es
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

Ir al canal en Telegram

Mostrar más
El país no está especificadoLa categoría no está especificada
1 194
Suscriptores
+324 horas
+67 días
+2630 días
Archivo de publicaciones
photo content

photo content

photo content

photo content

photo content

এই গভীর রাতে একটা মারাত্মক সুখবর দিই। শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ আওয়ামা হাফি. এর জীবনী, যেটি তাঁর সুযোগ্য সন্তান শায়খ মুহিউদ্দীন আওয়ামা লিখেছেন, সেটির অনুবাদ আল্লাহর ইচ্ছায় দারুল ফিকর থেকে আসছে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ চাইলে মেলার শেষদিকে চলে আসবে ইনশাআল্লাহ। অনুবাদ করেছেন, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ এর উস্তায মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক সাহেব। কিতাবটি সম্পাদনা করেছেন শায়খ আতাউল্লাহ হাশেম হাফি., যিনি বহুদিন ধরেই ইস্তাম্বুলে শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা হাফি.র গবেষণা-সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। লেখক মুহিউদ্দীন হাফি.-এর মধ্যস্থতায়ই উনি পুরো অনুবাদটা মূল গ্রন্থের সাথে শব্দে শব্দে মিলিয়ে সম্পাদনা করে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। উনিও সম্পাদক হিসেবে দু’চার কলম লিখছেন। আরও দারুণ ব্যাপার হলো, কিতাবের শুরুতে লেখক শায়খ মুহিউদ্দীন আওয়ামা হাফিযাহুল্লাহ একটি কালিমাতুন দুআইয়্যাহ লিখে দিবেন ইনশাআল্লাহ। আমি আসলে ব্যাপারটা ভাবতেই পারছি না। শায়খ মাহফুয আহমদকে অসংখ্য শুকরিয়া, যিনি মধ্যস্থতা করেছেন। দারুল ফিকরকে আমার কাছে উমেদের চেয়ে অনেক বেশি সৌভাগ্যমণ্ডিত প্রতিষ্ঠান মনে হয়। আল্লাহ আমাদের সকল দ্বীনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কবুল করুন। আমীন। © মুহাম্মাদ হোসাইন

সবর-শোকর, আমল-আখলাক সবই এখন বইয়ের পাতায়...
সবর-শোকর, আমল-আখলাক সবই এখন বইয়ের পাতায়...

আমাদের এই ভাইটা আল্লাহর দিকে তাকিয়ে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকদীরে বেশ পরীক্ষা লেখা ছিল। একে তো আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেল, পাশাপাশি বাচ্চাটা ধারাবাহিকভাবে অসুস্থ হতে থাকল। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নেয়ার পরেও প্রচুর খরচ হয়ে গেল। এখনো মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কর্মঠ মানুষ। আত্মসম্মানবোধও অনেক। কিন্তু পরিস্থিতি বেহাল। এ পর্যন্ত বেশ কিছু টাকা ঋণ হয়ে গেছেন। এখন এর একটা পরিমাণ ফেরত না দিয়ে আর থাকা যাচ্ছে না। আল্লাহর দিকে তাকিয়ে যিনি হারাম থেকে বাঁচার জন্য সম্ভাবনাময় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তাকে একা ছেড়ে দেয়া আমাদের উচিত হবে না। ভাইদের কাছে আবেদন, সাধ্যমতো ভাইটির সহায়তায় এগিয়ে আসি। আমরা তার উপযুক্ত কর্মসংস্থানেরও ফিকির করছি। আল্লাহ নিশ্চয়ই মিলিয়ে দেবেন। টার্গেট : ১ লক্ষ টাকা *যাকাত দেয়া যাবে। বিকাশ নগদ রকেট 01786-704170 ব্যাংক : Md. Mithun Islam Dutch bangla bank Islampur branch 1181050172173 আপনি আল্লাহর বান্দার সহায়তা করুন, বিপদের দিনে আল্লাহকে পাশে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

