Tasbeeh & Nusus
الذهاب إلى القناة على Telegram
সালাফে সালিহিনের উসুলে কুরআন ও হাদিসের ইলম প্রচার করার উদ্দেশ্যে এই চ্যানেলটি খোলা হলো। আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র তাওফিকদাতা।
إظهار المزيد5 360
المشتركون
لا توجد بيانات24 ساعات
+107 أيام
+230 أيام
أرشيف المشاركات
5 360
.
যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই সাদাকাহ করুন। এটিই নিয়ম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৩ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
.
যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা গরিবদের দিয়ে দিন। আল্লাহ চাইলে এটিকে কদরের রাতের দান হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
.
(৬) তাওবাহ-ইস্তিগফারে লেগে থাকা:
.
[ক] ইস্তিগফার—০১:
.
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি এটি পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’’
.
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮْﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
.
[আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযি লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ু-মু ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৭; হাদিসটি সহিহ]
.
[খ] ইস্তিগফার—০২:
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি খুব বেশি পড়তেন—
.
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
.
[সুব‘হা-নাল্লা-হি ওয়া বি‘হামদিহি, আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতু-বু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৭৫]
.
[গ] ইস্তিগফার—০৩: সায়্যিদুল ইস্তিগফার
বেশি বেশি পড়া উচিত। হাদিসের ভাষায় এটি হলো শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার, ইস্তিগফারের নেতা। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬]
.
এর পাশাপাশি তাওবাহর শর্তগুলো পূরণ করে অবশ্যই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করা উচিত। তাওবাহর তিনটি শর্ত হলো: কৃত গুনাহ স্বীকার করে সেসব আগে ছেড়ে দেওয়া, নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া এবং ভবিষ্যতে এসব গুনাহ আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করা। [ইমাম নববি, রিয়াদুস সলিহিন]
.
(৭) কিছু যিকর ও তাসবিহ পাঠ করা:
.
[ক] সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার আল্লাহর হামদ বা প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৬৯১১; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
.
[খ] একটি ফজিলতপূর্ণ তাসবিহ কমপক্ষে ১০০ বার পড়ার চেষ্টা করবো।
.
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
.
[লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হদাহু লা শারি-কা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদি-র]
.
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার এটি পড়বে—
◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি এগুলোর প্রত্যেকটি ১০ বার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭]
.
[গ] জান্নাতের রত্নভাণ্ডার যে যিকর:
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস! আমি কি জান্নাতের এক রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না?” আমি বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলেন, “তুমি বলো—
5 360
লাইলাতুল কদরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহজ আমলগুলো একসাথে দেওয়া হলো। আশা করি, এই আমলগুলো করলে আমরা দারুণ সৌভাগ্য হাসিল করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
▬▬▬▬▬▬▬◖❂◗▬▬▬▬▬▬▬
যেহেতু কুরআনের ভাষায় ‘‘কদরের রাতটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ’’ তাই এই রাতে একটি নেক আমল করা মানে হাজার মাস যাবত এই নেক আমলটি করা। রামাদানের শেষ দশ দিনে নবিজি কদর তালাশ করতে বলেছেন। তাই, আমরা শেষ দশ দিন নিচের এই আমলগুলো করতে পারি।
.
(১) তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা:
.
লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]
.
সম্ভব হলে ৮/১০ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বো। এরপর আন্তরিকতার সাথে দু‘আ করবো। সাধারণ নফলের মতো ২ রাকাত করে পড়তে থাকবো। বিশেষ কোনো নিয়ম নেই।
.
(২) যত বেশি সম্ভব কুরআন পাঠ করা:
.
[ক] আমরা শেষ দশকের প্রতিটি রাতে ২০/৩০ বার বা আরও বেশি সুরা ইখলাস পড়তে পারি।
.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিঃসন্দেহে এটি (সুরা ইখলাস) কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০১৩]
.
[খ] এছাড়াও আমরা যা পড়বো:
আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সুরা মুলক ও বাকি তিন কুল (সুরা কাফিরুন, সুরা ফালাক ও সুরা নাস)।
.
যারা আরও বেশি সময় তিলাওয়াত করবো, তারা সুরা যুমার, সুরা সাজদাহ ও মুসাব্বিহাত (সুরা হাদিদ, হাশর, সফ, জুমু‘আ, তাগাবুন) সুরাগুলো পড়তে পারি, যেহেতু এগুলো সারা বছর রাতের বেলা পড়ার ব্যাপারে হাদিস আছে। অথবা চাইলে কুরআন থেকে অন্যান্য সুরাও পড়তে পারি।
.
(৩) কদরের রাতের দু‘আটি বেশি বেশি পড়বো। বিশেষত রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতে প্রচুর পরিমাণে পড়তে চেষ্টা করবো।
.
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
.
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
.
[আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নি]
.
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
.
(৪) দু‘আয় মনোনিবেশ করা:
.
এই রাতে দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দু‘আ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। হাদিসে এসেছে, ‘‘দু‘আ হলো ইবাদত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৭৯; হাদিসটি সহিহ]
.
দু‘আর আদব ও নিয়মগুলো অনুসরণ করে দু‘আ করলেই যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’’ [সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০]
.
[ক] ব্যাপক অর্থবোধক দু‘আ বারবার পড়া:
উদাহরণস্বরূপ এই দু‘আটি লক্ষ করুন।
.
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
.
[আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের আফিয়াত (নিরাপত্তা, সুস্থতা) প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ]
.
[খ] জীবিত ও মৃত সকল ঈমানদারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভালো দু‘আ করা:
.
নবি ইবরাহিম (আ.)-এর দু‘আটি দ্বারা সবার জন্য ইস্তিগফার কামনা করা যায়।
.
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
.
‘‘হে আমাদের রর! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিয়েন।’’ [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
.
হাদিসে এসেছে, কেউ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করলে, ফেরেশতারা বলেন, ‘‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক!’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৮২০]
.
[গ] দ্বীনের উপর অটল থাকার দু‘আ করা:
.
উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–
.
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِيْنِكَ
.
[ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলু-ব, সাব্বিত ক্বলবি ‘আলা দি-নিকা]
.
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।
[ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২২; হাদিসটি সহিহ]
.
(৫) সাধ্যানুসারে কিছু দান-সাদাকাহ করা।
.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সাদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হবে।” [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৭৩৩৩; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ৮৭২; হাদিসটি সহিহ]
5 360
আজ রাতেও কদর তালাশ করা উচিত। কারণ, শুধু বিজোড় রাতই নয়, শেষ দশকের কোনো জোড় রাতও হতে পারে লাইলাতুল কদর। আজ ২৪তম রাত। লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ে নিন, তাহলে বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন।
.
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) একটি বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে বলেছেন, যদি রামাদান মাস ৩০ দিনে হয়, তবে শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা (কদর) সন্ধান করো (শেষ দশকের) অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) নবম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) সপ্তম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) পঞ্চম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) তৃতীয় রাতে এবং অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) শেষ রাতে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৯৪; হাদিসটি সহিহ]
.
এ হাদিস থেকে আমরা দেখতে পারি যে, কোনো বছর রামাদান মাস যদি ৩০ দিনের হয়, তাহলে অবশিষ্ট নবম রাতটি হবে রামাদানের ২২তম রাত, অবশিষ্ট সপ্তম রাতটি হবে ২৪তম রাত, অবশিষ্ট পঞ্চম রাতটি হবে ২৬তম রাত এবং অবশিষ্ট তৃতীয় রাতটি হবে ২৮তম রাত। আর এভাবেই বিশিষ্ট সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। (এই গণনা শেষ দিক থেকে করা হয়েছে। হাসান বাসরি (রাহ.) থেকেও এভাবে গণনার পক্ষে দলিল রয়েছে)
.
অন্য দিকে, রামাদান মাস যদি ২৯ দিনের হয়, তাহলে উক্ত হাদিস অনুযায়ী কদরের রাত পড়বে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে। অতএব, ঈমানদারদের উচিত, রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই কদর অনুসন্ধান করা। [মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৫/২৮৪-২৮৫]
.
রামাদান ২৯ দিনে হলে বিজোড় রাতে কদর হবে আর ৩০ দিনে হলে জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকবে।
.
