ANS radioএ এন এস রেডিও
رفتن به کانال در Telegram
মুসলিম উম্মাহ্ সমসাময়িক বিশ্বস্ত সংবাদ গুলো জনসাধারণদের মাঝে পৌছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য https://youtube.com/@GM-ji5uz1my7l?si=CdpyA42VYS9xOmZ0
نمایش بیشتر1 970
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
-87 روز
-1530 روز
آرشیو پست ها
এই সংশয়ের উত্তরে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়।
যখন কোনো জাতি যুদ্ধ ঘোষণা করে তখন তাদের সকলকেই সেই সিদ্ধান্তের দায়ভার বহন করতে হয়। সামরিক, বেসামরিক, শাসক বা সাধারণ জনগণের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না। বরং পুরো জাতিকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমনটা আমরা দেখতে পাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে। মদীনার ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজার সাতশ লোককে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হত্যা করেছেন। বাকিদেরকে গোলাম বানিয়েছেন। কারণ তাদের অপরাধ ছিল মুসলামনদের সাথে গাদ্দারি করে চুক্তি ভঙ্গ করা। চুক্তি ভঙ্গের এই সিদ্ধান্তটি সে গোত্রের নেতাদের থাকলেও সামরিক, বেসামরিক সকলকেই সেই অপরাধের শাস্তি পেতে হয়েছিল। কাউকে হত্যা করে শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে আর কাউকে গোলাম বানিয়ে। মোটকথা, আমেরিকা যখন মুসলিমদের উপর আক্রমণ করেছে তখন থেকে পুরো আমেরিকান জাতি শাস্তির উপযুক্ত হয়ে গিয়েছে। তাই ৯/১১ এর আক্রমণে যে সকল বেসামরিক কাফের মারা গিয়েছে তারাও তাদের শাসকদের মত সমান দোষে দোষী ছিল। যেমনটা ছিল বনু কুরাইযার সাধারণ মানুষেরা। তাই তাদের হত্যা করা কখনোই শরিয়াহ বিরোধী নয়। এমনকি এটি কাফেরদের ও অনুসৃত নীতি। অতিরিক্ত কাফের প্রীতি কিংবা কাফের ভীতির জন্য আমাদের এই নুন্যতম তথ্যটুকুও যানার সুযোগ হয়নি!
একই এই আক্রমণটি ছিল একটি প্রতিশোধমূলক আক্রমণ। বিভিন্ন মুসলিম দেশে আমেরিকা আমাদের যত মুসলিম ভাইদের হত্যা করেছে, যত মা বোনের রক্ত ঝরাতে ও তাদের সম্ভ্রম নষ্ট করতে সহযোগিতা করেছে , যত শিশু সন্তানকে তারা হত্যা করেছে ৯/১১ ছিল সে সকল মাজলুমানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিশোধ। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ
وَاِنۡ عَاقَبۡتُمۡ فَعَاقِبُوۡا بِمِثۡلِ مَا عُوۡقِبۡتُمۡ بِہٖ ؕ
আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো তাহলে তারা তোমাদেরকে যেভাবে আক্রমণ করেছে ঠিক সেভাবেই তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করো। (সূরা আন-নাহল, ১২৬)
আমেরিকা আমাদের নিরপরাধ সন্তানদের হত্যা করেছে, আমাদের পর্দাশীল মা বোনদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তাদের বেইজ্জত করেছে, তাদের স্বামীদের আর সন্তানদের হত্যা করেছে, আমাদের ভূমিতে বোমা ফেলেছে, তাদের বিষাক্ত বোমার কারণে হাজার হাজার বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিচ্ছে! ৯/১১ হামলার ঘটনায় নিহত শিশু ১০ এর অধিক নয়, অপর দিকে অ্যামেরিকা শুধু মাত্র ইরাকেই হত্যা করেছে ৫ লক্ষ শিশু! নিঃসন্দেহে ৯/১১ ছিল মুমিনদের হৃদয়প্রশান্তকারী আক্রমণ। এটি অত্যন্ত আনন্দের একটি ঘটনা, যা প্রতি বছর মুসলিমদের অন্তরে অনাবিল প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। শুধুমাত্র কাফের প্রীতিতে আন্দোলিত এবং কাফের ভীতিতে উদ্বিগ্নরাই এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়!
পরিশেষে, ৯/১১ এর হামলা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। শরীয়ত ও মানবিক, সবদিক থেকেই এই আক্রমণের যথার্থতা প্রমাণিত। আমরা আজ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি এই মোবারক ইতিহাসের মূল শক্তি শাইখ উসামা বিন লাদেন (রহিমাহুল্লাহ) কে। স্মরণ করছি, হামলার পরিকল্পনাকারী শাইখ খালেদ শাইখ মুহাম্মাদ (ফাক্কাল্লাহু আসরাহ) কে। যিনি এখন তাগুত আমেরিকার কারাগারে বন্দি জীবনযাপন করছেন। আল্লাহ তাআলা তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন। আরও স্মরণ করছি, এই ইতিহাসের বাস্তবায়নকারী সেই ১৯ জন অভূতপুর্ব যুবককে ইতিহাস যাদের স্মরন করবে! যারা নিজেদের রক্ত দিয়ে উম্মাহর বিজয়ের পথ রচনা করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নিন। সকল বন্দির উত্তম ও দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন। উম্মাহকে তাদের দেখানো পথে চলার তাওফীক দান করুন। খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নুবুওয়্যাহ প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামকে সফল করুন। আমিন। ইয়া রাব্বাল আলামিন।
লেখক: মাওলানা আব্দুল্লাহ মুনতাসির হাফিজাহুল্লাহ
Footnote:
(১) এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শাইখ মুহাম্মাদ ফা: রচিত “ওবামার প্রতি খোলা চিঠি”। ৯-১০
(২) নোট: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আরব উপদ্বীপ বলতে বুঝানো হতো-একদিকে এডেন হতে ইরাক পর্যন্ত অন্যদিকে জেদ্দা হতে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এলাকাকে।
(৩) https://yhoo.it/3tn2601
দ্বিতীয়তঃ মুসলিমদের উপর নির্যাতনের নেতৃত্বদানকারী আমেরিকার বিপুল অর্থনীতির পতনের সূচনা হয়েছে এই মোবারক হামলার মাধ্যমে। ৯/১১ এর কারণে শুধুমাত্র টুইন টাওয়ার ও এর মধ্যকার যাবতীয় উপকরণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ও তা পুননির্মাণ অর্থাৎ ফিজিক্যাল ড্যামেজের কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬৬ বিলিয়ন ডলারের’ও বেশি। এর সাথে সাথে এই মোবারক হামলার কারণে পরবর্তী দশ বছরে আমেরিকার এয়ারলাইন ইন্ড্রাস্টি, এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি, অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে ব্যয়িত সময়ে ক্রমবর্ধমান আর্থিক ক্ষতি, ট্যুরিজম ইন্ড্রাস্টি, লোকাল ও ফেডারেল সিকিউরিটি, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইনস্যুরেন্স লস, জিডিপি হ্রাস ও শেয়ার মার্কেটের ক্ষতির হিসাব করলে তা ৩১৫ বিলিয়নের থেকেও বেশি দাঁড়ায়। (৩)
এটা হল ৯/১১ এর কারণে আমেরিকার অভ্যন্তরে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ। এই হামলার কারণে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয়েছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ওয়ার অন টেররের সূচনা করা। যা ছিল এই হামলার একটি বড় লক্ষ্য। আমেরিকার মাটিতে আমেরিকার উপর আঘাত আসার কারণে আমেরিকার ঔদ্ধত্য চুরমার হয়ে যায়। যার ফলে বোকা আমেরিকা পরিণতির কথা না ভেবেই আফগানিস্তানে তাদের জন্য তৈরিকৃত মরণফাঁদে এসে এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এটাই মুজাহিদদের চাওয়া ছিল। মুজাহিদদের পছন্দমত ভূমিতে আমেরিকাকে টেনে এনে দীর্ঘ ২০ বছরের এক যুদ্ধের সূচনা করা হল। যুদ্ধের এই চোরাবালিতে আটকে গিয়ে ক্ষয়ে যেতে শুরু হয় অ্যামেরিকার অর্থনীতি। মরুভূমিতে পানির মতই আফগান এবং ইরাক যুদ্ধ চুষে নিতে থাকে অ্যামেরিকার অর্থনীতি!
