আকাবির-কথন
Kanalga Telegram’da o‘tish
Ko'proq ko'rsatish
Mamlakat belgilanmaganToif belgilanmagan
1 099
Obunachilar
Ma'lumot yo'q24 soatlar
+237 kunlar
+2630 kunlar
Postlar arxiv
1 099
ইলম বিষয়ে জুরজানির তিনটি উক্তি
যে কোনো গ্রন্থ পাঠের সময় সেটার ভূমিকা পড়া অত্যন্ত জরুরি। এখান থেকে পুরো গ্রন্থের বিষয়বস্তু, রচনাপদ্ধতি এবং মূল প্রতিপাদ্য সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। আর আমাদের সালাফে সালিহীন তথা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের কিতাবের মুকাদ্দিমাহ তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইলমের একেকটি খাজানা।
গতদিন একদল শিক্ষার্থীদের আল্লামা আবদুল কাহির জুরজানি (মৃ. ৪৭১ হিজরি) রাহিমাহুল্লাহ এর কালজয়ী গ্রন্থ 'দালাইলুল ই'জায' এর মুকাদ্দিমাহ পড়াচ্ছিলাম। আমার নিয়ম অনুযায়ী, মুকাদ্দিমাহ থেকে ইলম-সংক্রান্ত চয়নকৃত কয়েকটি চমৎকার বাক্য তাদেরকে মুখস্থ করে রাখার পরামর্শ দিলাম। এখানে মাত্র তিনটি বাক্য উল্লেখ করছি।
এক.
এখন তো আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যে, যে বিষয়ে আমাদের কোনো জানাশোনা নেই, সে বিষয়েও মন্তব্য ও বক্তব্য দিতে কোনো লজ্জাবোধ করি না। যেন আমরা সবাই সবজান্তা হয়ে গেছি। অথচ জুরজানি তাঁর ভূমিকার শুরুতেই এই দোয়া-বাক্যটি যুক্ত করেছেন—
ونعوذُ باللهِ من أنْ ندَّعيَ العلمَ بشيءٍ لا نعلمُه.
“আর আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এ থেকে যে, আমরা এমন কোনো বিষয়ে জ্ঞানের দাবি করি, যা আমরা আসলে জানি না।”
দুই.
ইলমের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে জুরজানি বলেন—
والعلمُ هو الوفيُّ إذا خانَ كلُّ صاحبٍ، والثقةُ إذا لم يُوثَقْ بناصحٍ.
“ইলমই হলো সেই বিশ্বস্ত সঙ্গী, যখন সব সাথী সঙ্গ ত্যাগ (বিশ্বাসঘাতকতা) করে; আর সেটাই ভরসা, যখন কোনো উপদেশদাতার ওপর আস্থা রাখা যায় না।”
তিন.
ইলম কেবল কিছু বই-পুস্তক ভাসাভাসাভাবে পড়ে নেওয়ার নাম নয়। ইলমের জন্য চাই সঠিক চিন্তা, পরিশুদ্ধ আকল এবং দীর্ঘ অধ্যাবসায়। অথচ আজকাল ইলমের অঙ্গনে ‘দুই বছর মেয়াদি মুজতাহিদ (হাইব্রিড) প্রোগ্রাম’ এর মতো হাস্যকর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
আরবি ভাষার কথাই ধরুন। কেবল নাহু-সারফের কয়েকটি নিয়মকানুন জানার নামই কি আরবি ভাষা শিখে ফেলা?
জুরজানি বলেন—
إنَّ ههنا دقائقَ وأسرارًا طريقُ العلمِ بها الرَّويَّةُ والفكرُ، ولطائف مُستقاها العقلُ.
“এখানে এমন সূক্ষ্ম বিষয় ও গোপন রহস্য রয়েছে, যেগুলোর জ্ঞান লাভের পথ গভীর চিন্তা ও মনন এবং এমন সূক্ষ্ম তত্ত্ব, যা বুদ্ধি দ্বারা আহরণ করা হয়।”
আমার বিশ্বাস, তরুণ আলেম এবং তালিবুলইলম সাথীদের জন্য জুরজানির এই মুকাদ্দিমাহ পাঠ অনেক ফলপ্রসূ হবে, ইনশাআল্লাহ।
©
1 099
সাকসেস হতে হলে পাগল হতে হয়। যে লাইনেই হোক। আমার এক (কোর্সের) সহপাঠী। স্বপ্ন ছিল ইউরোপ যাবেই। বোধহয় সিলেটের কোনো এজেন্সি বাকি রাখেনি কথা বলতে। পাগলের মতো দৌড়ঝাঁপ করেছিল। অবশেষে আইল্টেস দিয়ে লন্ডন গিয়ে সেখান থেকে স্পেন গিয়ে লিগ্যাল হয়ে দেশে ফিরে বিয়ে করল।
কোনোকিছুতেই এভাবে পাগল/সিরিয়াস হতে পারলাম না দেখেই...
