fa
Feedback

فریب کلاهبرداران را نخورید! تل‌متریو این کانال‌ها را شناسایی و برچسب‌گذاری می‌کند 👉 برای مشاهده برچسب، اشتراک تهیه کنید 👈

Abdullah Ibn Mahmud's Channel

Abdullah Ibn Mahmud's Channel

رفتن به کانال در Telegram
7 083
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
-97 روز
-3530 روز
آرشیو پست ها
ইরানের ওপর ইসরা/ইল যে আক্রমণ চালালো, সেই মিশনের নাম কীভাবে রাখা হয়েছে জানেন কি? ছোটবেলায় বাংলা পরীক্ষার জন্য নামকরণের সার্থকত
ইরানের ওপর ইসরা/ইল যে আক্রমণ চালালো, সেই মিশনের নাম কীভাবে রাখা হয়েছে জানেন কি? ছোটবেলায় বাংলা পরীক্ষার জন্য নামকরণের সার্থকতা শিখতে হতো, সেরকম তাদের মিশনগুলোর নামকরণও যথাসম্ভব সার্থক করার চেষ্টা চলে। মিশনের নাম ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’। অপারেশন শুরু করার আগের দিন ইসরা/ইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জেরুজালেমের টেম্পল মাউন্ট বা আল-আ/ক্বসা কম্পাউন্ডের ওয়েস্টার্ন ওয়ালে যান, মুসলিমরা যেটিকে ‘বুরাক দেয়াল’ ডেকে থাকে। সেখানে একটি চিরকুট রেখে আসেন, যেখানে তিনি হিব্রু বাইবেলের একটি আয়াত বা ভার্স লেখেন। ভার্সটি গণনাপুস্তক (বুক অফ নাম্বারস) অর্থাৎ ই/হুদীদের তাওরাতের (তোরাহ) শুমারি ২৩:২৪, “দেখো, ওই জাতি সিংহীর মতো উঠছে, এবং সিংহের মত গাত্রোত্থান করছে।” (A people that rises up as a lioness, and as a lion lifts himself up…) তাওরাতে এ ভবিষ্যৎবাণীটি উচ্চারণ করছেন একজন অইসরাইলি নবী, যার নাম বালাম বিন বাউরা। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ সালের দিকে ইস/রাইলের এক শত্রুরাজ্য মোয়াবের রাজা বালাক তাদের অইহুদী নবীকে ডেকে আনেন, এবং তাকে বলেন, আপনি ইসরা/ইলকে অভিশাপ বা লানত দিন। কিন্তু নবী বালাম ইসরা/ইলকে অভিশাপ দিতে অস্বীকৃতি জানান, এবং তখন এ ভবিষ্যৎবাণী করেন ইস/রাইল জাতি সম্পর্কে। এই ভার্স থেকে Rising Lion নামকরণ করা হয়েছে। পুরো অনুচ্ছেদটি পড়তে পারেন, বিশেষ করে শেষ অংশটুকু- শুমারি ২৩:২২-২৪, “আল্লাহ মিসর থেকে ওদের এনেছেন; সে (ইস/রাইল জাতি) ষাঁড়ের মতো শক্তিশালী। নিশ্চয়ই ইয়াকুবের বিরুদ্ধে কোনো মায়াশক্তি, বা ইসরা/ইলের বিরুদ্ধে কোনো মন্ত্র কার্যকর হবে না; এখন ইয়াকুবের ও ইসরা/ইলের বিষয়ে বলা যাবে, আল্লাহ কী না সাধন করেছেন। দেখো, ওই (ইস/রাইল) জাতি সিংহীর মতো উঠছে, এবং সিংহের মত গাত্রোত্থান করছে; সে শয়ন করবে না, যতক্ষণ না নিহত ভোজন করে, যতক্ষণ না নিহতদের রক্ত পান করে।” বালামের কথা কুরআনের সূরা আরাফে (৭:১৭৫-১৭৬) নাম উল্লেখ না করে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তাকে নবী বলা হয়নি।

ইরানে আক্রমণের প্রত্যুত্তরে ইস/রাইলের তেলআবিবে মিসা/ইল বর্ষণ। আয়রন ডোম ভেদ করে যেগুলো প্রবেশ করতে পারছে, সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতি সম
+1
ইরানে আক্রমণের প্রত্যুত্তরে ইস/রাইলের তেলআবিবে মিসা/ইল বর্ষণ। আয়রন ডোম ভেদ করে যেগুলো প্রবেশ করতে পারছে, সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোনো প্রকার ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ব্যাপারে সরকার থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তাদের সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত চল্লিশজন আহত। পুরো দেশজুড়েই মিসাইলের জন্য সাইরেন অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। অধিবাসীদের অবশ্য বাংকারে অবস্থান করতে বলা হয়েছিল। চলমান ঘটনাবলি কোনদিকে মোড় নিতে পারে?