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ ছিল আরও একটি চোরাবালিতে আটকে যাওয়া। ওয়ার অন টেররের চোরাবালিতে আটকে গিয়ে আজ পর্যন্ত আমেরিকার ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করলে দেখা যায় তা ৩.৩১৪ ট্রিলিয়নের চেয়েও বেশি। আমেরিকার ব্রাউন ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট অনুযায়ী যুদ্ধকালীন খরচ, যুদ্ধপরবর্তী আহতদের খরচসহ আফগানে আমেরিকার মোট খরচ হয়েছে ২.৩১৩ ট্রিলিয়ন। আর ইরাক যুদ্ধে ব্যয় হয়েছে ১.২ ট্রিলিয়ন। ফালিল্লাহিল হামদ। যে বিশাল অর্থনীতির দাপটে আমেরিকা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল সে অর্থনীতি আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।
৯/১১ এর মোবারক হামলার সফলতা আজ আমাদের সামনে দিনের আলোর ন্যায় স্পষ্ট।
তৃতীয়তঃ প্রথমে আফগানিস্তান ও পরে ইরাকে আমেরিকা নিজস্ব সেনাবাহিনী পাঠিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল করে বসে। মুসলমানদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় তাদের মূল শত্রু কে? ফলে বৈশ্বিক এই কুফুরী শক্তির মোকাবেলায় বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমরা জামাত বদ্ধ হতে শুরু করে। মুসলিমদের সকল কর্মতৎপরতায় আমেরিকান স্বার্থে আঘাত হানার নীতি গৃহীত হয়। বৈশ্বিক জিহাদের এই ধারা মুসলিমদের মাঝে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। সাথে সাথে আফগানে আমেরিকার পরাজয় আর তালেবানের বিজয়ে মুসলামনদের সামনে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পৃথিবীতে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র নয় জিহাদই হল একমাত্র এবং কার্যকরী পদ্ধতি।
সফলতার হিসাব করলে তা শেষ হবে না। আল্লাহর অনুগ্রহে জিহাদের বদৌলতেই উম্মাহ এই সফলতার মুখ দেখেছে।
৯/১১ এর গুরুত্ব ও গভীর তাৎপর্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কিছু সরলমনা মুসলমান ভাই অজ্ঞতার কারণে বলতে চান, এই মোবারক আক্রমণ শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত ছিল না। তাদের মতে বিশ্ব সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু পেন্টাগন ও মূল চালিকাশক্তি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আক্রমণ করা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এখানে আমরা শরিয়াহ’র আলোকে ৯/১১ এর উপর তাদের পক্ষ থেকে আরোপিত প্রশ্ন ও সেগুলোর জবাব নিয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা বলব ইনশাআল্লাহ।
প্রথমতঃ আমেরিকা একটি হারবী দেশ বা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত দেশ। মুসলিমদের সাথে আমেরিকার কোন নিরাপত্তা চুক্তি ছিল না। আর যদি মুসলিমদের সাথে আমেরিকার কোনো নিরাপত্তা চুক্তি থেকেও থাকে তবে আমেরিকা সেই চুক্তি একবার নয় বারবার ভঙ্গ করেছে। ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনি মুসলিমদের উপর সকল আক্রমণের সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে, সুদানের আশ শিফা হাসপাতালে বোম্বিংয়ের মাধ্যমে, লেবাননের মুসলিমদের উপর ইসরাইলি আক্রমণে সহযোগিতার মাধ্যমে, এ ছাড়াও বিভিন্ন মুসলিমদেশে স্থানীয় সরকার কর্তৃক মুসলিমদের উপর নির্যাতনে আমেরিকা সবসময়ই সহযোগিতা করে এসেছে। এত অপরাধ করা সত্ত্বেও কীভাবে একটি দেশের চুক্তি বহাল থাকতে পারে? সুতরাং আমেরিকার উপর আক্রমণে কোনো ধরনের চুক্তি লঙ্ঘিত হয়নি। বরং এটাই তার প্রাপ্য ছিল। এবং যতদিন পর্যন্ত তারা এই ধরনের কার্যক্রম থেকে পরিপূর্ণভাবে বিরত না হবে ততদিন পর্যন্ত এটাই তাদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
দ্বিতীয়তঃ অনেকে বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে নিহতরা এবং চারটি বিমানের যাত্রীদের মধ্যে তো অনেক বেসামরিক লোক ছিল, তাই তাদেরকে হত্যা করা বৈধ হয়নি। কেননা, শাসকদের অপরাধের কারণে সাধারণ লোকদের শাস্তি দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
১। বিভিন্ন মুসলিম ভূখণ্ডে আমেরিকার চালানো গণহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ। আমেরিকা নিজ স্বার্থোদ্ধারের জন্য যে কোনো দেশেই আক্রমণ করে বসত। এই সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব আমেরিকাকে অহঙ্কারী বানিয়ে ফেলেছিলো। ৯/১১ এর এই মোবারক হামলার মাধ্যমে আমেরিকার অহঙ্কার মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
২। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবাসভূমি জাযিরাতুল আরব থেকে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা। আমেরিকা নিরাপত্তা প্রদানের নামে জাযিরাতুল আরবের ভূমিতে নিজেদের সেনাবাহিনী নিয়োগ করে রেখেছিল। এর মাধ্যমে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো, তেলের খনির উপর নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠা করে রাখা এবং মুরতাদ সৌদি শাসকদের ক্ষমতায় বসিয়ে রাখা। এই দালাল শাসকগোষ্ঠী অ্যামেরিকান সেনাবাহিনীকে জাযিরাতুল আরবের পবিত্র ভূমি থেকে বের করার পরিবর্তে তাদেরকে পরিপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছিলো। অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তিম উপদেশ ছিল, জাযিরাতুল আরবে যেন কখনোই কোনো কাফের-মুশরিক থাকতে না পারে।
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে:
أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِيْنَ مِنْ جَزِيْرَةِ الْعَرَبِ
আরব উপদ্বীপ (২)থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করে দাও! (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৪৩১)
৩। আমেরিকাকে মুজাহিদদের সুবিধাজনক কোনো ভূমিতে টেনে আনা। এতদিন আমেরিকা নিজের সুবিধামত জায়গাতে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে আসছিল। ফলে মুজাহিদিনের জন্য আমেরিকাকে আঘাত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অতি সামান্য পুঁজি নিয়ে আমেরিকার মোকাবেলা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমেরিকাকে এমন এক জায়গায় টেনে আনা জরুরি ছিল যেখানে আমেরিকা থাকবে নিঃসঙ্গ। আর মুজাহিদিন তাদের সামান্য সামর্থ্যকেই কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
