বাইতুল মাক-দিস মুসলমানদের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ফিলি-স্তিনের ইতিহাস এবং মসজিদে আক-সার মর্যাদা নিয়ে মুফতি আরিফ বিন হাবিব হাফি:র একটি লম্বা এবং অত্যন্ত চমতকার গোছানো আলোচনা আছে৷
আমি সম্পূর্ণ আলোচনা পয়েন্ট আকারে তারতিব দিয়ে আপনাদের সামনে পেশ করলাম৷
আগামী জুমায় খতীব ভাইদের কাজে লাগতে পারে৷ ইনশাআল্লাহ৷
লেখাটি একটু দীর্ঘ এজন্য টাইম লাইনে শেয়ার করে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন৷ আহসানাল্লাহু জাযাআকুম
আল্লাহ তাআলা মুফতি Arif Bin Habib সাহেবকে জাযায়ে খায়ের দান করুন৷ আমিন৷
ভুমিকা
একদম শুরুর কথা:তখনো কোনো খনিজ পদার্থ আবিষ্কার হয়নি। শিকারের প্রয়োজনে মানুষ হাতিয়ার তৈরি করত পাথর দিয়ে। তাই এই যুগের নাম প্রস্তর যুগ।
শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ, কৃষি সম্প্রসারণ ও ধাতু আবিষ্কারের প্রয়োজনিয়তা দেখা দিল, এই সবগুলো নেয়ামতের নিদর্শন বর্তমান ফিলি-স্তিন(তখনো ফিলি-স্তিন নাম হয়নি)নামক স্থানে পাওয়া গেছে। এমনই প্রাচীন ও সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে বছর জুড়ে বৃষ্টি হয়। সারা বছর তাপমাত্রা থাকে স্বাভাবিক। শীত কিংবা গ্রীষ্ম সবসময়ই তাপমাত্রা থাকে ১৯-২৭ ডিগ্রির মধ্যে। ফিলি-স্তিন হল এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মিলনস্থল।
ফিলি-স্তিন নামকরণ:
প্রাচীনকালে খৃষ্টপূর্ব ৩২০০ সালে মানুষ ব্রোঞ্জ যুগে প্রবেশ করে। এসময় মানুষ টিন আবিষ্কার করে।ব্রোঞ্জযুগে কেনআনীরা এসে ফিলি-স্তিনে বসবাস শুরু করে। কেনআনীদের একটি শাখা হল, ফিনিশিয়ান সম্প্রদায়। তারা সিরিয়ার নিকটবর্তী ফিলি-স্তিনী এলাকায় বসবাস করত।
ফিলি-স্তিনে বসবাসকারী আরেকটি সম্প্রদায়ের নাম আমোরীয়।তাদের থেকেই এসেছে হেকসোস সম্প্রদায়। আলকুদসের গোড়াপত্তন তাদের অন্যতম কীর্তি। তারা এ শহরের নাম দিয়েছিল, উরসালিম।
এ যুগের কয়েক শ বছর পর ফিলি-স্তিনে প্রবেশ করে ব্লেস্ট জনগোষ্ঠী। তারা এসেছিল ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ ক্রিট থেকে। এরাও ইহুদী ছিল না। তারা এ অঞ্চলের নাম রেখেছিল বালিস্তিন। সেখান থেকেই পরিবর্তন হয়ে ফিলি-স্তিন হয়েছে।
তথ্যসূত্র:কিসসাতু ফিলি-স্তিন, রাগিব সারজানি; আক-সা কে আঁসু, আবু লুবাবা শাহ মানসূর; আলজাজিরা, উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য।
মুল আলোচনা:
আল-কুদস, মসজি-দুল আকসা বা বায়তুল মাক-দিস কিংবা বাইতুল মুকা-দ্দাস। পৃথিবীর বরকতময় ও স্মৃতিবিজড়িত ফিলি-স্তিনের সুন্দর সুশোভিত প্রাচীনতম জেরুজালেম শহরে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ।
আমাদের বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ মসজিদে আক-সার পরিচয়, মর্যাদা ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখে না।
তাই সংক্ষিপ্তাকারে মসজিদে আক-সার পরিচয় ও মর্যাদা আপনাদের সামনে পেশ করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
এক.
ফিলি-স্তিন কুরআনে স্বীকৃত পবিত্র ভূমি
یٰقَوۡمِ ادۡخُلُوا الۡاَرۡضَ الۡمُقَدَّسَۃَ الَّتِیۡ کَتَبَ اللّٰہُ لَکُمۡ وَلَا تَرۡتَدُّوۡا عَلٰۤی اَدۡبَارِکُمۡ فَتَنۡقَلِبُوۡا خٰسِرِیۡنَ
হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেই পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করেছেন, ২২ তাতে প্রবেশ কর এবং নিজেদের পশ্চাদ্দিকে ফিরে যেয়ো না; তা হলে তোমরা উল্টে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
আল মায়িদাহ - ২১
দুই.
নবী-রাসুলদের স্মৃতির স্মারক
অনেক নবী-রাসুল এমন ছিলেন, যারা ভিন্ন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছেন, পরবর্তীতে আল্লাহর আদেশে এই মসজিদের জনপদে হিজরত করেছেন। সেই হিসেবে এই অঞ্চলটিকে নবী-রাসুলদের স্মৃতির স্মারক বলা যায়।
শুধু তাই নয়, মসজিদুল আক-সার আশেপাশে নবী-রাসুলদের যত কবর আছে, অন্য কোনো অঞ্চলে এত কবর পাওয়া যায় না।
ইবরাহীম ও লুত আ. এর হিজরতের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, وَنَجَّیۡنَـٰهُ وَلُوطًا إِلَى ٱلۡأَرۡضِ ٱلَّتِی بَـٰرَكۡنَا فِیهَا لِلۡعَـٰلَمِینَ এবং আমি তাকে (ইবরাহীম) ও লুতকে উদ্ধার করে এমন এক ভূমিতে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি ।
(সুরা আম্বিয়া: ৭১)
তিন.
বরকতপূর্ণ ভূমি
মসজিদে আক-সার একটি বিশেষ ফযীলত হল, আল্লাহ একে বরকতময় করেছেন। এই মসজিদকে কেন্দ্র করে আশপাশের জনপদকেও বরকতপূর্ণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَہٗ لِنُرِیَہٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ
পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাতারাতি মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নিয়ে যান, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর শ্রোতা, সব কিছুর জ্ঞাতা। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ১
আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন
وَجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمۡ وَبَیۡنَ الۡقُرَی الَّتِیۡ بٰرَکۡنَا فِیۡہَا قُرًی ظَاہِرَۃً
আমি ওদের এবং যে জনপদগুলোতে বরকত রেখেছি, তার মাঝে এমন সব জনপদ স্থাপন করেছিলাম, যা নজরে আসত..। সূরা সাবা (৩৪) : ১৮
ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এখানে বরকতময় জনপদ দ্বারা উদ্দেশ্য হল বাইতুল মাকদিসের জনপদ। তাফসীরে ইবনে কাসীর, খ. ৬, পৃ. ৪৬৮
চার.