ইসলামি বই
رفتن به کانال در Telegram
1 791
مشترکین
-124 ساعت
+37 روز
+1930 روز
آرشیو پست ها
1 791
বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবনের সংজ্ঞাও পাল্টে যায়। একটা সময় মনে হতো, ধনী হওয়া মানে হয়তো অনেক বেশি অর্থ, ক্ষমতা কিংবা বিশাল সব অর্জন।
.
কিন্তু জীবন যখন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়, তখন বোঝা যায়—প্রকৃতপক্ষে ধনী হওয়া আসলে 'বেশি পাওয়ার' নাম নয়, বরং যা আছে তাকে 'বেশি করে অনুভব' করার নাম।
.
আমাদের চারপাশে থাকা মানুষগুলোর ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া, জীবনের অতি সাধারণ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়া, আর যে মুহূর্তগুলো আমরা একসময় তাড়াহুড়ো করে পার করে দিতাম, সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া—এটাই সেই ঐশ্বর্য যা কখনো ফুরিয়ে যায় না।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ এই সত্যটি কত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন: "প্রচুর ধন-সম্পদ থাকলেই ধনী হওয়া যায় না, বরং অন্তরের সচ্ছলতাই হলো প্রকৃত ধনাঢ্যতা।" (সহীহ বুখারী: ৬৪৪৬, সহীহ মুসলিম: ১০৫১)
.
আমরা যখন কেবল 'নাই' এর পেছনে ছুটি, তখন আমাদের কাছে যা আছে তার শোকর আদায় করার সুযোগ হারিয়ে ফেলি। অথচ আল্লাহর ঘোষণা হলো: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব।" (সূরা ইব্রাহিম: ৭)
.
এজন্য প্রয়োজন হচ্ছে-
.
● মনোযোগ দিন: ব্যস্ততার ভিড়ে হারানো ছোট ছোট সুখগুলোকে লক্ষ্য করুন। প্রিয়জনের হাসি, এক কাপ চা কিংবা শান্ত এক বিকেল—এগুলোই জীবনের আসল উপহার।
.
● শোকর করার অভ্যাস: প্রতিদিন অন্তত তিনটি জিনিসের নাম মনে মনে বলুন যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। দেখবেন, অভাবের চেয়ে প্রাপ্তির ঝুলিই বড় মনে হবে এবং আপনি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করবেন।
.
● তুষ্টির মন্ত্র: যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা শিখলে পৃথিবীর কোনো না-পাওয়া আপনাকে বিচলিত করতে পারবে না।
.
জীবনটা ছোট, কিন্তু এর প্রতিটি মুহূর্ত যদি আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে লক্ষ্য করি, তবে তা হয়ে ওঠে অসীম শান্তিময়। প্রকৃত সম্পদ তো আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে, কেবল দেখার মতো চোখ আর অনুভব করার মতো হৃদয় প্রয়োজন।
1 791
টক্সিক মানুষদের সাথে চলবেন যেভাবে
.
সমাজে চলতে ফিরতে আমাদের এমন কিছু মানুষের মুখোমুখি হতে হয়, যারা সহজ নন। তাদের আচরণে আমরা প্রায়ই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হই। এই 'টক্সিক' বা জটিল মানুষদের সামলাতে নিচের কৌশলগুলো আপনার ঢাল হিসেবে কাজ করবে:
.
১. ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না: টক্সিক আচরণগুলো আসলে এক একটি প্যাটার্ন। এটা তাদের নিজস্ব সমস্যা, আপনার নয়। এই উপলব্ধিটুকু আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে দেবে।
.
২. বোঝার চেয়ে কৌশল জরুরি: টক্সিক কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাকে গভীরভাবে বোঝার বা তার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। সহানুভূতি দেখানোর চেয়ে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কৌশলটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
.
৩. প্রতিক্রিয়া দেখানো বন্ধ করুন: অনেকে আপনার রাগ বা জবাব থেকেই শক্তি পায়। নেতিবাচক পতিক্রিয়া দেখানো বন্ধ করা মানেই হলো তাদের সেই শক্তি কেড়ে নেওয়া।
.
৪. শান্ত থাকাটাই বিজয়ের লক্ষণ: উত্তেজিত না হওয়া মানে দুর্বলতা নয়, বরং এটা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার কৌশল। যে শান্ত থাকে, বিজয় তারই সন্নিকটে।
.
৫. ব্যাখ্যার বদলে স্পষ্ট কথা বলুন: নিজের লিমিটেশন বোঝাতে দীর্ঘ বক্তৃতার প্রয়োজন নেই। স্পষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত কথা বলুন।
.
৬. দূরত্ব বজায় রাখা বুদ্ধিমতী কাজ: সব সম্পর্ক মেরামতের যোগ্য নয়। বরং নিজের শান্তির জন্য কিছু মানুষ থেকে দূরে থাকাই বরং আত্মসম্মানের পরিচয়।
.
দুনিয়াতে সবার মাঝেই কম বেশি টক্সিসিটি থাকে। কারও বেশি মাত্রায়, চোখে পড়ার মতো, কারওটা সহনশীল, পরিবর্তনযোগ্য।
.
মোটকথা টক্সিক মানুষদের পৃথিবী থেকে সরানো অসম্ভব, তবে তাদেরকে আপনার মাথার ভেতর 'বিনা ভাড়ায়' বাস করতে দিবেন, নাকি তাড়াবেন, সিদ্ধান্ত আপনার।
1 791
বাসর রাতে যারা স্ত্রীর কথা ভুলে গিয়েছিলেন
.
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, যাঁদের কাছে মহান আল্লাহর মহব্বত এবং ইলমের স্বাদ ছিল দুনিয়ার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। বাসর রাতের মতো আমোদ-প্রমোদের মুহূর্তেও তাঁরা ডুবে ছিলেন রবের ইবাদতে কিংবা ইলমি গবেষণায়। সালাফদের জীবনীতে পাওয়া যায় এমনই কিছু ব্যক্তির ঘটনা নিচে দেওয়া হলো-
.
১. ইমাম শাফিঈ (রহ.) [১৫০-২০৪ হিজরি]
বিয়ের রাতে একটি জটিল ইলমি মাসআলা সমাধানের চিন্তায় নিমগ্ন হয়ে রাত কাটিয়ে দেন, স্ত্রীর কথা তাঁর মনেই ছিল না। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
.
২. ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.) [১১৮-১৮১ হিজরি]
কথিত আছে, বাসর রাতে কিতাব হাতে নিয়ে পড়তে পড়তে কখন ফজর হয়ে গিয়েছিল তিনি টেরই পাননি, স্ত্রীর সান্নিধ্যের কথা বেমালুম ভুলে যান। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
.
৩. হাম্মাদ বিন আবি হানিফা (রহ.) [মৃত্যু ১৭৬ হিজরি]
ইমাম আবু হানিফার এই পুত্র বাসর রাতে ইলমি বাহাস ও গবেষণায় জড়িয়ে পড়ে স্ত্রীর কথা ভুলে গিয়েছিলেন। (মানাকিবুল ইমাম আল-আযম)
.