গা/যা ধ্বংসের জন্য ইস/রাইল নতুন অপারেশন ঘোষণা করেছে। এক বছর মেয়াদী বিধ্বংসী এ অপারেশনের নাম তারা দিয়েছে 'অপারেশন গিডিয়নস চ্যা
গা/যা ধ্বংসের জন্য ইস/রাইল নতুন অপারেশন ঘোষণা করেছে। এক বছর মেয়াদী বিধ্বংসী এ অপারেশনের নাম তারা দিয়েছে 'অপারেশন গিডিয়নস চ্যারিয়টস'। গিদিয়নের রথ। কোনো মিশন বা অপারেশনের নাম রাখার পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। তো, গিদিয়নের রথের কাহিনি কী? সমস্যা হলো, গিদিয়ন নামে যার কথা বলা হচ্ছে তার রথই ছিল না। গিদিয়ন ছিলেন ইহু/দীদের তাওরাতে বর্ণিত বনী ইস/রাইলের একজন যোদ্ধা, কিংবদন্তি সামরিক নেতা, এবং কাজী (বিচারক)। পৌত্তলিকতায় ডুবে যাওয়া জাতিকে উদ্ধারের জন্য আল্লাহ তাকে মনোনীত করেন। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী তিনি নবীও বটে, ইসলামি উৎসে তার নাম নেই। অত্যাচারিত হয়ে মাদায়েনবাসীদের বিরুদ্ধে ইস/রাইলিরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। সেনাপতির দায়িত্বে নামেন গিদিয়ন। কিন্তু শীঘ্রই তার বিশাল বাহিনী ছোট হতে হতে যুদ্ধের আগেই মাত্র ৩০০ সেনায় পরিণত হয়। তার তখন প্রথাগত অস্ত্রই তেমন নেই, রথ তো দূরের কথা। সেই ৩০০ সেনা নিয়ে তিনি বিশাল মাদেয়েন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন এবং খোদায়ী সাহায্যে জয় লাভ করেন। পরিণত হন কিংবদন্তিতে। পরে তার অনুসারীরা তাকে ইস/রাইলের বাদশাহ হওয়ার অনুরোধ করে, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করেন সেই প্রস্তাব। এগুলো বাদশাহ তালুতের আগের কাহিনি। প্রত্নতাত্ত্বিকগণ ফিলিস৩ ভূমি থেকে ৩১০০ বছর আগের ভাঙা জগের টুকরো পেয়েছেন, যেখানে আমরা গিদিয়নের একটি নাম লেখা দেখতে পাই। (ছবি) তার রথ আক্ষরিক অর্থে ছিল না বিধায় 'গিদিয়নের রথ' বলতে সেমিটিক অর্থে খোদায়ী সাহায্য বোঝায়। এই আর কি।

নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন ৬৯-বছর বয়সী মার্কিন কার্ডিনাল রবার্ট প্রেভস্ট (১৯৫৫-)। তিনি পোপ 'চতুর্দশ লিও' নাম ধারণ করেছেন। এই প
নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন ৬৯-বছর বয়সী মার্কিন কার্ডিনাল রবার্ট প্রেভস্ট (১৯৫৫-)। তিনি পোপ 'চতুর্দশ লিও' নাম ধারণ করেছেন। এই প্রথম আমেরিকান কেউ ক্যাথোলিক চার্চের নেতা হলেন। তিনি পেরুর বিশপ ছিলেন। গণিতে তার বিএসসি ডিগ্রি আছে। তিনি ইংরেজি, স্প্যানিশ, ইতালিয়, ফরাসি, পর্তুগিজ, লাতিন ও জার্মান ভাষা জানেন। শিকাগো শহরে তার জন্ম। তিনি পেরুর সিলেবাসে লিঙ্গ নিয়ে বিশেষ অধ্যায় রাখার ব্যাপারে বিরোধিতা করেছিলেন, এতে করে নাকি এমন সব 'লিঙ্গ' (জেন্ডার) জন্ম নেয়, যেগুলোর আসলে বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। সমকামিতার মতো বিষয় যা কিনা বাইবেলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমন ব্যাপারে আধুনিক সমাজের সহানুভূতি তাকে সতত পীড়া দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। চার্চের গুরুদায়িত্বে নারীর ভূমিকার বিরোধী তিনি। তিনি শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। গত দুবারের মতো এবারও দ্বিতীয় দিনেই কনক্লেভের ফলাফল পাওয়া গেল। ভ্যাটিকান সিটির সেইন্ট পিটার্স বাসিলিকার ব্যালকনিতে প্রথম দর্শন দেয়ার সময় তোলা ছবি।

