uk
Feedback
Redwan Rawaha

Redwan Rawaha

Відкрити в Telegram

লেখালেখি কলমের যতো আয়োজন তা দিয়ে হই যেনো প্রভুর প্রিয়জন

Показати більше
840
Підписники
Немає даних24 години
-57 днів
-1730 день
Архів дописів
কারো ফাঁন্দে পড়ে, কারো মোটিভেশানে প্রভাবিত হয়ে, কখনো, কোনো সময়, কারোই সমালোচনা করবেন না। রাজনৈতিক দলগুলোর তো নয়ই। মেকি ভদ্রতার খাতিরে রাজনৈতিক দলগুলো আপনাকে বলবে— আমাদের আচ্ছামত সমালোচনা করুন। আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিন। আমাদের সংশোধন করে দিন। কিন্তু যখনই আপনি তাদের সমালোচনা করবেন, যখনই তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন, গালাগালি না করে ভীষণ ভদ্রতা ও আত্মসম্মান বজায় রেখে তাদের ত্রুটিরগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন, বিশ্বাস করুন— অধিকাংশই তখন আর আপনাকে পছন্দ করবে না। ভালো চোখে তাকাবে না আপনার দিকে। তৃণমূলের কর্মীদের আপনার বিরুদ্ধে উস্কে দেবে তারাই। আপনার ইজ্জত নিয়ে ডুগডুগি বাজানো শুরু করবে। আপনার ব্যক্তিত্বের চাদর ছিড়ে হলি নাচে মেতে উঠবে। সুতরাং, মিষ্টি কথার ফাঁদে পড়ে সমালোচনা করতে যায়েন না। সারাজীবন তারা আপনাকে একটা ট্যাগ লাগিয়ে দেবে, আপনার ব্যক্তিত্বকে এমন একটি ফ্রেইমে তারা বন্দি করে ফেলবে, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না! সেজন্য আপনি ছাপোষা মানুষ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোকে তেল দিন। আর আপনি যদি কোনো পলিটিক্যাল পার্টির লিডারশীপ পেতে চান, তাহলে তো আপনি আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে তেলময় আচরণে। নেতৃত্ব পেতে চাইলে নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনে অলিভ অয়েল মাখুন। দেখবেন, আপনাকে তারা স্পেশাল চোখেই দেখবে। আপনি যা ডিজার্ভ করেন না, এমন কিছুও অজান্তেই পেয়ে যাবেন। পদ-পদবি কিংবা সুযোগ-সুবিধা, কোনো কিছুতেই খুব বেশি দিন পিছিয়ে থাকতে হবে না আপনার। আপনি সমালোচনা করবেন দুর্বলের। সমালোচনা করবেন ক্ষমতাহীন কিংবা তুলনামূলক দুর্বলের। তাহলে আপনি একদিকে একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবেও সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন, আবার অন্যদিকে ক্ষমতাসীন কিংবা শক্তিশালী ও প্রভাবশালীদের চোখেও ভালো থাকতে পারবেন। সমালোচকদের জন্য এই দুনিয়া না। ও হ্যাঁ, কোনো নারীরও সমালোচনা করবেন না। সেটা মুরতাদ বেগম রোকেয়া হোক কিংবা এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিন হোক, অথবা হোক ৫ আগস্টের পর বিপুল খ্যাতি পেয়ে যাওয়া, বেগম রোকেয়ার গুণমুগ্ধ ভক্ত মারদিয়া মমতাজ আন্টি হোক। প্রকাশ্যে এ সমস্ত নারীদের গঠনমূলক সমালোচনা করলেও, গালাগালি না করেই, আপনার গায়ে নারী বিদ্বেষী সিল পড়ে যাওয়া সুনিশ্চিত! সুতরাং, দুনিয়ায় আত্মমর্যাদা নিয়ে বেচে থাকতে হলে সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন। সবার চোখে না হোক, দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষের চোখে ভালো থাকার জন্য হলেও সমালোচনা করতে যাবেন না। ~রেদওয়ান রাওয়াহা #উপলব্ধি

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইনে প্রেম করা কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেক্স করা কোনো অপরাধ না। বরং রাষ্ট্রীয়ভাবেই প্রেমকে মহান করে লক্ষ লক্ষ নাটক সিনেমা তৈরি করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এদেশের মূল ধারার ইনস্টিটিউটগুলোয় বরং প্রেম না করা, কোনো মেয়েকে পটাতে পারদর্শী না হতে পারা একটা অযোগ্য হিসেবেই চিহ্নিত করা হয় অনেক সময়। এমতাবস্থায় শিবির নেতা জিসানের প্রেম নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করা এক ধরনের ভণ্ডামি, ক্ষেত্র বিশেষ অপরাধ। জিসান ধর্মীয় দৃষ্টিতে প্রেম করে আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও ভঙ্গ করেছেন। এক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করায় আল্লাহ ইচ্ছে করলে তারে শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি তো গফুরুর রহিম— তিনি ক্ষমাও করে দিতে পারেন। অন্যদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন জন্য সংগঠন তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে, সমস্যা নেই। যদিও শিবিরের পক্ষ থেকে জিসানকে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে না দিয়ে বহিষ্কার করায় শিবিরের সেন্ট্রাল লিডাররা সামগ্রিকভাবে তাদের নিজেদেরই সংবিধান নিজেরাই লঙ্ঘন করেছেন। এ ব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বললেও আমার বিশেষ কোনো বক্তব্য নেই এক্ষেত্রে। তবে, আমি যারপরনাই শিবিরের ওপর হতাশ হয়েছি। বিশেষ করে প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদের ওপর হতাশ হয়েছি। ফরহাদ জিসান ইস্যুতে একটা স্ট্যাটাস লিখে তারে বহিষ্কারের কথা জানালেও, তার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, সেটা নিয়ে কোনো বোল্ড স্টেটমেন্ট দিতে পারেনি কিংবা দেয়নি। জিসানকে শিবির বহিষ্কার করেছে। তাদের দলীয় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আপত্তি কিংবা আফসোস নেই। কিন্তু বহিষ্কার পরবর্তীতে একটা শক্ত স্টেটমেন্ট দিতে পারত— রাষ্ট্রীয় আইনে প্রেম করা কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেক্স করা কোনো অপরাধ না, এটুকু উল্লেখ করেও। কিন্তু তারা কেউই সেটা করেছে বলে চোখে পড়েনি। এমনকি জিসান ইস্যুতে পুলিশ কিংবা বিএনপির আওয়ামীরূপ নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ কিংবা আন্দোলন করা যেত, কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সেক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জিসান প্রেম করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে, কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করেনি। কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেনি।তাকে আদালতে ভয়ংকর আসামির মতো করে হাজির করা, মিডিয়ার সাথে কথা বলতে না দেওয়া, তার প্রেমিকা এবং প্রেমিকার বাবাকে প্রশাসন কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়া— এগুলো যে কী ভয়াবহ বীভৎসতার বার্তা দেয়, সেটা যদি সাহসীদের প্রিয় কাফেলা, মেধাবীদের প্রিয় ঠিকানা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনের নেতারা না বুঝে, তাহলে বুঝবে আর কে? জিসানের সাথে রাষ্ট্র ও প্রশাসন যেভাবে অবিচার করছে, একইসাথে তার প্রিয় সংগঠনও তার সাথে অবিচার করেছে। এই সংগঠন আজতক মিথ্যা বলার জন্য কিংবা তিনমাসের রিপোর্ট একসঙ্গে একদিনে লেখার জন্য কাউকে বহিষ্কার না করলেও প্রেমের ইস্যুতে 'নৈতিকতায় প্রবলেম' বলে হাজার হাজার কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। সে যা-ই হোক, করা না করা তাদের ইস্যু। কিন্তু জিসান ইস্যুটাকে আরও ইন্টালেকচুয়ালি ডিল করা যেত। এই ইস্যুতে অতিরিক্ত সুফিবাদিতা না দেখিয়ে রাষ্ট্রকে এবং অতি উৎসাহি পুলিশকে জনতার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেত। মিডিয়াগুলোকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা যেত। অথচ, কী করা হলো এখন পর্যন্ত? উল্লেখ্য, আমি হারাম রিলেশনকে ধর্মীয় দৃষ্টিতে বৈধতা দিচ্ছি না। আমার প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রের আইনে তো এটা অবৈধ না। এমনকি, প্রেমের জন্য বহিষ্কারকেও আমি খারাপ বলছি যে, এমন না। আমার প্রশ্ন— রাষ্ট্র বনাম জিসান ইস্যুতে শিবির জিসানের সাথে যথাযথ ইনসাফ করতে পারেনি। এমনকি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও মিডিয়ার অসংলগ্নতা কিংবা অসভ্যতাকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে পারেনি। ব্যাপারটা আরেকটু ইন্টালেকচুয়ালি ডিল করা যেত। কিন্তু আজও সব লেজেগোবরে। প্রথম আলো আজও ফাতরা একটা ফটো কার্ড আপলোড করল তাদের পেইজে। ~রেদওয়ান রাওয়াহা

