একদল ছাত্র আছে যারা উস্তাদদের সাথে পরামর্শ করে নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় না৷ কিন্তু একদল এমন ছাত্রও তো আছে যারা নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো উস্তাদদের হাতে সঁপে দেয়। তাদেরকে কী আমরা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারি? তার মনের আকাঙ্খাগুলো সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি? বা তার জন্য যেটা উপযুক্ত না, সেটাকে সঠিক আন্দাজে তাকে বুঝিয়ে দিতে পারি?
.
কথাগুলো এজন্য বলা সম্প্রতি পাকিস্তানে প্রচুর বাংলাদেশের মাদরাসার তালেবে ইলম গিয়েছে। যাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হতে পারেনি। এটা নিয়ে অনেকেই দেখছি, খুবই মুরব্বিয়ানা আন্দাজে পোষ্ট দিচ্ছেন। কেনো পরামর্শ করে যাওয়া হয় না, আবেগের বসত কেনো দেশের বাহিরে যাওয়া হলো ইত্যাদি।
.
যারা লেখেছেন প্রত্যেকেই দিলে হাত দিয়ে বলেন তো, ইলমের জন্য রিহলার তলাবুল ইলমের যে স্বভাবজাত চাহিদা ও তীব্র স্বপ্ন ও আকাঙ্খা, সেটা নিয়ে যখন তালেবে ইলমরা আপনাদের কাছে যায় তখন আপনাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়? কয়জন মানুষ বাস্তবতা সামনে রেখে, তালেবে ইলমের ভিতরের তীব্র আকাঙ্খার প্রতি সম্মান দিয়ে তাকে পরামর্শ দেন!
.
আমি নিজের একটি কারগুজারি শুনাই। পাকিস্তানের বানুরীটাউনে ইফতা পড়েছে এরপরও বাংলাদেশেরও একটি বড় জায়গায় ইফতা পড়েছে এমন একজন মানুষের কাছে পাকিস্তানে গিয়ে ইফতা পড়তে যাবো ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শের জন্য ফোন দিলাম। সেই মুহতারাম আমার কথা শুনেই আগেপরে কোনো ভূমিকা ছাড়াই মুখের উপর বললো, ‘পাকিস্তানে কেনো যাবেন, সেখান থেকে তো আমাদের দেশের ইফতাগুলো আরো বেশি ভালো!’ অন্তরটা চুরমার হয়ে গিয়েছিলো! এত কষ্ট পেয়েছিলাম! একবার মুখখুলে বলে ফেলতে চেয়েছিলাম, যদি বাংলাদেশের ইফতাই ভালো হয়, তাহলে বানুরীটাউনের ইফতা ফারেগ এমন শিরোনাম সব জায়গায় কেন ব্যবহার করেন।
বিশ্বাস করেন, বিদেশে গিয়েছেন এমন উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের জিজ্ঞাসা করেন, তারা যখন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে বিদেশ বিষয়ে পড়ামর্শের জন্য যান, তাদের অভিজ্ঞতা আমার থেকে ভিন্ন না। বরং আরো খারাপ!
.
দেখুন, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের ইফতা ভালো, তার এই উপলব্ধিটা তো তিনি ভিন্নভাবেও তো উপস্থাপন করতে পারতেন। বা সেটা বলে দেওয়ার পর অন্যান্য লাইনে কিছুটা সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে পারতেন। কিন্তু করলেন না। তার সাথে লম্বা সময় কথা বলে আমি সামান্যতম উপকারও পাইনি! এমন অভিজ্ঞতা পাকিস্তান পড়তে গিয়েছেন আরো কয়েকজনের সাথেই হয়েছে!
.
বিদেশে যাচ্ছেন, এমন বেশিরভাগ তালেবে ইলমই, চাই সে মিশরে যাক বা মাদারে ইলম দেওবন্দ, তারা রিহলার হিম্মত করার পর খুব কম উস্তাদ থেকেই সাড়া পান আর যাদের থেকে সাড়া পান তাদের থেকে কমই সহযোগিতা পান। যার কারণে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটায় তার একাই চলতে হয়।
.
দেখুন, আমার এই পোষ্টের উদ্দেশ্য তালেবে ইলম ভাইদের উস্তাদ বা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে রিহলার বিষয়ে পরামর্শ করা থেকে অনুৎসাহিত করা নয়, আল্লাহর কাছে এমন চিন্তা ও কর্ম থেকে পানাহ চাই, বরং একটি বাস্তব বিষয় আপনাদের সাথে তুলে ধরাই উদ্দেশ্য।
যে ছাত্ররা রিহলার কঠিন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাদেরকে অনুৎসাহিত কইরেন না, আল্লাহর ওয়াস্তে। যারা রিহলার যোগ্য না, তাদেরকে বুঝান, বাস্তব সম্মত পদ্ধিতে বুঝান, কিন্তু তার রিহলার ইচ্ছেকে অনুৎসাহিত করে না।
মনে রাখবেন, ইলমের জন্য রিহলা এটা ইলমের একটি স্বভাবজাত বিষয় এবং আমাদের সালাফদের হাজার বছরের আমলি তুরাস। এটাকে আপনি জীবনেও বন্ধ করতে পারবেন না। বর্ডারের কাটাতার পারেনি! এত কিছুর পরেও গত বছরও কিছু বাংলাদেশি ভাইরা দেওবন্দ থেকে পড়ে এসেছে! সুতরাং ইলমের স্বভাবজাত চাহিদা ছাত্ররা পূরণ করবেই, আপনি এই কাজে তাদের সহযোগী হবেন, নাকি অন্যকিছু হবেন সেটা আপনার সিদ্ধান্ত।