photo content

অনেকেই জানেন না যে, ক্রিসমাস বা বড়দিন খ্রিস্টানদের প্রধান উৎসব হিসেবে গৃহীত হয় বেশ পরে। এর আগ পর্যন্ত খ্রিস্টানদের প্রধান উৎস
অনেকেই জানেন না যে, ক্রিসমাস বা বড়দিন খ্রিস্টানদের প্রধান উৎসব হিসেবে গৃহীত হয় বেশ পরে। এর আগ পর্যন্ত খ্রিস্টানদের প্রধান উৎসব ছিল ইস্টার সানডে। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকেই ইস্টার পালনের রেকর্ড পাওয়া যায়। কিন্তু, প্যাগান রোমান সাম্রাজ্য চতুর্থ শতকে গিয়ে খ্রিস্টধর্মকে রাজধর্ম করার পর ক্রিসমাস বা বড়দিন গুরুত্ব পাওয়া শুরু করে। এর আগ পর্যন্ত যীশুর জন্ম পালিত হতো না ওভাবে, কারণ তার জন্মতারিখই কেউ জানতো না। অন্যদিকে, ইস্টার ছাড়া প্রচলিত খ্রিস্টধর্মের ভিত্তিই থাকে না। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ইহু/দী নেতাদের দাবীর মুখে রোমান গভর্নর পন্টিয়াস পাইলেট যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেন, এবং শুক্রবার তাকে ক্রুশে দেয়া হয়। সেদিনকে বলা হয় গুড ফ্রাইডে (কারণ, যীশু মানবজাতির পাপমোচনের জন্য আত্মত্যাগ করেন)। একদিন বাদ দিয়ে তৃতীয় দিন রবিবার বাইবেল অনুযায়ী তিনি পুনরুত্থিত হয়ে শীষ্যদের কাছে দেখা দেন। এবং এই পুনরুত্থানই খ্রিস্টধর্মের ভিত্তি। এ রবিবারই ইস্টার সানডে। জন্মদিন পালনের আগ পর্যন্ত এই পুনরুত্থান দিবসই পালিত হত। যেমনটা সেইন্ট পল লিখেছেন বাইবেলে, "আর খ্রিস্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকতেন তবে আমাদের প্রচার করা ও তোমাদের বিশ্বাস করা, সব অর্থহীন হতো।" (১ করিন্থীয় ১৫:১৪) অবশ্য ইস্টার নামের মাঝেও প্যাগান শেকড় থাকার কথা বলা হয়ে থাকে। তৎকালীন প্যাগান সমাজে নিপীড়িত খ্রিস্টানরা লুকিয়ে থাকায়, অনেক সংস্কৃতির সাথেই তাদের পরিচয় হয়। অ্যাংলো স্যাক্সন দেবী ইয়োস্ত্রা ছিলেন উর্বরতা আর পুনর্জন্মের দেবী, বসন্তকালে এই দেবীর উৎসব হতো। সেই সমাজে তৎকালীন সময়ে পুনরুত্থানের সাথে পুনর্জন্মের মিল রেখে ওই রোববারকে ইয়োস্ত্রের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হয় বলে মনে করা হয়- ইস্টার সানডে। তবে সেটা নামকরণ পর্যন্তই সীমিত, ওই দেবীতে বিশ্বাস অবশ্য প্রাথমিক সেই খ্রিস্টানদের মাঝে ছিল না। প্যাগান শেকড় থাকার কারণে কিছু কিছু ভাষায় ইস্টার নামটি ব্যবহার করা হয় না এ উৎসব বোঝাতে। খ্রিস্টধর্মের আদি-অন্ত ইতিহাস নিয়ে জানতে আমার 'বেথেলহেমের নক্ষত্র' বইটি পড়তে পারেন। বলা বাহুল্য, এ রোববারের বিশ্বাস নিয়ে ইসলামি দৃষ্টিকোণ একেবারেই একশ আশি ডিগ্রি ভিন্ন।

