ar
Feedback
𝗨𝗡𝗙𝗔𝗭𝗘𝗗

𝗨𝗡𝗙𝗔𝗭𝗘𝗗

الذهاب إلى القناة على Telegram

Fighting 4th gen cultural war আমাদের ডিসকাশন গ্রুপঃ https://t.me/unfazedbdchat আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ facebook.com/we.unfazed 𝕏/টুইটারে ফলো করুনঃ https://x.com/unfazedbd

إظهار المزيد
8 210
المشتركون
-324 ساعات
-197 أيام
-3730 أيام
أرشيف المشاركات
হাঁস ভাইকে চিনতাম কলেজে থাকাকালীন সময় থেকে। এক বন্ধু নিয়ে গিয়েছিলো। গিয়ে দেখি একটা খালি কাঠের টেবিলের উপর উপুড় হয়ে ঘুমোচ্ছেন। প্রথমদিন জোর করে এক ফ্রেঞ্চ গান শুনিয়ে দিলেন। ভাই রুয়েটের ছাত্র ছিলেন। আমরাও ভার্সিটিতে যাবো যাবো করে মুখিয়ে আছি। উনার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো, অনেক দামী পারফিউম ইউজ করতেন, (যেটার 'ছোটভাই' ট্যাক্স আমরা আদায় করতাম নিয়মিত), প্রচুর পড়াশোনা করতেন, আর গালাগালি করতেন। একদিন রুমে ঢুকতেই সে কি বিষাক্ত গালাগালি - স্কিটো সিমে নেটওয়ার্ক পায় না। আর যেহেতু আমার কথা শুনে কিনেছিলেন, সেগুলোর ভাগ আমার উপরেও যায়। কম কথা বলতেন। একসময় আমাদেরও ভাইয়ের মত চান্স হলো। এলাকা ছাড়লাম। ভাইয়ের সাথে দেখা নেই অনেকদিন। করোনা এলো। হঠাৎ একদিন শুনি ভাই হাঁসের খামার করেছেন। হাঁস ভাই নাম ওখান থেকে। আমরা আশ্চর্য্য হলাম। কারণ তার ফ্যামিলি মোটামুটি ধনী। আত্মীয়দের অনেকেই বিদেশ থাকে। সেই লোক ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে শহর ছেড়ে গ্রামে কোথায় হাঁসের মধ্যে পড়ে আছে! একদিন ভাবলাম দেখা করে আসি। মুলতঃ সেখানে তার সাথে যে কথাগুলো হয় সেটার কারণেই এই র‍্যান্ডম একজনের গল্প আপনাদের বলতে বসেছি। এলাকার ছোট ভাই, এক ভাতিজা আর আমি - তিনজন মিলে একদিন গেলাম সেই খামার দেখতে। এত প্রত্যন্ত অঞ্চল! চারপাশে ফসলের ক্ষেত। মাঝে একটা বড় খালের সাথে ছোট খাল মিশেছে, অনেকটা মোহনার মত। সেখানেই টং ঘর করে ভাইয়ের আস্তানা। বাইক যায় না, মূল রাস্তায় রেখে হেটে যেতে হয়। অবশ্য আইডিয়া একেবারে খারাপ না। এমনিতেও লকডাউন চলছে। এখানে বরং কয়েক কিলো ঘুরে বেড়ানো যায়। আমাদের দেখে ভাই মারাত্মক খুশি হলেন। তিনি আর তার কয়েকজন কর্মচারী। বললেন, এমন সময় আসলি, কিই-বা খেতে দিই। একজনকে পাঠালেন কোথাও যেন। আমরা খামার ঘুরে দেখতে লাগলাম। আর সাথে রাজ্যের আলাপ। সেই স্বল্পভাষী লোকটা এমন মুখরা হয়েছেন। আসলে ফাঁকা মাঠে এরকম থাকতে থাকতে তার মানসিক অবস্থা ভালো নেই। আমিই করলাম প্রশ্নটা, ভাই বিয়ে করবেন না? বললেন, করোনা যাক। - এটা কেমন কথা, করোনা কবে যাবে কেউ জানে? : পাত্রী পাচ্ছি না। ঠিকমত মেলে না। - আমরা দেখবো? : দেখতে পারিস। তবে যেন আগে খেলাধুলো করে এসছে এমন হলে হবে না। - সে নিশ্চিত কিভাবে জানবেন? মনে করেন সংসার শুরুর পর টের পেলেন? ভাই কোনো হেজিটেশন ছাড়াই বললেন, মেরে ফেলবো। - মানে? সিরিয়াসলি? : হ্যাঁ। হতভম্ভ হয়ে গেলাম। ভাতিজার দিকে তাকিয়ে আছি। এরপর কী বলা যায় ভেবে পাচ্ছিলাম না। বললাম, এটা কিভাবে ফেয়ার হলো? চরিত্র খারাপ হলে তার হয়েছে। আপনি আরেকটা পাপ কেন করতে যাবেন? ভাই বললেন, তোরা বুঝবি না। তোদের আইডিয়া নেই আমার স্যাক্রিফাইস আসলে কত বড়। সোশ্যাল লাইফ নেই করে দিয়েছি, একটা ফাংশনে যাই না, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না আজ কত বছর। কতজন রাগ করছে, অপমান করেছে। আমি তো চরিত্রে দাগ লাগতে দিই নি। সো, চরিত্র হচ্ছে আমার কাছে বেয়ার মিনিমাম। বললাম, আপনি এখন এমন বলছেন। বিয়ের পর ঠিকই মেনে নেবেন। বিশেষ করে আপনাদের মত বিশাল আয়োজনের পর আন্টি একদম উল্টোপাল্টা কিছু করতে দেবে না। ভাই কিছু ভয়ঙ্কর থিওরি দিলো। এমনিতে লোকটা তেমন ধার্মিক না, সিগারেট খায় সেই ছোটবেলা থেকে দেখছি। বললাম, আপনি মনে মনে এসব মনে করে আছেন। কিন্তু খুনখারাবীর পাপ করে পরকালে মাফ পাবেন কিভাবে? আল্লাহ তো আপনাকে ছাড়বে না। ভাই বললেন, মাফ পেয়ে যাবো। - কিভাবে? : দ্যাখ, এই যে মা, আশেপাশের লোক, আমি জানি এরা কি বলবে। যদি দুর্ঘটনা ঘটেই, এরা বলবে বিয়ে তো হয়েই গেছে, মেয়ে তওবা করেছে, এখন তো আর করে না, মেনে নাও। তো এই কথার কোর ভিত্তি হলো, আল্লাহ সব মাফ করে দেয়। বড় পাপগুলোর ব্যাভিচার আর মানুষ খুনের পাপ পরপর সিরিয়ালে আসে, একটা ৩ নং, আরেকটা চার নং এরকম। তো ওই মেয়ের বেলায় আল্লাহ ব্যাভিচার মাফ করতে পারলে আমার খুন কেন মাফ করতে পারবে না? আমিও তওবা করে নেবো। লজিক বৈকি! (এটা ২০২১ সালের কথা লিখছি। ভাইয়ের কথা হুবহু হয়ত বলতে পারছি না। তবে মূল কথা এমনই ছিলো।) এরপরে আর কথা বাড়ানো চলে না। শুধু বললাম, পরকালে বাঁচলেও বাঁচতে পারেন। কিন্তু এখন তো পুলিশ ধরে ঝুলিয়ে দেবে। বললেন, তোরা হলি মাসুম বাচ্চা, আর আমি ইঞ্জিনিয়ার। বোকারা মাথা গরম করে ইন্সটান্ট গরম কিছু করে ফেলে। আল্লাহ যদি অমন বিপদে ফেলেই, আগে বিদেশ যাবো, সেটেল হবো। তারপর দেশে এসে প্রতিশোধ নিয়ে ফেরত যাবো। আমরা খামার থেকে চলে আসলাম। ভাই বেশিদিন খামার চালাননি। খুব একটা কথা হতো না। হলেও টেক পরামর্শের জন্য নক দিতাম। ***** কাকতালীয় ব্যাপারটা হলো, ভাই পরে স্পেনে গেছে। সত্যি বলতে, আমার সাহস হয়নি জিজ্ঞেস করার ঐ ব্যাপারে। ঘটনাটা মনে পড়লো এই কারণে, আপনারা জানেন এই মাসে স্পেনে বিরাট হুলস্থুল হয়ে গেলো। প্রায় ৫ লাখ লোক সিটিজেনশীপ পাচ্ছে। খবর শুনেই সবার আগে মনে পড়ে হাঁস ভাইয়ের কথা। উনার আসল নাম, আরাফাত। অদ্ভুত ব্যাপার, এত গুনী একজন মানুষ। npm প্যাকেজ ফিক্সের জন্য কত জালিয়েছি। অথচ তাকে মনে রেখেছি কেবল একদিনের ওই কনভার্সেশনের জন্য।

