UTV japan
رفتن به کانال در Telegram
285
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
+27 روز
+230 روز
آرشیو پست ها
285
মুজিব এ দেশের জাতির পিতা হোক আর মুক্তি যুদ্ধের রূপকার হোক তাতে আমার কোন সমস্যা নাই । ৭২ থেকে ৭৫ সন পর্যন্ত মুজিব ক্ষমতায় ছিলো। এখানে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ হচ্ছে এই সময়ে মুজিবুর রহমানের শাসন কাল কেমন ছিলো? মুজিবের শাসনকালে লুটপাট হয়েছে । রাষ্ট্র ক্ষমতাকে পোষ্য ক্ষমতায় টেনে আনা হয়েছে । মুজিব বাহিনীকে রক্ষী বাহিনীতে রূপান্তরিত করে লুটপাট ও নিপীড়ন জারি রেখেছে ।
৭৪ এর দুর্ভিক্ষে ২৭০০০ হাজার মানুষ না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, মুজিব এ কথা বিদেশী সাংবাদিকের কাছে স্বীকার করেছে । তবে বেসরকারী হিসাব মতে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ ও বন্যায় ১৫ লক্ষ মানুষ মারা গেছে ।
সর্বশেষ একদলীয় রাজনীতি অর্থাৎ বাকশাল গঠন করে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল মুজিব । এখন হাসিনা কি চাচ্ছে । প্রথমে হাসিনার চাওয়া বুঝতে হবে । হাসিনা মুজিবের শোক ও হিরোইজম ব্যবহার করে বাংলাদেশের ইজারা নিতে চায় । সে এ কথা স্বীকারও করেছে যে আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছে এই দেশ আমার । হাসিনা মুজিবকে একটি কাল্ট হিসেবে উপস্থিত করেছে । মুজিববাদ তোমাকে মানতে হবে । আর না মানলে খু-ন করে ফেলবে অথবা আয়না ঘরে যুগের পর যুগ ধরে বন্দী করে রাখবে । একটা কথা মনে রাখবেন ফুয়েল ছাড়া কখনো কোন ইঞ্জিন চলে না । হাসিনার ফুয়েল ভারতীয় স্টাব্লিশমেন্ট । আর ভারতীয় স্টাব্লিশমেন্ট দুই ভাবে কাজ করে । এক সফট পাওয়ার অন্যটি হার্ড পাওয়ার । হাসিনা এই দুই পাওয়ারের এজেন্ট হয়ে বাংলাদেশে কাজ করেছে । ২০২৪ এর বিপ্লব খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । তবে এই বিপ্লবের ফলাফল জারি রাখতে চাইলে আপনাকে ভারতের হার্ড এবং সফট পাওয়ার বুদ্ধি দিয়া মোকাবিলা করতে হবে । এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করবো আজ ।।
285
আর কোন দল যাতে ২৩০ আসন নিয়ে কোনদিন সংসদে যেতে না পারে, এই কাজটা এখন বাংলাদেশের মানুষকে করতে হবে।
২০০ র বেশি আসন নিয়ে সংসদে বসা সরকারটা আর সরকার থাকে না, দানব হয়ে উঠে।
যেই দানব আমরা তাড়িয়েছি ২০২৪ এ, এই দানবের জন্ম কিন্তু ২০০৮ এর ইলেকশনে। সেবার যদি কোনভাবে আওয়ামীলীগকে ২০০ নিচে রাখা যেত, আওয়ামীলীগ কেয়ারটেকার বাতিল করতে পারতো না। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে পারতো না।
শুধু বিএনপি জামাতের পক্ষে আওয়ামীলীগকে ঠেকানো সম্ভব না।
কারণ আমাদের প্রজন্মের একটা অংশ আওয়ামীলীগের সাথে সাথে বিএনপিকেও পছন্দ করে না। এদের পলিটিক্যাল ইন্ট্রেস্টের জন্য এখন প্রয়োজন নতুন নতুন একাধিক দলের।