1 099
দ্বীনের পথে আমার হাঁটার একেবারে শুরুর দিককার কথা। আল্লাহ যখন একটু একটু করে বোঝার তৌফিক দিচ্ছিলেন, তখন ‘তাজকিয়া’ বা আত্মশুদ্ধি বিষয়ক বইগুলোর প্রতি আমার এক ধরনের অদ্ভুত অনীহা ছিল। আমার কাছে মনে হতো, এগুলো খুব একঘেয়ে এবং স্রেফ গৎবাঁধা মোটিভেশনাল কথাবার্তা। তাই আমি এই ঘরানার বইগুলো এড়িয়ে যেতাম এবং অন্যান্য বিষয়ের বই বেশি পড়ার চেষ্টা করতাম।
কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে আমার চিন্তায় একটা বড় ধাক্কা লাগে। আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করে রীতিমতো অবাক হলাম।
মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে প্রখর মেধাবী স্কলারদের যদি একটা তালিকা করা হয়—যেমন ইমাম গাজ্জালি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কায়্যিম আল জাওজিয়া, ইবনে রজব হাম্বলি কিংবা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মতো বড় বড় আলেমরা—তাঁরা প্রত্যেকেই এই তাসকিয়ার ওপর শত শত, হাজার হাজার পৃষ্ঠার কিতাব লিখে গেছেন!
হঠাৎ করে বিষয়টা মাথায় আসার পর আমি যত ভাবলাম, ততই বিস্মিত হলাম। প্রশ্ন জাগলো—কেন? ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠ মস্তিষ্কগুলো তাজকিয়া নিয়ে এত বিপুল সময় কেন দিলেন?
পরে চিন্তা করে দেখলাম, আসলে সমীকরণটা খুব পরিষ্কার। ব্যক্তিজীবনের চূড়ান্ত সফলতা থেকে শুরু করে দুনিয়ার বুকে সভ্যতার উত্থান-পতন, এমনকি আখিরাতের জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা—এর প্রায় পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করে মানুষের অন্তরের ওপর। মানুষের অন্তর কতটা পরিশুদ্ধ, সেটার ওপর ভিত্তি করেই তার দ্বীনের প্রতি নিবেদন তৈরি হয়।
একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, অন্তরের এই ব্যাধিগুলোর কারণেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হয়, সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে, সামগ্রিকভাবে সমাজ ধ্বংস হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, অন্তরের এই অসুখের কারণেই আমাদের জীবন থেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত উঠে যায়। আমাদের সালাফ এবং বড় বড় ইমামরা ঠিক এই ‘রুট-কজ’ বা মূল সমস্যাটি ধরতে পেরেছিলেন বলেই তাসকিয়ার ওপর এতটা জোর দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরামের যুগের দিকে তাকালে আমরা ঠিক এই অ্যাপ্রোচটাই দেখতে পাই। মাক্কী জীবনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিন্তু খুব বেশি শরিয়তের বিধি-নিষেধ বা আইনি বিধান পাঠাননি। বরং সেই দীর্ঘ সময়টাতে তিনি জান্নাত, জাহান্নাম, তাওহীদ এবং আল্লাহর মহত্ত্বের বয়ান দিয়ে আগে সাহাবিদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করেছেন। তাঁদেরকে আগে একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে গড়ে তুলেছেন, এরপরই তাঁদের ওপর বিভিন্ন বিধি-বিধান এসেছে।
এখান থেকে একটা বিষয় বোঝা খুব জরুরি। আমরা অনেক সময় তাসকিয়া বা আত্মশুদ্ধির ব্যাপারটিকে কম গুরুত্ব দিই, কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব এবং গুরুত্ব ব্যাপক। আমাদের উচিত নিয়মিত তাসকিয়া বিষয়ক বই পড়া এবং এ সংক্রান্ত লেকচার শোনা। আমরা দুনিয়া ও দ্বীনের অন্যান্য সব কাজই করব, তবে নিজেদের অন্তরের পরিচর্যার জন্য রুটিনে যেন একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে, ইনশাআল্লাহ।
© ইরফান সাদিক
1 099
শাইখ মাহমুদ হাসানাত বলেন -
.