৪. খলীফা আল-মনসুর [৯৫-১৫৮ হিজরি]
বাসর রাতেই রাষ্ট্রের একটি জটিল সমস্যার সমাধানে এমন মগ্ন হয়েছিলেন যে স্ত্রীর উপস্থিতির কথা ভুলে যান। (তারিখুল খুলাফা)
.
৫. শায়েখ আবু উসমান আল-হীরী [মৃত্যু ২৯৮ হিজরি]
বিয়ের রাতে ইবাদতে মশগুল হয়ে তিনি এতটাই আধ্যাত্মিক জগতে হারিয়ে গিয়েছিলেন যে স্ত্রীর অস্তিত্ব অনুভব করেননি। (হিলইয়াতুল আউলিয়া)
.
৬. আবু আবদুল্লাহ আল-বাযী [মৃত্যু ৪৩৯ হিজরি]
বাসর রাতে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ধ্যানে এমন বিভোর হন যে ভোর হয়ে যায়, অথচ স্ত্রীর সাথে কথা বলতে ভুলে যান। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
.
৭. ইমাম গাযালী (রহ.) [৪৫০-৫০৫ হিজরি]
বর্ণিত আছে, তিনি ইলমের খেদমতে ব্যস্ত থাকায় বিয়ের প্রথম রাতটি তাঁর কাছে সাধারণ গবেষণার রাতের মতোই কেটে গিয়েছিল। (ইহয়াউ উলুমিদ্দীন)
.
৮. মুহাম্মদ বিন আবি বকর (ইবনুল কাইয়্যিম) [৬৯১-৭৫১ হিজরি]
বর্ণিত আছে, তিনি ইলমের প্রতি প্রবল ভালোবাসা তাঁকে বাসর রাতেও কিতাব থেকে দূরে রাখতে পারেনি, ফলে স্ত্রীর কথা তিনি ভুলে যান। (তাজকিরাতুল হুফফায)
.
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে, ইসলামে স্ত্রীর হক আদায় করা এবং তাঁর সাথে উত্তম আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। উপরোক্ত ঘটনাগুলো আমাদের শেখায় যে, মহান আল্লাহর বন্দেগীর স্বাদ এবং ইলমে দ্বীনের তৃষ্ণা তাঁদের কাছে কতটা গভীর ছিল। তবে এটি কোনো সাধারণ নিয়ম নয়, বরং তাঁদের প্রবল আল্লাহভীতি ও জ্ঞানতৃষ্ণার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
.
এই মনীষীরা কেবল সংসার বিবাগী ছিলেন না, বরং তাঁরা প্রত্যেকেই পরবর্তীতে তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে ছিলেন শ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁদের এই গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দুনিয়ার সব আনন্দের চেয়েও রবের নৈকট্যের স্বাদ অনেক বেশি মধুর। মানুষ যখন সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে চেনে, দ্বীনকে যখন মনে প্রাণে ধারণ করে, তখন হারামের দিকে দৃষ্টি দেওয়া তো দূরে থাক, হালালের সৌন্দর্যও তাদের দৃষ্টিভ্রম ঘটাতে পারে না। তারা থাকে তাদের লক্ষ্যে অটুট। আর সেই লক্ষ্য হলো, জান্নাত।
1 791
চাকরী কিংবা নিজের ব্যবসা, সংসারের হাল ধরা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা—মোট কথা পুরুষের জাগতিক দায়িত্ব যত বাড়ে, জাগতিক চিন্তাও তত বাড়ে।
.
এমন ব্যস্ত মানুষরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাহিরে পরকালের জন্য খুব বেশি একটা সময় বের করতে পারে না। ছাত্রজীবনের দ্বীনি জজবা তারা কর্মজীবনে এসে একসময় ফিকে হয়ে যায়।
.
আগের মতো দ্বীনি সার্কেলের সাথে উঠাবসার সময় মেলে না। মসজিদের তাফসীর কিংবা আলেমদের সাধারণ দরস তাদরীসে উপস্থিত হতে দেখাও যায় না। দ্রুত কর্মস্থলে বা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার তাগাদা থাকে সবসময়।
.
এক্ষেত্রে দ্বীনকে তাজা রাখতে শেষ সম্বল একটাই— দ্বীনি বই পড়া। এক পাতা হলেও পড়া। এমন বই যা সরাসরি অন্তরকে নরম করে। হোক যত পুরাতনই। বরং সালাফদের বই হলে বেশি ভালো। সালাফদের লেখার বরকতই আলাদা।
.
বিশ্বাস করুন, এ ধরণের বই পড়ার অভ্যাস যতদিন ধরে রাখতে পারেন, ততদিন আপনার দ্বীনদারি টিকে থাকবে। নামাজে খুশু থাকবে। দুয়ায় চোখে পানি আসবে। হারাম থেকে বেচে থাকার শক্তি মিলবে।
.
আর যেদিন থেকে এটাও ছেড়ে দেবেন, আমলও গঁদবাধা হয়ে পড়বে। প্রাণশূন্য হয়ে পড়বে। হালাল হারামের পার্থক্যও তখন কমে আসবে। সবশেষে জাগতিক পেরেশানি আপনাকে কুড়ে কুড়ে খাবে।
1 791
এজন্য প্রমাণ থাকা আবশ্যক। প্রমাণ যদি শরীয়ত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট হদ আবশ্যক করার পর্যায়ে হয় তাহলে সেটাই হবে আর যদি সেই পর্যায়ে না যায় তাহলে অপরাধীর সামগ্রিক অবস্থার ভিত্তিতে আবশ্যকীয়ভাবে যেকোনো তা'যীর আসবেই। শাস্তি হবেই, হদ অথবা তা'যীর। আগেও উল্লেখ করেছি, তা'যীর হত্যাসহ যেকোনো বৈধ শাস্তি হতে পারে। শিশু ধর্ষণ আর যুবতী ধর্ষণের ক্ষেত্রে শিশুরটা বেশি মারাত্বক হবে। এরকম আরও অনেক শাখা মাসআলা আসতে পারে।
এগুলো হলো যদি গোপনে ধর্ষণ করে। সাথে অন্য ধরনের কোনো অন্যায় না করে। আর যদি প্রকাশ্য দিবালোকে এমনটা করে অথবা অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে, ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে ধর্ষণ করে, কিংবা ট্রেন বা বাসে গণধর্ষণ করে তাহলে সেটা অনেক বড় অপরাধ। এটা ইফসাদ ফিল আরদ্ব (যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি এমনকি হিরাবার (ডাকাতির) শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে। যার শাস্তি আরও অনেক বেশি ভয়াভহ হবে। যেমন, শুলে চড়ানো, হাতপা বিপরীতভাবে কেটে ফেলা ইত্যাদি।
আরেকটি কথা হলো, সেকুরা এসব জিজ্ঞাসা করছে কেন? তারা কি বাস্তবায়ন করবে? তাদের মতে শরীয়া আইন তো অচল, আযোগ্য! তাদের দরকার জাতিসঙ্গের জঘন্য, ফালতু আর ধ্বজভঙ্গ মার্কা আইন, যেখানে সব শাস্তি হতে পারে। কিন্তু অপরাধীকে হত্যা করা যাবে না!!!