৪। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার উপনিবেশগুলো থেকে আমেরিকার অর্থনীতি প্রতিনিয়ত ফুলে ফেঁপে উঠছিল। বিশাল আমেরিকান অর্থনীতি ছিল মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে আমেরিকান দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখার সবচে বড় হাতিয়ার। তাই আমেরিকাকে এমন কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা জরুরি ছিল যা আমেরিকার অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিবে। এই অর্থনীতির পতন হলে আমেরিকার দখলদারি মনোভাবও শেষ হয়ে যাবে।
৫। মুসলিমদের সামনে আসল শত্রুকে স্পষ্ট করা। আমেরিকা যেহেতু সবসময় পর্দার পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে মুসলিম দেশগুলোতে হত্যাযজ্ঞ চালানোর নীতি গ্রহণ করেছিলো, তাই সাধারণ মুসলিমরা আমেরিকা নয় বরং আঞ্চলিক সরকারকে নিজেদের শত্রু মনে করত। এবং এর ভিত্তিতেই তারা স্থানীয় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্দোলন ও জিহাদ করত। কিন্তু এক সরকারের পতনের সাথে সাথে আমেরিকা পর্দার পেছন থেকে আরেক সরকারকে বসিয়ে দিত। ফলে মুক্তিকামী মুসলিমদের সকল চেষ্টা প্রচেষ্টা সামগ্রিক অর্থে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছিল। তাই আমেরিকাকে মুসলিম জনসাধারণের আসল শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য কোনো মুসলিম ভূখণ্ডে আমেরিকার প্রত্যক্ষ আক্রমণ অপরিহার্য ছিল। যেন মুসলিমরা তাদের আসল শত্রুকে চিনতে পারে এবং তাদের সকল শক্তি সামর্থ্য আঞ্চলিক সরকারের বিরুদ্ধে অপচয় করা বাদ দিয়ে সাপের মাথা আমেরিকার বিরুদ্ধে সকলে একত্রিত হতে পারে।
৬। মুসলিমদের মনে আমেরিকার যে অপরাজেয় মনোভাব তৈরি হয়েছিল সেটাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। কারণ তারা যখন দেখবে, মাত্র ১৯ জন মুজাহিদের ছোট্ট একটি দল যদি আমেরিকার মত দেশের হৃদপিণ্ডে আঘাত করতে পারে তাহলে সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে বিশ্ব কুফুরের হোতা আমেরিকার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে চাইলে সেটাও অবশ্যই সম্ভব।
উল্লেখিত লক্ষ্য অর্জনে আমেরিকার উপর আল কায়েদার মুজাহিদগণ এই মহান হামলাটি পরিচালনা করেন।
৯/১১ এর দুই যুগ পর এসে আজ আমরা যদি অর্জনের হিসাব কষতে বসি তাহলে আল্লাহর রহমতে আমাদের সামনে ৯/১১ হামলার বিপুল সাফল্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে উদ্দেশ্যগুলো সামনে রেখে শাইখ উসামা রাহিঃ ৯/১১ হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সবগুলো উদ্দেশ্য আল্লাহর রহমতে অর্জন হয়েছে। আসুন আমাদের সফলতাগুলো একটু আলোচনা করি…
প্রথমতঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মুসলিম বিশ্বে আমেরিকা যে দখলদারিত্ব চালিয়ে এসেছে সুদান, ফিলিস্তিন, ইরাক, লিবিয়া, বসনিয়া, চেচনিয়ায় যে গণহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছে সেই হাজারো শহীদ আর হাজারো মা বোনের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম জবাবি আক্রমণ ছিল এটা। যা হাজার নিপীড়িতের অন্তর্জ্বালা কিছুটা হলেও কমিয়েছে। কুফুরি বিশ্ব ও তাদের পা চাটা মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের কবলে পড়ে মুসলিমরা যখন প্রতিরোধের কল্পনা হারিয়ে ফেলে নির্যাতিত হওয়ার ভাগ্যকেই বেছে নিয়েছিল তখন এই আক্রমণ ছিল একটি বিপ্লবের মত! যা মুসলমানদের মাঝে ঘুমিয়ে থাকা প্রতিবাদী সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলেছিল। ফলশ্রুতিতে এশিয়া ও আফ্রিকার দিকে দিকে জিহাদের এক নতুন ধারা শুরু হয়ে আজ বিজয়ের প্রহর গুনছে।
৯/১১, একটি পর্যালোচনা
____---------
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষ শক্তি পরাজিত হলে বিশ্ব-সুপার পাওয়ারের তালিকায় ওঠে আসে দুটি নাম, ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা প্রাপ্ত অ্যামেরিকা এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন।
এরপর থেকেই এই দুই পরাশক্তির মাঝে শুরু হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকাল পর্যন্ত চলে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পৃথিবীর একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় অ্যামেরিকা। পরাশক্তির তালিকায় অ্যামেরিকার নাম আসার পর থেকেই সে এর থেকে পরিপূর্ণ ফায়েদা লুটতে শুরু করে। নানা সব ভুয়া অজুহাত তৈরী করে একের পর এক স্বাধীন ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসন চালায়। তার আগ্রাসনের সবচেয়ে বেশী শিকার হয় মুসলিম ভূখণ্ডগুলো। বিশেষত খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলো অ্যামেরিকার প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়। সম্পদের লোভ আর ইসলাম বিদ্বেষ, এই দুটি কারণে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে আগ্রাসন চালাতে মরিয়া হয়ে ওঠে সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা। নিজের মিত্র রাস্ট্রগুলোকে দিয়ে একের পর এক মুসলিম ভূখণ্ডগুলো ধ্বংস করতে থাকে এবং অতি কৌশলে মুসলিম দেশসমূহের খনিজ সম্পদ নিজ দেশে পাচার করতে থাকে। তবে ধূর্ত অ্যামেরিকা কখনোই স্ব-শরীরে যুদ্ধের ময়দানে আসতো না। পরোক্ষভাবে সে প্রতিটি মুসলিম হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব দিতো। হত্যাযজ্ঞ চূড়ান্ত হওয়ার পর সে আবির্ভূত হতো ত্রাণ কর্তারূপে। উভয় পক্ষের মাঝে সন্ধির নামে যুদ্ধ বন্ধ করতো আর প্রতিদান স্বরূপ পর্দার আড়াল থেকে লুট করত খনিজ সম্পদ। বিশ্বের সামনে সে এক মানবদরদী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতো। এই নাটকীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার হয় ইয়েমেন, ইরাক, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া, চেচনিয়া, বসনিয়াসহ বিশ্বের বহু মুসলিম রাষ্ট্র। এই কারণেই মুসলিম নিধনের পেছনে মূল হোতা অ্যামেরিকা হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববাসীর কাছে সে ছিলো মানবতাবাদী ও জনদরদী একটি রাষ্ট্র। অনেক নির্যাতিত, নিপীড়িত মুসলমানও তাকে বন্ধুই মনে করতো।
অপরদিকে অ্যামেরিকা কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো অ্যামেরিকাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে মহাশক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে। অ্যামেরিকা যা চায় তাই করতে পারে, যাকে ইচ্ছা ক্ষমতায় বসাতে পারে আবার ক্ষমতা থেকে নামাতেও পারে, মিডিয়ার প্রোপাগাণ্ডার ফলে এ জাতীয় বিশ্বাস মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল হতে থাকে৷ অ্যামেরিকা হয়ে যায় অজেয় শক্তি। এ সবের প্রভাব পড়তে থাকে মুসলমানদের আক্বীদা-বিশ্বাসেও। অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার ফলে মুসলমানদের অন্তরে দানা বাঁধতে শুরু করে অমূলক ও ভিত্তিহীন সব বিশ্বাস।