"জীবন আসলে বয়সের মাপকাঠিতে পরিমাপ করা হয় না, বরং পরিমাপ করা হয় আমাদের আমল বা কর্ম দিয়ে। এই যেমন সাহাবী হযরত সা'দ ইবনে মুয়ায (রা.)। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৩০ বছর বয়সে। আর খন্দকের যুদ্ধে যখন তিনি শহীদ হন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৬ বছর। অর্থাৎ, মুসলিম হিসেবে তাঁর জীবনকাল ছিল মাত্র ৬ বছরের!
.
অথচ এই ৬ বছরের আমল এতই ভারী ছিল যে, তাঁর চিরবিদায়ে আকাশ থেকে ৭০,০০০ ফেরেশতা নেমে এসেছিলেন!
.
এমনকি জিবরাঈল (আ.) স্বয়ং রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে বলেছিলেন, 'হে মুহাম্মদ, আজ রাতে আপনার এমন এক সাহাবী ইন্তেকাল করেছেন, যাঁর মৃত্যুতে পরম করুণাময়ের আরশ কেঁপে উঠেছে!'
.
মাত্র ৬ বছরের একটি জীবন... আর তাতেই রহমানের আরশ কেঁপে ওঠে!
.
আর আমরা যারা ২০, ৩০, ৪০, ৫০ কিংবা ৬০ বছর পার করে দিচ্ছি, আমরা এই দীর্ঘ জীবনে আল্লাহর জন্য আসলে কী করছি? কি আমল পাঠাচ্ছি ওপারে ?"
-আব্দুল্লাহ ইয়াসীন শরীফী ভাই
1 099
দারুল উলূম দেওবন্দের আদব বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান নুর আলম খলিল আমিনীর একটি চমৎকার স্মৃতিচারণমূলক বই আছে—ওহ কুহকান কি বাত! কুহকান শব্দের শাব্দিক অর্থ পাহাড় খোদাইকারী। কথিত আছে, ফরহাদকে শিরিনের সম্রাট স্বামী শর্ত দিয়েছিল, যদি পাহাড় কেটে দুধের নহর সৃস্টি করতে পারে তাহলে শিরিনকে তার হাতে তুলে দেবে। ফরহাদ তা করে দেখিয়েছিল। এজন্যই তাকে কুহকান বলা হয়। জেমিনিকে শব্দটির একটি সুন্দর বাংলা প্রতিশব্দ দিতে বলেছিলাম। যা যা দিয়েছে একটাও তেমন যুতসই লাগছে না। তাই নামের তরজমা আপাতত থাক। বইটি নিয়ে বলি।
খলিল আমিনী বইটিতে ‘কুহকান’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন তাঁর উস্তাদ দারুল উলুমের সাবেক কিংবদন্তীতুল্য ব্যক্তিত্ব ওহিদুজ্জামান কিরানবি রহ.কে। যার হাত ধরে দারুল উলুমের শুধু আরবি সাহিত্যচর্চায়ই গতি আসেনি, বরং এক ভিন্নরকম শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ তিনি সেখানে গড়ে তুলেছিলেন। আন-নাদি শুধু আরবি বক্তৃতা শেখার প্লাটফর্ম ছিল না, ছিল সামগ্রিক অর্থে একটি শিক্ষা ও সংস্কৃতিমূলক প্রতিষ্ঠান। মাওলানা কিরানবির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, ছাত্ররা আগামীদিনে ইসলামের সেনানী হবে। তাই তাদের তারবিয়ত হতে হবে সেনাবাহিনীর মতোই। সুশৃঙ্খল, পরিপাটি। আপাত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ও তিনি ছাত্রদের ধরে ধরে শেখাতেন। যেমন অনুষ্ঠানে ছাত্ররা কীভাবে বসবে তাও শেখাতেন।
