Al Asar
Открыть в Telegram
নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিপতিত। তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, পরস্পরকে হকের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়’ (সূরা আসর)
Больше1 393
Подписчики
Нет данных24 часа
-67 дней
-2430 день
Архив постов
1 393
জুময়া রিমাইন্ডার : সূরা কাহাফ,ইস্তিগফার, দুরুদ ও দোয়া
আজ ২৯ জিলক্বদ (আগামীকাল / পরশু ১ লা জিলহজ্জ :: চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)
কুরবানীর কুইজ: মুসলিমস ডে::
https://t.me/bataayan/1922
1 393
ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
“ অন্য কোনো দিনের কোনো আমলই এই দিনগুলোতে ( জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে ) করা ইবাদাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর নয় । ”
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন,
“ইয়া রাসূলুল্লাহ, এমনকি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়?
তিনি ﷺ বললেন, “এমনকি জিহাদও নয়; অবশ্য এমন ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে কিনা নিজের জান আর মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যায় আর সেগুলোর কিছুই না নিয়ে ফেরে।”
[ সহিহ বুখারি ৯৬৯, সুনানে আবু দাউদ ২৪৩৮, জামি’ আত-তিরমিযি ৭৫৭ ইত্যাদি ]
.
জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও আমল নিয়ে শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিলের লিখা আর্টিকেলটি আল্লাহর ইচ্ছায় বাংলা ভাষাভাষী ভাইবোনদের জন্য আমরা গত জিলহজ্জে অনুবাদ করেছিলাম। আর এই বছর কিছু বানান সংশোধন, আরবি ক্যালিগ্রাফি সংযোজন এবং পেইজ সেটআপ উন্নত করে চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশ করা হলো আলহামদুলিল্লাহ। এর যাবতীয় সফলতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই। আর সমস্ত ভুলভ্রান্তি এই অধমদের।
সম্পূর্ণ কাজটি কোনোরকম পরিবর্তন, পরিবর্ধন না করা সাপেক্ষে সকলের প্রচারের জন্য উন্মুক্ত ইন-শা-আল্লাহ। তাই ইলম অর্জনের পাশাপাশি এই ইলমের উপর নিজে আমল করুন এবং অন্য ভাইবোনদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাদের আমলেরও সাওয়াব হাসিল করে নিন।
বইঃ জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন
শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল হাফিজাহুল্লাহ
চূড়ান্ত সংস্করণ ( ১৪৪১ হিজরি )
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৫
ফরম্যাট : পিডিএফ
ডাউনলোড লিঙ্ক : https://drive.google.com/file/d/1Pkfaz21QdQmb8k80KO14jPdcKEqO-I_A/
https://t.me/ShaikhAhmadMusaJibril
1 393
সামনে কুরবানির ঈদ। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মানুষকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করবেন না, এমন কথা বলবেন না, এমন নজরে তাকাবেন না যা একজনকে অস্বস্তিতে ফেলে।অনেকেই আছে যাদের পশু কুরবানি করার সামর্থ্য নেই। কিছু মানুষ শত চেষ্টা করেও ঈদে খুশি থাকতে চেয়েও কিছু মানুষের কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পেরে উঠে না। কাউকে কথা মাধ্যমে জুলুম যেন না করি সতর্ক থাকা।
অন্যের কুরবানি কী কারণে করলো না, অন্যের গরু ছাগলের সাইজ, গোস্তের পরিমাণ এসব নিয়ে অযাচিত মন্তব্য না করে নিজের কুরবানির প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি।
যাদের সামর্থ্য নাই তাদেরও চক্ষুলজ্জা থেকে বাঁচার জন্য গলাকাটা ঋন করে কুরবানির করার প্রয়োজন নাই।
- শহিদুল্লাহ ফেরদৌস সৌরভ
1 393
আলহামদুলিল্লাহ ,আমরা বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিন পেতে যাচ্ছি; আর তা হলো জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন,ইনশাআল্লাহ।
এবছর জুন ৬ সূর্যাস্ত থেকে ,2024 তারিখে জিলহজ্জ মাস শুরু হবে ইনশাআল্লাহ l
বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ টি রাত হলো রমজানের শেষ দশক, আর বছরের শ্রেষ্ঠ ১০টি দিন হলো যিলহজ্জের প্রথম দশক। রবের কাছে এই ১০ দিনের আমল অনেক প্রিয়।
#জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন এর গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহঃ
(১) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা; বিশেষত আরাফার দিনের রোজা রাখা।
রাসূল (ﷺ) বলেন,
❝আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।❞
[ সহীহ মুসলিম : ১১৬২ ]