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইনে প্রেম করা কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেক্স করা কোনো অপরাধ না। বরং রাষ্ট্রীয়ভাবেই প্রেমকে মহান করে লক্ষ লক্ষ নাটক সিনেমা তৈরি করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এদেশের মূল ধারার ইনস্টিটিউটগুলোয় বরং প্রেম না করা, কোনো মেয়েকে পটাতে পারদর্শী না হতে পারা একটা অযোগ্য হিসেবেই চিহ্নিত করা হয় অনেক সময়। এমতাবস্থায় শিবির নেতা জিসানের প্রেম নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করা এক ধরনের ভণ্ডামি, ক্ষেত্র বিশেষ অপরাধ। জিসান ধর্মীয় দৃষ্টিতে প্রেম করে আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার সাংগঠনিক শৃঙ্খলাও ভঙ্গ করেছেন। এক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করায় আল্লাহ ইচ্ছে করলে তারে শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি তো গফুরুর রহিম— তিনি ক্ষমাও করে দিতে পারেন। অন্যদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন জন্য সংগঠন তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে, সমস্যা নেই। যদিও শিবিরের পক্ষ থেকে জিসানকে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে না দিয়ে বহিষ্কার করায় শিবিরের সেন্ট্রাল লিডাররা সামগ্রিকভাবে তাদের নিজেদেরই সংবিধান নিজেরাই লঙ্ঘন করেছেন। এ ব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বললেও আমার বিশেষ কোনো বক্তব্য নেই এক্ষেত্রে। তবে, আমি যারপরনাই শিবিরের ওপর হতাশ হয়েছি। বিশেষ করে প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদের ওপর হতাশ হয়েছি। ফরহাদ জিসান ইস্যুতে একটা স্ট্যাটাস লিখে তারে বহিষ্কারের কথা জানালেও, তার প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, সেটা নিয়ে কোনো বোল্ড স্টেটমেন্ট দিতে পারেনি কিংবা দেয়নি। জিসানকে শিবির বহিষ্কার করেছে। তাদের দলীয় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আপত্তি কিংবা আফসোস নেই। কিন্তু বহিষ্কার পরবর্তীতে একটা শক্ত স্টেটমেন্ট দিতে পারত— রাষ্ট্রীয় আইনে প্রেম করা কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সেক্স করা কোনো অপরাধ না, এটুকু উল্লেখ করেও। কিন্তু তারা কেউই সেটা করেছে বলে চোখে পড়েনি। এমনকি জিসান ইস্যুতে পুলিশ কিংবা বিএনপির আওয়ামীরূপ নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ কিংবা আন্দোলন করা যেত, কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সেক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জিসান প্রেম করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে, কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করেনি। কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেনি।তাকে আদালতে ভয়ংকর আসামির মতো করে হাজির করা, মিডিয়ার সাথে কথা বলতে না দেওয়া, তার প্রেমিকা এবং প্রেমিকার বাবাকে প্রশাসন কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়া— এগুলো যে কী ভয়াবহ বীভৎসতার বার্তা দেয়, সেটা যদি সাহসীদের প্রিয় কাফেলা, মেধাবীদের প্রিয় ঠিকানা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনের নেতারা না বুঝে, তাহলে বুঝবে আর কে? জিসানের সাথে রাষ্ট্র ও প্রশাসন যেভাবে অবিচার করছে, একইসাথে তার প্রিয় সংগঠনও তার সাথে অবিচার করেছে। এই সংগঠন আজতক মিথ্যা বলার জন্য কিংবা তিনমাসের রিপোর্ট একসঙ্গে একদিনে লেখার জন্য কাউকে বহিষ্কার না করলেও প্রেমের ইস্যুতে 'নৈতিকতায় প্রবলেম' বলে হাজার হাজার কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। সে যা-ই হোক, করা না করা তাদের ইস্যু। কিন্তু জিসান ইস্যুটাকে আরও ইন্টালেকচুয়ালি ডিল করা যেত। এই ইস্যুতে অতিরিক্ত সুফিবাদিতা না দেখিয়ে রাষ্ট্রকে এবং অতি উৎসাহি পুলিশকে জনতার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেত। মিডিয়াগুলোকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা যেত। অথচ, কী করা হলো এখন পর্যন্ত? উল্লেখ্য, আমি হারাম রিলেশনকে ধর্মীয় দৃষ্টিতে বৈধতা দিচ্ছি না। আমার প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রের আইনে তো এটা অবৈধ না। এমনকি, প্রেমের জন্য বহিষ্কারকেও আমি খারাপ বলছি যে, এমন না। আমার প্রশ্ন— রাষ্ট্র বনাম জিসান ইস্যুতে শিবির জিসানের সাথে যথাযথ ইনসাফ করতে পারেনি। এমনকি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও মিডিয়ার অসংলগ্নতা কিংবা অসভ্যতাকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে পারেনি। ব্যাপারটা আরেকটু ইন্টালেকচুয়ালি ডিল করা যেত। কিন্তু আজও সব লেজেগোবরে। প্রথম আলো আজও ফাতরা একটা ফটো কার্ড আপলোড করল তাদের পেইজে। ~রেদওয়ান রাওয়াহা

