ar
Feedback
সত‍্য কথন

সত‍্য কথন

قناة بسيطة
4 416
المشتركون
-324 ساعات
-77 أيام
-4830 أيام
أرشيف المشاركات
আলহামদুলিল্লাহ! বাংলাদেশের আকাশে মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। আজ থেকে শুরু হলো হিজরি ১৪৪৮-এর সূচনা। ১৪৪৮ বছর আগে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন। নতুন বছরের শুরুতে একটি সুন্দর দুআ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম নতুন মাস বা নতুন বছর শুরুর এ দুআটি তেমন গুরুত্ব দিয়ে শিখতেন, যেভাবে কুরআনুল কারীম শিখতেন। اَللّٰهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالإِسْلَامِ وَجِوَارٍ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمٰنِ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস/বছরের আগমন ঘটান- শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের (উপর অবিচলতার) সাথে; শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে। (আলইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ, ইবনে হাজার আসকালানী, খ. ৪, পৃ. ২১৮, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যা, বৈরুত, প্র. সংস্করণ ১৪১৫ হি.) হিজরী সনের সূচনা কখন কীভাবে? হজরত ওমর রা. তার খিলাফতকালে হিজরতের ১৭তম বর্ষে হিজরী সন গণনা শুরু করেন। এর প্রেক্ষাপট ছিল এরকম—হজরত ওমর রা.-এর কাছে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় চিঠি আসত। সেখানে মাসের নাম ও তারিখ লেখা হতো। কিন্তু সনের নাম থাকত না। এতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতো। তখন পরামর্শের ভিত্তিতে একটি সন নির্ধারণ ও গণনার সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন উপলক্ষ থেকে সন গণনার মতামত আসলেও শেষ পর্যন্ত হিজরতের ঘটনা থেকে সন গণনার সিদ্ধান্ত হয়। হিজরতের বছর থেকেই সন গণনার তাৎপর্য কী? সন গণনার আলোচনার সময় প্রস্তাব উঠেছিল,ঈসায়ী সনের সূচনার সঙ্গে মিল রেখে নবীজীর জন্মের সন থেকে ইসলামী সনের শুরু হওয়া। এ রকম আরও কিছু কিছু উপলক্ষের কথাও আলোচিত হয়। কিন্তু হিজরতের সন থেকে সন গণনা চূড়ান্ত হওয়ার পেছনে তাৎপর্য হল,হিজরতকে মূল্যায়ন করা হয় ‘আল ফারিকু বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিল’ অর্থাৎ সত্য-মিথ্যার মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী বিষয় হিসেবে। হিজরতের পর থেকেই মুসলমানরা প্রকাশ্য ইবাদত ও সমাজ-গঠনের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন। প্রকাশ্যে আযান, নামায, জুমা, ঈদ সবকিছু হিজরতের পর থেকেই শুরু হয়েছে। এসব তাৎপর্যের দিকে লক্ষ্য করেই মুসলমানদের সন গণনা হিজরত থেকেই শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হিজরী সনের মাসগুলো তো আগে থেকেই ছিল। সে হিসেবে এ সনটিকে কেবল আরবী সন হিসেবে সাব্যস্ত করা যায় কি না? মাসগুলো আরবী মাস হলেও সনটিকে গোটা মুসলিম উম্মাহর সন হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। মাসগুলো আসলে চান্দ্র বর্ষের মাস। আরবীতে ‘আশশুহূরুল কামারিয়্যা’ বলা হয়। এজন্য হিজরী সনও একটি চান্দ্রবর্ষ। যেমন ঈসায়ী সনের মাসগুলোকে বলা হয় ‘আশশুহূরুশ শামসিয়্যা’ বা সৌরবর্ষের মাস। এই চান্দ্রবর্ষকে তাই কেবল আরবদের সন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়া যাবে মাসিক আলকাউসারের ওয়েবসাইট থেকে: https://www.alkawsar.com/bn/article/498/ joinসত‍্যকথন

বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে। চারপাশে কোটি মানুষ ইনভলভড। এই মুহূর্তে গিয়ে ‘হে মুসলিম যুবক, তুমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছ’ টাইপ পোস্ট দিলে সেটা দাওয়াহ কম, কনফ্লিক্ট বেশি তৈরি করবে। কারণ মানুষ এখন খেলাকে শুধু খেলা হিসেবেই দেখছে। আমি যেটাকে ‘উম্মাহর সংকট’ হিসেবে দেখছি, সে সেটাকে ‘বন্ধুদের সাথে আনন্দের সময়’ হিসেবে দেখছে। দাওয়াহর একটা বেসিক রুল আছে, মানুষ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে তাকে ধরতে হয়। আমি যদি তার মানসিক অবস্থাই না বুঝি, তাহলে সে আমার কথা কেন গ্রহণ করবে? আমাদের এখানে একটা বড় সমস্যা হলো ইভেন্ট-বেসড রিঅ্যাক্টিভিজম। বিশ্বকাপ আসলে বিশ্বকাপ হারাম। কনসার্ট আসলে কনসার্ট হারাম। ভ্যালেন্টাইন আসলে ভ্যালেন্টাইন হারাম। বছরের বাকি সময় কোনো দীর্ঘমেয়াদি কাজ নেই, যুবকদের নিয়ে কোনো সিরিয়াস এনগেজমেন্ট নেই, বিকল্প কালচার নেই, শক্তিশালী কমিউনিটি নেই, সম্পর্কভিত্তিক দাওয়াহ নেই, কিন্তু ইভেন্ট আসলেই হঠাৎ ফাতওয়ার বন্যা। এভাবে আসলে মানুষ বদলায় না। বরং বাস্তবতা হলো, পিক ইনভলভমেন্ট মোমেন্টে মানুষকে কোনো কিছু থেকে সরানো সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটা। এটা শুধু দাওয়াহর না, পুরো মার্কেটিং ও বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেরই কথা। মানুষ যখন কোনো কিছুতে ইমোশনালি ইনভেস্টেড থাকে, তখন সরাসরি আক্রমণ করলে সে আরও ডিফেন্সিভ হয়ে যায়। অনেক সময় উল্টো জিদ বাড়ে। এই কারণেই আম্বিয়ায়ে কেরাম (আলাইহিমুস সালাম) শুধু মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ বদলাননি। তারা মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন, ধীরে ধীরে চিন্তা বদলেছেন, সময় নিয়েছেন। এমনকি জিহাদের আগে তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন বারেবারে। আমি যদি সত্যিই চাই মুসলিম যুবকরা অর্থহীন বিনোদন থেকে বের হয়ে আসুক, তাহলে তাকে শুধু ‘হারাম’ বললেই হবে না। তার জীবনে অর্থপূর্ণ বিকল্প দিতে হবে। তাকে উদ্দেশ্য দিতে হবে। শক্তিশালী মুসলিম আইডেন্টিটি দিতে হবে। তার সাথে সম্পর্ক গড়তে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সময় বুঝতে হবে। বিশ্বকাপ চলাকালে ফেসবুকে দাঁড়িয়ে ‘হায় মুসলিম যুবক’ বলে কান্নাকাটি করার চেয়ে, বিশ্বকাপের মাঝে ব্যক্তিগত দাওয়াহ অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। হয়তো সে এবারও খেলা দেখবে, কিন্তু অন্তত তার ভেতরে একটা গিল্ট তৈরি হবে। ভবিষ্যতের পরিবর্তন সেখান থেকেই শুরু হয়। দাওয়াহ মানে শুধু সত্য কথা বলা না। দাওয়াহ মানে সত্য কথাটা এমনভাবে বলা, যেন মানুষ সেটাকে শোনার মতো অবস্থায় আসে। Tanjil Arefin Adnan joinসত‍্যকথন

