আকাবির-কথন
Відкрити в Telegram
Показати більше
Країна не вказанаКатегорія не вказана
1 194
Підписники
+224 години
+77 днів
+2930 днів
Архів дописів
1 204
ওস্তাদ বদরুদ্দীনের কলমটা হাতে পাওয়ার পর আমার ডিজিটাল জীবনের অস্থিরতা অনেকটাই কমে এসেছিল। চাচার কলমটা পকেটে রাখলেও বুক পকেটে রাখতাম ওস্তাদের দেওয়া কলমটা। মিথ্যা বা চটকদার পোস্ট লিখে ভাইরাল হওয়ার নেশা ততদিনে কেটে গেছে। কিন্তু কিছুদিন পর নিজের ভেতরে একটা অদ্ভুত শূন্যতা টের পেলাম, যেটা আগে ছিল না।
একদিন বিকেলে Abu Midfa Saiful Islam ভাইয়ের বাসায় বসে চা খাচ্ছি। চায়ের কাপের ধোঁয়া মিলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আড্ডা যখন তুঙ্গে, তখন কথায় কথায় বললাম,
“সাইফুল ভাই, কলম আর হাত তো সংযত হলো। কিন্তু যে মেধা বা ইলম দিয়ে আমি সত্যের পথে কিছু লিখব, সেই জ্ঞানের গভীরতা তো আমার ভেতরে নেই। ভেতরটা যে খালি খালি লাগে।”
সাইফুল ভাই তাঁর কাপে শেষ চুমুক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তারপর টেবিলের ড্রয়ার খুলে পুরোনো, হলুদ হয়ে যাওয়া একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে আমার সামনে রাখলেন।
“দাদাজান ইন্তেকালের আগে বলে গিয়েছিলেন, যদি কখনো তাঁর কলমের আমানতদারের ভেতরটা খালি খালি লাগে, তবে যেন এই কাগজটা তাকে দিই। দাদাজান বোধহয় এই দিনটার কথাও আগে থেকে আঁচ করে গিয়েছিলেন!”
আমি বিস্ময় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাগজটা খুললাম। তাতে সুফিয়ানা ক্যালিগ্রাফিতে চকবাজারের শাহী মসজিদের উত্তরের এক জটিল, আঁকাবাঁকা গলির মানচিত্র আর একটি নাম লেখা—
‘ওস্তাদ মাহমুদ সিদ্দিকী, কিতাবঘর।’
সঙ্গে আরও লেখা—
‘নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হলে তাঁর কাছে নিজেকে পড়তে যাও। তবে যেতে হবে সন্ধ্যাবেলা।’
—
পরদিন সময়মতো চকবাজারে গেলাম।
সাধারণত চকবাজার বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হট্টগোল আর আতর-মসলার ব্যবসা। কিন্তু শাহী মসজিদের পেছনের ঘিঞ্জি গলি ধরে এগোতেই চারপাশের কোলাহল যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল। নোনাধরা পোড়ামাটির লাল ইট আর পুরোনো জীর্ণ ইমারতের ছায়ায় গলিটা আবছা অন্ধকারে ঠাসা। বাতাসে কাঁচা চামড়া, ধূপ আর ভেজা পুরোনো কাগজের এক ভারী সুবাস।
গলির একদম শেষ মাথায় ঝুলছে ঝাপসা হয়ে যাওয়া কাঠের সাইনবোর্ড, তাতে সাদা রঙে লেখা—
“কিতাবঘর: পুরোনো বই ক্রয়-বিক্রয় ও মেরামত করা হয়।”
ভেতরে ঢুকতেই আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।
স্যাঁতসেঁতে মেঝে থেকে প্রায় পনেরো ফুট উঁচু কাঠের সিলিং পর্যন্ত বিশাল সেগুন কাঠের তাক ভর্তি বই আর বই। কোথাও চামড়ায় বাঁধানো বিশাল ক্যালিগ্রাফির স্ক্রোল, কোথাও কাঠের মলাটে বাঁধানো প্রাচীন বই দাঁড়িয়ে আছে। ওপরের বই নাগাল পাওয়ার জন্য রশি আর চাকার মেকানিজমে পিতলের একটা মই ঝুলছে। পুরো ঘরে আলো বলতে কোণের একটা বড় পিতলের লণ্ঠন।