photo content

YouTube এ দেখুন: https://youtu.be/_gnJ0Xuv-uQ ফেসবুকে দেখুন: https://fb.com/963426032663135
YouTube এ দেখুন: https://youtu.be/_gnJ0Xuv-uQ ফেসবুকে দেখুন: https://fb.com/963426032663135

বাংলাদেশের আকাশে দেখা গিয়েছে শাওয়ালের চাঁদ। ঈদ মুবারাক।
বাংলাদেশের আকাশে দেখা গিয়েছে শাওয়ালের চাঁদ। ঈদ মুবারাক।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে জান্নাতুল বাক্বী। ৬২২ সালে প্রতিষ্ঠিত মদিনার বিখ্যাত কবরস্থান। এটি বাক্বী আল-গারকাদ নামেও পরিচিত। হযরত মুহা
ছবিতে দেখা যাচ্ছে জান্নাতুল বাক্বী। ৬২২ সালে প্রতিষ্ঠিত মদিনার বিখ্যাত কবরস্থান। এটি বাক্বী আল-গারকাদ নামেও পরিচিত। হযরত মুহাম্মাদ (সা) মদিনায় হিজরত করার কিছুদিন পর আনসার সাহাবী আসআদ বিন জারারা (রা) ইন্তেকাল করেন। মহানবী (সা) তাকে দাফনের জন্য এ জমি বেছে নেন। তিনিই প্রথম শায়িত হন এ কবরস্থানে। হিজরতকারীদের মাঝে প্রথম যিনি এখানে সমাহিত হন তিনি হলেন উসমান বিন মাসউন (রা), বদর যুদ্ধের কিছু পরে। খাদিজা (রা) ও মায়মুনা (রা) বাদে নবী (সা)-এর সকল স্ত্রী অর্থাৎ উম্মুল মু'মিনিনদের কবর এখানেই। নবীজির চার কন্যা ও এক পুত্রের কবরও এখানে। হাসান (রা) থেকে শুরু করে নবী (সা)-এর পরিবারের আরও অনেক সদস্যই এখানে চিরশায়িত। এছাড়াও মা হালিমা (রা), বা খলিফা উসমান (রা)-ও আছেন এখানে। আর সাহাবীদের তালিকা শুরু করলে নাম বলেই শেষ করা যাবে না। কার কার সৌভাগ্য হয়েছে জান্নাতুল বাক্বী জিয়ারত করার?

