আকাবির-কথন
Ir al canal en Telegram
Mostrar más
El país no está especificadoLa categoría no está especificada
1 215
Suscriptores
+524 horas
+277 días
+4230 días
Archivo de publicaciones
1 215
আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيْهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ.
'আমি তো তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছি কিতাব, যাতে আছে তোমাদের উল্লেখ, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?'
এই আয়াত আমাদের বলছে যে, কুরআন এমন এক স্বচ্ছ ও বিশ্বস্ত আয়না যার মধ্যে প্রতিটি মানুষ আপন চেহারার রেখাগুলো পড়তে পারে। সমাজে তার অবস্থান জানতে পারে। আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা কী, তাও জেনে নিতে পারে। কেননা কুরআন মানুষের চরিত্র ও গুণ বর্ণনা করে।...
উপর্যুক্ত আয়াতটির তেলাওয়াত শুনে আমার সাইয়েদুনা আহনাফ বিন কায়েস রহ.-এর ঘটনা মনে পড়ল। আহনাফ বিন কায়েস অগ্রজ তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সাইয়েদুনা আলী বিন আবু তালেব রা.-এর বিশিষ্ট সহচর ছিলেন। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতায় আদর্শ ব্যক্তি ছিলেন। এতদসত্ত্বেও যখন রেগে যেতেন তার আত্মমর্যাদাবোধে জোশ উঠত। লোকেরা বলাবলি করত, আহনাফ রেগে গেলে যেন একসঙ্গে লক্ষ তরবারি ক্রোধান্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনাটি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন নাসর আল মারওয়াজি (মৃত্যু ২৭৫ হিজরি)-এর গ্রন্থ কিয়ামুল লাইলে পড়েছি। লেখক ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ.-এর ঘনিষ্ঠতম শাগরিদ ছিলেন। আর খুব সম্ভবত আপনাদের শহর বাগদাদেই এর রচনা শুরু হয়েছিল।
ঘটনা হলো, একদিন আহনাফ বিন কায়েস বসেছিলেন; জনৈক ব্যক্তিকে আয়াতটি পড়তে শুনে তিনি চমকে উঠলেন। বললেন, কুরআন মাজিদ নিয়ে আসো, আমি নিজেকে খুঁজে বের করতে চাই। জানতে চাই, আমি কার সঙ্গে আছি এবং কার সাদৃশ্যপূর্ণ।
কুরআন মাজিদ খুলতেই নিম্নোক্ত আয়াতটির উপরে চোখ পড়ে, যেখানে কিছু মানুষ সম্পর্কে বলা হচ্ছে,
'তারা রাত্রির সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়। রাত্রের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত এবং নিজেদের ধন-সম্পদে অভাবগ্রস্থ ও বঞ্চিতদের হক আদায় করত।'
অতঃপর তার দৃষ্টি পড়ল নিম্নোক্ত আয়াতটির উপর,
'(রাতের বেলা) তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং তারা নিজ প্রতিপালককে ভয় ও আশার সাথে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে।'
অতঃপর তার সামনে এমন একটি দল উপস্থিত হলো যাদের প্রশংসা নিম্নোক্তভাবে করা হয়েছে,
'এবং তারা রাত্রি অতিবাহিত করে তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত ও দণ্ডায়মান থেকে।'
অতঃপর তিনি অতিক্রম করলেন ওই সমস্ত মানুষদেরকে যাদের ব্যাপারে কুরআন মাজিদে উল্লেখ করা হয়েছে,
'যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।'
এরপর তার সামনে আরো কিছু নমুনা উপস্থিত হলো যার পরিচয় নিম্নরূপ,
'তারা মুহাজিরদেরকে নিজেদের ওপর স্থান দেয়। নিজেরা অভাবগ্রস্থ হয়েও যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম।'
অতঃপর সামনে এলো নিম্নোক্ত আয়াত,
'যারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কাজ হতে বেঁচে থাকে এবং রাগান্বিত হয়েও ক্ষমা করে দেয়, যারা তাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দেয়, নামায আদায় করে, নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে কর্ম সম্পাদন করে এবং তাদেরকে আমি যে জীবনোপকরণ দিয়েছি তা হতে ব্যয় করে।'
অতঃপর তিনি থেমে গিয়ে বললেন, ইয়া রব, আমি তো নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না। অতঃপর অন্যত্র তালাশ শুরু করেন। একটি দলের আলোচনা করা হয়েছে,
'আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই একথা ওদের নিকট বলা হলে ওরা অহংকারে তা অগ্রাহ্য করত এবং বলত আমরা কি উন্মাদ, একজন কবির কথায় আমাদের ইলাহদের বর্জন করব।'
অতঃপর তিনি অতিক্রম করলেন,
'যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ এক এ কথা স্বীকার করে না তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলোর উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।'
অতঃপর ওই সমস্ত লোকের উল্লেখ আসে যাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে,
'তোমাদেরকে কিসে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে? ওরা বলবে আমরা সালাত আদায় করতাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে খাবার দান করতাম না এবং যারা অন্যায় আলোচনা করত তাদের আলোচনায় যোগ দিতাম। আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করেছি আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।'
অতঃপর থেমে বললেন, হে আল্লাহ আমি আপনার দরবারে এই ধরনের ব্যক্তিদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি। অতঃপর একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাতে শুরু করেন এবং খুঁজতে থাকেন। সবশেষে যখন নিম্নোক্ত আয়াত এর দিকে নজর পড়ে তখন বলতে থাকেন, হে আল্লাহ আমি এই সমস্ত ব্যক্তিদের একজন।
আয়াতটি হলো,
'আর কিছু লোক আছে যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে যে, তারা সৎকর্মের সঙ্গে অসৎকর্মকে মিশ্রিত করেছে। আল্লাহ তাআলা হয়তো তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।'
[এশিয়ার ছয় দেশে : ১৭৮-১৮২]
1 215
সুফিয়ান আস-সাওরি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, দুনিয়াবিমুখতার অর্থ হলো, আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করে রাখা। তাই শুধু নিম্নমানের আহার গ্রহণ করা এবং মোটা ও কম দামি কাপড় পরিধান করার নামই দুনিয়াবিমুখতা নয়।
[সুফিয়ান আস-সাওরি রহ. জীবন ও কর্ম : ১০৭]
1 215
অবশেষে প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ...
টাকা জমান। জলদি। এটা মিস দিয়েন না।
মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া-এর উলূমুল হাদিস বিভাগের সাবেক শিক্ষক, মাসিক আলকাউসারের সাবেক সহ-সম্পাদক ও বিশিষ্ট হাদিস গবেষক মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ সাহেবের রচিত সারগর্ভ ও বিস্তর ভূমিকা রয়েছে।
1 215
+1
আতীক উল্লাহ সাহেবের নতুন দুটি বই।
আমাদের আগের আতীক উল্লাহ সাহেব আর নেই। নতুন আতীক উল্লাহ সাহেব দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। আগের মতো ফেইসবুকে সুন্দর সুন্দর লেখা, কিংবা ঢাউস সাইজের বই আসছে না আর।
1 215
পড়াশোনার বিভিন্ন ধাপে হাতেগোনা কয়েকজনের সাথে সম্পর্ক ছিল। যদিও ওইভাবে বন্ধুত্ব বলা যায় না। এমনিতেই ঘরকোনো স্বভাবের ছিলাম। কারও সাথে তেমন মিশতেও পারতাম না। সময়ের সাথে সাথে সবাই ব্যস্ত। এখন যোগাযোগটাও আর... তবে, প্রত্যেক ধাপেই যার সাথে সম্পর্ক হয়েছে—উবায়দুল্লাহ, মারুফ, আলামীন, তারপর মুশাহিদ, হাসান—সবার সাথেই সম্পর্কটা ছিল দুটি দেহ একই আত্মা। কর্মজীবনে এসে পেয়েছিলাম মুফতী আশরাফ ভাই, স্যার, বড়মোহাকে। তবুও কেন জানি 'বন্ধুত্ব'কে মিস করি। ওই অর্থের বন্ধুত্ব কারও সাথেই হয়ে উঠেনি।
লাইফে বন্ধু থাকা দরকার। বিশেষ করে নেককার বন্ধু।
তবে এদিকে আমি সৌভাগ্যবান। অনলাইনের বদৌলতে দ্বীনদার অনেক হিতাকাঙ্ক্ষী মানুষ পেয়েছি। পরামর্শ, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক হেল্প(ধার-কর্জ)—যখন যেটার দরকার সেটাই পেয়েছি। পাচ্ছি। এটাও বিশ্বাস করি, তারা ইলমে আমলে আমার থেকে হাজারগুণ ভালো। জাস্ট বইয়ের সাথে সম্পর্কের সুবাদেই তাদের নেক নজর, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, সুপরামর্শ পেয়েছি।
1 215
কথাটা কতটা বাস্তব, আমার চেয়ে ভালো কেউ বুঝবে না। যা পড়ার বিয়ে আগে পড়ে নিন। যা পড়ার দায়িত্ব কাঁধে আসার আগে পড়ে নিন। যা পড়ার বাপের হোটেলে থাকতেই পড়ে নিন।