প্যাক্স জুডাইকা ******** ইরান যুদ্ধের একেবারে শুরুতে ভাইরাল হয়েছিলেন প্রফেসর(?) জিয়াং। যিনি যুদ্ধ শুরুর ৮ মাস আগেই এই যুদ্ধ প্রেডিক্ট করেছিলেন। তার অধিকাংশ কথাই আমার পছন্দ না। তবে তার কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি যেগুলো বহুদিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। যেমন, গাজা। গাজায় ইসরাইল আসলে কী করেছে এবং কেন? কেন কয়েক লাখ মানুষকে কোনো দ্বিধা ছাড়াই, নিয়ম ছাড়াই মেরে ফেলে দিলো? ৭০-৮০ ভাগ ঘরবাড়ী জাস্ট মাটিতে মিশিয়ে দিলো? আবার ঘরহারা মানুষেরা পলিথিনের তাবুর নিচে ঘুমোতে গেলে সেই তাবুর উপরেও বোমা মারলো? মুলতঃ এই হিসাবটাই মিলছিলো না। কারণ আপনি দেখুন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইল যা করছে, তা ইকোনমিক এবং সামরিক দিক দিয়ে পুরোপুরি লস প্রজেক্ট। ইকোনোমিক দিক থেকে দেখলে, একটা ২০০ টাকার তাবুর উপরে ফেলা হচ্ছে ৬০-৭০ লাখ টাকার জিবিউ বোম। মাঝে ইসরাইল মুয়াসি শরণার্থি ক্যাম্পে স্পাইস বোম ফেলেছিলো, যার একেকটার মুল্য দেড়কোটি টাকা। আমি টেলিগ্রামে বলেছিলাম এই ব্যাপারটা। আবার সামরিক দিক দেখুন, এই আধাটন - ১ টনের বোমাগুলো ফেলা হচ্ছে হয়তো তিনটা বাচ্চা আর একজন বিধবা আশ্রয় নিয়েছে পলিথিনের নিচে, ঠিক তাদের উপর। যারা মেবি লাস্ট দুইদিন না খেয়ে আছে। এই টার্গেটের মিলিটারি সিগ্নিফিকেন্স তো জিরো। ইসরাইল তাহলে এত বিশালাকারের ওভারকিল দিয়ে আসলে কী অর্জন করতে চাইছে? এখানে প্রফেসর জিয়াংয়ের উত্তরটা লজিকাল। তিনি বলেন, গাজা ছিলো ইসরাইলের অডিশন, নিজেদের প্রমাণ করার জায়গা। কার সামনে অডিশন, কেন অডিশন? ইসরাইল মুলতঃ গ্লোবাল এলিটদের সামনে এটা প্রমাণ করতে চাইছে, তারা তাদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো এক্সটেন্ট পর্যন্ত যেতে প্রস্তত। একটা টার্গেট দিলে তারা পুরোপুরি হাত খুলে, কোনোরকম মোরাল নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম। প্রথমে গাজা, এখন লেবানন। ইরান এখানে সাইড কোয়েস্ট, যেটা আমেরিকাকে দিয়ে করিয়ে নিতে চাচ্ছে। ইসরাইলের এখন নিজেদেরকে প্রমাণ করার দরকার পড়লো কেন? কারণ এলিটেরা সাবেক এম্পায়ার অর্থাৎ আমেরিকার উপর ভরসা করতে পারছে না। একটা এম্পায়ারের বয়স বেশী হয়ে গেলে তাদের নিজেদের ভেতরেই অনেক দায়বদ্ধতা তৈরী হয়, মানে একধরণের চক্ষুলজ্জা টাইপের। যেকারণে তারা হাত খুলে খেলতে পারে না। ধর্ম, সমাজ, নানান কিছু বিবেচনায় নিতে হয়। লক্ষ্য করুন, ইসরাইল আজ গাজা-বৈরুতে যা করেছে, আমেরিকা একদম একই কাজ করেছিলো ভিয়েতনামে। কিন্তু আজকে করতে পারছে না। কারণ এম্পায়ারের লুটের ফল খেতে খেতে জনগণ রিলাক্স হয়ে যায়, ধর্ম কিছু জায়গা দখল করে। আজকে ইরান যুদ্ধ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী অজনপ্রিয় যুদ্ধ। আবার ধর্ম, ট্রাম্প যীশুখ্রিস্টের ছবি পোস্ট করে ভালো বিপদে পড়েছিলো। পক্ষান্তরে, ইসরাইলের এসব সমস্যা নেই। তারা রিলেটিভলি নতুন এম্পায়ার। আবার তাদের অধিকাংশ জনগণ খুবই নিচুশ্রেণির ইতর, তারা নিষ্পাপ শিশুখুনেও কোন ভুল কিছু দেখে না। এজন্য তারা অফ লিমিট যেতে পারে। প্রফেসর জিয়াং বলেন, পুরো দুনিয়া এখন প্যাক্স আমেরিকানা' থেকে 'প্যাক্স জুডাইকা' তে শিফট হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ হচ্ছে সেই প্রক্রিয়ার সম্মুখভাগ। (পুরো বিষয়টি জিয়াং তার 'প্যাক্স জুডাইকা রাইজিং' টাইটেলের ভিডিওতে বলেছেন। চাইলে দেখতে পারেন। চেয়েছিলাম পুরো ভিডিওটাই সামারি করতে। কিন্তু সময়ের অনেক অভাব হয়ে গেছে আজকাল। তারপরেও মাথায় রইলো, হলে শুক্রবার পাবেন, নয়তো না। লিংক এখানে)

তো প্যাগান নেতারা অবশ্যই চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সাধারণ নিউট্রাল লোক তাদের উৎসবে যোগ দেয়। এজন্য তারা সরাসরি প্যাগানিজমে না গিয়ে একটা কমন গ্রাউন্ড খোঁজার ট্রাই করে। যেমন ধরুন, দুর্গাপুজো। এটা আসলেই আমাদের দেশের ফেমিনিস্ট স্ফিয়ারে একধরণের ড্রয়িং ছড়িয়ে পড়ে, যে নারীর অনেকগুলো হাত, একেকটা হাত দিয়ে একেক কাজ করছে - খানিকটা পাওয়ারফুল উইমেন পোর্ট্রে করার চেষ্টা করে। আর দেশি মুসলমানের মেয়েরা সেসব শেয়ার দিয়ে দুর্গোপুজোয় অংশ নেয়। (ঈমান গেলে যাক, প্যাট্রিয়ার্কির শেষ দেখতে হবে) একইভাবে, পহেলা বৈশাখের মত একটা ধর্মীয় উৎসবকে দেশি কৃষকের উৎসব হিসেবে দেখাতে চায়। যেহেতু আমাদের ৮০% মানুষের রুট কৃষি, খুব সেন্সিটিভ এটা। **************** এবারের পহেলা বৈশাখে আমার বা সমমনাদের রাগের কারণ এটাই, এই জিনিস তো মারাত্মক অজনপ্রিয় হয়ে গেছিলো। This shit was dead! সেকুলারদের কালচারাল উইংটা প্যানিক করছিলো, পহেলা বৈশাখে কেউ যোগ দেয় না। পত্রিকাতেও আসছিলো ব্যাপারটা। আর শুভ...নব...বর্ষ তো জলন্ত নিদর্শন হয়ে আছে। ভাই আমরা বাইনারি করে ফেলছিলাম লীগের শেষের দিকে, যে পহেলা বৈশাখ মুসলমানের না। এই ২০২৫ এবং ২০২৬ এ গান্ডু মডারেটদের হাত ধরে একটা প্যাগান উৎসব রিভাইভ হলো। লাস্ট পাঁচ বছরে এত লোক রাস্তায় নামেনি ১৪ই এপ্রিলে। *********** মাথা কাজ করছে না। আজ তিন দিন হলো, এই পরাজয় মানা যাচ্ছে না। শাহবাগীদের মোকাবেলার উপায় হলো, মুর্তিপুজক এবং মুর্তি দুটোকেই শেষ করা। শাহবাগীরা লাল রঙের মুর্তি বানিয়েছে দেখে আপনি নীল রঙের মুর্তি বানালে জিতলো তো ওরাই। ওরা লিটারালি হাসছে মোসলমানের এই পরাজয় দেখে। এই পরাজয়ের কারণ যারা, যারা এটাকে নরমালাইজ করলো, প্রাসংগিক করলো - আল্লাহ তাদের শাস্তি দিন, আমাদের হাত দিয়ে কাজটা হয় যেন।