(২) সামর্থ্যবান হলে কুরবানি করা।
(৩) এই দশ দিন নখ ও চুল না কাটা।
রাসূল (ﷺ) বলেন,
❝তোমাদের কেউ জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখলে এবং কুরবানি করার ইচ্ছা করলে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।❞
[ সহীহ মুসলিম : ১৯৭৭ ]
(৪) চার ধরনের যিকিরে লেগে থাকা।
রাসুল (ﷺ) বলেন,
❝আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজ্জের দশ দিনের আমলের চেয়ে মহান এবং প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং, তোমরা সেই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে
তাসবিহ ( سُبْحَانَ اللّٰهِ ), সুবহানাল্লাহ
তাহমিদ ( ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ ), আলহামদুলিল্লাহ
তাহলিল ( لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ ) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
ও তাকবির ( اللّٰهُ أَكْبَر ) আল্লাহ আকবার ,পড়ো।❞
[ মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৪৬; হাদিসটির সনদ সহিহ ]
(৫) বেশি বেশি তাকবির তথা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা।
সাধারণভাবে এই দশ দিন সংক্ষেপে اللّٰهُ أَكْبَر বেশি বেশি পড়ুন। সাথে, নিচের বাক্যগুলোও সাধ্যানুসারে পড়ুন—
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد
অর্থঃ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ; আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।
এটি ইবনু মাস‘উদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত।
[ দারাকুতনি, আস-সুনান: ১৭৫৬; আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৬৫৪; সনদ সহিহ ]
তবে, আরাফার দিন অর্থাৎ জিলহজ্জের ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একাকী বা জামাতে নামাজ আদায়কারী, নারী অথবা পুরুষ— প্রত্যেকের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক (উপরে বর্ণিত তাকবিরটি) পাঠ করা ওয়াজিব। পুরুষরা উচ্চ আওয়াজে বলবে, আর নারীরা নিচু আওয়াজে।
[ ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৪/২২০; ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ: ২/৩৬০; ইবনু আবিদিন, রাদ্দুল মুহতার: ৩/৬১ ]
(৬) চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো জিলহজ্জ; তাই এই মাসের সম্মানে যথাসম্ভব সকল গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
❝নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত ফলকে (বছরে) মাসের সংখ্যা বারোটি—আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তার মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা (গুনাহ করার মাধ্যমে) নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।❞
[ সুরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৬ ]
(৭) এই দিনগুলো বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, তাই অধিক পরিমাণে নেক আমল করা।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
❝আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজ্জের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই।❞ সাহাবিগণ বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ রাস্তায় জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়?’ তিনি বললেন, ‘‘না। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং এর কোনো কিছু নিয়েই আর ফিরে এলো না (অর্থাৎ, শহীদ হয়ে গেলো, তার কথা ভিন্ন)।❞
[ সহীহ বুখারি : ৯৬৯; মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৫; সুনান আবু দাউদ : ২৪৩৮]
এই দশদিনের ফরজ ইবাদত অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদতের তুলনায় অধিক মর্যাদার। এই দশদিনের নফল ইবাদত অন্যান্য মাসের নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
[ ইবনু রজব, ফাতহুল বারি: ৯/১৫ ]
🤲 : আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের ইলমে, আমলে বারাকাহ দিন।দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যান দান করুন।আল্লাহ আমাদেরকে প্রিয় বান্দা হিসেবে প্রশান্ত আত্মা নিয়ে তাঁর কাছে ফেরৎ যাওয়ার তৌফিক দান করুন।
আমীন।
1 393
‘যদি অপরিচিত হয়ে থাকতে পারো, তবে তাই করো। তোমাকে যদি কেউ না চেনে, তবে তোমার কী হবে? কেউ তোমার প্রশংসা করলে তোমার কী এমন হয়ে যাবে? যদি তুমি আল্লাহর কাছে প্রশংসনীয় (বিবেচিত) হয়ে থাকো, তবে মানুষের সমালোচনায় তুমি কেনো কান দেবে?’