হিজাব পড়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে, কেউ চাইলে পড়বে, কেউ চাইলে পড়বে না। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর এই বক্তব্য সেক্যুলার-লিবারেল দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু একজন মুসলিমের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ইসলামী বিশ্বাস ও চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক। পশ্চিমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা এখানেই যে, তারা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে অনেক মুসলিম যুবক-যুবতী আর ইসলামের আলোকে বিষয়গুলো বিচার করতে পারছে না; বরং সবকিছুকে পশ্চিমা লিবারেল ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে মূল্যায়ন করছে। পশ্চিমা চিন্তাধারা এখানে বিষয়টিকে “ইন্ডিভিজুয়াল ফ্রিডম” বা ব্যক্তিস্বাধীনতার মানদণ্ডে পরিমাপ করে। “My body, my choice” ধরনের ধারণা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করার পর একজন মুমিনের অবস্থান “মানতে চাইলে মানব, না চাইলে মানব না” এমন হতে পারে না। শরিয়াহ মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেয় না; বরং আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করাই দ্বীন-ইসলামের দাবি। বাস্তবে কেউ হিজাব পালন নাও করতে পারে। মানুষের দুর্বলতা থাকবে, গুনাহ হবে, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সেই দুর্বলতাকে একটি সমানভাবে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য ‘চয়েস’ হিসেবে উপস্থাপন করাই মূল সমস্যা। “হিজাব পরতে চাইলে সম্মান, না পরতে চাইলে সেটাও সম্মান” কথাটি শুনতে আকর্ষণীয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুই অবস্থান এক নয়। একটি আল্লাহর আদেশ পালন, অন্যটি সেই আদেশ অমান্য করা। দুটিকে একই নৈতিক অবস্থানে বসানোর অর্থ হলো দ্বীনের বাধ্যতামূলক বিধানগুলোকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পর্যায়ে নামিয়ে আনা। সমস্যা শুধু হিজাবের নয়। মূল প্রশ্ন হলো, দ্বীনকে কি আল্লাহর বিধান হিসেবে দেখা হবে, নাকি আধুনিক লিবারেল মূল্যবোধের ফিল্টার দিয়ে দেখা হবে? এই আলোচনা আরও বেশি হওয়া দরকার। অন্তত মানুষের অন্তরে আত্মসমালোচনার অনুভূতি সৃষ্টি হবে। কারণ কেউ যদি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও বাধ্যতামূলক বিধান থেকে দূরে সরে গিয়েও নিজেকে সম্পূর্ণ সঠিক মনে করে, তাহলে সে সংশোধন ও হেদায়েতের প্রয়োজন অনুভব করবে না।

হাসিনা বানু—এই নারীটির নাম মনে রাখুন। মাত্র দুই দিন আগে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কথিত ভূমি দখলের প্রতি
হাসিনা বানু—এই নারীটির নাম মনে রাখুন। মাত্র দুই দিন আগে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কথিত ভূমি দখলের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আর সেই ‘অপরাধে’ অভিযোগ অনুযায়ী, মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের সমর্থকেরা তাকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে, গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। এমনকি তার গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামী বাবর আলী স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। এত ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিএনপির শাসনামলে আপনাকে স্বাগতম ❤ সংবাদের লিংক : https://www.ntvbd.com/bangladesh/news-1753325?amp&fbclid=

হাসিনা বানু—এই নারীটির নাম মনে রাখুন। মাত্র দুই দিন আগে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কথিত ভূমি দখলের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আর সেই ‘অপরাধে’ অভিযোগ অনুযায়ী, মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের সমর্থকেরা তাকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে, গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। এমনকি তার গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামী বাবর আলী স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। এত ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিএনপির শাসনামলে আপনাকে স্বাগতম ❤ সংবাদের লিংক : https://www.ntvbd.com/bangladesh/news-1753325?amp&fbclid