1 791
ধর্ষণের শাস্তির জন্য কি চারজন সাক্ষী শর্ত?
শুনলাম, সেক্যুলারদের অনেকেই নাকি এমন অবান্তর দাবী করেছে! আপাতত এই পোস্টে বিস্তারিত আলাপে না গিয়ে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক। তবে এর পূর্বে একটা ভূমিকা বলে নিই।
১। বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট হওয়ার দৃষ্টিকোণ ইসলামী শরীয়তে দন্ডবিধি চার প্রকার। (বাধ্যতামূলকভাবে এজন্যই বললাম। কারণ, তা'যীরেরও অনেক বিধান নির্ধারিত। যেমন, ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। কিন্তু যার ক্ষতি করা হয়েছে সে মাফ করে দিলে আর রাষ্ট্রপক্ষ রাষ্ট্রের জন্য কোনো জরিমানা নির্ধারণ করতে পারে না। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির হক। অবশ্য সমাজ নষ্টের মত কোনো অপরাধ হলে, -যেমন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি- অন্য কোনো শাস্তি দিতে পারে। সেটা ভিন্ন ব্যাপার।)
ক) হুদুদ। শরীয়তের পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত শাস্তি; যেখানে শর্ত এবং কারণ পাওয়া গেলে ঠিক সেই শাস্তিই দিতে হবে। সেটা ক্ষমাও করা যাবে না বা এর পরিবর্তে অন্য শাস্তিও দেওয়া যাবে না। যেমন ব্যভিচার, চুরি, মদ্যপান ইত্যাদি। এগুলো সাব্যস্ত হলে ক্ষমা করারও সুযোগ নেই এবং অন্য শাস্তি দেওয়ারও সুযোগ নেই। সেটা একজন আলেম করুক আর জালিম করুক। স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধানও ক্ষমা করতে পারবে না।
খ) শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট কিন্তু সুনির্দিষ্ট একটা নয় বরং কয়েকটা। আর তা হলো কিসাস ও দিয়ত। কেউ যদি কাউকে হত্যা করে বা কারও হাত পা বা অন্য কোনো অঙ্গ কেটে ফেলে তাহলে হত্যার বিপরীতে হত্যা এবং অঙ্গের বিনিময়ে অঙ্গ। কিন্তু এখানে শুধুমাত্র একটাই নির্ধারিত নয়। বরং অভিভাবকরা চাইলে মাফ করে দিতে পারে অথবা রক্তপন গ্রহণ করতে পারে। এখানেও ব্যক্তিভেদে কোনো পার্থক্য নেই। রাষ্ট্রপক্ষের ক্ষমা করার কোনো অধিকার নেই যদি অভিভাবক ক্ষমা না করে।
গ) যেটা এক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট, আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে অনির্দিষ্ট। যেমন, রিদ্দা বা মুরতাদ হয়ে যাওয়া। তওবা না করলে হত্যাই সুনির্দিষ্ট বিধান। আর যদি তওবা করে তাহলে ব্যক্তি, অবস্থা, পারিপার্শ্বিকতা ইত্যাদির আলোকে কাজী অন্য কোনো শাস্তি (তা'যীর) দিতেও পারেন আবার নাও দিতে পারেন।
তবে এখানে হানাফী ফিকহ অনুযায়ী নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাসআলা। নারীদেরকে হত্যা করা হবে না। বরং, ইসলাম গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত আটকে রাখা হবে। তবে যদি এমন নারী হয় যার কারণে আরো অনেক মানুষ মুরতাদ হয়ে যাবে বা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে অথবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেওয়ার কারণে মুরতাদ হয় তাহলে এমন মুরতাদ নারীকেও আবশ্যকীয়ভাবে হত্যা করা হবে।
ঘ) যেটা শরীয়ত কর্তৃক অনির্দিষ্ট। যেখানে শরীয়তের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। এমন ক্ষেত্রে ব্যক্তি, অবস্থা, অপরাধের ধরন ও কার্যকারণ ইত্যাদি বিভিন্ন দিক লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন রকমের শাস্তির অবকাশ রয়েছে। পরিভাষায় এটাকে বলা হয় তা'যীর। যে সকল অপরাধের ক্ষেত্রে হদ আছে সেখানে কোনো সংশয়ের কারণে হদ সাব্যস্ত না হলে অর্থাৎ সরাসরি সাক্ষী না থাকলেও যদি অন্যান্য কার্যকারণ ও কিছু আলামত পাওয়া যায় যেগুলো শরীয়তের সাক্ষীর পর্যায়ে নয় তাহলে সেসব ক্ষেত্রেও আবশ্যকীয়ভাবে তা'যীর আসবে। আবার যে সকল হদ প্রয়োগের পরে ব্যক্তি বেঁচে থাকে সেসব ক্ষেত্রে যদি আরও কোনো অপরাধ বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা থাকে তাহলে সে সকল ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত তা'যীর আসতে পারে।
তবে শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত নেই বলে ইচ্ছামত যেকোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রেও ফুকাহায়ে কিরাম অনেক মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। সেই মূলনীতিগুলোর ভিতরেই থাকা আবশ্যক।
এবার আসি ধর্ষণের ব্যাপারে। এখানে একটা আছে হদ আর আরেকটা আছে তা'যীর। হদ প্রয়োগের জন্য হয়তো চারজন সাক্ষী লাগবে অথবা ধর্ষকের স্বীকারোক্তি লাগবে। আর হদ হলো যিনা বা ব্যভিচারের যেই হদ সেটাই অর্থাৎ, অবিবাহিত হলে একশোটা বেত্রাঘাত আর বিবাহিত হলে পাথর মেরে হত্যা।
কিন্তু, যদি চারজন সাক্ষ্য না পাওয়া যায় অথবা ধর্ষণের অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার না করে তাহলে কি কোনো শাস্তিই হবে না?
উত্তর হলো অবশ্যই শাস্তি আসবে। আর সেটা হলো তা'যীর। চারজন সাক্ষী অথবা স্বীকারোক্তি ছাড়া যদি অন্য কোনো শক্তিশালী প্রমাণ, আলামত ও নিদর্শন পাওয়া গেলে ধর্ষকের অবস্থা, বয়স, অপরাধের মাত্রা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে হত্যাসহ যেকোনো শাস্তি হতে পারে, মানে হবেই। এমনকি এটা অবিবাহিত ধর্ষকের ক্ষেত্রে হদের শর্ত পাওয়ার পরেও হদের অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে হতে পারে।
মূলত, অপরাধ প্রমাণ হওয়া জরুরী। প্রমাণের অবস্থার ভিত্তিতে শাস্তি নির্ণীত হবে। প্রমাণ ছাড়া যদি শাস্তি আবশ্যক হতো তাহলে তো যেকারো নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া যেতে পারে যেমন বর্তমানে অহরহ হচ্ছে। এমন অনেক বা অধিকাংশ ধর্ষণের কেস আছে যা মিথ্যা। রাজনৈতিক বা ভিন্ন কারণে প্রভাব খাটিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
1 791
ওয়ায়েল ইবনে হুজর রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. এর সময়ে একবার এক নারী নামাজের জন্য বের হলে এক ব্যক্তি তার উপর আক্রমণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে শুরু করে। মহিলা চিতকার করলে সে তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। একই সময় অন্য একজন লোক সেখানে এলে ভুলবশত মহিলা তাকেই ধর্ষক মনে করেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। লোকেরা সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূলের সামনে উপস্থিত করার পর রাসূলুল্লাহ সা. তার বিরুদ্ধে যখন শাস্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছিলেন তখন এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। যে লোক সত্যিই ধর্ষণ করেছিলো সে দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলল্লাহ, কাজটা উনি করেননি, আমি করেছি।
তখন মহিলাকে রাসুলূল্লাহ সা. বলেন, তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে (নিরপরাধীকে উপর শাস্তি দেওয়া থেকে) বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি সেই ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন। সাথে তিনি এও বলেন যে, সে এমন আন্তরিক তাওবা করেছে যে মদিনাবাসী যদি এমনটা করত তাহলে তাদের সকলকে মাফ করে দেওয়া হত। (সুনান আবু দাউদ, ৪৩৭৯)
এখানে লক্ষণীয় যে, এখানে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণের জন্য পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, মহিলার চিতকার এবং তার অভিযোগকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আবার যখন সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তখন সেটাকেও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
....