আর কোনো জাতিকে যদি আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে সে জাতিকে এমন কোনো কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে, যেটাতে ব্যস্ত থেকে তাদের কোনো লাভ হবে না। কিন্তু সেটাতে ব্যস্ত থাকার কারণে আপনাকে নিয়ে তারা ভাববার সুযোগ পাবে না৷ বিশ্বমোড়লরা ঠিক এই কাজটাই করছে৷ আমাদেরকে খেলার নেশায় উন্মাদ রেখে আমাদের উপর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সেজে বসেছে। আমরা নিজেদের ভাগ্যকে ওদের হাতে তুলে দিয়ে নিজেরা মেতে আছি অনর্থক, অহেতুক ও ফালতু খেলতামাশায়। . কত শিক্ষার্থী যে এই খেলার নেশায় পড়ে নিজের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ধ্বংস করে ফেলেছে, এর কোনো হিসাব নেই। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় আমরা দেখেছি, নিজের সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে মাগুরার কৃষক আমজাদকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জার্মানির পতাকা বানাতে (https://www.prothomalo.com/.../bangla.../district/z0c954syzh) নিজের পছন্দের দল বিজয়ী হলে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিরিয়ানি খাওয়ানোর ঘটনা তো বাংলাদেশেই ঘটছে৷ অথচ হাজার হাজার বনী আদম এদের সামনে অভুক্ত থাকে। শীতের মৌসুমে বস্ত্রের অভাবে কষ্ট করে। কিন্তু ধর্ম ও মানবতার প্রতি তাদের বিন্দুমাত্রও দরদ নেই। আপনি অনেক মুসলিমকে এমন পাবেন যারা মেসি, নেইমার আর রোনালদোকে নিজেদের আদর্শ মনে করে। তাদের স্টাইলে চুল কেটে গর্ববোধ করে। জীবনে তাদের মতো খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন লালন করে। বুকে ও পিঠে তাদের নাম লেখা টি শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়।  . অথচ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বাণী সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর। তিনি স্বীয় পাক যবানে ইরশাদ করেন: قِيلَ للنبيِّ ﷺ: الرَّجُلُ يُحِبُّ القَوْمَ ولَمّا يَلْحَقْ بهِمْ؟ قالَ: المَرْءُ مع مَن أحَبَّ. নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কেউ কোনো জাতিকে ভালোবাসলো কিন্তু তাদের সাথে মিলিত হতে পারল না, এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলুন? তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষ তার সাথেই থাকবে, দুনিয়াতে সে যাকে ভালোবাসত।(সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬১৭০) . এজন্য কাকে ভালোবাসছি, জীবনকে কার মতো করে সাজাচ্ছি, আমার পোশাক-আশাক, চেহারা-সূরত কার মতো হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের প্রত্যেকের ঈমানী কর্তব্য। মেসি, নেইমার, আর রোনালদোদের ঈমান নেই, অন্তরে ঈমান পোষণকারী কোনও মুমিন কী করে এদেরকে নিজের জীবনের আদর্শ বানাতে পারে? অথচ হাজারও মাজলুম মুমিনের প্রতি আমাদের কতজনের অন্তরে প্রকৃত দরদ আছে!! . ওয়াল্লাহি, অন্তরে মুমিনদের জন্য ভালোবাসা ও সহমর্মিতা না রেখে নিকৃষ্ট কাফের-মুশরিকদের ভালোবাসা লালন করা মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক অবক্ষয়৷ এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের বিজয়ের স্বপ্ন দেখা শুধুই কল্পনাবিলাস, শুধুই কল্পনাবিলাস। আল্লাহ তা'আলা আমাদের বোঝার তাওফীক দান করেন আমিন! ~ শায়েখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ joinসত‍্যকথন

আসুন, অহেতুক খেল-তামাশার ঘোর থেকে বেরিয়ে এসে উম্মাহকে নিয়ে ভাবতে শিখি। এই তো কিছুদিন আগে প্রথমে এশিয়া কাপ হলো। এশিয়াকাপ শেষ হতে না হতেই নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা সিরিজ খেলার জন্য বাংলাদেশে উপস্থিত। তার কিছুদিন পর থেকেই শুরু হলো ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এভাবে একের পর এক খেলার শিডিউল চলছেই। খেলা চলাকালীন দেশবাসীর আবেগ-উচ্ছ্বাস উদ্বেগজনক। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পর্দা লাগানো হয়৷ প্রতিটি পর্দার সামনে জড়ো হয় শতশত আবেগি দর্শক। সম্মিলিতভাবে মেতে ওঠে খেলা দেখায়। থেকে থেকে ভেসে আসে সমবেত কণ্ঠের গগনবিদারী উল্লাসধ্বনি। মসজিদে নামাজরত মুসল্লীদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটছে, কিন্তু তাতে কার কী আসে যায়? খেলার বিপরীতে  ধর্ম-নামাজ-ইবাদাত যেন চূড়ান্ত এক গৌণকর্ম। . অনেক নিয়মিত নামাজিও এ সময় দেদারসে নামাজ ছেড়ে দেয় বা কোনোমতে পড়ে নেয়। পরকালের কোনও ভয় নেই। এক বসাতেই কেটে যাচ্ছে দুই-তিন-চার-পাঁচ ঘণ্টা সময়ও। কী এক অদ্ভুত অবস্থা! যেন দুনিয়াতে খেলা-ই সব! খেলা-ই প্রধান, বাকি সব প্রয়োজন মাত্র!! সামান্য এক খেলার সামনে আমাদের দীন-ধর্ম কতটা অসহায়, খেলা চলাকালীন আমাদেরকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত করে এ সত্য তার দাপুটে জানান দিয়ে যাচ্ছে৷ . বদলে গেছে জয়-পরাজয়ের সংজ্ঞা একেবারেই তুচ্ছ ও অনালোচ্য এই খেলার জয়-পরাজয় এখন উপস্থাপিত হচ্ছে একটি দেশের জয়-পরাজয়ের ভূমিকায়। আকর্ষণীয় শিরোনাম দিয়ে দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলো যেন এই দৃষ্টিভঙ্গিই মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল করানোর দায়িত্বে নিয়োজিত। “নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের”, “নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টাইগারদের দাপুটে জয়”, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বড় জয়” ইত্যাদি আরও বহু শিরোনাম পাবেন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে। ইসলামকে বিশ্বের বুকে উঁচু করার মহৎ উদ্দেশ্যে  কাফেরদের পরাজিত করে কোনও দেশ জয় করার পূর্ববর্তী সেই আনন্দ এখন আমরা নিছক খেলার জয় থেকে নিচ্ছি! কত বোকা আমরা!! মুসলিমদের মন-মস্তিষ্ক থেকে এভাবেই জয়-পরাজয়ের সংজ্ঞাকে আমূল বদলে দিয়েছে কাফেররা। তাই তো মুসলিম যুবকরা এখন আর অস্ত্রচালনা শেখে না; শেখে ব্যাট চালনা। তাদের অবচেতন মন এটা বিশ্বাস করেই নিয়েছে যে, বল খেলেই আমি আমার দেশকে বিজয়ী করতে পারব। . বস্তুত, আন্তর্জাতিক বিশ্বে এই বিজয়ের স্বার্থকতা কতটুকু? এরকম হাজারও বিজয়ে কি কাফেরদের ঔদ্ধত্যে বিন্দুমাত্রও হ্রাস আসবে? বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের উপর চলমান জুলুম-নির্যাতন কি এক তিল পরিমাণও কমবে? পরাজিত দেশের উপর কি আমাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে?—ইত্যাদি প্রশ্নগুলো নিয়ে তারা ভাবছে না; ভাববার সুযোগ পাচ্ছে না। . আরও দুঃখজনক ব্যাপারটা কী, জানেন? স্টেডিয়াম নামক চার দেয়ালের এক বাউন্ডারির ভেতর কয়েক ঘণ্টার দৌড়ঝাঁপ আর আত্মঘাতী লম্ফঝম্পের বিনিময়ে অর্জিত যে ‘পদার্থ’টিকে আমরা নিজেদের বিজয় বলে অভিহিত করছি, এমন মূল্যহীন, অতি গৌণ কোনও ‘পদার্থ’কে বিশ্বমোড়লরা কিন্তু দেশজয় ভাবছে না। তারা বিজয় বলতে সেটাই বুঝে, যেটা বুঝত তাদের পূর্বপুরুষ ক্রুসেডাররা। তাদের কাছে বিজয়ের সংজ্ঞা এখনও অপরিবর্তিত-ই আছে। . এ সত্য তারা ভালোভাবেই জানে যে, খেলার জয়-পরাজয়ের কোনও বাস্তবতা নেই। বাচ্চাদের মতো, বোকা মুসলিমদের কিছু একটা দিয়ে ব্যস্ত রেখে মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে  রাজদণ্ড পরিচালনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যখন ব্যাট দিয়ে বল পিটিয়ে বাউন্ডারি পার করার নিরর্থক আনন্দে উল্লাস করছি, ঠিক তখন আমেরিকা ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া আর মালিতে মুসলিমদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে তাদের বাস্তুহারা করার আনন্দে উল্লাস করছে। আন্তর্জাতিক জারজ রাষ্ট্র ইসরায়েলের বর্বর জায়নিষ্টরা ফিলিস্তিনিদের বন্দী,  হত্যা ও স্বদেশ থেক বিতাড়িত করে সেখানে ইহুদিদের পুনর্বাসন দেওয়ার আনন্দে উল্লাস করছে। কমিউনিস্ট রাশিয়াও মেতে আছে রাজ্যজয়ের নেশায়। চীনও ব্যস্ত আছে সারাবিশ্বে নিজস্ব ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কাজে। কিন্তু একমাত্র আমরাই সেই হতভাগা জাতি, যারা জয়-পরাজয় সংজ্ঞা পরিবর্তন করে ফেলেছি। . আরও দুঃখজনক হলো, নিজের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন আর জার্মানের সমর্থক হয়ে আনন্দ করছি ফুটবল বিশ্বকাপে। অথচ তাদের জয়-পরাজয়ে আমাদের কী আসে যায়? কতটুকু লাভ-ক্ষতি আমাদের হয়? এভাবে ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি কখনও। আমাদের নির্বুদ্ধিতার পূর্ণ সুযোগ লুটে নিচ্ছে ক্রুসেডাররা। মনে রাখবেন, আমরা যতদিন পর্যন্ত এসব অহেতুক খেল-তামাশা বর্জন করে নিজেদের দীন-ধর্ম এবং মুসলিম উম্মাহকে নিয়ে ব্যস্ত না হব ততদিন আমাদের গর্দান থেকে গোলামির জিঞ্জির নামবে না৷ . আচ্ছা, আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, অ্যামেরিকা, ইসরায়েলে, চীন, রাশিয়া এই দেশগুলোর বেশিরভাগের বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ক্রিকেট টিমই নেই। কারো থাকলেও নামমাত্র। এসব দেশ চাইলে পৃথিবীর সেরা ফুটবল ও ক্রিকেট টিম তৈরি করতে পারে নিঃসন্দেহে। কিন্তু তারা এসবে তেমন একটা মনোযোগ দিচ্ছে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব খেলা নিয়ে তেমন একটা মাতামাতিও করে না। 