এই পরাজয় মানা যাচ্ছে না। *************** নাইন্টিজ কিডস বা আমাদের মত জেন-জি, তাদের ছোটবেলায় ওয়াজ মাহফিল ছিলো একটা ফর্ম-অব-এন্টারটেইনমেন্ট। আমাদের ছোটবেলায় মোটাদাগে ওয়াজের দুটো ধারা ছিলো। একটা ধারা হচ্ছে, লোকাল পীর-মুরিদি ও প্রফেশনাল বক্তাদের ধারা। এইসব ওয়াজে সুর থাকতো, গল্প, প্যারানরমাল ঘটনা, মুজেযা-কারামত আর কিছু উপদেশ। বাংলাদেশে তখন 'শিক্ষিত' সেকেন্ড জেনারেশনের উঠে আসা চলছে, তারা এইসব ওয়াজ শুনতেন না, পছন্দও করতেন না। কারণ এগুলো তাদের লাইফস্টাইল-অ্যাম্বিশন বা বইতে যা পড়েছেন তার সাথে মিলতো না। আরেকটা ধারা, যেটাকে আমি বলি জামায়াতি ধারা, এগুলোতে শিক্ষিত লোকের একটা অংশ কানেক্ট করতে পারতেন। যার একেবারে মাথায় ছিলেন সাঈদী সাহেব। অনেকে জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করতেন না, কিন্তু সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনতেন। তার রাজনীতি টেনে আনার ব্যাপারে আপত্তি থাকলেও লোকে ক্যাসেটে, মাইকে, সিডিতে শুনত। তিনি ছাড়াও লোকাল জামায়াতি বক্তারা প্রায় একই ধরণের ওয়াজ করতেন। এই ধারার বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচুর রেফারেন্স থাকতো, কেচ্ছা কাহিনী কম থাকতো, এবং জীবনমুখি বিষয়ের আলোচনা থাকতো, যা মানুষের রিয়েল লাইফে কাজে লাগতো। এই প্রসঙ্গ আনার কারণ হলো, মুলতঃ জামায়াতি ধারার বক্তাদের বছরের পর বছর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষ কয়েকটি ব্যাপারে স্পষ্ট হতে পেরেছিলো। যেমনঃ - মাজার রিলেটেড ভন্ডামিগুলো ধর্মবিরোধী। - পাবলিক প্লেসে বানানো মুর্তি বা ভাস্কর্য্য এটি শেরেক এবং এদেশীয় মুসলমানদের জন্য অপমানজনক। - জাতীয় দিবস যেমন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার এবং অন্যান্য দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিলে মানুষ মুসলিম থাকে না। - পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের জিনিস এবং মুসলমান এটা সেলিব্রেট করতে পারে না। লক্ষ্য করুন, প্রথমটি বাদে সবগুলো উপলক্ষই আমাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানতে বাধ্য করা হতো এবং হচ্ছে। তা সত্বেও মানুষ মেনে নিয়েছিলো যে এগুলো মুসলমান করতে পারে না। *** ইসলামাইজেশন/হালালফিকেশন হচ্ছে ধর্মের একেবারে শত্রুপক্ষের জিনিসকে ইসলামী ছাপ দেওয়ার এক ক্রিঞ্জি প্রচেষ্টা। যারা এটা করেন তাদের যুক্তি হলো, একটা বিশাল সংখ্যক মুসলিম সেখানে যাচ্ছেন, অংশ নিচ্ছেন, সুতরাং এটাকে হালালিফাই করতে হবে কিছু মডিফিকেশনের মাধ্যমে। না হলে সেক্যুলাররা সেটা দখল করে নেবে। যুক্তিটি ভেঙ্গে দেখা যাক। বিপুল পরিমাণ মুসলিম ভীড় করে এরকম একটা কমন জায়গা হচ্ছে পর্ন সাইটগুলো। এটা সবাই জানে। এখানেও কি একই যুক্তি দেওয়া যাবে যে, বিপুল পরিমাণ মুসলিম পর্ন দেখে, সুতরাং আমাদের 'হালাল পর্ন' বানাতে হবে। না হলে জায়গাটা কাফেরদের দখলে চলে যাবে? পর্নের মোকাবেলায় আমরা যেমন হালাল পর্নের কথা বলি না, পর্ন জিনিসটাকেই পুরোপুরি অ্যাভয়েড করার কথা বলি। সেখানে স্পষ্ট শেরকি জিনিস হালাল করার চিন্তা কোন ছাগলের মাথা থেকে বেরোলো? ******** পহেলা বৈশাখ একটি আউটরাইট প্যাগান ফেস্টিভাল। প্যাগান ফেস্টিভাল সম্পর্কে দুটো ফিচার বোঝা দরকার। প্রথমতঃ এই উৎসবগুলো অনেকবেশী ভিজ্যুয়াল নির্ভর হবে। আমাদের তথা ইসলামের ইবাদৎ এবং উৎসবের সবচেয়ে বড় বড় অনুষঙ্গগুলো সবই অ্যাবস্ট্রাক্ট, চোখে দেখা যায় না। যেমন, ইখলাস, তাকওয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে প্যাগান ফেস্টিভালে ভিজ্যুয়াল এলিমেন্টগুলোই আসল। যেমন, আপনি সাদা-কালো যে রঙ্গের জামা-ই পরেন না কেন, নামাজ হয়ে যাবে। কিন্তু প্যাগান উৎসবে যেখানে লাল রঙ্গ দেওয়ার কথা সেখানে লাল রঙ্গ দিতে হবে। যেখানে ঢাক বাজানোর সেখানে ঢাকই বাজাতে হবে। এজন্য পৃথিবীর ম্যাক্সিমাম প্যাগান ফেস্টিভাল অনেক কালারফুল হয়। এখানে নোটের মত করে বলে রাখি, ভাগওয়া লাভ ট্রাপের অন্যতম আকর্ষক জিনিস এই প্যাগান ইবাদতগুলো। ইসলামী ইবাদতগুলো মোটাদাগে সাইলেন্ট, মাঝখানে লম্বা ব্রেক থাকে। কিন্তু পুজোগুলো অনেক স্টেপ থাকে, অনেক কিছুতে ইনক্লুড হবার সুযোগ থাকে, লম্বা সময় ধরে মজে থাকে। এজন্য দেখবেন একেবারে হিজাব-টিজাব পরে পুজোয় চলে যাচ্ছে। দ্বিতীয়তঃ একটা প্যাগান উৎসব সাকসেস হয়েছে কি হয়নি এটা বোঝার মাপকাঠিই হলো এখানে কতজন লোক অংশ নিয়েছে। ধরুন, আপনাদের ঈদগাহে প্রতিবছর ঈদের নামাজে ২০০ লোক হয়। কিন্তু এবার ২০ জন হয়েছে। এর মানে কি কেউ বলতে পারবে, এই ঈদের নামাজ হয়নি? কারণ ইসলামি উৎসব কালেক্টিভের উপর নির্ভরই করে না। (যদিও মানুষ কালেক্টিভলিই অংশ নেয়, কিন্তু এটা সাকসেস-ফেইলের মাপকাঠি না) পক্ষান্তরে, একটা মংগল শোভাযাত্রা, প্রতিবছর ২০০ লোক হয়, এবার ২০ জন। তার মানে এটা অসফল।

**************** গতমাসের শেষের দিকে 'বাল্যবিয়ে' নিয়ে অনেক আলোচনা হলো। বহু জ্ঞানীগুনী বহু 'ফ্যাক্টর' বিবেচনায় নিয়ে অনেক জ্ঞান ঝাড়লেন। বাল্যবিয়ের ইকোনমিক, স্বাস্থ্যগত নানা ফ্যাক্টর দিয়ে ব্যাশিং চললো। কিছু 'হুজুর' আবার ধর্মের লেখা এনে দেখালেন, বাল্যবিয়ে আসলে হারাম! কিন্তু একটা ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে কাউকে দেখলাম না। সেটা হলো, আমাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা ব্যাভিচারে জড়াচ্ছে, এই অপরাধ যে নর্মালাইজ হচ্ছে, সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের কাছে কী সমাধান আছে? আমরা সামাজিক জীব, আমরা এতবড় সামাজিক অপরাধ কিভাবে মেনে নিই? *********** একটা ঘরে আপনার সন্তান বা ছোট ভাই-বোন গেলে সে মারা যাওয়ার ৫০% নিশ্চিত সম্ভাবনা আছে। পৃথিবীর কোনো সুস্থ অভিভাবক সেখানে স্বেচ্ছায় বাচ্চাকে পাঠাবে? মারা যাওয়ার ব্যপারটা এখানে হাইপোথিটিকাল। কিন্তু ব্যাভিচারের ব্যাপারটা তো রিয়েল। এটা ঘটছে। আপনি একটা সমাধান দিলেন। নারীর পাব্লিক প্রেসেন্সে লাগাম টানতে হবে। মন্তব্য আসবে,'তোর মত অশিক্ষিত-ভিখারী, জীবনে ভার্সিটির বারান্দায় যাসনি। দুনিয়া যেখানে এআই নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তোরা পড়ে আছিস এসব নিয়ে। এজন্যই লাইফে কিছু করতে পারবি না।' আপুটার কথাটার অনুবাদ হচ্ছে, অশিক্ষিত-দরিদ্র লোকেদের মতামত হচ্ছে নারীর উপর নিয়ন্ত্রণ টানা। শিক্ষিত-ধনী হলে সে এরকম বলতে পারতো না। আপনি উত্তর দিলেন, আসলে আপু আমি অ্যাপ্লাইড ডাটা সায়েন্সে ব্যাচেলর করেছি। কিংস থেকে দুটো পেপার পাবলিশ করেছি। আর এন্ট্রি লেভেলের একটা স্পোর্টস কার ড্রাইভ করি। এবং আমি মনে করি নারীর পাব্লিক প্রেসেন্সে লাগাম টানা উচিত। উত্তর আসলো, পড়াশোনা করেও শিক্ষিত হতে পারিসনি। এর মানে কী? এইমাত্র না বললো, পড়াশোনা না করায় ওগুলো বলেছেন? আসলে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা কোনো সমস্যা ছিলো না। আসল সমস্যা আপনার কথা তার পছন্দ হয়নাই। তার কথামতো হলে এই ফেমিগুলো ন্যাশনালে বাংলা সাহিত্যে পড়া ছেলেকেও মাথায় করে রাখে। ************ যাইহোক, আদর্শের ভাষা দুনিয়া বোঝে না। আপনার গান যতই আর্টিস্টিক সেন্সে ভালো হোক, দুনিয়া গাইবে না। আপনার পোশাক দুনিয়া পরবে না। কিন্তু যেইমাত্র আপনি সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবেন, দুনিয়া আপনার সবকিছু কবুল করে নেবে। আপনার মত পোশাক পরবে, আপনার ভাষা শিখবে, আপনার মত করে কথা বলবে। আপনার কথা ভুল-সঠিক কিনা কেয়ার করবে না। হলিউড এই জিনিসটা ৮ দশক ধরে এনজয় করেছে। ইরান তার কিছুটা স্বাদ পাচ্ছে। এটাই দুনিয়ার রুল। চিন্তা করুন ইসলাম সর্বোত্তম আদর্শ হওয়া সত্বেও মানুষ বড় সংখ্যায় মুসলিম হবে না। কিন্তু যখন সামরিকভাবে জিতবে, একটা ম্যাসিভ নাম্বার নতুন করে মুসলিম হবে (সুরা নাসর)। ****** এটাই মুলতঃ কারণ আমার সমস্ত মানসিক এফোর্ট সামরিক দিকে দেওয়ার। আঘাত করার ক্ষমতা অর্জন করার। দ্রুতই দেখা হচ্ছে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

