Reality Check BD
Ir al canal en Telegram
5 014
Suscriptores
Sin datos24 horas
-57 días
+4930 días
Carga de datos en curso...
Canales Similares
Sin datos
¿Algún problema? Por favor, actualice la página o contacte a nuestro gerente de soporte.
Nube de Etiquetas
Sin datos
¿Algún problema? Por favor, actualice la página o contacte a nuestro gerente de soporte.
Menciones Entrantes y Salientes
---
---
---
---
---
---
Atraer Suscriptores
julio '26
julio '26
+55
en 2 canales
junio '26
+126
en 5 canales
Get PRO
mayo '26
+209
en 5 canales
Get PRO
abril '26
+220
en 4 canales
Get PRO
marzo '26
+433
en 9 canales
Get PRO
febrero '26
+268
en 4 canales
Get PRO
enero '26
+383
en 6 canales
Get PRO
diciembre '25
+498
en 7 canales
Get PRO
noviembre '25
+463
en 10 canales
Get PRO
octubre '25
+445
en 11 canales
Get PRO
septiembre '25
+325
en 5 canales
Get PRO
agosto '25
+245
en 9 canales
Get PRO
julio '25
+262
en 11 canales
Get PRO
junio '25
+354
en 12 canales
Get PRO
mayo '25
+330
en 15 canales
Get PRO
abril '25
+365
en 9 canales
Get PRO
marzo '25
+723
en 8 canales
Get PRO
febrero '250
en 3 canales
Get PRO
enero '250
en 8 canales
Get PRO
diciembre '24
+84
en 3 canales
| Fecha | Crecimiento de Suscriptores | Menciones | Canales | |
| 20 julio | +2 | |||
| 19 julio | +1 | |||
| 18 julio | +2 | |||
| 17 julio | +3 | |||
| 16 julio | +2 | |||
| 15 julio | 0 | |||
| 14 julio | +3 | |||
| 13 julio | +2 | |||
| 12 julio | +4 | |||
| 11 julio | +2 | |||
| 10 julio | +5 | |||
| 09 julio | +1 | |||
| 08 julio | +7 | |||
| 07 julio | 0 | |||
| 06 julio | +1 | |||
| 05 julio | +3 | |||
| 04 julio | +1 | |||
| 03 julio | +6 | |||
| 02 julio | +4 | |||
| 01 julio | +6 |
Publicaciones del Canal
রেফারেন্সঃ
[১] Law Without Justice: How Pakistan Failed Dr. Aafia Siddiqui and Qandeel Baloch. Columbia Law Review. https://www.culawreview.org/journal/law-without-justice-how-pakistan-failed-dr-aafia-siddiqui-and-qandeel-baloch
[২] The Case of Dr. Aafia Siddiqui: A Profile in Persecution and Faith. Washington Report on Middle East Affairs. https://www.wrmea.org/2010-december/the-case-of-dr-aafia-siddiqui-a-profile-in-persecution-and-faith.html
[৩] Exerting political pressure on the US is crucial for Dr. Aafia’s release: Lawyers. Institute of Policy Studies (IPS ). https://www.ips.org.pk/exerting-political-pressure-on-the-us-is-crucial-for-dr-aafias-release-lawyers/
[৪] US attorney holds a brief for Aafia’s repatriation. Dawn News. https://www.dawn.com/news/1174591/us-attorney-holds-a-brief-for-aafias-repatriation
[৫] Musharraf memoirs drop bounty claim. Al Jazeera. https://www.aljazeera.com/news/2006/10/23/musharraf-memoirs-drop-bounty-claim
[৬] ‘We paid tens of millions in cash as rewards to the Pakistani intelligence service’: Former CIA officer. The Economic Times. https://m.economictimes.com/news/international/world-news/we-paid-tens-of-millions-in-cash-as-rewards-to-the-pakistani-intelligence-service-former-cia-officer/articleshow/124801651.cms
[৭] US Purchased Musharraf, Got Control Over Pakistan’s Nuclear Arsenal: Ex-CIA Officer John Kiriakou.
https://www.msn.com/en-in/autos/photos/us-purchased-musharraf-got-control-over-pakistan-s-nuclear-arsenal-ex-cia-officer-john-kiriakou/ar-AA1P9e2v
[৮] Fighting to the end: The Pakistan army's way of war. Oxford University Press.
https://books.google.com/books?id=szaTAwAAQBAJ
[৯] US strategy for Pakistan and Afghanistan: Independent task force report. Council on Foreign Relations.
https://www.cfr.org/report/us-strategy-pakistan-and-afghanistan
[১০] From Strategic Depth to Strategic Blowback: Pakistan, the Taliban, and the Unravelling of a Three-Decade Afghan Strategy. Atlas Institute.
https://atlasinstitute.org/from-strategic-depth-to-strategic-blowback-pakistan-the-taliban-and-the-unravelling-of-a-three-decade-afghan-strategy/
[১১] The TTP Challenge in Pakistan: Role of Legitimacy and its Impact on. Pure, University of South Wales. https://pure.southwales.ac.uk/en/publications/the-ttp-challenge-in-pakistan-role-of-legitimacy-and-its-impact-o/
[১২] Explaining Support for Sectarian Terrorism in Pakistan: Piety, Maslak. MDPI.
https://www.mdpi.com/2077-1444/6/4/
| 2 | ফুয়াদ সাহেব, "Faulty Generalization" বা অন্যায় সাধারণীকরণ বলে একটি সুপরিচিত যুক্তিগত ভ্রান্তি আছে। তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ থেকে দুই একজন ব্যক্তি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে টিটিপিতে যোগ দিয়েছে। তা দিয়ে কি প্রমাণ হয় যে আপনি যেভাবে ঢালাওভাবে আলেম ওলামাদের ফ্রেম করতে চাইছেন, তারা এর পেছনে আছেন? কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত ঘটনার দায় কি পুরো আলেম সমাজের ওপর চাপানো যায়?
আপনি খুব সুচতুরভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজাইন করা "War on Terror" মডেলটি গ্রহণ করেছেন এবং বসে বসে "জঙ্গি" ট্যাগ দিচ্ছেন। অথচ আপনি ভুলে গেছেন, এই একই মার্কিন মডেল অনুযায়ী ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রাম এবং হামাসকেও "টেরোরিজম" ও "টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন" বলা হয়। এখন আপনি যদি আমেরিকার এই বয়ানকে ওহীর মতো পরম সত্য ধরে নেন, তাহলে আপনার নিজের আর্গুমেন্ট অনুযায়ী আপনিও তো পশ্চিমা রাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ন্যারেটিভকেই সার্ভ করছেন। বুঝতে পারছেন বিষয়টি?
.