মানবজাতির ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের স্মরণে হৃদয় কেঁপে ওঠে, আত্মা আলোয় ভরে যায়। হযরত মুহাম্মদ ﷺ সেই মহামানব, যিনি ছিলেন সমগ্র জগতের জন্য রহমত। তিনি শুধু একজন নবী নন, তিনি মানবতার মুক্তির দিশারি, অন্ধকার পৃথিবীর এক অনন্ত আলোকবর্তিকা। তাই কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়— “তুমি যে নূরের নবী, নিখিলের ধ্যানের ছবি, তুমি না এলে দুনিয়ায়, আঁধারে ডুবিত সবি।” রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আগমনের পূর্বে পৃথিবী ছিল জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। মানুষের হৃদয়ে ছিল হিংসা, অহংকার ও বর্বরতা। নারীর কোনো সম্মান ছিল না, দুর্বলদের উপর চলত নির্মম অত্যাচার। ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিবকে পাঠালেন মানবতার মুক্তিদূত হিসেবে। তাঁর শিক্ষা মানুষকে শিখিয়েছে দয়া, ন্যায়, ভালোবাসা ও সত্যের পথ। এই ইতিহাসের প্রতিটি প্রান্ত যেন নবুয়তের আলোয় আলোকিত। যে ভূমিতে হযরত আদম (আ.) প্রথম পৃথিবীর মাটিতে পদার্পণ করেছিলেন, যে মরুপ্রান্তরে ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগের মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতাতেই জন্ম নিয়েছিল ইসলামের মহান ইতিহাস। কিন্তু সত্যের এই পথ কখনোই সহজ ছিল না। কারবালার প্রান্তর আজও সাক্ষ্য দেয় ত্যাগের, ঈমানের ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের। ফাতেমা (রা.)-এর সন্তান, ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (রা.)-এর রক্তে রঞ্জিত সেই মরুভূমি মুসলিম উম্মাহকে আজও কাঁদায়। কারবালা শুধু একটি যুদ্ধ নয়; এটি সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন সংঘর্ষের প্রতীক। সেখানে মাথা নত হয়নি, বরং শাহাদাতের মাধ্যমে ইসলামকে অমর করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তায়েফের রক্তাক্ত স্মৃতি মানবতার ইতিহাসে এক অসীম ধৈর্যের শিক্ষা হয়ে আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন তায়েফবাসীর কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেলেন, তখন তাঁকে পাথর ছুড়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। তাঁর জুতা রক্তে ভরে গিয়েছিল, তবুও তিনি তাদের জন্য বদদোয়া করেননি। বরং দোয়া করেছিলেন— “হে আল্লাহ! এরা জানে না, এদেরকে হেদায়েত দাও।” এই মহান ক্ষমাশীলতা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মক্কার আকাশে আবাবীল পাখির ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে এক অলৌকিক নিদর্শন। আল্লাহর ঘর ক্বাবাকে রক্ষা করার জন্য ক্ষুদ্র পাখিরাও আল্লাহর সৈনিক হয়েছিল। তাদের ঠোঁটে থাকা ছোট পাথর ধ্বংস করেছিল জালিম বাহিনীকে। আজও সেই ক্বাবা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। কোটি কোটি মানুষ দিনরাত তাকে প্রদক্ষিণ করে, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় চোখের জল ফেলে। ক্বাবার প্রতিটি পাথরে যেন লুকিয়ে আছে নবীদের স্মৃতি। সেখানে ইব্রাহীম (আ.)-এর ত্যাগের সুবাস, ইসমাইল (আ.)-এর আনুগত্যের সৌরভ এবং প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর পদচিহ্নের মহিমা মিশে আছে। একজন মুমিন যখন ক্বাবার দিকে তাকায়, তখন তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসে। মনে হয়, পৃথিবীর সব ক্লান্তি ও অস্থিরতা যেন সেখানে গিয়ে শান্ত হয়ে যায়। আজকের পৃথিবী আবারও অন্ধকার, বিভক্তি ও অন্যায়ের মধ্যে নিমজ্জিত। মানবতা আহত, বিবেক নিস্তব্ধ। তাই আজও মানুষ খুঁজে ফেরে সেই নূরের নবীর শিক্ষা, সেই করুণা, সেই ন্যায়বিচার ও সেই ভালোবাসার আদর্শ। কারণ তাঁর দেখানো পথই মানবতার মুক্তির একমাত্র পথ। নূরের নবী ﷺ-এর ভালোবাসা, কারবালার ত্যাগ, তায়েফের ধৈর্য ও ক্বাবার পবিত্রতা—সব মিলিয়ে ইসলামের ইতিহাস শুধু অতীতের কোনো কাহিনী নয়; এটি প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের স্পন্দন, আত্মার জাগরণ ও সত্যের চিরন্তন আহ্বান। বিশ্ব নবী (স.) জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি তুমি হৃদয়ের স্পন্দন,তুমিই সকল সুখের শিখড়, আধারে ডুবে ছিল সব,আলোকিত করলে বিশ্ব নগর। তোমার আগমন দিয়েই পৃথিবী পেলো তার পুর্ণতা; আকাশ-বাতাস,পাহাড় সবই মুগ্ধ দেখে তোমার সততা। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব তুমি,তুমিই সকল মাখলুকাতের সেরা, যাহার উপর এমন মর্যাদাবান কিতাব নাযিল হলো;যাকে দেয় অজস্র ফেরেস্তা পাহারা! তোমার প্রেমে পাগল যারা কেবলই তারাই পায় যে এই ইশারা; দোযখ হয়ে যায় নিষিদ্ধ, অন্তর হয় পরিশুদ্ধ দেখিলে নূরের বধন চেহারা।। এত গুণে গুণান্বিত তবু ছিলনা যাহার বিন্দু মাত্র অহংকার, পথভ্রষ্ট হয়ে কত জাতি করলো আঘাত;তবু তিনি করলেন না তাদের প্রহার। প্রেম-ভালোবাসায়, দয়া-মায়ায়,ক্ষমাশীলতায় অন্তর পরিপূর্ণ ছিল যাহার, তিনিই আমার প্রিয় নবী সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গাম্বর! সাত আসমান পাড়ি দিয়ে প্রভুর দর্শনে গিয়েও যিনি উম্মত ছাড়া নিজের জন্য কিছুই চাইলেন না, সেই সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত আমি,নেইকো আমার খুশির সীমানা!! হেদায়েতের চাবিকাঠি তুমি-নিয়ে এলে অশেষ রহমত ; তুমিই আমার কলিজার টুকরো বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (স.)। joinসত‍্যকথন