যেমন:
১. আমাদের সবকিছুই অ্যামেরিকা দেখছে এবং শুনছে। অ্যামেরিকার চক্ষু ফাঁকি দিয়ে কিছুই করা সম্ভব নয়।
২. অ্যামেরিকা মুসলমানদের কল্যাণকামী একটি রাষ্ট্র। অন্যদেশগুলো যখন কোনো মুসলিম দেশে আক্রমণ করে তখন অ্যামেরিকা মুসলমানদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ায়। ৩. অ্যামেরিকা একটি অপরাজেয় রাষ্ট্র। অ্যামেরিকার কোনো বিনাশ নেই। সে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে৷ এমন-ই আরো বহু ভ্রান্ত বিশ্বাস মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদাহর ভিত্তিমূলে আঘাত হানতে শুরু করে।
এমন একটি নাজুক মুহূর্তে মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা রক্ষার স্বার্থে, প্রয়োজন ছিলো ভদ্রতার মুখোশপরা ধূর্ত অ্যামেরিকার মুখোশ উন্মোচন করা। আরো প্রয়োজন ছিলো অ্যামেরিকাকে মুজাহিদদের পছন্দমতো কোনো একটি যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে এনে নিরীহ মুসলিমদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া। এ সব প্রয়োজনকে সামনে রেখেই ২০০১ সালের ১১-এ সেপ্টেম্বর অ্যামেরিকার পেন্টাগন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ক্যাপিটাল ভবনকে লক্ষ্য করে একযোগে চারটি হামলা চালায় মুজাহিদগণ। ইতিহাসে যা ৯/১১ আক্রমণ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
৯/১১ আক্রমণের পেছনে আরো গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো, মুসলিম হত্যায় অ্যামেরিকার সীমালঙ্ঘন ও মুসলিমদের পবিত্রভূমিতে আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ। মুসলিম দেশগুলোতে অ্যামেরিকার নির্মম হত্যাযজ্ঞের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ। এরমধ্যে, অ্যামেরিকা কর্তৃক ইরাক অবরোধের ফলে প্রায় ২০ লক্ষ নারী-পুরুষ এবং ৫ লক্ষ শিশু হত্যা, ইসরায়েলকে আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করা , তাদের ঘর-বাড়ী, হাট-বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা। অগণিত ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও বন্দী করা। ১৯৮২ সালে অ্যামেরিকার সহায়তায় ইসরায়েল কর্তৃক ১৭ হাজার লেবানিজকে হত্যা (১) ও নিরাপত্তা প্রদানের নামে জাযিরাতুল আরবে আমেরিকান সৈন্য নিয়োগ দিয়ে তেলসম্পদ আত্মসাৎ -বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অ্যামেরিকার এই সীমাহীন বাড়াবাড়ির প্রতিশোধ ছিলো ৯/১১ এর আক্রমণ।
৯/১১ এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য।
একাধিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৯/১১ এর মোবারক এই আক্রমণ করা হয়েছিল। এখানে আমরা অতি সংক্ষেপে কয়েকটি তুলে ধরছি।
Repost from Al Firdaws
এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদেরকে বন্দী, নির্যাতন, হত্যা, নির্বাসন এবং তাদের সাথে অকল্পনীয় আচরণ করার ক্ষেত্রে এই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন ও শক্তি জুগিয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বরের অভিযান যারা পরিচালনা করেছিলেন, তারা তখনও জন্মগ্রহণ করেনি।
– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ৯০-এর দশকে বসনিয়ায় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন এবং বন্দী করার মিশন চালিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর তখনো ঘটে নি।
সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ১৯৯৩ সাল থেকেও অনেক বছর দূরে ছিল, যখন আমেরিকান সৈন্যরা সোমালিয়ায় প্রবেশ করেছিল, হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছিল এবং তারপর অপমানিত হয়ে পালিয়েও গিয়েছিল।
– যখন একই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬-এর পর আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ও এর কর্মকর্তাদের অবস্থানে বোমাবর্ষণ করছিল, বিদ্রোহীদের সহায়তা করছিল, এবং ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বোমাবর্ষণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধায় ও রোগে ভুগিয়ে হত্যা করছিল, ১১ সেপ্টেম্বর তখনও ঘটেনি।
– যদি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের বাইরে আরেকটু বিস্তৃত হই… তাহলে দেখা যাবে, ইংল্যান্ড আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে, ফ্রান্স আলজেরিয়া এবং আফ্রিকার বাকি অংশে, রাশিয়া ককেশাসে এবং পূর্ব তুর্কিস্তানে চীন মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তখনও কোন ‘১১ সেপ্টেম্বর’ ছিল না।
এই উদাহরণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ছিল। তবে এই পর্যন্ত আমাদের আলোচনার ব্যাখ্যায় যে দৃষ্টান্তগুলো এসেছে, আশা করা যায় সেগুলো সচেতন মুসলিম ও বিবেকবান বিশ্ববাসির উপর থেকে মার্কিন প্রোপ্যাগান্ডার প্রভাব দূর করতে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্।
সংক্ষেপে, ইসলামি বিশ্ব ও মুসলমানদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিদ্বেষের কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছিল না। এই বিদ্বেষ হক্কের প্রতি বাতিলের চিরায়ত বিদ্বেষ, এই বিদ্বেষ রব্বে কারিম প্রদত্ত আসমানি মতবাদের প্রতি মনগড়া কল্পনাপ্রসূত মতবাদের বিদ্বেষ।
ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের এই শত্রুতা পরিচালিত হয়ে আসছে ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার প্রক্সিরা, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস বৈরিতা প্রদর্শন করেছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, তারা ৯/১১ না ঘটলেও এটি চালিয়ে যেত, বরং এটি আরও গভীরে পৌঁছাতো।
১১ই সেপ্টেম্বরের আগে আমেরিকার বিদ্বেষ, আগ্রাসন ও শত্রুতা ১১ সেপ্টেম্বরের পরের ঘৃণা, আগ্রাসন ও শত্রুতার চেয়ে কম ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ইরাকের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে লক্ষ লক্ষ ইরাকি রোগ ও অপুষ্টিতে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব এর আগে কখনও এমন নিষেধাজ্ঞা দেখেনি। ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার মাঝে এটি মাত্র একটি উদাহরণ।