০১. জামায়াত-শিবির ও অন্যান্য ইসলামিস্টদের দৃষ্টিতে প্রেম করা, মিউচুয়াল রেস্পেক্ট এন্ড আন্ডাস্টান্ডিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কটা না কি নৈতিকতার সমস্যা! কোনো মেয়ে কোনো ছেলেকে ভালোবাসে, কিংবা কোনো ছেলে কোনো মেয়েকে ভালোবাসে, একের প্রতি অন্যের হৃদয়ের গভীর টান, সেই টান থেকে প্রেম-প্রণয়, এটা কি সত্যিই কোনো নৈতিক সমস্যা? ছাত্রশিবির তাদের দলীয় জীবনে কত কত ছেলের জীবনকে ব্যাপারটাকে এভাবে ফ্রেইমিং করে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছে এবং ফেলছে, তার কোনো হিসেব নেই! নারীর জন্য পুরুষের ভালোবাসা, পুরুষের প্রতি নারীর অনুভূতি, আল্লাহর কসম এটা নৈতিক সমস্যা না। এটা বরং মানুষের মৌলিক ইমোশনাল রিয়েলিটি! বিয়ে-পূর্ব প্রেম ধর্মীয় দৃষ্টিতে হারাম। এটার অনুমোদন শরিয়ত দেয় না। কিন্তু শরিয়ত ভালোবাসাকে, নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণকে হারাম করেনি। নারী-পুরুষের চিরায়ত আকর্ষমূলক সম্পর্কটাকে কস্মিনকালেও character deficiency হিসেবে চিহ্নিত উচিত না। হ্যাঁ, আপনি ধর্মীয় দল হিসেবে ধর্মীয় বিচ্যুতির বিরুদ্ধে কথা বলবেন। সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন। এবং সেটা প্রতিকার ও প্রতিরোধেরও ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এটাকে যেভাবেই ফ্রেইমিং করছেন, সেটা করবেন না। এটা উচিত না। চারিত্রিক কিংবা নৈতিক সমস্যা হচ্ছে— মিথ্যা ও ভুয়া রিপোর্ট লেখা। অসত্য অর্ধসত্য কথা বলে কালেকশন করা। বিরোধী কিংবা ভিন্নমত পোষণকারীর চরিত্র হনন করা। গালাগাল করা। সম্মানিত ব্যক্তিকে অসম্মান করা। মানুষের ভুলের জন্য অব্যাহত নিন্দামন্দ করা। মানুষকে ঠকানো। অযথা কিংবা তুচ্ছ কারণে অন্যের ক্ষতি করা। এগুলো চারিত্রিক কিংবা নৈতিকতা সমস্যা। যুবক-যুবতীদের প্রেম-ভালোবাসা নৈতিকতার সমস্যা, এটা বরং স্বাভাবিক মানবপ্রবৃত্তি। ০২. কোনো ছেলে যদি কোনো মেয়েকে বলে— আমি তোমাকে বিয়ে করব। আসো, আমার সাথে শোও। আমরা দুজনে মিলে "ইয়ে করি"। এরপর এ কথার ওপর ভিত্তি করে যদি কোনো মেয়ে কাপড় খুলে দেয়, কোনো ধরনের মায়া-মমতা কিংবা ভালোবাসা ছাড়া, সে তো এক প্রকার পতিতাই। পতিতারা টাকার বিনিময়ে শোয়। আর এ ধরনের মেয়েরা বিয়ের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে শোয়। দিনশেষে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুজনে মিলেমিশে আরামের সাথে "ইয়ে করলে" সেটা ধর্ষণ হয় কী করে? কিন্তু যেসব মেয়েরা ছেলেদেরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, স্বপ্ন দেখি পরে ছেড়ে দেয়, সেটার বিচার কী? সেটাকে কোন শব্দে আইডেন্টিফাই করা হবে? একটা মেয়ে সম্পর্ক ভেঙে গেলে বলে দিতে পারে— আমাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে দিয়েছে। কিন্তু ছেলেরা কী বলবে? তারা চুপিচুপি কান্না করলেও মানুষ খোঁচা দিয়ে কথা বলে। আইন-আদালতের আশ্রয় নিতে যাবেন, তখন আদালত আপনার পক্ষে থাকবে না। তখন আদালত ঠিকই পুরুষের সমান শক্তিশালী নারীকে ঠিকই ফেভার দেবে। বলবে— অবলা নারী, দুর্বল নারী, বাদ দিন। ক্ষমা করে দিন। আপনিও মহৎ হতে গিয়ে বিশ্বাসঘাতক বেঈমানটিকে ক্ষমা করে এবার ঘরের কোণে বসে বসে গিটার বাজাচ্ছেন। মাল খেয়ে টাল হয়ে যাচ্ছেন। এক্কেবারে নিজের জীবন, যৌবন আর ক্যারিয়ারের বারোটা বাজাচ্ছেন! চিন্তা করছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ আর শক্তিশালী সৃষ্টি হয়েও কতটা অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন? এই দুনিয়াকে যতকিছু উন্নত করেছে, মানুষের জীবনমানকে যতগুলো আবিষ্কার এগিয়ে নিয়ে গেছে, প্রায় সবকিছু এই পুরুষদের হাতেই হয়েছে। সেই পুরুষই কিন্তু আপনি, আর সেই আপনিই প্রতারিত হলে, ধোঁকার শিকার হলে, বেঈমানির মুখোমুখি হলে কোনো ধরনের প্রতিকার তো পাচ্ছেনই না, বরং আপনি কিছু বললেও বিশ্বাস না করে গাইনি সেন্ট্রিজমে আক্রান্ত এই সোসাইটি মেয়েটি কিছু বললেই সেটিকে ওহি সাব্যস্ত করে আপনার চরিত্রহননে লিপ্ত হয়ে যাবে! আমার কথাগুলো বাড়াবাড়ি কিংবা হাস্যকর লাগে, তাই না? বেহায়া ছেলের জাতদের বলি— হাসার আগে চিন্তা করছেন কখনও কীভাবে আপনার অনুভূতিকে আর আপনার ইমোশনাল ডিজায়ারকে খুন করা হচ্ছে? সম্পর্ক ভেঙে গেলে আপনি মানসিক যন্ত্রণা আপনাকে কুরে কুরে নিঃশেষ করবে, ভেতর থেকে মানসিকভাবে খুন হয়ে যাবেন, কিন্তু কোথাও আশ্রয় নিতে পারবেন না— অন্যদিকে মেয়ের ক্ষেত্রে কিছু হলে আপনি ঝামেলায় পড়বেন। আইন-আদালত দ্বারা অপদস্ত হবেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে লাঞ্চিত হবেন; এরচেয়ে লজ্জাজনক, অপমানজনক জীবন আর কী হতে পারে— একটা সেকেন্ডের জন্যও কি ভেবেছেন কখনও? ~রেদওয়ান রাওয়াহা

❌ যা বলবেন না ✅ যা বলবেন 🔸 প্রয়াত ➡️ মরহুম 🔸 সৎকার ➡️ দাফন 🔸 মরদেহ ➡️ লাশ 🔸 আদিবাসী ➡️ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি আসুন, কথা ও লেখায় সঠিক শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত হই।

একপাশে ৪–৫ জন মেয়ে, আর অন্যপাশে একজন ছেলে, মেয়েগুলো নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে, মজা করছে এ পর্যন্ত সব ঠিকই আছে। কিন্তু একজন
একপাশে ৪–৫ জন মেয়ে, আর অন্যপাশে একজন ছেলে, মেয়েগুলো নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে, মজা করছে এ পর্যন্ত সব ঠিকই আছে। কিন্তু একজন মানুষের অনুমতি ছাড়া তাকে ভিডিও করা, তারপর সবাই মিলে তাকে উদ্দেশ্য করে “রাগ করলা!? কিংবা এ ধরনের মন্তব্য ছুড়ে দেওয়া। চিৎকার চেঁ চা মে চি করে তাকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া এসব ঠিক কোন দিক থেকে মজার? একবার শুধু পরিস্থিতিটা উল্টো করে ভাবুন, যদি একজন মেয়েকে ঘিরে ৪–৫ জন ছেলে একই কাজ করত, তাহলে কি আমরা এটাকে একইভাবে দেখতাম?💔