বইটার একটা পর্যায়ে এসে চমকে গেলাম। মাওলানা আমিনী লিখছেন, হযরত কিরানবি বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য নিজে নাটক লিখতেন। চরিত্র সাজাতেন। সংলাপ তৈরি করতেন। এরপর ছাত্রদের দিয়ে তার মহড়া দিতেন। অবশ্য আমরাই দেখেছি, বযমে সাজ্জাদ-বযমে শাইখুল ইসলামের প্রতি সংগঠনগুলো তাদের সাময়িক ও বার্ষিক প্রোগ্রামগুলোতে নানারকম অভিনয় উপস্থাপন করে উস্তাদদের সামনেই। দারুল উলুম দেওবন্দ শুরু থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। হাবিবুর রহমান উসমানী রহ. যখন মুহতামিম নিযুক্ত হন তিনি নিজ খরচে মাদরাসার মুখপত্র হিসেবে পত্রিকা প্রকাশ করেন। এখনও নওদারার চারপাশে চক্কর দিলে বিভিন্ন ভাষায় অর্ধশতাধিক দেয়াল পত্রিকার দেখা মিলবে। বৃহস্পতিবার ওদিকে গেলে মনে হবে, প্রতিটি দেয়াল থেকে বক্তৃতার তপ্ত বাক্যমালা ছুটে আসছে। বিতর্ক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠছে সন্ধ্যাগুলো।
দারুল উলুম দেওবন্দের অবদানগুলোর মধ্যে তালিম-তারবিয়ত, তাসাউফ-সংগ্রামের যেমন উজ্জ্বল অংশগ্রহণ আছে তেমনি সংস্কৃতি চর্চারও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুধুই কিতাবি পঠন-পাঠনে সীমাবদ্ধ করে ফেলা দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসৃত নীতি নয়। না অতীতে, না এখন।
Hasan Aziz
1 099
গত সপ্তাহ একদিন দরসের ফাঁকে ফাঁকে ইমাম নববি রহ.-এর আরবাঈন পড়লাম। আর ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি রহ.-এর জামিউল ইলম ওয়াল হিকাম এবং আল্লামা মোল্লা আলি কারি রহ.-এর আল-মুবিনুল মুইন লিফাহমিল আরবাঈন — প্রতিদিন নির্দিষ্ট অংশ দেখার চেষ্টা করি।
আমাদের বুখারির শেষ হাদীসের দরস দিয়েছিলেন মাওলানা আরশাদ মাদানি হাফিযাহুল্লাহ। সেদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করেছিলেন — নিয়মিত হাদীসের কোনো না কোনো গ্রন্থ পড়তে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস জীবনে বাস্তবায়ন করতে হলে তা পড়া ও মুযাকারা করার কোনো বিকল্প নেই। নিজের অনেক কোতাহি আছে, তবু এই বিষয়টি মেনে চলার চেষ্টা করি।
কয়েকদিন ধরে ভাবছি, ইমাম নববি রহ.-এর এই মকবুল গ্রন্থটি নিয়ে তালিম ও মুযাকারা হওয়া খুব দরকার। তিনি এমন পঞ্চাশটি হাদীস সংকলন করেছেন যা মূলনীতিস্বরূপ — উসূলুদ্দিন, ফুরূউদ্দিন ও আদাব বিষয়ের মৌলিক কথাগুলো এতে এসে গেছে। হাদীসগুলো সালাফ যেভাবে বুঝেছেন, সেই আলোকে মুযাকারা করা প্রয়োজন।
সেই লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহই শুরু হতে চাচ্ছে ইনশাআল্লাহ — রিবাতুল ইলম থেকে এই গ্রন্থের উপর দরস। আশা করি সাথে থাকবেন এবং অন্যদেরও দাওয়াত দেবেন।
© মুহাম্মদ বিন তায়্যিব
1 099
একটা সময় ছিল যখন হাফেজ্জি হুজুর (রহিমাহুল্লাহ) এর সাথে মানুষ দূর দূর সফর করে এসে সাক্ষাত আর মুসাফা করে যেতেন। তার কাছের লোকেরা বলতেন, "মুসাফা করে নেন। এমন দিন আসবে মানুষ বলবে, অমুক লোক হাফেজ্জি হজুরের সাথে মুসাফা করেছেন। আর সবাই তার সাথে মুসাফা করতে আসবে।" এমনি হয়েছিলো, এখনো হচ্ছে।