যদি আমরা ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ভূমিকা মূল্যায়ন করি, তবে আমরা এই ঘটনাকে ১০৭১-এর মানজিকার্ট, ১১৮৭-এর জেরুজালেম বিজয়, ১৪৫৩-তে ইস্তাম্বুল বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে তুলনা করতে পারি। কেননা এর প্রত্যাকটিই মানব ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, জালিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনতাকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস জুগিয়েছে। হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে ঘুমন্ত শার্দূলদের জাগ্রত করেছে। মুসলিমদেরকে কাফেরদের প্রতিটি ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া জানানোর হিম্মত জুগিয়েছে। পরিশেষে, বিশ্বপরাশক্তির লেবাসধারী জালেমদের কবর খুঁড়েছে।
সুতরাং, গ্লোবাল নর্থ, ওয়েস্টার্ন ব্লক, ক্রুসেডার ওয়ার্ল্ড বা পশ্চিম ইউরোপ… আমরা যে নামেই বলি না কেন, ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বের এই শক্তিগুলোর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক যুদ্ধ ১০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তাই এটি বলা ঠিক হবে না যে, ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ শুরু হয়েছে, কিংবা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কারণে মুসলিমরা আজ বিশ্বব্যাপি করুণ পরিণতি বরণ করছে। বরং, এটা তো ছিল মুসলিমদের বেহাল দশার শেষের শুরু, রাতের গভীর অমানিসার শেষপ্রান্তে দিগন্ত চিঁরে উন্মেষ ঘটা এক চিলতে আলো।
মানবতার দুশমনদের জুলুমের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে উঠার গোঙানি-আস্ফালন আর আমাদের ভীত না করুক।
Repost from Al Firdaws
মোদ্দা কথা হল, অনেকেই এখনো এমন ধারণা পোষণ করেন, যেন হক্কের সাথে বাতিলের সংঘাত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ থেকে শুরু হয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষই নন, বরং কলমধারী ও পদধারীদের মধ্যেও অনেকই আছেন, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলিকে দূরদৃষ্টি দিয়ে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তারা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এখনো মার্কিনী ও শিয়াদের ছড়ানো এই ধ্যান-ধারণায় প্রভাবিত হয়ে চলেছেন যে, ৯/১১ হামলাই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জায়নবাদি জোটকে মুসলিম বিশ্বে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ইতিহাসের একটি বিন্দু, অবশ্যই এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। আমাদেরকে এসব ঘটনাকে কারণ হিসেবে না দেখে ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত।
আমাদের বিশ্বাস, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে ইতিহাস শুরুও হয়নি এবং সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ এখনো চূড়ান্ত রূপও নেয়নি। বরং ১১ সেপ্টেম্বরে সংঘটিত ঘটনাগুলি লক্ষ লক্ষ ঘটনার মাঝে ইতিহাসের একটি ছোট অংশ মাত্র। আর এই ধরনের ঘটনাগুলো জনগণের কুসংস্কার, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় উপলব্ধি, রাজনীতি এবং মানবতার ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।
পরিস্থিতির বোধগম্যতা বৃদ্ধিকল্পে কিছু উদাহরণ পেশ করা যাক।
ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়নি
– ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের কুসংস্কার ও যুদ্ধ ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে শুরু হয়েছে। তুর্কিরা যখন আনাতোলিয়া থেকে বাইজেন্টিয়ানদের বিতাড়িত করেছিল এবং ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, তখন সময়টি ছিলো ১১ সেপ্টেম্বরের ৬ শতাব্দী আগে। একইভাবে, যে বছরগুলিতে আরবরা স্পেন থেকে ফ্রান্সে আক্রমণ করেছিল সেগুলিও ১১ সেপ্টেম্বরের ১৩ শতাব্দী আগের।
এই সময়ে ইউরোপে ইসলামের প্রতি নেতিবাচক চিন্তাধারা ও শত্রুতা শুরু হয়। যে বছরগুলিতে আন্দালুসিয়ার পতন হয়েছিল, তখন ইউরোপীয়রা লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে নির্যাতন ও হত্যা করে। এটিও ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলির প্রায় ৭ শতাব্দী আগে ঘটেছিল।
– ইসলামী বিশ্বে আক্রমন করা, ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাকে বিকৃত করা এবং ইসলামী বিশ্বে পুতুল শাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তাও ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ এর প্রায় ২ শতাব্দী আগে শুরু হয়েছিল। মুসলমানদের শেষ স্বাধীন ভূমি ১৯০০ এর দশকের গোড়ার দিকে দখল করা হয়েছিল। এই বছরগুলিতে পতন হয়েছিল খিলাফতের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলের। এই বছরগুলিতেই পশ্চিমাদের হাতে ইসলামি ভূমিগুলি বিভক্ত হয়েছিল; ১১ সেপ্টেম্বরের এক শতাব্দী আগে।
– পশ্চিমারা ১১ সেপ্টেম্বরের প্রায় দেড় শতাব্দী আগে, ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামী বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে একটি কৃত্রিম ইহুদি রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা শুরু করে। আর ১১ সেপ্টেম্বরের প্রায় এক শতাব্দী আগে, ১৯১৭ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা প্যালেস্টাইন দখলের সাথে এই পরিকল্পনাগুলি কংক্রিট হয়ে ওঠে। বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশরা ইহুদিদের ফিলিস্তিন দিয়েছিল এবং এই অঞ্চল থেকে মুসলমানদের সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল, সেই ঘটনাও ১১ সেপ্টেম্বরের ৮৪ বছর আগে। এমনিভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি ১১ সেপ্টেম্বরের ৫৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখানে মুসলমানদের গণহত্যা শুরু করা হয়েছিল।
এত এত জুলুম করে চলেছে এই দখলদার ইসরায়েল যার প্রত্যক্ষ মদদদাতা এবং সামরিক, আর্থিক সহায়তাকারী হচ্ছে আমেরিকা। যে মানবতা বুলি তারা অন্যান্যদের শুনায়, সেই একই বিষয় যখন ফিলিস্তিনে ঘটে তখন তারা নিশ্চুপ থাকে, যা আজ সকলের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। এই মুসলিম নিধন, মুসলিমদের বন্দী করা, গুলি করে মেরে ফেলা, নারীদের হেনস্তা করা, ইবাদতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার এত এত কার্যক্রম ১১ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হয় নি...
– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্য দখল করা শুরু করে ১৯৫০-এর দশকে। সেই সাথে ১১ সেপ্টেম্বরের ৫০ বছর আগে থেকেই এই অঞ্চলে কৃত্রিম শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। আর মুসলিমদের নিপীড়নকারী এই সরকারগুলোকে পুরোপুরি সমর্থন দিতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
একইভাবে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর ঘটেনি, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে ১৯৫৮ সালের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তী বছরগুলিতে এটি ইসরায়েলের এক নম্বর বিদেশী সমর্থক ও গণহত্যার পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে; ৯/১১-এর অনেক আগেই।
– মিসর, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বিভিন্ন অঞ্চলে যখন মুসলিমদের উপর স্বৈরশাসকদের জুলুম নির্যাতন চলছিল, তখন এই সরকারগুলোর অবস্থান মজবুত করতে তাদেরকে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই বছরগুলিতেও ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটেনি। উদাহরণ স্বরূপ, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিশরে আনোয়ার সাদাত এবং হোসনি মুবারকের মতো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন ১৯৭০ থেকে ২০০০ এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিল, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা তখনও বেশ দূরেই ছিল।
Repost from Al Firdaws
মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘাতের এই ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বরে শুরু হয়নি
এটা সত্য যে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্সে (পেন্টাগন) আল-কা*য়ে#দার ঐতিহাসিক আক্রমণ সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
সর্বোপরি, আমরা ইতিমধ্যেই ৯/১১-পরবর্তী আমূল পরিবর্তিত বিশ্বে বাস করছি। যদিও আমরা এখন আর সরাসরি ১১ সেপ্টেম্বরের প্রভাব অনুভব করি না। তথাপি এই আক্রমণ ও এর ফলাফল বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কেননা এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হৃদপিণ্ডে পরিচালিত এমন এক আঘাত ছিলো, যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করেছে।
তাই এই প্রবন্ধে বিষয়টি নিয়ে লিখা ও বলার পরিবর্তে নতুন বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন। কারণ এখন পর্যন্ত গত ২৩ বছরে যা বলা যায় প্রায় সবই বলা হয়ে গেছে, হয়তো আরও বলা হবে। এই আক্রমণের এতবছর পরেও এখনো একটি বিষয় মানুষকে জোরেশোরে গেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ৯/১১-এর প্রেক্ষিতেই বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো শুরু হয়েছে।
Repost from Al Firdaws
৯/১১ নিয়ে আরো পড়ুনঃ
১| ৯/১১ অভিযান: যে আলোচনা প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরী
- https://alfirdaws.org/2023/09/11/64455/
২| মার্কিন আধিপত্যের শেষের শুরু: ঐতিহাসিক ৯/১১ আক্রমণ
- https://alfirdaws.org/2023/09/11/64437/
৩| ৯/১১ অভিযান : জি*হা#দি মেরুকরণের শক্তিশালী অনুঘটক
- https://alfirdaws.org/2022/09/11/59126/
৪| বিজয়ের পদধ্বনি- ৫ || আল-কা*য়ে#দা কর্তৃক ৯/১১ হামলা ও চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধের সূচনা
- https://alfirdaws.org/2021/09/11/52444/
৫| ৯/১১, একটি পর্যালোচনা
- https://alfirdaws.org/2021/09/09/52389/
৬| ৯/১১ এর হামলার জন্য কে দায়ী? আল-কা*য়ে#দার পক্ষ থেকে ৯/১১ হামলার দায় স্বীকারের দলীল প্রমাণ
- https://alfirdaws.org/2021/09/07/52321/
৭| ৯/১১ পরবর্তী আমেরিকা, ৩০ হাজারের অধিক মার্কিন সৈন্যের আত্মহত্যা
- https://alfirdaws.org/2021/06/24/50221/
৮| ৯/১১ অভিযানে আল্লাহর নিদর্শনাবলী
- https://alfirdaws.org/2020/09/15/42240/
৯| ৯/১১ কি সাজানো নাটক?
- https://alfirdaws.org/2020/09/11/42131/
১০| গাযওয়াতুল ম্যানহাটন | ৯/১১ হামলার টাইমলাইন
- https://alfirdaws.org/2020/09/10/42120/
১১| ৯/১১-এর হামলা ছিল মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে
- https://alfirdaws.org/2020/09/06/41950/
১২| কেন ঘটেছিল ৯/১১ ? এমন ঘটনা আবারো কি ঘটতে যাচ্ছে ?
- https://alfirdaws.org/2019/09/11/26478/
১৩| নাইন-ইলেভেনে মু*জাহিদগণের সুমহান যুদ্ধনীতি!