কদর যে জোড় রাতেও হতে পারে, তার একটি প্রমাণ হলো সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্য। তাবি’ঈ ইকরামা (রাহ.) ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘‘তোমরা ২৪তম রাতে (কদর) তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২২]
.
২৪তম রাতের ব্যাপারে হাসান সনদের একটি মারফু হাদিস (সরাসরি নবিজি থেকে বর্ণিত হাদিস) সংকলন করেছেন ইমাম আহমাদ ও তাবারানি (রাহিমাহুমাল্লাহ)।
.
জোড় রাতগুলোর মাঝে সরাসরি কেবল ২৪তম রাতের ব্যাপারেই বর্ণনা পাওয়া যায়।
.
গত শতকের প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস শায়খ ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-ও বলেছেন, জোড়-বিজোড় যেকোনো রাতেই কদর হতে পারে। [শারহুল মুমতি’: ৬/৪৯২]
.
এজন্য আমরা হাদিসে দেখি, নবিজি যদিও শেষ দশকের বিজোড় রাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন, কিন্তু তিনি নিজে শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করতেন; শুধু বিজোড় রাতগুলোতেই ইবাদত করতেন না। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রামাদানের) শেষ দশকে (ইবাদতে) যে পরিমাণ চেষ্টা-সাধনা করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮]
.
তবে, কোনো সন্দেহ নেই যে, কদরের রাত বিজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস এসেছে। তাই, আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতগুলোও অবহেলা করবো না। কারণ জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা রয়েছে।
.
উল্লেখ্য, ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) এবং অন্য আলিমগণ জোড় রাতে হওয়ার পক্ষে যেভাবে শেষ দিক থেকে গণনা করে হাদিসটির অর্থ করেছেন, অধিকাংশ আলিম তেমনটি করেননি। বরং সালাফে সালিহিনের অধিকাংশ আলিম বিজোড় রাতের পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন। কারণ বিজোড় রাতের পক্ষে বর্ণিত হাদিসগুলো খুবই স্পষ্ট শব্দে বর্ণিত।
.
সর্বশেষ কথা হলো: যেহেতু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকের প্রতিটি রাতকেই গুরুত্ব দিতেন, সেহেতু তাঁকেই অনুসরণ করা উচিত। বিজোড় রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, তবে জোড় রাতেও হতে পারে। হাদিস থেকে কোনো কোনো আলিম এমনটিই অর্থ করেছেন। আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতকে একেবারে অবহেলা করবো না। আল্লাহু আলামু বিস সওয়াব।
.
#Tasbeeh
5 360
আজ সন্ধ্যা থেকে ২৩তম রামাদান শুরু হয়েছে। আজ সম্ভাব্য কদরের রাত। আসুন, বেশি বেশি নেক আমলে মশগুল হই।
▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উনাইস (রা.) রামাদানের ২৩তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৫]
.
তিনি বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলি, ‘আমার একটি খামার আছে এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি সেখানেই নামাজ পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে রাতটি সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি এই মসজিদে আসতে পারি।’ তখন তিনি বলেন, ‘‘তুমি রামাদানের ২৩তম রাতে আসবে।’’
.
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহিম (রাহ.) বলেন, ‘আমি (উপরের হাদিসের বর্ণনাকারী) আবদুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, আপনার পিতা (তখন) কী করতেন?’ তিনি বলেন, ‘আমার পিতা রামাদানের (২২ তারিখে) আসরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত কোনো প্রয়োজনে সেখান থেকে বের হতেন না। অতঃপর তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদের পাশে থাকা তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে নিজ খামারে প্রত্যাবর্তন করতেন।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮০; হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
তাহলে বুঝা গেলো, তিনি ২২ তারিখ বিকেলে মসজিদে চলে যেতেন। ২৩তম রাতে সেখানে ইবাদত করে সকালে চলে আসতেন।
.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান করো। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে সে যেন অবশিষ্ট ৭টি রাতে অলসতা না করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫৫]
.
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবিকে স্বপ্ন দেখানো হলো যে, (রামাদানের) শেষ সাত দিনের (রাতের) মধ্যে কদরের রাত নিহিত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি, শেষের ৭ (রাত) সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, যে ব্যক্তি তা (কদরের রাত) অন্বেষণ করবে, সে যেন রামাদানের শেষ ৭টি রাতে তা অন্বেষণ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫১]
.
রামাদান যদি ২৯ দিনে হয়, তাহলে শেষ ৭টি রাতের মধ্যে আজকের রাতটিও আছে।
.
সুতরাং, আজ থেকে বাকি রাতগুলো আমরা যেন কোনোভাবেই অবহেলায় না কাটাই। আজকের রাতসহ শেষ ৭টি রাত অত্যন্ত মূল্যবান। এই ৭ রাতের মধ্যে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই, আজকের রাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
.
#Tasbeeh
5 360
আজ রামাদানের ২১তম রাত চলছে। এটি সম্ভাব্য কদরের রাত। নবিজির সময়ে রামাদানের ২১তম রাতে একবার কদর সংঘটিত হয়েছিলো।
.
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাদানের প্রথম দশকে (১-১০ তারিখ) ইতিকাফ করলেন। এরপর মাঝের দশকেও (১১-২০) একটি তুকি তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেনে এবং তাঁবুর দরজায় একটি চাটাই ঝুলানো ছিলো। তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কর্নারে রাখলেন। এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তাঁর নিকট এগিয়ে এলো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘এ রাত (কদরের রাত) অনুসন্ধানে আমি (রামাদানের) প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক এসে আমাকে বললো, ‘এটি শেষ দশকে নিহিত আছে।’ অতএব তোমাদের (সাহাবিগণের) মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন (শেষ দশকে) ইতিকাফ করে।’’ বর্ণনাকারী বলেন, লোকজন তাঁর সাথে (শেষ দশকে) ইতিকাফ করলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘‘স্বপ্নে আমাকে এটি (কদর) কোনো এক বিজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং আমি যেন সে রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ভোরে সিজদা করছি।’’ বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন, তিনি (নবিজি) ২১তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফজরের নামাজে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো। ফলে ছাদ থেকে মসজিদে পানি বর্ষিত হলো এবং আমি নিজ চোখে কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের নামাজ শেষে যখন বের হয়ে এলেন, তখন তাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কাদামাখানো ছিলো। আর সেটি ছিলো রামাদানের শেষ দশকের ২১তম রাত। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
.
অর্থাৎ, নবিজি যা স্বপ্নে দেখেছেন, ২১তম রাতের দিন হুবহু তাই বাস্তব হয়েছিলো।
.
অনেক মুহাদ্দিস (হাদিসবিশারদ) এই হাদিস থেকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সে বছর কদর হয়েছিলো ২১তম রাতে। মুফতি আমিমুল ইহসান (রাহ.) সংকলিত ও ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহ.) অনূদিত ‘ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার’ গ্রন্থে (১/৪৮০) এই বিষয়টি টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
.
তাছাড়া পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিদের অনেকেই রামাদানের ২১তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি (রাহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’তে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে, প্রতি বছর ২১তম রাতেই কদর হবে, এটি নিশ্চিত নয়। এই রাতটি পরিবর্তিত হতে পারে। এ ব্যাপারে একটি পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
.
আজ রাতে আমরা বেশি বেশি নেক আমল (সলাত, তিলাওয়াত, দান-সাদাকাহ, যিকর, তাসবিহ, তাওবাহ, ইস্তিগফার) করবো, ইনশাআল্লাহ।
.
#Tasbeeh
5 360
.
তাওবাহ-ইস্তিগফারে সর্বোচ্চ মনোনিবেশ করবেন। যেন এই ইতিকাফেই নিজের সকল গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারেন আল্লাহর কাছ থেকে। এই কাজটি করতে পারলে ইতিকাফ স্বার্থক বলা যাবে।
.
আমলের মধ্যে ভেরিয়েশান বা বৈচিত্র রাখবেন। তাহলে কোনো আমলে একঘেয়েমি বা ক্লান্তি আসবে না। সব ধরনের আমলের স্বাদ আস্বাদন করবেন।
.