ঘরের শেষ মাথায় কাঠের জলচৌকিতে বসে ছিলেন সাদা জুব্বা পরা এক প্রবীণ লোক—ওস্তাদ Mahmud Siddiqui। হাতে কাঠের তৈরি একটা ক্যালিগ্রাফি ফ্রেম।
আমি কাছে গিয়ে সালাম দিতেই তিনি চশমার ওপর দিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তারপর তাঁর চোখ গেল আমার বুক পকেটে গুঁজে রাখা সোয়ান কলমটার দিকে। এক মুহূর্তের জন্য তাঁর চোখে যেন এক অদ্ভুত আলো খেলে গেল।
তিনি মৃদু হেসে সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,
“বদরুদ্দীনের সোয়ান কলম! তার মানে তোমাকেই বদরুদ্দীন তার কলমের উত্তরসূরি করে গেছে? বসো।”
আমি বসতেই তিনি ছোট পিতলের পেয়ালায় অপরিচিত একটা গরম পানীয় ঢেলে দিলেন। তাতে চুমুক দিতেই পুরো শরীরটা যেন সতেজ হয়ে উঠল।
নিজের অবস্থা খুলে বললাম,
“ওস্তাদ বদরুদ্দীন আপনার ঠিকানা দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছেন। আমার যে অবস্থা, তাতে কী করতে পারি? ভেতরটা যে খালি খালি লাগে; এর থেকে মুক্তির উপায় কী?”
ওস্তাদ মাহমুদ চশমা খুলে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“তুমি দৈনিক কতক্ষণ পড়ো?”
বললাম, “তেমন পড়ি না। যা দেখি, শুনি—তাই লিখি।”
ওস্তাদ মাথা নাড়লেন।
“তাহলে তো হবে না। পড়তে তো হবে। যত পড়বে, তার চেয়ে কম লিখবে। এক পৃষ্ঠা পড়লে একটা লাইন, দুই পৃষ্ঠা পড়লে দুই লাইন। এরকম—যত পড়বে, তার অর্ধেকেরও কম লেখবে। এটাই তোমার প্রাথমিক চিকিৎসা।”
একটু থেমে বললেন,
“খালি কলসে খালি শব্দই পাওয়া যায়। তরঙ্গের শব্দ পেতে হলে ভেতরে পরিমাণমতো পানি থাকতে হয়।”
তিনি চারপাশের বইগুলোর দিকে তাকালেন।
“এই যে বইগুলো দেখছো—একেকটা বইয়ের পেছনে কতটা ত্যাগ হয়েছে, জানো?”
আমি চুপ করে রইলাম।
“আজ তোমরা সহজেই একটা বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টাও, কয়েকটা লাইন পড়ো, তারপর রেখে দাও। কিন্তু একটা বই আমাদের হাতে পৌঁছানোর আগে তার পেছনে কত মানুষের জীবন কেটে গেছে, সেটা কখনো ভেবে দেখেছো?”
ওস্তাদ ধীরে ধীরে একটা পুরোনো বইয়ের মলাটে হাত বুলাতে লাগলেন।
“এক সময় মানুষ জ্ঞান সংরক্ষণ করত গাছের ছালে, প্যাপিরাসে, পশুর চামড়ায়। পরে ধীরে ধীরে এসব আলাদা আলাদা পাতাকে একত্র করে পাণ্ডুলিপির রূপ দেওয়া হলো। পাতা জোড়া লাগল, সেলাই হলো, মলাট পড়ল—আর একসময় সেই পাণ্ডুলিপিই আমাদের পরিচিত কিতাবের রূপ নিল।
1 204
সবার আগে সান্নিধ্য
মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব হাফিযাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়, একজন মানুষের জীবন গঠনে কোন্ বিষয়টি অধিক কার্যকর? মনীষী-সাহচর্য, না কিতাবপত্র? সহজ ভাষায়, একজন মানুষ গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে কিতাবের অবদান বেশি, নাকি গুণী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যের প্রভাব বেশি?