—ইমাম ফুদ্বাইল
1 393
জুময়া রিমাইন্ডার :(মাগরিবের আগেই শেষ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ)
সূরা কাহাফ, দুরুদ ও দোয়া
1 393
কিন্তু পরদিন ওমরের গল্প শোনা শেষে আবারও আগের প্রশ্ন। আজও পাশ কাটালাম। না শোনার ভান করলাম। বুঝতে পারছিলাম ব্যক্তি ওমরের সাথে ওসামার গভীর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
-
ওসামাকে স্কুলে ভর্তি করার সময় হয়ে গেছে। ঠিক হলো মায়ের স্কুলেই ভর্তি হবে। সেমতে মায়ের সাথেই স্কুলে রওয়ানা দিল। গাযায় গরীব-দুঃখীর অভাব নেই। তীব্র অর্থনেতিক অবরোধে জনজীবন ভেঙে পড়েছে প্রায়। রাস্তায় দুস্থ অসহায় মানুষের অভাব নেই। মায়ের হাত ধরে রাস্তায় বের হতেই দেখলো, এক বিপন্ন মা সন্তান কোলে নিয়ে খাবারের আশায় হাত পাতছে। ওসামা দৃশ্যটা দেখেই চীৎকার করে বলে উঠলো:
-তুমি চিন্তা করো না, ওমর আসবে! খাবার নিয়ে। পেট পুরে খেতে পারবে!
বাচ্চার মা বিব্রত বোধ করে, সেই মায়ের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে দ্রুত স্থানত্যাগ করলো। একটু পরে রাস্তার মোড়ে দেখলো এক বৃদ্ধ লোকের হাত থেকে রুটি ছিনিয়ে নিয়ে আরেক কিশোর পালিয়ে গেলো। দৃশ্যটা ওসামার দৃষ্টি এড়াল না। মায়ের হাত থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে দৌড়ে বৃদ্ধের কাছে চলে গেলো। তাকে বললো:
-তুমি কোনও চিন্তা করো না। ওমরের কাছে বললে সব ঠিক করে দিবেন। উচিত বিচার করে দিবেন! লাঠি দিয়ে দুষ্ট ছেলেটাকে মারবেন!
-
সারাদিন স্কুলে ভালোই কাটালো। দুপুরে মায়ের সাথে ফিরলো। পাশের বাড়ির মহিলা অসুস্থ তাকে দেখতে গেলো। টিভি চলছিল। টিভিতে দেখাচ্ছিল ইসরাইলি সৈন্যরা বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রাঙ্গন থেকে মুসল্লিদেরকে হাঁকিয়ে বের করে দিচ্ছে। তাদের ছোঁড়া বুলেটে কয়েকজন নামাযী রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়লো! ওসামার কাছে দৃশ্যটা বিসদৃশ মনে হলো। স্বগতকণ্ঠে বলে উঠলো:
-এখুনি ওমর এসে ইহুদিদের আচ্ছা করে শাস্তি দেবেন!
প্রতিবেশিনী ওসামার কথায় বেশ মজা পেলেন। সকৌতুকে বললেন:
-তুমি কোন ওমরের কথা বলছো বাছা?