‘ভাই, এটা তো সামাজিক মুভি!’ এই বাক্যটা এখন এমনভাবে বলা হয়, মনে হয় সামাজিক শব্দটা শুনলেই সবকিছু হালাল হয়ে যায়। মুভিতে নাচ নাই। দুই মিনিট পরপর চুমাচুমি নাই। খোলামেলা অশ্লীল দৃশ্যও নাই। ব্যস! এবার সেটাকে ইসলামের সাংস্কৃতিক সম্পদ ঘোষণা করে ফেলা দরকার। এরপর কিছু সাহিত্যিক ভাই আসবেন। বিশেষ করে মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের cultured ভাইরা। তারা চশমা একটু ঠিক করে গম্ভীর মুখে বলবেন, ‘হুজুররা আসলে আর্ট বোঝে না। এটা লাইফ ফিলোসফি। এটা হিউম্যান সাফারিং-এর রিফ্লেকশন। এটা এক্সিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিসের সিনেম্যাটিক রিপ্রেজেন্টেশন... ব্লা ব্লা!’ মানে আগে মানুষ কুরআনের আয়াত দিয়ে হৃদয় নরম করত, এখন করবে মুভির স্যাডনেস দিয়ে। তাদের কথা শুনলে মনে হয়, ইমাম গাযালী রহিমাহুল্লাহ যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো তাহাজ্জুদের বদলে বনলতা এক্সপ্রেসের রিভিউ লিখতেন। আসল সমস্যা মুভিতে শুধু অশ্লীলতা আছে কি না, সেটা না। সমস্যা হলো, আপনার হৃদয়কে কে শেপ করছে? আপনি জীবনের দর্শন কোথা থেকে নিচ্ছেন? ওহি থেকে, নাকি স্ক্রিনপ্লে থেকে? আজকাল কিছু মুসলিম ইন্টেলেকচু্য়ালের অবস্থা এমন, হারামকে হারাম বলতে লজ্জা লাগে। তারা এমনভাবে মুভি এনালাইজ করে, মনে হয় পুরো উম্মাহর রিভাইভাল বুঝি বনলতা এক্সপ্রেসের বগিতেই লুকানো। কেউ কেউ বলছে, ভাই, এতে তো মানুষের কষ্ট দেখানো হয়েছে। আচ্ছা, মানুষের কষ্ট দেখালেই জিনিস বৈধ হয়ে যায়? এভাবেই শয়তান কখনো কখনো সরাসরি অশ্লীলতা দিয়ে শুরু করে না। সে শুরু করে সেনসিভিটি, কালচার, স্যোশাল মেসেজ দিয়ে। সমস্যা হলো, এখন কিছু মানুষের কাছে দ্বীনের চেয়ে এস্থেটিক ইমোশোন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। শয়তান সবসময় মানুষকে সরাসরি নাস্তিক বানায় না। কখনো কখনো সে শুধু এতটুকুই করে, মানুষের হৃদয়ে ওহির জায়গাটা ধীরে ধীরে কালচার দিয়ে রিপ্লেস করে দেয়। তারপর একদিন মানুষ বুঝতেই পারে না, কখন কুরআন তার বুকশেলফে উঠে গেছে, আর নেটফ্লিক্স তার মূল দর্শন হয়ে গেছে। লিখেছেন: মাওলানা তানজিল আরেফিন আদনান

মাওলানা মওদূদী বলছিলেন— যাদের জীবনাচরণে, যাদের কর্মসূচিতে এমনকি যাদের মধ্যে ইসলামের ছিটেফোঁটাও নেই, তারা কীভাবে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করবে! এদিকে আজকে দেখলাম একজন জামায়াত কর্মী প্রকাশ্যে এনটিভির ক্যামেরায় বলল— ‘যার নিজের বডির মধ্যে ইসলাম নাই, তার ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার যোগ্যতা নাই’। অথচ এই কথাগুলোই দীর্ঘদিন ধরে দেওবন্দি, সালাফি ও চরমোনাই লোকেরা বলে আসছিল জামায়াতকে! আর এগুলো বলায় জামায়াতের লোকজন বেজায় নাখোশও ছিল /আছে তাদের ওপর! কিন্তু নিজেরা ঠিকই প্রয়োজনমতো অন্যদেরকে এই কথাগুলো বলে।😊

আমি এখন পর্যন্ত যত লিবারেল-সেকুলারকে অবজার্ভ করেছি এদের প্রত্যেকের মাঝে দুইটা বিষয় কমন পেয়েছি। ১. এরা বিভিন্ন মাত্রায় মোরালি করাপ্টেড, সাবজেক্টিভ মোরালিটি ও হার্ম প্রিন্সিপালে বিশ্বাসী। ২. এরা প্রত্যেকেই এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির উৎকৃষ্ট মানের কনজিউমার। ১মটা হলো ফলাফল আর ২য়টা হলো কারণ। পৃথিবীতে একটাও লিবারেল খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে। কারণ ভালো-মন্দের মাপকাঠি তারা শেখে এখান থেকেই। একেকটা মুভি, ওয়েব সিরিজ শুধু একেকটা গল্প বলেনা। কিছু নির্দিষ্ট আইডিওলজি আর মোরাল ফ্রেমওয়ার্ক ফেরি করে। ফর এক্সাম্পল- একটা সময় সমাজে দুইজন অবিবাহিত নারী-পুরুষের হাত ধরে হাঁটাকে খারাপ চোখে দেখা হতো। এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির (অ)কল্যাণে এখন এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আবার, জন্মদিনে কেক কাটা কখনো এইদেশের মানুষের সংস্কৃতি ছিলনা। কিন্তু সিনেমা-নাটকে কেক কাটা দেখে বাঙালি এটাকে অ্যাডপ্ট করে ফেলেছে। এমন অসংখ্য উদাহরণ দেখানো যাবে। পর্দার পেছনে এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির কারিগরদের বাস্তব জীবন প্রচন্ড অস্থিতিশীল, ভঙ্গুর ও বিভৎস। বডি কাউন্ট, ডিভোর্স রেট, লিভ টুগেদার, সুইসাইড রেট সবকিছুতে এরা সবসময় সাধারণ মানুষদেরকে ছাপিয়ে আলাদা উচ্চতায় অবস্থান করে, হোক সেটা হলিউড, বলিউড অথবা ঢালিউড। আমেরিকান ম্যারেজ ফাউন্ডেশনের এক জরিপ মতে, সেলিব্রেটি দম্পতিদের মাঝে ১০ বছরের মধ্যে বিচ্ছেদের হার ৪০% এর ওপরে, যেখানে সাধারণ দম্পতিদের মাঝে এই হার ২০% এরও কম। বিনোদন নতুন কিছু না। সিনেমা আসার আগেও মানুষ যাত্রাপালা দেখতো, ন[]র্তকী-বাইজিরা ছিল মানুষকে বিনোদন দেয়ার জন্য। কিন্তু তখন বাইজিরা কাউকে আদর্শ শেখাতে পারতোনা। ন[]র্তকীদেরকে সমাজের নির্লজ্জ আর বেহায়া জনগোষ্ঠী হিসেবেই দেখা হতো এবং সেভাবেই ট্রিট করা হতো। কিন্তু আধুনিক বিনোদন জগতের ন[]র্তকী-বাইজিরা মানুষকে ভালো-মন্দ শেখানোর সুযোগ পায়। সমাজের সেরা বেহায়াদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও মানুষ এদেরকে ফলো করে, এদেরকে আদর্শ মানে। শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট জেলায় একটা নির্দিষ্ট সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন সেকুলাঙ্গাররা পাগলা কুকুরের মতো আচরণ করছে, এবার হয়তো বুঝতে পারছেন। এগুলো তাদের লিবারেল দাওয়াতি মিশনারির অংশ। একটি জেলাতেও তাদের দাওয়াত বাধাগ্রস্ত হওয়াকে তারা তাদের লিবারেল ধর্মীয় রিচুয়ালের ওপরে আঘাত হিসেবে দেখে। ইন্‌ শা আল্লাহ, যদি এইদেশের অন্যান্য মুসলিমরাও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণের মতো সজাগ হয়ে উঠতে শুরু করে তাহলে এই লিবারেল মিশনারির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমরা অনেকটাই মোকাবিলা করে উঠতে পারবো।