এরপরেও কথা আছে. ফুয়াদ সাহেব, আপনি না ভালো করে টিটিপির ইতিহাস জানেন, না জানেন আইএসআই এর নিজস্ব খেলা। আপনি মনে করছেন, টিটিপি বুঝি ভারতের "র" (RAW) এর হেডকোয়ার্টারে বসে তৈরি হয়েছে। অথচ একাডেমিক ও স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও জানে, টিটিপি মূলত পাকিস্তানের নিজেদের Strategic Blowback। টিটিপির উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা এই টাইমলাইন দেখলেই পরিষ্কার হবে:
•কাশ্মীরি প্রক্সিদের লালন পালন: ১৯৯০ এর দশকে কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করার জন্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও আইএসআই Lashkar-e-Taiba (LeT), Jaish-e-Mohammed (JeM) এবং Harakat-ul-Mujahideen (HuM)-এর মতো সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে অর্থ, অস্ত্র ও নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে গড়ে তোলে।[৮]
•পাকিস্তানের নীতিগত ইউ-টার্ন: ৯/১১ হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে জেনারেল পারভেজ মুশাররফ কাশ্মীরি গ্রুপগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের "War on Terror" এর ফ্রন্টলাইন পার্টনার হন।[৯]
•দলত্যাগ বা Defection Trend: ২০০২-২০০৬ সালে পাকিস্তানের এই ইউ-টার্নকে কাশ্মীরি ও পশতুন যোদ্ধারা "বিশ্বাসঘাতকতা" হিসেবে দেখে। পূর্বে কাশ্মীর ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা এসব পাকিস্তানি যোদ্ধা দলত্যাগ করে FATA অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। FATA অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক অভিযানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় বহু উপজাতি পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই অস্ত্র তুলে নেয়।
•তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) গঠন: ডিসেম্বর ২০০৭ সালে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে এই ক্ষুব্ধ, দলছুট এবং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতারিত বোধ করা যোদ্ধারা একত্রিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টিটিপি গঠন করে।[১০] তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে FATA অঞ্চলে সংঘটিত পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নেওয়া এবং পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হওয়া।
দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক সি. ক্রিস্টিন ফেয়ার এবং West Point এর ‘Combating Terrorism Center’ (CTC) এর গবেষণাগুলোও দেখায়, টিটিপির উত্থান কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ব্লুপ্রিন্ট ছিল না; বরং পাকিস্তানের "ভালো তালেবান বনাম মন্দ তালেবান" নীতি এবং প্রক্সি রাজনীতির একটি inevitable strategic blowback ছিল। [১১,১২]
.
অতএব, ফুয়াদ সাহেব, যখন আপনি আইএসএই এর মুখের কথাকে দলিল সাব্যস্ত করে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু লোকের টিটিপিতে যোগ দেয়াকে ভারতের ‘র’ এজেন্ডা সার্ভ হিসেবে দেখাতে চান আমরা সেই দুইটি দাবির গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তা প্রমাণের মানদন্ডে ওজন করার চেস্টা করেছি তা কতটুকু ওজনের হল তা বিচারের ভার দর্শকের উপরে ছেড়ে দেয়া হল।
.
ফুয়াদ সাহেব - সস্তা প্রোপাগান্ডা আর সত্যের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। খণ্ডিত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আগে আপনার আরও বেশি হোমওয়ার্ক এবং গবেষণা করা উচিত। আমাদের দেশে অ্যান্টি-ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট ব্যাপকভাবে বিদ্যমান এবং অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য। এই ইমোশনাল করিডোরকে যদি আপনি আঙ্কেল স্যাম-এন্ডোর্সড কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করেন, তবে তা অনভিপ্রেত। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ টিটিপিতে যোগ দিয়েছে—এটিকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের পুরো আলেম-শ্রেণি ভারতের "র"-এর পারপাস সার্ভ করছেন—এমন দাবি শুধু হাস্যকরই নয়; এটি অফেন্সিভ এবং স্পষ্টতই এজেন্ডা-ওরিয়েন্টেড।
-
চলবে ইনশা আল্লাহ … | 237 |
| 3 | ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন -
উদ্ধৃতি শুরুঃ
“বাংলাদেশের কিছু আলেম-ওলামা দিব্যি এখনো আফগান জিহাদের কথা, তালেবান শাসনের জন্য খুব প্রশংসা করতেছে। তালেবানদের শাসনের ওখানে গিয়ে অনেকে সফর করে আসছেন। ফাইন, দেখা করতেই পারেন। কোনো ওলামায়ে কেরাম যদি যান, এটা তাদের নিজ দায়িত্বে তারা যাবেন।
এবং এখনো আমরা শুনতেছি, টিটিপি সহ বিভিন্ন তথাকথিত জিহাদি জনগোষ্ঠী, জঙ্গি গ্রুপগুলোতে এখান থেকে লোক সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে।
এখন টিটিপি আসলে কে? টিটিপিকে চালায় কে?
টিটিপির অনেক কমান্ডার, সাবেক কমান্ডার ও মুজাহিদদেরকে পাকিস্তান সরকার এবং তাদের আইএসআই গ্রেফতার করেছে। তাদের টেস্টিমনি আছে, বিভিন্ন রিপোর্ট আছে। আপনারা অনলাইনে পাবেন। আমি নিজে পড়েছি।
তারা স্বীকার করেছে, তাদের টোটাল ট্রেনিং, অস্ত্র, টোটাল অপারেশনাল ফান্ডিং আসে "র" (RAW)-এর কাছ থেকে। তাদেরকে কাজ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য।
পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বোম্বিং, শিয়া মসজিদে বোম্বিং, কাদিয়ানীদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে বোম্বিং, বেলুচিস্তানকে অস্থিতিশীল করে দেওয়া—এসব করা হচ্ছে।
ওখানে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (CPEC), ব্যবসা-বাণিজ্য—এসবও অস্থিতিশীল করে দেওয়া হচ্ছে।
তাহলে সেইখানে জিহাদ করবার জন্য আপনি বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠাইতেছেন। মানে আপনি জিহাদ ব্যবসার মাধ্যমে ভারতের পারপাস সার্ভ করতেছেন।“
—
উত্তর:
ফুয়াদ সাহেব,
আপনি আপনার পুরো যুক্তির ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং পাকিস্তান সরকারের দেওয়া কিছু তথাকথিত "স্বীকারোক্তি" বা রিপোর্টের ওপর। আপনি এমনভাবে কথা বলছেন, যেন পাকিস্তানি এস্টাবলিশমেন্ট বা আইএসআই যা বলে, সেটাই পরম সত্য বা "ওহী"। ইতিহাস কিন্তু একদম উল্টো কথা বলে। আইএসআই এর বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট প্রমাণ করতে খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা কিছু উদাহরণ দিচ্ছি লক্ষ্য করুন -
ড. আফিয়া সিদ্দিকা কেলেঙ্কারি:
পাকিস্তান এস্টাবলিশমেন্ট ড. আফিয়া সিদ্দিকাকে একজন বিপজ্জনক সন্ত্রাসী হিসেবে ব্র্যান্ডিং করেছিল, বছরের পর বছর মিথ্যাচার করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের একজন নাগরিককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছিল। ড. আফিয়া সিদ্দিকার ঘটনাটি পাকিস্তানের মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট এবং বিশেষ করে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এর জঘন্য দর্শন প্রকাশ করে যেখানে একজন নিজ দেশের নাগরিককে "সন্ত্রাসী" হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় কিছু ডলারের বিনিময়ে।[১,২]
আরো দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে আফিয়া সিদ্দিকা'র আইনজীবী ক্লাইভ স্মিথের মতে - ড. আফিয়ার মুক্তির পথে অন্যতম বাধা পাকিস্তান নিজে! তাঁর মার্কিন আইনজীবী স্টিফেন ডাউনস এবং ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান সরকার ড. আফিয়ার প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, যা তার মুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।[৩,৪]
.
