وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦ يَٰقَوۡمِ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ إِذۡ جَعَلَ فِيكُمۡ أَنۢبِيَآءَ وَجَعَلَكُم مُّلُوكٗا وَءَاتَىٰكُم مَّا لَمۡ يُؤۡتِ أَحَدٗا مِّنَ ٱلۡعَٰلَمِينَ
এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতের কথা স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নবী প্রেরণ করেছিলেন, তোমাদেরকে রাজক্ষমতার অধিকারী করেছিলেন এবং বিশ্ব জগতের কাউকে যা দেননি তোমাদেরকে তা দান করেছিলেন। -আল মায়িদাহ – ২০
মুসা আ. তার কওমকে পূর্বের রাজক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এবং সেটাকে পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জি হা দের ময়দানে আহবান করছেন। কিন্তু বনী ইসরাইল জি হা দের এই কাজে ফিরে না আসার কারনে আল্লাহ তাদের ক্ষমতা দেননি বরং শাস্তি দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَٰقَوۡمِ ٱدۡخُلُواْ ٱلۡأَرۡضَ ٱلۡمُقَدَّسَةَ ٱلَّتِي كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمۡ وَلَا تَرۡتَدُّواْ عَلَىٰٓ أَدۡبَارِكُمۡ فَتَنقَلِبُواْ خَٰسِرِينَ 21 قَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّ فِيهَا قَوۡمٗا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَن نَّدۡخُلَهَا حَتَّىٰ يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا فَإِن يَخۡرُجُواْ مِنۡهَا فَإِنَّا دَٰخِلُونَ 22 قَالَ رَجُلَانِ مِنَ ٱلَّذِينَ يَخَافُونَ أَنۡعَمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمَا ٱدۡخُلُواْ عَلَيۡهِمُ ٱلۡبَابَ فَإِذَا دَخَلۡتُمُوهُ فَإِنَّكُمۡ غَٰلِبُونَۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَتَوَكَّلُوٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ 23 ﵞ ﵟقَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّا لَن نَّدۡخُلَهَآ أَبَدٗا مَّا دَامُواْ فِيهَا فَٱذۡهَبۡ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَٰتِلَآ إِنَّا هَٰهُنَا قَٰعِدُونَ
হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ কর, যা ল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। এবং নিজেদের পিছনের দিকে ফিরে যেয়ো না, তা হলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তারা বলতে লাগল, হে মূসা! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে (সেই দেশে) অবস্থানরত থাকবে, ততক্ষণ আমরা কিছুতেই সেখানে প্রবেশ করব না। আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হলে) তুমি ও তোমার রব্ব চলে যাও এবং তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আমরা তো এখানেই বসে থাকব। তারা বলল: হে মূসা, আমরা জীবনেও কখনো সেখানে যাব না, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে। অতএব, আপনি ও আপনার পালনকর্তাই যান এবং উভয়ে যু দ্ধ করে নিন। আমরা তো এখানেই বসলাম। -আল মায়িদাহ : ২৪
আয়াতের প্রথম অংশ :
এবার আসি আয়াতের প্রথম অংশ নিয়ে। আল্লাহ তায়ালা সূরা নূরের সে আয়াত বলতেছেন নেক আমল করলে আল্লাহ ক্ষমতা প্রধান করবেন। কিন্তু খি লা ফ ত কে মাওউদ বলা ভাইরা এটা ভুলে যান যে, নামাজ-রোজা, হজ, জাকাত, ইলম চর্চা, ইলমের প্রসার যেমন নেক আমল, তেমনি জি হা দও একটি নেক আমল। বরং কোনো কোনো হাদিসে তো জি হা দকে সর্বোত্তম আমল হিসেবে আক্ষায়িত করা হয়েছে। যেমন,
عن أبي هريرة: أن رجلا أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنده، فسأله، فقال: يا نبي الله: أي الأعمال أفضل؟ قال: " الإيمان بالله، والجهاد في سبيل الله. (مسند أحمد 15/15، برقم: 9038، )
হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, একলোক এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর উপর ঈমান আনা ও আল্লাহর রাস্তায় জি হা দ করা। -মুসনাদে আহমদ
বাস্তবতা হলো জি হা দ তো এমন একটি আমল যা ছেড়ে দিলে আল্লাহ লাঞ্চনা ছাপিয়ে দিবেন। আর এই লাঞ্চনা ততদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে যতদিন না মুসলমানরা দ্বীনের দিকে ফিরে আসে। আর হাদিসে দ্বীনের দিকে ফিরে আসার ব্যাখায় বহু মুহাদ্দিস বলেছেন জি হা দের দিকে ফিরে আসা। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَبَايَعْتُمْ بِالْعِينَةِ وَأَخَذْتُمْ أَذْنَابَ الْبَقَرِ وَرَضِيتُمْ بِالزَّرْعِ وَتَرَكْتُمُ الْجِهَادَ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ ذُلاًّ لاَ يَنْزِعُهُ حَتَّى تَرْجِعُوا إِلَى دِينِكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الإِخْبَارُ لِجَعْفَرٍ وَهَذَا لَفْظُهُ .
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে এরূপ বলতে শুনেছি,... যদি তোমরা জিহাদ পরিত্যাগ কর, তবে আল্লাহ তোমাদের উপর এমন অপমান প্রবল করে দেবেন যে, যতক্ষণ না তোমরা দ্বীনের উপর পূর্ণরূপে প্রত্যাবর্তন করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদের থেকে ঐ অপমান দূর করবেন না। - সুনানে আবু দাউদ : ৩৪৬২
এই হাদিসে বর্ণিত “যতক্ষন তোমরা দ্বীনের দিকে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাবর্তণ করবে” এর ব্যাখ্যায় খলিল আহমদ সাহারানপুরী রহিমাহুল্লাহ লেখেন,
(حتى ترجعوا إلى دينكم) أي: اعملوا على شريعة الإِسلام، وجاهدوا في سبيل الله.
অর্থাৎ তোমরা শরীয়তের উপর আমল করো এবং আল্লাহর রাস্তায় জি হা দ করো। -বাজলুল মাজহুদ