আল-আ/ক্বসা কম্পাউন্ডের প্রথম তারাবির আরেকটি ছবি (২০২৫)। প্রায় প্রতি রমজানেই এখানটায় পুলিশি আক্র/মণ চলে, তা জানা সত্ত্বেও এখান
আল-আ/ক্বসা কম্পাউন্ডের প্রথম তারাবির আরেকটি ছবি (২০২৫)। প্রায় প্রতি রমজানেই এখানটায় পুলিশি আক্র/মণ চলে, তা জানা সত্ত্বেও এখানে এমন জমায়েত হয়, নামাজ হয়। এবার ছবিটি দেয়ার উদ্দেশ্য অবশ্য ভিন্ন, একটি ভুল ধারণা দূর করা। গতকাল আরেকটি অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি দেয়ার পর কেউ কেউ বলেছেন, পেছনের ডোম অফ দ্য রক মুসলিমদের প্রথম কিবলা নয়, সেটা নাকি সামনের দিকে। এ ধারণার সাথে পরিচিত আমি। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, সোনালি গম্বুজওয়ালা স্থাপনাটি আসলে মসজিদুল আ/ক্বসা নয়, তার কাছে ধূসর কালচে গম্বুজের মসজিদটিই মসজিদুল আ/ক্বসা। এটিও ভুল। সঠিকটি আমি আমার একাধিক বইতে পুরো অধ্যায় ধরে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। সংক্ষেপে সঠিক কথা হলো, দুটোর কোনোটিই আলাদা করে আল-আ/ক্বসা মসজিদ নয়, বরং এই পুরো কম্পাউন্ডটিই মসজিদুল আ/ক্বসা, যাকে ইহু/দীরা 'টেম্পল মাউন্ট' বলে থাকে। সোনালি গম্বুজওয়ালা নব্য স্থাপনার নাম 'ডোম অফ দ্য রক', বা 'কুব্বাতুস সাখরা'। এই যে 'রক' বা পাথর? যার নামে এই স্থাপনার নাম? সেটি ওই সোনালি গম্বুজের ঠিক নিচে অবস্থিত। ওই পাথর ইহু/দীদের কাছে মহাবিশ্বের পবিত্রতম বস্তু। ওদিকে ফিরেই তাদের যত প্রার্থনা। ওই পাথরের দিকে ফিরেই ৬১০ সালে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) নবুয়ত লাভের পর থেকে নামাজ আদায় করতেন; তাই তাঁর উম্মতের প্রথম কিবলা ওই দিকেই। ৬২৩ সালে কিবলা পরিবর্তিত হয়ে কাবা শরিফের দিকে হয়, এবং সেটি কুরআনের আয়াতের আদেশ অনুসারে নামাজের মাঝেই সংঘটিত হয়। সেটি ভিন্ন ইতিহাস। ইহু/দীদের তালমুদ ব্যাখ্যাকারীদের মতে, এ পাথরটিই নাকি মহাবিশ্বে আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি, দুনিয়া সৃষ্টির সময় এটিই নাকি প্রথম রূপ লাভ করে। এটিকে ফাউন্ডেশন স্টোন বা ভিত্তি প্রস্তর ডাকা হয়। এখান থেকে মাটি নিয়েই নাকি আদম (আ)-কে তৈরি করেন আল্লাহ। এ পাথরের ওপর হাবিল কাবিল কুরবানি করতে যান। ইহু/দী ও খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুযায়ী, ইব্রাহিম (আ) শিশু ইসহাক (আ)-কে এই মোরিয়া পাহাড়ের ওপর এ পাথরে কুরবানি করতে আনেন (ইসলামে ইসমাইল আঃ এবং মারওয়া)। এ পাথরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যান ইয়াকুব (আ) এবং মিরাজের স্বপ্ন দেখেন। এগুলো সবই ইহু/দী কিতাবের বিশ্বাস, ইসলামে অবশ্য এগুলোর কোনোই উল্লেখ নেই। তবে কথিত আছে, এ পাথর থেকেই নবী (সা)-এর মিরাজ হয়। এ পাথরের ওপরেই কুরআন ও বাইবেলে বর্ণিত মহাপবিত্র আর্ক অফ কোভেন্যান্ট সিন্দুক (তাবুতে সাকিনা) রাখা হতো, যা ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়। এ পাথরের ওপর দাউদ (আ) বাইতুল মুকা/দ্দাস স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন, যা সুলাইমান (আ) নির্মাণ শেষ করান; যে কারণে ওই স্থাপনাকে ইহু/দীরা টেম্পল অফ সলোমন ডেকে থাকে। প্রথমবার সেটি ধ্বংস করে দেন পারস্যের সম্রাট দ্বিতীয় নেবুকাদনেজার আর পরেরবার খ্রিস্টীয় ৭০ সালে রোমানরা ধ্বংস করে। এরপর থেকে এখানে কেবলই রোমানদের ফেলে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ, যতদিন না দ্বিতীয় খলিফা উমার (রা) জেরু/জালেম যান। যেটিকে আক্ব/সা মসজিদ মনে করা হয়, সেটির আসল নাম 'কিবলি মসজিদ', এটি ৭০০ সালের পর নির্মাণ করা হয়। আর সোনালি গম্বুজওয়ালা স্থাপনাটি (তখন সোনালি ছিল না) উমাইয়া খেলাফতের আমলে ৬৯২ সালের দিকে নির্মাণ শুরু হয়- ওই প্রাক্তন কিবলা পাথরের ওপর।

আল-আ/ক্বসা কম্পাউন্ডে এ বছরের প্রথম তারাবি। মুসলিমদের প্রথম কিবলা পেছনে রেখে।
আল-আ/ক্বসা কম্পাউন্ডে এ বছরের প্রথম তারাবি। মুসলিমদের প্রথম কিবলা পেছনে রেখে।