বাংলাদেশে কমবেশি ৪০ টা রাজনৈতিক দল আছে। তবে এদের মধ্যে আদর্শ সর্বস্ব দল বেশি। গণমানুষের দল কম।
যেমন জামাত আর ইসলামি আন্দোলন। এরা ইসলামপন্থীদের দল। এদের পক্ষে জনগণকে আকৃষ্ট করা কঠিন।
বাসদ বা কম্যুনিস্ট পার্টিগুলো তো অনেক বেশি জনবিচ্ছিন্ন। এরা ম্যাক্সিমামই যেই ভাষায় কথা বলে, বাংলাদেশের মানুষ ঐ ভাষা বোঝেই না। ভোট দেওয়া তো বহুদূরের পথ।
এর বাইরে ব্যক্তি নির্ভর যে দলগুলো আছে, এগুলোর আসলে মানুষের দল হওয়ার মতো ইচ্ছাই চোখে পড়েনি। এরা বরং নিজেদের ব্যক্তি ইমেজ কাজে লাগিয়ে একটা এমপির পদ পাইলেই খুশি থাকে।
কাজেই, বাংলাদেশের মানুষ খালি দুই দলকেই ভোট দেয়, এটা যেমন সত্য। বাংলাদেশের মানুষের সামনে ভালো কিন্তু বিকল্প তুলে ধরা হয়নি, এটাও তেমন সত্য।
এবং, ইটস দ্য হাই টাইম।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই বিএনপির উপর লোকজন ক্ষেপে উঠতে শুরু করবে। যেহেতু অতীত রেকর্ডস তেমন ভালো না, ফলে, মানুষের এই ক্ষোভকে আবারও চ্যানেল করবে আওয়ামীলীগ।
এই কারণেই সজীব ওয়াজেদ জয় ১০ টা সিট পাবে না জেনেও বারবার নির্বাচন চাইতেসে।
যাতে তৃতীয় কোন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান না ঘটতে পারে। আওয়ামীলীগ বরং চায় বিএনপি আসুক, তাহলে অন্তত ১০ বছর পর তারা আবার চলে আসবে ক্ষমতায়।
এইখানে বিএনপির থেকে কিছু আশা করেও লাভ নাই। তাদের জন্যও এইটা সুবিধাজনক সিস্টেমই। তারাও চাইবে এইটা টিকে থাকুক।
বাট ক্ষতিটা হয়ে যাবে দেশের, দেশের মানুষের।
সমাধান কী? নতুন রাজনৈতিক দল। যেই দল জামাতের মতো ইসলামি বিপ্লব করতে চাইবে না আবার বামাতের মতো বাম বিপ্লব চাইবে না। মাঝামাঝি টাইপের জনগণের দল হবে।
বৈষম্যবারোধী ছাত্র আন্দোলন এমন একটা দল করতে পারবে হয়তো, বাট যথেষ্ট হবে না। প্রয়োজন হলে অঞ্চলভিত্তিক দল গড়ে উঠুক। ভারতের মতো। একটা দল একক মেজরিটি না পাক। জোট করে ক্ষমতায় আসুক। আর সংসদে স্ট্রং বিরোধীদল থাকুক।
যদি না থাকে তাহলে এই স্বাধীনতা টেকসই হবে না। পরের সরকারের কোন ভুল করবে, সেই ফসল ঘরে তুলবে আওয়ামীলীগ। এবং ১০-১৫ বছর পর আবার ক্ষমতায় এসে আবার দেশকে ভারতের কাছে বর্গা দেওয়ার ট্রাই করবে।
সরকার থেকে আওয়ামীলীগকে সরানো গেছে। বাট বিরোধীদল থেকেও যদি তাদের সরানো না যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বে বিলিভ করে, দিল্লির তাবেদারি করে না এমন কোন নতুন বিরোধী দল যদি এখন না উঠে আসে, তাহলে আওয়ামীলীগ আবার ফিরবে।
১০ বছর পরেই হোক আর ১৫ বছর পরেই হোক, ফিরবেই।
285
কি পরিমান সাইকো হলে এই ধরণের প্রস্তাব দিতে পারে একজন বিধায়ক । একটি স্বাধীন দেশে সেনাবাহিনী পাঠানোর কথা ভাবতে পারে ভাবা যায় । বাংলাদেশ রে কি মালদ্বীপ মনে হয় ?