-আমাদের খলীফা ওমর!
-তিনি তো মারা গেছেন!
-
ওমর মারা গেছেন, একথা শোনার পর থেকে সেই যে কান্না শুরু করেছে ওসামা, আর থামাথামি নেই। বড় বেশি ভালোবেসে ফেলেছিল। আমাকে দেখে ওসামার শোক নতুন করে উথলে উঠলো। তার মনে ক্ষীণ আশা, আমার কাছে হয়তো ভিন্ন কিছু শুনবে। আমি তাকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বললাম:
-হ্যাঁ, উমার বিন খাত্তাব রা. মারা গেছেন। কিন্তু আরেকজন উমার শিঘ্রিই আসবেন!
-কোথায়?
-এই যে আমাদের ঘরেই! আর মাত্র ক’টা মাস পরেই!
-আমাদের নতুন ভাই?
-জ্বি। তবে তুমিও চাইলে উমার হতে পারো।
-কিন্তু আমার নাম তো উসামা!
-তাতে কী হয়েছে! তুমি উমারের সাহসিকতা, ন্যায়বিচার, তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
-তাহলে কি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে ইহুদিদেরকে তাড়াতে পারবো?
-অবশ্যই পারবে!
-তাহলে আমি আর উমার, দু’জনেই উমার হবো!
-ইনশাআল্লাহ!
-আব্বু আমরা তো মেয়ে! আমরা কিভাবে উমার হবো?
-তোমরা হবে উমারের বোন! উমারের মা। উমারের লালন-পালনকারীনি!
1 393
উমারের আবির্ভাব!
-
ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো। কাজে যেতে হয় গাযা-সীমান্তের ওপারে, কয়েকটা চেক পয়েন্ট পাড়ি দিয়ে। ঘর থেকে সময় নিয়েই বের হতে হয়। আসার সময়ও তাই। ইসরাঈলি সৈন্যরা খুবই কড়াভাবে সবকিছু তল্লাশী করে। বিরাট লাইন পড়ে যায়। দরজা খুলেই স্ত্রীর চিন্তিত মুখ দেখে অজানা আশংকায় বুক কেঁপে উঠলো। এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পুরো গাযাবাসী সময় পার করে। শশব্যস্তে জানতে চাইলাম:
-কী হয়েছে?
উত্তর দিলো না। বাচ্চারা কোথায়? বলতে বলতে ভেতরে গিয়ে দেখি সবাই আছে। ছোটটার চোখে কান্নার দাগ। ও কেন কেঁদেছে? স্ত্রী ছেলেদের সামনে কিছু বললো না। টেনে পাশের কামরায় নিয়ে ঘটনা খুলে বললো। আমি বুঝতে পারলাম, আগের ঘটনা না জানার কারণে বাচ্চার মা কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না। সে ঘটনার দ্বিতীয় অংশের মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম অংশটা জানতে পারলে তার অস্থিরতা কমে আসবে!