সৌদি আরবে আজ সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। তাহলে বলা যায়, পরশু ২ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম রোজা, আগামীকাল রাত থেকে তারাবী।

অভ্র কিবোর্ডের নির্মাতা মেহেদী হাসান যে এত বছর বাদে একুশে পদক পাচ্ছেন, বাংলায় টাইপ করাদের সুবিধা করে দেয়ার জন্য সেটি লং-ডিউ পুরস্কার, এতদিন দেরি হওয়াটা ছিল ইনজাস্টিস। কয়েক বছর আগে এ বিষয় নিয়েই লিখেছিলাম ফেসবুকে, কিন্তু লিখে আবার ডিলিট করতে হয়েছিল। বিজয় কিবোর্ডে লেখালেখিটা আমি পারি, মানে পারতাম। সেই ছোটবেলার কথা, তখন লেআউট মুখস্থ ছিল। কারও জন্য লিখে দেয়া লাগলে এটাই ব্যবহার করতাম; কম্পিউটার কেনার সাথে বিজয় ডিফল্ট ইনস্টল্ড হয়েই আসতো তখন। কিন্তু বুঝজ্ঞান হবার পর থেকে আমি জীবনেও বিজয় দিয়ে টাইপ করিনি। অভ্র শেখা তো এক-দুদিনের ব্যাপার। তারপর নেভার গোয়িং ব্যাক। অফিসিয়াল কাজকর্মেও অনেক সময় দেখা যায় আগেকার অভ্যাস মোতাবেক অন্যদের বিজয় দিয়ে লেখা ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ করা লাগে, সবার আগে সেটাকে কনভার্ট করে নিই। আমার বইগুলোর বর্তমান প্রকাশকদেরও বলা আছে, এই বিজয়-নির্ভর প্রেস ইন্ডাস্ট্রিতে অভ্র/ইউনিকোডে বই ছাপাতে হবে আমার- এখন না, আগে থেকেই, গত বইগুলো এভাবেই বেরুচ্ছে। দুটোই জানা থাকায় আমি ভালো করেই জানি বিজয়ের সমস্যা কী, আর অভ্রের কনভার্শনে গিয়ে কতো ঝামেলা পোহাতে হয়। অভ্রতে ছাপানো বই বেস্টসেলার হওয়ার পর সেটার জন্য পুরস্কার নিয়েছিলাম তৎকালীন মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের হাত থেকে। আয়রনিক মুহূর্ত। রাজনৈতিক অ্যাস্পেক্ট বাদ দিলেও কিছু সুশীল মন্তব্য করছেন, অভ্র দিয়ে নাকি বাংলা সহিহভাবে লেখা হয় না। সেটা কি শুধু বিজয় দিয়েই হয়? লেআউটে বাংলা হরফ না থাকলে কি সেটা বিশুদ্ধ না? ওইরকম লেআউট খুঁজলে অভ্রতেও পাওয়া যাবে, তাও বিনা পয়সাতেই। আর ফোনেটিক টাইপিং সহিহ না হয়ে থাকে তবে কার কী যায় আসে? লেখার আউটপুট বাংলাতে এলো কি এলো না- সেটাই তো দেখার বিষয়! নাকি? তো, কেউ ভয়েস টাইপিং করলে সেটা বিশুদ্ধ বাংলা হবে না? দিনশেষে জোরাজুরি ছাড়া সমস্যাবিহীনভাবে বাংলা লিখতে পারাটাই মুখ্য কথা। স্রেফ বাংলা লিখনিকে সহজ ও বিনামূল্যে করে তোলার জন্য ডাক্তার মেহেদী হাসানের একুশে পদক পাওয়াটা হোক ভাষার মাসে পোয়েটিক জাস্টিস।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর থেকে ভাবছিলাম, ইহুদীদের নিয়ে আমার যতদূর পড়াশোনা তারা ঐতিহাসিকভাবেই লুপহোল খুঁজে বের করার জন্য বিখ্য
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর থেকে ভাবছিলাম, ইহুদীদের নিয়ে আমার যতদূর পড়াশোনা তারা ঐতিহাসিকভাবেই লুপহোল খুঁজে বের করার জন্য বিখ্যাত, বা কুখ্যাত। তাহলে এই যে গাযা আগ্রাসনের ব্যাপারে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে গেল তারা, এটা না ভেঙে পরবর্তী আক্রমণ চালাবে কীভাবে? একটা লুপহোল তো দেখাতে হবে। মানে, আক্রমণ তো চালাবেই- এটা জানা কথা। দুই দিনও অপেক্ষা করতে হলো না। ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির দুই দিনের মাথায় তারা আবারও ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছে। তবে ইসরাইল চুক্তি মেনেই করেছে, এবারের লুপহোলটি হলো- তারা গাযা শহরে নয়, হামলা চালিয়েছে দখলকৃত পশ্চিম তীরে। সেখানে জেনিন নামের শহরে একটি শরণার্থী শিবির রয়েছে, সেই '৪৮ সালে যাদের গৃহহীন হতে হয়েছিল, তাদের বড় একটি অংশের ঠিকানা হয়ে দাঁড়ায় '৫৩ সালে শুরু হওয়া পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবির। এখান থেকে আগ্রাসন-বিরোধী অনেক যোদ্ধা বেরিয়ে আসে বিধায় তিনারা একে 'বল্লার চাক' নামে অভিহিত করে থাকেন। তবে ফিলিস্তিনে এ জায়গাটিকে 'শহীদদের রাজধানী' ডাকা হয়। এ পোস্ট লেখার সময় পর্যন্ত ৮ জন নিহত আর অন্তত ৩৫ জন আহতের সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো তথ্য দেয়নি, কেবল বলেছে এটি বরাবরের মতো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান। উল্লেখ্য, সদ্য পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্পের সম্পন্ন করা প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো- পশ্চিম তীরের অবৈধ সেটলারদের ওপর আরোপিত স্যাংশন প্রত্যাহার করে নেয়া, সেটির সদব্যবহার চলছে। এতদিন গাযার নাম জেনেছেন, এবার মানচিত্রের অন্য পাশে থাকা পশ্চিম তীরের জেনিনের নাম জানা লাগতে পারে।