আমি এখন পর্যন্ত যত লিবারেল-সেকুলারকে অবজার্ভ করেছি এদের প্রত্যেকের মাঝে দুইটা বিষয় কমন পেয়েছি। ১. এরা বিভিন্ন মাত্রায় মোরালি করাপ্টেড, সাবজেক্টিভ মোরালিটি ও হার্ম প্রিন্সিপালে বিশ্বাসী। ২. এরা প্রত্যেকেই এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির উৎকৃষ্ট মানের কনজিউমার। ১মটা হলো ফলাফল আর ২য়টা হলো কারণ। পৃথিবীতে একটাও লিবারেল খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে। কারণ ভালো-মন্দের মাপকাঠি তারা শেখে এখান থেকেই। একেকটা মুভি, ওয়েব সিরিজ শুধু একেকটা গল্প বলেনা। কিছু নির্দিষ্ট আইডিওলজি আর মোরাল ফ্রেমওয়ার্ক ফেরি করে। ফর এক্সাম্পল- একটা সময় সমাজে দুইজন অবিবাহিত নারী-পুরুষের হাত ধরে হাঁটাকে খারাপ চোখে দেখা হতো। এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির (অ)কল্যাণে এখন এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আবার, জন্মদিনে কেক কাটা কখনো এইদেশের মানুষের সংস্কৃতি ছিলনা। কিন্তু সিনেমা-নাটকে কেক কাটা দেখে বাঙালি এটাকে অ্যাডপ্ট করে ফেলেছে। এমন অসংখ্য উদাহরণ দেখানো যাবে। পর্দার পেছনে এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির কারিগরদের বাস্তব জীবন প্রচন্ড অস্থিতিশীল, ভঙ্গুর ও বিভৎস। বডি কাউন্ট, ডিভোর্স রেট, লিভ টুগেদার, সুইসাইড রেট সবকিছুতে এরা সবসময় সাধারণ মানুষদেরকে ছাপিয়ে আলাদা উচ্চতায় অবস্থান করে, হোক সেটা হলিউড, বলিউড অথবা ঢালিউড। আমেরিকান ম্যারেজ ফাউন্ডেশনের এক জরিপ মতে, সেলিব্রেটি দম্পতিদের মাঝে ১০ বছরের মধ্যে বিচ্ছেদের হার ৪০% এর ওপরে, যেখানে সাধারণ দম্পতিদের মাঝে এই হার ২০% এরও কম। বিনোদন নতুন কিছু না। সিনেমা আসার আগেও মানুষ যাত্রাপালা দেখতো, ন[]র্তকী-বাইজিরা ছিল মানুষকে বিনোদন দেয়ার জন্য। কিন্তু তখন বাইজিরা কাউকে আদর্শ শেখাতে পারতোনা। ন[]র্তকীদেরকে সমাজের নির্লজ্জ আর বেহায়া জনগোষ্ঠী হিসেবেই দেখা হতো এবং সেভাবেই ট্রিট করা হতো। কিন্তু আধুনিক বিনোদন জগতের ন[]র্তকী-বাইজিরা মানুষকে ভালো-মন্দ শেখানোর সুযোগ পায়। সমাজের সেরা বেহায়াদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও মানুষ এদেরকে ফলো করে, এদেরকে আদর্শ মানে। শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট জেলায় একটা নির্দিষ্ট সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন সেকুলাঙ্গাররা পাগলা কুকুরের মতো আচরণ করছে, এবার হয়তো বুঝতে পারছেন। এগুলো তাদের লিবারেল দাওয়াতি মিশনারির অংশ। একটি জেলাতেও তাদের দাওয়াত বাধাগ্রস্ত হওয়াকে তারা তাদের লিবারেল ধর্মীয় রিচুয়ালের ওপরে আঘাত হিসেবে দেখে। ইন্‌ শা আল্লাহ, যদি এইদেশের অন্যান্য মুসলিমরাও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণের মতো সজাগ হয়ে উঠতে শুরু করে তাহলে এই লিবারেল মিশনারির সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমরা অনেকটাই মোকাবিলা করে উঠতে পারবো।