সকল মুমিন-মুসলিমের জন্য প্রাণখুলে দু‘আ করবেন। বিশেষ করে যারা অন্যায়ভাবে জুলুমের শিকার—মজলুম, অন্যায়ভাবে কারাবন্দী, ঋণগ্রস্ত, বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, বেকার, যাদের বিবাহ হচ্ছে না বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হওয়া মুসলিম, নিজের বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজন এবং মৃত সকল মুসলিমের জন্য।
.
#প্রোডাক্টিভ_ইতিকাফ (শেষ পর্ব)
.
#Nusus
5 360
এবার যারা ইতিকাফে বসতে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও নসিহত
.
নফল নামাজের মধ্যে বিশেষ করে তাহিয়্যাতুল অজু, তাহাজ্জুদ, দোহা (চাশত) এবং যাওয়ালের নামাজ মিস করবেন না। সবগুলোই নফল নামাজ। বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। সাধারণ নফলের মতো পড়বেন ২ রাকাত করে, যাওয়াল বাদে।
.
যখনই অজু করবেন, তাহিয়্যাতুল অজু ২ রাকাত পড়বেন। তাহাজ্জুদ ২ রাকাত করে পড়তে থাকবেন। চাশতের নামাজ ৪ রাকাত থেকে বারো রাকাত পর্যন্ত পড়তে পারেন। ২ রাকাতও পড়তে পারবেন। যাওয়ালের নামাজ ৪ রাকাত। যোহরের ফরজের আগের ৪ রাকাত সুন্নাত যেভাবে পড়া হয়, হুবহু একই পদ্ধতিতে যাওয়ালের নামাজ পড়তে হয়। যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ৩০/৪০ মিনিটের মধ্যেই এটি পড়ে ফেলবেন।
.
কুরআন প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা পড়বেন। সম্ভব হলে অর্থসহ পড়বেন। না হয় শুধু তিলাওয়াত করবেন। তাফসিরসহ পড়তে পারলে সবচেয়ে ভালো হবে। হার্ডকপি না পেলে অ্যাপেও পড়তে পারেন। হাদিস বা ইসলামি বইও পড়তে পারেন।
.
যদি কখনও ইবাদতে ক্লান্তি আসে, তাহলে মোবাইলে তিলাওয়াত বা বয়ান শুনতে পারেন। মিউজিকহীন ইসলামি নাশিদও শুনতে পারেন। তবে, অনলাইনে ঢুকবেন না। বিশেষ করে ফেইসবুক এবং ইউটিউবে। ইতিকাফের স্থানে বসে অন্যদের সাথে দ্বীনি কথাবার্তাও বলতে পারেন। খারাপ লাগলে ঘুমাতে পারেন।
.
দুটো বিষয় জোর দিয়ে মাথায় রাখবেন: কোনো অবস্থাতেই ইতিকাফের নির্ধারিত স্থান (মসজিদ) ছেড়ে একটুও অন্যত্র যাওয়া যাবে না। তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। একমাত্র প্রস্রাব-পায়খানার জন্য বাথরুম বা ওয়াশরুমে যেতে পারেন। শুধু গোসলের উদ্দেশ্যে বা ফ্রেশ হওয়ার জন্য যাওয়ারও সুযোগ নেই। অজু করতে যেতে পারবেন। গোসল যদি করতেই হয় তাহলে, কেবল প্রস্রাব-পায়খানা করে ফেরার সময় ‘‘অজু করতে যে সময়টুকু লাগে’’ এটুকু সময়ে শরীরে পানি ঢেলে দ্রুত ইতিকাফের স্থানে চলে আসতে হবে। সাবান, শ্যাম্পু, ফেইসওয়াশ ইত্যাদি ব্যবহার করে সময় নষ্ট করা যাবে না। তবে, ইতিকাফের স্থানে বসে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর যখন প্রস্রাব-পায়খানা করতে যাবেন, তখন অজু করার সময় হাত-মুখ, মাথা ইত্যাদি ধুয়ে ফেলতে পারেন বা শরীরে কিছু পানি দিয়ে দ্রুত চলে আসতে পারেন। এছাড়া ইতিকাফের স্থানে বসে তেল, লোশন, ক্রিম, চিরুনি ইত্যাদি সব ধরনের বৈধ প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে। কেবল জুমার দিনে গোসলের জন্য আলাদা সময় ব্যয় করে ভালোভাবে গোসল করার সুযোগ আছে।
.
ইতিকাফকারীদের উচিত বেশি পরিমাণে দু‘আ করা। কারণ এমন মর্যাদাপূর্ণ আমলরত অবস্থায় দু‘আ কবুলের ব্যাপারে অধিক আশাবাদী হওয়া যায়। অবশ্যই ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউ-উন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’ দু‘আটি অর্থের দিকে খেয়াল রেখে মনোযোগের সাথে আবেগ দিয়ে প্রতি রাতে বেশি করে পড়বেন। তৃতীয় পর্বে দু‘আটি আরবিসহ দিয়েছি। লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে স্পেশাল আমলই এটি। প্রতি রাতে বেশি বেশি পড়বেন। এছাড়া আরও পড়বেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল ‘আ-ফিয়াহ’
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفوَ وَالْعَافِيَةَ)
.
অর্থ হলো: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাই। এটি সহিহ হাদিসে বর্ণিত সবচেয়ে ব্যাপকার্থক দু‘আ।
.
সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো করবেন। সেজন্য হিসনুল মুসলিম অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। তাহলে যেসব দু‘আ মুখস্থ নেই, সেগুলো আপাতত দেখে পড়তে পারবেন। তবে, মুখস্থ পড়াই ভালো। শিখে নেবেন। আর প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরের এবং ঘুমের আগে-পরের আমলগুলোও মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করবেন। প্রতি রাতে সুরা মুলক পড়বেন। জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বেন। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তিন কুল ১ বার করে পড়বেন আর সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমের আগে ৩ বার করে পড়বেন এবং আয়াতুল কুরসি ১ বার করে পড়বেন। রাতে সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াতের আমল মিস করবেন না।
.
প্রতিটি রাতে অধিক ফজিলতের আমলগুলো বেশি করে করবেন। কারণ জোড়-বিজোড় যেকোনো রাতেই কদর হতে পারে। যদিও জোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এ বিষয়ে আমরা একটি পর্বে দলিলসহ আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ। তাই, প্রতি রাতেই বেশি বেশি সুরা ইখলাস পড়বেন। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা হাউলা ওয়া লা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম—একেকটি কয়েকশো বার করে পড়বেন। দরুদ এবং ইস্তিগফার পড়বেন প্রচুর পরিমাণে। নামাজে পড়ার দরুদ (দরুদে ইবরাহিম) এবং সায়্যিদুল ইস্তিগফারকে প্রাধান্য দেবেন। তবে, অন্যগুলোও করতে সমস্যা নেই।
.
মনের যত রোগ: হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, রিয়া (লৌকিকতা), লোভ-লালসা, কৃপণতা, সংকীর্ণতা, কুধারণা ইত্যাদি বিষয়গুলো থেকে মুক্ত থাকার এক উত্তম প্রশিক্ষণ হতে পারে ইতিকাফে।
.
একটি নোটখাতা বা ডায়েরি রাখতে পারেন। ইতিকাফ অবস্থায় মনে আসা ভালো ভালো চিন্তা ও অনুভূতিগুলো টুকে রাখবেন। সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে। তবে, বেশি সময় ব্যয় করবেন না বা সাহিত্যচর্চা করতে যাবেন না। চাইলে মোবাইলে নোটপ্যাডেও টুকে রাখতে পারেন।
5 360
.
ইতিকাফকারী ব্যক্তি অবশ্যই আগে জেনে নেবেন, মসজিদের সীমানা কতটুকু। মসজিদের মালিকানায় থাকা জায়গা না, শুধু মসজিদ কতটুকু, সেটি আগে জেনে নেবেন। কারণ প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদের সীমানার বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। অনেক আলিমের মতে, মসজিদের যে অংশে নামাজ হয় না, সেখানে অবস্থান করাও জায়েয নেই। এটিই নিরাপদ অবস্থা।
.