ডলারের বিনিময়ে মানুষ বিক্রি:
পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফ তার আত্মজীবনী In the Line of Fire এ সগর্বে লিখেছে:
"আমরা ৬৮৯ জন আল কায়েদা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি এবং ৩৬৯ জনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (CIA) হাতে তুলে দিয়েছি... এর বিনিময়ে আমরা কোটি কোটি ডলারের পুরস্কার পেয়েছি।"[৫]
এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সিআইএ এর সাবেক কর্মকর্তা জন কিরিয়াকুও (John Kiriakou) এই ধরনের লেনদেনের কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে "লক্ষ লক্ষ ডলার নগদ পুরস্কার" দেওয়া হয়েছিল।[৬,৭]
যে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা স্রেফ মার্কিন ডলারের লোভে নিজেদের নাগরিক এবং অন্যান্য মানুষকে "টোপ" হিসেবে বিক্রি করে দেয়, তাদের বন্দিশালায় আদায় করা "স্বীকারোক্তি" আর স্ক্রিপ্টেড টেস্টিমনিকে আপনি নিরপেক্ষ একাডেমিক প্রমাণ হিসেবে হাজির করছেন?
.
অতএব, ফুয়াদ সাহেব, পাকিস্তান সরকার বা আইএসআই এর মুখের কথা কোনো "ওহী" নয়; বরং রাজনৈতিক স্বার্থে তৈরি করা মিথ্যাচার, এটি বৈশ্বিক রাজনীতিতে সুপরিচিত বাস্তবতা। আমরা তার উদাহরণও দিলাম।
ফুয়াদ সাহেব, লক্ষ্য করুন, আমরা টিটিপিকে ডিফেন্ড করছি না, করিও না। আমরা এও বলছি না যে টিটিপি ধোয়া তুলসীপাতা। আমরা যা করছি, তা হলো, আপনি আপনার আর্গুমেন্টের পক্ষে যে দলিল হাজির করেছেন, তার গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড যাচাই করছি। আপনি পাকিস্তানি ইন্টেলিজেন্সের বয়ানকে প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছেন, আর আমরা সেই প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্ন করেছি।
.
আপনি আরও বলেছেন: "তাহলে সেইখানে জিহাদ করবার জন্য আপনি বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠাইতেছেন। মানে আপনি ভারতের পারপাস সার্ভ করতেছেন এই জিহাদ ব্যবসা দিয়ে।" | 204 |
| 4 | ~ ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আমরা আপনার আলোচনার জবাব দিয়েছি - পর্ব ৪ ~ | 187 |
| 5 | একেই আন্তোনিও গ্রামশির পরিভাষায় "হেজেমোনিক ন্যারেটিভ" বলা যেতে পারে। যেমন-"আমেরিকা মানেই ডেমোক্রেসি"এই ধারণাটি দীর্ঘদিন প্রচারিত হয়েছে। অথচ আজ একাডেমিক বিশ্বে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে, এবং আমেরিকাকে একটি ইম্পেরিয়ালিস্টিক স্টেট হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে।
ফুয়াদ সাহেব বারবার নিজেকে দ্বীনদার প্রমাণের মাধ্যমে শ্রোতার মনে একটি মনস্তাত্ত্বিক বায়াস তৈরি করছেন, যাতে শ্রোতারা মনে করে -
"যেহেতু ব্যারিস্টার সাহেব একজন দ্বীনদার মানুষ, তাই তিনি কালিমার পতাকাকে জঙ্গিবাদের প্রতীক বললে নিশ্চয়ই তা সত্য।"
সাইকোলজিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয় এভাবে - প্রথমে একটি গ্রহণযোগ্যতার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়, এরপর সেই গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভর করে প্রশ্নবিদ্ধ এজেন্ডা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
"আমরা যারা দ্বীন মানি... আমরা কি দ্বীন মানিনা? ... আমি কি দ্বীন মানি না?"
দর্শকের মনে তখন স্বাভাবিকভাবেই ধারণা তৈরি হয় - অবশ্যই ফুয়াদ সাহেব দ্বীন মানেন। অতএব, তিনি যদি বলেন কালিমার পতাকা জঙ্গিবাদের প্রতীক, তবে সেটিও হয়তো সত্য। আর এর সঙ্গে যখন কিছু "জঙ্গি" ট্যাগ-ওয়ার্ড যুক্ত হয়, তখন বিষয়টি হয়ে যায় সাইকোলজিক্যাল স্যাবোটাজ। যখন প্রশ্নবিদ্ধ ‘ফাতাহ কমব্যাট’ এর আলোচনা অ্যাংকর পয়েন্টে রাখা হয় তখন যুক্তির লাইন ব্লার হয়ে যায়।
.
ফুয়াদ সাহেব ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন যে বিশ্বকাপের সময় কালিমার পতাকা ওড়ানোর সঙ্গে এক অদৃশ্য জঙ্গি ইকোসিস্টেমের সংযোগ রয়েছে।
কিন্তু ব্যারিস্টার সাহেব, আপনি কি জানেন যে আর্জেন্টিনার বর্তমান উগ্র ডানপন্থী সরকার এবং রাষ্ট্রীয় নীতি ঐতিহাসিকভাবে ও বর্তমানেও ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ এবং ফিলিস্তিনি গণহত্যার প্রকাশ্য অংশীদার ও সমর্থক? আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ঐতিহাসিকভাবে ও বর্তমানে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি গণহত্যার প্রকাশ্য ও অন্ধ সমর্থক। মিলেই, খোদ তেল আবিব থেকে আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে এবং জাতিসংঘে ইসরায়েলের পক্ষে ভোট দিয়েছে। [৫]
হামাস বা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে আর্জেন্টিনা একটি জায়নবাদী রাষ্ট্রের সরাসরি সহযোগী। তাহলে আপনার লজিক অনুযায়ী, যে রাষ্ট্রটি ফিলিস্তিনে হাজার হাজার শিশুর ওপর ইসরায়েলি গণহত্যাকে নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে, সেই আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়ানোও তো সরাসরি সন্ত্রাসবাদ ও গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার শামিল। অথচ আপনার কাছে আর্জেন্টিনার পতাকার মিছিলে কোনো "টেররিজম" বা "জঙ্গি কানেকশন" দেখা যায় না; কিন্তু কালিমার পতাকায় আপনার চোখ কপালে ওঠে। অথচ, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদও স্বীকার করেছেন কালিমার পতাকা ক্যাম্পেইনের সঙ্গে কোনো জঙ্গি কানেকশন ছিল না।
ফুয়াদ সাহেব, আপনার অবস্থানটি তাহলে এমন দাঁড়ায়—
ইসরায়েল সন্ত্রাসী? - Yes.
ইসরায়েলের গণহত্যার পূর্ণসমর্থনকারী এবং সহযোগী আর্জেন্টিনা সন্ত্রাসী? - No.
পশ্চিমের সংজ্ঞায়িত "টেরোরিস্ট" দল এবং যারা "কালিমার পতাকা" ওড়ায়, তারা সন্ত্রাসী? - Yes.
কেবলমাত্র একই "কালিমার পতাকা" ওড়ানো সাধারণ মুসলিম যুবকও সন্ত্রাসী? কিংবা ভারতের এজেন্ডাবাহী সন্ত্রাসী? - Yes.
This is where you stand, Barrister Fuad!
.
চলবে ইনশা আল্লাহ ... | 219 |
| 6 | উত্তরঃ
ব্যারিস্টার ফুয়াদ,
ডেমোক্রেসির ফেরিওয়ালা হিসেবে আপনার এই বক্তব্যটি অত্যন্ত প্রবলেম্যাটিক এবং সেলফ কনফ্লিকটিং। আপনার পশ্চিমা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। গণতান্ত্রিক দর্শন মতে, কোনো প্রতীক বা পতাকা যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ না হয়, তবে যেকোনো নাগরিকের তা প্রদর্শন করার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ যদি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়াতে পারে, তবে কোনো মুসলিম যদি কালিমার পতাকা ওড়াতে চায়, সেটিও সম্পূর্ণ তার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু আপনি সেখানে "জঙ্গি ব্যবসা" এবং "বলদ" এর মতো শব্দ ছুড়ে দিয়ে পরোক্ষভাবে কালিমার পতাকাকে ক্রিমিনালাইজ করার চেষ্টা করেছেন। এটি করতে চাইলে কেবল কন্সপিরেসি থিওরি সাজিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছালে হবে না; বরং সাবস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স দেখাতে হবে।
লক্ষ্য করুন, নোয়াম চমস্কি প্রমাণ করেছেন, Democracy is a threat to any power system.[১] আপনি একজন ডেমোক্রেসির ধারক বাহক হিসেবে, আপনাকেও কি তাহলে আমরা পটেনশিয়াল থ্রেট হিসেবে ট্রিট করব?