অপরাধবোধ এবং হতাশা — দুটি ভিন্ন জিনিস ------------------------------------- আমরা যখন এখানে এসেছি, অনেকের মনেই অপরাধবোধ আছে। সেটা থাকা উচিত। অপরাধবোধ হলো একটি স্বীকৃতি — আমি ভুল করেছি। এটি সুস্থ একটি অনুভূতি। কিন্তু অপরাধবোধ যেন হতাশায় রূপ না নেয়। হতাশা হলো শয়তানের অস্ত্র, আদমের পথ নয়। অপরাধবোধ আপনাকে আরও ভালো হওয়ার দিকে ঠেলে দেবে — সেটাই এর কাজ। আল্লাহ বলেছেন, "ওয়ামাই ইয়াক্বনাতু মির রহমাতি রব্বিহি ইল্লাদ দল্লুন" — পথভ্রষ্ট ছাড়া কে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়? আরেকটি আয়াতে বলেছেন — আল্লাহর রহমত থেকে কেবল কাফেররাই আশা ছেড়ে দেয়। একজন মুমিন সবসময় আশাবাদী। তাওবা। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ছোট গুনাহের জন্য সাধারণ তওবা যথেষ্ট। কিন্তু কবিরা গুনাহের জন্য সুনির্দিষ্ট তওবা প্রয়োজন — সেই পাপে আর না ফেরার আন্তরিক নিয়ত সহ। তওবার মাঝেই পাপ ত্যাগের সংকল্প নিহিত। সেই মানসিকতা না থাকলে তা সত্যিকারের তওবা নয়। আর তওবার পাশাপাশি — নামাজ, রোজা, ওযু, তাহাজ্জুদ — এগুলো হলো পাপ মোচনকারী আমল। রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ে, সে যেন প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করছে — কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকে না। আজ রাতে দুআ করুন — শুধু ক্ষমার জন্য নয়, বরং আন্তরিক তওবার তাওফিকের জন্য। হালাল জীবনযাপনকে সহজ করে দেওয়ার জন্য। হারামের দিকে ফিরে না যাওয়ার জন্য। শেষ কথা: রাসূল (সা) বলেছেন, আল্লাহ বলেন — তোমরা যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসো, আমি তোমাদের দিকে এক হাত এগিয়ে যাবো। তোমরা যদি হেঁটে আসো, আমি দৌড়ে আসব। আল্লাহ কেবল চেষ্টাটুকুই চান। আপনি একবার ব্যর্থ হলেও সমস্যা নেই। দশবার হলেও। একশবার হলেও — যতক্ষণ আপনি প্রতিবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে থাকেন। আল্লাহ দেখেন না আপনি কতবার পড়ে গেছেন। আল্লাহ দেখেন আপনি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন কিনা। কখনো হাল ছাড়বেন না। উঠে দাঁড়ান। গুনাহ ঝেড়ে ফেলুন। আল্লাহর দিকে ফিরুন। বারবার ফিরুন। কারণ আল্লাহ আপনাকে এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন — তাঁর রহমতের স্পর্শ পাওয়ার জন্য। আর সেই রহমত পাওয়ার পথ সবসময় উন্মুক্ত। —শায়েখ ইয়াসির কাদী join:  সত‍্যকথন

আল্লাহ কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন — অসীম রহমতের এক গল্প ------------------------------------------------- একটি অপ্রত্যাশিত শুরু: কয়েক সপ্তাহ আগে একটি ডকুমেন্টারিতে ডাইনোসর এবং পৃথিবীর সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আলোচনা দেখছিলাম। তখন মাথায় গভীর কিছু ভাবনা জেগে উঠল। এই পৃথিবীতে জুরাসিক যুগ, তার আগের ও পরের যুগগুলো— এই সবকিছু ঘটেছে প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে। আর আমরা মানবজাতি? সম্ভবত মাত্র এক লক্ষ বছর ধরে এই পৃথিবীতে আছি। কিন্তু এই সংখ্যাগুলোর আড়ালে একটি গভীর বিষয় লুকিয়ে আছে। আল্লাহ বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে এই পৃথিবীকে প্রস্তুত করেছেন — নিখুঁত বায়ুমণ্ডল, ওজোন স্তর, মাটি, পানি, উপত্যকা — শুধুমাত্র আমাদের জন্য। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "সমগ্র আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীর সবকিছু আমি তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছি।" সেই বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের প্রস্তুতি ছিল কেবল আমাদের আগমনের জন্য। তাহলে প্রশ্ন জাগে — কেন? কেন আল্লাহ এই নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করলেন? ফেরেশতাদের প্রশ্ন: ------------- ফেরেশতারা এই প্রশ্নটি আল্লাহকে সরাসরিই করেছিলেন। তাঁরা অবাক হয়েছিলেন — কারণ এই নতুন প্রজাতি উড়তে পারে না, ঘুমাতে হয়, খেতে হয়, বিশ্রাম নিতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা — এরা ভুলপ্রবণ, পাপপ্রবণ। "আমরা তো অবিরাম আপনার তাসবীহ ও তাকবীর করছি" — ফেরেশতারা বললেন — "তাহলে এই প্রজাতির প্রয়োজন কী?" আর ফেরেশতারা এই কথা বলার যোগ্য। তারা কোটি কোটি বছর ধরে একটানা আল্লাহর ইবাদত করে আসছেন — ক্লান্তি নেই, বিরতি নেই, পাপ নেই। বায়তুল মামুরের চারপাশে অবিরাম তাওয়াফ। কিন্তু কিয়ামতের দিন যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং ফেরেশতারাও সাময়িক মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন, তখন তারা বলবেন — "সুবহানাকা রব্বানা, মা আবাদনাকা হাক্কা ইবাদাতিক" — হে আল্লাহ, আমরা আপনার ইবাদত সেভাবে করতে পারিনি যেভাবে করা উচিত ছিল। ভাবুন তো—কোটি কোটি বছরের নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের পরও ফেরেশতারা বলছেন আমরা যথেষ্ট ইবাদত করতে পারিনি। আর এমনকি রাসূল (সা) নিজেও তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে বলতেন—"ইয়া রব, লা উহসি সানাআন আলাইক"—আমি কখনোই আপনার যথাযোগ্য প্রশংসা করতে পারব না। তাহলে আমরা কে? আমাদের ৬০-৭০ বছরের সীমিত জীবনে, যার বেশিরভাগটাই দুনিয়ার কাজে ব্যয় হয়ে যায়, আমরা কীভাবে আল্লাহর যথাযোগ্য ইবাদত করব? উত্তরটি যেখানে লুকিয়ে আছে: ----------------------- সহিহ মুসলিমে একটি হাদিস আছে যা এই প্রশ্নের অসাধারণ একটি উত্তর দেয়। রাসূল (সা) বলেছেন — "যদি তোমরা নিখুঁত হয়ে যেতে এবং পাপ করা বন্ধ করে দিতে, আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতেন। তারপর তিনি এমন একটি প্রজাতি সৃষ্টি করতেন যারা পাপ করতো, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতো, আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিতেন।" এই হাদিসটি বুঝতে পারলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। আল্লাহ কি পাপ ভালোবাসেন? না, মোটেও না। "আল্লাহ ফাসাদ পছন্দ করেন না।" কিন্তু আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। আর ক্ষমা পেতে হলে, কাউকে আগে ক্ষমার প্রয়োজন তৈরি করতে হয়। ইবনুল কাইয়্যিম এই বিষয়টি সুন্দরভাবে বলেছেন — মানবজাতির অস্তিত্বের মাধ্যমে আল্লাহর এমন অনেক নাম ও গুণাবলির প্রকাশ ঘটে যা ফেরেশতাদের মাধ্যমে কখনো সম্ভব হতো না। আত-তাওয়াব, আল-গাফফার, আল-গাফুর, আর-রহমান — এই নামগুলো তখনই অর্থপূর্ণ হয়, যখন কেউ তওবা করে, ক্ষমা চায়, রহমত কামনা করে। ফেরেশতাদের পাপ নেই, তাই তাদের ক্ষমারও প্রয়োজন নেই। ফলে আল্লাহর এই অসীম রহমতের নামগুলো কেবল আমাদের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। কুরআনে আল্লাহ নিজেই বলেছেন — "ওয়ালিযালিকা খালাকাহুম" — এই রহমত প্রদর্শন করার জন্যই আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। আক্ষরিক অর্থেই। পারফেক্ট এবং নির্ভুল হওয়ার ভার থেকে মুক্তি: --------------------- * --------------- এই উপলব্ধি আমাদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। হে মুসলিম, নিখুঁত না হতে পারার কারণে কখনো আশা হারাবেন না। কারণ আল্লাহ আপনাকে নিখুঁত দেখতে চাননি। চাইলে ফেরেশতা সৃষ্টি করতেন, আমাদের সৃষ্টি করতেন না। আল্লাহ আপনার কাছে চান কেবল নিখুঁত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং চেষ্টা — এটা জেনেও যে আপনি কখনো নিখুঁত হতে পারবেন না। আমাদের পিতা আদম (আ)-এর কথা ভাবুন। তিনি জান্নাতে ছিলেন, ফেরেশতাদের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, আল্লাহর সরাসরি কথা শুনেছিলেন। তবুও হোঁচট খেয়েছিলেন। তিনিই আমাদের পিতা। আমরাও তাঁরই সন্তান। আমরাও হোঁচট খাব। কিন্তু আদম (আ) যা করেছিলেন সেটাই আদর্শ — "রব্বানা যালামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।" হে আল্লাহ, আমি ভুল করেছি, কিন্তু আপনি ছাড়া আমার আর কোনো আশ্রয় নেই। এটাই রক্ষার পথ। শয়তান ভুল করেও অহংকারে তওবা করেনি। আদম ভুল করে বিনয়ের সাথে আল্লাহর দিকে ফিরেছেন। পার্থক্যটা এখানেই।