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা আমরা প্রায়ই শুনি। এধরণের ঘটনায় নারী বস্তুত স্বেচ্ছায় প্রেমিকের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়।এরপর যখন তাদের কোনো কারণে সম্পর্ক আর বিয়ের দিকে না যায় তখন পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ইসলামি শরিয়া অপরাধ দমনের প্রতি যেমন গুরুত্ব আরোপ করে, তেমনি নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায়, কিংবা কেউ যেন নিজের অপরাধের দায় অন্যের ঘাড়ে না চাপাতে পারে ইত্যকার বিষয়েও সতর্ক রাখে। একারণে ধর্ষণের মতো বড় অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রাইমারিলি ব্যভিচারের মতো চাক্ষুষ সাক্ষী থাকলে সেটাকেই প্রাধান্য দেয়। তবে ইতিপূর্বে যেমনটা বলেছি, ধর্ষণ ক্যাটাগরিক্যালি ব্যভিচার থেকে আলাদা অপরাধ হওয়ায় দুটোর প্রমাণ প্রক্রিয়া একই পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রমাণ প্রক্রিয়ায় গৃহীত উপাদান আরও ব্যপক পরিসরে বিস্তৃত।
ইসলামের ক্লাসিক্যাল ফিকহে “قرائن” (পরিস্থিতিগত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ) একটি স্বীকৃত ধারণা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ
“فَإِنَّ دَلَائِلَ الْأَحْوَالِ وَالْقَرَائِنَ قَدْ تَكُونُ أَقْوَى مِنْ دَلَالَةِ اللَّفْظِ”
“পরিস্থিতিগত আলামত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ কখনো কখনো মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে।” (আত তুরুক আল হুকুমিয়্যাহ)
আধুনিক যুগের বহু আলেমও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সিরিয়ান আইনবিদ ওয়াহহাব আল জুহাইলি তাঁর আল ফিক্বহ আল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহ গ্রন্থে ধর্ষণকে “ইকরাহ” ও “হিরাবাহ”-জাতীয় অপরাধের সাথে আলোচনা করেন এবং বলেনঃ
“تُثْبَتُ جَرِيمَةُ الِاغْتِصَابِ بِكَافَّةِ وَسَائِلِ الْإِثْبَاتِ الْحَدِيثَةِ”(7/5290)
“ধর্ষণের অপরাধ আধুনিক সব ধরনের প্রমাণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।”
পাকিস্তানের প্রখ্যাত মুফতি তাকি উসমানি লিখেছেনঃ
“The requirement of four witnesses is for zina liable to hadd, not for rape.”
— The Hudood Ordinance, p. 204
বাস্তবতা হলো, ইসলামী শরীয়তের এসব সমালোচকরা এ জীবনব্যবস্থার মৌলিক শ্রেণিবিন্যাসই বোঝে না। “চার সাক্ষী”র বিধানকে প্রসঙ্গহীনভাবে ব্যবহার করে তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চায় যেন ইসলাম ধর্ষকদের রক্ষা করে। অথচ ইতিহাসে ইসলামী সভ্যতা ধর্ষণকে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে দেখেছে, এবং এই অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা অন্য কোনো ব্যবস্থা করেনি।
সমস্যা শরীয়তে নয়; সমস্যা হলো শরীয়ত সম্পর্কে এদের অজ্ঞতা, আধা-পড়া তথ্য, অন্তরের বক্রতা, পশ্চিমের গোলামি, আত্মপরিচয় সংকট এবং হীনমন্যতার মধ্যে।
আল্লাহ এদেরকেও হেফাজত করুন এবং এদের হাত থেকে জাতিকেও হেফাজত করুন।
1 791
ধর্ষণ প্রমাণে কি শরিয়া আইনে চারজন চাক্ষুষ সাক্ষী লাগে?
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার প্রেক্ষাপটে যখন সমাজে নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শরিয়া আইনের প্রয়োজনীয়তার আলোচনা তুঙ্গে তখন এক শ্রেণির মানুষ বলছে যে, “ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব, কারণ ধর্ষণ প্রমাণ করতে চারজন সাক্ষী লাগে, আর অপরাধী কখনো চারজন সাক্ষী রেখে ধর্ষণ করে না।”
বাস্তবতা হলো শরিয়াবিদ্বেষীদের এই বক্তব্যটি শুধু মিথ্যাই নয়; বরং ইসলামী ফিকহ সম্পর্কে গভীর অজ্ঞতা, বিকৃতি এবং অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার। এর মূল উৎস হলো শরিয়া আইনের প্রতি তাদের অন্তরে থাকা সুপ্ত বিদ্বেষ।
কারণ ইসলামে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর শর্তটি “ধর্ষণ”-এর জন্য নয়, বরং স্বেচ্ছায় পারস্পরিক সম্মতিতে সংঘটিত ব্যভিচার (زنا) প্রমাণের জন্য প্রযোজ্য।
ধর্ষণ (اغتصاب / إكراه على الزنا) ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধ, যার প্রকৃতি, প্রমাণপদ্ধতি ও বিচারিক অবস্থান আলাদা।
ইসলামী ফিকহের শত শত বছরের আলোচনায় ধর্ষণকে কখনোই পারস্পরিক সম্মতিতে কৃত সাধারণ “যিনা” হিসেবে দেখা হয়নি; বরং ইসলামী আইনবিদরা ধর্ষণকে আনুষঙ্গিক অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন স্তরে বিন্যাস করেছেন। যথা:
ক) জোরপূর্বক যৌন সহিংসতা,
খ) শারীরিক অত্যাচার,
গ) নারীর সম্মানহানি,
ঘ) আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে লড়াই,
ঙ) ডাকাতি/সন্ত্রাস (حرابة)-এর পর্যায়ভুক্ত অপরাধ হিসেবে এবং
চ) সমাজের শান্তি নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে।
অপরাধের মাত্রা ভেদে এর শাস্তি হতে পারে
ক) সাধারণ মৃত্যুদণ্ড,
খ) শুলে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড,