- https://alfirdaws.org/2019/09/11/26489/
Repost from মুসান্না আল ফাইয়াজ
রোহিঙ্গা মুসলিমদের ব্যাথা সকল উম্মাহর ব্যাথা।
___হাকিমুল উম্মাহ আশ-শায়খ ডক্টর আবু মুহাম্মদ
আ ই* মা ন আয যাওয়াহি*রি রহিমাহুল্লাহ।
Repost from Al Firdaws
ফিলিস্তিন থেকে ধারণকৃত ভিডিওটিতে আল-কায়েদা ও এর প্রতিষ্ঠাতা শাইখ ও*সা!মা বিন লা!দেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, আবু জাইন আল মাকদিসি নামক একজন ফিলিস্তিনি জানান, "আজ সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, আমরা গাজা শহর এবং এর উত্তর অংশে অবস্থান করছি। আমরা ধৈর্যশীল, অবিচল মু!জাহি@দদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, যাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা এই উম্মাহর সমর্থক। আমরা "আহরার বাইতুল-মাকদিস" আমাদের ইয়েমেনের আ!নসা@রুশ শ/রিয়াহ্ ও সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আল-কা!য়েদা/র মু!জাহি/দদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা আপনাকে বলছি যে, আমাদের জনগণের জন্য আপনাদের পাঠানো অর্থ এবং দান আমাদের কাছে পৌঁছেছে, গাজায় আপনাদের এই প্রচেষ্টার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের দানের অর্থ আমরা দরিদ্রদের খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করছি।
ভিডিওতে আরও উল্লেখ করা হয়, আপনাদের এই সাহায্যগুলো এমন এক সময়ে আসছে, যখন গাজা উপত্যকা কঠোর অবরোধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন-সমর্থিত ইহুদিবাদী দখলদার বাহিনী টেলিভিশন ক্যামেরা এবং বিশ্বের চোখের সামনেই গাজার শিশু এবং দুর্বলদের হ/ত্যা করছে। জায়োনিস্টদের আগ্রাসনে এখানে প্রতিদিন মানুষ শহিদ হচ্ছে, দুর্ভিক্ষে শিশুরা মারা যাচ্ছে, কিন্তু তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য উপযুক্ত কোনো পদক্ষেপ বা উদ্ধার প্রচেষ্টা নেই।
এই দৃশ্যেগুলো বর্ণনার সময়, ফিলিস্তিনিরা ওসামা বিন লাদেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিরোধ বাহিনীর নাম উল্লেখ করে মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, আল-কা!য়ে@দা এখনও তাঁর লক্ষ্যে অবিচল এবং ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার জন্য কাজ করছে। ঠিক যেমনি এর প্রতিষ্ঠাতা শাইখ ও*সা/মা বিন লা!দে*ন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জন্য জি/হাদ শুরু করেছিলেন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রুসেডার জোটও আল-কা!য়ে/দার মুখোমুখি হওয়ার লক্ষ্যে একটি ধর্মযু!দ্ধ (ক্রুসেড) শুরু করেছিল।
আবু জাইন আল মাকদিসি তার বক্তব্য শেষ করেন, আল-কা!য়ে/দার প্রতিষ্ঠাতা শাইখ ও*সা/মা বিন লা!দে/ন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর প্রশংসা করে, যিনি প্রায়শই ইসরা/য়েল ও পশ্চিমাদের মুখোশ উন্মোচন করে আসছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সাথে ফিলিস্তিনিদের এই দুর্দশার থেকে রক্ষার জন্য মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব উপস্থাপনের পাশাপাশি আল্লাহর পথে জি/হাদের আহ্বান করে গেছেন।
Repost from Al Firdaws
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যেও গাজার জনগণের জন্য সহায়তা প্রেরণ করে যাচ্ছে আল-কা!য়ে/দা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনীগুলো। বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রতিরোধ বাহিনীটির আরব উপদ্বীপ শাখা, যা ইয়েমেনে আনসা!রুশ শরি/য়াহ্ নামে অধিক পরিচিত।
ফিলিস্তিন ভিত্তিক আহরার বাইত আল-মাকদিস নামক একটি সংস্থা সম্প্রতি কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক ওয়াসিম নাসের তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে নিশ্চিত করেন যে, ভিডিওটি গত ১৮ আগস্ট অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল থেকে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি থেকে এটি স্পষ্ট যে, আল-কা!য়ে/দা আরব উপদ্বীপ শাখা (AQAP) গাজায় জায়োনিস্ট আগ্রা!সনের শিকার অভাবী ফিলিস্তিনিদের কাছে সফলভাবে সাহায্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। আল-কা!য়েদা/র অন্যান্য শাখাগুলিও, যারা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি স্বার্থের পক্ষে কাজ করে আসছে, তারাও গাজায় ইসরা/য়েলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।
Repost from Al Firdaws
পাকিস্তানের খাইবার এজেন্সিতে শত্রু সামরিক কনভয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন মুজাহিদিনরা। এই হামলার ঘটনায় শত্রু বাহিনীর ২ সেনা সদস্য নিহত এবং আরও ১২ সেনা সদস্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি)। গত এপ্রিল মাসে গঠিত নতুন এই দলের মুখপাত্র মাহমুদুল হাসান (হাফিযাহুল্লাহ) এর শেয়ার করা বিজ্ঞপ্তি বলা হয় যে, মুজাহিদিনরা গত ৭ জুন শনিবার রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে অভিযানটি পরিচালনা করছেন। সেনাবাহিনীর কনভয়টি যখন খাইবার এজেন্সির তিরাহ উপত্যকার প্যাক বাংলা এলাকা অতিক্রম করতে শুরু করে তখন মুজাহিদিনরা অতর্কিত আক্রমণটি চালান।
ইত্তেহাদুল মু!জাহি@দিন পাকিস্তান (আইএমপি) এর মু!জাহি#দিনরা অতর্কিত এই অভিযানে অত্যাচারী পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লেজার বন্দুক সহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করেন। ফলশ্রুতিতে মু!জাহি@দদের এই আক্রমণে ঘটনাস্থলেই শত্রু বাহিনীর ২ সেনা সদস্য নিহত এবং আরও ১২ সদস্য গুরুতর আহত হয়। সেই সাথে সামরিক বাহিনীর একটি বড় সরবরাহ ট্রাকও ধ্বংস করা হয়।
Repost from Al Firdaws
আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি: রাখাল রাহার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ | আল ফিরদাউস | Al Firdaws
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হল- সবগুলো হ।মলাতেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় নিবেদিত তরুণরা অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বাস্তবে যারা অপারেশন পরিচালনা করেছেন তারা সফলভাবে হ।মলা করে সরে পড়েছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুশমনদের পক্ষ নেওয়া সেক্যুলার বাহিনি এই তরুণদেরকে শনাক্ত কিংবা গ্রেফত|র করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে, এই ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তারা বিনা প্রমাণে দ্বীনদার সাধারণ কিছু মানুষকে র্যান্ডমলি গ্রেফত|র করে এসব ভুয়া মা;ম"লার আসামী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করেছে। কাউকে কাউকে হয়তো নির্যাতন করে মিথ্যা জবানবন্দী আদায় করেছে। [১৪]