.
আপনার কাছে প্রশ্ন—
গণতান্ত্রিক কাঠামোর কোন আইন বা ধারা অনুযায়ী বিশ্বকাপের সময় কালিমার পতাকা ওড়ানো নিষিদ্ধ? যদি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়ানো আইনি অপরাধ না হয়, তবে কালিমার পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে আপনার এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কেন?
যদিও আমরা এই সেক্যুলার রাষ্ট্রে চারদিকে কালিমার পতাকা ওড়ানোর ক্যাম্পেইন করতে বলি না, উৎসাহও দিই না। কারণ, আমরা জানি রাষ্ট্র গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলের জন্য কাউকে গ্রেফতার করবে না; কিন্তু কেবলমাত্র কালিমার পতাকা ওড়ানোর কারণে গ্রেফতার বা নির্যাতন করতে পারে, এমনকি "জঙ্গি" ট্যাগ দিয়ে জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। ইসলামপ্রিয় যুবক ও তরুণদের আমরা পরামর্শ দিই—চারদিকে কালিমার পতাকা ওড়ানোর ক্যাম্পেইন না করে, কালিমার মর্মবাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মেহনত করুন।
কিন্তু যারা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলেন, তারা কেন এবং কিসের ভিত্তিতে এ দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের মৌলিক স্টেটমেন্ট - কালিমা লিখিত পতাকাকে ক্রিমিনালাইজ করছেন? কেন তারা দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছেন?
ফুয়াদ সাহেব কালিমার পতাকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন যে নীতির ভিত্তিতে, তা হচ্ছে - তার মতে "জঙ্গি" দলগুলো এই পতাকা ব্যবহার করে; তাই এই পতাকা ওড়ানোও প্রশ্নবিদ্ধ। ফুয়াদ সাহেব, "স্যাফরন টেরোরিজম" একটি একাডেমিয়ায় প্রতিষ্ঠিত আলোচনা। [২] [২.১] ২.২]
কিন্তু আপনাকে গেরুয়া/স্যাফরন পতাকা নিয়ে উগ্র ইসকনিদের মিছিল সম্পর্কে কোনো কথা বলতে দেখা যায় না কেন? আপনি কি একই মূলনীতি অনুসরণ করে গেরুয়া পতাকাকেও ক্রিমিনালাইজ করতে রাজি আছেন?
.
ফুয়াদ সাহেব তার আলোচনায় বারবার -
"আমরা যারা দ্বীন জানি, বুঝি...",
"আমরা যারা দ্বীন মানার চেষ্টা করি..."
- এই ধরনের কথা বলে নিজেকে ইসলামের রেফারেন্স মডেল হিসেবে প্রজেক্ট করার চেষ্টা করেছেন।
এই মডেল আমাদের কাছে বেশ পরিচিত। আমরা এর আগেও এমন দেখেছি।
বিশ্ব রাজনীতিতে একই কৌশল ব্যবহার করে ইসরায়েল। তারা অনবরত বিশ্বমঞ্চে দুটি কথা প্রচার করে -
১. "We are the only democratic country in the Middle East."
২. "IDF is the most moral army in the world."[৩]
ইসরায়েল কেন বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েও অনবরত এই বুলি আওড়ায়?
একাডেমিক তত্ত্বের আলোকে এর পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে -
অন্টোলজিক্যাল সিকিউরিটি থিওরি (Ontological Security Theory):
আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিদ জেনিফার মিটজেন দেখিয়েছে, কোনো রাষ্ট্র বা সত্তা যখন বাস্তব জীবনে চরম অনৈতিকতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এবং তার পায়ের নিচের নৈতিক মাটি সরে যেতে থাকে, তখন সে তার অস্তিত্বের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ ঢাকতে সামাজিকভাবে একটি Hyper moral Self identity বারবার প্রচার করতে থাকে।[৪]
ফুয়াদ সাহেব এখানে ঠিক একই কাজ করছেন। তিনি জানেন, একজন সেক্যুলার লিবারেল ডেমোক্রেসির এজেন্ট হিসেবে বিশুদ্ধ ইসলামী উসুলের সামনে তার নিজের কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি নেই। তাই তিনি বারবার নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে নিজেকে বার বার"দ্বীন জানা ও মানা মুসলমান" এই স্টেটমেন্ট টি সামনে রাখছেন।
ফুয়াদ সাহেব নিজের এবং নিজের মতো মুসলিমদেরকেই আলোচনার জন্য গ্রহণযোগ্য রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
"আমরা যারা দ্বীন মানার চেষ্টা করি..." ফুয়াদ সাহেব, আপনার কি মনে হয় না আপনি যে ধারার এবং ধরণের দ্বীন মানেন, সেটিই একমাত্র মূলধারা - এমনটা নাও হতে পারে?
.
ইলিউয্যারি ট্রুথ ইফেক্ট (Illusory Truth Effect):
কগনিটিভ সায়েন্সের এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো একটি দাবি বা মিথ্যা যদি বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, তবে মানুষের মস্তিষ্ক তাকে সত্য ও স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করতে শুরু করে। | 196 |
| 7 | ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন -
উদ্ধৃতি শুরুঃ
“আমাদের দেশে বলদ ব্যবসায়ী নাই, জিহাদ ব্যবসা করতেছে। জঙ্গি ব্যবসা করতেছে। এই যে বলদগুলোকে দিয়ে দিয়া অনলাইনে এই পতাকা বানাইলো। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দিয়ে কালেমা খচিত পতাকা বানাইলো। ওয়ার্ল্ড কাপের সময় কেন? সারা বছর মনে থাকে না। পতাকা দিয়া কী হবে? মুসলমানরা কি? আমরা যারা মুসলমান, আমরা যারা দ্বীন জানি, বুঝি, একটু মানার চেষ্টা করি—আমাদের গায়ে কি পতাকার এই কালেমা লেখা থাকে? আমরা চলি, মুসলমানরা পথ চলে, কী কলেমা লেখা লেখা চলে? তাহলে এই কাজটা কেন করতে হইলো? এবং এই রংটা বেছে হইলো কেন? এবং এমন একটা সময়, যেখানে বিশ্বকাপ চলতেছে।
ওয়ার্ল্ড কাপের সময় কেন? সারা বছর মনে থাকে না। পতাকা দিয়া কী হবে? মুসলমানরা কি? আমরা যারা মুসলমান, আমরা যারা দ্বীন জানি, বুঝি, একটু মানার চেষ্টা করি—আমাদের গায়ে কি পতাকার এই কালেমা লেখা থাকে? আমরা চলি, মুসলমানরা পথ চলে, কী কলেমা লেখা লেখা চলে? তাহলে এই কাজটা কেন করতে হইলো এবং এই রংটা বেছে হইলো কেন?”