অনেকদিন পর ফিরলাম। কয়েক বছরের টানা অবজারভেশনের পর এই ২০২৬ সালে একটা বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে - ফেমিনিজম বা লিবারেলিজমের মত বিষাক্ত আইডিওলজিগুলোকে কেবল আদর্শিকভাবে মোকাবেলা মোটেও যথেষ্ট নয়। কারণ ফেমিনিজম যারা প্রমোট করছে তারা আপনার ফিল্ডে খেলছে না। আপনি চাচ্ছেন এটাকে আদর্শিকভাবে প্রতিপন্ন করে নিশ্চিহ্ন করবেন, কিন্ত তারা তো এই লড়াইয়েই নেই। একটা আইডিওলজি তারা আপনাকে পুরোপুরি চাপিয়ে দিচ্ছে। কখনো সিলেবাসের মাধ্যমে, তাদের কথামত না লিখলে আপনি পাশ করতে পারবেন না। কখনো বা প্রশাসন, কখনো আবার কোর্টের মাধ্যমে তাদের আইন, সিদ্ধান্তগুলো চাপিয়ে দিচ্ছে। এবং ওগুলোর উপর আপনার দখল নেই। আপনি ফেইসবুকে লিখে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, একশজন বুঝতে পারছে, ওদিকে একেকটা একাডেমিক ইয়ারে পঞ্চাশ হাজার ফেমিনিস্ট পয়দা হচ্ছে। সুতরাং, ওই শক্তিগুলোর দখল আপনার দরকার। আপনার বিজয়ের পর ফেমিস্টদের করজোড় দশা আপনি গিফট হিসেবে পাবেন, আলাদা করে কিছু করতে হবে না। ২০২২ সাল থেকে আমরা বলে আসছি, একটা নিস্তরঙ্গ, নিরুপদ্রব সমাজেই কেবল লিবারেলিজম-ফেমিনিজমের বিষ বেড়ে উঠতে পারে। যেকোনো ক্রাইসিসের মুহুর্তে নারী-পুরুষ তার জেন্ডার রোলে ফেরত যায়। তাদের এক দশকের এফোর্ট নষ্ট হতে সময় লাগে একদিন। এবং এই হাইপোথিসিস বছরের পর বছর বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এই গত সপ্তাহেও হলো। চলুন সেই ব্যাপারে কথা বলা যাক। ********** জেন্ডার ইকুয়ালিটিতে বিশ্বের অন্যতম চ্যাম্পিয়ন দেশ - জার্মানি। দেশটিতে নারী-পুরূষের সমানাধিকার তো বটেই, সেটা পার করে এখন নারীরা অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া শুরু করেছে। তাদের মিনিস্ট্রিগুলোর অর্ধেকই নারী। জার্মানির বড় কোম্পানিগুলোর জন্য একটা নারী কোটার আইন আছে, FüPoG নামে ( Führungspositionen-Gesetz)। এই আইনের আওতায় যেকোনো মিড থেকে বড় কোম্পানির সুপারভাইজরি বোর্ড থেকে উপরের সবগুলো পদে ৩০% নারী রাখতে হয় বাধ্যতামূলকভাবে। এবং যোগ্য নারী না পাওয়া গেলে ওই চেয়ারগুলো খালি থাকে, পুরুষ নিয়োগ দিলে তা বাতিল হয়। সরকারী কোম্পানিগুলোতে (Deutsche Bahn) ৩০% নারী কোটা বাধ্যতামুলক। এখানে মনে রাখা দরকার, বাকী ৭০% পদেও যেকোনো সংখ্যক নারী যেতে পারে। আরো খেয়াল রাখা দরকার, কোটা কেবল ডেস্ক জবের জন্য। শারীরিক পরিশ্রম আছে এরকম পদের জন্য না। এই পরিমাণ নারী না নিলে জরিমানা দেওয়া লাগে। (FüPoG নিয়ে আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতার কথা অন্য কোনোদিন বলবো) জার্মানি বিশ্বের ৬ষ্ঠ দেশ হিসেবে ২০২৩ সালে Feminist Foreign Policy (FFP) অ্যাডপ্ট করে। মানে তারা নিজ দেশের অভ্যন্তরেই কেবল জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্রমোট করবে না, বরং জার্মানির সাথে সম্পর্ক আছে এরকম যেকোনো দেশেই তারা এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। FFP এর আওতায় জার্মানির বৈদেশিক সাহায্যের ৮৫%ই জেন্ডার ইকুয়ালিটি বা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ, তারা বাংলাদেশকে ১ কোটি টাকা দিলে তার ৮৫ লাখ টাকাই নারী রিলেটেড কাজে খরচ করতে হবে। এবং বাংলাদেশে প্রায় তিনশোর মত জার্মান এনজিও আছে যারা এসব করছে। বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (BGS - এদের অধীনে দেড়শোর মত), Friedrich-Ebert-Stiftung - এগুলো বাদেও ব্রাকের সাথে কয়েকটা আছে। তো এই তথ্যগুলো দিয়ে আসলে কী বোঝা যায়? জার্মানি, দেশটা এত ইফোর্ট দিয়ে পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের জেন্ডার রোলকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। পুরুষ বাইরে ব্রেডউইনার হিসেবে থাকবে, নারী ঘরে পরিবার দেখবে - এই নর্মকে ডিফাই করার জন্য গত কয়েক দশক ধরে হেভি ইনভেস্ট করেছে। এবং এটা একধরণের প্রতিষ্ঠাও করে ফেলেছে। নারী পুরুষের মতই শক্তিশালী, বা পুরুষের চেয়েও শক্তিশালী, ইভেন পুরুষের দরকার নেই - এটার অ্যাকচুয়ালাইজেশন তারা নিজের দেশেই না, বাইরের দেশগুলোতেও পয়সা ঢেলে প্রচার করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে কী ঘটেছে? এই বছরের পহেলা জানুয়ারী থেকে 'সামরিক সেবা আধুনিকীকরণ আইন' এর আওতায় এতে ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী সব জার্মান পুরুষ (ছেলে/পুরুষ) যদি তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকতে চায় (পড়াশোনা, চাকরি, ভ্রমণ — যেকোনো কারণে), তাহলে আগে থেকে Bundeswehr (জার্মান সেনাবাহিনী)-এর ক্যারিয়ার সেন্টার থেকে অনুমতি নিতে হবে। এই ধারাটি আইন পাসের সময় খুব একটা নজরে পড়েনি। গত সপ্তাহে (৪-৫ এপ্রিল ২০২৬) কয়েকটি পত্রিকা এটি তুলে ধরার পর ব্যাপক আলোচনা, ক্ষোভ দেখা দেয়। এই জার্মানির রাষ্ট্রযন্ত্র এতবছর ধরে চেঁচিয়ে বেড়ালো নারী-পুরুষ সমান, যারা এটা মানে না তাদের অসভ্য সাব্যাস্ত করে সভ্য করার কাজে লেগে গেলো, তারাই আবার যুদ্ধ আসন্ন আঁচ করে হাজার বছরের পুরোনো জেন্ডার রোলে ফেরত গেল। তাদের হঠাৎ মনে পড়লো, যুদ্ধের জন্য পুরুষ, ঘরের জন্য নারী। ৪০ বছরের ফেমিনিজম ফ্যাক্টরি রিসেট মোডে ফেরত গেলো।

লক্ষণ সুবিধার না। আপনার কি গ্রামে থাকার মত ব্যবস্থা আছে?
Anonymous voting

মাথায় এই জিনিস যে ঢুকেছে, আর বেরোতে চায় না। তারউপর ইরানের পারফরমেন্স দেখে লোভ দশগুণ বেড়ে গেছে। হিসেব করে দেখলাম, দুনিয়াতে আসল
মাথায় এই জিনিস যে ঢুকেছে, আর বেরোতে চায় না। তারউপর ইরানের পারফরমেন্স দেখে লোভ দশগুণ বেড়ে গেছে। হিসেব করে দেখলাম, দুনিয়াতে আসলে একটা জিনিসই ম্যাটার করে, আপনার আঘাত করার ক্ষমতা। এর বাইরে সব গৌণ। রোজার আগ থেকে এই পর্যন্ত, এই টপিক ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না। ছেড়ে দিতে চাইলেও আসলে এর পিছনে এত সময়+শ্রম অলরেডি দিয়ে ফেলেছি, কিছু একটা আউটপুট আপনাদের জন্য দিতে চাই। আর সেটা করতে গিয়েই আর কিছু করা হচ্ছে না, জিনিসটা ছোটখাটো বইয়ের আকার নিয়েছে।