পতাকার মধ্যে অংকিত ঢালটির মধ্যে রয়েছে ৭টি হলুদ দূর্গ এবং এর মাঝখানে আছে নীল রঙের আরো পাঁচটি ঢাল যাদের প্রত্যেকের মধ্যে পাঁচটি সাদা ডট রয়েছে। বড় লাল ঢালটি পর্তুগিজদের পূর্বের বিজয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বাস করা হয়, হলুদ রঙের এ ৭টি দুর্গ পর্তুগিজরা মুরদের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। ছোট ৫টি নীল ঢাল পর্তুগালের প্রথম রাজা আফনসো এক দ্বারা নিহত ৫টি মুরিশ রাজাদের বুঝিয়ে থাকে। এই রাজারা মুরিশ আমলে সেভিল, বাদাজোজ, এলভাস, ইভোরা এবং বেজা টারিফাস এলাকাগুলো শাসন করেছিলেন। প্রতিটি নীল ঢালের মধ্যে ৫টি সাদা বিন্দু যীশুখ্রিস্টের ৫টি ক্ষতের প্রতিনিধিত্ব করে। ৪. জার্মানি জার্মানির পতাকাটি সমান আকারে উপর-নিচে তিনটি ভাগে গঠিত। উপরের ভাগটি কালো, কেন্দ্রীয় ভাগটি লাল এবং সর্বনিম্ন ভাগটি হলুদ। এই রংগুলো জার্মানির জাতীয় রঙের প্রতিনিধিত্ব করে। জার্মানির জাতীয় রঙের উৎপত্তি সম্পর্কে অসংখ্য তত্ত্ব রয়েছে। একটি তত্ত্ব প্রস্তাব করে যে রঙগুলি জেনা স্টুডেন্টস লীগ থেকে প্রাপ্ত হয়েছিল। আরেকটি দাবি ধারণ করে যে রংগুলি লুটজো ফ্রি কর্পসের সময়কালের, যার ইউনিফর্মগুলিতে লাল মুখ এবং সোনার বোতামগুলির সাথে কালো বৈশিষ্ট্যযুক্ত, যা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গঠিত ছাত্র এবং নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তৈরি হয়েছিল। আরেকটি তত্ত্ব মনে করে যে জার্মান পতাকার রং রোমান সাম্রাজ্যের কোট অফ আর্মসের রঙের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যেটিতে ছিল সোনালী ব্যাকগ্রাউন্ডে নখরযুক্ত লাল ঠোঁটের একটি কালো ঈগল। এবং এটাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত। রোমান সাম্রাজ্য ছিল ক্যাথলিক, ওরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধ করে। এভাবে যদি পতাকার ইতিহাস জানা যায়- তাহলে দেখবেন পতাকাগুলো তাদের বিশ্বাস (আকীদা) ও সংবিধান, আইন (শরীয়া), আদর্শ ও আদর্শ ব্যক্তির প্রতি স্বীকৃতি, ভালোবাসা ও ওদের উদ্দেশ্যে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর তাদের সেই বিশ্বাস, স্বপ্ন, জীবনবিধান (দ্বীন) কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা যেসব রক্তাক্ত ও কষ্টসিক্ত বিসর্জন দিয়েছে সেইসব ইতিহাসের প্রতীক বহন করে। অপরদিকে ইসলামের পতাকা (কালেমা খচিত) এক আল্লাহর প্রতি অনুগত্য ও তার দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ও এই দ্বীনের আদর্শ পুরুষ রসুলের (সাঃ) আদর্শের প্রতি স্বীকৃতি, ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মুমিনরা এই পতাকা দেখলে- বদর, উহুদ, খন্দক, মুতা, মক্কা বিজয়ের ইতিহাস স্মরণ হয় যখন তাদের আদর্শ ছিল রসুল (সাঃ), সংবিধান ও পতাকা ছিল একটাই। এখন সিন্ধান্ত আপনাদের – জাহেলিয়াতের পতাকা ভালোবাসবেন না ইসলামের!! আল্লাহ বলেন- ‘‘হে ঈমানদারগণ! ইয়াহূদী ও খৃস্টানদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর যদি তোমাদের মধ্য থেকে কেউ তাদেরকে বন্ধু হিসাবে পরিগণিত করে তাহলে সেও তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। অবশ্যই আল্লাহ যালেমদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।’’ (সূরা মায়েদা: ৫১) আরও বর্নিত আছে – ‘‘যারা আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাদেরকে তুমি আল্লাহ ও তার রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে না। হোক না এই বিরুদ্ধাচরণকারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা তাদের জাতি-গোত্র’’। (সূরা মুজাদালাহ-২২) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা কুফরকে ঈমানের উপর প্রাধান্য দেয়। তোমাদের মধ্য হতে যারা তাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, তারাই হবে যালেম।’’ (সূরা তাওবা: ২৩) joinসত‍্যকথন