৪০ বছর আগে করা একটা কথা কি ৪০ বছর পর আপনার জীবনে ফিরে আসতে পারে? মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (রহ.) একবার ঋণের কারণে জেলে বন্দি হলেন। সেখানে বসে তিনি বলেছিলেন, তিনি জানেন কেন এমনটা হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি একজন মানুষকে একটি অপমানজনক কথা বলেছিলেন। তখন হয়তো কথাটা খুব বড় কিছু মনে হয়নি। কিন্তু এত বছর পর যখন তিনি নিজেই বিপদে পড়লেন, তখন সেই পুরোনো কথাটাই তাঁর মনে পড়ে গেল। তিনি মনে করতেন, সেই পাপের কারণেই আজ তাকে এই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। ঘটনাটা আমাদের জন্য একটা ভয়ংকর প্রশ্ন রেখে যায়। আমরা যে পাপগুলোকে আজ খুব ছোট মনে করে ভুলে যাচ্ছি, সেগুলো কি সত্যিই হারিয়ে যাচ্ছে? পাপ হারিয়ে যায় না। মানুষের স্মৃতি থেকে একটা ঘটনা মুছে যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে করা কোনো কাজই অদৃশ্য হয়ে যায় না। আর পাপের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাব সবসময় বাইরে দেখা যায় না। কখনো কখনো তার প্রভাব পড়ে আমাদের অন্তরের ওপর। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মানুষ যখন একটি পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। সে যদি তওবা করে, তাহলে সেই দাগ মুছে যায়। কিন্তু মানুষ যখন বারবার পাপ করতে থাকে, তখন একসময় সেই দাগগুলো পুরো অন্তরকে ঢেকে ফেলে। তখন সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা ঘটে। মানুষ পাপ করেও আর কষ্ট পায় না। যে কাজটা একসময় তাকে রাতে ঘুমাতে দিত না, এখন সেটাই স্বাভাবিক মনে হয়। আল্লাহর ভয় কমে যায়, অনুশোচনা কমে যায়। পাপ তখন আর পাপ বলে মনে হয় না। ইবনে মাসউদ (রা.) মুমিন আর পাপীর এই পার্থক্যটা খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন। একজন মুমিন নিজের পাপকে এমনভাবে দেখে, যেন একটি বিশাল পাহাড় তার ওপর ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। আর একজন পাপী তার পাপকে নাকের ওপর বসা মাছির মতো মনে করে, যেটাকে হাত দিয়ে সরিয়ে দিলেই হলো। সমস্যা হলো, আমরা অনেক সময় ছোট পাপকে ছোটই মনে করি। একটা মিথ্যা, একটা গীবত, কারও প্রতি অন্যায়, চোখের একটি হারাম দৃষ্টি, কাউকে অপমান করা। মনে হয়, এগুলো এমন কী! কিন্তু ছোট ছোট পাপ যখন একটার পর একটা জমতে থাকে, তখন সেগুলোই একসময় বড় বিপদ তৈরি করতে পারে। যেমন ছোট ছোট কাঠ এক জায়গায় জমতে জমতে একসময় বড় আগুন তৈরি করে। আর শুধু একটি পাপেই বিষয়টা থেমে থাকে না। একটি ভালো কাজ যেমন আরেকটি ভালো কাজের দরজা খুলে দেয়, তেমনি একটি পাপও আরেকটি পাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আজ যেটা করতে অপরাধবোধ হচ্ছে, কাল সেটা আরও সহজ হয়ে যেতে পারে। পাপের আরেকটি ক্ষতি হলো, এটি মানুষের ইলম ও অন্তরের আলোকে প্রভাবিত করে। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) যখন তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা তাঁর শিক্ষক ওয়াকির কাছে বলেছিলেন, তখন তাঁকে পাপ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কারণ ইলম আল্লাহর দেওয়া একটি নূর, আর পাপ সেই নূরকে দুর্বল করে দিতে পারে। এর প্রভাব শুধু ইলমের ওপর নয়, জীবনের আনন্দের ওপরও পড়ে। মানুষের কাছে টাকা আছে, সুযোগ আছে, অনেক কিছু পাওয়ার সামর্থ্য আছে। তারপরও কেন যেন ভেতর থেকে শান্তি আসে না। হালাল জিনিসেও আগের মতো আনন্দ পাওয়া যায় না, অথচ হারামের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে। রিযিকেও তখন বরকতের অভাব দেখা দিতে পারে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ কমে যায়। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ। আর পাপের প্রভাব শুধু একজন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পরিবারে পড়ে, সমাজে পড়ে, এমনকি পৃথিবীর ওপরও পড়ে। কুরআন আমাদের আগের জাতিগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। নূহ (আ.), আদ, সামুদসহ বহু জাতি তাদের অবাধ্যতা, অহংকার ও পাপের কারণে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল। তাহলে আমরা যখন নিজেদের জীবনে সংকট দেখি, তখন শুধু বাইরের কারণ খুঁজব? হয়তো সময় এসেছে নিজের ভেতরেও তাকানোর। আমি কি এমন কোনো পাপে জড়িয়ে আছি, যেটাকে এখন আর পাপই মনে হয় না? এমন কোনো অন্যায় করেছি কি, যার জন্য এখনও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়নি? আর এখানেই ফিরে আসার সবচেয়ে বড় দরজাগুলোর একটি হলো ইস্তিগফার। নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। তিনি তাদের জানিয়েছিলেন, তারা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আল্লাহ তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন। অর্থাৎ ইস্তিগফার শুধু মুখের একটি শব্দ নয়। এটা নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি পথ। তাই জীবনে যখন অশান্তি আসে, রিযিকে বরকত কমে যায়, অন্তরে আনন্দ থাকে না, তখন শুধু বাইরের সমস্যাগুলোর দিকে তাকানোর পাশাপাশি নিজের আমল আর সম্পর্কের দিকেও তাকানো দরকার। হয়তো আমাদের প্রয়োজন আরও বেশি কিছু পাওয়ার নয়। হয়তো আমাদের প্রয়োজন কিছু পাপ ছেড়ে দিয়ে, মাথা নিচু করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। (লেখাটি 'The Reason You’re Losing Rizq, Strength, and Joy' | Khutbah by Sh. Ibrahim Hindy লেকচার অবলম্বনে) © আরিফুল ইসলাম