ছবিটি কিন্তু এআই দিয়ে বানানো নয়! রূপালি পর্দার কোনো দৃশ্যও নয়! ফেসবুকে যে জায়গার নাম লেখা যায় না, সেখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘক
ছবিটি কিন্তু এআই দিয়ে বানানো নয়! রূপালি পর্দার কোনো দৃশ্যও নয়! ফেসবুকে যে জায়গার নাম লেখা যায় না, সেখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘকাল পর বাডি ফিরে আসার দৃশ্য। সবার তো আর ফিরে যাওয়ার বাড়ি নেই, কোথাওই নেই। বাড়ি হয়তো আবার বানানো হবে, কিন্তু সেটাই বা ক'দিন টিকবে আল্লাহ জানেন। (আজকে একটি ছোটখাটো বই মোটামুটি লেখা শেষ হলো, নাম দিয়েছি 'গাজার গর্জন'। বইতে এ আপডেটটুকু দিয়ে দিতে পারলাম।)

ক্রিসমাস ট্রির ইতিহাস মোটামুটি পাঁচশ বছরের বলা চলে। পঞ্চদশ শতকের দিকে মধ্য ইউরোপের এস্তোনিয়া, জার্মানি আর লাতভিয়ায় এই ক্রিসমা
ক্রিসমাস ট্রির ইতিহাস মোটামুটি পাঁচশ বছরের বলা চলে। পঞ্চদশ শতকের দিকে মধ্য ইউরোপের এস্তোনিয়া, জার্মানি আর লাতভিয়ায় এই ক্রিসমাস ট্রি প্রথার শুরু- তাও প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের মাঝে। ১৫৩৯ সালে আমরা প্রথম ক্রিসমাস ট্রির রেকর্ড পাই। প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কারক মার্টিন লুথার সবুজ গাছে প্রথম মোমিবাতি লাগিয়ে ক্রিসমাস ট্রি আলোকিত করে তোলার প্রথা শুরু করেন বলে কথিত আছে। বাসাবাড়িতে ১৫৭৬ সালের দিকে এ গাছের ব্যবহার শুরু হয়, আর এদিক দিয়ে এগিয়ে জার্মানি। অফিশিয়ালি ক্যাথোলিক চার্চ এই ক্রিসমাস ট্রি বসানোর প্রথা শুরু করে ১৯৮২ সালে। বেশ দেরীতে, তাই না? এর পেছনেও কিন্তু ইউরোপের ওই অঞ্চলের একটি দেশ দায়ী। ১৯৭৮ সালে পোল্যান্ডের পোপ দ্বিতীয় জন পল যখন রোমান ক্যাথোলিক পোপ হলেন, তার কয়েক বছর বাদে তিনি ভ্যাটিক্যান সিটিতে তার দেশের ক্রিসমাস ট্রি প্রথা চালু করেন। এর আগ পর্যন্ত এটা লুথেরান চার্চ সংস্কৃতি হিসেবেই সুপরিচিত ছিল। ১৯৮২ থেকে প্রতি বছর সেন্ট পিটার্স বাসিলিকায় বিশাল গাছ বসানো হয়। প্রথম গাছটি এসেছিল ইতালি থেকে। পোস্টের ছবিটি আমার তোলা, আজই। আপাতত মালয়েশিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও পুরো দেশ জুড়ে টুরিস্ট স্পটগুলোতে সুসজ্জিত ক্রিসমাস ট্রি দেখা