খেলার জার্সি ও পতাকায় যেসব কুফর নিহিত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, "নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।" (সুরা হুজরাত, আয়াত-১০) ইসলামে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধতা সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, "তোমরা সেইসব লোকদের মতো হবে না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।" (সুরা আলে ইমরান-১০৫) অথচ বর্তমানে মুসলিম দাবিদাররা বিভিন্ন খেলা, খেলোয়াড়দের নামে একদিকে কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছে অপরদিকে নিজের মুসলিম ভাইয়ের সাথে দ্বন্দ্ব, উপহাসে লিপ্ত। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কোনো দল যেন অপর কোনো দলকে উপহাস না করে। কেননা যাদের উপহাস করা হল তারা উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অপর নারীদের উপহাস না করে। কেননা যাদের উপহাস করা হল তারা উপহাসকারীর অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহের কাজ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই জালেম।" (সুরা হুজুরাত, আয়াত:১১) অপরদিকে কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা প্রর্দশন করে তাদের জার্সি, পতাকা ব্যবহার করে কবীরা গোনাহে লিপ্ত তা অধিকাংশ মানুষই জানে না। আসুন, পতাকাগুলো কিসের প্রতীক বহন করে জেনে নিই। ১. ব্রাজিল ব্রাজিলের পতাকা সবুজ রং ব্রাজিলের প্রথম সম্রাট পেদ্রো এক-এর পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে। সোনার হীরাটি পেড্রো এক-এর স্ত্রী মারিয়া লিওপোল্ডিনার পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে। নীল বৃত্তের সাদা তারাগুলি দেশের সবগুলো রাজ্যের প্রতীক। ব্রাজিলের পতাকায় “অর্ডেম ই প্রগ্রেসো” (অর্ডার এবং প্রগ্রেস) নীতিবাক্যটি ফরাসী দার্শনিক অগাস্ট কমটে এর নীতিবাক্য দ্বারা অনুপ্রাণিত, “ভালবাসা দিয়ে শুরু, এবং ভিত্তি হিসাবে আদেশ; শেষ হিসাবে অগ্রগতি।” এটি সন্নিবেশিত করা হয়েছিল এই কারণে যে সামরিক অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন লোক যারা রাজতন্ত্রকে অপসারণ করেছিল এবং ব্রাজিলকে একটি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছিল তারা কমটে-এর ধারণার অনুসারী ছিল। এই পতাকায় তাদের আদর্শ পুরুষ আগাস্ট কমটে এর আদর্শ বহন করছে ও তার দ্বীন (জীবনবিধান, সংবিধান) প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ও স্বীকৃতি বুঝায়। ২. আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনার পতাকা পর্যবেক্ষণ করলে আমাদের দৃষ্টি অবিলম্বে এর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়, যেখানে আমরা এটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যটি খুঁজে পাই: একটি নিরপেক্ষ অভিব্যক্তি বিশিষ্ট মানব মুখ যার কেন্দ্র থেকে নির্গত সোজা এবং তরঙ্গায়িত রশ্মি, যা একটি সূর্যের প্রতিনিধিত্ব করে। সূর্যটি আর্জেন্টিনার মে বিপ্লবের পরে মে অফ মে সান নামে পরিচিত (যা শেষ পর্যন্ত স্পেন থেকে জাতীর স্বাধীনতার দিকে নিয়ে যায়) একটি জাতীয় প্রতীক। ১৮১৩ সালের আর্জেন্টিনার মুদ্রায় একই সূর্যের একটি চিত্র রয়েছে, যেমন উরুগুয়ের পতাকা (শুধুমাত্র রশ্মির সংখ্যায় ভিন্ন), এবং পেরুর পতাকার প্রাথমিক সংস্করণ। ইনকান আভিজাত্যের পেরুর বংশধর জুয়ান দে ডিওস টুপাক আমরু, দ্য সান অফ মে ডিজাইন করেছিলেন, যা ইনকান সূর্য দেবতা ইন্তিকে শ্রদ্ধা জানায়। ইনকারা সূর্য এবং তার জীবনদানকারী শক্তির পূজা করত। তারা বিশ্বাস করত যে তাদের শাসক সূর্যের সরাসরি বংশধর এবং তারা তাদের সাম্রাজ্য জুড়ে সূর্য মন্দির নির্মাণ করেছিল। আর্জেন্টিনার ১৮১৩ সালের মূল জাতীয় সঙ্গীতটিও নাটকীয় ও গীতিমূলকভাবে ইনকাদের নির্দেশ করে যে তাদের মৃতরা “কাঁপিয়েছে, এবং প্রাচীন জাঁকজমকভাবে তাদের হাড়ের মধ্যে উদ্দীপনা পুনরুজ্জীবিত হয় জন্মভূমির ছেলেদের জন্য।” এটা সরাসরি ইনকা সূর্য দেবতার প্রতি ভালোবাসা ও তার দ্বীনের প্রতি সমর্থন বুঝায়। ৩. পর্তুগাল পর্তুগালের পতাকার লাল রঙ দেশটির গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ার জন্য লড়াই করা লোকদের হারিয়ে যাওয়া সমস্ত রক্তের প্রতীক এবং সবুজ রং হচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য আশার প্রতীক। পর্তুগালের পতাকার মাঝখানে একটি হলুদ আর্মিলারি গোলক (হলুদ ফিতার প্যাচানো নকশা) এবং একটি ঢাল রয়েছে এবং ঢালটি (লাল রঙের) রয়েছে আর্মিলারি গোলকের ওপর। আর্মিলারি স্ফিয়ার (এছাড়াও একটি গোলাকার অ্যাস্ট্রোল্যাব, আর্মিলা বা আর্মিল নামে পরিচিত) একটি জ্যোতির্বিদ্যার যন্ত্র যা আবিষ্কারের যুগ বা অনুসন্ধানের যুগে মহাসাগরগুলিতে নেভিগেট করতে ব্যবহৃত হত। আর এই যন্ত্র পরিচিত লাভ করে প্রিন্স হেনরি দ্বারা। যিনি ছিলেন নাইট টেম্পেলদের গ্র্যান্ড মাস্টার ছিল। মুসলিমদের বিরুদ্ধে টেম্পেলরা বহু যুদ্ধ করেছে। যারা ছিল মূলত শয়তান পূজারী। তাদের অনেককে সালাউদ্দিন আইয়ুবী শেষ করেন।। অনেকের মতে- ওদের বংশধররা পরবর্তীতে ফ্রী মেসেনারি ও ইলুমিনিতি চালু করে।

সময়টা ১৯৯৪ সাল‼️ সস্ত্রীক হজ পালন করতে গিয়ে নিজ চোখে দেখেন, জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সময় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২৭০ জন হাজ্বী। এবং এটা নাকি প্রতিবছরের সাধারণ ঘটনা।২০০/৪০০ হাজ্বী মারা যায় এভাবেই। ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ, বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা তৈরী করেন। ১. প্রতিটি জামরাকে বেড়া দিয়ে পরস্পর সংযুক্ত করতে হবে, যাতে উভয় দিকে দুটি রাস্তা তৈরি হয়। ২. জামরার দেয়াল মাত্র ছয় ফুট বাই ছয় ফুট ছিল, তা উভয় দিকে অন্তত ৩০ ফুট করে বাড়িয়ে নেওয়া হলে জায়গা প্রশস্ত হবে। ৩. একমুখী ট্রাফিক সিগন্যালের ব্যবস্থা করা হবে। ৪. মিনায় প্রবেশ পথ ও বের হওয়ার পথ আলাদা হবে।অর্থাৎ হাজিরা একদিক দিয়ে ঢুকে পাথর মেরে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যাবেন; কেউ পেছনে ফিরবেন না। ৫.হজযাত্রীদের দিকনির্দেশনার জন্য পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হবে। পরে তিনি সেই প্রকল্প বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে তা সৌদি সরকারের কাছে পৌঁছানো হয়। সৌদি বাদশাহ ফাহাদ অত্যন্ত খুঁশি হন তার এই পরিকল্পনা পেয়ে। তাঁকে পবিত্র মক্কায় প্রকল্পপ্রধান হিসেবে নিয়োজিত করেন। কাবার ইমাম ঘোষনা দেব পৃথিবীর ১০ জন সেরা প্রকৌশলীর মধ্যে ইব্রাহিম একজন। কেননা, এর আগে অনেক প্রকৌশলী হজযাত্রী হিসেবে হজ্জ্ব করলেও কেউ কখনও বিষয়টি নিয়ে ভাবেননি। মোহাম্মদ ইব্রাহিম ১৯৪১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি প্রথমে বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিআইটি থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি শিক্ষা বিভাগ, বিআরটিসি, ওয়াপদা এবং বিসিআইসিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিসিআইসির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অবসর গ্রহণের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন লেখক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। তাঁর রচিত বইগুলোর মধ্যে How to Build a Nice Home, রাহে মক্কা রাহে মদিনা, হজ পরিক্রমা, স্বল্পমূল্যে গৃহনির্মাণ এবং আল কুরআনে আধুনিক বিজ্ঞান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ------------------------ তার কথা কেন উল্লেখ করা হলো জানেন?? আপনি যখনই কোন জাতির,কোন সমাজের,কোন মানব গোষ্টির সামস্টিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবেন তখন আল্লাহ আপনার জন্য সফলতার এমন কিছু দুয়ার উন্মুক্ত করে দিবেন, যা সাধারণদের জন্য বন্ধ থাকে। আপনাকে এমন এমন ভালো কাজের সুযোগ দিবেন আবেদও যেকাজের সুযোগ পায়না। তাই মানুষের উপকারে জনগণের কল্যাণে কাজ করুন। হোক একজন দুজন দশজন বা দশহাজার জন। সংখ্যা যাই হোক না কেন বিচলিত হবেন না।আপনার প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ কিনা আল্লাহ এটুকুই দেখবেন। joinসত‍্যকথন