নামাজ শেষে মানুষের ভিড়ের মধ্যে বের হচ্ছি, এমন সময় চোখ পড়ল এক ব্যক্তির দিকে। সাদা পাঞ্জাবি, গায়ে কালো চাদর, মাথায় সাদা টুপি। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। চেহারায় এমন এক প্রশান্তি, যেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো অদৃশ্য প্রশ্নের উত্তর নিয়ে তিনি একা হেঁটে বেড়াচ্ছেন। আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিনি থেমে আমার দিকে তাকালেন। এক মুহূর্ত। শুধু এক মুহূর্ত। তারপর বললেন, “আপনি কি বই পড়ার অভ্যাস করে ফেলেছেন?” আমি চমকে উঠলাম। “জ্বী!?” তিনি আর কিছু বললেন না। পাঞ্জাবির পকেট থেকে ভাঁজ করা একটা ছোট চিরকুট বের করে আমার হাতে দিলেন। “এটা আপনার জন্য।” আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তিনি ভিড়ের মধ্যে এমনভাবে মিশে গেলেন, যেন কোনোদিন সেখানে ছিলেনই না। আমি তাড়াতাড়ি চিরকুটটা খুললাম। ভেতরে মাত্র কয়েকটি লাইন— “কিতাবে যদি অভ্যস্ত হয়ে থাকো, এবার কুতুব পড়ার সময় হয়েছে। শায়খ Hemayet Ullah এর খোঁজ করো।চট্টলার দিকে যাও। তাঁকে খুঁজে পাওয়ার একটি নিদর্শন হলো—রুবাইয়াতের ওপর এ যুগে তাঁর চেয়ে বেশি দখল আর কারও নেই।” চিরকুটটা হাতে নিয়ে আমি অনেকক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইলাম। চট্টলা…। শায়খ হেমায়েতুল্লাহ…। আর রুবাইয়াত…। চিরকুটটা ভাঁজ করে পকেটে রাখলাম। আমার মনে হলো, কিছু প্রশ্নের উত্তর বইয়ের পাতায় থাকে না। কিছু উত্তর খুঁজতে হয় পথে। আর আমার সেই পথের শুরু—চট্টলা। গল্প: বই। © Mahbubul Mursalin