(৯) ইতিকাফের স্থানে অল্প-স্বল্প বৈধ কথা-বার্তা বলা জায়েয আছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যাহ (রা.)-এর সাথে কথা-বার্তা বলেছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০৩৫ ও ২০৩৮]
.
(১০) মসজিদে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে খাবার আনার জন্য বাসায় যাওয়া যাবে। এ কারণে ইতিকাফ ভাঙবে না। তবে খাবার আনার জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য কোনো কাজে বিলম্ব করা যাবে না। অন্য কাজে অল্প সময় ব্যয় করলেও ইতিকাফ ভেঙে যাবে। অবশ্য কোনো কারণে খাবার প্রস্তুত হতে লেইট হলে, সেজন্য অপেক্ষা করতে পারবেন। [আল বাহরুর রায়িক: ২/৩০৩; আল মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৮০]
.
#প্রোডাক্টিভ_ইতিকাফ (পঞ্চম পর্ব)
.
#Nusus
5 360
ইতিকাফ অত্যন্ত দামি আমল, তাই এর নিয়ম কঠিন। এজন্য ইতিকাফে বসার আগেই এর বিভিন্ন মাসয়ালা এবং আহকাম জানা জরুরি। নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
▬▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬▬
(১) রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা পুরুষের জন্য সুন্নাতে কিফায়াহ। ইতিকাফকারী ব্যক্তি ইতিকাফের স্থানে ২০ রামাদান সূর্যাস্তের আগেই চলে যাবেন। এরপর ঈদের চাঁদ দেখা গেলে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন। আরও উত্তম হলো, ঈদের রাতটিও কাটিয়ে সকালে মসজিদ থেকে আসা। তবে, এটি জরুরি নয়।
.
(২) মসজিদে এটাচড বাথরুম/টয়লেট থাকলে এবং অজুর ব্যবস্থা থাকলে এটিতেই প্রয়োজন পূর্ণ করতে হবে। প্রস্রাব-পায়খানা বা অজুর জন্য দূরে যাওয়া যাবে না। [হিদায়াহ: ১/২৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১]
.
আর যদি এটাচড বাথরুম না থাকে, তবে বাইরে যাওয়া যাবে। তবে, চলার পথে থামা যাবে না এবং সময় ব্যয় করা যাবে না। দ্রুত চলে আসতে হবে মসজিদে। আসা-যাওয়ায় হাঁটার মধ্যে কারও সাথে জরুরি কথা বলা যাবে।
.
(৩) ইতিকাফ অবস্থায় রাতেও সহবাস করা যাবে না। করলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক চুম্বন, আলিঙ্গন ও উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করা ইতিকাফ অবস্থায় বৈধ নয়। যদি এসবের কারণে বীর্যপাত ঘটে, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭; বাদায়িউস সানায়ে: ২/২৮৫-এর আলোকে—আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১৩]
.
(৪) গোসলের উদ্দেশ্যে ওয়াশরুমে/বাথরুমে গিয়ে গোসল করতে পারবেন না, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে গোসল কোনো আবশ্যকীয় কাজ নয়, বরং আরামের জন্য গোসল করা হয়। তবে, গোসল না করলে শরীরে অস্থিরতা লাগলে প্রস্রাব-পায়খানা করে ফিরে আসার সময় অজু করতে যে সময়টুকু লাগে এটুকু সময় পানি শরীরে দিয়ে দ্রুত ইতিকাফের স্থানে চলে আসা যাবে। কাপড়-চোপড় ধোয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা যাবে না। মোটকথা, শুধু গোসলের উদ্দেশ্য নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গোসল করা যাবে না। গোসলে কোনো সাবান, শ্যাম্পু, ফেইসওয়াশ ইত্যাদি ব্যবহার করে আলাদা সময় ব্যয় করা যাবে না। এগুলো ব্যবহার করা জরুরি মনে হলে ইতিকাফের নির্দিষ্ট স্থানে বসেও করা যাবে। মোটকথা, গোসল একটি দুনিয়াবি কাজ। নামাজ বা ইতিকাফের জন্য গোসল শর্ত নয়, শুধু অজুই যথেষ্ট। সেজন্য গোসলে আলাদা সময় ব্যয়ের সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ অজু করতে যে সময়টুকু লাগে, এটুকু সময়ে দ্রুত শরীরে পানি ঢেলে চলে আসতে পারবেন। তবে, এই কাজটিও করতে হবে বাথরুম বা ওয়াশরুমের জরুরত শেষ করে ফিরে আসার সময়।
.
জুমার দিনে গোসল করা সুন্নাহ। এ দিন ইতিকাফকারী ব্যক্তি চাইলে স্বাভাবিকভাবে গোসল করতে পারবেন। এ ব্যাপারে ছাড় আছে।
.
[রাদ্দুল মুহতার: ২/৪৪০; ২/৪৪৫; আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫১৫; মাসিক আলকাউসার]
.
(৫) পূর্ণ দশ দিনের সুন্নাত ইতিকাফ পালন করা অনেকের জন্যই অসম্ভব। এক্ষেত্রে কেউ চাইলে নফল ইতিকাফ করতে পারেন। লাইলাতুল কদর তালাশে শুধু রাতের বেলাতেও নফল ইতিকাফ করা যাবে। কিংবা কয়েক ঘণ্টার জন্যও নফল ইতিকাফ করা যাবে। নিয়ম-কানুন একই।
.
(৬) রামাদানের শেষ ১০ দিনের সুন্নাত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। রোজা না থাকলে ইতিকাফ হবে না। তবে, নফল ইতিকাফের জন্য এমন শর্ত নেই। [সুনান বাইহাকি: ৪/৩১৭; বাদায়িউস সানায়ে: ২/২৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১]
.
মানতের ইতিকাফ রোজাসহ পূর্ণ করা ওয়াজিব।
.
(৭) উলামায়ে আহনাফের মতে, কোনো কারণে ইতিকাফ ভেঙে গেলে, পরে কমপক্ষে একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। সেটি রামাদানেই হতে হবে, এমনটি জরুরি নয়; তবে রামাদানে হলে সেটিই ভালো। এই এক দিন কাজা করার নিয়ম হলো, একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে। সাহরি খেয়ে দিনে রোজা থাকতে হবে, এরপর সূর্যাস্ত হয়ে গেলে ইতিকাফ শেষ হবে। এভাবে একদিন রোজাসহ ইতিকাফ করলেই কাজা আদায় হয়ে যাবে। সব দিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে না। তবে, অবশিষ্ট দিনগুলোও কাজা করতে পারলে, সেটিই উত্তম। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৭; আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫০২]
.
(৮) ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানা বা অজুর জন্য মসজিদের বাইরে গেলে আসা যাওয়ার পথে, চলতে-চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। এসময় পথ চলতে-চলতে কারো সাথে প্রয়োজনে অল্প-স্বল্প কথাও বলতে পারবে। এতে ইতিকাফের ক্ষতি হবে না। তবে, কারো সাথে কথা বলা বা কুশলাদি জিজ্ঞাসার জন্য মসজিদের বাইরে অল্প সময়ও দাঁড়ানো জায়েয হবে না। তেমনি, মাসজিদের বাইরে গিয়ে কোনো জানাজার নামাজেও শরিক হওয়া যাবে না। আয়িশা (রা.) বলেন, ইতিকাফকারীর সুন্নাত হলো: কোনো রোগী দেখতে যাবে না, জানাজায় অংশ নেবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না, তার সাথে মেলামেশা করবে না, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবে না। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৪৭৩; বর্ণনাটি হাসান সহিহ]
5 360
.
জুমার দিনে গোসল করা সুন্নাহ। এ দিন ইতিকাফকারী নারী চাইলে স্বাভাবিকভাবে গোসল করতে পারবেন। এ ব্যাপারে ছাড় আছে।
.
[রাদ্দুল মুহতার: ২/৪৪০; ২/৪৪৫; আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫১৫]
.
(৭) রামাদানে অধিকাংশ নারী ব্যস্ত সময় কাটান, আবার পিরিয়ডও (হায়েজ) থাকে। তাই, অনেকের পক্ষে টানা দশ দিনের সুন্নাত ইতিকাফ করা কঠিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তারা নফল ইতিকাফ করতে পারেন, যে কয়দিন সম্ভব হয়। লাইলাতুল কদর তালাশে শুধু রাতের বেলাতেও নফল ইতিকাফ করা যাবে। নিয়ম-কানুন একই।
.