উদ্ধৃতি শেষ।
--- | 165 |
| 8 | (হামাস, ওয়ার অন টেরর এবং সেলফ কনফ্লিক্টিং পজিশন)
__
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন -
উদ্ধৃতি শুরু:
“কয়দিন আগে আমরা দেখলাম দিল্লিতে যেই ইসরাইল অ্যাম্বাসেডর আছে সে বলল যে, হামাস নাকি বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, বিভিন্ন সীমান্তে নাকি আটাক ট্যাটাক করবে... এগুলো তো, এগুলো কি হামাসের? হামাস কত সফিস্টিকেটেড অর্গানাইযেশন এবং হামাস কি ফিলিস্তিনের বাইরে অপারেট করে? না, সে তো গাজার বাইরে, সে তো পশ্চিম তীরের বাইরে, ফিলিস্তিনের বাইরে তো অপারেট করে না। তার ক্লিয়ার রুলস অফ বিজনেস আছে। সে পৃথিবীর অন্য কোনো কনফ্লিক্ট এ এনগেইজ হয় না। সে অ্যাবসোলিউটলি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, বাইতুল মুকাদ্দাসের স্বাধীনতার জন্য সে লড়াই করছে। এবং তার লড়াইয়ের যে লক্ষ্য, সেটাকে কোনোভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী এই কোনো ফ্রেমে ফেলা যাবে না“
উদ্ধৃতি শেষ।
–
উত্তর:
ব্যারিস্টার ফুয়াদ সাহেব, আমাদের চেয়ে আপনার ভালো জানার কথা যে, ৯/১১ এর পর কীভাবে পশ্চিমা বিশ্ব এবং বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে "War on Terror" নামক এই তথাকথিত ‘জঙ্গি দমনের’ ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল।
এই বিষয়ে বিশ্বখ্যাত ওয়েস্টার্ন অ্যাকাডেমিয়ার কিছু আলোচনা তুলে দেওয়া হলো -
১. নোয়াম চমস্কি (Noam Chomsky - Pirates and Emperors, Old and New):
চমস্কি আলোচনা করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় "সন্ত্রাসবাদ" আসলে রাষ্ট্র নিজেই পরিচালনা করে। আমেরিকা ও তার মিত্ররা, যেমন ইসরায়েল, নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ, খনিজ সম্পদ দখল ও ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে যেকোনো স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আন্দোলনকে "সন্ত্রাসবাদ" বা "টেররিজম" লেবেল দিয়ে দেয়।[১]
চমস্কি এটি বলতেও কোনো দ্বিধা করেননি যে, আমেরিকাই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী।[২]
চমস্কির এই বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরালো করেছেন প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফিন গিলবো। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আমেরিকা নিজেই আসলে সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।[৩]
.
২. এডওয়ার্ড সাঈদ (Culture and Imperialism / Orientalism):
এডওয়ার্ড সাঈদ তার ‘Orientalism’ এবং ‘Culture and Imperialism’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন কীভাবে পশ্চিমা অ্যাকাডেমিয়া এবং মিডিয়া মুসলিম সমাজকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ভায়োলেন্ট’ ও ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে চিত্রিত করে একটি ‘ইসলামোফোবিক ন্যারেটিভ’ তৈরি করেছে।[৪]
.
ফুয়াদ সাহেব, আপনি যখন বাংলাদেশে ‘জঙ্গি’ ট্যাগিং করেন, তখন কি আপনি অজান্তেই এই পশ্চিমা মেথোডোলজি’ই অনুসরণ করছেন না?
বাংলাদেশে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বা ‘জঙ্গিবাদ’-এর যে মডেল আমরা গত দেড় দশকে দেখেছি, তা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "Global War on Terror"এর একটি এক্সপোর্টেড ভার্সন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, খুনি হাসিনা সরকার এই পশ্চিমা ন্যারেটিভ কৌশলে ব্যবহার করে দমন, পীড়ন চালিয়েছে।[৫]
CAGE International এর রিপোর্টেও উঠে এসেছে কীভাবে ‘Anti-Terrorism Act’ এবং ‘Digital Security Act’ এর মতো আইন ব্যবহার করে একটি ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরি করা হয়েছিল।[৬]
খালেদ এ বেইদুন তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কেবল একটি পশ্চিমা প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি গ্লোবাল ক্যাম্বেইন যার মাধ্যমে ইসলামোফোবিয়া বিশ্বজুড়ে এক্সপোর্ট করা হয়েছে।[৭]
.
ফুয়াদ সাহেব, এখন আপনার ‘ইউ টার্ন’ লক্ষ্য করুন:
আপনি (আগের পর্বে) "জঙ্গি ব্যবসা" এবং "জিহাদ ব্যবসা" নিয়ে ট্যাগিং করলেন, অথচ হামাসের সংগ্রাম আপনি "জিহাদ" এবং "বৈধ প্রতিরোধ" বলছেন, একে সন্ত্রাসী ফ্রেমে ফেলতে আপত্তি করছেন।
আপনি হামাসকে সন্ত্রাসী বলছেন না সেটি অবশ্যই ভালো কথা, বাস্তবেও তারা সন্ত্রাসী নয়।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রেসক্রিপশন ধার করে আপনি বাংলাদেশে "জঙ্গি" ট্যাগিং/ফ্রেমিং করছেন, সেই একই আমেরিকা ও পশ্চিমা শক্তির অফিশিয়াল তালিকায় কিন্তু হামাস "সন্ত্রাসী সংগঠন"। হামাসের জিহাদ, তাদের কাছে টেরোরিজম, যা আপনার ‘লেন্সে’ নয়।
আপনি একই সময়ে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের তৈরি করা "জঙ্গি“ ন্যারেটিভ অনুসারেই নিজের দেশে ‘জঙ্গি’ ফ্রেমিং করছেন, আবার সেই একই মুখে হামাসের যুদ্ধকে জিহাদ বলছেন।
এই স্ববিরোধী অবস্থান কি একজন আইনজীবীর সাজে?
.
আপনি একদিকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দেওয়া চশমা চোখে পরবেন, আবার সেই চশমা দিয়ে শুধু নিজের পছন্দের জিনিসটুকুই ফিলিস্তিনি জিহাদ হিসেবে দেখতে চাইবেন - কেন এটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নয়?
ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আপনি হয় পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী প্রোপাগান্ডা’র এই "War on Terror"-এর ন্যারেটিভ অ্যাকনলেজ করুন এবং স্বীকার করে নিন -
আমি যখন ‘জঙ্গিবাদ’ বলি, তখন তা পশ্চিমের শেখিয়ে দেওয়া মডেলের জঙ্গিবাদ’কেই বলি এবং সেভাবেই আলোচনা করি, আর না হয় নিজের এই দ্বিমুখী নীতি স্বীকার করে নিন।
–
চলবে ইনশা আল্লাহ … | 171 |
| 9 | ~ ব্যারিস্টার ফুয়াদ - আমরা আপনার আলোচনার জবাব দিয়েছি - পর্ব (২) ~ | 162 |
| 10 | “বাংলাদেশে জিহাদ ব্যবসায়ী আছে বাংলাদেশে জঙ্গি ব্যবসায়ী আছে এটা একটা বিজনেস মাথায় রাখতে হবে এই বিজনেসের সাথে একটা গ্লোবাল ফেনোমেনা জড়িত এবং এই ব্যবসার সাথে আমাদের ধর্মকে ট্যাগ করে দিয়ে আমাদের কিছু আলেম ওলামায়ে কেরাম যারা উগ্র চিন্তায় বুদ্ধিতে খুবই স্থূল এই লোকগুলো কথাবার্তা বলার সময় তো জবানের কোন নিয়ন্ত্রণ নাই এগুলো বইলা টইলা এইটার একটা ন্যারেটিভ তৈরি করে এবং করে যেটা করতেছে ইসলাম ধর্মকে তো ছোট করে এই ধর্মীয় এই ধর্মটাকে যারা অনুসরণ করে তাকে প্রত্যেকদিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।”
উত্তরঃ
ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আপনি যখন বললেন - ‘আমাদের ধর্ম’ আপনার এই আমাদের বলতে কারা? তারা ধর্মকে কিভাবে বুঝে? আপনার মত সেকুলার ডেমোক্র্যাটিক লেন্সে? তারা কি আপনার মত র্যান্ড কর্পোরেশনের শিখিয়ে দেয়া ‘উগ্রবাদ’ সবকের কোচিং করে?