photo content

কুরবানী সুন্নতে মুয়াক্কাদা না ওয়াজিব এই নিয়ে ইখতিলাফ আছে। যদিও সাহাবীরা এটাকে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসাবে বিবেচিত করতেন। কিন্তু সবাই ঐক্যমত সালাত ফরজ। তবু কুরবানী যত আগ্রহ নিয়ে পালিত হয় সালাতে তার ৫০ ভাগ আগ্রহ থাকে না। কুরবানী পশু কেমন,কত টাকা দিয়ে কিনা হয়েছে কত না আগ্রহ থাকে সবার মাঝে ।যদিও সবার কুরবানির সামর্থ্য থাকে না। কুরবানী না করলেও কাফির হবে না। অথচ পাচ ওয়াক্ত সালাত সকল সুস্থ, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ফরজ।আর জেনে-বুঝে বিনা ওজরে সালাত ছেড়ে দেওয়া কুফরী। শয়তানের একটা বড় প্রতারনা ছোট আমলকে বড় করে দেখায়।এভাবে ফরজ হতে বিরত রাখে। সারাদিন কুরবানী হাটে সময় কাটিয়ে দিয়ে ফরজ সালাত আদায় না করা লোকের সংখ্যা অসংখ্য। ঈদের দিন ফজর সালাতে মসজিদ থাকে ফাঁকা অথচ একই মসজিদ ঈদের সালাতে মানুষ দ্বারা পরিপূর্ণ। মসজিদে মুসলিম পরিচয় কাতারবন্দি হলেও, সালাতে আর্দশ রসুল (সা:) হলেও সালাত শেষে অনেকের আর্দশ হয়ে যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা দল। আবার যাকাত ফরজ অথচ লাখো টাকার গরু কিনার লোকের অভাব হয় না, সঠিক পদ্ধতিত যাকাতদাতা খুজে পাওয়া কষ্টকর। কারন মানুষ ইবাদত নয় উৎসব,রিয়া বেশি আগ্রহী। সংগৃহীত joinসত‍্যকথন

আজ আমরা বাংলাদেশে যেভাবে নির্বিঘ্নে গরু কোরবানি দিচ্ছি,কয়েকশ বছর আগে পরিস্থিতি এমন ছিল না।এই অধিকার আদায়ের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। ইতিহাস নিজে জানেন এবং অন্যকে জানান। ব্রিটিশ আমল পর্যন্ত বাংলার অনেক অঞ্চলে হেদু জমিদারদের ভয়ে সাধারণ মুসলিমরা প্রকাশ্যে গরু কোরবানি করতে সাহস পেতেন না।অনেকেই ছাগল বা বকরি কোরবানি দিতেন।এ কারণেই আমাদের মুরুব্বিরা দীর্ঘদিন একে “বকরি ঈদ” বলতেন। ইতিহাসে উল্লেখ আছে,১২ শতকে বিক্রমপুরের রাজা বল্লাল সেনের রাজ্যে গরু জ*বা*ই ও আজান নিষিদ্ধ ছিল।এক মুসলিম ব্যক্তি গোপনে গরু জ*বা*ই করলে একটি চিল সেই জবাই করা গরুর এক টুকরো মাংস ঠোঁটে করে ওড়ার সময় রাজার প্রাসাদের আঙিনায় ফেলে দেয়। বিষয়টি প্রকাশ পেলে সেই পরিবার কঠোর শা*স্তির মুখে পড়ে। নিগৃহীত মুসলিমদের সাহায্যে আরব থেকে এগিয়ে আসেন বিখ্যাত সুফি সাধক ও মর্দে মু*জা*হিদ হযরত বাবা আদম শহীদ (রহ.)। তিনি বাংলায় এসে প্রকাশ্যে আজান ও গরু জ*বা*ই শুরু করেন। পরে ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে হেদু রাজার বাহিনীর সঙ্গে যু**দ্ধে তিনি শা*হা*দাত বরণ করেন। এভাবেই গরু জ*বাই চালু হয়,পরবর্তীতে ১৯৪৭-এ এটি আরও ব্যাপক হয়। মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক বাবা আদম মসজিদ আজও সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। আজকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কোরবানির এই সুযোগ সহজে আসেনি;এর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের লড়াই ও ত্যাগ। 👆ছবি: বাবা আদম মসজিদ,মুন্সীগঞ্জ

photo content

কুরবানীঃ উদ্দেশ্য, আত্মিক পুনরুজ্জীবন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা | Ustad Ahmad Faiyaaz | Ummah News

আজকের দিনটা শুধু আরাফার দিন নয়… আজকের দিনটা মনে করিয়ে দেয় বহু বছর আগে এই আরাফার দিনের পর পৃথিবীতে মুহাম্মাদ ﷺ আমাদের মাঝে আর মাত্র প্রায় ৮১ দিন জীবিত ছিলেন…! ভাবা যায়? যে মানুষটাকে ছাড়া জান্নাত কল্পনাও করা যায় না… যার উম্মত হওয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়… আরাফার সেই ময়দান থেকে বিদায় হজ্জের ভাষণ দেওয়ার পর তিনি দুনিয়ায় খুব অল্প সময়ই ছিলেন। আজকের সেই আরাফার দিনেই নাযিল হয়েছিল ইসলামের পূর্ণতার ঘোষণা “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” — সূরা আল-মায়িদাহ : ৩ এই আয়াত শুনে অনেক সাহাবী কেঁদে ফেলেছিলেন… কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলেন, দ্বীন পূর্ণ হওয়ার অর্থ  নবীজী ﷺ-এর দুনিয়ার মিশন প্রায় শেষের পথে…অতি শীঘ্রই তিনি চলে যাবেন তার রবের কাছে।। এবং সত্যি তাই হয়েছিল। মোহাম্মদ ইব্রাহিম joinসত‍্যকথন

ইতিহাসের পাতা উল্টে আজ থেকে ঠিক ১৪৪৫ বছর আগে ফিরে যাওয়া যাক। সময়টা তখন ৯ হিজরি (৬৩১ খ্রিস্টাব্দ)। মদিনার ধূলিউড়ো পথ বেয়ে একটি ছোট কাফেলা মক্কার দিকে এগিয়ে চলেছে। দলনেতা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। সাথে আছেন মাত্র ৩০০ জন মুসলমান। হ্যাঁ, মাত্র ৩০০ জন! এটিই ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের প্রথম হজ। যেখানে কাফেলাটি রওনা হয়েছিল মক্কার বুক থেকে জাহেলিয়াতের সব অন্ধকার আর কুসংস্কার মুছে ফেলে তাওহীদের আলো জ্বালতে। আর আজ? সময় চক্র ঘুরে আমরা দাঁড়িয়ে আছি ২০২৬ সালে। আজকের মক্কার আকাশ-বাতাস লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত। মিনার তাঁবুর শহরে আজ আর ৩০০ জন নয়, বিশ্বের কোণ অনুকোণ থেকে ছুটে আসা প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) শুভ্রবসনা আশেকে রাসুলের মহাসমুদ্র!

উপমহাদেশ ও বর্তমান পৃথিবীর ইসলামি জ্ঞানের প্রধান কেন্দ্র দারূল ঊলুম দেওবন্দ মাদরাসা ভেঙে ফেলার তৎপরতা শুরু করেছে Bharatiya Janata Party (BJP)। সাহারানপুর জেলায় হিন্দু রক্ষা দল সহ বিভিন্ন চরমপন্থী হিন্দু সংগঠন যার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যেখানে ওদের মূল দাবি হলো, দারূল ঊলুম দেওবন্দের ১৪ ফিট নিচে নাকি শিব মন্দির রয়েছে! সুতরাং, মাদরাসায় খননকার্য আরম্ভের জন্য ওরা সাহারানপুর জেলার ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছে। যেটি মূলত মাদরাসাকে ভেঙে ফেলার দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি। কারণ, ওদের আলোচ্য খননকার্যের তৎপরতা মাদরাসা গুড়িয়ে দেওয়া ব্যতীত অসম্ভব। ইতিপূর্বে গেলো ২০২৫ সালে আফগানিস্তানের Minister of Foreign Affaira (MoFA) আমির খান মুত্তাক্বি দারূল ঊলুম দেওবন্দ সফর করেন। তখন হতে কট্টর ইণ্ডিয়ান বিশেষজ্ঞদের মাঝে মাদরাসা নিয়ে চরম বিদ্বেষমূলক আচরণ দৃষ্টিগোচর হয় বলে লক্ষ্য করা গিয়েছে। যেখানে মাদরাসাকে ইণ্ডিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হুমকি বলেও চিহ্নিত করা হয়। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেদিন ছাত্রদের সাধারণ জমায়েতে ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় তা বাতিল করতে বাধ্য হন। তারপর হতে ইতিমধ্যে বিদ্যমান দারূল ঊলুম দেওবন্দের ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যা আজ অনেকখানি চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। রেভান এম joinসত‍্যকথন