অনেকেই মনে করেন, সালেহিন কারো সাথে মিশবো তো কার সাথে মিশবো। বড়রা তো সব কবরে, আমাদের যুগের অনেক আগেই গত হয়েছেন। হাফেজ্জি হুজুর চলে যাওয়ার পরেও এমন হয়েছিলো। কিন্তু পবরর্তীতে দেখা গেছে, হুজুরের সাথেই যারা ছিলেন, তাদের আরও কাছে যেতে মানুষ খুব চেষ্টা করেছে, যাদের মধ্যে তলব ছিল। এনাদের মধ্যে প্রফেসর হযরত (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম।
এরপর প্রফেসর হুজুরও চলে গেলেন। আবার ফিরে আসলো, এখন কার পিছনে থাকবো? কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রফেসর হযরত ঠিকই নিজের খলিফাদের মধ্যে হীরা মতি সাদৃশ্য কাউকে না কাউকে রেখে গেছেন, তাও উত্তরাতেই।
অন্তরের মধ্যে তলব তৈরি হলে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কাউকে মিলিয়ে দিবেন। গ্যারান্টেড। এখন যদিও সবাইকে সেভাবে অনুসরণ করার মত আরও আগের চাইতে কম। স্টিল, খুঁজতে থাকলে, পাওয়া যাবে।
হেদায়াত দুনিয়াবী সব থেকে বড় নিয়ামতের একটা। যে ঠিকঠাক ভাবে এই হেদায়াত নিয়ে কবরে যেতে পারবে, দুনিয়াবী কিছুই না পেয়ে, সে মোটেও আফসোস করবে না। হেদায়াত কম্প্রোমাইজড হলে, ব্যাপারটা হবে উল্টো।
আল্লাহ তায়ালা শুধু হেদায়াতের সরল সোজা পথে চলার কথাই বলেন নাই। তার সাথে সূরা ফাতিহাতেই জুড়ে দিয়েছেন, "সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ"।
মানে যারা হেদায়াতের পথে হেঁটেছে, তাদের সাথে চলা। সালেহিন আর নেককারদের দেখে দেখে চলা। এমনটা না হলে পরের আয়াতে বলা ডুই পরিণতির এক পরিণতির স্বীকার হতে হবে। হয় গোমরাহি, না হয় ভ্রষ্টতা।
জেনারেল কমিউনিটির যদি কারো ঝরে যাওয়ার কথা শুনেন, খোজ নিলে দেখবেন এই নেককারদের সোহবত থেকে সে দূরেই ছিল। এই ব্যাপারটা অনেক সহজ মনে হলে, এর কম্পাউন্ড ইফেক্ট, পজেটিভ আর নেগেটিভ দুইদিকেই অনেক বেশি।
এই ভালো সঙ্গদের অনেকে নিজেদের ভাই ব্রাদারদের কমিউনিটিকে মনে করেন। কিন্তু এটা মোটেই যথেষ্ট না। উল্টা অনেক ক্ষেত্রেই ভ্রান্তি আর আটকে থাকার কারণ হয়। সালেহিন আলেম উলামাদের সাথে চলা খুব দরকার। আর এটাই আয়াতের উদ্দেশ্য। সালেহিনদের যদি ৩-৪টা গুনের কথা বলা হয়, এর মধ্যে নেককার আলেমদের মধ্যেই ফিট হবে সব গুলো, সিমিলার মাইন্ডেড ব্রাদারদের মধ্যে গ্যাপ থেকেই যাবে।
""হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের (নেককারদের) সঙ্গী হও"।
© Sabber Ahmad
1 099
নিজেই রোগী। তার উপর এই লাইনে গণ্ডমূর্খ! আমি কী পরামর্শ দেব?
এসব আলকাউসার, মাসিক নেয়ামতে পাঠাতে পারেন।
1 099
দেওবন্দ আর কওমী মাদরাসা একই। কোথাও কোথাও সিলেবাসে কিছু বেশকম আছে। তবে কওমী বলতেই দেওবন্দ থেকে শুরু। এরা হানাফী মাযহাবের অনুসারী।
নকশবন্দী হচ্ছে আত্মশুদ্ধির একটা সিলসিলা/মাযহাব। এদিকেই উদ্দেশ্য করে নকশবন্দী বলা হয়।
পাহাড়পুর একটা এলাকার নাম। এলাকার দিকে সম্বন্ধ করে পাহাড়পুরী বলা হয়। এরাও হানাফী মাযহাবের অনুসারী।