এক ঝটকায় ল্যাপটপ বন্ধ করে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম। এরপর থেকে এক আজব নিয়ম শুরু হলো। সারাদিন যা কিছু করতাম; কারো ওপর রাগ করা, হিংসা করা, কাউকে কষ্ট দেওয়া কিংবা বেআদবি করা; রাতে বইটা খুললেই সেই ভুল নিয়ে এক-দুটো লাইন হুবহু চোখের সামনে ভেসে উঠত। আর পাতাগুলো থেকে কেমন যেন খাঁটি হরিণনাভির কস্তুরির এক অদ্ভুত সুবাস ছড়িয়ে পড়ত পুরো ঘরে। — দিন যেতে লাগল। একদিন বইয়ের মাঝামাঝি গিয়ে দেখি কয়েকটা পৃষ্ঠা নিখুঁতভাবে ছেঁড়া। বিষয়টা বুঝতে না পেরে পরদিন আবার সন্ধ্যায় কিতাবঘরে গেলাম। গিয়ে দেখি ওস্তাদ মাহমুদ সিদ্দিকী নেই। সেখানে বসে আছে এক সুদীর্ঘ কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। লম্বা নীল আলখাল্লা, মাথায় সাদা পাগড়ি। তার কোলজুড়ে রাখা নীল ও সবুজ মলাটের দুটো প্রাচীন কিতাব। সে আমাকে দেখে মৃদু হেসে আরবি মেশানো বাংলায় বলল, “আসসালামু আলাইকুম। ওস্তাদ মাহমুদ সিদ্দিকির খোঁজ করছেন? উনি একটু কাজে বাইরে গেছেন। আমি Asheq Alahi। আফ্রিকা থেকে এসেছি। আমানতি কিতাবদুটো ফেরত দিতে।” আমি তাকে আমার বইয়ের ছেঁড়া পাতাগুলোর কথা বলতেই আশেক এলাহী তার হাতের কিতাবদুটো একটু ফাঁক করে দেখাল। চমকে উঠে দেখলাম, তার বইয়েরও মাঝের বেশ কিছু পৃষ্ঠা একইভাবে ছেঁড়া! আমি কিছু বলতে পারলাম না। আশেক এলাহী শুধু রহস্যময় এক হাসি হেসে বলল, “সব উত্তর বইয়ের ভেতরেই থাকতে হবে, এমন তো না…” তারপর একটু থেমে বলল, “ওস্তাদ হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরবেন। আপনি বসুন।” আমি কাঠের বেঞ্চিতে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা আরও ঘন হলো। লণ্ঠনের আলো ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে এলো। কিন্তু ওস্তাদ মাহমুদ সিদ্দিকী আর ফিরলেন না। অবশেষে বইটা ব্যাগে নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। — দুই মাস পর বইয়ের একদম শেষ পাতায় পৌঁছালাম। পাতাটা সম্পূর্ণ ফাঁকা। পৃষ্ঠার শুরুতে কেবল একটিমাত্র বাক্য—“এখানে পাঠক তার নিজের কথা লিখবে।” পকেটে তো সোয়ান কলমটা ছিল না। তাই চাচার কলম দিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে লিখলাম— “আমি এতদিন অল্পবিস্তর যা পড়েছি, তা নিজের জ্ঞান জাহির করার জন্য। অবশেষে বুঝলাম, বই পড়ার আসল উদ্দেশ্য নিজের নফসকে চেনা।” সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ কী মনে হতে বইয়ের শেষ পাতাটা আবার খুলতেই হাত-পা জমে বরফ হয়ে গেল। আমার লেখা বাক্যের ঠিক নিচে তাজা কালিতে লেখা— “হ্যাঁ, এখন তুমি ঠিক পথে চলছো। তুমি যেমন বইটি পড়েছো, বইটিও কিন্তু তোমাকে পড়েছে।” চমকে উঠে আমি বইয়ের বাকি পাতাগুলো উল্টাতে লাগলাম। প্রথম পৃষ্ঠা। দশম পৃষ্ঠা। একশতম পৃষ্ঠা। আমার মাথার ভেতরটা শূন্য হয়ে গেল। পুরো বইটির একটা পাতাতেও এক বর্ণও লেখা নেই! প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বইটাই ধবধবে সাদা ফাঁকা কাগজ! পরদিন সকালেই উন্মাদের মতো ছুটলাম চকবাজারে। কিন্তু গলির শেষ মাথায় গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। সেখানে ‘কিতাবঘর’ বলতে কিছুই নেই! ইট-বালু আর পুরোনো কাঠে মোড়া একটা পরিত্যক্ত, ধসে পড়া গুদামঘর পড়ে আছে। দরজায় বিশালাকার প্রাচীন এক তালা ঝুলছে। তাতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ধুলো আর মাকড়সার জাল। পাশের এক বয়স্ক দোকানদার আমাকে দেখে বলল, “কী খুঁজছেন ভাই?” “কিতাবঘর!” লোকটা চোখ গোল গোল করে তাকাল। “কীসের কিতাবঘর ভাই? এই দোকান তো ত্রিশ বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে! মালিক মারা যাওয়ার পর বংশের কেউ এই গলিমুখো হয় না।” আমি শিউরে উঠলাম। আর সেখানে দাঁড়াতে পারলাম না। ছুটলাম সাইফুল ভাইয়ের মাদ্রাসায়। সবুজ বইটা তার টেবিলের ওপর রেখে সবকিছু সবিস্তারে বললাম। সাইফুল ভাই অনেকক্ষণ চুপ করে বইটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর খুব সাবধানে সেটার মলাটে হাত রাখলেন। “দাদাজান বলতেন,” তিনি ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন, “কিছু কিতাব কাগজ আর কালিতে তৈরি হয় না। কিছু কিতাব মানুষকে তার নিজের ভেতরের লেখা পড়তে শেখায়।” আমি চুপ করে রইলাম। তিনি আবার বললেন, “হয়তো তুমি বইয়ে যা পড়েছো, তার অনেকটাই বইয়ের লেখা ছিল না। ছিল তোমার নিজের ভেতরের এমন কিছু কথা, যেগুলো তুমি আগে পড়তে শেখোনি।” আমি আকুল হয়ে বললাম, “তাহলে কিতাবঘর? মাহমুদ সিদ্দিকী? আর আমার সোয়ান কলমটাই বা কোথায় গেল?” সাইফুল ভাই এবার দীর্ঘক্ষণ কোনো উত্তর দিলেন না। তারপর শুধু বললেন, “সব প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে পাওয়া যায় না। কিছু জিনিস বুঝতে হলে সময় লাগে। সবর করো।” আমি আর কিছু বললাম না। — এরপর কয়েক দিন কেটে গেল। কিতাবঘরের ঘটনাটা আমার মাথা থেকে কিছুতেই নামছিল না। সবুজ বইটা টেবিলের ওপর একদম চোখের সামনে রেখে দিয়েছিলাম। মাঝেমধ্যে শেষ পাতাটা খুলে সেই বাক্যটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম— “হ্যাঁ, এখন তুমি ঠিক পথে চলছো। তুমি যেমন বইটি পড়েছো, বইটিও কিন্তু তোমাকে পড়েছে।” কিন্তু এবার আমার ভেতরে আর আগের মতো ভয় ছিল না। বরং একটা নতুন প্রশ্ন জন্মালো— যদি বই আমাকে পড়ে থাকে, তাহলে আমাকে আর কী পড়তে হবে? এক শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে গেলাম বাইতুল মোকাররমে।