285
হাবিপ্রবি হল থেকে ছাত্রলীগের কলম উদ্ধার। ভাবা যায় এরা হাসিনার ফ্যাসিবাদ টেকানোর জন্য কি করে নাই । যে সব নামধারী ছাত্ররা এই ধরণের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক । সেই সাথে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের সকল রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হোক ।
285
পর্তুগীজ-মগ-মারাঠারা মিলে বাংলাদেশকে শ্মশান বানাইতে পারে নাই, এমনকি তাতার আমীর তাইমুরও বাঙ্গালা পর্যন্ত আসতে পারেন নাই। ফলে বাঙ্গালা রয়ে গেসিলো ধনধান্য পুষ্প ভরা। কিন্তু ব্রিটিশ-ক্যালকেশিয়ান কোলাবোরেশনে আমরা শেষ হয়ে গেসিলাম। আমরা আজকে কল্পনাও করতে পারবো না সেই শোষনটা কেমন ছিল। ১৭৭০ সালে বাঙ্গালাহর সাড়ে চার কোটি মানুষের দেড় কোটি মারা যায় ক্লাইভের হরিলুটের খাই সামাল দিতে। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে আনুমানিক ১৫-৫০ লাখ মানুষ শুধু না খাইতে পাওয়ার জন্য মারা গেসে এই বাংলাদেশে। এমনকি, এই দেশের অধিকাংশ মানুষের ছিল না কোন ব্যক্তিগত জমিও। কুরবানীর ঈদ আসলে গরু জবাই করতে পারতো না এইখানকার মানুষ, এমনকি, এসএসসি পরীক্ষায় মুসলমান ছেলেরা সহজে পাস করতে পারতো না যতদিন না শেরে বাংলা খাতায় নাম উঠায় দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, রোল চালু না করলেন। আর আমাদের জনগন জমির অধিকার ফেরত পায় এই সেদিন, ১৯৫১ সালে।
ঠিক এই কারনেই, বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তান আন্দোলন করসিলো। তারা চাইসে ব্রিটিশ এবং বাবুদের ঠ্যাকাইতে।
আজকের বাংলাদেশের যে মানচিত্র, এইটা আমরা একাত্তরে পাই নাই। এই মানচিত্র আমাদের হইসে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়। আমরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাকিস্তানে যোগ দেই। মূলত, পাকিস্তান আন্দোলনে সবচে শক্তিশালী ভুমিকা কিন্তু এই বাংলাদেশের মানুষই পালন করসিল।
সেইটা কেন??