গ) কিংবা উলটো দিক থেকে হাত পা কেটে দেওয়া। এবং তা কেবল জিনার শাস্তি হিসেবে নয়, বরং আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে লড়াই ও জমিনে ফাসাদ সৃষ্টির শাস্তি হিসেবে, যা বর্ণিত হয়েছে সূরা মায়েদার ৩৩ নং আয়াতে।
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ ذَٰلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ (33)
একইভাবে ধর্ষণকে প্রকৃতিগতভাবে জিনার থেকে ভিন্ন ধরনের অপরাধ সাব্যস্ত করার কারণে এর প্রমাণের ক্ষেত্রেও ফকীহরা বহু ধরনের আলামত, সাক্ষ্য ও পরিস্থিতিগত প্রমাণ গ্রহণ করেছেন।
হানাফি মাযহাবের বড় ইমামরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীর চিৎকার, শারীরিক আঘাতের চিহ্ন, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, চিকিৎসাগত প্রমাণ, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি—এসবই প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
মনে রাখা চাই, যিনা এমন অপরাধ যেখানে কখনো এক পক্ষের উপর শাস্তি আসে না, নারীপুরুষ উভয়ের উপর আসে। পক্ষান্তরে ধর্ষণে শাস্তি আসে শুধু ধর্ষকের উপর।
ইমাম সারাখসি তাঁর আল-মাবসুত গ্রন্থে বলেনঃ
“وَالْمُسْتَكْرَهَةُ عَلَى الزِّنَا لَا حَدَّ عَلَيْهَا، وَالْحَدُّ عَلَى الرَّجُلِ إِذَا ثَبَتَ الْإِكْرَاهُ”
“যে নারীকে যিনায় বাধ্য করা হয়েছে, তার ওপর কোনো হদ নেই; বরং শাস্তি কেবল পুরুষের ওপরই হবে যখন জোরপূর্বকতা প্রমাণিত হবে।”
— Al-Mabsut, 9/59
আর ইমাম কাসসানি বদায়েউস সানায়ে গ্রন্থে বলেনঃ
“لِأَنَّ الْمُسْتَكْرَهَةَ مَظْلُومَةٌ فَلَا يَلْحَقُهَا الْإِثْمُ”
“কারণ জোরপূর্বকতার শিকার নারী মজলুম; তাই তার ওপর কোনো গুনাহ বর্তায় না।”
— Bada'i al-Sana'i, 7/34
মালিকি মাযহাব এ বিষয়ে আরও কঠোর। মালিকি ফিকহে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে গর্ভধারণ, আর্তচিৎকার, সাহায্যপ্রার্থনা, ক্ষতচিহ্ন, সামাজিক পরিস্থিতি—এসবকেও শক্তিশালী প্রমাণ ধরা হয়েছে।
একইসাথে ধর্ষকের শারিরিক শাস্তির পাশাপাশি ধর্ষিতা নারীর জন্য ধর্ষকের কাছ থেকে আর্থিক জরিমানা আদায়েরও বিধান দিয়েছেন।
ইমাম মালিক ইবনে আনাসের আল-মুয়াত্তা-তে এসেছে:
“الأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ يَغْتَصِبُ الْمَرْأَةَ نَفْسَهَا أَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّدَاقُ”
“আমাদের নিকট বিধান হলো—যে ব্যক্তি কোনো নারীর ওপর জোরপূর্বক আক্রমণ করে, তার ওপর মোহরানা আরোপ হবে।”
— আল মুয়াত্তা, কিতাবুল হুদুদ
আর আল-মুদাওয়ানাহ গ্রন্থে এসেছে:
“إِذَا صَرَخَتِ الْمَرْأَةُ وَاسْتَغَاثَتْ فَذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى صِدْقِهَا”
“যদি নারী চিৎকার করে সাহায্য চায়, তবে তা তার সত্যতার পক্ষে প্রমাণ।” 4/435
শাফিঈ মাযহাবও ধর্ষণকে স্বেচ্ছাচারী যিনা হিসেবে বিবেচনা করে না। সেখানে জোরপূর্বকতার প্রমাণ, পরিস্থিতিগত সাক্ষ্য ও বিচারকের ইজতিহাদের সুযোগ রয়েছে।
....
রাসূলুল্লাহ সা. এর জামানায় তিনি নিজে একটা ধর্ষণের শাস্তি কার্যকর করেছিলেন। সে ঘটনায় দোয়াতের মধ্যে কলমের মতো করে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী তিনি হাজির করতে বলেননি।
1 791
কেউ কেউ বলে-
কুকুর নিধন নয়, কুকুরকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিন অথবা বন্ধা করুন।
আবার কেউ বলে- কুকুর অপসারণ করুন।
কুকুর নিধন অমানবিক।
এই কথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ?
প্রথমত, কুকুর নিধন না করে যদি কুকুরকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেই,
তবে ভ্যাকসিন দিলেই যে কুকুরের জলাতঙ্ক বন্ধ হবে তার গ্যারান্টি কী ?
কয়েকদিন আগে মানুষের উপর ভ্যাকসিন কাজ না করায় ৫ জন মারা যায়।
তেমনি কুকুরের উপরও তো ভ্যাকসিন কাজ না করতে পারে,
সেই রিক্স নিবে কে ?
দ্বিতীয়ত, কুকুরের ভ্যাক্সিনের খরচ বহন করবে কে ?
বাংলাদেশে কোটি কোটি কুকুর আছে।
একটি কুকুরকে ভ্যাক্সিন দেয়ার খরচ কয়েক হাজার টাকা।
তাহলে কোটি কোাটি কুকুরকে ভ্যাক্সিন বাবদ বাজেট কয়েক হাজার কোটি টাকা।
সরকার যদি বাজেট থেকে সেই টাকা বরাদ্দও করে,
তবে সেই টাকা তো আসবে জনগণের ট্যাক্স/ভ্যাটের টাকা থেকে।
আর সেই টাকা যোগান দিতে জনগণের জীবন-যাত্রার খরচ বেড়ে যাবে।
কুকুরের প্রতি মানবিকতা দেখাতে গিয়ে জনগণের চাল-ডাল-তেল-নূনের দাম বাড়বে।
এটা কী জনগণ মানবে ?
জনগনের ট্যাক্স-ভ্যাটের টাকা কোথায় খরচ করবেন, সেটা জনগণের জানার অধিকার আছে।
জনগণের কাছেই জিজ্ঞেস করুন- তারা কুকুরের প্রতি মায়া দেখাতে চাল-ডাল-তেল-নূনের খরচ বৃদ্ধিতে রাজী কী না ।
তবে যে দেশে কোটি কোটি মানুষকে দু-বেলা খাবার খেতে কষ্ট পোহাতে হয়,
সে দেশে কুকুরের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা কতটুকু যুক্তি সংগত সেটা অবশ্যই হিসেব করার দরকার।
তৃতীয়ত, কুকুরের মাধ্যমে ৩০০ ধরনের জুনেটিক রোগ হয়।
এক জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন দিয়ে আটকালেন,
বাকি ২৯৯টি রোগ কোন ভ্যাকসিন দিয়ে আটকাবেন ?