(৮) হায়েজ অবস্থায় ইতিকাফ করা বৈধ নয়। কেননা এ অবস্থায় রোজা রাখা যায় না। আর, সুন্নাত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। ইতিকাফ অবস্থায় হায়েজ শুরু হয়ে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। [সুনান বাইহাকি: ৪/৩১৭; বাদায়িউস সানায়ে: ২/২৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১]
.
হায়েজ ব্যতীত ইস্তিহাজার সমস্যা থাকলে ইতিকাফ করা যাবে। ইস্তিহাজা হলো, নারীরা মাঝেমধ্যে হায়েজের মতো বিভিন্ন রক্ত বা এ জাতীয় জিনিস দেখতে পান। এগুলো আবার হায়েজের রক্তের মতো না। মোটকথা, এটা ইরেগুলার একটি বিষয়। এটি একধরনের রোগ। এই অবস্থায় ইতিকাফ করতে সমস্যা নেই। কারণ তখন নামাজ বা রোজা দুটোই ফরজ। সহিহ বুখারিতে এসেছে, নবিজির একজন স্ত্রী ইস্তিহাজা অবস্থায় ইতিকাফ করেছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০৩৭]
.
ঔষধের মাধ্যমে হায়েজ বন্ধ রেখে রোজা বা ইতিকাফ পালন করা জায়েয। তবে, শারীরিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে এমনটি করা যাবে না। তাই, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উত্তম।
.
(৯) বিশেষ প্রয়োজনে ইতিকাফের স্থান ছেড়ে বাইরে গেলে কারো সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবে না, তবে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা যাবে। হাঁটতে হাঁটতে মানে নিজের প্রয়োজন পূরণে চলতে-ফিরতে, নিজ প্রয়োজন পূরণ করতে করতে। আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় (প্রয়োজনে বাইরে গেলে) যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে অতিক্রম করতেন, তখন হাঁটা অবস্থাতেই ঐ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়ে নিতেন। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৪৭২; সনদে একজন দুর্বল বর্ণনাকারী আছেন]
.
আর, ঘরে ইতিকাফ করলে, বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না। তবে, প্রাকৃতিক প্রয়োজন এবং অজু করতে যাওয়ার সময়ে কারও সাথে কথা বললে, এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোনোভাবেই ইতিকাফের নির্ধারিত স্থানের বাইরে আলাদা সময় ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বা আলাপ-সালাপে মত্ত হওয়া যাবে না।
.
(১০) ইতিকাফের স্থানে বা রুমে অল্প-স্বল্প বৈধ কথা-বার্তা বলা জায়েয আছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী সাফিয়্যাহ (রা.)-এর সাথে ইতিকাফ অবস্থায় কথা-বার্তা বলেছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০৩৫ ও ২০৩৮]
.
(১১) খাবার পাকানোর জন্য নারী পাকঘরে যেতে পারবেন না। তবে, প্রয়োজন হলে তিনি ইতিকাফের নির্ধারিত স্থানে খাবার রান্না বা রান্নার অন্যান্য কাজ করতে পারবেন। অন্যরা এক্ষেত্রে তাঁকে সাহায্য করবেন। তবে, খাবার পাকানোর কেউ থাকলে এই কাজ নিজে না করাই উত্তম। [ফাতাওয়া মাহমুদিয়্যাহ: ১০/২৫১]
.
#প্রোডাক্টিভ_ইতিকাফ (চতুর্থ পর্ব)
.
#Nusus
5 360
নারীদের ইতিকাফের নিয়মাবলী এবং নারীদের ইতিকাফের স্থান (মসজিদ না কি নিজ ঘর)
▬▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬▬
❑ নারীদের ইতিকাফের স্থান:
.
(ক) নবিজির সময়ে তাঁর স্ত্রীগণ মসজিদে ইতিকাফ করতেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০৩৩; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৪]
.
সে সময় নারী সাহাবিগণ মসজিদের বাইরে, নিজ বাড়িতে ইতিকাফ করেছেন মর্মে কোনো বিশুদ্ধ প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই, অধিকাংশ ইমামের মতে, নারী অথবা পুরুষ প্রত্যেকের জন্যই মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক। ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম আহমাদ এই মত দিয়েছেন।
.
(খ) হানাফি আলিমগণের মতে, নারীদের মসজিদের চেয়ে ঘরে ইতিকাফ করা উত্তম। তবে, মসজিদে নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো থাকলে মসজিদে ইতিকাফ করতে পারবেন। তাঁরা বাড়িতে ইতিকাফ করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, নারীদের মসজিদে নামাজ আদায়ের চেয়ে ঘরে নামাজ আদায় করা ভালো। এর সাথে কিয়াস (তুলনা) করে তাঁরা এই মত দিয়েছেন।
.
নারীরা তাদের ইতিকাফের জন্য সর্বোচ্চ একটি রুম বাছাই করতে পারবেন নিজ বাসায়। সেই রুমে তিনি স্বাধীন। অথবা এক রুমের মধ্যে পর্দা টানিয়ে আলাদা স্থানও করে নিতে পারেন। তো, সাধারণভাবে তিনি এই রুমটির বাইরে একদমই যেতে পারবেন না। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ (যেমন: প্রস্রাব-পায়খানা) ছাড়া এই রুমটির বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
.
❑ নারীদের ইতিকাফ-সংক্রান্ত বিধানসমূহ:
হানাফি আলিমগণ কুরআন-সুন্নাহর দলিল ও সালাফে সালিহিনের আমলের আলোকে নিচের মাসয়ালাগুলো লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
.
(১) নারীদের জন্য ইতিকাফ করা সুন্নাত, তবে জরুরি নয়। রাসুলের স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন। এমনকি তাঁর ইন্তিকালের পরও। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৪]
.
নারীরা মসজিদে বা নিজ বাসায় তার ইতিকাফের স্থানে ২০ রামাদান মাগরিবের আগেই প্রবেশ করবেন। এরপর ঈদের চাঁদ দেখা গেলে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন। এটা হলো রামাদানের শেষ দশকের সুন্নাত ইতিকাফের নিয়ম।
.
(২) নারীদের ইতিকাফের জায়গায় বা রুমে অন্যরা আসলে ক্ষতি নেই। তবে, ইতিকাফের স্বার্থে নিরবতা উত্তম। প্রস্রাব-পায়খানা ও অজু ব্যতীত অন্য প্রয়োজনে সেই স্থান থেকে আর বের হওয়া যাবে না। এটাচড বাথরুম/ওয়াশরুম/টয়লেট থাকলে এটিতেই প্রয়োজন পূর্ণ করতে হবে। দূরে যাওয়া যাবে না। বাথরুম/ওয়াশরুম দূরে থাকলে, প্রয়োজনবোধে সেখানেও যাওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজন সেরে আর সময় ব্যয় না করে দ্রুত ইতিকাফের স্থানে চলে আসতে হবে। [হিদায়াহ: ১/২৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১]
.
(৩) স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ইতিকাফ করা যাবে না। তবে, স্বামীর উচিত, যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীর ইতিকাফে বাধা না দিয়ে বরং সুযোগ করে দেওয়া। এতে উভয়েই সওয়াব পাবেন। স্বামী একবার অনুমতি দিলে পরে আর না করতে পারবেন না। এই ‘না’ মানাও স্ত্রীর জন্য জরুরি নয়। [রাদ্দুল মুহতার: ২/৪৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১]
.
(৪) যে নারীর স্বামী বৃদ্ধ বা অসুস্থ কিংবা তার ছোটো ছেলে-মেয়ে রয়েছে এবং তাদের দেখাশুনা করার কেউ নেই, সে নারীর জন্য ইতিকাফ করার চেয়ে তাদের সেবাযত্ন করা উত্তম। তবে, কেউ যদি দুটোর মাঝে সমন্বয় করতে চান, তাহলেও সমস্যা নেই। ইতিকাফরত নারী তার ইতিকাফের রুমের মধ্যে বাসার অতি জরুরি কোনো কাজ করতে পারবেন, যেটি না করলেই নয়। যেমন: কোনো বৃদ্ধ মানুষকে ঔষধ খাওয়ানো, বাচ্চাকে খাওয়ানো ইত্যাদি। তবে, এসব কাজ অন্যকে দিয়ে করানো গেলে নিজে করবেন না।
.