কারন ব্রিটিশের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কোলকাতার বাবুরা যে ভয়ংকর অত্যাচারটা আমাদের ওপর করে, তা ছিল তুলনাহীন। এদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের একটা পাকিস্তান বানানোর প্রয়োজন পড়সিলো। প্যারালালি একটা যুক্তবাংলা নামের রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টাও হইসিলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী(মুজিবের রাজনৈতিক বস) ও শরৎ বোসের মাধ্যমে, কিন্তু সেইটা হয়ে ওঠে নাই।
মুজিব পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চইলা যান এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়। কিন্তু যেইসব বৈষম্যের কথা বইলা মুজিব বাংলাদেশে জনপ্রিয় হইসিলেন, সেইসব বৈষম্য তার লোকেরা আরো অনেক বেশি কইরা করসে। ক্ষমতায় বসার পর ইয়াহিয়া খানের চেয়ে তিনি কোন অংশে কম রক্তপিপাসু ছিলেন, এই কথা প্রমাণ করা কঠিন। ফলে তার মৃত্যুতে দেশের মানুষ নাজাত দিবস পালন করতে বাধ্য হয়।
Imran Khan এর একটা অটোবায়োগ্রাফি আছে, নাম Pakistan: A Personal History । আমার পড়া সবচেয়ে সুন্দর রাজনৈতিক বইগুলার মধ্যে এইটা একটা। এই অটোবায়োগ্রাফিতে ইমরান খান বলসেন, সারা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ মূলত কিছু দুর্বৃত্ত রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর দাবার গুটি। তারা বাচে এই সর্বগ্রাসী লুটেরাদের সীমাহীন খাই মেটানোর জন্য, যাতে তাদের আয় করা টাকা থেকে ট্যাক্স নিয়া এই লোকগুলো উন্নত বিশ্বে পাচার করতে পারে। আর এই কাজটা ঘটে উন্নত দেশগুলার যোগসাজশেই, তারাও দেশের ক্ষমতায় এমন লোকদেরকেই চায় যারা এই অঞ্চলগুলার সম্পদের সিংহভাগ লুটের মাধ্যমে পশ্চিমে পাচার করতেই থাকবে।
এই দিক থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের সাধারন মানুষের কোন তফাত নাই, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের কোন তফাত নাই। জনগনের অধিকারের জায়গা থেকে দেখলে উপমহাদেশের মানুষের আইডেন্টিটি দুইটা, শোষিত আর শোষক। এই জায়গা থেকে, আমাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা, শক্তি ও দুর্বলতা এক।
আজকে বাংলাদেশ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পাইসে ৯ দিন হল। পাকিস্তানের মানুষও বন্দী আরেক ফেরাউনের হাতে। দুই দেশের মানুষেরই প্রধান সাধারন সমস্যা হইতেসে আমাদের পইচা যাওয়া এলিট এবং ভারতের প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের ভৌগোলিক অবস্থান।
আজকে আমাদের মত পাকিস্তানের মানুষও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গনতন্ত্রের লড়াই, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ইনসাফের লড়াইয়ে ব্যস্ত।
আমরা আশা করি, পাকিস্তানের জনগন বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরনা নিয়া তাদের গলায় ঝুলানো শিকল ছিড়া ফেলবে, ইমরান খান মুক্ত বাতাসে ঘুরে ঘুরে হাক্বীকী আযাদীর কথা শোনাবেন আমাদের। পাকিস্তান শক্তিশালী হইলে বাংলাদেশ, কাশ্মীর আর মনিপুরের জন্যেও ভাল। ভারত সারাদিন বাংলাদেশ নিয়ে পড়ে থাকার বদলে দুইদিকেই ব্যস্ত থাকবে।
পাকিস্তানের ছাত্রজনতার বিপ্লবের প্রতি শুভকামনা।
পাকিস্তানী লড়াকু জনতাকে জানাই জাশনে আযাদী মুবারক!!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!!!
#Inqilabzindabad #Inqilab #Azadi
285
#৪৬৪৮
শেখ মুজিবের আত্মজীবনী যদি কেউ পড়েন, একটা ব্যাপার সহজেই বুঝতে পারবেন, তরুণ বয়সে এই লোক মন প্রান দিয়া পাকিস্তান আন্দোলন করসে। কিন্তু শেখ মুজিব কেন পাকিস্তান আন্দোলন করসিলো, কখনো কি চিন্তা করসেন আপনি??