চতুর্থত, ভ্যাকসিন দিলে জলাতঙ্ক যদিও বন্ধ হয়,
কিন্তু কুকুরের কামড়ানো বন্ধ হবে, সেই নিশ্চয়তা দিবে কে ?
পঞ্চমত, কুকুরের জনসংখ্যা হ্রাসে কুকুরকে বন্ধা করার প্রসঙ্গে একইভাবে বলতে হয়,
প্রতি কুকুরকে বন্ধা করতে খরচ হবে ৫-১০ হাজার টাকা।
১০ লক্ষ কুকুরকে বন্ধা করতে খরচ হবে ১ হাজার কোটি টাকা।
সময় কত লাগবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ধরে নেই আপনি যদি প্রতি বছর হয়ত ১০ লক্ষ কুকুরকে বন্ধা করলেন,
আর যে ১০ লক্ষ করতে পারলেন না,
সেই ১০ লক্ষ পরের বছর ৫০ লক্ষ নতুন কুকুর পয়দা করে ফেলবে।
এবার সেই খরচ সামলাতে থাকেন।
৬ষ্ঠত, কুকুরকে ভিন্ন এলাকায় অপসরণ করা প্রসঙ্গে বলতে হয়,
প্রতি এলাকার কুকুর তার নিদ্দির্ষ্ট এলাকা নিয়ে থাকে।
অন্য এলাকার কুকুর সেখানে ঢুকলেই দেখবেন,
কুকুর ঘেউ ঘেউ শুরু করে, হিং*স্র হয়ে যায়, মারামারি করে।
আপনি কুকুর স্থানাস্তর করে অন্য ঢুকানো মানে,
কুকুর কমিউনিটির মধ্যে গেঞ্জাম লাগায় পরিস্থিতি আরো খারাপ করে দিলেন।
আর এক এলাকার কুকুর অন্য এলাকায় গিয়ে কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিলে
কুকুরের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে, এতে একদিকে যেমন কুকুর না খেতে পেয়ে মারা যায়।
অন্যদিকে খাদ্য সংকটে কুকুর হিং*স্র হয়ে অন্য প্রাণী বা মানুষের উপর আ*ক্রমণ করে বসতে পারে, যা আরো ভয়ঙ্কর বিষয়।
সবার শেষে বলতে হয়-
কুকুর নিধন যদি অ-মানবিক হয়,
তবে সকল প্রাণী হ*ত্যা করাই অমানবিক।
গরু-ছাগল-হাস-মুরগী-মাছ হ*ত্যা করে খাওয়া অমানবিক।
মশা হত্যাও অমানবিক । মশার ঔষধ দেয়াও অমানবিক।
যদি সেই অমানবিকতা বন্ধ করতেই চান,
তবে গরু-ছাগল-হাস-মুরগী-মাছ-মশা সব কিছু হ*ত্যাই বন্ধ করুন।
কেএফসি’র হাড্ডি চাবাইতে চাবাইতে স্ট্যাটাস দিবেন-
“কুকুর নিধন অ-মানবিক” সেটা কখনই মানা যাবে না।
© নয়ন
1 791
বেওয়ারিশ কুকুর ইস্যুতে ধীরে ধীরে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। এ বিষয়ে গত বছর আমাদের ছোট্ট একটি লেখা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। পড়ে দেখতে পারেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, কুকুরপ্রেমের আড়ালে অনেক সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থার অর্থায়ন ও সমর্থন সক্রিয়ভাবে কাজ করে। এর প্রভাবে কিছু মানুষ মানবিক নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের অধিকারের চেয়ে কুকুরের অধিকার প্রতিষ্ঠাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
1 791
আরো রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর নিধন না করে,
মায়া করে সাজিয়ে রাখুন।
আর সেই কুকুর কামড়ে কত মানুষের জীবন নিবে,
তার কোন শেষ নেই ।
সম্প্রতি গাইবান্ধায় কুকুড়ের কামড়ে যে ৫ জন মারা গিয়েছে, তারা কিন্তু ভ্যাকসিন নিয়েছিলো।
সরকারী ভ্যাকসিন নয়, ফার্মেসীর দোকান থেকে কিনেছিলো।
কিন্তু তারপরও তারা রক্ষা পায়নি।
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জলাত্মঙ্ক ভ্যাকসিন নেয়ার পরও কুকুড়ের কামড়ে মানুষ মারা যায়, এর কয়েকটি কারণ হতে পারে-
১. ভ্যাকসিন সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়নি।
২. ভ্যাকসিন দিতে দেরি হয়ে গেছে।
৩. যে স্থানে ভ্যাকসিন দেয়া দরকার, সেখানে দেয়নি।
৪. জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিয়েছেন ঠিক, জলাতঙ্ক হয়নি, কিন্তু কুকুড়ের কামড়ে আরো বিভিন্ন ধরনের প্রাণঘাতি রোগ হয়। যেমন- ক্যাপনোসাইটোফাগা, টিটেনাস, সেপসিস।
সুতরাং কেউ যদি ভাবে টিকা দিলেই তার প্রাণ রক্ষা হয়ে গেছে, সেটাও ভুল।
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে রাস্তায় এভাবে বেওয়ারিশ কুকুর থাকে না। বাংলাদেশে শুধুমাত্র কুকুরপ্রেমীদের কথা চিন্তা করে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছে। আপনি শুধু এক মহাখালী জলাতঙ্ক হাসপাতালে যান, বছরে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আহত হচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। অনেক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সরকারের কাছে কোন হিসেব নেই। সারা দেশের হিসেবে কারো কাছে নেই।
সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশে নীতি নির্ধারকরা রাস্তায় সাধারণ মানুষের মত রাস্তায় হাটে না, গাড়ি দিয়ে চলাচল করে। তাই বেওয়ারিশ কুকুর কী সমস্যা তৈরী করে, সেটা তাদের জানা নেই। তাদের গাড়ি চলাচলের সময় রাস্তার হকার কিংবা অটোরিকশা সমস্যা তৈরী করে। এজন্য সেগুলো দমনে প্রায় অভিজান হয়। কিন্তু বেওয়ারিশ কুকুর তাদের জন্য কোন সমস্যা হয় না, তাই সেখানে কোন প্রতিকারও নেই।
1 791
সবচেয়ে স্ট্রাইকিং ব্যপার হচ্ছে, এই সংগঠনটার শুটকির গুদামের ম্যালনোরিশ্ড চিকা-ইঁদুরের মত দেখতে ওয়ার্ড পর্যায়ের গাঁজাখোর কর্মীটি থেকে শুরু করে আপাদমস্তক দামী দামী সব পরিধেয়ধারী মধ্যবয়স্ক সাবেক নেতাটি পর্যন্ত, একজনের মধ্যেও হাসিনার লজ্জা পরিমাণ রিমোর্সও নাই। এই শু*কর*ছানারা এদের একটা দোষকেও দোষ মনে করে না। বুয়েটে আবরাহ ফাহাদকে মা*রা থেকে শুরু করে বরিশালে তাদেরই কালচারাল প্রোগ্রামে নাচার জন্য ভাড়া করে আনা নর্তকীটাকে প্রোগ্রামের পর ধ*র্ষ*ণ পর্যন্ত, এই প্রত্যেকটা কাজের পক্ষে এদের জাস্টিফিকেশান আছে, অজুহাত আছে।
আর জুলাই আন্দোলনের বাচ্চাগুলাকে মা*রার কথা তো এই মুজিবছানারা এখন নিজেরাই গর্ব করে স্বীকার করে, প্রচার করে, ক্ষমতা পেলে আরও কী করবে না করবে থ্রেট দেয়।
সেই ছাত্রলীগের এই ছবি দেখে আশ্চর্য হয় কারা?