আসসালামু আলাইকুম। কী অবস্থা সবার? লাইফ আজকাল জাতিসংঘের মতো হয়ে গেছে। এত বড় বড় ঘটনা ঘটে যাচ্ছে কিন্তু চোখ-মুখ বন্ধ রাখতেই বেশী ভালো লাগছে। জেন জির ভাগ্যটাই খারাপ। এক কোভিড পড়াশোনার বারোটা বাজিয়ে দিলো। আবার যেইমাত্র লাইফটা গুছিয়ে নেওয়ার সময় এলো, ঠিক তখনই বিশ্বযুদ্ধ লাগতে হলো। বাংলাদেশ বড়সড় একটা সঙ্কটের সামনে দাঁড়িয়ে। সরকার তেলে প্রায় ২০০% ভর্তুকি দিচ্ছে। রেশনিং করা লাগছে। সারাদেশ থেকে পাম্পের সামনে যে লাইনগুলোর ছবি দেখা যাচ্ছে, ভয়াবহ। বাংলাদেশে পুরোপুরি দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগে যায়নি তার একমাত্র কারণ দেশে পুরোপুরি নতুন একটা সরকার ক্ষমতায়। এত বছরের খিদে পেটে তারা অবশ্যই চাইবে না যে ক্ষমতায় বসার দুই মাসের মাথায় এই তেল নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হোক। এজন্য নানান জায়গা থেকে পয়সা নিয়ে হলেও তারা অস্বাভাবিক রকম ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে এরকম বেশিদিন চলবে না। ফুয়েল সংকট আমাদের অবশ্যই তাড়া করবে। বিশেষ করে আমেরিকা ইরানে গ্রাউন্ড অপারেশন শুরু করলে পরিস্থিতি উলটে যাবে। বর্তমানে পড়ছি হাসান তেহরানি মোগাদ্দামকে নিয়ে, যিনি ইরানের আধুনিক মিসাইল প্রোগ্রামের জনক। তার সম্পর্কে একটা বিখ্যাত উক্তি আছে, "লেবাননের উত্তর থেকে দক্ষিণে যত নারী নিরাপদে হাটতে পারে তারা সবাই হাসান মোগাদ্ধামের কাছে ঋণী।'' শুধু লেবানন নয়, ইরান-ইরাকসহ পুরো শিয়া দুনিয়াতে মোগাদ্দাম অনেক সম্মানিত একজন ব্যাক্তি। তার হাত ধরেই ইরান লং রেঞ্জ মিসাইলের দুনিয়ায় এন্ট্রি নেয়। ইরানের প্রথম মিসাইল 'নাজে' তার তৈরি। সোভিয়েত স্কাড মিসাইল নিয়ে ব্যাপক স্টাডি করার পর বানান শাহাব ১-৩, সেটাকে আপগ্রেড করে বানান জিলজাল ১-৩। ২০০৮ সালে উত্তর কোরিয়ার সাথে কোলাব করে তৈরি করেন ইরানের প্রথম সলিড ফুয়েল ব্যালিস্টিক মিসাইল 'সিজ্জিল' মিসাইল (২৫০০ কিলো রেঞ্জ, ৭০০ কেজি ওয়ারহেড)। যেটা কিনা বর্তমান যুদ্ধে ইসরাইলী ডিফেন্সকে প্রায় ১০০% বাইপাস করতে পেরেছে। পশ্চিমারা যার নাম দিয়েছে ড্যান্সিং মিসাইল। তার বানানো আরো একটা লং রেঞ্জ মিসাইল সিরিজ হলো গাদর ১০১ ও ১১০। সুন্নীদের অন্যতম দুর্ভাগ্য, তাদের একজন হাসান মোগাদ্দাম নেই। ২০১১ সালে তাকে ইসরাইল হত্যা করে। ইরান যুদ্ধে অন্যতম একটা শকিং জিনিস সামনে এসেছে। আপনারা ইতোমধ্যে জানেন, কয়েকজন পশ্চিমা ফেমিনিস্ট এক্সপোজ হয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে পয়সা খেয়ে ইরানি জনগণের গণহত্যার প্লট সৃষ্টি করেছে। এতে ইউজ করেছে কমন কিছু ফেমিনিস্ট ইস্যু। আন্তর্জাতিক ফেমিনিস্ট ফেইসগুলোকে এতদিন কেবল নিজেদের ইগো সন্তষ্ট করার জন্য পুরুষবিদ্বেষ ছড়াতে দেখা যেতো। এবার তাদের হাতে জেনোসাইডের রক্তও লেগে রইলো। বাংলাদেশের বেলাতেও নেতৃস্থানীয় ফেমিগুলোর ব্যপারে একটু খুড়লেই আপনি জায়ো লিংক পেয়ে যাবেন। এরা নিরীহ মোটেও না। আমাদের তরুণদের জন্য সময় কমতে কমতে একেবারে ঘাড়ের উপর এসে গেছে। এখন সময় নষ্ট করার চাইতে সুইসাইড করা বেটার, কষ্ট কম হবে। আবারো মনে করাই - ফিজিক+ফিটনেস ঠিক করুন, ফিনান্সিয়ালি স্বাবলম্বী হওয়ার দিতে জোর দিন। আর স্প্রিচুয়ালিটি ঠিক করুন। ** রমজান ও ঈদ শেষ। এবার কাজে ফেরার পালা। আশা করি নিয়মিতই দেখা হবে। ধন্যবাদ।

রমজানে লেখালেখি করতে গিয়ে একধরণের গিল্টি ফিল হয়। একে তো নিজের সময় খরচ হয়। আবার পাঠকেরও পড়ার সময়টা অন্য কোন বেটার কাজে ব্যয় হতে পারতো। বিশেষ করে রমজানের সময়টা সিরিয়াস রকমের মূল্যবান। যাইহোক। প্রতিবছর মার্চ মাস আসলেই নানান ধরণের জরিপ এবং গবেষণা আসতে থাকে ফেমিনিজম রিলেটেড। অনেকগুলো রিপোর্টের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটা জরিপ পেলাম খুবই শকিং। মুলতঃ সেটা নিয়েই কথা বলবো। তবে তার আগে আন্তর্জাতিক একটা জরিপ দেখা যাক। এটি করেছে ফ্রান্সের রিসার্চ ফার্ম ইসপস এবং কিংস কলেজ লন্ডনের Global Institute for Women’s Leadership Survey এটার কিছু ফাইন্ডিংস এরকমঃ • প্রতি তিন জনে একজন জেন-জি ছেলে মনে করে, স্ত্রী তার স্বামীর আনুগত্য করা উচিত। যেটা বুমারদের বেলায় মাত্র ১৩%। অর্থাৎ নতুন জেনারেশন আগের চাইতে বেশী কনজারভেটিভ হয়েছে। এখানে আরেকটা বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, প্রতি ৫ জনে ১ জন জেন-জি 'মেয়ে' মনে করে স্ত্রী তার স্বামীর অনুগত হওয়া উচিত। মনে রাখা দরকার, এটা গ্লোবাল জরিপ। • প্রতি তিন জনে একজন জেন-জি ছেলে মনে করে, একটা রোমান্টিক সম্পর্ক অথবা সংসারে পুরুষের কথাই শেষ কথা হওয়া উচিত। যেটা বুড়ো বুমারদের বেলায় মাত্র ১৭% ছিলো। এই বছরের নারী দিবসের আগে যখন ইসপসের এই ফাইন্ডিংসগুলো সামনে আসে, পুরো লেফট ব্লক হইচই শুরু করে দেয়। মানে এটা কিভাবে সম্ভব? তিনজনে একজন, মানে দুইজন মনে করে উল্টোটা। তারপরেও আধুনিক প্রজন্ম কিভাবে বুড়োদের চেয়ে কম ফেমিনিস্ট হয়? কিন্তু বছরের পর বছর এই ট্রেন্ড কন্টিনিউ হয়ে চলেছে। যেমন, ২০১৯ সালে ৩১% তরুণ মনে করতো ফেমিনিস্টরা বাড়াবাড়ি করছে। এই বছর সেটা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪০%। অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মের প্রায় অর্ধেকই মনে করছে ফেমিনিজম আর মোটেও জেন্ডার ইকুয়ালিটির ব্যাপারে নেই, বরং পিউর মেন-হেইটিং আইডিওলজিতে পরিণত হয়েছে। ******** গত সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়ান জার্নাল 'দ্যা কনভার্সেশনের' রিসার্চ পাবলিশড হয়। মূলত" টিনেজ ও যুবক ছেলেদের উপরে চালানো এই জরিপ। এখানের দুটো ফাইন্ডিংস এরকমঃ • ৪০% টিনেজ ছেলে মনে করে নারীরা সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্টের ব্যাপারে মিথ্যা বলে। এবং সবচেয়ে শকিং, • ২৮% ছেলে মনে করে, ফেমিনিজম ঠেকাতে ভায়োলেন্সের দরকার রয়েছে। এটা নিয়েই মুলতঃ মাথা খারাপ করে ফেলেছে। কারণ এই রিলেটেড কিছু আগের কোনো গবেষণাতেও ছিলো না। কিন্তু হঠাৎ করে একটা পুরোদস্তর লিবারেল-'শিক্ষিত' দেশের তিন ভাগের এক ভাগ ছেলে মনে করছে যে, ফেমিনিস্টদের প্রতি ভায়োলেন্ট হওয়া উচিত? গবেষকেরা উত্তর পেয়েছেন খানিকটা এরকম, একজন মানুষ ভায়োলেন্ট পদ্ধত্ব বেছে নেবার কথা কখন বলে? যখন প্রচলিত সেফটি মেকানিজমের প্রতি তার আস্থা হারিয়ে যায়। এই তরুণেরা দিনের পর দিন ফেমিনিস্ট ব্যাক্তি ও সংগঠনকে মানুষের লাইফ নষ্ট করতে দেখেছে। আর প্রচলিত সেফটি সিস্টেম তথা সরকার-কোর্ট-প্রশাসন উল্টো হাততালি দিয়েছে এই অবিচারের পক্ষে। এমন তো না যে কেউ হঠাৎ করেই এরকম এক্সট্রিম কিছু ভাবছে, তাও দেশের তিনভাগের একভাগ তরুণ একসাথে? তার উপরে, এই তরুণেরা আজকে ছাত্র ঠিকই, কালকে যখন কর্মজীবনে যাবে, হাতে রিয়েল পাওয়ার আসবে তখন কি অবস্থা হবে? দ্বিতীয়ত, এইসব তরুণেরা তখনই সহিংসতার ক্ষেত্রে সক্ষম হয়ে উঠছে যখন এর সাথে আরও অন্যান্য আইডিওলজি যুক্ত হচ্ছে। যেমন, একটা টিনেজ ছেলে, সে ফেমিনিস্ট দেখতে পারে না, অনলাইনে তর্কে জড়ায়। এমনিতে সে কোনো হুমকি না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তখনই, যখন সে একইসাথে হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্ট। এবার কিন্তু তার আঘাত করার ক্ষমতা আছে। আর এই ইকোসিস্টেমটাই লিবারেলদের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। হাজারো শাস্তি, কাউন্সেলিং জরিমানার পরেও একটা জেনারেশনের প্রায় অর্ধেক মিসোজিনিস্ট হয়ে গেলো? এ তো একটা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড দেশের অবস্থা, তাহলে এর চেয়ে কনজার্ভেটিভ দেশগুলোর কী অবস্থা? সেখানে লিবারেলিজম কিভাবে সার্ভাইভ করবে, যদি এই ট্রেন্ড জারি থাকে?