ফুয়াদ সাহেব, আপনি যখন বললেন - ‘আমাদের ধর্ম’ তখন আপনি টেকনিক্যালি যা করেছেন তা হচ্ছে নিজের মত, বিশ্বাসের গ্রহনযোগ্যতার সুপিরিওরিটি এবং অথরিটি তৈরি করতে চেয়েছেন। অনেকটা এমন - ব্যারিস্টার ফুয়াদ এবং তার অনুরূপ ধর্মের বুঝের উপরে যারা আছে তারাই সঠিক। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এটা ইসলাম ধর্ম। অন্য কোন ধর্ম হলে আপনি পার পেয়ে যেতেন, কিন্তু এটি ইসলাম ধর্ম এবং এর রেফারেন্স পয়েন্ট ব্লার হয়ে যাওয়া বা কনফিউজ হয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। আপনি ধর্ম দেখার যে লেন্স ব্যবহার করছেন ইসলামে তা বাতিল।
.
সম্ভবত আপনার বিশ্বাস এবং মূল রাজনৈতিক দর্শন দাঁড়িয়ে আছে উদারনৈতিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের (Secular Liberal Democracy) ওপর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাস সাক্ষী, গণতন্ত্রের জন্মই হয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা থেকে ধর্মের কর্তৃত্বকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ বা পৃথক করার মাধ্যমে (Separation of Church and State)। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কোনো ব্যক্তি ইসলামের মতো একটি জীবনব্যবস্থার কোনো বিষয়ে কথা বলার নৈতিক বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অধিকার বা Sultah Ma'rifiyyah (Epistemic Authority) রাখেন না।
আপনি ‘জঙ্গি ব্যবসা’ টার্ম উল্লেখ করে এক শ্রেণীর আলেমের ঘাড়ে দায় চাপিয়েছেন তারা ধর্মকে ট্যাগ দিয়ে ন্যারেটিভ তৈরি করে। আপনার পুরো দাবীটি অত্যন্ত স্থূল এবং ওজনে হালকা, কারণ আপনি এখানে ‘জঙ্গি’ ধারণা দ্বারা যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হচ্ছে পশ্চিমের তৈরি করে দেয়া ‘জঙ্গি মডেল’। বাংলাদেশে বিগত দশকগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকারগুলো কীভাবে পশ্চিমা ও আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর স্বার্থে "জঙ্গি ব্যবসা" বা "Radical Islam"-এর ন্যারেটিভ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছিল, তা আজ প্রমাণিত এবং অ্যাকাডেমিকভাবে ডকুমেন্টেড। আপনি আজও ঠিক অই জঙ্গি মডেলটি সামনে রেখে আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব প্রমান করে চলেছেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আপনার কাছে আমাদের সরাসরি প্রশ্ন:
আপনার আদর্শিক ভিত্তি যেখানে সেকুলার ডেমোক্রেসি, যা ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে - সেখানে আপনি কোন যোগ্যতায় ইসলাম ধর্মের মহাজন সেজে ‘আমাদের ধর্ম’ ন্যারেটিভ তৈরি করছেন? কোন উত্তর আছে কি?
.
চলবে ইনশা আল্লাহ … | 175 |
| 11 | ব্যারিস্টার ফুয়াদ সাহেব সাম্প্রতিক সময়ে যে দুটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, তার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ২০ মিনিটেরও কম এবং মোট শব্দ সংখ্যা আনুমানিক ২০০০-এর কাছাকাছি। কিন্তু এই সামান্য ২০০০ শব্দের ভেতর তিনি - জিওপলিটিক্স, জিহাদ, শরিয়াহ, উসুল, ফিকাহ, ইসলামী রাষ্ট্রের সংজ্ঞায়ন, ফিলিস্তিন, হামাস, আরাকান সংকট, খারেজি এবং তাকফিরসহ প্রায় ২৫টিরও বেশি অতি-জটিল রাজনৈতিক ও ধর্মতাত্ত্বিক ইস্যু উল্লেখ করেছেন। যেকোনো সাধারণ দর্শক প্রথমবার শুনলে তার এই তথ্যের মহাসমুদ্রে ভেসে যেতে পারেন এবং মনে করতে পারেন - বক্তা বোধহয় এক অগাধ পণ্ডিত! কিন্তু আমরা যখন যুক্তিবিদ্যা (Logic), জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology), মনস্তত্ত্ব (Psychology) এবং একাডেমিক মেথডোলজির ফিল্টার দিয়ে তার এই বক্তব্য ব্যবচ্ছেদ করি, তখন তার এই আপাত-পাণ্ডিত্যপূর্ণ উপস্থাপনার আড়ালে অনেক অসঙ্গতি প্রকাশ হয়ে যায়।
.
ব্যারিস্টার ফুয়াদের মূল আলোচনার ব্যবচ্ছেদ আমরা করব ইনশা আল্লাহ তবে এর আগে আমাদের কিছু মৌলিক বিষয় জেনে নেয়া খুব প্রয়োজন।
১. যুক্তিবিদ্যার মানদণ্ডে ‘গিশ গ্যালপ’ এবং ক্যাটাগরি এররের ছড়াছড়ি ব্যারিস্টার ফুয়াদের পুরো উপস্থাপনটিতে বেশ কিছু তাত্বিক দুর্বলতা এবং প্রবলেম আছে। আমরা কয়েকটি উল্লেখ করছি -
ক) দ্য গিশ গ্যালপ (The Gish Gallop)এটি বিতর্কের এমন এক কুখ্যাত ও অনৈতিক কৌশল, যেখানে বক্তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শ্রোতাদের সামনে একের পর এক অসংখ্য দাবি, তথ্য, আধা-সত্য এবং জটিল বিষয়ের অবতারণা করতে থাকেন। উদ্দেশ্য একটাই - শ্রোতাকে তথ্যের চাপে পিষ্ট (Overwhelm) করা। ২০ মিনিটের ভিডিওতে ২৫টি অতি-সংবেদনশীল বিষয়ের অবতারণা করে ফুয়াদ সাহেব মূলত এটিই নিশ্চিত করেছেন যেন শ্রোতা কোনো একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে দাঁড়িয়ে চিন্তা করার বা ফ্যাক্ট-চেক করার সময় না পান। একাডেমিক আলোচনায় যেখানে একটিমাত্র শব্দ (যেমন: 'জিহাদ' বা 'ইসলামী রাষ্ট্র') ডিফাইন করতেই শত পৃষ্ঠার গবেষণার প্রয়োজন হয়, সেখানে তিনি কোনো সংজ্ঞা না দিয়েই ঝড়ের গতিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন।
.