আমরা তো আশ্চর্য হই না।
বরং আমরা আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করি যে এদেরকে নিয়ে সেই এক-দেড় দশক যাবত দু'আগুলা আমরা করে আসছি, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু'আ, মূসা 'আলাইহিস সালামের দু'আ, নূ'হ 'আলাইহিস সালামের দু'আ, আল্লাহ তা'আলা সেই দু'আগুলা ক্ববূল করছেন।
ছাত্রলীগের এমন পরিণতি ছাড়া আর কী হওয়ার আছে?
একটা গোটা জাতির অনন্ত অভিশাপের বাহক এই সংগঠনের, এই গোষ্ঠীর কারও কাছ থেকে তো আইদার প্রকাশ্যে বারাআতের ঘোষণা দিয়ে সরে আসা আর নয়তো এই ছবির মত পরিণতিতে পতিত হওয়া ছাড়া আর কিছু গ্রহণযোগ্যই না।
বারাআত ও তওবার ঘোষণা দিয়ে ফিরে আসলে ক্ববূল করার জন্য আল্লাহ তা'আলা আছেন।
আর নয়তো সারা দেশে এমন বহু ব্রিজ আর রেলিং আছে।
— মুহাম্মাদ তাওসিফ সালাম
1 791
২০১৮-র নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সম্ভবত ৩ অগাস্ট দুপুরে ধানমন্ডি এলাকায় স্টুডেন্টরা রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির গাড়ি আটকায়। তারা ববিকে ঘিরে ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন করে, দাবী-দাওয়া জানায়। সানগ্লাস পরা বিব্রত ববি ফোন টিপতে টিপতে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়।
সম্ভবত সেদিন ধানমন্ডিতে জয় ও ববি পরিচালিত লীগের রিসার্চ উইঙ্গ সিআরআই-র কোন মিটিং ছিল কারণ সেদিন সিআরআই-র আরও কিছু কুকুর ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্রদের এমন ব্লকেডের মুখে পড়ে।
একই দিন ধানমন্ডি লীগ অফিসে ছাত্ররা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে।
মূলত এগুলোর প্রতিক্রিয়াতেই অর্থাৎ ৩ অগাস্ট দিনশেষ ও মূলত ৪ অগাস্ট থেকে হাসিনা ছাত্রলীগের কুকুরবাহিনীকে স্টুডেন্টদের বিরুদ্ধে অলআউট লেলিয়ে দেয়।
ছাত্রলীগ পুরো শহর জুড়ে মেজর সব স্কুল-কলেজ-ইউনি ও বিশেষ করে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসগুলোকে অবরোধ করে। স্টুডেন্টরা কেউ বের হওয়ার চেষ্টা করলেই হা*ম*লা, কো*প, র*ক্ত*পাত।
ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় যতগুলো পয়েন্টে স্টুডেন্টরা জড়ো হয়েছিল, একে একে সমস্ত পয়েন্টে ছাত্রলীগের হাতে নি*র*স্ত্র ছাত্রছাত্রীরা হ*তাহ*ত হতে থাকে। মাথা, হাত, পা, চোখ ক্ষ*ত-বিক্ষ*ত অবস্থায় একেকটা বাচ্চাকে হস্পিটালে নেয়া হতে থাকে।
দেশজুড়ে জমা হতে থাকে র*ক্ত*মাখা স্কুল-কলেজ ইউনিফর্ম, আইডি কার্ড ও ব্যান্ডেজের স্তুপ।
বিশেষ করে মেয়েদেরকে টার্গেট করে চলে ছাত্রলীগের স্বভাবসুলভ কুকুরগিরি।
বসুন্ধরা এলাকার এক বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেল কয়েকটা হেলমেট পরা ছেলে একটা গোলাপী সালোয়ার-কামিজ পরা অচেতন মেয়েকে তুলে রাস্তার পাশে নিয়ে যাচ্ছে।
বসুন্ধরারই আরেক রাস্তার পাশ থেকে স্টুডেন্টরা মেয়েদের কিছু রক্তমাখা কামিজ উদ্ধার করে। সেই কাঁপা কাঁপা ক্লিপটায় বিধ্বস্ত এক স্টুডেন্টের (সম্ভবত এনএসইউ-র) কুড়িয়ে পাওয়া কামিজ হাতে কাঁদতে কাঁদতে ক্যামেরার দিকে তুলে ধরে "এটা কী আপনারা বলেন ভাই! এটা কী!" কথাগুলা সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। ছাত্রলীগের খপ্পড়ে পড়া ছাত্রীদের ডিসকার্ডেড কামিজ রাস্তা থেকে পাওয়ার মর্মার্থ সেই ছেলেটা মুখে উচ্চারণ করে উঠতে পারে নাই।
আরও তাড়িয়ে বেড়াবে ছাত্রলীগের হায়নাগিরির আরেক পীক পয়েন্ট বৃহত্তর ধানমন্ডি এলাকায়, জিগাতলা মোড়ের কাছে এমন কিছু একটা বলে এক স্কুলড্রেস পরা ছাত্রের আহাজারি, "ভাই! ওরা যখন আমাদের স্কুলের মেয়েগুলাকে জোর করে ভিতরে নিয়ে গেল ভাই! মনে হইল এই বুকটার মধ্যে যেন কেউ লোহার রড ঢু*কা*য় দিসে! বুকে র*ড ঢু*কায় দিলেও এত কষ্ট পাইতাম না!"