➤ ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রমিজ ছিলো, ব্রিকস যেহেতু ডলার দুর্বল করতে চায়, সে ব্রিকসকেই দুর্বল করে দেবে। এবং এটাও ঘটেছে। আপনারা জানেন, ইরান এবং সৌদি দুটোই ব্রিকসের মেম্বার। ২০২৪ সালের পর থেকে প্রক্রিয়ার শুরু এবং ২০২৫ এ ফাইনালাইজড। ইরান যখন সৌদি আক্রমণ করে তখন এটা টেকনিকালি ব্রিকসের অন্ত্ররঘাতি দ্বন্দ। আরো জটিল হয়ে যায় যখন চীন অফিসিয়ালি ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়। ফলে যেটা হয়েছে, ব্রিকসে সৌদির মত দেশ যোগ দেয়ায় ক্ষমতা যতটা বেড়েছিলো, সেখানে প্রচুর আস্থার সংকট। আপনি ভাবুন, ব্রিকসের পরবর্তি সম্মেলন, যেটা ভারতে হবে, সেখানে ইরান-সৌদি কিভাবে একসাথে বসবে? একে তো ইন্ডিয়ার গাদ্দারির কারনে ইরান সোলেমানি ক্লাস যুদ্ধজাহাজ হারিয়েছে। আবার চীনের মুখ বুজে থাকা তো দুনিয়া দেখেছে। এই অবস্থায় একটা নতুন দেশ কিভাবে ব্রিকসের মেম্বার হতে ভরসা পাবে? ইরান যুদ্ধের ফলে ব্রিকসের ক্ষমতা প্রায় অর্ধেক শেষ। ********************* কুর্দি প্রসঙ্গ আমেরিকা ইরানে অনেক বড় বাজি ধরেছে। এতটাই বড় বাজি যে, সাউথ চায়না সাগর থেকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে এনেছে জানুয়ারিতে। যা কিনা চীনের পক্ষে লাস্ট কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সিকিউরিটি দুর্বলতা। ইউএসের প্রাথমিক লক্ষ্য তথা রেজিম চেঞ্জ ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য, মিসাইল বিনাশ, এটাতে তারা রিস্ক নিতে চায় নি। কিন্তু আজ সপ্তাহ পার হয়েছে, এতগুলো B2 ইউজের পরেও ইরান থেকে ঠিকই ড্রোন+মিসাইল উড়ছে। মুলতঃ ইরানের যে স্টোর স্ট্রাকচার, অনেকগুলো এমন আছে এক কিলোমিটার পাহাড়ের গভীরে। তার উপরে ইরানের আয়তন হিউজ, ইসরাইলের প্রায় ৭৫ গুণ। সুতরাং, এখানে একমাত্র উপায় পদাতিক সেনা পাঠানো। কিন্তু ট্রাম্প সেটা আমেরিকান ট্রুপ দিয়ে করতে পারবে না, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগান - সবাই জানে কি ঘটেছে। সামনে আবার মিডটার্ম ইলেকশন। এজন্য মার্কিনিদের সবচেয়ে বেটার অপশন কুর্দিরা। কিন্তু ওয়েট, সিরিয়াতে এই কুর্দিদেরই না কিছুদিন আগে টিস্যুর মত ছুড়ে ফেললো? ট্রাম্প জাওলানির পক্ষ নিলো, আর কুর্দিরা বহু বছর দখল করা পজিশনগুলো হারালো। তারা আবার আমেরিকাকে বিশ্বাস করবে? কোন দুঃখে? আবার ধরুন পিকেকে। গত বছর তুর্কি যখন তাদের নিকেশ করে আনলো, পিকেকে তাকিয়ে ছিলো আমেরিকা কিছু করে কিনা। যখন আমেরিকা মুখ ফিরিয়ে নিলো, তখন অর্থাৎ গত বছরের মে মাসে পিকেকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য হলো। তারাও বা কিভাবে বিশ্বাস করে? সুতরাং, গ্রাউন্ড অপারেশনের দিক থেকে ইরান খুব সুবিধাজনক পজিশনে আছে। ********************* তবে হরমুজ আমেরিকার ক্ষতি না করতে পারলেও ইউরোপ এবং আমাদের মত ছোট দেশগুলোকে ভালোই ক্ষতিতে ফেলবে। আপনারা অলরেডি একটা সেমি-প্যানিক দেখতে পাচ্ছেন তেল পাম্পগুলোতে। বিএনপি একমাসও ক্ষমতায় আসে নি, এর মধ্যে এই চ্যালেঞ্জ। কারণ জালানি এমন জিনিস, এটা সরকার ফেলতে পারে, যুদ্ধ লাগাতে পারে, সরকারে বসাতেও পারে। ************ সামনের দিন ভালো ঠেকছে না। খুব দ্রুতই আমাদের পালা। ভারত খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে পারবে না। এই গুলো আপনার লাগবে - - একটা স্বাধীন এনার্জি সোর্স (মেবি সোলার) - ইলেক্ট্রিক কার/বাইক - স্যাটেলাইট ইন্টারনেট - ইমারজেন্সি খাবার/ঔষধের স্টক - চাষের জমি এবং স্বাধীন খাওয়ার পানির সোর্স ********************* এতক্ষণ পড়ার জন্য ধন্যবাদ/

