জবাব: অমুসলিমদের থেকে সাধারণ ফলমূল বা মিষ্টান্ন দ্রব্য হাদিয়া গ্রহণ করা শরীয়তে নাজায়েয কিছু নয়। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম তা গ্রহণ করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের গ্রহণ করা ফলমূল কোনো দেবদেবি বা গাইরুল্লাহের নামে উৎসর্গিত ছিলো না। কারণ গাইরুল্লাহের নামে উৎসর্গিত বস্তু যদি কোনো মুসলিমও করে তাও তা হারাম হয়ে যায়। বহু ফকিহ এই বিষয়টি স্পষ্ট বলেছেন। ইবনে নুজাইম রহ. (মৃত্যু: ৯৭০ হি.) লেখেন,
وأما النذر الذي ينذره أكثر العوام على ما هو مشاهد كأن يكون لإنسان غائب أو مريض، أو له حاجة ضرورية فيأتي بعض الصلحاء فيجعل سترة على رأسه فيقول يا سيدي فلان إن رد غائبي، أو عوفي مريضي أو قضيت حاجتي فلك من الذهب كذا، أو من الفضة كذا، أو من الطعام كذا، أو من الماء كذا، أو من الشمع كذا، أو من الزيت كذا فهذا النذر باطل بالإجماع لوجوه منها أنه نذر مخلوق والنذر للمخلوق لا يجوز؛ لأنه عبادة والعبادة لا تكون للمخلوق ومنها أن المنذور له ميت والميت لا يملك ومنها إن ظن أن الميت يتصرف في الأمور دون الله تعالى واعتقاده ذلك كفر.... فإذا علمت هذا فما يؤخذ من الدراهم والشمع والزيت وغيرها وينقل إلى ضرائح الأولياء تقربا إليهم فحرام بإجماع المسلمين ما لم يقصدوا بصرفها للفقراء الأحياء قولا واحدا. (البحر الرائق 2/521، كتاب الصوم، فصل ما يوجبه العبد على نفسه)
অর্থাৎ, বহু সাধারণ মানুষ গাইরুল্লাহের নামে যে মান্নত করে, ‘হে বাবা! আমার অমুক কাজ হলে আমি মাজারে এটা দিবো, সেটা দিবো; এটা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যদি এই মান্নত এই বিশ্বাস রেখে দেওয়া হয় এই মৃত ব্যক্তি আল্লাহর বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার শক্তি রাখে তাহলে তা কুফর হবে। এথেকে জানা গেলো, বিভিন্ন আউলিয়াদের মাজারে যে টাকা-পয়সা, মোমবাতি ইত্যাদি মান্নতের নামে দেওয়া হয় তা সকল মুসলমানের ঐক্য মতে হারাম। -আলবাহরুর রায়েক ২/৫২১, যাকারিয়্যাহ বুকডিপো
ফকিহ ইবনে আবেদিন শামী রহ.-এর ছেলে আলাউদ্দিন ইবনে আবেদিন রহ. (মৃত্যু: ১৩০৬ হি.) বলেন,
1. واعلم أن النذر الذي يقع للأموات من أكثر العوام وما يوْخذ من الدراهم والشمع والزيت ونحوها إلى ضرائح الأولياء الكرام تقربا إليهم، ...فهو باطل وحرام، لأنه نذر للمخلوق وهو لايجوز، لأنه عبادة، والعبادة لا تكون إلا لله تعالى لا للمخلوق،
জেনে রাখা ভালো—অনেক সাধারণ মানুষ মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে যে সকল মান্নত করে থাকে, এবং আওলিয়ায়ে কেরামের কবরে দিরহাম, মোমবাতি, তৈল ইত্যাদি নিয়ে যায় তাদের নৈকট্য অর্জনের জন্য, যেমন তারা বলে—হে অমুক বাবা!/নেতা! আপনি যদি আমার হারিয়ে যাওয়া বস্তু ফিরিয়ে দেন, অথবা আমার অসুস্থতা দূর করে দেন, কিংবা আমার প্রয়োজন পূরণ করে দেন, তাহলে আপনাকে এই পরিমান স্বর্ণ, রূপা, মোমবাতি অথবা তৈল দিবো। সুতরাং এগুলো বাতিল এবং হারাম, কেননা এগুলো গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে মান্নত করা হয়েছে, অথচ সেটা জায়েয নেই। কারণ, মান্নত ইবাদত, আর ইবাদত আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাখলূকের জন্য হতে পারে না। - আল হাদিয়্যাতুল আলাইয়্যা পৃ. ১৪২
যেখানে মুসলমানদের গাইরুল্লাহের নামে মান্নত হারাম হয়ে যাচ্ছে, সেখানে অমুসলিমদের দেবদেবির নামে উৎসর্গিত বস্তু হালালের প্রশ্নই উঠে না। আর কোনো নসে এমন নেই যে, গাইরুল্লাহের নামে উৎসর্গিত বস্তু সাহাবায়ে কেরাম খেয়েছে। তাই ফলমূল গ্রহণের নসগুলোকে এই অর্থেই গ্রহণ করতে হবে যে, সেগুলো গাইরুল্লাহের নামে উৎসর্গিত ছিলো না বরং সাধারণ ফলমূল ছিলো।
তাই হিন্দুদের উৎসবের দিনে দেবতাদের জন্য উৎসর্গ ছাড়া ও তাদের জবাইকৃত পশু ব্যতিত অন্যান্য খাবার গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব উৎসবের দিলগুলোতে তাদের থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকাই উচিত ও এটা হারাম থেকে বাঁচতে বেশি নিরাপদ।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমীন। আল্লাহু আলাম।