(৫) ইতিকাফ অবস্থায় রাতেও সহবাস করা যাবে না। করলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক চুম্বন, আলিঙ্গন ও উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করাও নাজায়েয। যদি এসবের কারণে বীর্যপাত ঘটে, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭-এর আলোকে—বাদায়িউস সানায়ে: ২/২৮৫; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১৩]
.
(৬) নারীরা গোসলের উদ্দেশ্যে ওয়াশরুমে/বাথরুমে গিয়ে গোসল করতে পারবেন না, তাহলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। কারণ শরিয়তে গোসল কোনো আবশ্যকীয় কাজ নয়, বরং আরামের জন্য গোসল করা হয়। তবে, গোসল না করলে শরীরে অস্থিরতা লাগলে প্রস্রাব-পায়খানা করে ফিরে আসার সময় অজু করতে যে সময়টুকু লাগে এটুকু সময় পানি শরীরে দিয়ে দ্রুত ইতিকাফের স্থানে চলে আসা যাবে। কাপড়-চোপড় রেখে আসবেন। অন্য কেউ সেগুলো ওখানে ধৌত করবেন অথবা অন্য কোনো সময় প্রস্রাব-পায়খানার উদ্দেশ্যে বাথরুমে গেলে দ্রুততার সাথে কাপড় ধুয়ে নিয়ে আসবেন। মোটকথা, শুধু গোসলের উদ্দেশ্য নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গোসল করা যাবে না। গোসলে কোনো সাবান, শ্যাম্পু, ফেইসওয়াশ ইত্যাদি ব্যবহার করে আলাদা সময় ব্যয় করা যাবে না। এগুলো করা জরুরি হলে ইতিকাফের নির্দিষ্ট স্থানে বা রুমে বসেও করা যাবে। মোটকথা, গোসল একটি দুনিয়াবি কাজ। নামাজ বা ইতিকাফের জন্য গোসল শর্ত নয়, শুধু অজুই যথেষ্ট। সেজন্য গোসলে আলাদা সময় ব্যয়ের সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ অজু করতে যে সময়টুকু লাগে, এটুকু সময়ে দ্রুত শরীরে পানি ঢেলে চলে আসতে পারবেন। তবে, এই কাজটিও করতে হবে বাথরুম বা ওয়াশরুমের জরুরত থেকে ফিরে আসার সময়।
5 360
ইতিকাফে বসে কী কী আমল করবেন?
.
(১) অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের বেশি ইস্তিগফার পড়তেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৭]
.
সায়্যিদুল ইস্তিগফার পড়বেন সাধ্যমত। এছাড়া, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি, আল্লাহুম্মাগফিরলি, রাব্বিগফিরলি ইত্যাদি সহজ ইস্তিগফারগুলো বেশি বেশি পড়বেন। অন্যান্য ইস্তিগফারও পড়বেন, যেগুলো জানা আছে।
.
(৩) অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা:
হাদিসে এসেছে, “তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ, কুরআন কিয়ামতের দিন তার সাথীর (পাঠকের) জন্য সুপারিশকারী হবে।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৭৫৯]
.
সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—এই ৩টি সুরা প্রত্যেক নামাজের পর ১ বার করে পড়বেন। ঘুমানোর আগে এবং সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার করে পড়বেন। বিশেষ করে, রাতে সুরা মুলক এবং সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়বেন। জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়বেন।
.
হাদিস এবং ধর্মীয় বইও পড়া যেতে পারে।
.
(৪) বেশি বেশি যিকর করা:
একদিন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সামনে বললেন, ‘‘মুফাররাদগণ (একাকী মানুষেরা) এগিয়ে গেলো।’’ সাহাবিগণ প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মুফাররাদ কারা?’ তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর বেশি বেশি যিকরকারী নারী-পুরুষেরা।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭০১]
.
সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার—এগুলো প্রত্যেকটি প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ বার করে পড়বেন। যত বেশি পারবেন, তত ভালো। এছাড়া ‘লা হাউলা ওয়ালা ক্বুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম’ এবং ‘সুবহানাল্লাহিল আযিমি ওয়া বিহামদিহ’ এই তাসবিহগুলো বেশি বেশি পড়বেন।
.
(৫) নবিজির উপর দরুদ পাঠ করা:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, তার ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি (মর্যাদার) স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ]
.
নামাজের শেষ বৈঠকে আমরা যে দরুদ পড়ি, সেটিই সর্বোত্তম। এছাড়াও অন্যান্য দরুদ পড়তে পারেন। সুনানে নাসায়ির সহিহ হাদিসে বর্ণিত একটি সহজ দরুদ হলো, ‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি আ-লা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ’’।
.
(৬) সাধ্যানুসারে নফল নামাজ পড়া:
একজন সাহাবি জান্নাতে নবিজির সান্নিধ্য লাভের জন্য তীব্র বাসনা ব্যক্ত করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, ‘‘তাহলে বেশি বেশি সিজদার মাধ্যমে (অর্থাৎ নামাজের মাধ্যমে) তুমি নিজের জন্যই আমাকে সাহায্য করো।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৮১]
.
ইতিকাফকারী গুরুত্বের সাথে তাহাজ্জুদ, চাশত (দোহা), যাওয়াল, তাহিয়্যাতুল অজু, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজ আদায় করবেন। ইতিকাফের দিনগুলোতে এগুলোতে অভ্যস্ত হওয়া ব্যক্তির জন্য কঠিন নয়।
.
(৭) আন্তরিকভাবে দু‘আ করা:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আর চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কিছু নেই।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৭০; হাদিসটি হাসান]
.
বিশেষ করে, শেষ রাতে এবং জুমার দিন আসরের পর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দু‘আ করবেন।
.
(৮) বিশেষ দুটো দু‘আ বেশি বেশি পড়া:
.
ইবরাহিম (আ.)-এর দু‘আটি পড়তে পারেন—
.
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏُ
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল ঈমানদারকে আপনি সেদিন ক্ষমা করে দিয়েন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে। [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
.
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোনটি কদরের রাত, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
.
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
.
[আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘অ্ফু ‘আন্নি]
.
অর্থ: হে আল্লাহ্! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
.
#প্রোডাক্টিভ_ইতিকাফ (তৃতীয় পর্ব)
.
#Nusus
5 360
ইতিকাফের গুরুত্ব এবং অপরিসীম উপকারিতা:
▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
❑ ইতিকাফের গুরুত্ব ও উপকারিতা:
.
(১) আয়িশা (রা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত্যু দেওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর (ইন্তিকালের) পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৪]
.
(২) রামাদানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ আদায় করলে লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য নসিব হয়। নবিজি এই উদ্দেশ্যেই ইতিকাফ করতেন।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি (রমাদানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করে এ মহান রাতটি খুঁজলাম, এরপর দ্বিতীয় ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। অতঃপর আমার কাছে (ফেরেশতা) আসলেন। আমাকে বলা হলো, এ রাতটি শেষ দশকে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
.
(৩) ইতিকাফের (দশ দিন দশ রাত) পুরো সময়টাই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
.
ইবনু আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘সে পাপ থেকে বেঁচে থাকে এবং তার নেকির প্রতিদানের মধ্যে সর্বপ্রকার নেকি সম্পাদনকারীর ন্যায় নেকি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৮১: হাদিসটির সনদ দুর্বল]
.
(৪) ইতিকাফকারী বান্দাকে আল্লাহ জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করবেন।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন পরিখা পরিমাণ দূরত্ব তৈরি করে দেবেন। প্রত্যেক পরিখার দূরত্ব দুই দিগন্তের চেয়েও বেশি।’’ [ইমাম বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ৩৯৬৫; হাদিসটির সনদ কারও মতে হাসান, কারও মতে দুর্বল]
.
(৫) আল্লাহর সান্নিধ্যে জীবনের পরিবর্তন:
.
মাসজিদের পরিবেশে, একান্ত নিভৃতে ১০ দিনের এই সময়টা বান্দাকে ধৈর্যশীল, সহনশীল ও আল্লাহমুখী করে তোলে।
.