-
আমার তিন সন্তান। তিনজনই প্রায় পিঠেপিঠি। আমাদের গাযায় সন্তান জন্মের হার বিশ্বের অন্য স্থানের তুলনায় একটু বেশিই বলতে হবে। বড়জন আসমা। মেঝজন আয়েশা। ছোটটা ওসামা। আমার খুব প্রিয় একটা শখ হলো তিনটা ছানাকে জড়িয়ে শুয়ে শুয়ে গল্প বলা। শত ক্লান্তিতেও এটা বাদ পড়ে না। এমনকি ইসরাঈলি বিমানের প্রচন্ড হামলার রাতেও তাদেরকে গল্প শুনিয়েছি। এটা না করতে পারলে আমার কাছে মনে হতো সারা দিনের মূল কাজটাই হলো না। দিনটা অপূর্ণ থেকে গেলো। পরদিন মনের মধ্যে কিছু একটা খচখচ করে বিঁধতে থাকে।
-
বড়মেয়ে আসমা একটু বোকাটে। সে প্রতিদিনই এক গল্প শোনার বায়না ধরে। ইউসুফ আ. এর গল্প। ছোট্ট ছেলেটাকে কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। বৃদ্ধ বাবা কাঁদতে কাঁদতে দু’চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। শুনতে শুনতে আসমার ডাগর ডাগর চোখদু’টো আঁসুতে ভরে উঠতো। প্রতিদিনই।
মেঝ মেয়ে আয়েশা একটু গম্ভীর প্রকৃতির। সেও প্রায় প্রতিদিনই মুসা ও ফিরআওনের গল্প শোনার বায়না ধরে। ঈসা আ. এর সেবার গল্প শুনতেও সে পছন্দ করে। তার মধ্যে পরোপকারের একটা ধাত আছে।
আর ওসামা মিয়ার নিজস্ব বায়না নেই। আপুরা যা শুনতে চায়, সেও চুপচাপ শুনে যায়। তার নিজস্ব পছন্দ, চাওয়া-পাওয়া এখনো তৈরী হয়নি ভাল করে। প্রতিদিন দু’বোনের মন কষাকষিকে সে চুপচাপ দেখে যায়। দুই আপুই নিজের পছন্দের গল্প শুনবে। এজন্য দু’জনকে খুশি করতে দুই গল্প এক সাথে শুরু করতে হয়।
গতরাতেও দুই আপুর বায়না দেখে ওসামা চুপ করে ছিল। হঠাৎ করে সে বলে উঠলো:
-আমি উমারের গল্প শুনবো!
আমি অবাক হয়ে গেলাম। এর আগে কখনো উমারের গল্প বলিনি তো! কোথায় শুনলো এই নাম?
-আপুকে পড়তে শুনেছি! তার স্কুলের বইয়ে আছে! তিনি নাকি বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করেছেন! দুষ্ট লোকদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছেন এখান থেকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে! তাহলে আজ উমারের গল্পই হোক।
-
আমি প্রথমেই বললাম, এতীম বালকদের গল্প। মা রাতের বেলা চুলায় হাঁড়ি চড়িয়ে পানি গরম করছেন। বাচ্চাদের সান্তনা দিচ্ছেন: এই তো রান্না হয়ে এল বলে! আসলে পাতিলে কোনও খাবার নেই। অনাথ শিশুগুলো খাবারের আশায় বসে রইল। অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়েও পড়লো:
-না খেয়েই আব্বু?
-হ্যাঁ রে বাবা! তাদের আব্বু নেই যে! তখন ওমর এই করুন অবস্থা দেখে কেঁদে ফেললেন। নিজের পিঠে করে খাবার নিয়ে এলেন। সবাই খাইয়ে তারপর বিদেয় হলেন।
-
গল্পটা শুনে ওসামাও কাঁদলো। আয়েশা আরও গম্ভীর হয়ে গেলো। তার মন খারাপ হওয়ার ধরনটা একটু ভিন্ন। আসমার চোখ দিয়ে আঁসুর প্লাবন! এরপর মেয়েরাই আরেকটা গল্প শোনার বায়না ধরলো। আজ ঘুমিয়ে পড়ো। আগামী কাল আরও হবে ইনশাআল্লাহ।
পরদিন খেয়েদেয়ে গল্প বলার আয়োজন করতেই ওসামা লাফিয়ে উঠে বললো:
-আজ আমিই গল্প শোনাবো!
-তাই? ঠিকাছে বলো শুনি!
