ar
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

الذهاب إلى القناة على Telegram

إظهار المزيد
لم يتم تحديد البلدالفئة غير محددة
1 100
المشتركون
+1524 ساعات
+247 أيام
+2630 أيام
أرشيف المشاركات
photo content
+2

photo content

অতীতকে বয়ে চলতে হয় না, তার থেকে জ্ঞান নিতে হয়৷ নতুবা অতীত জীবনের উপর শৃঙ্খল পড়িয়ে দিবে৷ ভবিষ্যৎ হল পরিকল্পনার জন্য, যার বাস্তবতা মানুষের অজানা৷ বর্তমানই হল আসল বাস্তবতা, বর্তমানের উপরই জীবন প্রবাহিত হয়ে চলে৷ তাই “অতীতকে ধরে রেখে যেমন ভবিষ্যত নষ্ট করার মানে হয় না, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করারও মানে হয় না৷” অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত এগুলো হল সময়ের একটি সেতু৷ যার এক পাশে স্মৃতি, অন্য পাশে সম্ভাবনা৷ সম্ভাবনা ভাল না মন্দ হবে সেটা আমাদের মাঝখানের কর্মের উপর বর্তায়৷ যে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়, সে প্রজ্ঞাবান৷ যে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়, সে দূরদর্শী৷ কিন্তু যে বর্তমানকে বাঁচতে ভুলে যায়, সে চরম বোকা। কারণ জীবনের আসল মুহূর্তগুলোই সে নষ্ট করে ফেলে। কবি বলেন; অতীতের চোরাবালিতে ডুবতে চাই না আর, ভবিষ্যতের মরিচিকায় থাকতে চাই না আর, বর্তমানের আজান কাজা করতে চাই না আর৷ ~ মাহবূবুল মুরসালীন

photo content

photo content

photo content

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.)—যিনি বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও বুযুর্গ ছিলেন। তিনি তার দান-সদকাসমূহ শুধু উলামাদের মধ্যে খরচ করতেন। কেউ আরজ করল, আলেম ছাড়া অন্যদেরকেও যদি আপনি দান করতেন, তবে কতই না ভালো হতো! তিনি বললেন, আমি নবুওতের মর্যাদার পর ইলমের সমান মর্যাদাশীল আর কোনো কিছু পাইনি। যখন কোনো ইলমওয়ালা অন্য কোনো দিকে মনোনিবেশ করে, তখন তার ইলমের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্য তাদেরকে ইলমের কাজে মগ্ন থাকার জন্য নিশ্চিন্ত করে রাখা সবচেয়ে উত্তম কাজ। [ফাযায়েলে সাদাকাত, ১ম খণ্ড]

মাতাপিতার জন্য উচিত—সন্তান যেন আপনাদের প্রতি সদাচারী থাকে, সেজন্য তাদের প্রতি কোমল আচরণ করা। এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করা। তাদের পরীক্ষা না করা। আমরা মানুষরা তো আল্লাহর আনুগত্য করতে পারি—আল্লাহ তায়ালা এজন্য আমাদের সাহায্য করার কারণেই। তিনি সাহায্য না করলে এবং তাওফিক না দিলে আমাদের পক্ষে তার আনুগত্য করা সম্ভব ছিল না। তাই আপনিও সন্তানদের সাহায্য করুন আপনার আনুগত্যের ক্ষেত্রে। [ইসলামের অনুপম শিষ্টাচার : ৪০]

ছোট নেক কাজগুলো হলো মেহমানের মতো। মেহমান যেমন বেড়াতে এলে সমাদর না পেলে আর বেড়াতে আসে না, এই নেক কাজগুলোও এমন। যদি সুযোগ এলেও তা করা না হয়, তাহলে আর সুযোগ আসে না। [সালাফের জীবন থেকে : ১৭৭]

শাইখুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া রহ. পুরো জীবন (শুক্রবারে) আসরের নামায পড়ার সময় মসজিদে এতেকাফের নিয়তে ঢুকতেন এবং মাগরিব পড়ে বের হতেন। এ সময় কারও সাথে কোনো কথাবার্তা বলতেন না। তার জীবনীতে পাওয়া যায়, সফরে থাকলে গাড়িতে এতেকাফের নিয়তে বসে থাকতেন। আর সঙ্গীদের বলে দিতেন, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তার সাথে কেউ যেন কোনো কথা না বলে। গাড়িতে সফর করছেন। বসে আছেন। কিন্তু ওই সময় তার সাথে কারও কথা বলার অনুমতি ছিল না। [মুমিনের ইবাদত : ১২-১৩]