উত্তর: নিঃসন্দেহে মনীষী-সান্নিধ্যই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাবক। তাঁদের সাহচর্যেই মানুষের সঠিক বোধশক্তি, বিশুদ্ধ চিন্তাধারা ও সুন্দর চরিত্র অর্জিত হয়। মন-মানস ও চিন্তা-চেতনা ঠিক হয়ে যাওয়ার পর আসবে কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়।
[মাসিক আলকাউসার, সেপ্টেম্বর ২০২৬]
1 204
১৮-৩০ বছর বয়সে নফসের চাহিদা প্রবল থাকে, চারপাশে থাকে গুনাহের অসংখ্য দরজা। তাই এই বয়সে নিজেকে পাপ থেকে বাঁচিয়ে আল্লাহর পথে থাকা নিঃসন্দেহে কঠিন।
কিন্তু এই কঠিন সময়টাই যদি আপনি আল্লাহর জন্য পার করতে পারেন, আপনার যৌবনই হয়ে উঠতে পারে আখিরাতের পাথেয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ সাত শ্রেণীর এমন মানুষদের কথা বলেছেন, যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেই যুবক, যে তার যৌবন আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে।
কিন্তু কীভাবে এই অস্থির সময়ে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? কীভাবে গুনাহের পরিবেশেও ঈমান ও চরিত্রকে হেফাজত করবেন?
যৌবনকে আল্লাহর পথে কাজে লাগানোর সেই পথচলায় এবার আসছে ‘এখন যৌবন যার–২’।
উমেদ প্রকাশিত বহুল পাঠকপ্রিয় ‘এখন যৌবন যার’-এর পরবর্তী খন্ড যৌবনের ঈমানি লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
বই: এখন যৌবন যার–২
উমেদ প্রকাশ থেকে প্রকাশিতব্য
আসছে খুব শীঘ্রই, ইন শা আল্লাহ।
1 204
যাদের সম্ভব হয় সংগ্রহ করে নেই। কয়েকদিন পর হয়তো দাম বেড়ে যাবে।
...
মাআরিফুল হাদিস রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মুখনিসৃত হাদিসের এক বিস্তর সংকলন। এতে সুবিন্যস্তভাবে বিষয়ভিত্তিক হাদিসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে। গ্রন্থটি এ উপমহাদেশের চিন্তাশীল ও গবেষক আলেমগণের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। গ্রন্থটি সংকলনের পর থেকে বহু বছর যাবৎ জ্ঞানপিপাসুদের পিপাসা নিবারণ করে আসছে।
-
মাআরিফুল হাদিস (৮ ভলিউম)
মূল লেখক : মাওলানা মুহাম্মাদ মনজুর নুমানি রহ.
তাখরিজ ও তাহকিক : মাওলানা আবু রাফআন সিরাজ
অনুবাদক : মুজাহিদুল ইসলাম মাইমুন, হুমায়ূন কবীর, মুবাশশির বিন মিল্লী, শাহাদাত হুসাইন, যুবায়ের বিন তাহের
সম্পাদক : আবু মুসআব ওসমান, আতাউস সামাদ, রাশেদ আবদুল্লাহ, কাজী আছিফুজ্জামান, আশরাফুল হক
মুদ্রিত মূল্য : ৬৭০০/-
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০০০+
প্রি-অর্ডার মূল্য : ২৯০০/-
📢 প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
1 204
উত্তরটা চাইলে চিঠিতে দিতে পারেন (https://chithi.me/chiti29)
আমি আমার ১৫ বছর বয়সী অতির সত্তাকে দিতাম :
বড় যদি হতে চাও
জীবন পথের পাথেয়