খ) ক্যাটাগরি এরর বা শ্রেণিগত বিভ্রম (Category Error) - ফুয়াদ সাহেব তার আলোচনায় আফগানিস্তানের 'তালেবান', পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী 'টিটিপি', বৈশ্বিক সালাফি-জিহাদি নেটওয়ার্ক 'আল-কায়েদা' কিংবা উগ্রপন্থী 'আইসিস' ও 'বোকো হারাম' - সবগুলোকে একই ফ্রেমে নিয়ে এসেছেন। এটি একটি মারাত্মক একাডেমিক অপরাধ। ভূ-রাজনীতি ও আদর্শ এবং পলিসিগত অবস্থান থেকে প্রতিটি গোষ্ঠীর আদর্শিক ভিত্তি, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং কৌশলগত লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা। এমনকি এ ব্যাপারে যারা বিশেষজ্ঞ তারাও এই শ্রেনী পার্থক্য কখনো এক করে দেননি।
.
২. জ্ঞানতাত্ত্বিক শূন্যতা (Epistemological Void) - জ্ঞানতত্ত্ব বা এপিস্টেমোলজির প্রধান শর্ত হলো - যেকোনো বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার মৌলিক চলক বা ভেরিয়েবলগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। ফুয়াদ সাহেব এখানে সম্পূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক অসততার আশ্রয় নিয়েছেন যেমন -
সংজ্ঞায়ন এড়িয়ে যাওয়া (Avoiding Definitions or Definitional dodge): ফুয়াদ সাহেব দাবি করেছেন, কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা জিহাদ হতে পারে না। কিন্তু তিনি একবারও স্পষ্ট করেননি যে - একটি "মুসলিম রাষ্ট্র" বলতে শরিয়াহ’র দৃষ্টিতে আসলে কী বোঝায়? রাষ্ট্রের সংবিধান যদি সেক্যুলার বা মানবরচিত আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে শরিয়াহর "উসুল" (মূলনীতি) অনুযায়ী সেই রাষ্ট্রের আইনি অবস্থান কী? তিনি "জিহাদ" শব্দটির ইসলামিক ও আইনি ডাইমেনশনগুলোকে কোনো প্রকার "উসুল" বা "ফিকাহ"-এর মানদণ্ডে ব্যাখ্যা না করেই নিজের একটি মনগড়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। একাডেমিক দুনিয়ায় একে বলা হয় "মেথডোলজিক্যাল ভ্যাকিউম" (Methodological Vacuum) বা পদ্ধতিগত শূন্যতা, যেখানে গবেষণা আলোচনার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছাড়াই সরাসরি মনগড়া ফলাফলে উপনীত হওয়া হয়।
.
৩. দ্বিচারিতা ও সিলেক্টিভ বায়াস (Double Standards & Selective Bias) - তিনি ভারতের মুসলিম নির্যাতন, কাশ্মীর সংকট বা আসামের উইঘুর-সদৃশ পরিস্থিতি নিয়ে টিটিপি বা উগ্রপন্থীরা কেন কথা বলে না - তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু একই সমীকরণে তিনি পাকিস্তানের সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের নিজেদের নাগরিকদের ওপর চালানো ভয়াবহ দমনপীড়ন ও মার্কিন ড্রোন হামলার লাইসেন্স দেওয়ার নির্মম ইতিহাস সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। এটি তার চরম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব (Political Bias) এবং একচোখা দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রমাণ করে।
এরকম আরো অনেক প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান আমরা খুঁজে পেয়েছি তবে আলোচনা লম্বা হয়ে যাবার ভয়ে আমরা এই সেকশন আর লম্বা করতে চাচ্ছিনা বরং শুরু করা যাক মূল আলোচনা।
.
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেছেন - | 227 |
| 12 | ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আমরা আপনার আলোচনার জবাব দিয়েছি - পর্ব ১
- | 237 |
| 13 | তাহলে আমরা কি হাল ছেড়ে দিব? মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাবো? মোটেও নয়। মাঠ ছেড়ে পালানো নয় বরং - নিজের মাঠ নির্মাণ করা। ডিফেন্স মোড থেকে বেরিয়ে আসুন। নিজের আদর্শিক বিশ্বাসের শিকড় খুঁজে বের করুন আর সেখানেই ফিরে যান। নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত করুন, আমাদের বিশুদ্ধ আদর্শ বিশ্বাস এবং তাওহিদের ভিত্তির উপরে। ন্যায়, ইনসাফ এবং পাপ পূণ্যের মুল্যবোধের উপরে। তাদেরকে সেই সংজ্ঞা শিক্ষা দিন যা আমাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়, সেই সংজ্ঞা নয় যা তাদের মেকানিজম শিক্ষা দেয়।
.
আপনার পরিবার আপনার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন, পরিবারকে তাদের তৈরি ন্যারেটিভের হাতে ছেড়ে দিবেন না। সন্তানকে বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও মূল্যবোধের উপর গড়ে তুলুন, তাদের সিস্টেমের অফার করা, প্রেসক্রাইব করা বিশ্বাস এবং মূল্যবোধের উপর নয়। আপনি, আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু এবং সম্ভাব্য চারপাশের মানুষ নিয়ে একটা সক্রিয় ইন্টেলেকচুয়াল এবং কালচারাল স্পেস দখল করুন। চ্যালেঞ্জ করুন। ভুল শুনেন নি, চ্যালেঞ্জ করুন, কারণ আজকের দুনিয়ায় সেই টিকে থাকবে যে টিকে থাকার অধিক যোগ্য, নিজের স্থান তৈরি করে নিন।
Herbert Marcuse সতর্ক করেছিল - "The administered world... represses every genuine alternative." [৫]
.
মনে রাখবেন - তারা চায় আপনি বিকল্প না দেখুন, না ভাবুন। তারা চায় আপনি তাদের খেলার মাঠেই থাকুন - রেফারি তাদের, নিয়মও তাদের, গোলপোস্টও তারাই সরায়।
.
Last but not the least
মিথ্যার বিরুদ্ধে সব সময়ে খণ্ডন দিয়ে লড়া যায় না, বিশেষ করে যখন সত্য এবং মিথ্যার সীমারেখাই নষ্ট করে দেয়া হয়, যখন মিথ্যা নিজেই বলে "আমি মিথ্যা নই"। কিন্তু যে মানুষ নিজে সত্যের উপর শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, নিজের পরিবার নিয়ে, নিজের শক্তি নিয়ে নিজের আপন পরিমণ্ডল নিয়ে, নিজের আদর্শ নিয়ে, নিজের বিশ্বাস নিয়ে, নিজের পায়ের নিচের মাটির উপরে দখল নিয়ে - তার সামনে এই মিথ্যা যন্ত্র অসহায়, আজ না হয় কাল, ইনশা আল্লাহ।
কারণ একটা মিথ্যা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় এমন মানুষকে - যে তার সাথে এনগেইজ ‘ই করে না, বরং নিজের বিশ্ব নিজেই গড়ে নেয়া শুরু করে।
যে মিথ্যার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলেনা তুমি মিথ্যা বরং সে ভরাট আত্মবিশ্বাসের সাথে মিথ্যার সামনে বলে আমি সত্য।
লক্ষ্য করুন আল্লাহ কত সুন্দর করে এ বিষয়টির ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন -
بَلْ نَقْذِفُ بِٱلْحَقِّ عَلَى ٱلْبَـٰطِلِ فَيَدْمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌۚ
কিন্তু আমি সত্য দ্বারা আঘাত হানি মিথ্যার উপর; ফলে ওটা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। [আল আম্বিয়া - ১৮]
আমরা কি তেমন মানুষ হওয়ার কথা ভেবেছি কখনো? | 564 |
| 14 | .
