকে ক্ষমতা দিয়েছেন। সে ক্ষমতা অর্জনের পুরোটাই ছিলো জি হা দে র আদেশের মাধ্যমে। বরং সেসময় জি হা দের আদেশ না মানার কারনে আল্লাহ বনী ইসরাইলকে ব্যাপক নিন্দা করেছেন। বিস্তারিত আলোচনা সেখানে দেখে নিতে পারেন। এখানে আল্লাহ তায়ালা যুদ্ধের শেষের বর্ণনা দিচ্ছেন এভাবে,
فَهَزَمُوهُم بِإِذۡنِ ٱللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُۥدُ جَالُوتَ وَءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلۡمُلۡكَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَعَلَّمَهُۥ مِمَّا يَشَآءُۗ وَلَوۡلَا دَفۡعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعۡضَهُم بِبَعۡضٖ لَّفَسَدَتِ ٱلۡأَرۡضُ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ ذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হ ত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। -আল বাকারা : ২৫১
আয়াতে স্পষ্টই উল্লেখ আছে, আল্লাহ দাউদ আ.কে ক্ষমতা দান করেছেন জি হা দ করার পরেই।
২. হযরত মূসা আ.-এর সময় বনী ইসরাইলকে ক্ষমতা প্রধানের জন্য জি হা দের আদেশ।
11 326
ইসলামি শাসন (রাষ্ট্র) প্রতিষ্ঠা করা ফরজ আর তার মাধ্যম হলো জি*হা*দ
.
বর্তমান ইমারতের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আব্দুল বাকি হ ক কানী হাফিজাহুল্লাহ ইসলামি হুকুমত (রাষ্ট্র) প্রতিষ্ঠা করা ফরজ এই বিষয় বিস্তর আলোচনা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘ইমাম প্রতিষ্ঠা করা (ইসলামি হুকুমত) এটা ফরজ বিধান। তারজন্য কাজ করা ব্যক্তি সাওয়াবের অধিকারী হবেন এবং তা ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। আর এর দলিল হলো কুরআন, সুন্নাহ, ইজমাউস সাহাবা ও শরীয়তের স্বীকৃত মূলনীতিসমূহ।’
এরপর তিনি এর অনেকগুলো কারন উল্লেখ করেন দলিলসহ। একপর্যায়ে লেখেন, ‘এক্ষেত্রে উসুলবিদদেন নিকট একটি সর্বস্বীকৃত বাস্তবতা রয়েছে। আর তা হলো, জিহাদ হাসান লিগাইরিহী ( একটি বিশেষ লক্ষ্যের কারণে উত্তম কাজ)। আর তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই হলো ইসলাম হুকুমতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কালিমা এবং তার দ্বীনকে বুলন্দ করা। জি*হা*দ হলো ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার কারণ ও মাধ্যম।’
সূত্র: আসসিয়াসাত ওয়াল ইদারাত ফিল ইসলাম পৃ. ৯৮
11 326
উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটির ইসলামি সাংস্কৃতিক বিষয়ক শিক্ষক ড. ফাহাদ আজলান। পশ্চিম থেকে ধেয়ে আসা ফিতনা নিয়ে যে কজন আলেমের কাজ খুব বেশি ভালো লেগেছে এবং উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছি তাদের মাঝে উনি অন্যতম। উনার ‘যুখরুফাল কওল’, ‘মারাকাতুন নস’ ও ‘সুয়ালাত তাহকিমিশ শারয়িয়্যাহ’ এই তিনটি কিতাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
.
প্রথম যখন জানতে পারলাম ড. ফাহাদ আজলান সাহেব সিয়াসাত বিষয়ক বই লেখেছে সাথে সাথে বইটি সংগ্রহ করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করি। আল্লাহ বই সংগ্রহের এই দৌড়ঝাঁপ কবুল করে নিক।
.
সিয়াসাত বিষয়ে আগ্রহ থাকার কারনে হোক বা পছন্দের ও নির্ভরযোগ্য একজন আলেমের বইয়ের কারনে হোক, বইটি সংগ্রহ করে অল্প সময়ে পড়ে নেই। আলহামদুলিল্লাহ বইটি থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি। ইসলামি সিয়াসাতের পরিব্যাপ্ত কত বিস্তৃত তা বইটি পড়ে আরো অনেক বেশি বুঝে এসেছে।
.
