স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাশতা বানিয়ে নিয়ে এসেছে।
শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খা'চ্ছে।
স্বামী চা’য়ে চুমুক দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছে, “নাহ, এখনও তুমি মা’র মত চা বানাতেই শিখলে না। কতবার বললাম মা’র কাছ থেকে দেখো কত'খানি লিকার দিতে হয় শিখো।
মা! ওকে দেখিয়ে দিয়েন তো কীভাবে চা বানাতে হয়।”
—এ হচ্ছে “লুমাযাহ।
এরা সুযোগ পেলেই মানুষের মুখে'র উপর তার বদনাম করে।
কারও কোনো দোষ ধরার সুযোগ পেলে সহজে ছেড়ে দেয় না।
সারাদিন একে ধমকানো, ওকে খোঁচা মারা, একে গালি দেওয়া, ওকে ব্যঙ্গ করা, এগুলো হচ্ছে এদের স্বভাব।
এদের নিজেদের দোষের কোনো শেষ নেই।
নিজের দোষ ঢাকার জন্য এরা সবসময় অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
এদের জিভ হচ্ছে একটা “ধারালোঅস্ত্র।”
এই অস্ত্র দিয়ে সারা'দিন এরা একের পর এক মানুষে'র হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।"
[বুখারী: ১০, মুসলিম: ৪০]
আত্মীয় বেড়াতে এসেছে।
গল্প করার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার মেয়ে কেমন আছে? ওর বাচ্চাগুলো ভালো আছে?”
মা উত্তর দিলেন, “গত সপ্তাহে শুনলাম ওরা অসুস্থ। দেখি শুক্রবারে ফোন করলে বুঝতে পারবো কী অবস্থা?”
আত্মীয় অবাক হয়ে বললেন, “শুক্রবারে?
আপনার মেয়ে প্রতি'দিন আপনাকে ফোন করে না?
আর আমার মেয়ে প্রতি'দিন সকালে ফোন করে সবার আগে আমার খোঁজ খবর নেয়।
আপনি এত কষ্ট করে মেয়ে বড় করে বিয়ে দিলেন, আর মেয়েটা আপনা'কে দিনে একটা ফোনও করতে পারে না!”
মা আমতা আমতা করে বললেন, “না, না, ব্যাপারটা আসলে সেরকম না।
ও ঘর-সংসার, চাকরি নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকে।
প্রতি'দিন কি আর ফোনে কথা বলা যায়?”
আত্মীয় তার নিজে'র মেয়ের সাথে আরও কিছু তুলনা করে চলে গেলেন।
তারপর মা সারাদিন ‘বিষণ্ণতায় ভুগলেন’ আর বাবা’র কাছে অভিযোগ করতে থাকলেন,
“দিনে একটা ফোনও করতে পারে না! এই মেয়ের জন্য আমি রক্ত পানি করেছি?
কেন একে আমি নয় মাস পেটে ধরেছি!
নিজের বাবা-মা’র থেকে ওর সংসার আজ বেশি বড় হয়ে গেলো?”
—হাঁ, সেই আত্মীয় হচ্ছে “হুমাযাহ।
এরা মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বিষিয়ে দিতে পেশা'দারি দক্ষতা অর্জন করেছে।
এদের বিষাক্ত জিভে'র ছোবলে সুখী পরিবারের মধ্যেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।
"দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।"
[সূরা হুমাযাহ: ১]
"কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়।"
"আর আপনি কি জানেন হুতামা কি? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন।"
[সূরা হুমাযাহ: ৪-৬]
রসূল ﷺ বলেছেন:
"তোমরা কি জানো গীবত কী? সাহাবীরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে।"
[মুসলিম: ২৫৮৯]
এবার আসুন জেনে নেই হুমাযাতিল লুমাযাহ কারা?
জি তারা হচ্ছে এমন এক ধরনের মানুষ,
১.যে অন্যকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করে।
২.মানুষের দিকে তাচ্ছিল্য ভরে আঙ্গুল দেখায়।
৩.চোখের ইশারা করে ব্যাঙ্গ করে।
৪. কারও চরিত্রের কোনো দিক নিয়ে ব্যঙ্গ করে।
৫. কারও মুখের উপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে।
৬. কারও পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায়।
৭.এর নামে ওর কাছে কথা লাগায়।
এটা তারা একবার দুইবার করে না।
এমন করে তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।
এরা হচ্ছে হুমাজাতিল লুমাযাহ্।
এদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা।
— আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী।
মোটকথা লুমাযাহ হলো
কর্ম'ক্ষেত্রে বা পারিবারি'ক বা বন্ধু মহলে আমাদে'র আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বুক ফুলিয়ে বলেন, “আমি উচিৎ কথা বলতে কাউকে ছাড়ি না। আমি উচিৎ কথা মুখের উপর বলে দেই। আমি অনেক স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড! যা মনে আসে তাই বলি।”
সব মহলে ঠোটকাটা স্বভাবে'র হিসেবে আপনি পরিচিত! সবাইকে একদম সামনেই ধুয়ে দেন এবং এটা নিয়ে আপনি বেশ গর্বও করেন! ইসলাম ধর্মে এটাকেই “লুমাযাহ” বলা হয়।
আল্লাহ্ এই মানুষদেরকে পরিবর্তন হতে বলেছেন ‘সূরা হুমাজাহ’ তে। নয়তো তাদের জন্য অনিবার্য ধ্বংসের সতর্ক বাণী দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর লানত করেছেন।আল্লাহুম্মাগফিরলী।
আসুন, আমরা একটু নরম হই, একটু সহনশীল হই, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি। মনে রাখবেন- আল্লাহ যাকে নম্রতা দিয়েছেন, তিনি দুনিয়ার সেরা নিয়ামাহ পেয়ে গেছেন। হয়তো আমিও লুমাজার অন্তর্ভুক্ত, তবে চেষ্টা করছি নিজেকে বাঁচাতে। আল্লাহ তৌফিক দান করুন, আমিন।
— সংগৃহীত
#MA