খুব সম্ভবত বছর তিনেক আগের কথা। আ*/ও*/য়া*/মী ফ্যা*/সিবাদের আমল।
শরিয়াহপন্থীরা তখনও সময়ে সময়ে নানান বাঁধার সম্মুখীন হতো। এখন যেমন পাবলিক স্পেইস করে নিয়েছে তারা, তখনতো এটারও সুযোগ ছিলো না।।
এখনকার ডমিন্যান্ট ডানপন্থী সেক্যুলাররা তা-ও লোক লজ্জায় কিছুটা রাখঢাক রাখে।
সে সময়ের ক্যালকেশিয়ান, **ন্দুত্ববাদী সেক্যুলারদের তো এইটুকুন লজ্জাও ছিলো না। তারা প্রকাশ্যে বলতো ইসলামপন্থীদের বেলায় তারা স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতার যুক্তি মানে না, গণতন্ত্র মানে না। যদিও গণতন্ত্র আসলেই এক্সিস্ট করে না!
এক ফেইসবুক ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা ছিলো না কথা বলার। আমার মনে হতো আমরা খুবই সঙ্কীর্ণ একটা ধাতব ঘরে বন্দী। সর্বস্ব দিয়ে আওয়াজ করছি, কিন্তু আমাদের আওয়াজ দেয়ালের বাইরে যাচ্ছে না। প্রচন্ড অসহায়।
এখন যেমন ডানপন্থী সেক্যুলাররা (বড় ডানপন্থী দলটা সহ) শরিয়াহপন্থীদেরকে নানানভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে, তখনও ফেইসবুকে আ*/ও*/য়ামী*/লীগের সাথে ডানপন্থী সেক্যুলাররাও অংশ নিতো।
গভীর হতাশা থেকে আমি আসিফ ভাইকে একদিন হোয়াটসএ্যাপে বললাম- "ভাই, এদের যে নৈতিক অবস্থা! এদের সাথে এ্যাঙ্গেইজমেন্টের, আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার তো কোনো অবস্থাই নাই। এরা আমাদেরকে কখনোই সাইড দিবে না। এদের সাথে কথা বলার একটাই ভাষা- অ*//স্ত্র। ব্রা*/শফা*/য়ার করে দেয়া।"
ভাই আমাকে বললেন- হতাশ হওয়া যাবে না।
আরেকটু স্মৃতিচারণ করি।
সোশ্যাল এ্যাক্টিভিজমের একটা প্রকল্প-প্ল্যান আমি আসিফ ভাইয়ের সাথে শেয়ার করি। বললাম, ভাই আমরা প্রায় পাঁচ/ছয়জনের একটা টীম আছি। কাজ করবো, গাইড করেন।
সাথে ছিলো বিইউপির আরো দুই তিনজন জুনিয়র; দুইজনই বিবিএর। ফারহান সাকিব চৌধুরী, এখন খুব সম্ভবত ইউএসএ তে। বিউপির আরেক জুনিয়র ইশতিয়াক, এখন ঢাবিতে। আর ছিলো নর্থ-সাউথের একজন।
পরবর্তীতে এখানে এসে জয়েন করে ইরফান সাদিক আর নাঈমুর রহমান। এখান থেকেই হয় 'মাঝিমাল্লার দল'।
আমি যাদেরকে সাথে করে ভাইয়ের কাছে এসেছিলাম, 'মাঝিমাল্লার দল' শুরু হওয়ার সময়, তারা কেউই ছিলো না অবশ্য। কাউকে আমিই বাদ দিয়েছি। কেউ ইনএ্যাক্টিভ হয়ে গেছে।
যারা বলে, আসিফ আদনান আ*/ইসি*//স রিক্রুটার; অথবা শরিয়াহপন্থীরা এখানে স্ব*/শ*//স্ত্র কাজ করতে চায়, তথাকথিত সonত্রাসী কাজ করতে চায়; তাদের মা ভিন্ন, কিন্তু বাপ এক। সেই বাপ হচ্ছে পশ্চিমের মেয়াদোত্তীর্ণ ও*/য়ার অন টের*/র।
এই জায়গায় ডানপন্থী সেক্যুলার আর ক্যালকেশিয়ান, **ন্দুত্ববাদী বামপন্থী সেক্যুলার মিলেমিশে একাকার।