এইটা বুঝতে গেলে আপনাকে একটু দূরে তাকাইতে হবে। আসেন একটু দূরে তাকাই। মধ্যযুগের দুনিয়া, যেইখানে পালতোলা জাহাজে কইরা মৌসুমী বাতাসে এই দেশ থেকে আরেক দেশে ভাইসা বেড়ায় সওদাগরী সাম্পান।
ঐ জগতে যদি মিডিয়েভাল ড্রিম বলে কিছু থাইকা থাকে, সেইটা ছিল হিন্দুস্তান, মোর স্পেসিফিক্যালি, কেরালা অথবা বাঙ্গালাহ। আজকে যেমন সবাই সুইজারল্যান্ড বা নরওয়ের ভিসা পাইলে ধন্য হয়া যায়, ১৩০০-১৭৫০ সাল পর্যন্ত বাঙ্গালাহয় আসতে পারলে দুনিয়ার যেকোন প্রান্তের মানুষ মনে করতো, আমার লাইফটা সেট। আজকের এই বাংলাদেশ, ১৭৫৭ পর্যন্ত পৃথিবীর সবচে ধনী দুইটা জায়গার একটা ছিল।
আমাদের কাছে চাইনিজ সিল্ক কিনতে আসতো ভেনিশিয়ান, আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির মিডলম্যান হইতে আসতো আরবরা, আমাদের শিপিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে জাহাজ বানায়ে নিতো তুর্ক-আরব-ইরান-মিসরের মানুষ, আমাদের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির ওপর নির্ভর করতো পৃথিবীর বহুদেশের রাজা বাদশাহর মসনদ কারন বাঙ্গালাহতে চালের দাম যদি বেড়ে যায়, এর ধাক্কা অনেক জায়গাতেই লাগবে। আমাদের সুলতানের পয়সায় চলতো মক্কা মদীনার শত মসজিদ মাদ্রাসা। গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ ১৪০০ সালের দিকে সেই আমলের দেড় কোটি টাকা মক্কা মদীনার জন্য দান করসিলেন। আজকের ডলারের চেয়ে সেই টাকার দাম বেশি ছিল, কোন একটা আধুনিক মুদ্রা যদি সুলতানী বাঙ্গালাহর টাকার ধারেকাছে এসে দাঁড়ায় সেটা হল কুয়েতি দিনার।
আমাদের ধান, মাছ, তেল, কাপড়, জাহাজ, কাঠ, মসলা আজকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে জানি, একদিন এশিয়াকে শাসন করেছে। এত সস্তায় কোথাও বেচে থাকা যায়, ইবনে বতুতার মত দুনিয়া ঘোরা লোক ১৩৪৬ সালে বিশ্বাস করতে পারেন নাই। এই দেশের মানুষ আয়েশী কেন হবে না বলেন তো??
স্বপ্নে না, বাস্তবেই বাংলাদেশ সোনার বাংলা ছিল তিনশো বছর আগ পর্যন্ত। আমাদেরকে শেষ করসে ব্রিটিশ-ক্যালকেশিয়ান কলোনিয়ালিজম।
আওয়ামী লীগ আমাদের খাওয়াইতে চেষ্টা করসে, বাংলাদেশের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭১ সালে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখাইসে আমাদেরকে, যা বাস্তবে ছিল একটা জলজ্যান্ত জাহান্নাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার একাত্তরের বয়ানের মাধ্যমে যেটা কাইড়া নিসে, তা হইলো বাংলাদেশের মানুষের বুক ফুলায়ে বলার মত পরিচয়। আমরা কোনদিন এসাইলাম সিকার বা মিসকিনের জাত ছিলাম না।
তাইলে আমাদের মিসকিন কারা বানাইলো?? এই দেশের মানুষ প্রথমবারের মত কবে ফকির হইলো??