ওসামা গড়গড় করে গতকাল শোনা গল্পটাই দাড়ি-কমাসহ শুনিয়ে দিল। গতকালের গল্পবলিয়ে না কাঁদলেও আজকের গল্পবলিয়ে ঠিকই কাঁদলো। শ্রোতাদের মধ্যে আজ মা-ও ছিল। সেও কাঁদলো। এতিম বালকদের ক্ষুধার কষ্ট সে সহ্য করতে পারেনি।
-
আজ গল্প বললাম, সেই কিবতী লোকের। আমর ইবনুল আস রা.-এর ছেলে যার প্রতি অসদাচরণ করেছিলেন। কিবতি মিসর থেকে মদীনায় এসে সরাসরি ওমরের কাছে নালিশ ঠুকলো। ওমর সাথে সাথে পিতা-পুত্রকে ডেকে পাঠালেন। বিচার শেষে রায় দিলেন। কিবতির হাতে লাঠি দিয়ে বললেন:
-তুমি তোমার ইনসাফ মতো আঘাত করো। মনে কোনও খেদ যাতে আর না থকে!
-
এভাবে আমাদের গল্পবলার আসর বেশ জমে উঠলো। আমি একদিন গল্প বলি, পরদিন তিন ছানা-ছানি যে যার মতো গল্পটা বলে। বাচ্চাদের মা-ও আমাদের গল্পের রাজ্যে নিয়মিত সদস্য হওয়া শুরু করেছে। এভাবে আস্তে আস্তে ওমর রা.-এর তাকওয়া, সাহস, ন্যায়বিচারের গল্প বলা হয়ে গেলো। একদিন ওসামা আচমকা প্রশ্ন করলো:
-উমার কি মারা গেছে আব্বু?
আমি উত্তরটা এাড়িয়ে গেলাম। অন্য কথায় দিয়ে পাশ কাটালাম। গত একমাসে উমারের সাথে তার যে মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, মারা গেছে বললে ছেলেটা ভীষণ আঘাত পাবে। তার চেয়ে পরে সময় মতো বুঝিয়ে বললেই হবে।
1 393
আজ থেকে আবার শুরু হলো বাতায়নের যাত্রা।
আশা করি নিয়মিত হতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কবুল করুন।
1 393
কিন্তু পরদিন ওমরের গল্প শোনা শেষে আবারও আগের প্রশ্ন। আজও পাশ কাটালাম। না শোনার ভান করলাম। বুঝতে পারছিলাম ব্যক্তি ওমরের সাথে ওসামার গভীর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
-
ওসামাকে স্কুলে ভর্তি করার সময় হয়ে গেছে। ঠিক হলো মায়ের স্কুলেই ভর্তি হবে। সেমতে মায়ের সাথেই স্কুলে রওয়ানা দিল। গাযায় গরীব-দুঃখীর অভাব নেই। তীব্র অর্থনেতিক অবরোধে জনজীবন ভেঙে পড়েছে প্রায়। রাস্তায় দুস্থ অসহায় মানুষের অভাব নেই। মায়ের হাত ধরে রাস্তায় বের হতেই দেখলো, এক বিপন্ন মা সন্তান কোলে নিয়ে খাবারের আশায় হাত পাতছে। ওসামা দৃশ্যটা দেখেই চীৎকার করে বলে উঠলো:
-তুমি চিন্তা করো না, ওমর আসবে! খাবার নিয়ে। পেট পুরে খেতে পারবে!
বাচ্চার মা বিব্রত বোধ করে, সেই মায়ের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে দ্রুত স্থানত্যাগ করলো। একটু পরে রাস্তার মোড়ে দেখলো এক বৃদ্ধ লোকের হাত থেকে রুটি ছিনিয়ে নিয়ে আরেক কিশোর পালিয়ে গেলো। দৃশ্যটা ওসামার দৃষ্টি এড়াল না। মায়ের হাত থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে দৌড়ে বৃদ্ধের কাছে চলে গেলো। তাকে বললো:
-তুমি কোনও চিন্তা করো না। ওমরের কাছে বললে সব ঠিক করে দিবেন। উচিত বিচার করে দিবেন! লাঠি দিয়ে দুষ্ট ছেলেটাকে মারবেন!