যদি আসিফ আদনান ডানপন্থী দিল্লীস্টারগোষ্ঠী আর বামপন্থী দিল্লীস্টারগোষ্ঠীর বয়ান অনুযায়ী আ*/ইসি*//স রি*//ক্রু*//টার হয়ে থাকতেন অথবা হয়ে থাকেন, তাহলে তার হাতে যথেষ্ট সুযোগ আছে পোলাপাইনকে আ*//ইসি*/স বানানোর।
আমি ওনার কাছে সোশ্যালী আপওয়ার্ড এবং সম্ভাবনাময় কিছু ছেলে নিয়ে গিয়েছিলাম সোশ্যাল এ্যাক্টিভিজম প্রকল্প নিয়ে। ভাই তখন বলতে পারতেন, 'না! এইসব দিয়ে হবে না। স্ব*/শ*//স্ত্র করতে হবে। চলো, স্ব*/শ*//স্ত্র কিছু করো।'
সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর আমাদের বয়স- রিক্রুট করার জন্য সব মিলিয়ে সেই সময়টাতো পারফেক্ট ছিলো।
আসিফ ভাইয়ের প্রতি আমাদের মুগ্ধতা এখনও আছে। তবে, সে সময়টাতে আকর্ষণের পরিমাণ ছিলো বেশি। চাইলেই হয়তো আমাদেরকে কনভিন্স করতে পারতেন কোনো কাজের জন্য।
সেসব কিছুই করেননি তিনি। পড়িয়েছেন, আমাদের চিন্তাকে পরিশীলিত করেছেন, কাঠামোবদ্ধ করেছেন। হতাশ হলে ধৈর্য্য ধরে কাজ করে যেতে বলেছেন।
আসিফ আদনানের কাছে এরকম অনেক তরুণ যায় ওনার গাইডেন্সে কাজ করতে। ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছয় বছরের মতো। আমি ওনার ব্যক্তিত্ব যতটুকু জানি, বুঝি- কাজের জন্য কাউকে উনি ডাকেন না, জোর করেন না।
যারা তার আশপাশে যায়, স্বেচ্ছায় যায়। এদেরকে চাইলেই তিনি নানান আজগুবি কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
করেন না তো।
আরেকটা স্মৃতিচারণ করে শেষ করবো।
আমার মাস্টার্সের সময়ের কথা। আমার একটা চাকরি খুব বেশি দরকার ছিলো। আমাদেরই সাইকির এক ভাইয়ের ফার্মে পার্ট টাইম চাকরির কথা হয়। ভাইও দাওয়াতি কাজে বেশ এ্যাক্টিভ মানুষ। আর যে স্যালারি দিবেন বলেছেন, সেটাও অনেকের ফুলটাইম জবের স্টার্টিং স্যালারির বেশি।
ভাই জানেন আসিফ ভাইয়ের সাথে আমার একটা সম্পর্ক আছে। তিনি আমাকে একটা শর্ত দিলেন- আসিফ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখতে হবে।
ওয়াল্লহি, এমন না যে উনি আসিফ ভাইকে পছন্দ করেন না। ভালোই পছন্দ করেন। কিন্তু, উনি ওনার ব্যবসায়িক নিরাপত্তার কথাও ভাবছিলেন।
কিন্তু, আসিফ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করার শর্ত আমি মানতে পারলাম না। চাকরিটাও আর হলো না।
আলহামদুলিল্লাহ, পরে আমার চাকরি হয়েছে। বেশ ভালো একটা থিংকট্যাংকে আমি পেইড ইন্টার্নশিপ পাই। এবং বেশ ফ্লেক্সিবল শিডিউলেই।
এটা মনে পড়লো মীর সালমান শামিলের একটা লেখা দেখে।
জু*/লা*/ইয়ে ডিসাইসিভ ভূমিকা রাখা ঊনিশজন ব্যক্তি নিয়ে মীর সালমানের একটা সিরিজ আছে। সেই ঊনিশজনের ভেতরে একজন আসিফ আদনান।