ব্রিটিশ আমলে, কোলকাতার বাবুদের মধ্যস্থতায়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলে একটা জিনিস আপনারা জেনে থাকবেন, ১৭৯৩ সালে হইসিলো। ঐ বন্দোবস্তের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের মানুষ জমির অধিকার হারায়। এর আগে হারায় ব্যবসার অধিকার। পরবর্তীতে ৫০ বছরের মধ্যে আমাদের দেশের সমস্ত সম্পদ দখল করে ব্রিটিশের কোলাবোরেটর ক্যালকেশিয়ানরা। বাংলাদেশে ১৮৫৭ সালের আগেও ছিল আশি হাজার প্রাইমারী স্কুল, সেকালের মক্তব-পাঠশালা, ক্যান ইউ ইম্যাজিন?? তথ্যটা ব্রিটিশ ঐতিহাসিক উইলিয়াম হান্টারের দেয়া। বাংলাদেশের টোটাল রেজিস্টার্ড ল্যান্ডের প্রায় পাচ ভাগের এক ভাগ এই দেশের ধনীরা সামাজিক দায় দায়িত্ব পালনের জন্য সদকা করে রাখসিলেন, এগুলাকে ওয়াকফ জমি বলে। এই জমির ওপর কোন খাজনা বসানো যেত না, এগুলায় মসজিদ-মাদ্রাসা-মক্তব-এতিমখানা ছিল। এই সমস্ত জমি ব্রিটিশরা কাইড়া নিসিলো।
বাকি ছিল সম্মানটুকু। ব্রিটিশ সেইটাও কাইড়া নিলো।
বাংলাদেশের মানুষ ব্রিটিশরে মানতে চায় নাই। তারা ফকির বিদ্রোহ করলো পয়লা, এরপর করলো তরীকায়ে মুহাম্মাদীয়া, এরপর আসলো ওহাবী আন্দোলন খ্যাত বালাকোট আন্দোলন, এরপর ফরায়েজী আন্দোলন, একের পর এক প্রতিরোধ করলো আমাদের পরদাদারা। ফলে বাংলাদেশের মানুষরে তারা ফৌজে নেয়া বাদ দিলো। আমাদের নাম হইলো নন মার্শাল রেইস, যেহেতু আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। আসলে কিন্তু ব্যাপারটা উলটা৷ ওরা আমাদের ভয় পাইতো দেখে সেনাবাহিনীতে নিত না।
ব্রিটিশরা বাংলাদেশে আসার সময় তাদের এভারেজ হাইট ছিল ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, আমাদের প্রায় ইঞ্চিখানেক কম। পরের দেড়শো বছরে তাদের হাইট ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির কাছাকাছি চইলা গেল, আর আমরা খাটো হইতে থাকলাম বছর বছর দুর্ভিক্ষে। আমাদের এভারেজ হাইট ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির দিকে চইলা গেল।
জমি জিরাত নাই, খাওয়া নাই, কাপড় নাই, শিক্ষা নাই, ইজ্জতও নাই। সব হারায়ে বাঙ্গালী হইলো মিসকিনের জাত।
285
মুজিব আমাদের থেকে আমাদের দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিলো। এ জন্যে দেখবেন, লীগ শ্লোগান দেয়, 'শেখ মুজিবের বাংলায়, অমুকের স্থান নেই'
বাংলাদেশের মানুষের থেকে জোরপূর্বক মালিকানা কেড়ে নেয় এই মুজিব। যে ব্যাক্তি আপনার ঘর-মাটি-পরিচয়-স্বাধীনতা কেড়ে নেন, তাকে আপনি সম্মান করতে পারবেন?
285
আপনারা মুজিবকে যারা পূঁজা করেন, জানতে চান মুজিব কি এমন করেছে, ৭২-৭৫ কি এমন হয়েছে তারা একদিন আমাদের বাড়ি এসে দেখে যাবেন। তাহলে বুঝবেন মুজিবের বাকশাল কি ছিলো।
আমার সেজো দাদা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। উনি জাসদের রাজনীতি করতেন কিন্তু রাজনীতির উর্ধ্বে রাখতেন বন্ধুত্বকে। তাই তো স্বাধীন দেশে একদিন দুপুরে যখন ভাত খাচ্ছিলেন তখন নাসিম (সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী) এসে আমার দাদাকে ডাক দিলেন, তিনি আগ পিছ না ভেবে নেমে পড়লেন ভাতটা রেখেই।
পাবনা থেকে আমার সে দাদাকে যে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হলো তাকে আর ফেরত দিলো না। আমি বাবার মুখে শুনেছি কিভাবে তার দাদা নাসিমের কাছে নিজের ছেলেকে ফেরত চেয়েছে কিন্তু পায়নি। বারবার, হাজারবার তাদের দুয়ারে কাড়া নাড়লেও তারা কখনো উত্তর দেয়নি।
তারা অন্তত বলতো যে তারা আমার দাদাকে মেরে ফেলেছে। আমাদের অন্তত লাশটা ফেরত দিতো। স্বাধীন দেশে একজন মুক্তিযুদ্ধের পরিবার কি তার লাশটাও চাইতে পারে না? এইটুকুও কি তাদের প্রাপ্য না? কিন্তু আমার পরিবার পায়নি। আজ পঞ্চাশ বছর হয়ে গেলেও আমরা জানিনা দাদা বেঁচে আছে নাকি না।আমরা জানিনা তাকে হত্যা করলেও কিভাবে করা হয়েছে। তার লাশ কি আদৌ মাটি পেয়েছে নাকি কোথাও ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে তা কেউ বলতে পারে না!