হলো—ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে আল্লাহর দেওয়া ঐশ্বরিক শরি*য়াহ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি। ‎ ‎অতএব, সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অপরাধের মূলোৎপাটন, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং জমিনে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের শরি*য়াহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা আজ অনস্বীকার্য এবং অপরিহার্য। শরি*য়াহ কেবল কতগুলো শুষ্ক দণ্ডবিধির সমষ্টি নয়, বরং এটি মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সমাজকে ভেতর থেকে পরিশুদ্ধ করার এক ঐশ্বরিক রক্ষাকবচ। এর কঠোর, তাৎক্ষণিক ও প্রকাশ্য শাস্তি সমাজে এমন এক গভীর ভীতি ও দৃষ্টান্ত তৈরি করে, যা অন্য যে কোনো সম্ভাব্য অপরাধীকে অপরাধের অন্ধকার পথ থেকে চিরতরে দূরে সরিয়ে রাখে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা এই মানব রচিত অসাড়, পঙ্গু ও ইনসাফহীন বিচার ব্যবস্থা ভেঙে আল্লাহর দেওয়া ইনসাফপূর্ণ ও বরকতময় শরি*য়াহ আইনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছি, ততক্ষণ রামিসাদের মতো নিষ্পাপ শিশুদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের শোকসন্তপ্ত অভিভাবকদের দগ্ধ অন্তর প্রশান্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইব্রাহিম হাসান joinসত‍্যকথন

‎রামিসা হ*ত্যা: শরি*য়াহ'র বিচার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আরও কত উদাহরণ লাগবে? ‎ সম্প্রতি সাত বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসার নির্মম হ*ত্যাকাণ্ড আমাদের সামাজিক বিবেককে এক চরম ও বেদনাদায়ক ঝাঁকুনি দিয়েছে। প্রতিটি সচেতন মুসলিম ও বিবেকবান মানুষের অন্তরে আজ এই একটিই জ্বলন্ত প্রশ্ন তীব্রভাবে আবর্তিত হচ্ছে—এই পৈশাচিক বর্বরতার বিচার আসলে কীভাবে সম্পন্ন হবে? যে চরম নৃশংসতার শিকার হয়ে একটি ফুটফুটে শিশুকে অকালে প্রাণ হারাতে হলো, মানব রচিত এই ঘুণে ধরা সমাজে তার কি আদৌ কোনো প্রকৃত ইনসাফ মিলবে? এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রামিসার ভাগ্যাহত ও শোকার্ত বাবার যে আকুল অভিব্যক্তি এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাপারে তাঁর যে তীব্র আকুতি, তা মূলত এ দেশের মজ*লুম ও শোষিত তাও*হিদী জনতারই বুকফাটা প্রতিধ্বনি। একজন বাবা যখন তাঁর কলিজার টুকরোকে এমন নৃশংসভাবে হারান, তখন অপরাধীর জন্য কেবল কাগজের কলমের নামমাত্র শাস্তি বা স্রেফ বন্দিদশা তিনি চান না; বরং তিনি এমন এক অমোঘ প্রতিবিধান কামনা করেন, যা তাঁর দগ্ধ কলিজায় কিছুটা হলেও শীতলতা এনে দিতে পারে এবং সমাজে এক কালজয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ‎ ‎কিন্তু আমাদের এই বিদ্যমান ধর্মনিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো কি সেই কাঙ্ক্ষিত সান্ত্বনা বা ইনসাফ দিতে বিন্দুমাত্র সক্ষম? বর্তমান জরাজীর্ণ, পশ্চিমা-অনুকৃত আইনি ব্যবস্থার দিকে তাকালে চরম নৈরাশ্য ও হতাশা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এই এক্সিস্টিং সিস্টেমে এই জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়তো মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে; কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত রায়টুকু পেতে ঠিক কতটা দীর্ঘ বছর ও যুগ পার হবে, তা এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন। বছরের পর বছর ধরে চলা মামলার অন্তহীন দীর্ঘসূত্রতা, আইনজীবীদের কূটকৌশল ও আইনি মারপ্যাঁচ, সাক্ষ্য-প্রমাণের নামে হয়রানিমূলক জটিলতা এবং আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে বিচার প্রক্রিয়া এতটাই মন্থর ও স্থবির হয়ে পড়ে যে, একসময় ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচারের আশা ছেড়েই দিতে বাধ্য হয়। এই মানব রচিত ব্যবস্থায় বিলম্বিত বিচার মূলত ন্যায়বিচারকে সুকৌশলে অস্বীকার করারই শামিল, যা প্রকারান্তরে খুনি ও অপরাধীদের আরও দুঃসাহসী করে তোলে এবং নিহতের স্বজনদের প্রতিনিয়ত এক যন্ত্রণাদায়ক কষ্টের দিকে ঠেলে দেয়। ‎ ‎অথচ এই সমাজ, রাষ্ট্র ও আইনি পরিমণ্ডলে যদি আজ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অবতীর্ণ করা শরি*য়াহ'র নিখুঁত বিচার ব্যবস্থা কার্যকর থাকত, তবে পুরো দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইনসাফপূর্ণ হতো। শরি*য়াহ আইনের ঐশ্বরিক ও অমোঘ বিধানে এই ধরনের জঘন্য ও সংবেদনশীল হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো অত্যন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ এবং প্রকাশ্য রাজপথে। সেখানে বছরের পর বছর সময় অপচয় করার কিংবা অপরাধীকে বাঁচানোর কোনো লুপহোল বা সুযোগ নেই। শরি*য়াহর নিখুঁত ও ইনসাফভিত্তিক আইনি কাঠামোতে হ*ত্যার ক্ষেত্রে নিহতের অভিভাবকের অভিব্যক্তি, অধিকার ও চাওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও আইনি প্রধান্য দেওয়া হতো। শুধু খুনের ঘটনা হলে পবিত্র কুরআনের বিধান—'কি*সাস' বা সমদণ্ডের ঐশ্বরিক নীতি অনুযায়ী, অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিহতের অভিভাবকের সিদ্ধান্তই হতো চূড়ান্ত এবং বাধ্যতামূলক। খুনিকে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, নাকি রক্তপণ (দিয়াত) নিয়ে ক্ষমা করা হবে—এই পূর্ণ ইখতিয়ার ও ক্ষমতা আদালত কেবল নিহতের অভিভাবকের হাতেই ন্যস্ত করত। এই শরি*য়াহ ব্যবস্থার ফলে বিচারের প্রতিটি স্তরে ভুক্তভোগীর পরিবার নিজেদের প্রকৃত অধিকার ও কর্তৃত্ব অনুভব করত, যা বুকচেরা হাহাকারের বিপরীতে তাদের ক্ষতবিক্ষত অন্তরে এক পরম ঐশ্বরিক প্রশান্তি ও চিরন্তন স্বস্তি নামিয়ে আনত। আর বিবাহিত অপরাধী ধ*র্ষন করলে সে ক্ষেত্রে আর তাকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা হতনা, বরং রজম করে হ*ত্যা করা হত। জোরপূর্বক ধ*র্ষণ বা ব*লাৎকার করে হত্যা করে হলে সেটাকে “হিরাবাহ” হিসেবে বিবেচনা করা হত, এবং ক্ষমার কোনো অপশন রাখা হতনা, বরং প্রকাশ্যে অপরাধীর প্রাণদণ্ড নিশ্চিত করা হত। ‎ ‎আজকের এই ভয়াবহ নৈতিক ও সামাজিক সংকটের মূল কারণ গভীরভাবে অনুসন্ধান করলে স্পষ্ট দেখা যায়, আমাদের বিদ্যমান সে*ক্যুলার শাসন কাঠামো, চরম ভোগবাদী পুঁজিবাদী সমাজ এবং পশ্চিমা ডেমোক্রেটিক বা গণতান্ত্রিক দেউলিয়াত্ব মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রকৃত ইনসাফ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আল্লাহভীতিহীন এই আধুনিক ভোগবাদী সমাজ মানুষকে পশুর চেয়েও অধম ও হিংস্র হতে শিখিয়েছে, যেখানে আত্মিক পরিশুদ্ধি ও ইসলামী নৈতিকতার কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে, আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে তৈরি করা মানব রচিত এই কু*ফরী গণতান্ত্রিক আইন আজ অর্থ, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে পুরোপুরি জিম্মি— যা কখনো সাধারণ ও মজলুম মানুষের জন্য প্রকৃত ন্যায্যতা বয়ে আনতে পারে না। সমাজে চলমান অপরাধের এই সর্বগ্রাসী ও ভয়াবহ সয়লাবের একমাত্র ও মূল কারণ