যায়। যেমন এটি দেখলাম, সেই থেকে এই লেখা। যা-ই হোক, পোস্টটা পড়ে ক্যাথোলিক প্রটেস্ট্যান্ট এসব নিয়ে জানার আগ্রহ হতে পারে, কিন্তু অত বড় আলোচনা এখানে কি করা সম্ভব? খ্রিস্টধর্মের আদি অন্ত ইতিহাস ও বিভিন্ন উপবিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার 'বেথেলহেমের নক্ষত্র' বইটি পড়তে পারেন। (দেশের বাইরে থেকেও আমার সব বই নিতে পারেন 'ইতি, বাংলাদেশ' পেজের সাহায্যে)

পুরনো একটি বিশ্ব মানচিত্র। ১৫২০ সালের এ মানচিত্রটি নির্মাণ করেন পিয়েত্রো কপ্পো। ভেনিসে জন্ম নেয়া পিয়েত্রো ছিলেন একজন ইতালীয় ম
পুরনো একটি বিশ্ব মানচিত্র। ১৫২০ সালের এ মানচিত্রটি নির্মাণ করেন পিয়েত্রো কপ্পো। ভেনিসে জন্ম নেয়া পিয়েত্রো ছিলেন একজন ইতালীয় মানচিত্রনির্মাতা ও ভূগোলবিদ। স্যাটেলাইট ছাড়া আদ্যিকালে মানুষ কীভাবে মানচিত্র বানাতো, সেটা বেশ বিস্ময় জাগায়!

কারণ আরবিতে লিখলে লোকে পবিত্র ভাববে, তাই মূত্র বিসর্জন করবে না। কারণ, বাংলায় লিখলে কাজ হবে না। বনানীর ৬ নাম্বার রোডে হাঁটার স
কারণ আরবিতে লিখলে লোকে পবিত্র ভাববে, তাই মূত্র বিসর্জন করবে না। কারণ, বাংলায় লিখলে কাজ হবে না। বনানীর ৬ নাম্বার রোডে হাঁটার সময় চোখে পড়লো।

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন একটি প্রাচীন যন্ত্র- বলা হয়ে থাকে ইতিহাসের প্রথম অ্যানালগ কম্পিউটার, নাম হলো 'অ্যান্টিকিথেরা' যন্ত্রকৌশল।
ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন একটি প্রাচীন যন্ত্র- বলা হয়ে থাকে ইতিহাসের প্রথম অ্যানালগ কম্পিউটার, নাম হলো 'অ্যান্টিকিথেরা' যন্ত্রকৌশল। বয়স? ২২০০ বছরের পুরাতন। খ্রিস্টের জন্মেরও দুশো বছর আগের। কী করত এ যন্ত্র? এটা মূলত একটি সৌরমণ্ডলের মডেল নির্ধারক বলা যায়, এর সাহায্যে জ্যোতিষ্কগুলোর অবস্থান এবং সূর্যগ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ এগুলো কয়েক দশক আগে থেকে ভবিষৎবাণী করা যেত। সম্ভবত গ্রিক বিজ্ঞানীরা এটি নির্মাণ করেন। ১৯০১ সালে গ্রিক দ্বীপ অ্যান্টিকিথেরার কাছে বিধ্বস্ত জাহাজ থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। জাহাজটি ডুবেছিল খ্রিস্টের জন্মের আগের শতাব্দীতে। বর্তমানে ভাঙা যন্ত্রটি আছে অ্যাথেন্সের জাদুঘরে।