আমাদের সবার জিম্মাদারী হল- শ।তিম হ\ত্যার অভিযোগে যাদেরকে গ্রেফত|র করে রাখা হয়েছে, তাদের সবার মুক্তির দাবীতে আওয়াজ তোলা। যারা শ।তিমদের হ\ত্যা করেছেন এবং যারা হ\ত্যা না করেও এই অভিযোগে গ্রেফত|র হয়েছেন তারা কেউই অপরাধী নন, বরং সবাই আমাদের বীর। তাদের সবার মুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের জন্য কাজ করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।
শেষ কথা
হেফাজতে ইসলাম ও আল-ক|য়ে/দা—দু’টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের সংগঠন হলেও একটিই বন্ধনে আবদ্ধ, সেটি হল নবীপ্রেম ও উম্মাহর রক্ষার আকাঙ্ক্ষা। একদল জান কোরবানি দিয়েছিল মাঠে নেমে, আরেকদল সেই কোরবানির ঋণ শোধ করেছিল প্রতিশোধ নিয়ে। এটাই হল বিশ্বমুসলিম ভ্রাতৃত্বের বাস্তব রূপ, যেখানে মাযহাব, অঞ্চল বা কৌশলের ভিন্নতা থাকলেও ঈমান ও ইজ্জতের প্রশ্নে সবাই একত্রিত হয়ে যায়।
*
এই পুরো আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে বুঝে আসে যে, একি'উবাংলাদেশের ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু আফসোস, আজ তাদের অবদানকে নির্লজ্জভাবে অস্বীকার করে তাদেরকেই হ\ত্যার বৈধতা তৈরি করছে খোদ ইসলামপন্থী কিছু গোষ্ঠী।
(৩)
আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অন্তত ছয়জন ব্লগার ও লেখক নামধারী শ।তিমকে হ\ত্যা করা হয়েছে। তারা আল্লাহ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, উম্মাহাতুল মুমিনিন এবং ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে ক'টূক্তি করেই যাচ্ছিল। এই অপারেশনগুলোর বেশিরভাগ আল ক|য়ে/দা করেছে। অর্থাৎ শ।তিমদের উপযুক্ত বিচার আল ক|য়ে/দা করে দেখিয়েছে এবং মুমিনদের অন্তর প্রশান্ত করেছে।
শ।তিম হ;ত্য|ক|ণ্ডের তালিকা
এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করবো শ।তিমদের কে কখন, কোথায়, এবং কীভাবে আক্র'মণের শিকার হয়েছে—শুধু হ\ত্যার কৌশল ও হ।মলার বিবরণ বিশ্লেষণ করছি।
১. আহমেদ রাজীব হায়দার (থাবা বাবা)
তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
স্থান: মিরপুর, ঢাকার নিজ বাসার কাছাকাছি
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
কয়েকজন সাহসী তরুণ তার পিছু নিয়ে তার বাসার সামনেই অতর্কিতে রাস্তায় চ।পাতি দিয়ে মাথা ও গলার পাশ কু'পিয়ে ফেলে। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত র?ক্তক্ষরণে মৃ'ত্যু হয়।
২. এ কে এম শফিউল ইসলাম
তারিখ: ১৫ নভেম্বর, ২০১৪
স্থান: রাজশাহী শহরের উপকন্ঠে নিজের বাড়ী থেকে অল্প দূরে
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
কয়েকজন সাহসী তরুণ তার পিছু নিয়ে বাড়ী থেকে অল্প দূরে তার মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে চ।পাতি দিয়ে হ।মলা চালায়। মস্তিস্কের আঘ।তজনিত অতিরিক্ত র?ক্তক্ষরণে তার মৃ'ত্যু হয়েছে। [৬]
৩. অভিজিৎ রায়
তারিখ: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
স্থান: টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
বইমেলা থেকে ফেরার পথে তার শ।তিম বউসহ হাঁটছিল। দুঃসাহসী যুবকদের একটি দল পেছন থেকে চ।পাতি দিয়ে বারবার মাথা ও ঘাড়ে আঘ।ত করে। সড়কের মাঝখানে ফেলে রাখেন। দ্রুত মৃ'ত্যু ঘটে অতিরিক্ত র?ক্তক্ষরণে। [৭]
৪. ওয়াশিকুর রহমান বাবু
তারিখ: ৩০ মার্চ, ২০১৫
স্থান: বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তিনজন দুঃসাহসী মুসলিম যুবক চ।পাতি দিয়ে গলায় ও ঘাড়ে ধ।রালো কুপ ম।রেন। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতকরা পেছন থেকে আবারও আঘ।ত করে নিশ্চিত করে যে সে বেঁচে নেই। [৮]
৫. অনন্ত বিজয় দাশ
তারিখ: ১২ মে, ২০১৫
স্থান: সিলেট শহরের সুবিদবাজার এলাকা
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
সকালে ব্যাংকে যাওয়ার সময় চারজন সাহসী বীর তার পথরোধ করে। চ।পাতি দিয়ে সামনের মাথায় ও গলায় ধ।রালো আঘ।ত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ও একাধিকবার শরীরে আঘ।ত করে যাচ্ছিল। [৯]
৬. নীলয় নীল
তারিখ: ৭ আগস্ট, ২০১৫
স্থান: গোড়ান, ঢাকার নিজ বাসা
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
নিজের বাসায় একা থাকার সুযোগে ঘাতকরা "ভাড়াটিয়া" পরিচয়ে ভেতরে ঢুকে। এরপর রুমে নিয়ে গিয়ে প্রথমে চোখ বেঁধে ফেলে, তারপর ঘরে চ।পাতি দিয়ে গলা, মাথা ও বুক কে'টে ফেলে। বাসার ভেতরেই মৃ'ত্যু ঘটে। [১০]
৭. দীপন (ফয়সাল আরেফিন দীপন)
তারিখ: ৩১ অক্টোবর, ২০১৫
স্থান: শাহবাগ, আজিজ সুপার মার্কেট
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
দুপুরে নিজের প্রকাশনা অফিসে বসে থাকার সময়, চারজন দুঃসাহসী যুবক ঘরে ঢুকে প্রথমে পেছন থেকে চেয়ারে বসা অবস্থায় চ।পাতি দিয়ে আঘ।ত করে। তার পর বারবার ঘাড়ে ও পিঠে কু'পিয়ে হ\ত্যা করে। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে হ;ত্য|ক|ণ্ড চালানো হয়। [১১]
৮. নাজিমুদ্দিন সামাদ
তারিখ: ৬ শে এপ্রিল, ২০১৬
স্থান: রাজধানী ঢাকার পুরোনো অংশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাঁটাপথ সূত্রাপুরের হৃষিকেশ দাস রোডে
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
চার-পাঁচজন দুঃসাহসী যুবক রাস্তাতেই চ।পাতি দিয়ে কু'পিয়ে হ\ত্যা করেন। [১২]
৯ ও ১০. জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়
তারিখ: ২৫শে এপ্রিল, ২০১৬
স্থান: ঢাকার কলাবাগান এলাকায় লেক সার্কাস রোডে জুলহাজ মান্নানের বাসায়
কীভাবে হ\ত্যা করা হয়:
বেশ কয়েকজন দুঃসাহসী যুবক বাসায় ঢুকে তাকে এবং তার সমক।মী বন্ধু মাহবুব তনয়কে কু'পিয়ে হ\ত্যা করেন। [১৩]
হ।মলার শিকার কিন্তু বেঁচে গেছে:
১. রাফিদা আহমেদ বন্যা
কীভাবে আহত করা হয়:
এই শ।তিম নারী তার স্বামী অভিজিৎ রায়ের সঙ্গে হ।মলার শিকার হয়। মাথা ও কাঁধে চ।পাতির কো'প খায়। একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
২. আহমেদুর রশীদ টুটুল, তারেক রহিম, রণদীপম বসু
কীভাবে আহত করা হয়:
শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর অফিসে ঢুকে কয়েকজন দুঃসাহসী যুবক এই তিনজনকে চ।পাতি ও গুলি দিয়ে কু'পিয়ে র?ক্তাক্ত করে। র?ক্তে ভেসে যায় ঘর।
৩. আসিফ মহিউদ্দিন
কীভাবে আহত করা হয়:
অফিস থেকে ফেরার সময় তিনজন দুঃসাহসী যুবক পেছন থেকে ছুরি দিয়ে ঘাড় ও পিঠে আঘ।ত করে। রাস্তায় পড়ে থাকলে পথচারীরা উদ্ধার করে।
৪. সানিউর রহমান
কীভাবে আহত করা হয়:
বাসার কাছেই পেছন থেকে হ।মলাকারী দুঃসাহসীরা মাথা ও হাতে ধ।রালো অ/স্ত্র দিয়ে একের পর এক কো'প দেয়।
