আবুল হাসান আলী নদবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
ইসলামে ইমামত তথা নেতৃত্বের বিষয়টি ব্যাপক ও বিস্তৃত গুণাবলি দাবি করে। বিশেষ করে, একজন নেতার দুটি যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।
১. জিহাদ
২. ইজতিহাদ
১. জিহাদ: একজন মুসলমানের সব চাইতে বড় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং তাঁর সার্বভৌমত্ব ও বিধি-বিধানের সামনে পূর্ণ আত্মসর্মপণ। এর জন্য প্রয়োজন, এমন প্রতিটি বিশ্বাস, নৈতিক চরিত্র ও কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ জিহাদের, যা এতে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। এবং ভেতর বাহিরের ঐ সমস্ত উপাস্য ও মিথ্যা মা'বুদগুলোর বিরুদ্ধে, যা আল্লাহর আনুগত্য ও ইসলামের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে দেখা দেয়।
এসব লক্ষ্য যখন অর্জিত হবে, তখন একজন মুসলমানের জন্য জরুরী হলো, সে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর বিধানসমূহকে তার চারপাশের পৃথিবী এবং সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য চেষ্টা করবে, প্রয়াস চালাবে।
—এটা তার ধর্মীয় দায়িত্ব ও আল্লাহর সৃষ্টিকূলের কল্যাণ কামনার স্বাভাবিক চাহিদা।
—এটা এজন্যও জরুরী, কোন কোন সময় ব্যক্তিগত দ্বীনদারী পরিবেশের আনুকূল্য ব্যতিরেকে কঠিন হয়ে পড়ে। কুরআন মজীদের পরিভাষায় একেই ফেতনা বলে।
এর উদ্দেশ্য হলো, ইসলামের সমান্তরালে কোনো প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যেন অবশিষ্ট না থাকে। যারা মানবপ্রকৃতিকে বিরোধী দিকের পানে টানবে এবং অসংখ্য মানুষের জন্য কুফর ও ইসলামের মাঝে সংঘাত হিসেবে দেখা দিবে। (২:১৯৩)
এই জিহাদের একটি দাবী হলো, মানুষ যে ইসলামের জন্য জিহাদ করবে, তার সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখবে। এবং যে কুফর ও জাহিলিয়্যাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তার সম্পর্কেও অবহিত থাকবে। তারা গভীরভাবে অবহিত হবে, যাতে করে যেই পোষাকে এবং যেই রঙেই তা জাহির হোক, দেখা মাত্রই তা চিনবে।
২. ইজতিহাদ: মুসলমানদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব (ইমামত) সে সমস্ত লোকের হাতে থাকবে, যারা সামনে আসা জীবনের নতুন নতুন সমস্যা-সংকটে এককভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে সঠিক ও যথাযথ ফয়সালা করার যোগ্যতা ও সামর্থ্য রাখেন। এবং ইসলামের স্পিরিট ও ইসলামের আইন প্রয়োগের মৌল নীতিমালা সম্পর্কে এতটা অবহিত এবং মাসয়ালা বের করার ব্যাপারে এতটা পারদর্শী হবেন যে, তারা মুসলিম উম্মাহর সামনে বিরাজমান সংকটগুলোর সমাধান করতে পারেন। এবং বিভ্রান্তিকালে ও সংকটাবস্থায় যিনি তাদের দিক-নির্দেশনা দিতে পারেন।
অধিকন্তু তারা এতটা মেধা, কর্মক্ষমতা ও জ্ঞানের অধিকারী ও পরিশ্রমী হবেন যাতে আল্লাহতায়ালা সমস্ত সৃষ্টিজগতে ও মানবের বুকে যেই প্রাকৃতিক শক্তি, সম্পদ ও শক্তির উৎস রেখে দিয়েছেন তা থেকে তারা কাজ নিতে পারেন। এবং সেগুলোকে ইসলামের লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক বানাতে পারেন। বাতিলপন্থীরা সেগুলোকে তাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করবে এবং যমিনে ফেতনা-ফাসাদ, অশান্তি ও অবজ্ঞাত সৃষ্টি কাজেই এ সবের সাহায্য নেবে। পক্ষান্তরে সত্য পথের পথিক এসব থেকে কাজ নেবে, যেজন্য আল্লাহ তায়ালা এসব সৃষ্টি করেছেন।
—আবুল হাসান আলী নদবী রহ.। মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারালো : ১৫৮।