আরও কত এমন ছোট ছোট ক্লিপ— পশ্চিম ধানমন্ডির অলিগলিতে ছাত্রলীগের হাতে র*ক্তা*ক্ত স্কুলছাত্র, মিরপুরে রাস্তার ধারে ধারে র*ক্তা*ক্ত ছাত্রছাত্রী, আফতাবনগরে ইস্টওয়েস্টের ক্যাম্পাস যেন এক অসমসাহসী যো*দ্ধাদের এক অবরুদ্ধ লাল দূর্গ, বসুন্ধরায় এনএসইউ-র ক্যাম্পাস আরেক অবরুদ্ধ দূর্গ, নারায়ণগঞ্জে এক ছাত্রীর স্কুলড্রেসের ল*জ্জা*স্থানগুলো টার্গেট করে কালি মাখানো।
আরও অনেক ছবি, ভিডিও, পোস্ট।
৪ অগাস্ট শনিবার পুরো দিনজুড়ে এগুলা চলল।
শনিবার রাত নাগাদ যখন ছাত্রলীগের হাতে ছাত্র হ*ত্যা ও ছাত্রী ধ*র্ষ*ণের খবর ঘরে ঘরে চলে গেছে, আমরা তখন নিরুপায় অক্ষমের মত অমুক হজুরকে ফোন করছি কুনুতে নাজেলা পড়া যাবে কিনা বা কীভাবে পড়ে, তমুককে ফোন করছি কোথাও কুনুতে নাজেলা পড়া হচ্ছে কিনা।
৫ অগাস্ট রবিবার ভোরে বিটিআরসি-র 'গভমেন্ট ইনফো' থেকে যখন হাসিনার সরকার সবাইকে গণ টেক্সট মেসেজ পাঠালো— "রাজধানীর ঝিগাতলায় ছাত্র হ*ত্যা ও ছাত্রী ধ*র্ষ*ণের ঘটনার কোন সত্যতা নেই। বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। এতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। পুলিশকে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়", তখন ঘটনাগুলো সত্য না হওয়ার যেটুকু সামান্য আশাও ছিল, সেটাও উবে গেল।
বোঝা গেল যে রোম*হ*র্ষ*ক সেই খবরগুলো সব সত্যি ছিল।
এই লেখায় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের খুব সামান্য একটা অংশের, মাত্র একদিনব্যপী ট্র্যাক রেকর্ডের একটা স্মৃতিচারণ করলাম।
প্রবাবলি ২০১৫ সালের শেষদিকে, পরিচিত এক বড় ভাইকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশে একজন নারীর যত ধরণের সোশাল ও প্রফেশনাল রোল কল্পনা করা সম্ভব, আমি সিমপ্লি গুগল সার্চ করে নিউজ বার করে দেখাতে পারব তার প্রত্যেকটা রোলের কোন না কোন নারীকে ছাত্রলীগ ধ*র্ষ*ণ করেছে। মাইনর, স্কুল ছাত্রী, মাদরাসা ছাত্রী, কলেজ ছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, প্রতিবন্ধী ছাত্রী, হাউজ ওয়াইফ, নারী শ্রমিক, নারী চাকরিজীবি, শিক্ষিকা, গায়িকা, নর্তকী, অভিনেত্রী, সন্তানের সামনে মা, স্বামীর সামনে স্ত্রী, প্রতিবেশী নারী, নারী সহযাত্রী, প*তি*তা — এমন কোন রোল ইমাজিন করা যাবে না যেটার কোন না কোন নারী দেশের কোন না কোন আনাচে-কানাচে হাসিনা আমলে ছাত্রলীগের হাতে ধ*র্ষি*তা হয় নাই।
1 791
আবু হামেদ তার সাথীদেরকে বলতেন: "তোমরা যখন পড়বে, তখন আওয়াজ করে পড়বে। কারণ এতে মুখস্থ মজবুত হয় আর ঘুম দূর হয়ে যায়।"
তিনি আরো বলতেন: "নীরবে পড়তে হয় বোঝার জন্য। আর আওয়াজ করে পড়তে হয় বোঝার পাশাপাশি মুখস্থ করার জন্য।"
.
[আসকারীর "আল-হাস্সু 'আলা ত্বালাবিল ইলম"]
1 791
“যার জ্ঞান তাকে কাঁদায় না, সে এমন কোনো উপকারী জ্ঞান পায়নি। কেননা আল্লাহ তা’আলা জ্ঞানীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের কাছে যখন এটি (কুরআন) তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে।’ [সূরা বনী ইসরাঈল: ১০৭]”
.
— আব্দুল আ’লা আত-তায়মী (রহ.)
● {আখলাকুল উলামা, ইমাম আজুররী: ৪৩}
1 791
চোখ বন্ধ করলেও ঘুম আসে না?
.
মাঝরাত, চারপাশ নিস্তব্ধ, কিন্তু আপনার চোখের পাতা এক হচ্ছে না। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন-এর মতে, বিশ্বের প্রায় ৩০-৩৫% মানুষ অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন। চোখ বন্ধ করলেই ঘুম না আসার পেছনে শারীরিক ক্লান্তির চেয়েও মস্তিষ্ক ও অভ্যাসের জটিল খেলা বেশি কাজ করে। ।
.
কেন এমন হয় এবং বিজ্ঞানের ভাষায় এর সমাধান কী?
.
🌙 মস্তিষ্কের হাইপার-অ্যারাউজাল মোড: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি গবেষণা অনুসারে, আমরা যখন সারাদিনের দুশ্চিন্তা বা পরদিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিছানায় যাই, আমাদের মস্তিষ্ক 'হাইপার-অ্যারাউজাল' মোডে চলে যায়। ফলে শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক মনে করে আপনি কোনো বিপদে আছেন এবং সে আপনাকে সজাগ রাখে।
.
🌙 নীল আলোর প্রভাব: ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে তার নীল আলো আমাদের শরীরের 'মেলাটোনিন' হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। এই হরমোনটিই আমাদের জানান দেয় যে এখন ঘুমানোর সময়। ফলে মস্তিষ্ক দিনের আলো আর রাতের অন্ধকারের পার্থক্য ভুলে যায়।
.
🌙 ১৫ মিনিটের নিয়ম: যদি ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুম না আসে, তবে জোর করে শুয়ে থাকবেন না। বিছানা থেকে উঠে পাশের ঘরে যান, মৃদু আলোয় কোনো বই পড়ুন বা হালকা কাজ করুন। ঘুম এলে তবেই বিছানায় ফিরুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক বিছানাকে 'অশান্তির জায়গা' হিসেবে চিনবে না।
.
🌙 ৪-৭-৮ ব্রিদিং টেকনিক: এটি একটি বিশ্ববিখ্যাত পদ্ধতি। ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নিন, ৭ সেকেন্ড দম ধরে রাখুন এবং ৮ সেকেন্ড মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এটি আপনার প্যারা-সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে।
.
🌙 একটি স্লিপ রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।
.
🌙 আত্মিক প্রশান্তি ও সালাত: মনকে শান্ত করতে ইস্তিগফার কিংবা হালকা যিকির করতে পারেন। অনেক সময় আত্মিক অস্থিরতাও ঘুমের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
.
ঘুম কেবল বিশ্রাম নয়, এটি আপনার শরীরের রিচার্জিং প্রসেস। একটি সুন্দর সকালের জন্য আজ থেকেই নিজের ঘুমের যত্ন নিন।
1 791
ইমাম সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ বলেন; শিশুদের মধ্যে পাঁচটি এমন স্বভাব রয়েছে যা বড়দের মধ্যে থাকলে তারা আল্লাহর ওলী হয়ে যেত।
১) শিশুরা রিযিকের ব্যাপারে কখনও পেরেশান হয় না।
২) তারা অসুস্থ হলে সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না।
৩) তারা একাকী খাবার খায় না বরং অন্যদের সাথে একত্রে খাবার খায়।
৪) তারা ভয় পেলে অশ্রুসিক্ত হয়।
৫) কখনও কারও সাথে ঝগড়া হলে খুব দ্রুত তারা মিলে যায়। ঝগড়াকে জিইয়ে রাখে না।
[হুসনুল মুহাযারা : ১/৫৬১]
اکنون در دسترس! پژوهش تلگرام ۲۰۲۵ — مهمترین بینشهای سال 