যুদ্ধের ব্রুটাল দিক, ট্রাম্প, কুর্দি, আপনার প্রস্ততি আমরাই প্রথম জেনারেশন যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রিয়েল টাইম যুদ্ধ দেখছি। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ। একইসাথে ইতিহাসে প্রথমবার মূলধারার মিডিয়ার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়াই খবর জানার প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ পেশাদার সাংবাদিকের ক্যামেরায় তোলা ফুটেজের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ফোনের ক্যামেরাগুলোই আমাদের নিউজফিড ভরিয়ে দিচ্ছে। আসলে কি হচ্ছে ? ➤ যুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর সত্য, যুদ্ধের নিউজ কিছুদিন পরেই বোরিং হয়ে যায়। কয়েক বছর আগের একটা স্টাডি অনুযায়ী, একটা বড় ঘটনার ব্যাপারে মাস পিপলের অ্যাটেনশন থাকে মাত্র ১৭ ঘন্টা। তারপর কমতে থাকে। যুদ্ধের খবরের বেলায় এটা একটু বেশি, পার্সলির গবেষণা বলছে গত কয়েকটি যুদ্ধের বেলায় মানুষের পিক অ্যাটেনশন ছিলো ২.৬ দিন। আর দুই সপ্তাহ পর মানুষ সামনে আসলেও সেই খবর এড়িয়ে যেতে শুরু করে। যুদ্ধের খবর বোরিং হয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে এটা খুবই একঘেয়ে। যদিও মানুষ মরার চেয়ে বড় খবর আর হয় না, কিন্তু পুরোনো এবং চলমান যুদ্ধের খবরে মানুষ বিরক্ত হয়। যেমন, ঠিক আমাদের পাশের রাষ্ট্র মায়ানমারে কিন্তু একটি যুদ্ধ চলছে। গত ৩ দিনের (মার্চ ৩-৫, ২০২৬) মিয়ানমার সংঘাতের খবর যদি দিই: • জান্তা প্রাইভেট গাড়ির জ্বালানি রেশনিং ঘোষণা করেছে (মার্চ ৭ থেকে শুরু)। • মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধান পদ ছেড়ে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। • আউংলান টাউনশিপে জান্তার আর্টিলারি-ড্রোন হামলায় ৩০০০ লোক বাস্তুচ্যুত। আপনার কাছে এই নিউজগুলোর মানে কী? কোনো মানে নেই। এবং এটাই রিয়েলিটি। বিষয়টা কত নিষ্ঠুর ভেবে দেখেছেন? আমরা একদম তাদের পাশের দেশ। একইভাবে, আজ থেকে তিন সপ্তাহ পরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপনি এখনকার মত মাথা ঘামাবেন না। শনিবার দুইজন নিহত, রবিবার চারজন - যুদ্ধের খবর এরকমই বোরিং হয়ে যায়। শুধু নাম্বার চেঞ্জ হয় এবং ওই নাম্বার বড় না হলে কেউ কেয়ার করে না। ইভেন যারা জিওপলিটিক্স চর্চা করে দুইবেলা তারাও সামনে আসলে এড়িয়ে যান। ইউক্রেন, গাজা, সুদান, বার্মা - সব জায়গাতেই একই চিত্র। ➤ যুদ্ধের সংবাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বায়াস ও ইকো চেম্বার। সঙ্গত কারণেই চলমান যুদ্ধে পশ্চিমের মোকাবেলায় আমাদের অন্তর কিছুটা ইরানের ফেভারে। কিন্তু আপনি শুধু আপনার সার্কেলের নিউজ দেখলে মনে হবে ইরান জিতছে। এবং সেটা সাপোর্ট করার মত যথেষ্ট খবরও পাবেন। আবার পশ্চিমের সার্কেলে গেলে মনে হবে ইরান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এজন্য আপনাকে জুম-আউট করে সিচুয়েশনটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সাথে দুই পক্ষের কোর আইডিওলজি এবং ইতিহাস আমলে নিতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান জিততে পারবে না। এইভাবে ঘিরে ধরলে মিড টায়ারের একটা মিলিটারি টিকতে পারে না। ইরানি নেভি শেষ। লঞ্চিং সাইটগুলোর ম্যাক্সিমামই বোম্বড। ভুগর্ভস্থ মিসাইল সিটিগুলোর এন্ট্রেন্স বারবার করে ধ্বংস করেছে। কিন্তু তারপরেও ইরান যে ড্রোন+মিসাইল লঞ্চ করতে পারছে এটা খুবই ইম্প্রেসিভ। সেগুলো আবার মিনিমাম চারটা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে তেল-আবিবে পড়ছে, এটাও বিস্ময়কর। ********************* এবার দেখা যাক ট্রাম্পের দুটো মাস্টারস্ট্রোক। তাকে যে জন্য এলিটরা ক্ষমতায় এনেছিলো তা সে করে দেখিয়েছে। ➤ প্রথমতঃ ইরান আক্রমণের পিছনে সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো হরমুজ প্রণালী। এখান থেকে তেল না সরলে ইউএসের মাটিতে তেলের দাম বেড়ে যায়, জনগণ অখুশী হয়। ট্রাম্পের পলিসির অন্যতম ছিলো, এটা গুরুত্বহীন করে ফেলা যেন এই অস্ত্র আমেরিকার উপর আর কাজ না করে। তেলের খনি - কথাটা শুনলে সবার আগে আরব দেশগুলোর কথা মাথায় আসে। কিন্তু আমেরিকা নিজেও টপ টেনের মধ্যে। কিন্তু নানান কারণে মার্কিনিরা তেল উত্তোলন করতো না। এজন্য ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই একটা প্রতিশ্রুতি দেয়, নাম - 'ড্রিল বেবি ড্রিল'। অর্থাৎ, সে ক্ষমতায় আসলে লোকাল তেল উত্তোলন বাড়াবে। এবং করেছেও তাই। গত বছরের ১০ই জানুয়ারী থেকে এটা শুরু হয়। এবং আমেরিকার লোকাল তেল উৎপাদন এখন পর্যন্ত ৫৫% বেড়েছে। এটার ইফেক্ট এত বেশি ছিলো, বাইডেনের সময় যেই তেল ৩ ডলার/গ্যালন ছিলো, সেটা এখন দুই ডলার। এছাড়া বড় ঘটনাটা সবাই জানেন, ভেনিজুয়েলা, যাদের কিনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের রিজার্ভ আছে, সেটা এখন আমেরিকার। এই কারণে আমেরিকা এখন এত রিস্কি একটা যুদ্ধে জড়িয়েছে, প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ডলার খরচ, হরমুজ বন্ধ - কিন্তু আমেরিকাতে তেলের দাম বাড়ছে না! এবং এজন্যই যুদ্ধ বন্ধের পলিটিকাল চাপ কম, মার্কিনিদের পেটে টান পড়ে নি।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। বাংলাদেশ সময় বেলা সকাল ১১:৩০। ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ আক্রমণ শুরু। প্রথমে আক্রমণ করে ইসরাইল। সকাল ১১:৩১ ইরানের মিনিমাম ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক অফিসার নিহত। কিছু সোর্স থেকে এরকমও শোনা গেছে, এরমধ্যে চিফ অব স্টাফ (সেনাপ্রধান)ও ছিলো। মানে ইসরাইল-আমেরিকা মাত্র এক মিনিটে ৪০+ হাই র‍্যাংকিং অফিসার মেরে ফেলেছে। সিরিয়াসলি ইম্প্রেসিভ। অর্থাৎ, আক্রমণ শুরুর আগেই তারা ঠিক সাড়ে এগারোটায় কোথায় থাকবে তার ইঞ্চি লেভেলের অ্যাকুরেট ইনফরমেশন তাদের কাছে ছিলো। এইধরণের ইনফরমেশন একভাবেই পাওয়া যায়। স্পাই। ইরানের খোদ ওয়াররুমের মধ্যে ইসরাইলী স্পাই ছিলো। এখনো আছে। এই অস্থির সময়ে শিয়া-সুন্নী আলাপ অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এটা আপনি এড়াতে পারবেন না। শিয়াদের মধ্যে স্পাইয়িং, সেলআউটের সম্ভাবনা বেশী। খোমেনি নিজেও সেলআউটের শিকার। > মার্কিন গর্ব প্যাট্রিয়টের আবারো ব্যাপক বেইজ্জ্বতি হলো। অন্ততঃ ৮টি দেশে ফেইল করেছে। এরমধ্যে কাতারের ১.১ বিলিয়ন ডলারের রাডার, বাহরাইনের ফিফথ বেইস, ইরাকের বেইস উল্লেখযোগ্য। > ইরান তথা অক্ষশক্তির জন্য ডু অর ডাই সিচুয়েশন। আমরা যার সাক্ষী হচ্ছি তা গত ৩০-৩৫ বছর ধরে হওয়ার অপেক্ষায় ছিলো। > বাচ্চা বলি ছাড়া ইসরাইলের হামলা তো অসম্পূর্ণ। শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলের বাচ্চাদের জন্য প্রচন্ড খারাপ লেগেছে। বিবিসিসহ পশ্চিমা মিডিয়ায় নিউজটা খুজলাম। পেলাম না। এখানে আরেকটা ব্যাপার আমার চোখে পড়েছে। এই স্কুলে ইসরাইল সম্ভবতঃ থার্মাল ওয়েপন ইউজ করেছে। এই ধরণের মিসাইল অতি উচ্চতাপের হয়, মানুষের বডিকে ভস্ম করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। অনেক বাচ্চার ব্যাগ, জুতা পাওয়া গেলেও বডি পাওয়া যায় নি। এর আগে তারা গাজায় এরকম জিনিস ইউজ করেছে। > পাকিস্তানের ইউএস অ্যাম্বাসিতে আম্রিকা আবার জাত চেনালো। গুলি করা ছাড়াও হ্যান্ডেল করা যেত। কিন্তু গরীব দেশ, রক্ত সিরিয়াস রকমের চিপ। > ভেনিজুয়েলায় যেমন সনিক বুম ইউজ করেছিলো, ইরানে হয়ত আগে দেখা যায়নি এমন অস্ত্র টেস্ট করা হতে পারে। > ইরানের বর্তমান সরকার থাক আর যাক, এই অঞ্চলে সিভিল ওয়ারসহ অনেক কিছু আসবে সামনে। মোটেও আগের মত শান্ত হবে না। > কাতার-দুবাই-কুয়েতের সেফটির ইলিউশন ভেঙ্গে গেছে। ভোগে ডুবে থাকা গাদ্দার আরবগুলো ভালোরকমের রিয়েলিটি চেক পেয়েছে। > চলমান সংঘাতে পশ্চিম, জায়ো এবং তাদের ল্যাপডগের উপর ইরানের চাবুক মারতে দেখা অবশ্যই উপভোগ্য। এবং পশ্চিমের বিরুদ্ধে পলিটিকাল কারণে ইরান এখানে সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। > তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অফিসিয়ালি শুরু। > ট্রিগার হিসেবে গৌরবময় ৭ই অক্টোবর সমস্ত ক্রেডিট পাবে।

