এই ডাক্তারসহ বাংলাদেশের আরও বড় বড় চারজন ডাক্তারকে নিয়ে আমি একটি বড় প্রতিবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার জীবনে তারা যে ভুল চিকিৎসাগুলো করেছেন, সেগুলো কোনো ছোটখাটো ভুল না—মারাত্মক পর্যায়ের। আজ শুধু এই একজন ডাক্তার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছি।
২০২৩ সালে আমি তাঁর কাছ থেকে একটি দাঁত ফেলেছিলাম। তিনি অনেক বড় ডাক্তার, মুখের ক্যান্সার পর্যন্ত অপারেশন করেন। এত সুনামধন্য একজন ডাক্তার হওয়ার পরও আমার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই হতাশাজনক। তাঁর চেম্বারে রোগীদের খুব তাড়াহুড়ো করে দেখা হয়, সময় খুব কম দেওয়া হয়, আর রোগীর কথা মন দিয়ে শোনার অভ্যাস খুবই কম—আমার ক্ষেত্রে অন্তত তাই হয়েছে।
যে দাঁতটি তোলা হয়েছিল, সেটি সার্জিক্যালি তোলা হয়। প্রথমে রুট ক্যানেল করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু এর আগে একবার রুট ক্যানেল নিয়ে আমার খুব খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল, তাই শেষ পর্যন্ত দাঁতটা না রাখাই ভালো মনে করে ফেলানোর সিদ্ধান্ত নিই।
দাঁত তোলার পর তিনি তিনটি সেলাই দেন। কিন্তু দুই দিন পর থেকেই আমার জিহ্বায় দাঁতের মতো শক্ত কিছু লাগতে থাকে। আমি আবার গিয়ে বলি। কিন্তু বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমাকে বলা হয়, এটা নাকি হাড়, মাড়ির অংশ, এবং এটা স্বাভাবিক। ডাক্তারদের চেয়ে তো আমি বেশি বুঝি না, তাই স্বাভাবিক ভেবেই মেনে নিয়েছিলাম।
পরে কিছুদিনের মধ্যে মাংস এসে জায়গাটা ঢেকে যায়। বাইরে থেকে আর কিছু বোঝা যায়নি। এরপর সেলাই কাটার দিন সেলাই কেটে দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরের দিন দেখি, জিহ্বার পাশে আবার খোঁচা খোঁচা লাগছে। পরে দেখি সেলাইয়ের একটি কালো সুতা মাংসের ভেতর থেকে বের হয়ে আছে। আবার সেখানে যাই। আমাকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখার পর ভেতরে নেওয়া হয়। আমি বিষয়টা দেখানোর পর ডাক্তার বলেন, “এটার জন্য এত পাগল হচ্ছ কেন? এটা তো নিজেই টেনে ফেলে দিতে পারতে।”
অথচ সেলাই কাটার পর ঠিকমতো চেক করা উচিত ছিল। আমি আজ অসুস্থ অবস্থায়, কষ্টের জায়গা থেকে কথা বলছি—কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্য না। তিনি একজন সুনামধন্য ডাক্তার, তাঁর অনেক সুনাম আছে। আমি সেটা অস্বীকার করছি না। আমি শুধু আমার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটাই বলছি। আর যে কয়েকজন ডাক্তার আমার চিকিৎসার সময় এমন ভুল করেছেন, তাদের সবার বিষয় নিয়েই আমি বড় একটি প্রতিবেদন করব। সেখানে তাঁর বিষয়টিও থাকবে।
আজ প্রায় তিন বছর পর, ওই দাঁতের টুকরো থেকে সিস্ট হয়েছে, পুঁজ হয়েছে। যে ডাক্তার এখন এটি তুলেছেন, তিনি বলেছেন—এটি থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল বেশি। একটু চিন্তা করুন, বিষয়টা কতটা ভয়ংকর হতে পারত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, আমি কিন্তু শুরুতে ওই খালি জায়গাটা সন্দেহ করে যাইনি। আমি পাশের দাঁতটা সন্দেহ করে গিয়েছিলাম। ব্যথার কারণে আমি রাতে এক সেকেন্ডও ঘুমাতে পারিনি। গাল ফুলে লাল হয়ে গিয়েছিল। পরে এক্স-রে করার পর বর্তমান ডাক্তার এসব বিষয় আমাকে জানান। তারপরও প্রথমে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না, কারণ টুকরোটা খুব ছোট ছিল, সাদা ছিল। ছবিটা আমি কমেন্ট বক্সে দেব।
আবারও বলছি, আমার কারও মানহানি করার উদ্দেশ্য নেই। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতাও নেই। আমি শুধু আমার সঙ্গে হওয়া চিকিৎসা-সংক্রান্ত অনিয়মের কথা বলছি। আমি কখনো টেস্ট করাতে দেরি করিনি, ডাক্তার দেখাতে দেরি করিনি, সবসময় বড় বড় ডাক্তারদের কাছেই গিয়েছি। যদি আমার মতো একজন মানুষের সঙ্গে এমন হয়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কী হয়—সেটা সহজেই বোঝা যায়।
আমরা অনেক কিছু বোঝার চেষ্টা করি, ডাক্তারদের প্রশ্ন করি, নিজের সমস্যা বুঝিয়ে বলি। তারপরও যদি আমাদের সঙ্গে এমন হয়, তাহলে যারা ডাক্তারের সামনে কথা বলতেই ভয় পায়, তাদের অবস্থা কী?
আমার প্রোস্টেট সমস্যার ক্ষেত্রেও এক বড় ইউরোলজিস্ট আমার কথা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার কথাটাই ঠিক প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আমার কষ্টের শুরু আরও আগেই—আমার মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে। এরপরও ছোট-বড় অনেক বিষয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে।
এখন আমার প্রশ্ন—এসব কি শুধু আমার সাথেই হয়, নাকি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সাধারণ মানুষই কোনো না কোনো সময় এমন অবহেলা, ভুল চিকিৎসা, বা খারাপ ব্যবহারের শিকার হয়?
দিনশেষে ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথা বলতে চাই—প্রত্যেক রোগীকে মানুষ মনে করুন। আপনাদের কাছে গরু-ছাগল চিকিৎসা নিতে যায় না, মানুষ যায়। তারা টাকা দিয়ে চিকিৎসা নেয়। তাই ব্যবহার ভালো করুন। ডাক্তার, কম্পাউন্ডার, স্টাফ—যারা রোগীদের সঙ্গে থাকেন, সবাই অনুগ্রহ করে মানুষের সঙ্গে মানুষের মতো আচরণ করুন। কারণ দিনশেষে আপনারাও একদিন অন্য কারও রোগী হতে পারেন।
সবার কাছে অনুরোধ, পোস্টটি শেয়ার করুন যেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।