হজ উমরাহতে এসে যারা টুকটাক ছবি ভিডিও করে, তাদের সবাইকে এক কাতারে ফেলেন না। সে লোক দেখানো ইবাদত করছে, তার ভেতর ইখলাস নাই, তার হজ কবুল হবে না — এতটা কড়া কথাও বইলেন না, প্লিজ। একটা ছবি তুলে সেটা শেয়ার করতে মিনিট খানেক সময়ও লাগে না। এমনটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে, দীর্ঘক্ষণ আমল শেষে হয়তো কয়েক মিনিটের জন্যই সে মোবাইলটি হাতে নিয়েছিল। হয়তো তার ইচ্ছে হয়েছিল, এই সুন্দর দৃশ্যটা আপনজনদের সাথে শেয়ার করি। ব্যাস, এতটুকুই। এখানে তার ভেতর এ চিন্তা সামান্য সময়ের জন্যও হয়তো আসে নাই যে, ছবি পোস্ট করে মানুষকে জানাই আমি হজ বা উমরাহ করতে এসেছি, লোকে দেখুক আমার আমলের তালিকা কত লম্বা। মানুষের অন্তরের খবর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কেউ হয়তো সত্যিই রিয়ার জন্য করছে, আবার কেউ হয়তো নিছক স্মৃতি ধরে রাখতে, পরিবারের মানুষদের খুশি করতে বা প্রিয়জনদের সাথে অনুভূতিটা ভাগাভাগি করতেই একটা ছবি তুলেছে। হা অবশ‍্যই, কোন সন্দেহ নেই, সেই হজই সর্বোত্তম যেখানে অপ্রয়োজনীয় ফটোগ্রাফি নেই, যেখানে মানুষ পুরোটা সময় ইবাদতে ডুবে থাকে। তাই নসিহত অবশ্যই করুন। মানুষকে আমলের দিকে অবশ‍্যই ডাকুন। শেখান সর্বোত্তম হজ কোনটা। কিন্তু এমনভাবে না, যাতে একজন ইবাদতের আনন্দটাই হারিয়ে ফেলে কিংবা নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করে।…

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই মাওলানা মওদূদীর কণ্ঠে এক ধরনের হতাশার সুর শোনা যেত। তিনি দেখছিলেন, যেই জামায়াতকে তিনি একসময় “আদর্শিক সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন” হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, সেটি আস্তে আস্তে রাজনীতির কঠিন খেলায় জড়িয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের ভেতর থেকে সহিংস ঘটনার খবর আসছিল, ছাত্রসংগঠনের হাতে রক্ত লেগেছিল। মাওদূদী তখন একটাই কথা বারবার জোর দিয়ে বলতেন—“শৃঙ্খলা, শৃঙ্খলা, শৃঙ্খলা।” কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, রাজনৈতিক বাস্তববাদ তার দলকে আদর্শ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের ভরাডুবির পর তার মন ভেঙে যায়। সারা জীবন তারা আদর্শের নামে ত্যাগ করেছে, অনেক জায়গায় নীতি থেকে আপস করেছে—কিন্তু নির্বাচনে সেই ত্যাগের কোনো মূল্যই মিললো না। বরং দল ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়লো। তখন থেকেই তিনি আবার ফিরতে চাইছিলেন নিজের পুরোনো স্বপ্নে—“একটি পবিত্র আদর্শিক উম্মাহ গড়ে তোলা,” রাজনীতির ক্ষমতার খেলায় না জড়িয়ে। কিন্তু তখন তার সহকর্মীরা আর সেই পথে হাঁটতে রাজি ছিলেন না। মাওলানা মাওদূদী একসময় নিজ দলের ভেতরেই একাকী হয়ে পড়লেন। ১৯৭২ সালে আমীরের পদ ছেড়ে দেওয়ার পর তার প্রভাব চোখে পড়ার মতোভাবে কমতে থাকে। তিনি তখন তার স্ত্রীকে কষ্টের সঙ্গে বলেছিলেন—“এই দল আর আমার মানদণ্ডে নেই। যদি আমার শরীরে শক্তি থাকতো, আমি আবার নতুন করে শুরু করতাম।” এক বন্ধুকে তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেছিলেন—“আমি আশা করি এমনটা হবে না, কিন্তু যখন ইতিহাস লেখা হবে, তখন মানুষ বলবে—এটা ছিলো আরেকটি তাজদীদ আন্দোলন, যার উত্থান হয়েছিলো, অতঃপর পতন।” অবশেষে, ১৯৭৫ সালে শুরার বৈঠকে তিনি শেষবারের মতো আবেদন রাখলেন—“আমরা রাজনীতির পথ থেকে সরে আসি, আমরা আবার পবিত্র আদর্শিক সমাজ গড়ার পথে ফিরি।” তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, নির্বাচন শুধু অচল গন্তব্যই নয়, বরং এটা জামায়াতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ১৯৭৫ সালের সেই শুরার বৈঠকে মাওলানা মওদূদী স্পষ্ট করে বলেছিলেন—জামায়াতকে রাজনীতির পথ থেকে সরতে হবে, নির্বাচন শুধু ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুরা তখন তার কথায় কান দেয়নি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসি মাজহার নাদবী। তিনি ফিরে এসে মাওলানাকে একটি চিঠি লিখলেন। তার মনে প্রশ্ন ছিল—“আমি কি ঠিক বুঝেছি? আপনি কি সত্যিই নির্বাচন থেকে সরে আসার কথা বলেছেন?” মাওদূদী জবাবে আবারও স্পষ্ট করলেন—হ্যাঁ, তিনি নির্বাচনের পথকে ঘৃণার চোখে দেখেন, তিনি চান জামায়াত আবার পবিত্র আদর্শিক সমাজের পথে ফিরে যাক। কিন্তু এই চিঠি পরে বাইরে ফাঁস হয়ে গেলো। জামায়াতের ভেতরের অনেকেই রেগে গেলেন। তারা মনে করলেন, এটা দলের গোপন আলাপ ফাঁস করা হয়েছে। আর তখনই ওয়াসি মাজহার নাদবীকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হলো। তথ্যসূত্র: The Vanguard of the Islamic Revolution: The Jama'at-i Islami of Pakistan by Vali Nasr