আমরা এখন এসে আয়নাঘরের কথা শুনি, ব্রিগেডিয়ার আজমী কিংবা ব্যারিস্টার আরমানদের দেখি। আমার বাবার দাদির কষ্ট তো কেউ শোনেনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আশায় বুক বেঁধে ছিলেন যে তার ছেলে হয়তো ফেরত আসবে। হয়তো ফেলে যাওয়া ভাতটা সে আবার খাবে। কিন্তু দাদা আর আসেনি। মুজিব সেনারা তাকে আসতে দেয়নি।
আপনারা জানতে চান না যে কেনো শেখ মুজিবকে আমি সম্মান করিনা? আমার সে দাদার রক্ত তো আমার শরীরেও বইছে। আপনারা পুরা বাংলাদেশকে হয়তো প্রোপাগাণ্ডা গেলাতে পারবেন কিন্তু আমাকে না। রক্তের সাথে গাদ্দারি তো আমি করতে পারবো না।
- ফারদিন হাসান
রিচার্স এসিস্টেন্ট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
285
+1
পলায়নকালে নোয়াখালীর হাতিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান আশেক আলী অমি আটক।
285
+9
২০১৩ সালের ৫ই মে
প্রথম ছবিটা ক্রসফায়ারের। তিনজন পরে আছে এক লাইনে, চতুর্থজনকে হাত বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকার সব লাইট অফ করে অন্ধকার করে পুলিশ-র্যাব শুরু করে গণহত্যা। এদিন সারারাত ট্রাকে করে লাশ নিয়ে পেট কেটে নদীতে ফেলা হয়, ঢাকার সব ফায়ার সার্ভিস সারারাত শাপলা চত্বরে পানি ঢেলে রক্ত পরিস্কার করে। পরেরদিন এলাকার সব অফিসে গোয়েন্দা পুলিশ হানা দিয়ে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে যায়। গণহত্যা নিয়ে সংবার প্রচার করায় বন্ধ করে দেওয়া হয় দিগন্ত টিভি। ১০০ থেকে ১৫০ টা অজ্ঞাত লাশ শুধু আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমেই দাফন করা হয়। বাকিগুলা গুম করা হয়। ধারণা করা হয় ১০০০ থেকে ২৫০০ নিরীহ মানুষ এদিন শহীদ হয়।
এদিনকার বেশিরভাগ শহীদ এতিমখানার ছাত্র, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান নাই, আমরাও তাদের মা*নুষ করি না। তাদের নিয়ে কারও মাথাব্যথাও ছিল না। মধ্যবিত্ত-উচ্চমধ্যবিত্তরা 'গুজব', 'অতিরঞ্জিত' বলে উড়ায় দিত। তবে গত জুলাইয়ে ঠিকই এর খেসারত দেওয়া লাগছে আমাদের।
একটা বার চিন্তা করেন এই কাজ মুসলিমদের সাথে না হয়ে হিন্দুদের সাথে হইলে সুশীল সমাজ আর বহির্বিশ্বের রিয়্যাকশন কি হইতো?
History, likes to repeat itself. Be warned.
-Tazirul Islam Nibeer
285
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের ওপর আ.লীগ হিন্দু গোষ্ঠীর হামলা।
আওয়ামী লীগ ডাকাতদের নৃশংস হামলায় আহতদের মুখেই শুনুন বিস্তারিত-