“কিন্তু একটা কিতাব তৈরি হয়ে গেলেই তার কাজ শেষ হতো না। ছাপাখানার যুগের আগে একটি কিতাব টিকিয়ে রাখার প্রধান উপায় ছিল, হাতে হাতে তার নকল তৈরি করা। একজন কাতিব দিনের পর দিন বসে একটি কিতাব নকল করতেন। একটি অক্ষর ভুল হলে শুধু একটি শব্দই ভুল হতো না; কখনো কখনো বদলে যেতে পারত পুরো বক্তব্য। তাই লেখা শেষ করার পর আবার তা মিলিয়ে দেখা, সংশোধন করা—সবই ছিল সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ। চোখ জ্বালা করত, আঙুল ব্যথা হয়ে যেত, তবু থেমে থাকার সুযোগ ছিল না। কারণ তাদের হাতে ছিল ইলমের আমানত।” তিনি একটু থামলেন। “আর একটি কিতাব কেবল কাতিবের হাতেই তৈরি হতো না। কেউ কাগজ তৈরি করত, কেউ কালি, কেউ কলম, কেউ মলাট। কেউ আবার একটি কিতাব সংগ্রহের জন্য শহর থেকে শহরে সফর করত। কোনো কোনো মুহাদ্দিস একটি হাদিস শোনার জন্য দূর-দূরান্তে গেছেন। কোনো কোনো আলেম নিজের সম্পদ খরচ করেছেন কিতাব সংগ্রহ আর জ্ঞান অর্জনের পেছনে। ছাত্ররা সেই কিতাব নিয়ে সফর করেছে, শিখেছে, আবার অন্যকে শিখিয়েছে।” তিনি তাকের ওপর থেকে একটি ভারী কিতাব নামালেন। “ভাবো তো, যে কিতাব তুমি আজ দশ মিনিটে পড়ার সুযোগ পাচ্ছো, সেটার পেছনে হয়তো একজন মানুষের দশ বছরের অধ্যবসায় আছে। যে কথাটা তুমি স্ক্রিনে পড়ে এক সেকেন্ডে স্ক্রল করে চলে যাও, তার পেছনেও হয়তো কোনো এক আলেমের সারাজীবনের রাত জাগা রয়েছে।” তিনি বইটা আবার তাকের ওপর রেখে দিলেন। “বই শুধু কাগজের স্তূপ নয়, বাবা। একটা বই হলো—এক প্রজন্মের শ্রম আর আরেক প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়া আমানত।” কথাগুলো বলেই তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “তবে বইয়ের ইতিহাস সবসময় আলোরও ছিল না। মানুষ জ্ঞান সংরক্ষণ করেছে, আবার জ্ঞান ধ্বংসও করেছে। বাগদাদের পতনের সময় অসংখ্য পাণ্ডুলিপি নষ্ট হয়েছিল। নালন্দার মতো জ্ঞানকেন্দ্রও আগুনে পুড়েছে। আবার বইয়ের মলাটেও মানুষ বিষাক্ত রঞ্জক ব্যবহার করেছে; ইউরোপে আর্সেনিকযুক্ত ‘শিলেস গ্রিন’ দিয়ে বই সাজানোর নজির আছে। এমনকি মানুষের চামড়ায় বই বাঁধানোর ঘটনাও ইতিহাসে পাওয়া যায়।” তিনি মৃদু হেসে বললেন, “অর্থাৎ বই শুধু মানুষের জ্ঞান নয়, মানুষের লোভ, হিংস্রতা আর অন্ধকারেরও সাক্ষী।” তারপর তাঁর দৃষ্টি ধীরে ধীরে ঘরের বইগুলোর ওপর ঘুরে গেল। “তবু এত কিছুর পরও বই টিকে আছে। কারণ সত্যকে মানুষ যতবারই চাপা দিতে চেয়েছে, কোনো না কোনো পাঠক আবার তাকে তুলে নিয়েছে।” ঘরের ভেতর হঠাৎ যেন আরও নীরবতা নেমে