ইমাম ইবনুল জাওযি (রাহ.) বলেন, ‘দেখলাম কিছু লোক খুব নামাজ পড়ে, তিলাওয়াত করে ও রোজা রাখে; কিন্তু তাদের হৃদয় যেন ছুটন্ত ঘোড়া। আবার, কিছু লোক নামাজ পড়ে সামান্য, রোজাও রাখে পরিমিত, কিন্তু তাদের অন্তর অত্যন্ত নিবিড়, একান্ত এবং শান্ত ও স্থির। আমি বুঝলাম, আল্লাহকে পেতে হলে বেশি ইবাদত নয়, বরং অধিক নির্জনতার প্রয়োজন।’ [ইমাম ইবনুল জাউযি, সইদুল খাতির, পৃষ্ঠা: ৩৫৫]
.
#প্রোডাক্টিভ_ইতিকাফ (দ্বিতীয় পর্ব)
.
#Nusus
5 360
(৭) ইতিকাফে নেক আমল করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনা খুব ভালো। কারণ কোনো একটি আমলে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলে কখনও কখনও বিরক্তি ও ক্লান্তি আসতে পারে। তাই, পালাক্রমে নফল নামাজ (অন্তত তাহাজ্জুদ, চাশত/দোহা, যাওয়াল), কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-যিকর, দরুদ, ইস্তিগফার এবং দু‘আ এই সবগুলো আমলের স্বাদ নেওয়া উচিত। তাহলে প্রোডাক্টিভিটির সাথে ক্লান্তিহীন সময় কাটবে, ইনশাআল্লাহ।
.
#প্রোডাক্টিভ_ইতিকাফ (প্রথম পর্ব)
.
#Nusus
5 360
ইতিকাফ এমন এক মহান ইবাদত, যেটিকে নবিজি শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও গুরুত্ব দিয়ে পালন করতেন। এই পোস্টে আমরা ইতিকাফের মৌলিক কিছু বিষয় এবং ইতিকাফ সুন্দর করতে করণীয়গুলো আলোচনা করেছি।
.
❑ ইতিকাফের পরিচয়:
.
আরবি ইতিকাফ শব্দের অর্থ হলো: নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতা, একাকী অবস্থান করা ইত্যাদি। পরিভাষায় ইতিকাফ হলো, দুনিয়াবি সকল কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করা।
.
❑ ইতিকাফের বিধান এবং শুরু ও শেষ:
.
আলিমগণের সর্বসম্মত (ইজমা) মতানুসারে, রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নাহ, এটি ওয়াজিব (আবশ্যক) নয়। [ইমাম নববি, আল-মাজমু’: ৬/৪০৪; ইমাম ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনি: ৪/৪৫৬]
.
হানাফি ইমামগণের মতে, এটি সুন্নাহ তবে, তাকিদপূর্ণ সুন্নাহ কিফায়া। অর্থাৎ, এক মহল্লার মধ্যে কমপক্ষে একজন ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। না হয় সবাইকে গুনাহগার হতে হবে।
.
রামাদানের ইতিকাফ ১০ দিনই করতে হয়। ২০ রামাদানের সূর্যাস্তের পূর্বেই মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। কারণ সূর্যাস্ত থেকে ২১তম রামাদান শুরু হয়ে যায়। আপনারা জানেন, আরবি দিবস বা তারিখ শুরু হয় সূর্যাস্ত থেকে, এরপর শেষ হয় পরের দিন সূর্যাস্তের আগে। অর্থাৎ, আগে দিন পরে রাত। সহজে বললে, রামাদানের ২০ তারিখে ইফতার বা মাগরিবের ওয়াক্ত (সূর্যাস্ত) শুরু হওয়ার আগেই ইতিকাফের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে। সূর্যাস্ত থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইতিকাফ শুরু হয়ে যাবে। আর সেটি চলবে ঈদের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত (১০ দিন)। রাতে যখন শাওয়াল মাসের (ঈদের) চাঁদ দেখা যাবে, তখনই চাইলে ইতিকাফ শেষ করে ফেলা যাবে। তবে, কেউ চাইলে ঈদের রাতটা মসজিদেই কাটিয়ে আসতে পারে। এটি ভালো। আলিমগণ এমনটিই বলেছেন।
.
আর, যারা নফল ইতিকাফ করতে চান, তাদের জন্য বিষয়টি খুব সহজ। তারা এক দিন, এক রাত, বা কয়েক দিন কিংবা কয়েক রাত অথবা কয়েক মুহূর্তের জন্যও ইতিকাফ করতে পারেন। কেউ চাইলে শুধু রামাদানের বিজোড় রাতগুলোতেও নফল ইতিকাফ করতে পারবেন। নফল ইতিকাফ রামাদানের বাইরেও করা যায়। যারা রামাদানে ১০ দিনের সুন্নাত ইতিকাফ করতে পারবেন না, তারা অন্তত নফল ইতিকাফ করতে পারেন। এ ব্যাপারে নারী-পুরুষ সবার জন্য একই কথা।
.
❑ ইতিকাফের সূচনা:
.
ইতিকাফের সূচনা হয়েছিলো বহু আগে থেকে। যেমন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম: তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদা আদায়কারীদের জন্য পরিচ্ছন্ন করো।’’ [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১২৫]
.
❑ ইতিকাফের উদ্দেশ্য:
.
ইতিকাফের উদ্দেশ্য হলো, সৃষ্টির সাথে যাবতীয় সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে একান্ত নিভৃতে আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন থাকা, যাতে মানবমনের যাবতীয় চিন্তা জুড়ে কেবল আল্লাহর যিকর, তাঁর ভালোবাসা এবং আকর্ষণই প্রাবল্য লাভ করে। [ইমাম ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ: ২/৮৭]
.
সেজন্য উত্তম হলো, এমন মাসজিদে ইতিকাফ করা, যেখানে মানুষ চিনবে না। ফলে কেউ তার সাথে কথা বলতে আসবে না। সে নিরবে আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকতে পারবে।
.
এছাড়া, ইতিকাফের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, লাইলাতুল কদর তালাশ করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি (রমাদানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করে এ রাতটি খুঁজলাম, এরপর মাঝের ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। অতঃপর আমার কাছে (ফেরেশতা) আসলেন। আমাকে বলা হলো, এ রাতটি শেষ দশকে রয়েছে। সুতরাং, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
.
তাছাড়া, ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো: নিজের কামনা-বাসনার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রবৃত্তিদমন ও অহেতুক কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা। ইতিকাফ এ বিষয়ে নজিরবিহীন সমাধানের পথ, ইনশাআল্লাহ।
.
❑ ইতিকাফ সুন্দর করতে করণীয়:
.
(১) মোবাইল ও অনলাইন থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ইতিকাফ অবস্থায় অনলাইনে আসা একদম অনুচিত। কারণ মাসজিদের পরিবেশ ইবাদতময় আর অনলাইনের পরিবেশ গুনাহময়।
(২) আড্ডায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। অধিকাংশ ইতিকাফকারী এই কাজটা করেন। কেউ আড্ডা দিতে আসলে তাকে সঙ্গ দেওয়া যাবে না।
(৩) অধিক পরিমাণে পানাহার থেকে বিরত থাকা উচিত। তাহলে ইবাদতে উৎসাহ পাওয়া যাবে।
(৪) প্রয়োজনের বেশি ঘুমানো উচিত নয়। ঘুমের জন্য সারা বছর পড়ে আছে। অন্তত এই মূল্যবান দিনগুলো আমলের মধ্যে কাটুক।
(৫) প্রস্রাব-পায়খানা ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সেকেন্ডের জন্যও মসজিদের বাইরে যাওয়া যাবে না; ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। খুব সাবধান!
