মিল্লাতে ইব্রাহীমের জাগরণ বইটি শুরু হয়েছে ” সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা” দিয়ে। কাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা? কেনোই বা সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা? পাঠক তা জানতে পারবেন বইয়ের এ অংশে।
এরপর অনুবাদকের ভূমিকা যোগ করা হয়েছে, যা আপনাকে বইটি বুঝতে বেশ সহায়তা করবে। বলতে পারেন, ভূমিকাটি মূল বইয়ের সারসংক্ষেপ। ভূমিকাতেই আপনি পেয়ে যাবেন, দ্বীন, মিল্লাত ও শরীয়াতের মধ্যকার পার্থক্য; মিল্লাতে ইবরাহিম কী, কেন এবং তার বৈশিষ্ট্য।
“কিতাব এবং সুন্নাহর মানহাজ” শিরোনামে মূল বইয়ের শুরু। এটি লেখকের ভূমিকা বলতে পারেন। এখানে লেখক তাঁর নিজ মানহাজ বর্ণনা করেছেন এবং বইয়ের পরবর্তী অংশে সেই মানহাজ নিয়ে কী কী আলোচনা উপস্থাপন করা হবে, তার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এরপর লেখক মিল্লাতে ইবরাহিমের বিবরণ দিয়েছেন, তার ভিত্তি সম্পর্কে বলেছেন এবং কীভাবে তা মানুষের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়, তা দেখিয়েছেন। আপনি মিল্লাতে ইবরাহিমের অনুসরণ করবেন, অথচ বাতিল থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না, মুশরিকদের প্রতি প্রীতি রাখবেন, এটা অসম্ভব। লেখক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
“মিল্লাতে ইবরাহিম হলো শিরক এবং মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা, তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া এবং তাদেরকে বয়কট করার নাম।”
সব দলই তো মিল্লাতে ইবরাহিমের অনুসারী ব’লে দাবি করে, মিল্লাতে ইবরাহিমকে প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা পেশ করে। আদতে কি তারা মিল্লাতে ইবরাহিমের সঠিক অনুসারী? মিল্লাতে ইবরাহিম প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের অনুসৃত কর্মপন্থা কি যথার্থ? না, যথার্থ নয়। বরং এগুলো আংশিক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইবরাহিমের মিল্লাতই নয়। তাহলে মিল্লাতে ইবরাহিম প্রতিষ্ঠার সঠিক পন্থা কী? উত্তর পাবেন বইটিতে।
বাতিলের তোষামোদি করে দ্বীন কায়েম হয় না। দ্বীন কায়েম হয় ইলাহি মানহাজে, নববী আদর্শে। তা কীভাবে? এ সম্পর্কেও খুব সুন্দর দালিলিক আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে বইটিতে।
বইয়ের এক অংশে লেখক ‘মুক্তিপ্রাপ্ত দল’এর কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, “নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তিপ্রাপ্ত দলের যেসব গুণাবলি বর্ণনা করেছেন , তার মধ্যে একটি হলো – হকের ওপর প্রকাশিত, লুকায়িত বা গোপন নয়।”
অনেকেই দ্বীন কায়েমের ইলাহি মানহাজকে স্বীকার করে। তবে নিজেরা তাতে অংশগ্রহণ করে না৷ নানান অজুহাত দাঁড় করায়। তাদের এসব অজুহাত কি গ্রহণযোগ্য? না, গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু কেনো? পাঠক এ প্রশ্নের উত্তরও পাবেন দলিলসহকারে।
আমরা কীভাবে দ্বীনের সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি, তা বইটিতে দালিলিকভাবে আলোচনা করেছেন লেখক। দ্বীনের সাহায্য ৩টি জিনসের ওপর নির্ভর করে ব’লে তিনি দাবি করেছেন। সে ৩টি জিনিস কী? লেখক এ সম্পর্কেও চমৎকার আলোচনা উপস্থাপন করেছেন।
সত্য সর্বদাই বিজয়ী থাকে। সত্যের ওপর আমরা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারি? সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার পন্থা, হক প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতিও আলোচিত হয়েছে এ বইয়ে। এছাড়াও সত্য প্রতিষ্ঠার পথে অবশ্যপালনীয় কিছু নির্দেশনাও উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে। এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, “দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় একমাত্র প্রকাশ্য ঘোষণা এবং সুস্পষ্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে। আর দ্বীনকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরলে এবং প্রকাশ্যে শত্রুতার ঘোষণা দিলে নসিবে অপরিহার্যভাবেই পীড়ন এবং বহিষ্কারের দণ্ড নেমে আসে।”
হক প্রতিষ্ঠার ইলাহি মানহাজ ছেড়ে দিয়ে নিজ মর্জিমাফিক যারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে এবং বর্তমান সময়ের জন্য ইলাহি মানহাজকে ‘অসামর্থ্য’ প্রমাণে যেসব যুক্তির মাধ্যমে সংশয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, তা যে কতটা অযৌক্তিক, তা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে বইটিতে। পাশাপাশি ইলাহি মানহাজের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছেন লেখক।
বইটিতে লেখক আরো তুলে ধরেছেন সত্যের পথে জীবনোৎসর্গকারী দলের পরিচিতি, সত্য পথ থেকে বিতাড়নকারী কারণসমূহ এবং এক মরদে মুমিনের সত্য প্রকাশের আপোষহীন মনোভাবের দৃষ্টান্ত।
➡️
https://boimate.com/millate-ibrahimer-jagoron-pdf/