এলো। ওস্তাদ এবার ঘরের এক কোণে পিতলের জাফরি কাটা একটা ছোট আধো-অন্ধকার কাঠের তাকের দিকে আঙুল তুললেন। সেটা দোকানের অন্য সব তাক থেকে আলাদা। “ওই তাকটা দেখছো?” আমি তাকালাম। “ওখানের বইগুলোর ইতিহাস একটু আলাদা।” “কেন?” “কারণ ওই বইগুলো তাদের পাঠককে নিজেরাই বেছে নেয়। বদরুদ্দীন তোমাকে আমার ঠিকানা দিয়েছে এই তাক-ই-খাসের জন্যই।” আমি কিছু বললাম না। ওস্তাদ ধীরে ধীরে সেই তাকের কাছে গেলেন। “এখানের একেকটা বই একেকজন মানুষের অন্তরের জন্য একেক রকমের দাওয়াই। কিন্তু এই তাকের বই নেওয়ার একটা নিয়ম আছে।” তাকের ভেতরে মখমলের কাপড়ের ওপর সারিবদ্ধভাবে নানা রঙের মলাটের বই। কোনো বইয়ের ওপর লেখকের নাম নেই, কোনো বইয়ের ওপর শিরোনামও নেই। পাশেই সাজানো হরেক রকমের প্রাচীন ঝর্ণা কলম, খাগের কলম আর সোয়ান কলম। ওস্তাদ বললেন, “তোমাকে দেয়া বদরুদ্দীনের সোয়ান কলমটা এখানে জামানত রাখতে হবে। তোমার আগে বহু তালিবুল ইলম নিজের সত্য লেখার কলম এখানে রেখে বই নিয়ে গেছে।” আমি অবাক হয়ে বললাম, “কলম রেখে বই নিতে হবে?” “হ্যাঁ। বই পড়া শেষ করে ফেরত দিলে কলমও ফেরত পাবে। আর এর সাথে একশো টাকা দিতে হবে।” “বই ফেরত দিলে টাকাটাও ফেরত পাব?” ওস্তাদ মৃদু হেসে বললেন, “না।” কেন জানি আর কোনো প্রশ্ন করলাম না। বুক পকেট থেকে ওস্তাদের দেওয়া প্রিয় সোয়ান কলমটা বের করে তাঁর হাতে দিলাম। তিনি সেটাকে মখমলের ওপর যত্নে রাখলেন। তারপর তাক থেকে সম্পূর্ণ সবুজ মলাটের একটি নামহীন, লেখকহীন বই আমার হাতে তুলে দিলেন। — বাসায় ফিরে বইটা টেবিলে রেখে দিলাম। দু-তিন দিন বিভিন্ন ব্যস্ততার চাপে পড়া হলো না। তৃতীয় দিন রাতে একটা বিতর্কিত বিষয়ে ফেসবুকে নিজের ভুল তর্ককে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য আনমনে বেশ কিছু লেখা টাইপ করছিলাম। হঠাৎ নজর গেল সবুজ বইটার দিকে। কেন যেন ল্যাপটপটা পাশে রেখে বইটা খুললাম। প্রথম পাতাতেই মোটা হরফে লেখা— “ইলমের প্রথম শত্রু অজ্ঞতা নয়; অহংকার। কারণ অজ্ঞ মানুষ জানে না যে সে জানে না, কিন্তু অহংকারী মানুষ জানে না যে তার জানা খুব সামান্য।” কথাটা বুকে তীরের মতো বিঁধল। কারণ দুদিন আগেও বড় ভাই MD Ashiqur Rahman এর সঙ্গে বিতর্কে আমি নিজের ভুল জেনেও অহংকারের খাতিরে তা স্বীকার করিনি। পরের পাতা উল্টাতেই আরও এক লাইন— “যে মানুষ সত্য জানার পরও নিজের কথাকে সত্য প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে, সে জ্ঞান খোঁজে না; সে নিজের অহংকারের জন্য সাক্ষী খোঁজে।” চিন্তায় আমার কপাল ঘেমে উঠল।