বইটিতে মোট পাঁচটি অধ্যায়। এরমাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথম অধ্যায়ের সিয়াসাত বিষয়ক মৌলিক বারোটি ভুমিকা। সেখানে সিয়াসাত শব্দের তাহকিক, মূলনীতি, আমাদের সালাফগণ সিয়াসাত শব্দকে কোন কোন অর্থে ব্যবহার করতেন, সিয়াসাতের পরিব্যাপ্ত কতটুকু, কোন কোন বিষয়ে সিয়াসাতের অন্তর্ভুক্ত হবে, সিয়াসাতের মূলই যেহেতু মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য কাজ করা, তাইলে মানুষের কল্যাণ ও শরয়ী সীমারেখা উভয়টার সামঞ্জস্য ও সাংঘর্ষিকতা কীভাবে সমাধান হবে, আধুনিক পলিটিকাল সাইন্স কী, এর সাথে প্রাচীন সিয়াসাতকে কীভাবে সামঞ্জস্য করতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে চমৎকার চমৎকার আলোচনা করেছেন।
.
যেহেতু সিয়াসাতের মূলই হলো মাসালেহে আম্মার জন্য ইজতিহাদ করে সঠিক সিন্ধান্তে পৌঁছা, তাই এই বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে কীভাবে হয়েছে। যে বিষয়গুলোতে স্পষ্ট নস আছে এগুলোতে উনারা কীভাবে কাজ করেছেন, আর যেগুলোতে স্পষ্ট নস নেই সেগুলোকে উনারা কীভাবে সমাধান দিয়েছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায়ে লেখক বিস্তর আলোচনা করেছেন।
.
চতুর্থ অধ্যায়ে, লেখক দেখিয়েছেন কাওয়ায়েদে ফিকহিয়্যায়ে সিয়াসিয়্যাহগুলোর বাস্তবতা ও প্রয়োগক্ষেত্রগুলো। যেমন শাসক কর্তৃক কোনো ব্যাপক বৈধ বিষয়কে সীমিত করতে পারা। এটা একটি সিয়াসি কায়েদা। এখন এই কায়েদার পরিব্যাপ্তি কতটুকু, আসলেই এমন কিছু করার শরয়ী অনুমোদন আছে কি না, এই বিষগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
.
শেষ অধ্যায়ে আমাদের ফিকহের তুরাসের বিভিন্ন সিন্ধান্ত, যেগুলোর সামাজিক ইফেক্ট রয়েছে সেগুলোর কিছু নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফিকহের সে সিন্ধান্তগুলতে সিয়াসাতের প্রভাব বা সিয়াসাতের উপর ফিকহের সে সিন্ধান্তগুলোর প্রভাব কেমন ছিলো তা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করেছেন।
এই অধ্যায়ের দ্বিতীয় অংশে আলোচনা করেছেন, সিয়াসাতের নামে বর্তমানে দ্বীনের বিভিন্ন বিধানের মাঝে যে ব্যাপক রদবদল করা হচ্ছে সেগুলো আসলে সিয়াসাতে শরয়িয়্যার আলোকে কতটুকু উত্তীর্ণ। এবং সিয়াসাতে শরয়িয়্যার সাথে কতটুকু সাংঘর্ষিক।
.
যাইহোক, বইটি একজন সিয়াসাতের ছাত্রের জন্য বেশ উপকারী বলেই মনে হয়েছে। বিশেষত, সিয়াসাত ইসলামি ফিকহের কত বিস্তৃত একটি অধ্যায় এই বিষয়টি সম্পর্ক একটি সচ্ছ ও ব্যাপক ধারনা লাভের জন্য বেশ কাজে দিবে ইনশাআল্লাহ।
11 326
উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটির ইসলামি সাংস্কৃতিক বিষয়ক শিক্ষক ড. ফাহাদ আজলান। পশ্চিম থেকে ধেয়ে আসা ফিতনা নিয়ে যে কজন আলেমের কাজ খুব বেশি ভালো লেগেছে এবং উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছি তাদের মাঝে উনি অন্যতম। উনার ‘যুখরুফাল কওল’, ‘মারাকাতুন নস’ ও ‘সুয়ালাত তাহকিমিশ শারয়িয়্যাহ’ এই তিনটি কিতাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উনারই সিয়াসাত বিষয়ক একটি অন্যতম বই হলো আল মুহাররার ফিস সিয়াসাতিশ শারয়িয়্যাহ।