(৬) ইতিকাফের মাসয়ালাগুলো আগেই ভালো করে জেনে নিতে হবে। না হয় কোনো ভুলের কারণে এই কষ্টের ইবাদত বিফলে যেতে পারে। (ইতিকাফের মাসয়ালা নিয়ে শীঘ্রই আলাদা পোস্ট দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ)
5 360
যাদের আপনজন কবরবাসী হয়ে আছে, তাদের উচিত ইফতারের আগে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দুআ করা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ প্রতি ইফতারে অনেককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এটি প্রতি রাতেই হয়ে থাকে।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২১৬৯৮; ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৬৪৩; হাদিসটি হাসান সহিহ]
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ, রোজাদারের ইফতারের সময়কালীন দুআ এবং মজলুমের দুআ। আল্লাহ তাআলা এটি (দু‘আ) মেঘমালার উপর তুলে নেন, তার জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে যায় এবং মহান রব বলেন—
وَعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ
আমার সম্মানের শপথ! কিছু দেরিতে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করবো।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৫২৬; হাদিসটি সহিহ]
শুধু ইফতারের সময়েই নয়, রোজা থাকা অবস্থায় যেকোনো সময়ে দুআ করলেও কবুল করা হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
ثلاثةٌ لا تُردُّ دعوتُهم الصَّائمُ حتَّى يُفطرَ
‘‘তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—রোজাদারের দুআ, যতক্ষণ না সে ইফতার করে...।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৮০৩০; হাদিসটি সহিহ]
তাই, আসুন, বিশেষভাবে আমাদের কবরবাসী মৃত আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের সদস্য ও আপনজনদের জন্য দুআ করি। তারা ভীষণভাবে আমাদের দুআর মুখাপেক্ষী। আমাদের দুআ তাদের জন্য মহা-আনন্দের উপলক্ষ।
#Nusus
5 360
রোজা না রাখা অথবা রেখে ভেঙে ফেলার শাস্তি!
আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দুজন লোক এসে আমার বাহু ধরে আমাকে নিয়ে দুর্গম এক পাহাড়ে গেলো। তারা আমাকে বললো, ‘‘(পাহাড়ে) উঠুন।’’ আমি বললাম, ‘‘আমার দ্বারা ওঠা সম্ভব নয়।’’ তারা বললো, ‘‘আমরা আপনাকে (ওঠা) সহজ করে দিচ্ছি।’’ তখন আমি ওঠলাম। যখন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছলাম, তখন বিকট আওয়াজের সম্মুখীন হলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘এগুলো কিসের আওয়াজ?’’ তারা বললো, ‘‘এগুলো জাহান্নামিদের আর্ত*নাদ।’’ অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলো। আমি এমন লোকদের সম্মুখীন হলাম, যাদেরকে হাঁটুতে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের চোয়াল ক্ষ*ত-বিক্ষ*ত। সেখান থেকে অনবরত র*ক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘এরা কারা?’’ তারা বললো, ‘‘এরা হলো সেসব লোক, যারা রোজা পূর্ণ করার আগে ভেঙ্গে ফেলতো’’।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা: ৩২৭৩; ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৮০০৬; হাদিসটি সহিহ]
5 360
ইফতারের আগে ও পরে ৩টি চমৎকার দু‘আ রয়েছে, এগুলোর অর্থ ও মর্ম অত্যন্ত সুন্দর।
❖ ইফতারের আগে যা পড়বেন:
ইফতারের আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন সে যেন বলে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে)।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১৮৫৮; হাদিসটি সহিহ]
শুধু “বিসমিল্লাহ” বলবেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” না।
এরপর একটি দু‘আ পড়তে পারেন, যেটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। তবে, সনদের দিক থেকে হাদিসটি অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল। এটি দুর্বল হলেও আমলযোগ্য। দু‘আটি হলো:
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
(আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিকা আফত্বরতু)
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার (সন্তুষ্টির) জন্যই রোজা রেখেছি আর আপনার রিযিক দিয়েই ইফতার করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৫৮; হাদিসটির সনদ দুর্বল]
ইফতারের আগে আরও একটি দু‘আর কথা হাদিসে এসেছে। ইবনু আবি মুলাইকা বলেন, আমি (সাহাবি) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.)-কে ইফতারের সময় দু‘আ পাঠ করতে শুনেছি—
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ اَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْئٍ اَنْ تَغْفِرَ لِيْ
(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরা‘হমাতিকাল্লাতি ওয়াসি‘আত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি)
অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি আপনার রহমত প্রার্থনা করছি, যা সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত—যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৫৩; হাদিসটির সনদ কারও মতে সহিহ আবার কারও মতে দুর্বল, তবে সর্বসম্মতভাবে হাদিসটি আমলযোগ্য]
❖ ইফতারের পরে যা পড়বেন:
ইবনু উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন—
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ
(যাহাবায যমা-উ, ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরু-ক্ব, ওয়া সাবাতাল আজরু, ইনশা আল্লাহ)
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে, ইনশাআল্লাহ (রোজার) প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৩৫৭; হাদিসটি হাসান]
#Nusus
5 360
রোজার প্রতিদান পুরোপুরি পেতে চাইলে অবশ্যই রোজার হক আদায় করে রোজা রাখতে হবে। রোজার হক আদায়ে যেসব করণীয়:
(১) মিথ্যা এবং মূর্খতা বর্জন করতে হবে। মেজাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, সে অনুসারে কাজ করা এবং মূর্খতা পরিহার করলো না, আল্লাহর নিকট তার পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬০৫৭]
‘মূর্খতা’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে, এ ব্যাপারে সহিহ বুখারির শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি (রাহ.) বলেন, এর মানে হলো, চিৎকার-চেঁচামেচি করা, বোকার মতো কাজ করা। অর্থাৎ হৈ-হুল্লোড় করা, মূর্খের মতো আচরণ করা। সাধারণত মেজাজ হারালে আমরা এমন করি। রোজাদার সবর করবে, সংযমী হবে, এটিই নিয়ম।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে ঢালস্বরূপ। তাই, যে ব্যক্তি রোজা রেখে ভোর করে, সে মূর্খতা দেখাবে না। অন্য কেউ যদি তার সাথে মূর্খের ন্যায় আচরণ করে, তবে সে তার সাথে অশ্লীল কথা বলবে না এবং গালি দেবে না। বরং সে যেন বলে, ‘‘আমি রোজাদার।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ২২৩৪; হাদিসটি সহিহ]
(২) অনর্থক ও অশ্লীল কথা বলা যাবে না।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকাই রোজা নয়। রোজা হলো, অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে বিরত থাকা।’’ [ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ১৫৭০; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১০৮২; হাদিসটি সহিহ]
(৩) গালি দেওয়া যাবে না, ঝগড়া করা যাবে না।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন রোজা পালনের দিন অশ্লীল কথা না বলে এবং চিৎকার-চেঁচামেচি না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করতে চায়, তাহলে সে যেন বলে, ‘আমি একজন রোজাদার মানুষ’।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯০৪]
(৪) কামনা-বাসনা থেকে দূরে থাকতে হবে।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘আদম সন্তানের প্রতিটি (ভালো) কাজের প্রতিদান ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’’ মহান আল্লাহ বলেন, “কিন্তু রোজা ব্যতীত। কেননা, এটি আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেবো। বান্দা আমার জন্যই তার কামনা-বাসনা এবং পানাহার থেকে বিরত থেকেছে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫৯৭]
(৫) এগুলোর পাশাপাশি গিবত ও পরচর্চা থেকে দূরে থাকতে হবে। চোখ এবং কানের হেফাজত করতে হবে। তাহলেই আমাদের রোজা পরিপূর্ণতা পাবে, ইনশাআল্লাহ।
রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত এলার্মিং একটি হাদিস হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘কতো রোজাদার আছে, যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া কিছুই জোটে না! (ইবাদতের জন্য) কতো রাত্রিজাগরণকারী আছে, যাদের রাতে জেগে থাকা ছাড়া আর কিছুই জোটে না!’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৬৯০; হাদিসটি হাসান সহিহ]
#আলোকিত_রামাদান (পর্ব: ০৮)
#Tasbeeh
5 360
জুমার দিনে আসরের পর মাগরিবের আগের সময়টাতে দোয়া করলে আল্লাহ সেটা ফিরিয়ে দেন না। সহিহ হাদিসে এই বর্ণনা এসেছে। এখন মহিমান্বিত মাস রামাদান চলছে। ফলে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। আজ জুমার দিনে মাগরিবের আগের ৩০ মিনিট সময়কে আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমে যথার্থভাবে কাজে লাগানো দরকার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।