ওস্তাদ বদরুদ্দীনের কলমটা হাতে পাওয়ার পর আমার ডিজিটাল জীবনের অস্থিরতা অনেকটাই কমে এসেছিল। চাচার কলমটা পকেটে রাখলেও বুক পকেটে রাখতাম ওস্তাদের দেওয়া কলমটা। মিথ্যা বা চটকদার পোস্ট লিখে ভাইরাল হওয়ার নেশা ততদিনে কেটে গেছে। কিন্তু কিছুদিন পর নিজের ভেতরে একটা অদ্ভুত শূন্যতা টের পেলাম, যেটা আগে ছিল না। একদিন বিকেলে Abu Midfa Saiful Islam ভাইয়ের বাসায় বসে চা খাচ্ছি। চায়ের কাপের ধোঁয়া মিলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আড্ডা যখন তুঙ্গে, তখন কথায় কথায় বললাম, “সাইফুল ভাই, কলম আর হাত তো সংযত হলো। কিন্তু যে মেধা বা ইলম দিয়ে আমি সত্যের পথে কিছু লিখব, সেই জ্ঞানের গভীরতা তো আমার ভেতরে নেই। ভেতরটা যে খালি খালি লাগে।” সাইফুল ভাই তাঁর কাপে শেষ চুমুক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তারপর টেবিলের ড্রয়ার খুলে পুরোনো, হলুদ হয়ে যাওয়া একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে আমার সামনে রাখলেন। “দাদাজান ইন্তেকালের আগে বলে গিয়েছিলেন, যদি কখনো তাঁর কলমের আমানতদারের ভেতরটা খালি খালি লাগে, তবে যেন এই কাগজটা তাকে দিই। দাদাজান বোধহয় এই দিনটার কথাও আগে থেকে আঁচ করে গিয়েছিলেন!” আমি বিস্ময় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাগজটা খুললাম। তাতে সুফিয়ানা ক্যালিগ্রাফিতে চকবাজারের শাহী মসজিদের উত্তরের এক জটিল, আঁকাবাঁকা গলির মানচিত্র আর একটি নাম লেখা— ‘ওস্তাদ মাহমুদ সিদ্দিকী, কিতাবঘর।’ সঙ্গে আরও লেখা— ‘নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হলে তাঁর কাছে নিজেকে পড়তে যাও। তবে যেতে হবে সন্ধ্যাবেলা।’ — পরদিন সময়মতো চকবাজারে গেলাম। সাধারণত চকবাজার বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হট্টগোল আর আতর-মসলার ব্যবসা। কিন্তু শাহী মসজিদের পেছনের ঘিঞ্জি গলি ধরে এগোতেই চারপাশের কোলাহল যেন এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল। নোনাধরা পোড়ামাটির লাল ইট আর পুরোনো জীর্ণ ইমারতের ছায়ায় গলিটা আবছা অন্ধকারে ঠাসা। বাতাসে কাঁচা চামড়া, ধূপ আর ভেজা পুরোনো কাগজের এক ভারী সুবাস। গলির একদম শেষ মাথায় ঝুলছে ঝাপসা হয়ে যাওয়া কাঠের সাইনবোর্ড, তাতে সাদা রঙে লেখা— “কিতাবঘর: পুরোনো বই ক্রয়-বিক্রয় ও মেরামত করা হয়।” ভেতরে ঢুকতেই আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। স্যাঁতসেঁতে মেঝে থেকে প্রায় পনেরো ফুট উঁচু কাঠের সিলিং পর্যন্ত বিশাল সেগুন কাঠের তাক ভর্তি বই আর বই। কোথাও চামড়ায় বাঁধানো বিশাল ক্যালিগ্রাফির স্ক্রোল, কোথাও কাঠের মলাটে বাঁধানো প্রাচীন বই দাঁড়িয়ে আছে। ওপরের