NTI নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি ইনডেক্সের একসময়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ পরমাণূ অস্ত্র হচ্ছে পাকিস্তানের। মুলতঃ এই রসিক পরিমাপ করা হয়েছিলো একটা পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের নিউকগুলো নন-স্টেট বা আর্মির বাইরের কারো হাতে পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু। স্বাভাবিকভাবেই এই দিক থেকে রাশিয়া সর্বোচ্চ ঝুকিপুর্ণ ছিলো তার আয়তনের কারণে। রাশিয়ার সীমানা এত বিশাল যে সবজায়গাতে সমান নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু পাকিস্তানের ঝুঁকি একেবারে ইউনিক। আপনি কি জানেন, পাকিস্তানের নিউকগুলো কোনো প্রটোকল ছাড়াই রাস্তায় সাধারণ ট্রাকে পরিবহন করা হয়? বাংলাদেশের মত দেশে রুপ্পুরে ইউরেনিয়াম পৌছাতে যেখানে মাইলের পর মাইল রাস্তা বন্ধ করা হয়েছিলো সেখানে পাকি নিউক একদম খোলা রাস্তায় আইস্ক্রিম ট্রাকে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সাথে বড়জোর একটা সিকিউরিটি ভ্যান। (সুত্রঃ ওয়ারড, দ্যা আটলান্টিক) মুলতঃ ২০১১ সালের অ্যাবোটাবাদের ঘটনার পর থেকেই এই প্রাকটিস চলে। ইউএস বা পশ্চিমারা তাদের নিউক কেড়ে নেয় কিনা সেই ভয়েই এটা চালু করা হয়। কিন্তু এই ক্যাজুয়াল ট্রান্সপোর্ট আরো একটা ঝুঁকি তৈরী করে। যেহেতু সিকুরিটি মিনিমাম থাকে, তাই পথেই ভুল পক্ষের হাতে পড়ার সম্ভাবনা অনেক, সেই পক্ষ জাতীয়বাদিও হতে পারে, জিহাদিও হতে পারে। পাকিস্তান মুসলিম দেশ, সেকারণে তাদের আর্মি যতভাবেই সেকুলারাইজ করা হোক না কেন, রেডিকালাইজেশনের রিস্ক থাকেই। পাক আর্মিতে টিটিপি সিমপ্যাথির কারণে রেগুলার ইন্টারনাল অ্যারেস্ট হয়। সুতরাং, নন-স্টেট পক্ষের কাছে নিউক চলে যাওয়ার জন্য জাস্ট অল্প কিছু সিম্পাথাইজার যথেষ্ট। এটা পশ্চিমের জন্য বিরাট মাথাব্যথা। কারণ এক নন-স্টেট পক্ষকে রাস্ট্রের মত অতকিছু ভাবা লাগে না, না স্যাংশনের ভয়, না ভাবমুর্তির ভয়। পশ্চিমের জন্য অনেক বড় প্রায়োরিটি যতসম্ভব পাকিস্তানকে ডিনিউক্লিয়ারাইজ করা। ইরানের পরে নিশ্চিত পাকিস্তানের সিরিয়াল। খোদ নেতানিয়াহুর অবস্থান এটা। আমার বিশ্বাস, সামনে অনেক বড় টুইস্ট বাকী আছে। কারণ ওসামা বিন লাদেনের লাইফের অন্যতম বড় টার্গেট ছিলো নিউক হাতে পাওয়া। তার লোকজন লাস্ট ৩০+ বছর ধরে কাজ করছে এর উপরে। পাক আর্মির গুন্ডাগিরি আর বেশিদিন নেই। সেটা কিন্তু উপরে বলা উপায়েও হতে পারে। জাস্ট একটা অ্যাঙ্গেল বলে রাখলাম।

বিএনপি সরকার মেয়াদ শেষের আগেই পালাবে ইনশাল্লাহ
বিএনপি সরকার মেয়াদ শেষের আগেই পালাবে ইনশাল্লাহ

সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা। আপনাদের সাথে এটা চতুর্থ রমজান। রমজানে আমাদের কাজ কেমন হবে কিছু আইডিয়া দেবো- ১. ফিটনেসঃ রমজানে আমরা মাসল বাড়াবোও না, লসও করবো না। কারণ রমজানে রোজা, তারাবী, আর রেগুলার কাজের পর হেভী ওয়ার্কআউট সম্ভব নয়। শুধুমাত্র বডি অপটিমাল কন্ডিশনে রাখতে যেটুকু পারা যায়। পারলে কিছু ফ্যাট লস। - সাদা চিনি আর এই দিয়ে বানানো খাবার একেবারে না করে দেন এই রোজাতে। মিষ্টি খাবেন একেবারে ঈদের দিন সকালে। ২. ফিনান্সঃ রমজান নিউ স্কিল শেখার বেস্ট সময়। ২০ মিনিটের একেকটা সেশনে ভাগ করে শিখতে থাকেন। আর যাদের রেগুলার কাজ আছে তারা তো করবেনই। যারা বাজে অবস্থায় আছেন, ঈদের কিছু সিজনাল বিজনেস করতে পারেন। যদিও দেরী হয়ে গিয়েছে, কিছু অবশ্যই করা যায়। ৩. স্প্রিচুয়ালিটিঃ রমজানে এটাকে সবার আগে রাখেন, এটাকে খেয়াল করে বাকী কাজ অ্যাডজাস্ট করুন। - কুরআন পড়ুন, শুধু অনুবাদ না পড়ে ব্যাখ্যাসহ। - বই পড়ার অভ্যেস না থাকলে এই এক মাসে করে ফেলতে পারবেন। ইউজলেস রিল-শর্ট ভিডিও আর চিপ বিনোদন একদম বাদ। রমজান ভালো কাটুক। গাজাবাসীকে মনে রাখুন। ধন্যবাদ। guys, got lazy this year, didnt write anything new. so, reposted. will make up

সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা!
সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা!

একটা আজকে দেওয়া হলো। আরেকটা দেওয়া হবে মেটালার্নিং এর উপরে।

অনেক সময় এরকম হয়, খুব দ্রুত কিছু জিনিস শেখা দরকার। মানে শেখা লাগবেই, আর কোনো অপশন নেই। আমি একবার এরকম একটা সিচুয়েশনে পড়েছিলাম। এবং সেই সময়ে ম্যাট ওয়াকারের এই লেকচারটা আমার চরমভাবে উপকার করেছিলো। লাইফে যদি একটা টেড-টক থেকে উপকার পেয়ে থাকি তাহলে এটাই সেই ভিডিও,'ঘুম হচ্ছে তোমার সুপারপাওয়ার'। ঘটনাটা বলি। তখন সবে ক্যাম্পাসে ফার্স্ট ইয়ার শেষ করেছি। সবদিকে চেঞ্জ এসছে। কিছুদিন আগেই বড় একটা পেমেন্ট পেয়েছিলাম যা দিয়ে এক্সবক্স, ড্রোন - এইসবে পুরোটা উড়িয়ে দিলাম। হাত খালি হয়ে গেলো-বোকামির শাস্তি পাচ্ছিলাম। এরমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার এক বায়ার একটা কাজ দিতে চাইলো। লারাভেল দিয়ে একটা ডাটাবেজ বানাতে হবে। ৪০০ ডলার বাজেট। আমি লারাভেলের 'ল'-ও জানি না। কিন্তু হ্যাঁ বলে দিলাম। কারণ টাকা লাগবে। কাজ তো পেলাম। কিন্তু লারাভেল শিখবো কিভাবে? কিছু বেসিক টিউটোরিয়াল দেখে মাথা ঘুরে গেলো। ওইদিক বাদ দিয়ে সাইকোলজির ভিডিও দেখা শুরু করলাম। কিভাবে সহজে শেখা যায়। কারণ সময় আছে ৪-৫ দিন। তারমধ্যেই টেড-টকের এই লেকচারটা পেলাম। ম্যাট ওয়াকারের থিওরী খুবই সিম্পল। কোনোকিছু শেখার পর আপনি ঘুমোতে যাবেন, অনেকটা সেভ বাটনে ক্লিক করার মতো। আবার শেখার আগেও কিছুক্ষণ ঘুমোবেন যাতে ব্রেইন আপনার মেমোরি ক্লিয়ার করে। এতে করে যেহেতু ওই জিনিসটা আপনার মেমোরির সর্বোচ্চ অ্যাটেনশন পাচ্ছে, এবং শেখার পরে নতুন কোনো মেমোরি ওটা এলোমেলো করে দিচ্ছে না - জিনিসটা একদম স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। ম্যাটের গবেষণা অনুযায়ী, এটা অন্ততঃ ৪০% বেশী কার্যকর, শেখার ক্ষেত্রে। একদম ঔষধের মত কাজ করেছিলো। এখানে বলে নিই, ছাত্রাবস্থায় আমি খুব শর্ট ন্যাপ নিতে পারতাম। সেমিস্টার ফাইনালের দিনগুলোতে, ধরা যাক পরীক্ষা সাড়ে নয়টায়, আমি নয়টায় হলেরই কোন বন্ধুর বেডে ঘুমিয়ে পড়তাম। ওরা যাওয়ার আগে ডেকে দিত। হয়ে গেলো ১৫ মিনিটের ঘুম। যাইহোক, ওই এক্সপেরিমেন্টের সময় দুপুরের ঘুম থেকে উঠেই ইউটিউবে যেতাম। সাথে ভিএসকোড ওপেন থাকতো। আধাঘন্টা পর আবার ঘুমোতাম। এভাবে করে আমি সত্যি সত্যি ৫ দিনের মাথায় ফুলি ফাংশনাল ডেমো বানিয়ে দিয়েছিলাম। ======== পরেও অনেকবার এই টেকনিক ফলো করেছি। প্রায় প্রতিবারই কাজে দিয়েছে। একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন। টেড টকের ইউটিউব লিংক

"ওসব তালেবানি উগ্রপন্থী উপায় এখানে চলবে না। এই দেশে গণতন্ত্র আছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" ভোটের পরঃ - দেশের অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত-মুর্খ, ধর্মের জ্ঞান নেই। এজন্যই তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। ** তারমানে কি বলতে চাচ্ছেন, গণতন্ত্র এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য উপযোগী না? বুঝলাম না।

𝗨𝗡𝗙𝗔𝗭𝗘𝗗 - إحصائيات وتحليلات قناة تيليجرام @unfazedbd