ধীরে ধীরে আমরা আরও বেশি অনলাইন-নির্ভর হয়ে যাচ্ছি, জীবনকে স্মার্টফোনের সাথে আরও বেশি যুক্ত করে ফেলছি। অহেতুক কথা ও কাজ আরও বেশি হচ্ছে। দাওয়াতের নিয়তে ফেসবুকে ঢুকে রিল দেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করছি। আমাদের অন্তরে অনেক বেশি কালি লেগে যাচ্ছে। অন্তর শক্ত হচ্ছে দ্রুত। অন্তর নরম হওয়ার সুযোগ কম পাচ্ছে। আগে এক ঘণ্টার বয়ান শুনে অন্তর গলে যেত, এখন ৫ ঘণ্টাতেও সে প্রভাব পড়ছে না। আমরা তো আর এই অবস্থা থেকে বের হতে পারছি না। অন্তত কিছু কাজ করা যায়। -দৈনিক অবশ্যই আখিরাত সংক্রান্ত কিছু বই পড়া বা আলোচনা শোনা -কিছুক্ষণ কুরআন পড়া ও শোনা -দিল লাগিয়ে ১০০/২০০ বার এস্তেগফার পড়া। -মাসে একদিন হলেও সারাদিন মসজিদে থাকা। © মুহাম্মদ হোসাইন (উমেদ)

photo content

ইয়াযিদ বিন কুমাইত রহ. বলেন, আবু হানীফা রহ. ছিলেন খুবই খোদাভীরু একজন ব্যক্তি। একবার মুয়াজ্জিন আলী বিন হুসাইন আমাদের ইশার নামাজ পড়াচ্ছিলেন এবং নামাজে সূরা যিলযাল তিলাওয়াত করছিলেন। আবু হানীফা রহ. পেছনেই ছিলেন। তিনি সূরা যিলযালের শেষ আয়াত শ্রবণের পর ফজর পর্যন্ত সেখানে দণ্ডায়মান ছিলেন এবং এ বলে দুআ করেছিলেন, হে ওই সত্তা, যিনি প্রত্যেককে তার কিঞ্চিৎ পরিমাণ আমলেরও প্রতিদান দান করবেন। চাই সেটা ভালো হোক কিংবা মন্দ! তোমার বান্দা নুমানকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করো এবং তোমার ব্যাপক রহমতের অন্তর্ভুক্ত করো। [কুরআন অনুধাবন : ১২৭]

ইমাম শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ বলেন : আমি ১৬ বছরে মাত্র একবার পেট ভরে খেয়েছিলাম। এবং সেটাকেও বমি করে ফেলে দিয়েছি। কারণ পেট ভরে খাওয়া পেট ভারী করে দেয়, অন্তর শক্ত করে দেয়, আকল নষ্ট করে দেয়, ঘুম কেড়ে নেয় এবং ইবাদতে অলসতা তৈরি করে। [সুনান ও আদব : ৬৯]

নিশ্চয় নেক আমলের চিহ্ন বান্দার ওপর বিস্তার লাভ করে। নেক আমলের আলো বান্দার চেহারায় ফুটে ওঠে। অন্তরে নূর পয়দা হয়। শরীরে শক্তি হয়। রিজিক প্রশস্ত হয়। সৃষ্টজীবের জন্য অন্তরে ভালোবাসা তৈরি হয়। এমনিভাবে পাপেরও প্রভাব আছে। এতে চেহারায় কালো দাগ পড়ে, অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। দেহে দুর্বলতা, রিজিকে ত্রুটি ও সৃষ্টিজীবের প্রতি ক্রোধ আসে। -ইবনে আব্বাস রা. [আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ৮০]

ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, প্রকৃত বন্দি তো সে, যে তার রবের হাতে বন্দি। আর আসল আটক তো সে, যে তার প্রবৃত্তির হাতে আটক আছে। [আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ১২২]

আমি শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় দুনিয়ার একটি জান্নাত আছে, যে ব্যক্তি এই দুনিয়ার জান্নাতে প্রবেশ করেনি, সে মূলত আখিরাতের জান্নাতে প্রবেশ করেনি। তিনি আরও একবার আমাকে বলেছেন, শত্রুরা আমার আর কীই-বা ক্ষতি করতে পারবে! আরে, আমি তো জান্নাতকে বুকে নিয়ে ঘুরি। কারাগার আমাকে দেয় আসমানের মালিকের সাথে একাকী সময় কাটানোর সুযোগ, আর শত্রুরা আমায় হত্যা করলে আমি পান করব শাহাদাতের অমৃত সুধা, আর যদি তারা আমাকে নির্বাসনে পাঠায় তবে আমি বেরিয়ে পড়ি দ্বীনি সফরে। কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তিনি বলেছেন, কারাগারে তারা আমাকে বন্দি করে উপকার করেছে, এ কারণে আমি যদি এই কামরা ভরতি স্বর্ণ তাদের জন্য খরচ করি, তবুও তাদের প্রতিদান আদায় হবার মতো নয়। কখনো-কখনো বলতেন, তাদের আমি কী প্রতিদান দেবো, তারা আমাকে বন্দি করে যে উপকার ও কল্যাণ করেছে! [আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ১২২]

যদি পৃথিবীর সবাইকেই ভুলে যেতে পারতাম...
যদি পৃথিবীর সবাইকেই ভুলে যেতে পারতাম...

photo content
+3