বই নাগাল পাওয়ার জন্য রশি আর চাকার মেকানিজমে পিতলের একটা মই ঝুলছে। পুরো ঘরে আলো বলতে কোণের একটা বড় পিতলের লণ্ঠন। ঘরের শেষ মাথায় কাঠের জলচৌকিতে বসে ছিলেন সাদা জুব্বা পরা এক প্রবীণ লোক—ওস্তাদ Mahmud Siddiqui। হাতে কাঠের তৈরি একটা ক্যালিগ্রাফি ফ্রেম। আমি কাছে গিয়ে সালাম দিতেই তিনি চশমার ওপর দিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তারপর তাঁর চোখ গেল আমার বুক পকেটে গুঁজে রাখা সোয়ান কলমটার দিকে। এক মুহূর্তের জন্য তাঁর চোখে যেন এক অদ্ভুত আলো খেলে গেল। তিনি মৃদু হেসে সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, “বদরুদ্দীনের সোয়ান কলম! তার মানে তোমাকেই বদরুদ্দীন তার কলমের উত্তরসূরি করে গেছে? বসো।” আমি বসতেই তিনি ছোট পিতলের পেয়ালায় অপরিচিত একটা গরম পানীয় ঢেলে দিলেন। তাতে চুমুক দিতেই পুরো শরীরটা যেন সতেজ হয়ে উঠল। নিজের অবস্থা খুলে বললাম, “ওস্তাদ বদরুদ্দীন আপনার ঠিকানা দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছেন। আমার যে অবস্থা, তাতে কী করতে পারি? ভেতরটা যে খালি খালি লাগে; এর থেকে মুক্তির উপায় কী?” ওস্তাদ মাহমুদ চশমা খুলে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “তুমি দৈনিক কতক্ষণ পড়ো?” বললাম, “তেমন পড়ি না। যা দেখি, শুনি—তাই লিখি।” ওস্তাদ মাথা নাড়লেন। “তাহলে তো হবে না। পড়তে তো হবে। যত পড়বে, তার চেয়ে কম লিখবে। এক পৃষ্ঠা পড়লে একটা লাইন, দুই পৃষ্ঠা পড়লে দুই লাইন। এরকম—যত পড়বে, তার অর্ধেকেরও কম লেখবে। এটাই তোমার প্রাথমিক চিকিৎসা।” একটু থেমে বললেন, “খালি কলসে খালি শব্দই পাওয়া যায়। তরঙ্গের শব্দ পেতে হলে ভেতরে পরিমাণমতো পানি থাকতে হয়।” তিনি চারপাশের বইগুলোর দিকে তাকালেন। “এই যে বইগুলো দেখছো—একেকটা বইয়ের পেছনে কতটা ত্যাগ হয়েছে, জানো?” আমি চুপ করে রইলাম। “আজ তোমরা সহজেই একটা বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টাও, কয়েকটা লাইন পড়ো, তারপর রেখে দাও। কিন্তু একটা বই আমাদের হাতে পৌঁছানোর আগে তার পেছনে কত মানুষের জীবন কেটে গেছে, সেটা কখনো ভেবে দেখেছো?” ওস্তাদ ধীরে ধীরে একটা পুরোনো বইয়ের মলাটে হাত বুলাতে লাগলেন। “এক সময় মানুষ জ্ঞান সংরক্ষণ করত গাছের ছালে, প্যাপিরাসে, পশুর চামড়ায়। পরে ধীরে ধীরে এসব আলাদা আলাদা পাতাকে একত্র করে পাণ্ডুলিপির রূপ দেওয়া হলো। পাতা জোড়া লাগল, সেলাই হলো, মলাট পড়ল—আর একসময় সেই পাণ্ডুলিপিই আমাদের পরিচিত কিতাবের রূপ নিল।

photo content

পোস্টের কমেন্টগুলো পড়ুন https://www.facebook.com/share/p/1EfXrktYLx/

photo content

photo content

photo content

photo content