When power lies - thats not a mistake, thats a ‘Mechanism’
ক্ষমতার মিথ্যা কোনো নৈতিক পতনের ঘটনা নয় বা কোন ভুল নয়, এটা একটা deliberate mechanism. Hannah Arendt তার বিখ্যাত রচনায় লিখেছে -
"The deliberate denial of factual truth, the ability to lie and the capacity to change facts, the ability to act - are interconnected; they owe their existence to the same source: imagination."[১]
অর্থাৎ, মিথ্যা এবং ক্ষমতা একই উৎস থেকে জন্মায়। এটা কোনো আকস্মিক পথভ্রষ্টতা নয়, এটা রাষ্ট্রের সক্রিয় হাতিয়ার। এই হাতিয়ার কীভাবে কাজ করে? নোয়াম চমস্কি এবং এডওয়ার্ড হারম্যান তাদের যুগান্তকারী গ্রন্থ Manufacturing Consent-এ দেখিয়েছে:
"The mass media serve as a system for communicating messages and symbols to the general populace. It is their function to amuse, entertain, and inform, and to inculcate individuals with the values, beliefs, and codes of behaviour that will integrate them into the institutional structures of the larger society." [২]
মিডিয়া, রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট স্বার্থ - এই ত্রিভুজ মিলে একটা প্রোপাগান্ডা মেশিন তৈরি করে। এই মেশিনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গেলে আপনাকে ‘fringe’ বলা হয়, radical কিংবা ‘terrorist’ বলা হয়। এটা শুধু তত্ত্ব নয়, এটাই আমাদের চোখের সামনে প্রতিদিন ঘটছে।
.
Counter Narrative: The trap you don’t recognize!
Counter Narrative একটা সীমা পর্যন্ত প্রোডাকটিভ, এবং শর্ত সাপেক্ষে। Counter Narrative অবশ্যই তা কাজে আসে তবে এখানে একটা অদৃশ্য বাফার যোন আছে যা অনেকেই বুঝতে পারেননা। বাস্তবতা হচ্ছে - even the counter narrative has it’s own limitations. একটা মিথ্যা ডিবাঙ্ক করতে ,করতে গেলে আরও একশোটা মিথ্যা সামনে চলে আসে। এটা কি কাকতালীয়? না। Jacques Ellul তার প্রোপাগান্ডা গ্রন্থে এই কৌশলটাকেই ব্যাখ্যা করেছিল:
"The propagandist naturally cannot reveal the true intentions of the principal for whom he acts... That would be to submit the principal to public judgment." [৩]
যারা প্রোপাগান্ডা ছড়ায় - তারা কখনো প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, শুধু মিথ্যার স্তর বাড়াতে থাকে। আর আমরা? একটার পর একটা মিথ্যার পেছনে দৌড়াই, এক্সপোজ করতে করতে নিজেদের শক্তি, সময় এবং মনোযোগ খরচ করি তাদেরই তৈরি করা টার্ফে, আমরা মনে করি আমরা তাদের হারিয়ে দিচ্ছি কিন্তু বুঝতেই পারিনা আমরা আসলে তাদের টার্ফে খেলছি!
এই প্রসেস এর গভীরতা Michel Foucault বুঝিয়েছিল তার power/knowledge তত্ত্বে - যেখানে সত্যকে ডিফাইন করার ক্ষমতা যার কাছে, শাসনের ক্ষমতা তারই। [৪] বা উল্টো করে বললে ক্ষমতা যার কাছে সেই সত্যকে ডিফাইন করে।
এরপরেও থাকে শক্তির ভারসাম্যের অভাব। মনে করুন আপনি ‘দা বেস্ট’ কাউন্টার ন্যারেটিভ নিয়ে আসলেন কিন্তু সেটি উপস্থাপন করার জন্য আপনার কাছে কোন মাইক নেই, কোন স্টেজ নেই, কোন পোডিয়াম নেই। আপনি কথা বলতে গেলে আপনার অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্ট করে দেয়া হয়, আপনি সেমিনার করতে গেলে আপনাকে হুমকি দেয়া হয়, আপনি হঠাত বুঝতে পারেন - you need power, not policy.
.
লক্ষ্য করুন, আপনি কি কারো তৈরি করা বিচার মঞ্চে নিজের নির্দোষতা প্রমাণ করতে পারবেন - যেখানে বিচারক, জুরি, সাক্ষী এমনকি আইনের ভাষাটাও তাদের? এটা কোন বিতর্ক নয় বা সুপারফিশিয়াল কোন অ্যানালোজি ও নয় এটাই রিয়্যালিটি।
এই সিস্টেমটি বলে - তুমি কথা বল, তোমার সমস্ত মেধা শক্তি শেষ কর, আমরা অপেক্ষা করছি। কিংবা তুমি কথা বল আমরা তোমার বিপক্ষে আরো ১০০ জনকে দাড় করিয়ে দিচ্ছি লড়তে থাকো দেখা যাক তুমি কতখন টিকে থাকতে পারো! এই লড়াই আরো কঠিন হয়ে যায় যখন আপনি বুঝে যান এখনো এমনকি এই সিস্টেমের বাইরে থাকা দর্শক সমাজ আপনার ন্যারেটিভ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত না, এবং এটি ক্ষমতাশীলরাও জানে।
দুঃখজনক সত্য হলো - এই প্রক্রিয়ার কোনো টেক্সটবুক স্বীকৃত নাম নেই বললেই চলে। Propaganda studies, political communication বা critical theory কোর্সে এই systematic lie-flooding- এর আলাদা কোন আলোচনা আছে কিনা আমাদের জানা নেই, অথচ এটাই আজকের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক অস্ত্র। One fine morning - a big fat lie can be the policy or legal binding for you and you just can not do anything about it!
.
What should we do then? | 547 |
| 15 | ~ মিথ্যা যখন বলে "আমিই সত্য" তখন আপনি কি করবেন?~
.
আপনি অনেক শুনেছেন নিশ্চয়ই - আমেরিকা বলছে "আমরা শান্তির দূত", ইসরাইল দাবি করছে, "We are the most moral army in the world"। কলিন পাওয়েল ২০০৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল ইরাকে WMD আছে - যা পরে ইতিহাসের অন্যতম state sponsored lie হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। কিংবা এও স্মরণ করুন যখন হাসিনার মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছিল - ‘গুম বলে কিছু নাই’। আচ্ছা বলুনতো যখন রাষ্ট্র যখন এরকম মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আমাদের শাসন করে তখন আপনি কী করতে পারেন? তথ্য দিয়ে খণ্ডন? প্রমাণ সাজানো? Counter narrative-এর চেষ্টা?
ভুল, এটা হচ্ছে একটা ডেলিবারেট ফাঁদ।
অর্থাৎ, মিথ্যা এবং ক্ষমতা একই উৎ | 572 |
| 16 | ইজরায়েলকে অদম্য ভালোবেসে যাওয়া ছেলেটা ঠুস করে মরে গ্যালো! | 1 686 |
| 17 | অ্যামেরিকার 'সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স' এর অবস্থা! | 1 690 |
| 18 | Saffron/geruya flag and the battle cry ‘jay shree ram’ - linked to gujrat genocide is alarmingly present in Bangladesh! | 2 401 |
| 19 | তুমি কি ঘোড়ার পিঠে ছিলে ...
নাকি শরাবের পেয়ালায়? | 2 654 |
| 20 | মনে রাখবেন, চাণক্য নীতিতে কোনো কিছুই 'র্যান্ডম' নয়। প্রতিটি উস্কানি, প্রতিটি সীমান্ত লঙ্ঘন এবং প্রতিটি সাম্প্রদায়িক কার্ড একটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সময় এসেছে এই ডটগুলো কানেক্ট করার!
Follow our page, subscribe our Youtube channel. Thank You. | 2 884 |