-
সারাদিন স্কুলে ভালোই কাটালো। দুপুরে মায়ের সাথে ফিরলো। পাশের বাড়ির মহিলা অসুস্থ তাকে দেখতে গেলো। টিভি চলছিল। টিভিতে দেখাচ্ছিল ইসরাইলি সৈন্যরা বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রাঙ্গন থেকে মুসল্লিদেরকে হাঁকিয়ে বের করে দিচ্ছে। তাদের ছোঁড়া বুলেটে কয়েকজন নামাযী রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়লো! ওসামার কাছে দৃশ্যটা বিসদৃশ মনে হলো। স্বগতকণ্ঠে বলে উঠলো:
-এখুনি ওমর এসে ইহুদিদের আচ্ছা করে শাস্তি দেবেন!
প্রতিবেশিনী ওসামার কথায় বেশ মজা পেলেন। সকৌতুকে বললেন:
-তুমি কোন ওমরের কথা বলছো বাছা?
-আমাদের খলীফা ওমর!
-তিনি তো মারা গেছেন!
-
ওমর মারা গেছেন, একথা শোনার পর থেকে সেই যে কান্না শুরু করেছে ওসামা, আর থামাথামি নেই। বড় বেশি ভালোবেসে ফেলেছিল। আমাকে দেখে ওসামার শোক নতুন করে উথলে উঠলো। তার মনে ক্ষীণ আশা, আমার কাছে হয়তো ভিন্ন কিছু শুনবে। আমি তাকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বললাম:
-হ্যাঁ, উমার বিন খাত্তাব রা. মারা গেছেন। কিন্তু আরেকজন উমার শিঘ্রিই আসবেন!
-কোথায়?
-এই যে আমাদের ঘরেই! আর মাত্র ক’টা মাস পরেই!
-আমাদের নতুন ভাই?
-জ্বি। তবে তুমিও চাইলে উমার হতে পারো।
-কিন্তু আমার নাম তো উসামা!
-তাতে কী হয়েছে! তুমি উমারের সাহসিকতা, ন্যায়বিচার, তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
-তাহলে কি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে ইহুদিদেরকে তাড়াতে পারবো?
-অবশ্যই পারবে!
-তাহলে আমি আর উমার, দু’জনেই উমার হবো!
-ইনশাআল্লাহ!
-আব্বু আমরা তো মেয়ে! আমরা কিভাবে উমার হবো?
-তোমরা হবে উমারের বোন! উমারের মা। উমারের লালন-পালনকারীনি!
আতিক উল্লাহ হাফি.
1 393
★রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখে শ্রেষ্ঠ ::
(১)
তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।”(২)
নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।(৩)
তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো।(৪)
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যার কাছ থেকে সবাই কল্যান আশা করে, অনিষ্টের আশংকা করে না।(৫)
তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে, যে তার পরিবারের নিকট ভালো।(৬)
তোমাদের মধ্যে সে সর্বোত্তম, যে খাদ্য দান করে এবং সালামের জবাব দেয়।(৭)
তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে ব্যক্তি, যে সালাতে কোমল-স্কন্ধ। (অর্থাৎ কেউ নামাজের কাতারে প্রবেশ করতে চাইলে কাঁধ নরম করে তাকে সুযোগ করে দেয়)।(৮)
সেরা মানুষ সে যার বয়স দীর্ঘ এবং কর্ম ভালো হয়।(৯)
সেরা মানুষ সে যে মানবতার জন্য অধিক কল্যানকর উপকারী।(১০)
আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।(১১)
শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন এবং মুখ সত্যবাদী। সাহাবীগন প্রশ্ন করলেন-সত্যবাদী মুখ বুঝা গেলো, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরবিশিষ্ট কে? নবীজি ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ-নির্মল, মুত্তাক্বী, যাতে কোন পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ।আল্লহ তা’আলা আমাদেরকে সর্বোত্তম মানুষের সবগুলো গুণ দান করুন এবং প্রকৃত ঈমানদার মানুষ হওয়ার তাউফীক দান করুন। আমিন।। ©মুসলিমস ডে