ধরুন, নাহিদ ইসলাম এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছে- “জামাতে ইসলামী একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল। একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তার ভিশন। ফলে তার এ আদর্শের সাথে এনসিপির আদর্শতো মিলবে না। এনসিপি মধ্যমপন্থি উদারপন্থি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলে এখানে আদর্শিকভাবে জোট হওয়ার কোন সুযোগ নেই।” নাহিদ ইসলামের এ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে না চাওয়াটা কী? শরীয়তের বিচারে তার বিধান কী? বাহ্যিকভাবে একটি ইসলামী দলের আদর্শতো ইসলাম। নাহিদ ইসলাম সে আদর্শের পরিপন্থি আদর্শ লালন করে এবং তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জামাতে ইসলাম কোন ইসলাম চায় এবং কতটুকু ইসলাম চায় সে প্রসঙ্গে আমি এখন যেতে চাচ্ছি না, কিন্তু নাহিদ রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম চায় না, এতটুকুতে সে কোন প্রকার অস্পষ্টতা রাখেনি। যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম চায় না, তারা মুসলিম? নাকি অমুসলিম? আপনি যদি একটু ঘাটাঘাটি করেন, তাহলে দেখতে পাবেন, এ দেশের অনৈসলামিক প্রতিটি রাজনৈতিক দলের এ বক্তব্য স্পষ্ট। শব্দের কিছুটা ব্যবধান থাকতে পারে। কিন্তু মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে তাদের বক্তব্যগুলো এক ও অভিন্ন। আরো দুঃখজন বাস্তবতা হচ্ছে, জামাতে ইসলামীকে যদি নাহিদের বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হয় এবং এ বিষয়ে তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়, তাহলে তারা নিজেদের অবস্থান এমনভাবেই তুলে ধরবে যা দেখে আপনি নাহিদের বক্তব্য ও জামাতে ইসলামীর অবস্থানের মাঝে বড় ধরনের কোন ব্যবধান খুঁজে পাবেন না। এমনিভাবে অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি এ বিষয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলেন, তাহলে তারাও তাদের নিজেদের অবস্থানগুলোকে নাহিদের বক্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করবে। আপনি তখন হয়ত দুয়ের মাঝে অনেক বেশি দূরত্ব খুঁজে পাবেন না। তবে আমরা এতটুকু বিশ্বাস করি, ইসলাম শিরনামের রাজনৈতিক দলগুলো মুখে যাই বলুক, তাদের মনে ইসলামপ্রীতি ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন স্বীকৃত। এমতাবস্থায় নাহিদ ইসলামের মত অনৈসলামিক রাজনীতির সকল নীতিনির্ধারকদের বিষয়ে মুসলিমরা কেমন ধারণা পোষণ করবে? তাদের সঙ্গদান, তাদের আনুগত্য ও সম্প্রীতির মাপকাঠি কী হবে? এমন সুস্পষ্ট বক্তব্যপ্রদানকারীদের কাছ থেকে ইসলাম ও মুসলিমরা কী কী আশা করবে?

কতিপয় নারী কতোটা ভয়ানক হতে পারে এই মহিলা সেটার উত্তম নমুনা। এই মহিলা কুমিল্লা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী। গতকাল ফেসবুকে এর কান্নাকাটি ভাইরাল হয় এবং করুণ কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে, তাঁর অফিস প্রধান তার ওপর কঠিন যৌন নির্যাতন চালায়।মূহুর্তেই তার কান্নাকাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার কান্নাকাটি দেখে অনেক সাধারণ মানুষও কাঁদলো। ওই মহিলা পুলিশকে অভিযোগ করে, তাঁর স্বামীসহ বাসার প্রত্যেকেটা মানুষকে অফিসে হাজির করে। এদিকে পুলিশও এই নারী কর্মচারীর কথায়, অফিস প্রধানের অনুমতি ব্যাতীতই অফিসে হাজির হয়। যেটা সরকারি আইনের পরিপন্থী। আর পুলিশের দোষ দিয়েও বা কী হবে— ওই মূহুর্তে পুলিশ না গেলে পুলিশেরই আবার দোষ হতো। কিন্তু নারী যতোই চালাক হোক, নারী তো নারীই, রাগের ঠেলায় এ ভুলেই গিয়েছিল, অফিস প্রধানের রুম থেকে শুরু করে আশেপাশের রুমেও সিসি ক্যামেরা অ্যাক্টিভ ছিল। সেই ক্যামেরায় দেখা যায়, নারী নির্যাতন তো দূরে থাক, উল্টো ওই নারী রীতিমতো পুরুষ নির্যাতন চালিয়েছে। বদলি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অফিস প্রধানকে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। পুরো অফিস তছনছ করেছে। একবার চিন্তা করেন, যদি সিসি ক্যামেরা না থাকতো, তাহলে বেচারা অফিস প্রধানের অবস্থাটা কী হতো? পুরো দেশে মান ইজ্জত শেষ হতো, চাকরি চলে যেতো, স্ত্রী, সন্তানের কাছে আমৃত্যু অপদস্ত হয়ে বেঁচে থাকতে হতো। যেই শুকরের ছানারা মাহিলা মানুষের কথা ওহির মতো ট্রিট করে, তাদের চোখের জলে  "মব জাস্টিস" পর্যন্ত করতে চায়— সেই সকল শুকরের ছানাদের মুখে এক-দলা থুথু! মূল তথ্য এবং ভিডিও: কালবেলা অনলাইন।

photo content

অযোগ্য মানুষ যখন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন সে আপনাকে লজ্জিত করার চেষ্টা করে। কারণ, যোগ্যতার সামনে তার একমাত্র অস্ত্র অপমান, কুৎসা আর হীনমন্যতার প্রকাশ। কিন্তু মনে রাখতে হবে— অন্যের অপচেষ্টা কখনও আপনার মূল্য কমিয়ে দিতে পারে না; বরং সেটাই প্রমাণ করে, আপনার অবস্থান তার নাগালের বাইরে। যারা নিজের যোগ্যতায় এগোতে পারে না, তারা প্রায়ই অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় প্রমাণ করতে চায়।

শিশু রামিসাকে একটা রিকশা ম্যাকানিক পার্ভাট রেইপ করে। এরপর মাথা দ্বিখণ্ডিত করে হত্যা করে। এই কাজে তাকে যে সহযোগিতা করে, সে হলো আরেকজন নারী— তার স্ত্রী। চিন্তা করেন, আমাদের মধ্যে মূল্যবোধ, মমত্ববোধ, এসব কই গেছে? আমরা শুধু আইয়ামে জাহেলিয়াতের গল্প বলি, কিন্তু এই সময়টা কি আইয়ামে জাহেলিয়াত থেকে খুব বেশি কম কিছু? আইয়্যামে জাহিলিয়াত কন্যাশিশুকে শুধু হত্যা করত। রেইপ করে স্ত্রীর সহযোগিতায় বা স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে হত্যা করতো? সাইয়েদ কুতুব কি অযথাই এই সভ্যতাকে আধুনিক জাহিলিয়াত বলে আখ্যা দিয়েছে? ১৫০০ বছরের আগের জাহিলিয়াতে কন্যা শিশুকে খুন করা হলেও আজকের জাহিলিয়াত কন্যাশিশুকে আগে ধর্ষণ করে, এরপর হত্যা করে। আইয়ামে জাহিলিয়াত থেকে থেকে মানুষ আল্লাহপ্রদত্ত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত বিধান দ্বারাই মুক্তি পেয়েছিল। তাহলে এখন, আজকের এই জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি পেতে আমাদের বাচার উপায় কী? অবশ্যই আল্লাহর দ্বীন— আল-ইসলাম। কিন্তু, আমরা কি সেই সমাধান নেব? কিংবা নিতে চাই?